-
গোলবাহারী
রোকেয়া খানমপার্ট :-০২
ভাবির কথায় হাবীবের মনে শান্তি ফিরে আসে।
মনস্থির করে—যতদিন থাকবে, হাসি-খুশির মধ্যে দিন কাটাবেন।
বিকালবেলা বাজারে গিয়ে অনেক সদাইপাতি করেছেন।
গোলবাহারীর জন্য চুড়ি, আলতা, কপালের টিপ, পাউডার, সুগন্ধী তেল কিনেছেন।
রহমতকে বাজারে পেয়ে জিলাপি, খই আর রসগোল্লা কিনে দিয়েছেন।
বাড়ি ফিরে হাবীব নিজের ঘরে বসে আছেন।
গোলবাহারী চা নিয়ে আসেন (প্রতিদিনের মতো চা দিয়ে চলে যাচ্ছেন)।
হাবীব বললেন,
“দাঁড়াও।”
গোলবাহারীর হাত ধরে সামনে টেনে বসালেন।
“তুমি হয়তো আমাকে অনেক খারাপ, বদমেজাজি মনে করো।
দরকার ছাড়া কথা বলি না।
এখন থেকে যতটুকু সময় আছে, তোমার সঙ্গে কাটাতে চাই।
তোমার জন্য আমি কিছু এনেছি।
যদি তুমি সবকিছু পরো, তাহলে আমি অনেক খুশি হব।
দেশের অবস্থা খারাপ—যেকোনো সময় ডাক আসলে চলে যেতে হবে।
এজন্য তোমাকে সব সময় দূরে রাখার চেষ্টা করি।
তুমি কিছু বলো, গোলবাহারী?”
(গোলবাহারীর চোখ বেয়ে খুশিতে পানি পড়ছে।)
“দেখো, আমি আরও মনে করেছি—তোমার আমাকে পছন্দ হয়নি, এজন্য এড়িয়ে চলো।”
চোখ মুছিয়ে দিলেন হাবীব।
“আজ তোমাকে আমি নিজের মনমতো সাজাব। চলো না?”
“না, আমি নিজে থেকেই সাজব। ভাবি ডাকছেন, আমি আসি।”
(গোলবাহারী গিয়ে ভাবিকে সব খুলে বললেন।)
ভাবি বললেন,
“আমি আজ নিজের হাতে বোন, তোমাকে সাজিয়ে দিব।”
রাতের বেলা গোলবাহারীকে সাজিয়ে নিয়ে গেলেন হাবীবের ঘরে।
“ছোট মিয়া, তোমার জন্য দশ গ্রাম দেখে বউ এনেছি।
ভালো করে চেয়ে দেখো—কত সুন্দর!”
হাবীব বললেন,
“আমাকে আর লজ্জা দিবেন না, ভাবি।
ভুল তো মানুষ করে। আমাকে ক্ষমা করে দিন।
আর আমাদের জন্য দোয়া করবেন।”
(ভাবি চলে গেলেন।)
“গোলবাহারী, দাঁড়িয়ে কেন? ঘুমাতে এসো।
সত্যি, তুমি খুবই সুন্দর।
আল্লাহ তোমাকে আমার জন্য পাঠিয়েছেন।
আজ সারারাত তোমার সঙ্গে গল্প করব।”
“বিয়ের এক মাস হয়ে গেছে, এখন বলছ সারারাত গল্প করবে?
আমার ইচ্ছে তুমি জলে ডুবাতে পারো না!”
হাবীবের মাথার পাশে বসলেন গোলবাহারী।
মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন।
হাবীব বললেন,
“গোলবাহারী, আমার পুলিশের চাকরি।
যখন তখন যেকোনো কারণে আমার মৃত্যু হতে পারে।
তারপর এখন দেশের অবস্থা খারাপ—যখন তখন যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে।
যুদ্ধ শুরু হলে কে কোথায় থাকব, আর দেখা হবে কি না…
আমি যদি আর না ফিরি, তাহলে কি তুমি আবার বিয়ে করবে?
না, আমার জন্য অপেক্ষা করবে?
আমার ভিটার বাতি জ্বালাবার জন্য কেউ থাকবে কি না?…..(চলবে)3 Comments-
আপনার লেখায় চরিত্রগুলোর মধ্যকার সহজ-সরল আবেগগুলো খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে, যা পড়ে মন ভরে যায়। সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং প্রিয়জনের প্রতি জমে থাকা অনুভূতির বহিঃপ্রকাশগুলো আপনি চাইলে আরও কিছুটা দীর্ঘ করে বর্ণনা করতে পারেন। গোলবাহারী ও হাবীবের মধ্যকার এই স্নিগ্ধ সম্পর্কের পরবর্তী অংশগুলো পড়ার অপেক্ষায় রইলাম, দারুণ লিখছেন আপনি!
Friends
পুর্বিতা নুর
@paglanaki
Aziz Helali
@azizhelali
Israt Jahan Iqra
@isratjahaniqra
Sumaiya Khatun
@sumaiyakhatun
Delowar Hossain
@delowarhossain
মুসাফফা রুকা মনি
@marjukamahmud
ATM SHAH ALAM SIKDER
@atmshahalamsikder
আউলিয়া পারভীন
@sadekul85gmail-com
মো: নাজমুল আখতার
@faith



ভালোবাসার আড়ালে বিচ্ছেদের আশঙ্কা গল্পটিকে করেছে গভীর মায়াময়…..🤍🖤