Profile Photo

এম.এ.আর. তালহাOffline

  • চিম্বুকের পাহাড়ি খাদের ওপর পুরোনো কাঠের ডাকবাংলোটা যখন আমরা ভাড়া নিলাম, রাত তখন এগারোটা বেজে গেছে। চারপাশটা ঘন কুয়াশায় ঢাকা, যেন কোনো ভারী চাদরে পুরো পাহাড়টাই বন্দি।
    গাছের পাতা বেয়ে টপটপ করে জল ঝরার শব্দ আর মাঝে মাঝে পাহাড়ি বাতাসের এক সাঁই সাঁই শব্দ ছাড়া আর কিচ্ছু নেই। মনে হচ্ছিলো বহু দূর থেকে কেউ ডুকরে ডুকরে কাঁদছে।

    আমরা ঘরের মাঝখানে একটা টিমটিমে হারিকেন জ্বালিয়ে বসেছিলাম। হঠাৎ মেঝের নিচে কাঠের তক্তায় কীসের যেন একটা খসখসে শব্দ হলো। মনে হচ্ছিছিলো কোনো ভারী জিনিস কেউ টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে।
    প্রথমে বিষয়টা খেয়াল করলো Tanjia Sultana.
    হঠাৎই আড্ডার মাঝখানে একদম চুপ মেরে গেলো সে। দৃষ্টি স্থির ঘরের এক বিষণ্ন গাঢ় কোণে। মুখ দিয়ে কোনো কথা বের হচ্ছে না, হাঁ হয়ে তাকিয়ে আছে। টুঁক টুঁকিঁ পাশে গিয়ে হাতটা ধরতেই আঁতকে উঠলো; আরে, তানজিয়ার হাত এমন বরফের মতো ঠান্ডা কেন?

    “কীসের পচা গন্ধ রে এটা?” নোজ-পিনটা চেপে ধরে ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে এলো নীল আকাশ।
    মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরটায় পচা কাদা আর কাঁচা র*ক্তে*র গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসার জোগাড়। Fanny Shafa মেঝের কাঠের পিঁড়িটা হাতে তুলে চিৎকার দিলো কে রে ওখানে? সামনে আয় বলছি!
    ঠিক তখনই দপ করে হারিকেনটা নিভে গেলো। ঘোর অন্ধকারের ভেতর শুরু হলো এক হিমশীতল নরকীয় পরিবেশ।
    “পকেট থেকে ফোন বের করো! কেউ একজন আলো জ্বালাও অন্তত!” অন্ধকারে তোতলামো গলায় হাঁসফাঁস করে উঠলো ইসলামি লেখক।

    Hossain Ahmed আর মোঃ হাসান আলী ফোন বের করে আলো জ্বালাবার চেষ্টা করলো, কিন্তু স্ক্রিন জ্বললোই না, বরং একসাথে দুটো ফোনই ডেড!
    সেই ঘুটঘুটে অন্ধকারের ভেতর হঠাৎই ভেসে এলো একের পর এক ভারী নিশ্বাসের শব্দ। যা আমাদের কারো নয়। সেই গরম তপ্ত নিশ্বাসটা একদম ঘরের মাঝখানে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা Yaqeen Anusheh Tazkiyah আর Sumaiya Hawya এর ঠিক ঘাড়ের ওপর এসে পড়ছিলো। আতঙ্কে শিউরে উঠে ওরা দুজন একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
    “কেউ নড়বে না! এক জায়গায় জটলা হয়ে দাঁড়াও!” অন্ধকারের ভেতর থেকে গম্ভীর গলায় বললো, অচিন দেশের মুসাফির।

    স্পার্ক করে লাইটারটা জ্বালাতেই ছাদের দিকে চোখ গেলো সবার।
    কটেজের উঁচু কড়িকাঠ থেকে উল্টো হয়ে ঝুলছে একটা কুচকুচে কালো, বিশাল মূর্তিছায়া! কোনো স্পষ্ট মুখ নেই, কেবল দুটো লাল চোখ সরাসরি তাকিয়ে আছে। পরমুহূর্তেই কড়িকাঠ থেকে ভেসে এলো এক পৈশাচিক, র*ক্ত জল করা অট্টহাসি!
    আগুনটা নিভে যাওয়ার সেই এক সেকেন্ডে দেখা গেলো, কালো মূর্তিছায়া সোজা ওপর থেকে ছিটকে নিচে নেমে আসছে!

    সবাই যখন ভয়ে দিশেহারা, ঠিক তখনই M A R Talha এর মনে খটকাটা লাগলো।
    পাহাড়ের মধ্যরাতে একটা ভৌতিক ছায়া তো নামতেই পারে, কিন্তু সাথে সাথেই ওয়াইফাই আর পোর্টেবল ব্লুটুথ ডিভাইসগুলোর ইথারনেট লিংকগুলো ড্রপ করলো কেন? ভূতের চক্করে ফ্রিকোয়েন্সি সিগন্যাল তো ড্রপ করার কথা নয়!
    মাথা একদম ঠান্ডা রেখে পকেট থেকে সে ছোট্ট পোর্টেবল জ্যামারটা বের করে সুইচটা অন করে দিলেন।
    মুহূর্তেই ঘটনা পুরো বদলে গেলো!
    স্পিকারের সেই গা ছমছমে বিকট অট্টহাসি এক ঝটকায় বন্ধ হয়ে গেলো। ছাদ থেকে ঝুলে থাকা ভয়ঙ্কর মূর্তিটা ফাঁকা বাতাসে মিলিয়ে গেলো, ওটা ছিলো নিখুঁত এক ‘হলোগ্রাফিক প্রজেকশন’! আর বাতাস থেকে পচা কাদা ও র*ক্তে*র গন্ধটাও ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে এলো, যা ছিলো একটা ভেন্ট স্প্রে করা সাইকোলজিক্যাল গ্যাস।

    পাওয়ার জ্যাম করার সাথে সাথেই কটেজের ইমার্জেন্সি লাইটগুলো জ্বলে উঠলো। বাইরে পাহাড়ি ঢালের অন্ধকার জঙ্গলের দিকে পা বাড়িয়ে তালহা শান্তস্বরে বললেন, “ওহহো! আসল কারসাজি তো ভেতরে নয়, বরং বাইরে। সবাই এসো আমার সাথে।”
    আমরা দরজার খিল খুলে টর্চ নিয়ে বাইরে বের হতেই হাতেনাতে ধরা পড়লো চাঞ্চল্যকর দৃশ্যটা। ডাকবাংলোর ঠিক পেছনের ঝোপে পোর্টেবল প্রজেক্টর, সাউন্ড সিস্টেম আর হাই-টেক ডিভাইস নিয়ে লুকিয়ে ছিলো দুই হ্যা*কার! ভৌতিক নাটক সাজিয়ে আমাদের ঘর থেকে ভয়ে তাড়িয়ে ল্যাপটপ আর সিকিউরিটি ডেটা চুরি করাই ছিলো ওদের মূল প্ল্যান।

    “চালাকিটা ভালোই ছিলো দোস্ত, কিন্তু ফ্রিকোয়েন্সি লিক করে ধরা খেয়ে গেলি,” ঠাট্টা করে বললো Saqib Ahnaf.
    হাতে পাওয়া প্রমাণ, প্রজেকশনের রেকর্ড করা ফুটেজ আর ওদের ল্যাপটপের লাইভ ডেটাসহ পুরো গ্যাংটার নেটওয়ার্ক সোজা সাইবার ক্রাইম ইউনিট আর স্থানীয় টেকনাফ ও বান্দরবান পুলিশ ফাঁড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাহাড়ি রাস্তায় সাইরেন বাজিয়ে পুলিশের গাড়ি এসে হাজির। হ্যা*কার দুটোর হাতে হাতকড়া পড়ে গেলো, সোজা জেলহাজতে চালান!

    ভয় আর চক্রান্তের মেকি কুয়াশা কেটে গিয়ে ভোর হতে চললো। চিম্বুকের আকাশে তখন এক নতুন সকালের আলো, আর আমাদের স্মৃতিপটে রয়ে গেলো এক বিস্ময়কর জয়ের গল্প।

    • চিম্বুকের সেই রাতটি
    — এম.এ.আর. তালহা
    ত্রিশ | আট | ছাব্বিশ

    #foryouシ #martalha #reality #writer #highlight

    4
    7 Comments
    • অনেক বছর আগে চিম্বুকের স্মৃতি মনে পড়ে গেল। ওখানে যাওয়ার সিস্টেম ছিল কষ্টকর। এখন তো চিম্বুকের উপর দিয়ে রাস্তা আরও দুর দুরান্তে চলে গেছে …

    • ভূতের গল্প ভেবে পড়া শুরু করে শেষে দেখি পুরো টেকনো-থ্রিলার! এই টুইস্টটা অসাধারণ!

    • পাহাড়ের সেই কুয়াশাচ্ছন্ন আবহ এবং টানটান উত্তেজনার মুহূর্তগুলো আপনি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ঘটনার মোড় ঘোরানো শেষে রহস্যের সমাধান দেওয়ার শৈলীটি আপনার লেখাকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও সাবলীল করে তুলেছে।

    • এই চিম্বুককে এখনো দেখা হয়নি। লেখাটি পড়ে চিম্বুককে আবার মনে পড়লো। চিম্বুকের চিবুক ছুতে হবে।

    • কুয়াশা আর অন্ধকারের মেকি ভয় কেটে,
      সত্যের আলো জ্বললো সত্যের শক্তিতে।
      বুদ্ধির কাছে হার মেনেছে সব চক্রান্তের ছায়া,
      পাহাড়ের চূড়ায় ফুটে উঠলো বিজয়ের নতুন মায়া।

    • ভয়ের আড়ালেও লুকিয়ে থাকে সত্য, মাথা ঠান্ডা রাখাই আসল সাহসিকতা…..🤍

    • গল্পটা পড়ে একদম গা ছমছম করছিল, শেষে গিয়ে যে এমন টুইস্ট থাকবে তা একদমই ভাবিনি। আপনি এত সুন্দর করে পুরো বিষয়টা ফুটিয়ে তুলেছেন যে মনে হচ্ছিল আমি নিজেই সেই ডাকবাংলোয় দাঁড়িয়ে আছি। গ্রুপটা আরও প্রাণবন্ত রাখতে আপনিও অন্যদের লেখায় নিয়মিত লাইক-কমেন্ট করবেন আশা করি।

Skip to toolbar