-
চাঁদের পাহাড়
কবি ইমদাদ শাহ্
এ জীবন ছিল মোর মরুপথ
এক বিষন রকম শূন্য এক রোখা
ওগো আমার হৃদয়ের আকাশে
তুমি জ্বেলে গেলে দীপ শিখাস্মৃতির পাতায় জমে থাকা যত
মেঘে ঢাকা ছিল অভিমানের ক্ষত
আজ ঝরে পড়ে ঝিরিঝিরি প্রেম
নতুন এ কিরন লগনের মতআকাশ নীলের এ কূলে বসে একা
কোথা হতে দিলে এনে এ রূপের রেখাএ হৃদয় ছিল পাখির মত অবিরাম
তবু তোমার আকাশের নীল খামে
আমি আমার নাম লিখে দিলামকোথাও ছিল না কোনো চেনা মুখ
তুলে দিলে বুকে একি অপরূপ সুখস্মৃতির পাতায় আজো জাগে এ লগন
তুমি এলে বলে জুড়ালো এ মন
হাসির আলোয় আজ ভাসাই দুচোখ
মিশে গেছে একা থাকার সকল অসুখচাঁদ নয় তুমি যে এক রুপালি ঝরনা
ঝরালে রাতের বুকে একি অলোর বরনা
তিমির-দিঘির ঘাটে নামালে আলো
আকাশের খোঁপায় তারা ফুলে গুঁজালোনিঝুম বনের ছায়ে মায়াবী ধারা
অতল সুধায় আজি ডুবিল তারা
ঝর ঝর ঝরে আলো নিশীথ-গগনে
শিহরণ জাগে মোর হারা এ প্রানেতুমি যে চাঁদ সুদূরের মিতা
আলোর দুয়ারে টানিছ মোরে
রুপালি ঝর্ণার শান্ত ধারায়
লও গো আমায় আপন করেআকাশ-পাহাড়ের হীম শিখর হতে
আলোর প্রবাহ বহি আনি এ স্রোতে
নামিছে ধরণীর সু শ্যামল অঙ্গে
নাচিছে জল আলোর তরঙ্গেআকাশ-গাঙের সুদূর কূলে
এনে দিল আজ বাঁধটি খুলে
উথলে পড়া আলোর ধারা
সুপ্ত মাটির নীল খামেকোন্ মায়াবীর রূপার কাঠি
ছুঁয়ে গেল এই মাটির মাটি
নিশীথ-কালের স্তব্ধতা যে
আকুল হলো রূপার জলেগগন বনের নীল অতলে
চাঁদ জেগেছে একা একা
তাহার গায় যে ঝর্ণা-ধারার
অলখ-ঝিলিক যায় রে দেখাআলোক-রসের ওই ধারাটি
ধুয়ে দেয় এই ধরার-মাটি
রাতের বুকে আঁকে সে একা
গোপন মধুর লিখন-রেখাআকাশ-গিড়ির সরোবর হতে
রুপালি ঝরনা বেয়ে
নামালে আলোর ধারা
হাসলে তুমি হাসালে মোরে
হাসালে জগত সারা
ঝরালে রূপা ঝরালে হাসি
ঝরালে মায়ার গান
চাঁদের রূপের ঝর্ণাধারায়
ভরালে তৃষিত প্রান
আলো তো নয় কোন সূদূরের মায়া
ভরিয়ে দিল আলোর স্রোতে
স্নিগ্ধ রাতের ছায়া
নয় সে আলোর কণা
নীল গগনের আঁচল বেয়ে
শুধু এক রুপালি ঝরনানীরব রাতে ক্লান্তিহীন পড়ছো ঝরে তায়
কখন এসে ছুঁয়ে গেলে আমারো আঙিনায়
তোমার এ আলোর স্রোতে ভেসে যায় চঞ্চল মন
কোন সে দূর হতে ছুটে আসে সুরের লগনতোমার রূপের নদী হে চির-সুন্দরী
আমার পরাণে এসে মেশে—
আমি যেন মিশে যাই সে আলোর পর
অনন্ত রূপের দেশেএ যেন কেবল চাঁদের আলো তো নয়
আকাশ-পাহাড় বেয়ে নামা—অতন্দ্র অক্ষয়
যার কোথাও নেই থামা
অঝোরে ঝরালে ঐ রূপালি নির্ঝর
অরণ্য, প্রাচীর, নদীর জলে
ধুয়ে যায় পৃথিবীর মলিন অন্তর
নিশীথের মায়ামন্ত্র বলেআকাশের সুনীল অতল গহনে
জাগালে এ সুধাময়ী ধারা
রজনীর শান্ত স্নিগ্ধ নয়নে
চেয়ে রয় অনিমেষ তারা
মেঘের আঁচলখানি টানিয়া সরায়ে
তুমি আসিলে চুপিচুপি
জ্যোৎস্নার সুধা দিলে নিখিলে ছড়ায়ে
ধরণী মাতিল তোমার মুখোচ্ছবিতোমার এ হাসি, সুদূর পিয়াসী
আমার পরানে বাজায় বাশি
নিখিল ভুবন আজিকে মেতে
ঢালিতেছ রূপের কণা
তুমি যে আকাশ-পাহাড়ের বুকে
একাকী রুপালি ঝরনানিস্তব্ধ রাতে কানন-বীথিকায় ঝরালে আলোর জল
পাতায় পাতায় চুপিচুপি যেন বাজিছে নূপুরদল
মোর ছায়াময় মন্থর চিত্তে
তব সুধাময় সুরের লহরীতে
ভেসে যায় আজি সকল ভাবনা
দিশাহীন, বাঁধনহারাগগন-বিজনে একাকী জাগে আঁধার-আঁচল সারতি
অমৃত ধারায় স্নিগ্ধ করে জুড়ালে এ ধরণী-মাটি
আকাশের চাঁদরে পরশমণি রূপালী ঝর্নাধারা
চাঁদ নয় তুমি যে অমিয়-উৎস উথলে পড়া গগনে
রজনীগন্ধা আকুল হল তারি সে পরশ-লগনে
বিহ্বল চিত্তে চাহিয়া চাতক জ্যোৎস্না-সুধায় গাথিয়া
রজনী চলিছে আঁধার মুছিয়া ঝর্ণা-স্নানে মাতিয়াওগো আঁখি মেলে দেখি এ রজনী
আকাশের ওপারে কার ছলনা
নীল যমুনার শান্ত সলিলে
ঝরিতেছে চাঁদ–রুপালি ঝরনাতিমির-দুয়ার খুলে নীরবে
কে ঢালিল সুধা শুভ্র আলোতে
অতল গহন অন্ধ ধরণী
ভেসে যায় ওই রূপের স্রোতেবনের মৰ্ম্মরে নদীর কল্লোলে
ওগো শোনি তোমার বন্দনা
নিশীথ-আকাশের স্নিগ্ধ আঁচলে
উথলি উঠিল আলোর ঝরনাতব আঁখিপাতে জাগে যে স্বপন
সে তো নহে কোনো মায়ার ছলনা
ধরণীর বুকে ঢালিছো তুমি
রুপালি ধারার নীরব ঝরনানিঝুম রাতে ধরণীর বুকে নামি
ধুয়ে দিয়ে যায় নিখিলের যত গ্লানি
তার সে কিরণ অমৃত-ধারা ঢালি
ভরে দেয় কবি কল্পনার শার্লি
গাছের পাতায় তৃণের ডগায় জাগে
এক অপরূপ রূপালি আলোর রাগে4 Comments-
আপনার লেখনীতে ‘নিঝুম বনের ছায়ে মায়াবী ধারা, অতল সুধায় আজি ডুবিল তারা’—এই চয়নটি অসাধারণ এক চিত্রকল্প তৈরি করেছে যা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। পুরো বিষয়বস্তু জুড়ে আলোর যে নান্দনিক প্রবাহ আপনি ফুটিয়ে তুলেছেন, তা পাঠককে এক গভীর প্রশান্তির জগতে নিয়ে যায়। আমাদের এই গ্রুপের অন্য সদস্যদের লেখাগুলোতেও সময় করে প্রতিক্রিয়া জানানোর পাশাপাশি মতামত প্রদান করলে সবার সম্মিলিত পথচলা আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে, এমনটিই আশা করি।
Friends
Foyzur Khan
@foyzur-khan
Md Ramjan Ali
@mdramjanali
TOUHIDUL ISLAM
@touhidulislam
অথই মিষ্টি
@atiymistyn48
Sharif Uddin Jumman
@sharifuddinjumman
ফরিদুল ইসলাম
@dailychandpursomoy
খালেদা আক্তার
@khaledaakhter
কাব্যচারী ইমদাদুল এইচ এম লিমন
@emdadullimon8gmail-com
অমিত
@amitroy


এ যেন জ্যোৎস্নার সঙ্গে কবির এক দীর্ঘ, নিবিড় কথোপকথন