-
আমার জীবনের উপন্যাস
(প্রথম দেখা)* সেই দিনটার কথা আজও মনে পড়ে আমার, সেদিন প্রথম সে এসেছিলো , আমার আঙ্গিনায় তার সুবাদে বাগ বাগিচায় বনে জঙ্গলে ছেয়ে গিয়েছিলো হরেক রকম ফুল, কারন তখন চলছিলো ফাগুনে নিয়ে আসা বসন্ত। সেদিন থাকে আমি প্রথম দেখেছিলাম,আমার মনেরি আয়নাতে স্পষ্ট তাহার ছবি আদৌ গাঁথা এ হৃদয়ের সেমিনারে, সেদিন আমার খালাতো বোনটার সাথে সে এসেছিলো আমারি গৃহে সেদিন এসেই ঠিক বসেছিলো সে আমার বিছানার পাশটায় গা ঘেষে ,তখন আমি বেদুন নিদ্রাই নিদ্রিত ছিলাম, হঠাৎ জাগ্রত হয়ে আমারি পাশে থাকে দেখিতে পায়, আহা সেদিন কি যে অপূর্ব লাগছিলো থাকে,আমি আজও সে রকম মনোভাব কাহারো চোখে মুখে আর কোনদিন দেখিতে পায়নি। সত্যিই প্রথম দেখা বলে একটা কথা আছে না, তার কিছুক্ষন পর আমার সহপাটি অর্থাৎ আমার ভাতিজা এলো আমার খুঁজে, নাম তার মাসুম। ততক্ষণে সেই মেয়েটি চলে গেছে। আমি ইতস্তত তখনও তার নাম জানতাম না, তারপর আমি ফ্রেস হয়ে মাসুমের নিকটে এসে সব কথা বিস্তারিত ভাবে বললাম মাসুম শুনে ত হতবাক মাসুম বলল আমায়, রপ্পি তুই ত কোনদিন কোন মেয়ের প্রতি কোন প্রকার আগ্রহ পোষণ করিস নি তবে আজ, আমি বললাম বুঝতে পারতেছি না রে মাসুম। তুই বল না আমার কি হয়েছে, হাত খান দে মাসুম, মাসুম হাত এগিয়ে দিলো, এবার আমি তার হাত আমার বুকে উপর রেখে বললাম,কি বুঝলি রে মাসুম? উত্তরে সে বললো তর প্রেম রোগ হয়েছে। এ কথাটা শুনে আমি খানিক হাসলাম,প্রেম রোগ হা হা হা !!! যা ছেড়ে দে,চল স্কুলে স্পোর্টস আছে হোসাইন শাহ আইডিয়াল স্কুল চত্ত্বরে, মাসুম বললো যাবি ত, আমি বললাম আমাদের চাচার স্কুল,আর আমি যাবো না, তা হয় নাকি, চল রে দেরি হয়ে যাবে, মাসুম তাগিদ দিচ্ছে আমাকে। আমি ততক্ষণে গাছ থেকে পাকা,পাকা বড়ই পারতে ব্যস্ত। তারপর বড়ই আর লবণ নিয়ে স্পোর্টস দেখার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম,আমি আর মাসুম। সেদিন আমার মন অস্থির ও উড়ু উড়ু ভাব পোষণে মনে মনে ফের একটা কথাই বলছিলো, আবার দেখা হবে তো? ভাবনা শেষ হতে না হতে সাথে,সাথেই
সে আবার আমার সামনে এসে হাজির, আমার খালাতো বোনের সাথে! এবার আরো নতুন কিছু বান্ধবী এলো তার সাথে, তখন আমার খালাতো বোন সে জিজ্ঞেস করলো আমাকে ভাই হাতে কি? আমি বললাম কিছু বড়ই,দেখতেই ত পারছিস, গাছ থেকে পারলাম খুব কষ্ট করে। সে বললো আমাদের দাও, আমি বললাম দেখ বোন আমার কাছে যে বড়ইগুলো আছে তা তদের সবার হবে না, তাছাড়া আমি আমার বন্ধুদের জন্য সেগুলো নিয়ে যাচ্ছি, তুই ওদের নিয়ে আমার বাড়ি থেকে,যত পারিস,নিয়ে আয়, তখন ও সেই মেয়েটি এ কথাটা সে জানতো না,যে আমি থাকে ভালবেসে পেলেছি সে কথাটা! তখন আমি, মাসুম, আর আল্লাহ ভালো করে জানতাম একথাটা , সেদিন স্পোর্টস চলাকালীন সেই মেয়েটার মায়াবী আঁখি দুটো ততবার দেখেছি, আমি নিজেকে উন্মাদনায় যেন হারিয়েছি। যততবার,এই মেয়েটির সম্মুখে আমি দাঁড়ায়েছি। আমার বুকে কম্পন হয়েছিলো, সত্যি বলছি এর আগ মুহূর্ত কোনোদিন
কোনো মেয়েকে দেখে আমার এমন হয়নি। তখন আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম তবে একেই বলে কি প্রেম?
এতদিন সিনেমার গল্পে দেখেছি, এবার তাহলে আমার সংঙ্গে ও হবে,এই ভেবে আমি আন্দনে আপ্লুত হয়ে হাসতে,হাসতে,কেঁদেছিলাম! আর এটাই ছিল আমার জিবনের কোন মেয়ের জন্য প্রথম দর্শনে কান্না। ২০১১সালের সেই ছোট্ট মেয়েটি সে ছিলে প্রাইমারি শেষ করে প্রথম বর্ষবরণে ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী।আর তৎক্ষালীন আমি ছিলেম,একাদশ শ্রেণীর প্রথম বর্ষবণের ছাত্র।
সেদিন থেকে শুরু হল আমার জীবনে প্রথম ভালোবাসার অধ্যায়, আর ভালোবাসার সেই ডাইরিতে কলমের কালিতে সূত্রপাত ঘটলো সেই মেয়ের, বাস্তবিক জগতে কাল্পনিক প্রেমের জন্ম,মেয়ে আর আমার ।
সেই প্রেম রচিতার প্রধান চরিত্রটাই ছিলো সেই মেয়েটি। আর আমি ছিলাম,কেন্দ্রীয় চরিত্রে তাহার পাগল। পিছনের মর্মান্তিক ঘটনার গল্প, কিন্তু আফসোস, হাজারো চেষ্টায় সেই মেয়েটি মূল চরিত্রে আমার পাগলী হয়ে উঠতে পারেনি, আর কখনও বুঝতেও চাইনি,এই পাগলটার ভালোবাসার কথাগুলো।
এবার সামনের ঘঠনায় চলে আসি,একদিন আচমকায় খালাতো বোনোর কাছে জানতে পারলাম,সেই মেয়েটির নাম নাকি রিয়া, তারপর, একদিন রিয়াকে প্রথম ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে আমার বক্ষস্থ থরথর করে কাঁপছিলো, আর আমি বরাবরি নার্ভাস হয়ে যাচ্ছিলাম, তারপর, একদিন, দু’দিন,করে এক সপ্তাহ কেটেছিল, আবার রিয়ার সামনে এসে নিজেকে নতুন করে উপস্থাপন করতে, আর হাসিমুখে একথাটা বলতে যে আমি তোমাকে ভালোবাসি রিয়া, তারপর আচমকাতে মুখ চেপে মৃদু স্বরে বের হয়েছিল আমার শিহরিত অঙ্গের সারা জাগানো ভালোবাসার সেই উপশব্দ,বর্ণ বা কথা আমি তোমাকে ভালোবাসি।
জীবনের প্রথম কোনো মেয়েকে বলা প্রত্যাশীত বাক্যাংশ।সেই বাক্যাংশ শুনে রিয়া একটু ও স্তম্ভিত হলো না এক মুহুর্থ্যের জন্যও! বরং সেদিন একথাটা বলেছিলো রিয়া,আমি আপনার খালাত বোনের কাছে এসব কথা বলে দিবো, সে প্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম নিঃসন্ধে বলতে পারো আমার কোন আপত্তি নাই।
তারপর,এ কথাটা বলে চুপচাপ রিয়া চলে গিয়েছিলো তার নিজ বাড়ি। অতঃপর আমি খুব বিস্মিত হয়ে চিন্তার সাগরে ডুবে ছিলাম, সেদিন খানিকটা ভয় পেয়ে গিয়েছিলেম আমি। আর একটা ভাবনা আমার মস্তিষ্কে শুধু বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিলো,হায় হায় ভয়ঙ্কর কিছু ঘটতে যাচ্ছে নাকি?
না তেমন কিছুই ঘটলো না পরদিন বরং রিয়া আমার ব্যাপারে কিছুটা কৌতূহলী ভাব পোষণ করলো?
যেমন:- আমি কি করি, আমি এত হাবাগোবা মানুষ কেনো, ইত্যাদি, ইত্যাদি।
এভাবেই আমার বিষয়ে একটু একটু করে জানতে চায়তো সে,
আমার খালাতো বোনের কাছ থেকে। তবুও আমাকে রিয়া নামের সেই মেয়েটি, তবু সে আমাকে ভালোবাসে না ভালোবাসে’না কিছুই বলতো না,সেই ব্যাপারে।
বরং আমাকে দেখা মাত্র সে নার্ভাস অনুভব করে যেতো। আর আমি এর কোনো ব্যাখ্যা খুঁজে পেতাম না, রিয়াকে দেখা মাত্র আমার বুকে ভিতরকার হৃদপিন্ডের স্পন্দনে আমি ও নার্ভাস হয়ে যেতাম। যাই হউক এদিকে আমার কলেজে পরিক্ষা শুরু হতে আর মাত্র ২ দিন বাকি ছিলো , অন্যদিকে আমার ভেতরকার ভালোবাসার ঘন্টা বাঁজছে,আর আমি আর ও বেশী আবেগী প্রেমে উতলা হয়ে যাচ্ছিলাম দিন,দিন।
আমার বাড়ি হতে কলেজের দূরত্ব ছিলো প্রায় ১৮ কিলোমিটার। আমাদের জেলা সদর কিশোরগঞ্জে আমার কলেজ অবস্থিত ছিলো। আর সেখানটায় হবে প্রথম সেমিষ্টার পরীক্ষা, বেলা ১.০০ টা হতে শুরু পরীক্ষার রুটিন ও হাতে পেয়েছিলাম সপ্তাহ খানেক আগে, এখন ও পড়ালেখাতে তেমন মন নেই, এদিকে পরীক্ষা দিন ঘনিয়ে সামনে হাজির হলো। অন্যদিকে কলেজের বন্ধুরা নিজ,নিজ,মেসে থাকছে আমাকে ও বলেছিলো ওদের সাথে মেসে ওঠতে কিন্তু আমি যে সেই মেয়ের প্রেমে পড়ে বাড়িটাকে মেস বানিয়ে পেলেছি আর সেখানে থেকেই পরীক্ষায় হলে যাবো, নিশ্চিত করে রেখেছি, তাই বন্ধুদের মেসে ওঠবো না বলে জানিয়ে দিলাম। আমার বাড়ি থেকে পরীক্ষার হলে পৌঁছাতে প্রায়শ পৌনে এক ঘণ্টার পথ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ব্যাপক ভালো। তাই এছাড়া সকাল সকাল রিয়া নামের মেয়েটিকে চোখের দেখা দেখে পরীক্ষায় যেতে পারবো,তেমন সময় হাতে ছিলো এজন্য আমি চাইছিলাম না,থাকে চোখের আড়ালে রাখতে। এভাবে প্রতিদিন সে স্কুলে এলে তারপর আমি পরীক্ষায় যেতাম আর এইভাবে সব পরীক্ষা শেষ করলাম। ততদিনে তার সাথে আমার তেমন কথা হয়নি। এবার সিদ্ধান্ত নিলাম রিয়ার মুখোমুখি হওয়াটা জরুরী, তারপর তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বললাম,আমি তোমাকে ভালোবাসি প্রায় অনেকদিন যাবত একথাটা রিয়া তুমি ও ভালো করে জানো, আমি আর চাপ নিতে পারছি না রিয়া, এখনও সময় আছে তুমি আমাকে ভালোবাসলে হ্যা,আর ভালবাসলে না বাসলে না বলে দাও? আমি তোমার সামনে আর দাঁড়াবো না,এর উত্তরে রিয়া বললো আমি জানি না, স্কুলে যাব পথ ছাড়েন,আমি ও পথ ছেড়ে দিলাম, সে চলে যাচ্ছিলো
তখনি আমি বললাম,নিরবতা সম্মতির লক্ষণ, এর মানেটা সবাই জানে,তার মানে তুমি কি আমাকে ভালোবাসো। সে কিছু না বলে সরাসরি স্কুলে চলে গেলো। সেদিন ও ভালবাসার সর্ম্পকে,তেমন,অভিজ্ঞতা আমার ছিলো না। একটু,একটু,করে,আমি ভালবাসার সূত্র রপ্ত করছিলাম। আর রিয়ার এই আচরণ গুলো আমাকে ক্যাবল রিয়ার প্রেমেই বেধে রাখলো, সেই থেকে আমি এই বাঁধন পূর্ণ করার আশায়,মগ্ন বিভোরে অরণ্য বা লোকালয়ে, ঘন তপ্যাসায়,ভালবাসার সিক্ততা অর্জন করার প্রত্যাশায়, পবিত্র ভালবাসা, বুকে রেখে মিথ্যে বর্জনে, প্রভুর আরধনায়,আমি রিয়ার মায়ার জালে রয়ে গেলাম আটক। রিয়াকে ভালবাসতে আমার এই প্রচেষ্টা ছিলো,ভুলে যেতে নই কিন্তু । তবু রিয়ার মুখ থেকে আমি কোন উত্তর পাইনি, যে রিয়া আমাকে ভালোবাসে কি ভালোবাসে না, এই কথাটার।
তারপর ও আমি রিয়াকে, একটি বার দেখার জন্য প্রত্যেক দিন, বিকেলে মাসুমকে সাথে নিয়ে রিয়ার বাড়ির কাছে, একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল ছিলো, সেখানে চারটা পনেরো মিনিটে উপস্থিত থাকতাম আমি আর মাসুম। সেই রিয়া নামের মেয়েটি কোচিং করতো সেখানে। শুধু রিয়াকে দেখার জন্য, আমি আগে থেকেই খাওয়া দাওয়া ছেড়ে সেখানে উপস্থিত থাকতাম, একেক দিন মাসুম ছাড়া অন্য বন্ধুদের নিয়ে। কারন আগে থেকে জানতাম আমি,সেখানে কোচিং এ পড়ানোর জন্য স্যার আসতে অন্তত ১০ মিনিট দেরী হতো। আর আমি এজন্য আগে করে সেখানে উপস্থিত থাকতাম। আর দুচোখ ভরে রিয়া নামের সেই মেয়েটাকে দেখতাম,অপলক দৃষ্টিতে থাকিয়ে, আর রিয়ার রূপের প্রসংশা করতাম,মহান আল্লাহর কাছে। তখন রিয়া তার ঘনিষ্ঠ বান্ধবীদের সাথে হাসি আর আড্ডায় মসগুল থাকতো। আর মাঝে,মাঝে আমার দিখে থাকিয়ে,মৃদু হেসে বান্ধবীদের কাছে কি জানি কি বলতো আজ ও আমি জানি না। আর এই রহস্য উন্মোচন করবো বলেই আমার এ যাত্রা দৃঢ় ছিল। কিন্তু রিয়া যদি সে না থাকে আমার নসিবে, তাহলে কেমনে ভালোবাসিবে? তা এখন বুঝতে পারি,আগে বুঝতে পারতাম না। সেদিন আমি এ কথা বন্ধুদের কাছ থেকে রপ্ত করেছিলাম,যে মেয়েদের বুক ফেটে চৌচির হয়ে যাবে তবু মুখ ফুটে কিছু বলবে না, আমি সেই সূত্র ধরে ভালবাসার যোগফল নামাতে গিয়ে,আজ দেখি,এই সূত্র ভূল প্রমাণিত হয়েছে,মেয়ের বিরল অবহেলার সাগরে। রিয়ার অবহেলা,দিন,দিন,আমাকে,নিমজ্জিত,আঁধারে কালো ছায়ায় হতাশায় ডুবাতে লাগলো। এতদিনে আমি এইডস রোগের মত রক্ত নষ্ট করা প্রেমের ভাইরাসে, মূমুর্ষ্য রোগীর মত যন্ত্রনায় কাতরে,কাতরে রিয়ার প্রেমের অগ্নিতে জ্বলে পুড়ে ছাই হচ্ছি। যেই সরল ভাষ্য ছেলে রপ্পি অর্থাৎ আমি ভালো দিক ছাড়া কিছুই বুঝতাম না, হঠাৎ ভালবাসার ঝড়ের কবলে পড়ে,আমি ততদিনে,নেশা জগতের হেডমাষ্টার হয়ে গেলাম। তখন মানুষ ও আমাকে অবহেলা করতে লাগলো, কিন্তু সেটা আমার ভয়ে ও আমার খারাপ কর্মের জন্য , কভু আমাকে কেউ বুঝতে চায়নি, বরং অপবাদ ঢেলে দিয়েছিলো সবাই। তখন উপলদ্ধি করে আমি বুঝেছিলাম,একটি মেয়ের অবহেলা নামক ভালবাসার অভিশপ্ত একটি ভালো ছেলেকে ও নষ্ট ম্লানে বিমর্দিত করতে পারে খুব সহজেই।
এবার থেকে ত রিয়া আমাকে ভয় পেতে শুরু করলো আর ঘৃণার মাত্রাটা আর ও বাড়িয়ে দিলো,
সে আমাকে,এড়িয়ে চলাচল করতে শুরু করলো
আগে ও চলতো,তা ক্রমশই ছিল।
আগে একলা একা বাড়ি যেতো, আর এখন অন্যছাত্রীদের সাথে বাড়ি ফিরে যাই, স্কুল ছুটির পর রিয়া নামের সেই মেয়েটি।
রিয়ার সেই অবহেলা,আর নিন্দাকারীদের টাট্টা আমাকে ঘৃণার আবরণে ঢেকে দিয়েছিলো,
তখনও মাসুম ছেলেটিই,আমার সংঙ্গ ছায়া সঙ্গী ছিলো। একমাত্র মাসুমই বলতে পারবে,সেই ভয়াল দুঃস্বপ্নের আমার লজ্জিত,জীবনের,বেদনার্ত, দিনগুলির কথা, আমি সেদিন,উপলদ্ধি করে দুটি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলাম।
প্রথমত :- অতি মাত্রায় ভালবাসা,সর্বনাশের কারণ,
তাই ভালবাসার মানুষকে বিশ্বাস করা ঠিক তবে সর্বস্ব দিয়ে নই,
তাহলে,আমার মত মূল্য দিতে হবে, ত্যাগ আর চোখের জল দিয়ে।
দ্বীতিয়ত:- একজন খারাপ মানুষের সহ-সঙ্গী কখনও হওয়ার চেষ্টা,কেউ ভুলে ও করবেন না,
কারন এই সংঙ্গই আপনাকে ধ্বংসের সাগরে নিক্ষেপ করবে!
যাই হউক,সেদিন থেকে আমি যতদিন, এই খারাপ ট্রমার ভেতর দিয়ে গিয়েছি,সবাই আমাকে ঘৃণার চোখে দেখতো,আর খারাপ কর্মের জন্য সবাই দূরে,দূরে থাকতো!
আর রিয়া নামের মেয়েটি সে ত আমাকে আর দেখিতেই চাই তো না,
আমি যদি এদিকে যেতাম রিয়া যেতো অন্যদিকে,
এরি মধ্যে রহমতের চারটি বছর ঘুরে পঞ্চম বছরের রহমতের মাস রমজান চলে এলো, আর চারপাশের সব স্কুল, কলেজ বন্ধ দিয়ে দিলো। কিন্তু রিয়াদের কোচিং চলছিলো স্কুলে প্রথম রমজান থেকে রিয়াদের কোচিং শুরু হয়ে গিয়েছিলো, কারন কয়েক মাস পরে তাদের এস.এস.সি পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছিলো, একদিকে,রিয়ার ভালবাসা থেকে বঞ্চিত,আর অন্যদিকে,আমার পরিবারের কেউ আমাকে আগের মত আর ভালোবাসতো না কারন আমি ত একজন খারাপ ছেলে, আর খারাপ ছেলেকে মানুষ ভালবাসবে কেনো? ভাল না পাওয়াটা স্বাভাবিক।
তাই চিন্তার সাগরে,ডুবে,ডুবে,অনুতপ্তে ভাবছিলাম, আর আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করতে লাগলাম, হে আল্লাহ তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও, মাফ করে দাও আমি আগেকার (রপ্পি) হতে চাই, যে রপ্পি কখনও নেশা করতো না,সেই রপ্পি “হে আল্লাহ,সেই রপ্পি হতে চাই যাকে নিয়ে কেউ আর হাসি টাট্টা করবে না,সেই (রপ্পি) আল্লাহর দরবারে এই ফরিয়াদ করে সেদিন কিছুটা শান্তি উপলদ্ধি করেছিলাম!
তারপর ভেবেছিলাম এবার রিয়ার কাছে শেষবারের জন্য আমি ভালবাসা ভিক্ষা চেয়ে দেখি সে আমাকে ভালবাসাটা ভিক্ষা দেয় কি না, সেদিন ২৭তম রমজানের দিন ছিলো, সকাল ঠিক ৮.৩০মিনিট রিয়া তার বান্ধবীদের সথে স্কুল প্রাজ্ঞনে স্যারে জন্য অপেক্ষা করছিলো, ঠিক,তখনি আমি সেখানে পৌঁছায়।
আর তার বান্ধবীরা,আমাকে দেখে হাসছিলো, তাদের কর্মকান্ড দেখে মনে হচ্ছিলো আমি মানুষ না, তখন আমি তাদের লক্ষ্য করে বললাম,তোমরা হাসছো কেনো?
আমার এই দুর্দীন,আর দূরাশা দেখে, হাসো তোমরা খুব বেশী হাসো,
উত্তরে তারা বললো না সে জন্য নই,
আমি বললাল, তাহলে কেনো?
তারা বললো,এমনিতেই, আমি জানতাম,ওরা আমার জন্যই হেসেছিলো সেদিন।
রিয়ার সব বান্ধবীর মাঝ থেকে ছদ্মনাম:- কবিতা কে বললাম, রিয়াকে উদ্দেশ্য করে, আচ্ছা কবিতা তোমার বান্ধবী কি চাই, উত্তরে কবিতা বললো কেনো রিয়া কি করেছে, আমি বললাম,হায় রে মোর কপাল, তোমরা দুচোখে সব দেখে,কান দিয়ে সব শুনে, আজ বলছো রিয়া কি করেছে, কেন সে আমার মন নিয়ে খেলা করছে তোমরা কি জানো না, শুধু ত তাই নই, আজ পাঁচ বছর ধরে রিয়ার একটা উত্তরের আশায় আমি মরেও বেঁচে আছি, রিয়া আমাকে ভালোবাসলে হ্যা না বাসলে না বলে দিলেই পারতো।
কিন্তু এখন যদি না বলে, তবে ত আমি মরে যাবো একেবারে মরে যাবো,এমন অবস্থায় দাড়িঁয়েছে।
কারন,রিয়া যে আমার অস্তিত্বের রক্তরন্ধ্রে মিশে গেছে এইডস আইভি রোগের মতন।
আমি কবিতাকে বললাম,তোমরা হয়তো জানো,
আমার চাকরির হয়েছিলো ঢাকার একটি কোম্পানিতে, রিয়ার বান্ধবীরা সবাই এক বাক্যে বললো,
হুম জানি, আমি বললাম,আমি চাকরি ছেড়ে চলে এসেছি।
কথাটা বলে,অবাক চোখে রিয়ার দিকে তাকালাম,
আর আমি দেখতে পেলাম তার ভেতর অপরাধীর মত চিন্থ কাজ করছে,
আমি কবিতাকে বললাম,তোমরা হয়তো এটা ও জানো, আমি এলাকার ছেলেদের মধ্যে আমি একটি ভালো ছেলে ছিলাম,
কিন্তু আমি বর্তমানে পেক্ষাপটে,একটা খারাপ ছেলে আমি এসব কাজ ছেড়ে দিতে রাজি,
যদি তোমাদের বান্ধবী,রিয়া আমাকে একটিবার সুযোগ দেয় তবেই,
রিয়া মাথা নিচু অবস্থায় নিশ্চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। তখন কবিতা বললো আপনি যে বললেন সব কাজ ছেড়ে দিবেন,তাহলে রিয়াকে বিয়ে করলে কি খাওয়াবেন?
উত্তরে আমি বললাম,সব বলতে,খারাপ সব কাজ ছেড়ে দিবো,
আর তোমার বান্ধবীকে খাওয়ানো মত যোগ্যতা আমার আছে।
তা নিশ্চয় তোমরা জানো, কবিতা বললো হুম জানি আপনি কৃষি ডিপ্লোমা কমপ্লিট করেছেন,কিছু দিন আগে।
আমি বললাম হুম,সেই জন্যই ত চাকরি নিয়েছিলাম তা রিয়ার জন্য ছেড়ে দিলাম!
কবিতা বললো,আপনি আসলেই একটা বোকা ছেলে, যান এবার স্যার আসবে চলে যান, আমি চলে এলাম তবু রিয়ার কাছ থেকে কোন উত্তর পেলাম না! এদিকে,কিছু দিন আগে রিয়ার চাচা আমাকে ও আমার বন্ধু ডালিমকে তাদের বাড়ির নিকট একটা কাজে যাওয়ার সময়,রিয়ার সম্মুখে,আমাকে ও ডালিমকে পুলিশের হাতে মার খাওয়াই ছিলো, সেদিন এলাকায় মেলাকে কেন্দ্র করে বিশাল বিশৃঙ্খলা হয়েছিলো আমাদের এলাকায়, আর সাড়া এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছিলো প্রশাসন।
আর সেদিন,আমি আমার বন্ধু ডালিমকে নিয়ে রিয়ার পাড়াতে গিয়েছিলাম জরুরী কাজে, কাজটা ছিলো ডালিমের মামার বিয়ে আর এই বিয়ের খাবারের আইটেম স্লিপস আনতে বাবুর্চির বাড়ি গিয়েছিলাম। রিয়ার এলাকায় ছিলো সেই বাবুর্চির বাড়ি।
সেখান থেকে খাবারের মেনু লিষ্ট নিয়ে বাড়ির দিকে ফিরছিলাম ঠিক তখন রিয়ার ও স্কুল ছুটি হয়েছিল,আর রিয়াও বাড়ির দিকে ফিরছিলো, আমাদের হোসেন্দী বাজারের কাছের রাস্তায় দিয়ে বাড়ি ফিরছিলো রিয়া, ডালিম আর আমি সাইকেল যুগে বাজারের রাস্তার দিকে মোড় হয়ে আমাদের বাড়ি দিকে যাচ্ছি। ঠিক রাস্তার মোড়ের সে কসিং পারাপার হবার সময় রিয়া আর আমি মুখোমুখি তাতে কি শুধু তাকিয়ে দেখিছিলাম মাত্র রিয়াকে!
কিছুই বলেনি,রাস্তার পাশে রিয়ার চাচা দাঁড়িয়ে ছিলো সে আমাকে দাঁড়াতে বললো, আমি না দাঁড়িয়ে ডালিম কে নিয়ে সাইকেলে চলে আসছিলাম তার ১০০গজ দূরত্বে রিজার্ভ পুলিশের গাড়ি,তারা মাথায় হেলমেট পড়ে,হাতে লাঠি লয়ে,সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে।
রিয়ার চাচা,তখনি,আমাদের পিছনে চেঁচাতে লাগলো দাঁড়া, আর গালি দিয়ে বললো দাঁড়া বলছি দাঁড়া।
আমি আর ডালিম,ততক্ষণে,পুলিশের ঠিক কাছাকাছি চলে এলাম।
পুলিশ আমাদের দাঁড়াতে বললেঃ- আমি আর ডালিম দাঁড়ালাম।
তখন,
রিয়ার চাচা চেঁচিয়ে,চেঁচিয়ে,পুলিশের কাছে অর্থাৎ
আমাদের কাছে এলো।
এবার এক পুলিশ সদস্য,জিজ্ঞেস করলো রিয়ার চাচাকে কি হয়েছে ?
চেঁচাচ্ছিলে কেনো ?
সে বললো, স্যার আমাদের পারিবারিক বিষয় এটা।
পুলিশ ক্ষীপ্ত হয়ে বললোঃ-পারিবারিক বিষয় তাহলে রাস্তায় চেঁচাতে,কে বললো তোকে,
বলে,পুলিশ রিয়ার চাচাকে মারার জন্য লাঠি উঁচু করলো।
ঠিক,
তখনি সে বললো,স্যার মূল ঘঠনা বলছি!
এই ছেলেটা,
আমার ভাতিজি কে ডিষ্টার্ব করে,এটা সত্যি কথা যে
আমি রিয়াকে ডিস্টার্ব করতাম,
কিন্তু সেদিন তো ডিস্টার্ব করিনি!
সে নিজেকে বাচাতেঁ সেদিন,
আমাদের বলি দিয়েছিলো।
আর,
পুলিশ,আমাকে ডালিমকে,অনেক মার মারলো,
তারপর ছেড়ে দিলো।
অথচ,
কোনদিন আমি রিয়ার হাতটা পর্যন্ত ধরেনি!
তবে এ কেমন বিচার কোন নীতি মালায়
আমার আর ডালিমের উপর,ধার্য করা হয়েছিলো ?
তবে এটাই ছিলো, কি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ফল?
রিয়া সেই ঘটনাটিও দাঁড়িয়ে থেকে
বেশ,
উপলদ্ধি করে দেখেছিলো।
তারপর,
বাড়িতে এসে মায়ের বকা শুনতে হলো আমার।
আর অন্যদিকে,আমার পাচায় লেগে ছিলো,
পুলিশের মারার ক্ষত,লাল টকটকে চিন্থ।
আর,
আমি যদি সেদিন এর প্রতিশোধ নিতে চাইতাম,
তবে ,
ইচ্ছা করলেই এর চরম প্রতিশোধ,সহজেই
নিতে পারতাম,রিয়ার পরিবারের উপর।
কারন, তখনও যে আমার খারাপের রাস্তা ধরে
ভয়ঙ্কর সিন্ডিকেটের রাস্তা ধরে চলাচল ছিলো ।
যাই হউক,
আমি কখনও চাইতাম না,জোর করে,রিয়ার ভালোবাসা অর্জন করিতে।
তাই, রিয়াকে কোনোদিন,জোরাজোরি করেনি
শুধু,আমি চেষ্টা করে গিয়েছি,
পবিত্র ভালোবাসা,অর্জন করিতে এটুকুই।
সেদিনের,এই ঘটনার জন্য,আমি রিয়ার চাচাকে
ক্ষমা ও করে দিয়েছি,শুধু রিয়াকে ভালোবাসি বলে।
যাই হউক,তারপরও সেই রিয়ার কাছ থেকে
আমি ভালোবাসার সুযোগ,না পেয়ে যখন হতাশায় ভুগছিলাম।
তখনি,আমি আল্লাহর রহমতের ছোঁয়া পেলাম,
আর,আমার জীবনের,পরিবর্তন হতে শুরু করলো,
আমি প্রতিজ্ঞা করে নিলাম, ভালো হয়ে যাবো!
আর সেদিন থেকে,
খারাপ কাজ বর্জন করে দিলাম।
আল্লাহতালার করুণ মহিমায়
আমি যে রিয়া কে ভালবাসতাম তা মূহুর্থের মাঝে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কোরবানি দিয়ে দিলাম।
আর মনে,মনে শপথ করেছিলাম
আজ থেকে আমি যা করবো,তা পুরোটাই,
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করবো।
যেই কথা,সেই কাজ এরপর,প্রায় আরও তিন বছর পেরিয়ে গেলো,
আমার খারাপ পথ থেকে ফিরে এসে আল্লাহর কাছে নিজেকে সমপর্ণ করে দেওয়ার,
তিন বছর পূর্ণতা পেলো, আর অন্যদিকে রিয়াও কলেজে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে পদার্পণ করেছে।
কিন্তু রিয়া সাথে আমার আর দেখা হয়না বিন্দুমাত্র ও।
যদিও তার এখনও বিয়ে হয়নি,
আর হলেই বা আমার কি আসে যাই।
যে ভালোবাসা বুকে নিয়ে ৭ বছর হন্য,হন্য হয়ে
রিয়ার পিঁছনে ছুটলাম সর্ব ত্যাগ করে,
সে রিয়া নামের মেয়েটি কি কোনোদিন আমাকে ভালোবেসে একটিবার আমাকে সম্মান পদর্শন
করতে পেরেছিলো ?
একসময় আমি বলতাম,আল্লাহ আমাকে ভালোইবাসেনা,
যদি ভালোই’বাসে তাহলে,আমাকে টিয়ার সাথে মিলটা করে দিচ্ছে না কেনো ?
কিন্তু,
আল্লাহ যে আমাকে ভীষণ ভালোবাসে।
আজ তা আমি ভালো করেই বুঝতে পারি
কারন,
মহান আল্লাহ আমার চোখের কালো পর্দাটা খুলে দিয়েছে।
তাই ভাল মন্দের তফাৎটা আজ বুঝতে পারি।
এদিকে আমার ভাতিজা মাসুম,সেও আজ স্বার্থক।
কারন,
সে তার ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করে সদ্য গড়ে তুলেছে।
আর আমি ছিলাম তার বিয়ের সাহায্যকারী অভাগা ।
আজ একটা কথা আমি নির্বিঘ্নে স্বীকার করে নিচ্ছি,
এক তরফা কোন প্রেম পূর্ণতা পায় না। আর,
তা কখনও পূর্ণতা হওয়ার নই।
কারন,
এক হাতে ত আর তালি বাজে না,
আমার,
ভালোবাসাতে বড্ড বেশী ভুল ছিল,
আর,
ভুল জায়গাতে আমি তা আমানত হিসেবে দিয়েছিলাম।
আমার মনটাকে সযত্নে রাখার জন্য
আর একটা কথা,ভালোবাসা আর ভালোলাগা
এক কথা নয় কিন্তু,
আমি বলি কি,রিয়া নামের মেয়েটির কোন ভুল ছিল না,
সব ভুলের জন্য আমি নিকেই দায়ী কর,
এবং ভবিষ্যতে ও করবো।
আজ এই চোখ আর রিয়ার জন্য অশ্রু ঝড়ায় না,
আজ এই দৃষ্টি রিয়াকে দেখে না,অনেক বছর
তবুও মনটা যে তাকে ভুলেনি,ভুলবে ও না
আমি জানি,
একবার মন থেকে কাউকে ভালো বাসলে,তারে জনম জনমে ভুলা দায়।
যে ভালোবেসেছে,সেই ব্যাক্তি উপলদ্ধি করিতে পারে,
এই কথাটার মানে।
মন থেকে ভালোবাসার মানুষকে বাদ দেওয়া যায় না কখনোই,
যেটা করা যায়,সেটা হলো,অভিমানের পাহাড়ে নিজেকে মুড়িয়ে,
তার থেকে নিজেকে দূরে আড়াল রাখার চেষ্টা করা যাই।
জানি,
কাজটা সাধ্যের বাহিরে পড়ে,কিন্তু কি করার আছে বৈকি।
আবেগে কি জীবন চলে?
জীবন চলে,বাস্তবতার উপর ভর দিয়ে,তাই,আমি জানি
এই কাজটা করা,কতটা কষ্টসাধ্য।
যেমনটা,আজও স্বার্থপরের মতো আমি নির্বিঘ্নে
করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।
তবু,বারে,বারে,একটাই কথা বলবোই
রিয়া যেনো সুখে থাকে,ভালো থাকে,সবসময়।
ভালোবাসার মানুষকে,আশীর্বাদ করা যায়,কখনো,
অভিশাপ দেওয়া যায় না,যে দেয় সে ভালোবাসতে
জানে না কখনোই!
আমরা অনেক মানুষ আছি যারা
এরূপ করে থাকি,
নিজের ভালবাসার মানুষের বিয়ে হয়ে গেলে।
বিরক্তি বোধে,
থাকে এ কথা বলতে দেখা যায়!
যে আজ স্বার্থপরের বিয়ে হয়ে গেলো পাষাণী একটা,
আসলে এখানে ভেবে দেখার দরকার।
যে স্বার্থপর বা পাষাণী সেই মেয়েটি নই,কারন,
মেয়েদের হাতে অনেক কিছুই করার থাকে না,
যা ছেলেদের হাতে করার মতো ক্ষমতা থাকে।
তাহলে,তো এটার মানে ঘুরে,ফিরে
এই দাড়াচ্ছে,
আপনি বা আমি, থাকে পেলাম না বলে,অপবাদ দিয়ে দিচ্ছি,নিজের মত করে।
আর এটা কি প্রকৃত ভালোবাসার,প্রত্যাশা হতে পারে?
প্রকৃত অর্থে,ভালোবাসার মত ভালোবাসলে
তার সুখের জন্য,
নিজেকে বিষাদ সাগরে নিমজ্জিত করে দেওয়া যায়।
তবু,
কখনও থাকে অপবাদ দেওয়া যায় না,
তাই,
রিয়ার জীবনে আমিই ভুল করে গ্রহ চক্রের মতো এসেছিলাম ,
সেই বসন্তে।
তাই আমাকেই আজ তার জীবন থেক,সরে যেতে হলো তার সুখের জন্য,
সেই সপ্তম বসন্তে।
রিয়া তুমি সুখে থেকো বারোমাসি
আমি,তোমার জীবন থেকে,বিদায় নিলাম,
ব্যাদনায় সিক্ত,অশ্রুর হাসিতে।
যে প্রথম দেখায় তোমাকে ভালোবেসেছিলাম
এই আমি,সেই তোমাকে আর না দেখার
তোমার কাছে না আসার,প্রতিজ্ঞা জারি করলাম।
এই বসন্ত,বন্ধনার বাতাসে।
যা বাতাস তুই উড়ে যা,রিয়া স্পর্শে গিয়ে মিশে যা আমাকে দিয়ে ছুটি,
আমি স্বার্থপরের খেতাব নিলাম।
ভালবাসার স্বরনীয় ত্যাগে।
তাই রিয়া কে উৎসর্গ করে
আমার এই ক্ষুদ্র কবিতা লেখা,
আমার সেই প্রেম রচয়িতার বাস্তবিক জীবন কাহিনীর নিদর্শন হিসেবে।
“শেষ চিঠি ”
* ও প্রিয়, মাহিয়া ইসলাম রিয়া
১৯ আক্টোবর চির ধার্য দিনে
২০১৮ সালের ভাগ্য বরাদ্দে
জানি,তোমার হবে,গো বিয়া।
আমার, মাহিয়া ইসলাম রিয়া
জানি, পুষ্প সজ্জায় গাড়ি বহরে
হাসিমুখে, আসবে তোমার বর,
শত আয়োজনে, মুখরিত হয়ে
বিদায়ী তুমি, কাঁদাবে,আত্মাদর ।
প্রাণের, মাহিয়া ইসলাম রিয়া
আজ থেকে,তুমি অন্য কারো টিয়া
অন্য কারো খাঁচায়,পোষ্য অন্দরে
মধুর কথা বলবা,স্বপ্নিল বন্দরে।
আমার,মাহিয়া ইসলাম রিয়া
তোমার ভালোবাসা,আমার নয়,
তুমি সুখে থেকো,তাহার ভুবনে
সবশেষে, আশীর্বাদ করে যাই।
তাহার, মাহিয়া ইসলাম রিয়া
তুমি সুখে থোকো, আমাকে ভুলিয়া।
……………. ××× …………….
৭ বছর ৬ মাস অতিক্রম হবার পর
হঠাৎ একদিন ১৯/১০/১৮ইং তারিখ শুক্রবারে,
রিয়ার বিয়ের দিন ধার্য করা হল,
আর রিয়ার বর ছিলঃ-পেশায় একজন পুলিশ,
ত্নীক্ষ বুদ্ধিমান, বিচক্ষণ স্বভাবের একজন মানুষ।
যাই হউক,
এদিকে জমকালো আয়োজনে
বর্ণিল আলোকসজ্জায় রিয়ার বাড়িতে রিয়ার,বিয়ের প্রস্ততি চলছেআর আমি সেই খবর বন্ধুদের কাছে থেকে পেয়ে,
রিয়াকে ভুলে থাকার নামে যতই নাটক করছি হাসির অঙ্গ ভঙ্গিমায় ,
লেখার ভাষাতে বুঝাতে পারবনা,
তখন আমার ভিতরে
কম্পিত হয়ে হৃদয়ের পাড়
একটু একটু করে কেমন করে ভেঙ্গে যাচ্ছিলো
আর,
তখন নিজেই নিজেকে বলছি যাক ভালোই হয়েছে, যোগ্য বরের সাথেই রিয়ার বিয়ে হচ্ছে।
রাজ রাণী হয়ে থাকবে,আমার ভালোবাসার মানুষটা।
হয়তো,ভাগ্যক্রমে,
রিয়া আমার ঘরে যদি বউ হয়ে আসতো তাহলে,
রিয়াকে ততটা সুখী আমি হয়তবা
করতে পারতাম না।
যেহেতু আমি ২০১৫ সালে কৃষিতে ডিপ্লোমা শেষ করে ঘুষ দিয়ে কোন সরকারি চাকরি নিবো না বলে
এখনও অবদি বেকার,
সেই সুবাদে রিয়ার পরিবার ভাল ছেলে পেয়েছে,
আমার মত অকর্মার ঢেকি নয় ত
সেই ছেলেটি,সেই ছেলেটি পুলিশ,
মা, বাবার গর্বিত ছেলে,ও আমার ভালোবাসার মানুষ রিয়ার বর ।
যাই হউক,
অমিমাংসিত সন্ধি এবার মিমাংসিত সন্ধিতে পরিণত হতে যাচ্ছে
খোদার মেহেরবানে।
আজ থেকে,
আমার আর কোন পিছু টান থাকবে না । আমি স্বার্থপর হয়ে,
এখন থেকে হয়তো কর্মের পিছনে ছুটব, যদিও এই কথা গুলি লেখার আগ পর্যন্ত আমার খেতাবি বেকার,বেকার,বেকার ! তাই আজ থেকে আমাকে রইলো না কেউ দেখার,
শুধু মাত্র আমার মহান আল্লাহ ছাড়া।
২০/১০/১৮ থেকে রিয়ার নতুন জীবন শুরু,
যদিও আমি এখন অন্ধকার পথের যাত্রী।
রিয়ার বাড়িতে বরযাত্রী এলো
আমার বাড়ির সামনে দিয়া,
আমার ভালবাসার মানুষ সেই রিয়াকে নিয়ে গেল সেই,
আমার চোখের সামনে দিয়া!
আর তা আমাকে দেখতে হল হৃদয়টাকে পাথর করে,
আফসোস,
এক জীবনে রিয়া আমার হলনা,
তবু কোন দুঃখ নেই।
তাই,
পরিশেষে একটা কথাই বলব,
রিয়া সুখে থাকোক, ভালো থাকোক
নতুন জীবনে,নতুন সংসারে,
এই আমার অঙ্গীকার,রিয়াক বড্ড ভালোবাসি বলেই,
আর,
এটাই আমার চাওয়া নিঃস্বার্থ প্রেমে।
আর,
পাঠক ভাই ও বোনেরা আপনারা ও দোয়া করবেন
রিয়ার জন্য রিয়া যেন সুখী হয়
রিয়ার নতুন সংসারে।
আমি না হয় স্বার্থপর পুরুষ হয়ে থাকলাম,
ব্যর্থ পুরুষ হয়ে থাকলাম এই জগতে।
আমার দেখা ক্ষুদ্র জীবনের ডাইরিতে স্বরণীয় লেখা হয়ে থাকবে
প্রেম বিরহের পাতায় পাতায়।
এটাই রিয়া আর আমার চির মিমাংসিত এক সন্ধি।
যা সেদিন থেকে অক্ষর হয়ে গাঁথা থাকলো অমর ইতিহাসের পাতায়।
7 Comments
কবি মুহাম্মদ জে.এইচ (রপ্পি) কিশোরগঞ্জ জেলায় সদর থানার বৃন্দাগড় গ্রামে ১৯৯২ সালে নানার বাড়িতে জন্ম গ্রহন করেন। জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। বর্তমানে পাকুন্দীয়া থানার হোসেন্দী গ্রামে পৈত্রিক নিবাসে দিন যাপন করছেন। এস. এস. সি ২০১১ তে পাশ করার পর, ২০১৫ সালে কৃষিতে ডিপ্লামা সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে নিজ ব্যবসায়িক কাজে নিয়োজিত আছেন।
কবির প্রথম একক কাব্যগন্থ ভালোবাসার নীলপদ্ম
২০২৩ সালে প্রকাশিত হয়,
২০২৩, ২০২৪ সালে ঢাকায়
আর্ন্তজাতিক কবি সম্মেলন পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছে,
নানা ম্যাগজিনে ও কবির কবিতা প্রকাশিত হয়েছে
অনলাইনে কবি উদাসী ও রেনেসাঁস কবি হিসেবে
পরিচিতি পেয়েছে।
Friends
Tariqul Sazzib
@tariqulsazzib
সৃষ্টির বিস্ময়
@1ff4f40742b37a84604c6bb76fb8ef34
খালেদা আক্তার
@khaledaakhter
মিহির চৌধুরী ইমন
@mihirchowdhuryemon
Shohel Nawaz
@shohel-nawaz
শোয়েব ইবনে শাহীন
@abir-shoaib
নাজমুল হাসান সাকিব
@publiconline
Mehedy Hasan
@mehedyhasan
MadBangla
@madbangla



কখনো কখনো কাউকে পাওয়ার চেয়ে তাকে ছেড়ে দিতে পারাটাই বড় পরীক্ষা। আপনি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ