-
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় নয়)
মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের মালিক শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছিলেন, ভয় দেখিয়ে শ্রমিক ধরে রাখা যাবে না। একদল চলে গেছে, আরেকদল যাওয়ার কথা ভাবছে। এদিকে রাতের পাহারায় আর লোক পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ পাহাড়ের কাজ থামিয়ে রাখার মতো অবস্থাও নেই। তার ওপর প্রতিদিনের বিল, মেশিনের খরচ, রাস্তার কাজ, মালামাল আনা, শ্রমিকের মজুরি, সব মিলিয়ে প্রকল্পের খরচ ক্রমশঃ বেড়ে যাচ্ছিল। তাই এবার বাইরে থেকে আরও লোক আনা হলো। শুধু শ্রমিক নয়, পাহারার জন্যও লোক বাড়ানো হলো। স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার কয়েকজন লোকও এসে দাঁড়াল কোম্পানির পাশে। তাদের উপস্থিতিতে রিসোর্টের অস্থায়ী ক্যাম্পে আবার যেন আত্মবিশ্বাস ফিরে এল। দিনের বেলায় অনেকগুলো মানুষকে একসঙ্গে দেখা যেতে লাগল। কেউ মাটি কাটছে, কেউ বাঁশ নামাচ্ছে, কেউ রাস্তার পাশে পাথর সাজাচ্ছে, কেউ পাহারার জায়গা ঘুরে দেখছে। দূর থেকে মনে হচ্ছিল, সব কিছ আগের মতই চলছে।এত লোকের ভিড়ে একজন মানুষ আর কী-ই-বা করতে পারে?
রেজোয়ান সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কোনো তাড়াই দেখাল না। সে দিনের আলোয় একেবারেই চুপ মেরে গেল।
কয়েকদিন ধরে তাকে রিসোর্টের আশপাশে আর দেখা গেল না। তার গাড়ি কখনো খাগড়াছড়ি শহরে হোটেল মাউন্ট ইন-এর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। দুপুরে তাকে কোনো চায়ের দোকানে বসে চা খেতে দেখা গেল। একদিন তাকে বাজারের ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে দেখলো কেউ। আরেকদিন সে পুরনো পরিচিত করিমের বাড়ির উঠানে বসে অনেকক্ষণ পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে থাকলো।
সবকিছু এত স্বাভাবিক যে মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের লোকজন ধীরে ধীরে ভাবতে শুরু করল, রেজোয়ান হয়তো পিছিয়ে গেছে।
এই ধারণাটাই রেজোয়ান প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল। কারণ সে জানে, মানুষের সবচেয়ে বড় ভুল হয় তখন, যখন সে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে বিপদ কেটে গেছে।
বিকেল নামলে খাগড়াছড়ির পাহাড়ের রং বদলে যেতে থাকে। দুপুরের তীব্র সবুজ ধীরে ধীরে নরম হয়ে আসে। দূরের পাহাড়গুলো প্রথমে সবুজ, তারপর ধূসর, তারপর নীলচে হয়ে যায়। কোথাও পাহাড়ের গায়ে মেঘ আটকে থাকে। কোথাও শেষ বিকেলের আলো গাছের মাথায় পড়ে সোনালি রেখা তৈরি করে। নিচের ছড়াগুলো তখনও একইভাবে বয়ে চলে, কিন্তু অরণ্যের ভেতর আলো কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাদের শব্দ যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে। বাঁশঝাড়ে বাতাস ঢুকলে পাতাগুলো একে অন্যের সঙ্গে ঘষা খেয়ে যে শব্দ তৈরি করে, দূর থেকে সেটা কখনো মানুষের ফিসফিসের মতো শোনায়। পাখিরা একে একে নীরব হয়ে যায়। দিনের পরিচিত শব্দগুলো সরে গিয়ে জায়গা নেয় ঝিঁঝিঁ পোকার অবিরাম ডাক, ব্যাঙের ডাক আর অদৃশ্য কোনো প্রাণীর পাতার ওপর চলার মৃদু শব্দ।
রাত পুরোপুরি নামার পর পাহাড় আর আগের মত অন্ধকার থাকে না। অন্ধকারেরও বিভিন্ন স্তর আছে। কোথাও ঘন কালো, কোথাও গাছের ফাঁক দিয়ে সামান্য আকাশ দেখা যায়, কোথাও দূরের কোনো পাহাড়ি ঘরের ক্ষীণ আলো জ্বলতে থাকে। রিসোর্টের বৈদ্যুতিক বাতিগুলো সেই অন্ধকারে ছোট ছোট দ্বীপের মতো ভেসে থাকে। আলো যেখানে শেষ হয়, তার পরেই শুরু হয় অরণ্য।
রেজোয়ান আলো আর অরণ্যের সেই সীমারেখাটাকেই ব্যবহার করত। কিন্তু তার মাঝে কোনো রকম তাড়াহুড়ো ছিল না।
এক রাতে নতুন নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন লোককে নিয়ে পাহারাদারদের দল বের হলো। তাদের মধ্যে দুজন স্থানীয়, বাকিরা বাইরে থেকে এসেছে। হাতে টর্চ, সঙ্গে লাঠি। তারা আগের লোকদের গল্প শুনেছে, কিন্তুেএখন অবধি নিজের চোখে কিছুই দেখেনি। তাই ভয় আর অবিশ্বাসের মাঝামাঝি একটা অবস্থায় তারা পাহাড়ের পথে এগোচ্ছিল।
সামনে হাঁটছিল সবচেয়ে লম্বা লোকটা। তার পেছনে দুজন। আর কিছুটা দূরে আরও দুজন।
পাহাড়ি পথটা খুব সরু। একদিকে উঠে গেছে অরণ্যে ঢাকা ঢাল, অন্যদিকে নিচে নেমে গেছে ঝোপঝাড়ের ভেতর। বর্ষার পানি মাটিকে নরম করে রেখেছে। কোথাও পা রাখলে জুতো মাটির মধ্যে সামান্য ঢুকে যাচ্ছে। আবার কোথাও পাথরের ওপর শুকনো পাতা জমে আছে।
হঠাৎ সামনের লোকটা থেমে গেল।
“কী হলো?”
সে টর্চের আলো সামনে ফেলল। কিছু নেই। শুধু গাছ। আর গাছের পেছনে অন্ধকার। সে আবার হাঁটতে শুরু করল।
কয়েক পা যাওয়ার পর তার পেছনের লোকটা বলল, “এই পথটা তো আগে এদিকে ছিল না।”
সামনের লোকটা ঘুরে তাকাল। “ছিল।”
“নিশ্চিত?”
“হ্যাঁ।”
আর কোনো কথা হলো না। তারা এগিয়ে গেল।
কিন্তু কয়েক মিনিট পর আবার একই জায়গার মতো একটা বাঁক সামনে দেখা গেল।
একজন টর্চ উঁচু করে চারপাশ দেখল। তার মুখে এবার সন্দেহ। পাহাড়ে সবকিছু একই রকম দেখতে। একই ধরনের গাছ। একই ধরনের বাঁশঝাড়। একই রকম ঢাল। একই অন্ধকার। তবু একটা অস্বস্তি হচ্ছিল।
তারা আসলে বুঝতে পারেনি, পথ হারায়নি তারা। আসলে তাদের পথটাই বদলে গেছে। কিন্তু, কীভাবে, সেটা তারা জানত না।
আর কিছুদূরে অন্ধকারের আড়ালে রেজোয়ান দাঁড়িয়ে ছিল। সে তাদের খুব কাছেই ছিল। তারপরও কেউ তাকে দেখতে পাচ্ছিল না।
রেজোয়ান ধীরে ধীরে একটা গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল। কয়েক পা। তারপর থামল। তার চোখ পাহারাদারদের ওপর। তাদের চলার গতি, টর্চের আলো, কে সামনে, কে পেছনে, সবকিছু সে লক্ষ্য করল।
তারপর সে মাটিতে পড়ে থাকা একটা শুকনো বাঁশের ডগা পায়ের সামান্য চাপ দিয়ে সরিয়ে দিল।
সামনের লোকটা শব্দ শুনে ঘুরে দাঁড়াল। “কে?”
কোনো উত্তর নেই। টর্চের আলো চারদিকে ঘুরল। কিছু নেই।
রেজোয়ান তখন তাদের বাঁ পাশে। একেবারে স্থির। একজন পাহারাদার হঠাৎ সেই দিকে আলো ফেলল। আলো গাছের গায়ে পড়ল।
রেজোয়ান এক মুহূর্তে গাছের আড়ালে সরে গেল। আবার আলো ফিরল। কেউ নেই।
পাহারাদারের বুকের ভেতর ধক করে উঠল। সে বুঝতে পারল না, সত্যিই কিছু দেখেছিল কি না। দলের অন্যরা তাকে নিয়ে হাসতে গিয়েও আর হাসল না।
কেননা তখন দূরে কোথাও একটা ভারী শব্দ হলো। মনে হলো কোনো পাথর ঢাল বেয়ে গড়িয়ে নিচে পড়েছে। সবাই একসঙ্গে সেইদিকে তাকাল।
তারপর একজন বলল, “চলো ফিরে যাই।”
কেউ আপত্তি করল না। তারা ঘুরে দাঁড়াল। কিন্তু ফেরার পথেই বিপদ হলো।
সামনের লোকটা পা রাখতেই মাটি হঠাৎ বসে গেল। সে কোমর পর্যন্ত নরম কাদার মধ্যে ঢুকে গেল। পেছনের লোকেরা তাকে টেনে তুলতে গিয়ে নিজেরাও হিমশিম খেল। কেউ আহত হলো না, কিন্তু তাদের প্রায় আধঘণ্টা সেখানে আটকে থাকতে হলো।
যখন শেষ পর্যন্ত সবাই উঠে দাঁড়াল, তখন তাদের জামাকাপড় কাদায় মাখামাখি।
আর রেজোয়ান তখন অনেক দূরে। সে তাদের দিকে ফিরে তাকালও না। তার উদ্দেশ্য ছিল না কাউকে আহত করা। তার উদ্দেশ্য ছিল স্রেফ একটা মিশ্র অনুভূতি তৈরি করা।
এই পাহাড়ে তারা যত লোকই আনুক, রাতের অন্ধকারে তাদের প্রত্যেকটা পদক্ষেপের ওপর তার পক্ষে নজর রাখা সম্ভব।
পরের কয়েকদিনে এমন ঘটনা আরও ঘটল। কখনো দুজন পাহারাদার অরণ্যের একটা অংশে গিয়ে ফিরে এসে বলল, তারা ভুল পথে চলে গিয়েছিল। কখনো একজন পাহাড়ি ঢালে পিছলে পড়ে হাতে আঘাত পেল।
কখনো রাতে রিসোর্টের কাজের জায়গায় যাওয়ার পথে কয়েকজনকে এমন একটা জায়গায় আটকে থাকতে হলো যেখানে কাদা আর পানি মিশে পথ চলার অযোগ্য হয়ে পড়েছিল।
কোনো ঘটনারই পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া গেল না। আর কোনো ঘটনার সাক্ষীও পাওয়া গেল না।
কোম্পানির লোকজন চারপাশে খুঁজল। রেজোয়ানের কোনো চিহ্ন নেই। তার গাড়ি অন্য কোথাও। তার থাকার জায়গা অন্যদিকে। কখনো সে শহরে। কখনো হোটেলে। আবার কখনো করিমের বাড়িতে।
দিনের আলোয় রেজোয়ান যেন পাহাড়ের ঘটনাগুলোর সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নয়। রাতের অন্ধকারই কেবল তার দিকে অঙ্গুলী নির্দেশ করছে।
এক রাতে পাহারার জন্য বের হয়েছিল চারজন। রাত তখন প্রায় একটা। আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাওয়ায় কিছুটা চাঁদের আলো ছিল। পাহাড়ের মাথায় মেঘ নেই। গাছের ফাঁক দিয়ে চাঁদের আলো এসে মাটিতে ছোপ ছোপ দাগ ফেলেছে। কোথাও আলো, কোথাও অন্ধকার। দূরের পাহাড়গুলো কালো হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নিচে ছড়ার পানি চাঁদের আলো বুকে ধরে চিকচিক করছে।
চারজন লোক একটা সরু পথ ধরে এগোচ্ছিল। তাদের একজন হঠাৎ থেমে গেল। সামনের গাছের পাশে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। একজন মানুষ। একদম স্পষ্ট। চাঁদের ফিকে আলোয় তার মুখ দেখা যাচ্ছে। ধূসর শার্ট। স্থির দৃষ্টি। দুই হাত শরীরের পাশে।
লোকটা এক মুহূর্তের জন্য যেন জমে গেল। তারপর খুব নিচু গলায় বলল, “কর্ণেল…”
সামনের মানুষটা নড়ল না। রেজোয়ান। সে এবার আড়ালে নেই। সরাসরি দাঁড়িয়ে আছে।
পাহারাদার হাতের টর্চটা শক্ত করে ধরল। “আপনি এখানে কী করছেন?”
রেজোয়ান ধীরে ধীরে তার দিকে এক পা এগিয়ে এল। “আমি আমার নিজের জমিতেই আছি।”
কথাটা খুব শান্ত। কোনো হুমকি নেই। কোনো উত্তেজনা নেই। কিন্তু সেই শান্ত স্বরটাই লোকটার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা ভয় ঢুকিয়ে দিল।
সে এক পা পিছিয়ে গেল। তার পেছনের লোকজনও থেমে গেছে। কেউ এগিয়ে আসছে না।
রেজোয়ান আরও এক পা এগোল। তার চোখ চারজনের ওপর দিয়ে একবার ঘুরে গেল। তারপর বলল, “সবাই ফিরে যাও।”
একজন সাহস করে সামনে এগোতে গেল।
রেজোয়ানের শরীর তখনই বদলে গেল। যেন স্থির পাথরের ভেতর হঠাৎ স্প্রিং খুলে গেছে।
লোকটা হাত বাড়ানোর আগেই রেজোয়ানের ডান হাত তার কবজি ধরে ফেলেছে। এক টানে শরীরটা সামনে এল। রেজোয়ানের বাঁ কাঁধ সামান্য ঘুরল, লোকটা ভারসাম্য হারালো, আর পরের মুহূর্তেই সে হাঁটু ভেঙে মাটিতে বসে পড়ল।
কোনো ঘুষি নয়। কোনো লাথি নয়। শুধু গতি আর ভারসাম্যের নিখুঁত ব্যবহার।
লোকটা উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল।
রেজোয়ান তাকে ছেড়ে দিল।
সে উঠে দাঁড়াল। কিন্তু তার চোখে এবার আর রাগ নেই। আছে ভয়।
রেজোয়ান এক পা, দুই পা করে পেছনে সরে গেল। তারপর গাছের ছায়ায় ঢুকে গেল।
একজন টর্চের আলো সেই জায়গায় ফেলল। কেউ নেই।
চারজন মানুষ কয়েক মুহূর্ত স্থির দাঁড়িয়ে রইল। তারা জানত, মানুষটা তাদের সামনেই ছিল। তারপরও কীভাবে চোখের সামনে থেকে গায়েব হয়ে গেল, সেটা তারা বুঝতে পারল না।
পরদিন সকালে এই ঘটনাটা রিসোর্টে পৌঁছাল।
যে লোকটা রেজোয়ানকে দেখেছিল, সে তখনো স্বাভাবিক হতে পারেনি। তার মুখে রাতের আতঙ্ক স্পষ্ট।
ম্যানেজার তাকে বারবার জিজ্ঞেস করল, কী হয়েছিল।
লোকটা দীর্ঘক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর শুধু বলল, “লোকটা আমার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।” সে একটু থামল। তারপর খুব ধীরে বলল, “তারপর আমি বুঝতেই পারিনি, সে কোথায় গেল।”
ঘরের ভেতর কেউ কথা বলল না। বাইরে তখন দিনের আলো। পাহাড়ের ঢালে রোদ পড়েছে। শ্রমিকেরা আবার কাজে নেমেছে।
মাটি কাটা হচ্ছে। বাঁশ ওঠানো হচ্ছে। মেশিন চলছে। সবকিছু স্বাভাবিক। শুধু রিসোর্টের লোকজনের চোখে এখন আর আগের সেই আত্মবিশ্বাস নেই।
কারণ এখন আর রেজোয়ান তাদের কাছে কোনো গল্প নয়। তারা তাকে সরাসরি দেখেছে। একদম চোখের সামনে। তারপরও তাকে তারা ধরে রাখতে পারেনি।
সেদিন বিকেলে কোম্পানির নতুন আনা লোকজনের মধ্যে আরও কয়েকজন রাতে পাহারায় যেতে অস্বীকার করল।
মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের মালিক খবরটা শুনে অনেকক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর টেবিলে রাখা হিসাবের কাগজটা সামনে টেনে নিলেন।
লোক বাড়ছে। খরচ বাড়ছে। কিন্তু, কাজ পিছোচ্ছে।
আর একজন মানুষ, যাকে তিনি প্রথমে স্রেফ একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল ভেবে পাত্তা দেওয়ার চিন্তা মাথায়ই আনেন নাই, এখন সে তার পুরো প্রকল্পের হিসাব বদলে দিতে শুরু করেছে।
(চলবে)4 Comments
আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন
ডিজাইনার
স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।
Friends
মেহেদী মারুফ
@maruf1
Redowan Hussain
@redowanhussain
ডা.এম.এইচ.রহমান খান
@drmhrahmankhan
Hashem Molla
@hashemmolla
Nusrat jahan
@shuha
রুবেল দে
@alexrubel630
Afra Anjum
@afraanjum
Sk Sagor
@sksagor
, মিঠুন কুমার ঘোষ
@mkghosh

বিষণ্ন সুমন, আপনার অরণ্যের গহীন রহস্য আর রেজোয়ানের শান্ত ব্যক্তিত্বের যে বুনন আপনি তৈরি করেছেন, তা সত্যিই খুব আকর্ষণীয় এবং পাঠককে ধরে রাখার মতো একটি কাজ হয়েছে। পাহাড়ের প্রতিটা বাঁকে যে অস্বস্তি আর অনিশ্চয়তা আপনি খুব নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা গল্পটিকে একটি অন্যরকম উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আপনি আপনার এই চমৎকার লেখনী চালিয়ে যান, আমরা আপনার পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।