-
“উফ কোমল, প্লিজ! বাড়াবাড়ির একটা সীমা থাকে– but you’re testing my patience tonight! কি শুরু করেছো তুমি? আমাদের এনগেজমেন্ট হয়েছে বলে আমার কোনো প্রকার নিজের life নেই?! দায়িত্ব, কর্তব্য— কিছুই নেই? তোমার সাথেই শুধু আঠার মতো লেগে থাকবো? Are you out of your damn mind or a clueless kid? জানো যে আমি নী এর সাথে যখন থাকি তখন আমাকে কেউ বিরক্ত করুক আমি তা পছন্দ করি না? তাহলে?”
এক একটি কঠিন বাক্য যেন বিষাক্ত পিনের মতন এসে লাগল কোমলের কানে, মনে হলো ফোনটা হাত থেকে মেঝেতে পড়ে যাবে প্রায়। অপরদিকে এই বিষাক্ত কন্ঠস্বরের অধিকারী অর্থাৎ আকাশ চৌধুরীর কোনো হেলদোল নেই, তার গলা তেমনই থাকল– যেন কোমল কথা বলা আর না বলা সমান– কামিনীর আদরের সম্বোধন: নী নাম ব্যবহার করে।
“Let me repeat my words again, if you forgot: even if I marry you, I’ll never accept you as my wife. কখনো না, জীবনেও না! তুমি শুধু আমার কাগজের স্ত্রী হিসেবে পরিচিত হবে, কাগজে-কলমে। বুঝলে?”
কোমল নিশ্চুপ। তার আয়ত গাঢ় বাদামী চোখে পানি টলটল করে উঠছে, ফর্সা গাল রাগে-দুঃখে-অপমানে লাল হয়ে উঠেছে কেননা এই অপমান শুরুই হয়েছে একজন মাত্র মানুষের জন্য: তার বাবা।
আসলে, আকাশ তারও হবু স্বামী নয়– অন্তত প্রথম দিকে ছিল না। আকাশের বিয়ে ঠিক হয়েছিল কোমলের বড় বোন কামিনীর সাথে, কারণ আকাশ কামিনীকে এক মডেলিং ক্যাম্পেইন এ দেখে, ‘নতুন মুখ’, যেখানে সে প্রথম রানার্স-আপ হয়।
সেই প্রথম দেখাতে পছন্দ, তারপর প্রণয়, তারপর অবশ্যম্ভাবী প্রশ্ন: বিয়ে।
কামিনী বেঁকে বসে। তার কাছে তার ক্যারিয়ার, তার স্ট্যাটাস, তার ফ্যান ও ফলোয়াররা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তার কথায়, ‘Oh come on! আমার কাছে জীবন মানে মন খুলে বাঁচা, বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া নয়! তুমি জানো তো আকাশ, আমি বিশ্বের সবচেয়ে খ্যাতনামা মডেল হতে চাই। বিয়ে, বাচ্চা, সংসার– এই সব আমার চিন্তাতেই নেই এই মুহূর্তে!’
আকাশে সেই সময় কালো মেঘ ছেয়ে গিয়েছিল, বাইরে এবং ভিতরে– যখন কামিনী তার সিদ্ধান্ত জানায়– তারপর পাড়ি দেয় অস্ট্রেলিয়ায়, দুই বছরের মডেলিং কন্ট্র্যাক্ট নিয়ে, আকাশকে পুরোপুরি ছেড়ে।
এই সিদ্ধান্তে দেখা দেয় দুই পরিবারের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ, তর্ক-বিতর্ক— মারদাঙ্গা লাগে আর কি। তখন খন্দকার এহসানুল কবির- কামিনী আর কোমলের বাবা- বুদ্ধি দেন, এক মেয়ে বিয়ের জন্য রাজি নয় তাতে সমস্যা নেই, কোমল তো রয়েছে। এই বিয়ে হবেই।
কথা আর কাজ।
কোমলকে দাঁড় করানো হল তার বড় বোনের হবু স্বামীর সঙ্গে টানতে টানতে নিয়ে এসে– আংটি বদলও হল। সব দিক থেকে সবাই শান্তির শ্বাস ফেলে বাঁচল। কিন্তু আকাশ? কোমল?
তাদের তো আর কোনো প্রতিবাদ গ্রাহ্য হলো না, না হলো কোনো প্রকার মান-অভিমান পর্যায় পরিবারের সঙ্গে। সব অঙ্কুরে বিনষ্ট।
কিন্তু আজ কিভাবে যেন কোমলমতি, শান্তশিষ্ট কোমলও অশান্ত। আজ সে নম্র ভদ্র নয়, কেননা সে ও হয়তো আজ চোখ খুলেছে।
“Akash, let’s break this alliance.” এতটাই অপ্রত্যাশিতভাবে– নিখুঁত, নির্ভেজাল ইংরেজি বলল কোমল– আকাশ অন্য প্রান্তে পাক্কা ১৫ মিনিট চুপ থাকল।
“কি-ক্কি বললে? কি বললে তুমি, কোমল? Come again?”
“You heard what I said. আমি কাল তোমার আর আমার পরিবারের সাথে কথা বলবো, সকালে। থেকো কিন্তু। আমার বড় বোন কামিনীকে নিয়ে এসো।”
ক্লিক। কোমল কল কেটে দিয়েছে। তারপর, আরেকবার আঙ্গুলের ছোঁয়া– ‘you have blocked this contact’ মেসেজ ভেসে উঠলো।
আজ অনেক দিন পর কোমল শান্ত– সৌম্য ও স্নিগ্ধ– স্মিত হাসছে।
একটা ছোট হাই তুলে উপরে হাঁটা দিল ড্রইং রুম থেকে।
কাল অনেক কাজ।
8 Comments-
-
আপনার এই লেখায় কোমলের অভিমান এবং পরবর্তীতে তার আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার রূপান্তরটি দারুণভাবে ফুটে উঠেছে। প্রতিটি সংলাপে চরিত্রগুলোর মনের জটিলতা এত চমৎকারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে মনে হচ্ছিল প্রতিটি দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আপনি যদি গল্পের মাঝের টানটান পরিস্থিতিগুলোতে কোমলের অগোচরে বয়ে যাওয়া নীরব মুহূর্তগুলোকে আরও কিছুটা বিস্তারিতভাবে ফুটিয়ে তোলেন, তবে পাঠকদের আবেগ স্পর্শ করা অনেক সহজ হবে এবং আপনি অসামান্য সব লেখা উপহার দিতে থাকবেন।
-
-
Friends
মেহেদী মারুফ
@maruf1
Poly Alam
@butterflywords
মোস্তফা কামাল সাকি
@mostofakamal
বান্টি দেব
@bantideb
বিষণ্ন সুমন
@logolabbd
Uttam Kumar Ghosh
@uttam01825
মোঃ রাকিমুন ইসলাম রাকিব
@rakimunislam
শাহ্ আলম আল মুজাহিদ
@shahalam
লিংকন
@1please


সবচেয়ে ভালো লেগেছে, কোমল শেষ পর্যন্ত কান্না বা অনুনয়ের পথে যায়নি; বরং নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়েছে।