-
Oh-oh I’m falling in love!
Oh-no! I’m falling in love again!
Oh! I’m falling in love……আমি আবার প্রেমে পড়েছি! টেইলর সুইফটের গান শুনতে শুনতে ভাবছিলাম। যদিও Labyrinth প্রেমের গান না, হার্টব্রেকের পর আবার প্রেমে পড়ার যে anxiety, তার উপর লেখা গান।
তবে আমি প্রেমে পড়েছি! আর না, কোনো anxiety নেই। আমি আমার প্রেমে পড়েছি। প্রথমবার না হলেও এই প্রথম এতো মারাত্মক ভাবে, এতো দারুণভাবে, এতো করুণ ভাবে আর কিভাবে সেটা বলার ভাষা নেই আমার! রাইসা পাগল হয়ে গেছে! হুটহাট সাজগোছ করে বসে থাকে, বাবার সামনেও রবীন্দ্র সংগীত গায়। কাল রাতে গাইছিলাম, এই চাঁদের আলোতে তুমি হেসে গলে যাও…… ‘তুমি কোন কাননের ফুল’। তাও গুনগুন গান না। রীতিমতো জোরে বাবা হেডফোন কানে গুঁজেও শুনেছে। প্রশংসাও করেছে নাকি। সকালে আম্মু বললো। কাল অনেকগুলো গান শুনেছি লালনের আরশিনগর, রবী ঠাকুরের আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে, তুমি কোন কাননের ফুল (জয়তী চক্রবর্তীর কন্ঠে) শ্রাবণের ধারার মতো (শ্রাবণী সেনের কন্ঠে), আগুনের পরশমণি (শ্রীকান্ত আচার্যের কন্ঠে)…. আরো বেশ কিছু গান, এখন মনে পড়ছে না। এসবই রাতে গাচ্ছিলাম, চারদিক নিরব হয়ে যাওয়ায় জোরে শোনাচ্ছিলো। বাবা নাকি অনেকক্ষণ আমার আবোল তাবোল গান শুনেছে দরজার পাশে দাঁড়িয়ে। শুনে এতো লজ্জা পেয়েছি সারাটা সকাল! গান আমি শুনিনি বেশ বহুদিন। বহুদিন বলতে প্রায় ছয় মাস। তারপর ট্র্যাজিক হার্টব্রেকের পর বিধ্বস্ত মনকে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখতে কিছু কিছু শুনি, তাও ছেড়ে দেই৷ হঠাৎ কী মনে হয়ে শুনলাম।
আর আজকে Public এর Make you mine শুনছিলাম৷ আর এই darling আসলে অন্য কেউ না, আমি নিজেই। ঐ যে বলে না, যখন আমরা প্রেমে পড়ি তখন আশেপাশের সবকিছু ভালো লাগে, সবকিছু আমাদের সাথে প্রেমে পড়ে? আমার ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। ঐ-যে, যা বললাম, রাইসা পাগল হয়ে গেছে। সে এখন ছবি আঁকতে ইচ্ছে হলে ছবি আঁকে, গান গায়, যখন ইচ্ছে হয়, হুট করে শাড়ি পরে, মেহেদী পরেনি অনেকদিন, এখন পরে। পাশের বাসার বাচ্চাটাকে আদর করেনি বহুকাল! তাকে ধরে নিয়ে এসে তার বালি মাখা, ঘেমে চটচট করা দুগালে চুমু খায়। না সত্যি! তাসিন কখন যে এতো বড়ো হয়ে গেলো! ওকে এখন আর কোলে নিতে পারিনা। নিলেও বেশিক্ষণ রাখতে পারিনা। সাত বছর অনেক তাই না? লম্বা হয়ে গেছে অনেকটা। সেদিন শাড়ি-টাড়ি পরে ওকে ডেকে জিজ্ঞেস করছি, “দ্যাখ তো কেমন লাগে?” তাসিন নতুন বউয়ের মতো লজ্জা পেয়ে দৌড় দিলো।
রাইসা এখন বড়ো মামাকেও বকে! কিছুদিন আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার সময় মামা রাস্তা ভরা একগাদা মানুষের সামনে আমাকে বকেছিলো। লজ্জায়, অপমানে মরে যেতে ইচ্ছে করছিলো। কিন্তু সে-ই এখন আমার বকা খায়। খাওয়া দাওয়া ঠিক মতো করতে বললে লক্ষ্মী ছেলের মতো ‘হুম’ বলে। ছেলে-মেয়েগুলো! আমার একটাও কথা শোনে না! এঁদের নিয়ে যে কোথায় যাই! আমার পাহাড়ের বাড়িতে বোধহয় একা থাকা হবে না এঁদের জন্য।দুনিয়া কতো সুন্দর তাই না? জীবন কতো সুন্দর আসলে! আর আমি? আমি তো সব পারি! আমি বেস্ট! এইযে জাবিতে চান্স পেলাম না বলে কতো আফসোস, নিজেকে ছোট করা, অযোগ্য বলে নিজেকে অপমান করা সেই তো এতো ভালো একটা রেজাল্ট হলো DcSE তে। সেই জাবিতেই যাচ্ছি ক্লাস করতে। জাবির কাছে তো যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পছন্দের সাবজেক্টে পড়তে পারছি, মন খুলে হাসছি, প্রাণখুলে বাঁচছি! ব্যাস ইচ্ছে মতো হাঁটতে পারছি না। সেটাও হবে খুব তাড়াতাড়ি।
চারিদিকে এতো শান্তি! এতো মাধুর্য, সবকিছু এতো চমৎকার! স্যার বলছিলেন “নারী হও!” নারী হওয়া বলতে উনি কী বোঝান জানিনা। তবে নারী বোধ হয় এমনই হয়।
আমার আরেকটা মাইলস্টোন স্পর্শ করা বাকি। বাবার কপালে চুমু খাওয়া। সেটাও হবে। এখন বুঝতে পারছি, সমস্ত সত্তা দিয়ে অনুভব করছি, আমি আমার ছোটবেলার স্বপ্নে দেখা সফল নারী চরিত্র। নিজেকে খুব হিরোয়িক লাগে। খুব ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। নিজেকে, আকাশকে, বাতাসকে, আশেপাশের লোকজনদের, সবকিছুকে!5 Comments-
‘আমি আমার প্রেমে পড়েছি’—আপনার এই আত্মউপলব্ধিটুকু এক গভীর ও মুগ্ধকর অনুভূতির প্রকাশ, যা ঠিক যেন রবীন্দ্রনাথের ‘আমি চিনি গো চিনি তোমারে’ গানের সেই আত্মিক মগ্নতার মতো উজ্জ্বল। নিজের সবটুকু ভালো লাগা আর পাহাড়সম ইতিবাচকতা দিয়ে সাজানো লেখাটি পড়তে পড়তে ভীষণ ভালো লাগলো, আপনি চাইলে নিজের এই মুগ্ধতার দিনলিপিগুলোকে আরো বড় পরিসরে গুছিয়ে নিতে পারেন।
-
গানগুলো আমারো ভীষণ প্রিয় মঞ্চবন্ধু, বিশেষ করে “আজ জোছনা রাতে সবাই গেছে বনে”! আপনার লেখা পড়তে পড়তে গানটা শুনছিলাম আর মনে করছিলাম আমার সেই বাঁধনছাড়া, স্বাধীন দিনগুলোকে! ভার্সিটি জীবনের এই সময়টা সবচেয়ে সুন্দর, সব থেকে রঙিন! ক্লাস শেষে বন্ধুদের সাথে গান-আড্ডা, ঘোরাঘুরি, বিন্দাস একটা জীবন! এই সুন্দর মুহুর্তগুলো আরো নান্দনিক হয়ে উঠুক বন্ধু, আর গান নিয়ে আরো গল্প হোক!
-
“আমি আমার ছোটবেলার স্বপ্নে দেখা সেই সফল নারী চরিত্র”___ জানতে পেরে সত্যিই খুব ভালো লাগছে!মঙ্গল হোক আপনার। শুভ কামনা নিরন্তর…
I love to talk. But I like to listen stories more. You can reach out to me on FB to share your stories. I'd love to have a chat.
www.facebook.com/share/1EGQ36wamH/আমি রাইসা আনজুম পর্শি, জন্ম ঢাকার ধানমন্ডিতে, সাভারে বেড়ে ওঠা। এখনো বাড়ছি। ডাইরিতে টুকটাক লিখি, দুই-একটা কবিতা প্রকাশ হয়েছে, তাতে কিছু লোকের প্রশংসা পাই এতে লেখালেখির প্রতি আগ্রহ বাড়ে৷ কবি বা লেখিকা হওয়ার চাইতে পাঠিকা হতে বেশি পছন্দ করি। প্রচুর বই পড়ি। আকাশ দেখতে পছন্দ করি, কথা বলতে আর মানুষের কথা শুনতে পছন্দ করি, যেকোনো বয়সের মানুষের সাথে আলাপ জমাতে পারি। বড়ো হচ্ছি তো, হয়তো সামনেই কিছু একটা করে ফেলবো। আপাতত পড়ছি, লিখছি এ-ই।
Friends
Md Shakhawat Hossen
@mdshakhawathossen
Dark Venum
@darkvenum
Atiq Altaf
@atiqaltaf
Intisar Jabed
@intisarjabed
ALAMGIR'S BANGLA CHANNEL
@alamgirsbanglachannel
Poettry Chadney
@poettrychadney
নাদিম হোসাইন
@nadim-hossain
Rumi Shah
@rumishah
Kazi Adam
@kaziadam


নিজেকে ভালোবাসার চেয়ে বড় কিছু নেই!