-
কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামের পথে স্মৃতির অশ্রুজল
আদিত্য ভৌমিক
১৫/৮/২০২৬
আজ কেন জানি বুকের ভেতরটা অদ্ভুত এক শূন্যতায় ভরে গেছে।
কুমিল্লা আমার জন্মস্থান। এই মাটির সঙ্গে আমার কত স্বপ্ন, কত মায়া, কত না বলা কথা জড়িয়ে আছে। ভেবেছিলাম, যদি সারাজীবন কোথাও থাকতে হয়, তবে এই কুমিল্লাতেই থাকব। অথচ আজ হঠাৎ করেই কেন যেন চট্টগ্রামে চলে যেতে ইচ্ছে করছে। নিজের মনকেই যেন বুঝতে পারছি না। তাই চোখের পানি থামছে না, এখনও কান্না করছি।
আমার সবচেয়ে বড় দুঃখ আমি কুমিল্লাতে জন্ম নিয়েও ছোটবেলায় এখানে থাকতে পারিনি। জন্মভূমির মাটিতে জন্ম নিয়েও সেই মাটির কাছে, সেই আপন মানুষগুলোর কাছে, বিশেষ করে আমার প্রিয় দীদার কাছে, যতটা সময় কাটাতে চেয়েছিলাম ততটা পারিনি। এই অপূর্ণতার কষ্টটা হয়তো আমার হৃদয়ে সারাজীবন থেকে যাবে।
আগামীকাল যখন কুমিল্লা ছেড়ে চট্টগ্রামের পথে রওনা দেব, তখন হয়তো পথের প্রতিটি মুহূর্তে মনে হবে—আমি কি সত্যিই আমার প্রিয় জন্মস্থানটাকে পেছনে ফেলে চলে যাচ্ছি?
সবচেয়ে বেশি মনে পড়বে আমার প্রিয় দীদাকে। মনে পড়বে সেই দিনগুলোর কথা স্নানের আগে দীদা নিজের হাতে আমার মাথায় তেল দিয়ে দিতেন। কত সাধারণ একটি মুহূর্ত, অথচ আজ মনে হচ্ছে সেটিই যেন পৃথিবীর সবচেয়ে দামী স্মৃতি। দীদার পাশে ঘুমানো, তাঁর সঙ্গে গল্প করা, তাঁর স্নেহের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলা এসব একদিন হয়তো শুধু স্মৃতি হয়ে থাকবে।
চট্টগ্রামে চলে গেলে হয়তো আমি ঠিকই থাকব, হাসব, কথা বলব, দৈনন্দিন জীবন কাটাব। কিন্তু হঠাৎ কোনো এক রাতে ঘুমানোর আগে মনে পড়বে একসময় আমি দীদার পাশে ঘুমাতাম। মাথায় তেলের সেই স্পর্শ, তাঁর কণ্ঠের সেই মায়া, তাঁর পাশে থাকার সেই নিরাপত্তা সবকিছু তখন বুকের ভেতরটা কাঁদিয়ে দেবে।
আর সবচেয়ে বড় ভয়টা অন্য জায়গায়।
দীদা একদিন এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে যাবেন এই সত্যটা ভাবতেই আমার বুক কেঁপে ওঠে। সেদিন হয়তো আমি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি কাঁদব। তখন ফিরে তাকিয়ে মনে হবে, কত মুহূর্ত ছিল, যেগুলো আরও একটু কাছে থেকে বাঁচতে পারতাম; আরও কিছু গল্প শুনতে পারতাম; আরও কিছুক্ষণ দীদার পাশে বসতে পারতাম, তাঁর পাশে ঘুমাতে পারতাম।
মানুষের জীবনে কিছু জায়গা থাকে, আর কিছু মানুষ থাকে যাদের ছেড়ে দূরে যাওয়া যায়, কিন্তু হৃদয় থেকে কখনো দূরে যাওয়া যায় না।
কুমিল্লা আমার জন্মস্থান।
আর দীদা আমার সেই মায়ার মানুষ, যার ভালোবাসা ও স্মৃতি হয়তো আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকবে।
আগামীকাল কুমিল্লার পথ পেছনে পড়ে থাকবে, সামনে থাকবে চট্টগ্রামের পথ। কিন্তু আমার হৃদয়ের এক কোণে কুমিল্লা থেকে যাবে, আর দীদার ভালোবাসা থেকে যাবে আমার সমস্ত স্মৃতির ভেতর।
আজ তাই আমি কাঁদছি কুমিল্লার জন্য,
দীদার জন্য,
কুমিল্লাতে জন্ম নিয়েও এখানে থাকতে না পারার সেই পুরোনো দুঃখের জন্য,
হারিয়ে যেতে বসা সুন্দর সময়গুলোর জন্য,
আর সেই ভবিষ্যতের কথা ভেবে যখন হয়তো এই দিনগুলোকেই মনে করে চোখের পানি ফেলব।
কিছু বিদায় জায়গাকে বদলায়,
কিন্তু কিছু মায়া হৃদয়কে কখনো বদলাতে দেয় না।
কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব হয়তো রাস্তার মাপে মাপা যায়,
কিন্তু কুমিল্লার প্রতি আমার মায়া আর দীদার প্রতি আমার ভালোবাসার কোনো দূরত্ব নেই।
আদিত্য ভৌমিক
১৫/৮/২০২৬4 Comments-
আদিত্য ভৌমিক, আপনার লেখায় “দীদার পাশে ঘুমানো, তাঁর সঙ্গে গল্প করা, তাঁর স্নেহের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলা” অংশটি পড়ে আমার হৃদয়ে গভীর এক অনুভূতির ছোঁয়া লেগেছে। গন্তব্য পরিবর্তনের সঙ্গে প্রিয়জন ও জন্মভূমির মায়ার যে টান আপনি তুলে ধরেছেন, তা বেশ মর্মস্পর্শী এবং পাঠকদের খুব সহজেই আবেগাপ্লুত করে তোলে। আপনি চাইলে লেখার শুরুতে আপনার অনুভূতির সাথে বর্তমান সময়ের যোগসূত্রটুকু আরও একটু গুছিয়ে লিখতে পারেন, তবে আপনার এই সহজ ও সরল প্রকাশভঙ্গি সত্যিই দারুণ।
Friends
দেবাঞ্জলি সেন
@sendev
sayed sajib
@sayedsajib
Hussain Entazie
@hussainentazie
MAHMUD HAYAT
@mahmudhayat
মোঃ ইফতেখার আহমেদ তাজিম
@tazim
Sayeed Patwary
@sayeedp
himel ishaq
@himelishaq
Moin Uddin
@moinuddin1
মোস্তফা কামাল সাকি
@mostofakamal

Aditya Bhowmik, “কিছু বিদায় জায়গাকে বদলায়, কিন্তু কিছু মায়া হৃদয়কে কখনো বদলাতে দেয় না”—এই কথাটা একদম হৃদয়ে গিয়ে লেগেছে। লেখাটা পড়ে নিজেরই খুব মায়া লাগছে, কারণ আপন মানুষের থেকে দূরে যাওয়ার কষ্টটা সত্যিই বলে বোঝানো যায় না।