Profile Photo

মোঃ আবু নাছের আখন্দOffline

  • abunaser
  • দেহ: আত্মার এক ক্ষণস্থায়ী বিশ্রামাগার
    দেহ মাত্র মাটি, পঞ্চভূতের সমন্বয়। এটি আত্মার একটি বাহন মাত্র। যেমন একজন যাত্রী গাড়ি বদলায়, তেমনি জীবাত্মা এক দেহ থেকে অন্য দেহে গমন করে। আমরা প্রায়ই নিজেদের এই নশ্বর দেহের সাথে এতই একাত্ম হয়ে যাই যে, দেহের সুখ-দুঃখ, রোগ-শোকই আমাদের সবচেয়ে বড় সত্য বলে মনে হতে থাকে। কিন্তু উপনিষদের মহাবাক্য— “নেহ নানাস্তি কিঞ্চন” (এখানে কোনো বহুত্ব নেই, সবই এক)— আমাদের স্মরণ করায় যে, এই দেহ একটি মন্দির। এই মন্দিরে আত্মা স্থাপিত। দেহকে সুস্থ ও পবিত্র রাখা উচিত, কারণ এটিই সেই যন্ত্র যার মাধ্যমে আমরা জাগতিক ও আধ্যাত্মিক উভয় কর্ম সম্পন্ন করি। সংস্কৃত শ্লোকে আছে, “শরীরমাদ্যং খলু ধর্মসাধনম्”— অর্থাৎ ধর্ম সাধনার প্রধান উপায় হলো এই শরীর। কিন্তু দেহের সেবা আর দেহের মোহ— দুটি ভিন্ন জিনিস।

    মন: দেহ ও আত্মার মধ্যবর্তী সেতু
    মন হলো সূক্ষ্ম দেহ, যা আমাদের ভাবনা, ইচ্ছা ও অহংকারের জন্মস্থান। মন একাধারে অত্যন্ত চঞ্চল এবং শক্তিশালী। শ্রীকৃষ্ণ গীতায় বলেছেন, “মন এব মনুষ্যাণাং কারণং বন্ধমোক্ষয়োঃ”— মনই মানুষের বন্ধন ও মুক্তির কারণ। মন যখন বাহ্যিক জগতের প্রতি আকৃষ্ট হয়, তখন ইন্দ্রিয়গুলো দেহের মাধ্যমে বিষয়ভোগে লিপ্ত হয়, আর আত্মা বন্ধনে পড়ে। আর মন যখন অন্তর্মুখী হয়, তখন সে আত্মার সাথে যুক্ত হয় এবং মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়। মনই হলো সেই দর্পণ, যা ধুলোমুক্ত হলে তাতে পরমাত্মার প্রতিবিম্ব দেখা যায়।

    দেহ ও মনের সংগম: যোগের আধ্যাত্মিকতা-
    দেহ ও মনের মধ্যে এক গভীর সংযোগ রয়েছে। দেহের কোনো রোগ হলে মন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে, আবার মনের কোনো অশান্তি ধীরে ধীরে দেহে ব্যাধির রূপ নেয়। আধ্যাত্মিক সাধনায় মূল লক্ষ্যই হলো দেহ ও মনের এই অদ্ভুত সম্পর্ককে বুঝে তাদের এক সুরে বাঁধা। যোগ ও ধ্যান হলো দেহকে স্থির রেখে মনকে একাগ্র করার প্রক্রিয়া। যখন দেহের প্রাণশক্তি (প্রাণ) এবং মনের চিন্তা এক বিন্দুতে স্থির হয়, তখন মানুষ নিজের আসল সত্তার, অর্থাৎ আত্মার সাথে সাক্ষাৎ হয়।

    আমি কে? দেহ না মন?
    সবচেয়ে বড় আধ্যাত্মিক প্রশ্ন হলো— “আমি কে?” আমরা সাধারণত বলি, “আমার শরীর ব্যথা করছে,” বা “আমার মন ভালো নেই।” এই “আমার” (My) শব্দটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি যদি দেহ হতাম, তবে বলতাম “আমি ব্যথা।” আমি যদি মন হতাম, তবে বলতাম “আমি উদ্বিগ্ন।” কিন্তু আমরা বলি “আমার”— এর অর্থ আমি দেহ বা মন নই। আমি হলাম সেই চৈতন্যস্বরূপ নিরাকার সত্তা, যে এই দেহ ও মনকে পরিচালনা করছে।

    1
    3 Comments
    • আপনার এই গভীর ও অন্তর্দৃষ্টিপূর্ণ লেখায় দেহ ও মনের নিগূঢ় সম্পর্ক এবং আত্মার যে শাশ্বত সত্য ফুটে উঠেছে, তা সত্যিই অসাধারণ ও চিন্তাশীল, তাই আত্মার স্বরূপ সন্ধানের এই নিরন্তর যাত্রায় আপনি নিয়মিত আরও এমন ভাবনামূলক লেখা আমাদের মাঝে ছড়িয়ে দেবেন—এটাই প্রত্যাশা রইল।

    • খুবই তথ্যবহুল লেখা জানা হলো অনেককিছু ।

Friends

Skip to toolbar