Profile Photo

naznin shamimOffline

  • nazninshamim
  • Profile picture of naznin shamim

    naznin shamim

    • 3 weeks, 2 days ago

    হৃদয়ের শেষ স্টেশনে কোনো ট্রেনের তাড়া নেই
    নাজনীন শামীম
    চট্টগ্রাম থেকে
    ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং

    ​মেঘের সাথে রোদের শেষবার মতো দেখা হয়েছিল কোনো এক বিকেলে। নীলিমা আর আবীরের গল্পটাও ঠিক তেমনই—শুরুতে একরাশ আলো, আর শেষে শান্ত কিন্তু দমবন্ধ করা নীরবতা।
    ​তারা প্রেমে পড়েছিল খুব সাধারণভাবেই। কিন্তু সাধারণ ভালোবাসাও যে মানুষকে কতটা বদলে দিতে পারে, তা শুধু তারা দুইজনই জানত। নীলিমা ছিল ক্যাফেটেরিয়ার কোণে বসে ডায়েরির পাতায় এলোমেলো আঁচড় কাটা মেয়ে, আর আবীর ছিল তার সেই দূর থেকে চেয়ে থাকা নীরব শ্রোতা।
    ​কথা বাড়ল, সময় গড়াল। চারপাশের সবকিছু যখন খুব দ্রুত বদলে যাচ্ছিল, তখন তারা একে অপরকে ধরে বাঁচতে শিখেছিল। কিন্তু ভালোবাসা যত গভীর হয়, তার সাথে জড়িয়ে থাকা দূরত্ব আর না-বলা অভিমানগুলোও বুঝি ততটাই ধারালো হতে থাকে।
    ​পার্থক্য শুধু এতটুকুই ছিল—তুমি ভেবেছিলে দূরত্ব মানেই সব শেষ, আর আমি ভেবেছিলাম দূরত্ব মানে ভালোবাসার পরীক্ষা।
    ​সম্পর্কের মাঝে যখন ভুল বোঝাবুঝির দেয়াল উঠতে শুরু করে, তখন মানুষ ভুল মানুষকে নয়, বরং ভালোবাসার মানুষটাকেই সবচেয়ে বেশি আঘাত করে বসে। আবীর যেদিন হুট করে বলল, “আমরা হয়তো আর মানিয়ে নিতে পারছি না,” নীলিমা সেদিন চিৎকার করে কিছু বলেনি। শুধু একজোড়া ভেজা চোখে তাকিয়ে নীরব হাসিতে বিদায় জানিয়েছিল।
    ​তারাতারি ভেঙে যাওয়া জিনিস তো জোড়া লাগানো যায়, কিন্তু নীরবতায় জমে যাওয়া দূরত্ব কি আর মেটানো যায়?
    ​বিচ্ছেদের পরদিনগুলো আসলে খুব অদ্ভুত হয়। জীবন থেমে থাকে না, কিন্তু জীবনের ভেতরের স্পন্দনটা কোথায় যেন হারিয়ে যায়। আবীর ভেবেছিল নীলিমাকে ভুলে যাওয়া সহজ হবে। প্রতিদিনের চেনা রাস্তা, একই ক্যাফে, আর কফির কাপ—সবই তো আগের মতো আছে। কিন্তু নীলিমার অনুপস্থিতি সেখানে প্রতিদিন এক নতুন শূন্যতার জন্ম দিত।
    ​এক বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় ক্যাফেটেরিয়ার সেই একই কোণে বসে আবীর তার কফির কাপে চুমুক দিচ্ছিল। ঠিক দুই বছর আগে এই টেবিলটাতেই নীলিমা বলেছিল—
    ​মানুষ কখনো মানুষকে হারায় না, মানুষ হারায় নিজের ভুল সময়ে নেয়া সঠিক সিদ্ধান্তগুলোর কাছে।
    ​হঠাৎ আবীরের চোখে পড়ল ডায়েরির সেই শেষ পৃষ্ঠাটার দিকে, যা নীলিমা বিদায়ের দিন টেবিলে ফেলে গিয়েছিল। পৃষ্ঠাটা উল্টাতেই আবীর দেখতে পেল নীলিমার নিখুঁত হ্যান্ডরাইটিংয়ে লেখা শেষ দুটি বাক্য—
    ​আমি তোমার অভাবটা মেনে নিয়েছি, কিন্তু বিদায়টা এখনো মেনে নিতে পারিনি। হয়তো কোনো এক জন্মে আমরা আবার একসাথে হব, যেখানে হারিয়ে যাওয়ার মতো কোনো ভয় থাকবে না।
    ​আবীরের হাত থেকে ডায়েরিটা খসে পড়ল। সে সেদিন বুঝল, হারিয়ে যাওয়া মানুষকে খোঁজা সহজ, কিন্তু যে মানুষটা অভিমান করে বেঁচে থাকার পথ আলাদা করে নিয়েছে, তাকে ফেরানোর ক্ষমতা পৃথিবীর কোনো ভালোবাসার নেই।
    ​এখনো যখন বৃষ্টি পড়ে, শহরটা ভিজে একাকার হয়। নীলিমা হয়তো অন্য কোনো ডায়েরিতে নতুন কবিতা লেখে, আর আবীর তার পুরনো ভালোবাসার স্মৃতিগুলোকে বুকে চেপে বেঁচে থাকার অভিনয় করে যায়।

    3
    8 Comments
    • নীরবতায় জমে যাওয়া দূরত্ব কি আর মেটানো যায়?

    • ভালোবাসা হারায়নি, শুধু ভুল সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের স্টেশনে থেমে গেছে তার শেষ ট্রেনটি…🖤

      • যথার্থ বলেছো বন্ধু, ধন্যবাদ আর নিরন্তর শুভকামনা তোমার জন্য ♥️♥️

    • শব্দগুলোর ব্যাকুলতা আর না-বলা অভিমানগুলো একদম হৃদয় ছুঁয়ে গেলো।

    • নাজনীন শামীম, আপনার লেখায় আবেগ আর অনুভূতির যে সূক্ষ্ম বুনন ফুটে উঠেছে তা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী, আর প্রতিটি চরিত্র যেভাবে মানসিকভাবে রূপান্তর লাভ করেছে তা গল্পের মূল আকর্ষণ হিসেবে ধরে রেখে সামনে আরও এমন হৃদয়ছোঁয়া সৃষ্টি লিখে যাওয়ার জন্য আপনাকে অনেক অনেক শুভকামনা জানাই।

      • অনেক অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় কবি বন্ধু নিরন্তর শুভকামনা তোমার জন্য 🌺🌺

Friends

Skip to toolbar