Profile Photo

সালাম আলী আহসানOffline

  • otibnp
  • Profile picture of সালাম আলী আহসান

    আতীকার কাল রাত থেকে অনেক জ্বর এসেছিল। বাসা বদল এর ঝামেলায় মানিব্যাগটা খুঁজে পারছিলাম না। পাগলের মত খুঁজছিলাম আমার ঘরের জঞ্জালের মাঝে। দু নয়ন দিয়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে যাচ্ছিল। বাসায় আর কোথাও টাকা নেই। বিকাশ ব্যালেন্স শুন্য। হঠাৎ একটা ফোন এলো। ওপাশ থেকে বলল “এটা কি রোউফ ভাইয়ের নম্বর।” আমি বললাম জী। আমি তার ছেলে বলছি। “তাকে কি দেওয়া যাবে?” আব্বু ত প্রায় ১০ বছর আগে মারা গেছে। উনি চুপ হয়ে গেলেন। আমি বললাম চাচা, আপনার নাম কি? শুধু বললেন আমি পান্থপথ থেকে বলছি। আব্বু মারা যাবা খবরটা খুব বেশি প্রচার হয়নি। কারন, তিনি সবাইকে আপন মনে করতেন। আব্বা আর আম্মার বিয়ের পর কবি কায়সুল হকের বাসায় উঠেছিলেন। তাদের বিয়ের যাত্রীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন, কবি শামসুর রহমান। কবি সৈয়দ আলী আহসানের সাথে আমার নামের মিল পাওয়া যায়। তিনি ফজলে রাব্বির মামা ছিলেন। উনি আব্বার জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক ছিলেন। এছাড়াও তাদের সাথে আমাদের এখন পযন্ত ভাল সম্পর্ক আছে। আব্বু প্রতি সপ্তাহে মানুষদের খাওয়াতেন। তাও নিজে রান্না করে। আম্মা বাধায় বাসায় সে আয়োজন বন্ধ হয়ে যায়। তাই বলে কি আব্বাকে থামানো যায়। আব্বা সবার বাসায় নিজেই বাজার নিয়ে গিয়ে রান্না করে খাওয়াতেন। কত মানুসকে সে উপকার করেছে, আমরা জানতেও পারতাম না। যদি না, সে বিছানায় পরত। আজ প্রায় দশ বছর হয়ে গেছে, আজও আমার আব্বার খোজ নিতে চায়। সে মাত্র ৩ বছর বয়সে মাকে হারিয়েছে। ভালবেসে আমার মাকে বিয়ে করেছে। আমাকে খুব সে ভালবাসত। দাদার মত রাগী, অলস আর দেখতেছিলাম বলে আমাকে ঠসা ডাক্তার বলতেন। সে অনেক মানুষের প্রতরনার শিকার হয়েছেন। তাদের বিচার আল্লাহুই করবেন। আমি মনে করি, সৎ মানুসের সন্তানেরা আল্লাহুর অনেক সহযোগিতা পায়। আমিও বাবার পথেই চলছি। ১২ মাস ধরে আমি বেকার। কিন্তু, আল্লাহু ঠিকই আহার জুটিয়ে দিয়েছেন। আতীকা বাবার নিজে এখনও হয়তো সম্পদ করে নাই। যদি শেষ জীবন পর্যন্ত আমি সৎ থাকার জন্য জিহাদ করে যাই, তবের কিছু না কিছু আমার আতীকা পাবেই, যেমন আমরা পাচ্ছি। বন্ধুরা, আব্বুকে নিয়ে একটা উপন্যাস লেখার চিন্তাভাবনা করছি, এটা তারই একটা অংশ। তোমাদের মতামত আশা করছি।

    9
    4 Comments
Skip to toolbar