-
ভোরের প্রতীক্ষায়
শেখ একেএম জাকারিয়াআজকে দেশের মুকুরগুলো মৌন কেন এত?
ওষ্ঠে হাসি থাকার পরও আঁখির নিচে ক্ষত।
বিহঙ্গদল খাঁচার ভেতর দুঃখে ডানা ঝাপটায়,
দুয়ার খোলা জেনেও তারা উড়তে কেন ভয় পায়?বাজারপথে আগুন জ্বলে, ধোঁয়া ওঠে ঘরে,
মুঠো ভরা স্বপ্ন কেন হিসাব কষে মরে?
রাজপথে আজ ঘোড়ার ক্ষুরে উঠছে ধুলোর ঝড়,
এদিক-ওদিক ছুটছে সবাই, পায় না সুখের ঘর।কে যে রথের সারথি হবে, কে বা হবে পথ?
এ নিয়ে তাই দিগ্বিদিকে উড়ছে নানা মত।
নদী বলে, “থামবে না স্রোত, পাথর এলেও বইবে,”
জেলে বলে, “জাল তো ফেলি, মাছের দেখা কই যে?”তরীর প্রদীপ বাতাস পেয়ে বারবারই যায় নেভে,
নাবিক কি সেই ক্ষীণ আলোয় পথের দিশা পাবে?
পুরোনো এক বাঁশির সুরে আজও জাগে প্রাণ,
মৃত্যুর ওপার থেকেও যেন শোনা যায় সেই গান।আকাশগাঙে বাদলছায়া, বিষমাখা তার ভাষা,
তবু দূরের স্বর্ণালি রোদ জাগায় মনে আশা।
বাংলাদেশ এক বিশাল তরী, ঢেউ হলো তার সাথি,
হাল ধরে যে নাবিক আছে, সে কি রাতের বাতি?
তুফান আসুক, রাত্রি নামুক, ভাঙুক নাওয়ের পাল,
নাবিক যদি হাল না ছাড়ে, ভোর হবেই তো কাল।
২৯ আগস্ট, ২০২৬9 Comments-
সমকালের সামাজিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মাঝেও দেশ ও জীবনকে ঘিরে আশাবাদের এক পরম কাব্যিক রূপক এই কবিতাটি। ‘রাজপথের ধুলোঝড়’ আর ‘বাজারপথের আগুন’-এর মতো প্রাত্যহিক বিষাদের মধ্য দিয়ে হেঁটে গিয়েও কবিতাটি দিনশেষে নাবিকে আস্থা রাখে—কারণ তরী যত বড় তুফানের মুখেই পড়ুক না কেন, হাল না ছাড়লে ভোরের সূর্য উঠবেই।
-
Friends
Abdul Latif
@abdullatif
m zaman
@mzaman
এইচ আই হামিদ
@h-ihamid
ইশতিয়াক আহমেদ
@ishtiak
মোঃ আরিফুজ্জামান
@md-arifuzzaman
আবুল খায়ের মোঃ শামছুল হুদা
@khaershudagmail-com
পিপীলিকা
@abujubair
আব্দুস সেলিম
@mdabdussalim
Hussain Entazie
@hussainentazie



জাকারিয়া’র কবিতা সমগ্র, আপনার এই চমৎকার সৃষ্টিতে শব্দগুলো যেভাবে আলোর দিশা হয়ে ফুটে উঠেছে, তা সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। আপনি যদি ভবিষ্যতে আরও কিছু নতুন উপমা যোগ করেন, তবে আপনার লেখনী পাঠকের মনে আরও গভীরভাবে দাগ কাটবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।