Profile Photo

BISHU KUMAR BISWASOffline

  • bishukumarbiswas
  • Profile picture of BISHU KUMAR BISWAS

    BISHU KUMAR BISWAS

    • 1 day, 13 hours ago

    এক যন্ত্রের মায়া
    মা মারা যাওয়ার পর রবিন একাই অনেক কষ্টে ছেলে নীলকে বড় করেছিলেন। মেধাবী নীল উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানে যায়। সেখানে পরিচয় হয় জাপানি তরুণী ইউকির সঙ্গে। বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা, তারপর বিয়ে। পড়াশোনা শেষে নীল জাপানের একটি রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানে চাকরি পায়।
    দূরে থাকা বাবার একাকিত্বের কথা ভেবে একদিন স্ত্রীকে নিয়ে দেশে এসে নীল তাঁকে একটি উন্নত AI রোবট উপহার দিলো।
    রবিন অবাক হয়ে বললেন, “মানুষের জায়গা কি কখনো একটা যন্ত্র নিতে পারে?”
    নীল হেসে বলল, “মানুষের জায়গা নেবে না, বাবা। শুধু তোমার একাকিত্বটা একটু কমাবে।”
    জাপানে ফিরে যাওয়ার আগে নীল বাবাকে রোবটটি চালাতে শেখালো। রবিন আদর করে তার নাম রাখলেন ‘আরু’। প্রথমদিকে রোবটটিকে নিয়ে তাঁর কিছুটা অস্বস্তি ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে আরুর সঙ্গে কথা বলতে বলতে তিনি তার সঙ্গ উপভোগ করতে শুরু করলেন। আরু রবিনকে রান্নাবান্নার কাজে সাহায্য করতো, সময়মতো ওষুধ ও পথ্য খাওয়ার কথা মনে করিয়ে দিতো। রবিনও আরুকে আপনজন ভেবে তার জন্য নিজের হাতে ছোট্ট একটি পোশাক তৈরি করে দিলেন।
    একসময় রবিন আরুকে সঙ্গে নিয়ে পাড়ার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যেতে শুরু করলেন। আরুকে পরিবারের সদস্যের মতো ভালোবাসতে শুরু করলেন তিনি।
    কিন্তু প্রতিবেশী আকাশ ও তার সহযোগী সুমন বিষয়টি ভালোভাবে নিলো না। তারা আরুকে নিয়ে ঠাট্টা করতো। তাদের ধারণা, একটা যন্ত্রের সঙ্গে মানুষের এমন সম্পর্ক অস্বাভাবিক। ধীরে ধীরে তাদের ক্ষোভ বাড়তে লাগলো। এক রাতে সুযোগ পেয়ে তারা গোপনে আরুর ক্ষতি করে পালিয়ে গেলো।
    সকালে রবিন দেখলেন, আরু আর কাজ করছে না। তিনি বারবার তাকে ডাকলেন, কিন্তু কোনো সাড়া পেলেন না। প্রিয় সঙ্গীটির পাশে বসে তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন।
    “ও তো কারও কোনো দিন ক্ষতি করেনি! বরং যখন কেউ আমার পাশে ছিল না, তখন ও-ই তো আমার পাশে ছিল!”
    আরু মানুষ ছিল না, তার মানুষের মতো অনুভূতিও ছিল না। তবু তার সঙ্গ রবিনের নিঃসঙ্গ জীবনে মায়া আর আনন্দ এনে দিয়েছিল। যন্ত্রের হৃদয় ছিল না, কিন্তু সেই যন্ত্রের জন্যই এক মানুষের হৃদয়ে জন্মেছিল গভীর মায়া।

    2
    8 Comments
    • গল্পটা পড়ে খুব মায়া লাগলো, আসলে একা মানুষের জীবনে সঙ্গ পাওয়ার তৃষ্ণাটা যে কতটা গভীর তা খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। মানুষের মন কখন যে কিসের মায়ায় জড়িয়ে যায় তা সত্যিই বোঝা বড় দায়। আপনার লেখাটা পড়ে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল, আসলেই যন্ত্র হোক বা মানুষ, ভরসার জায়গাটা খুব দামী।

    • মানুষের মায়া কত বিচিত্র জায়গায় জন্ম নিতে পারে!

    • আপনার লেখাটি পড়ে রবিন আর আরুর সেই মায়ার সম্পর্ক আমার হৃদয়ে এক গভীর স্পর্শ রেখে গেছে, যা একাকিত্বের মাঝেও এক অদ্ভুত সান্ত্বনা খুঁজে পেতে শেখায়। পুরো বর্ণনায় যন্ত্রের প্রতি রবিনের পরম মমতাময়ী আচরণ এবং প্রতিবেশীদের আচরণের বৈপরীত্য অত্যন্ত চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। আপনার শব্দ চয়নে অনুভূতির যে প্রকাশ ঘটেছে, তা ধরে রেখে আপনি নিয়মিত লেখা চালিয়ে যাবেন বলে আশা করছি।

      • আপনার প্রশংসা আমাকে পরবর্তী লেখায় উৎসাহ দিবে, ধন্যবাদ, সংগে থাকবেন, শুভকামনা।

    • যন্ত্রের শরীরে হৃদয় না থাকলেও রবিনের নিঃসঙ্গ মনে আরু যে মায়া জাগিয়েছিল, তা ছিল একেবারে মানবিক…..🤍🖤

      • ধন্যবাদ আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য , সংগে থাকবেন, শুভকামনা।

Skip to toolbar