-
আমি মোঃ আবিদ তালুকদার। আমার বাসা রাজশাহীতে। আমার সাথে যে ঘটনা টা ঘটেছে তা ঢাকার মোহাম্মদপুরে। জায়গার নাম টা আমি উল্লেখ্য করতে চাইছি না।
আমি সরাসরি ঘটনাতে চলে যাচ্ছি।
” আমার আম্মুর বাসা ঢাকার মোহাম্মদপুরে কোনো এক জায়গায়। আম্মুর চিকিতসার জন্য স্বপরিবারে ঢাকাতে আসি। এসে আম্মুদের বাসাতে উঠি। আগেই বলে রাখি, আমরা যেদিন আসবো ওইদিন আমার মামা ও মামি বাসাতে ছিলেন। এই বাসাটা প্রায় পাকিস্তানি আমলের। বাসাটা তিন তালা বিশিষ্ট। ১ম ও ২য় তালা একদম পরিত্যক্ত। এই বাসার উঠার কারণ হলো আম্মু যে হাসপাতালে ট্রিট্মেন্ট নিবেন সেইটা মোহাম্মদপুর থেকে ১২ মিনিট লাগে যেতে।
এই বাসার তৃতীয় তালা ছাদ ছিলো, ছাদের একপাশে একটু জায়গা নিয়ে দুইটা রুম করে বাসা বানানো আছে, আমরা সেইখানেই ঊঠলাম। প্রথমদিন কিছুই হয়নি। সব স্বাভাবিক ছিলো। তার পরের দিন আম্মুকে ধানমণ্ডিতে আমার আরেক মামার বাসায় পাঠিয়ে দিই। আর আমি এই বাসাতে একাই অবস্থান করি। আর তিন তালাটা ছিলো টিনের চালা বিশিষ্ট সিলিং। সারাদিন কাজের ব্যস্ততা শেষে যখন বাসাতে আসি তখন শুরু হয় আমার সাথে ঘটনা। নিচ তালা থেকে উপরে মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে উঠছি, ঠিক সেই সময় নিচ তালার বন্ধ ঘর থেকে কে যেনো ফিসফিস করছে। আমি মনের ভুল ভেবে উঠতে থাকি। তারপর ২য় তালাতে যখন আসি তখনও কেমন একটা অনুভূতি হচ্ছিলো আর শরীরের ভিতর থেকে গরম হাওয়া চলাচল করছিলো। আমি ভেবেছিলাম হয়তো সারাদিন ক্লান্ত থাকার কারনে এমনটা হচ্ছে। তারপর ৩য় তালাতে আসলাম। এই ৩য় তালার ঘরের গেটের কাছে যেতে হলে আমাকে পুরো ছাদটা ঘুরে যেতে হবে। এমনিতেই নরমাল একটা লাইট নিভুনিভু করে জ্বলছে। ষ্পষ্ট দেখতে পারছিলাম না। আমি আস্তে আস্তে গেটের কাছে গিয়ে লক খুলে ভিতরে ঢুকলাম। যথারিতি গোসল করে খাওয়া দাওয়া করে ল্যাপটপে কাজ করছিলাম। ঘড়িতে তখন প্রায় ২ঃ২০ বাজছে। ঠিক সেই সময় আমার ছাদের সেই দরজাতে ১ টা জোরে করে নক করলো।
আমি প্রথমে ভাবলাম ভুল শুনেছি। কিন্তু আবার সেই একই শব্দ। আমি ধীরে ধীরে দরজার কাছে গেলাম, সেই দরজার ফুটো দিয়ে সেই ০ ওয়াটের নীভুনীভু আলোতে দেখলাম যে কে যেনো সাদা একটা কাপড় পড়ে প্রায় ৭-৮ ফুট লম্বা আনুমানিক একজন ব্যক্তি হেটে পানির ট্যাংকির ঘরে চলে গেলেন। আমি ভেবেছিলাম চোর হব্র হয়তো। কিন্তু পরে মাথায় আসলো এইদিকে তো চোর আসার কথা না। আর চোর হলে এত লম্বা তো হবে না। আর পানির ট্যাংকির ঘরের উচ্চতা খুবই অল্প। যদি সেই ঘরে তাকে ঢুকতে হয় তবে মাথা নিচু করে যেতে হবে। কিন্তু তিনি সোজা হয়েই চলে গেলেন।আমি আয়তুল কুরসি পড়ে ফু দিয়ে কোনোরকম ঘুমালাম। এখন আমার সাথে ২৫ তারিখ রাতে যে ঘটনাটা ঘটেছে সেইটা হলো, আমি রাতে গান শুনছিলাম। ঠিক রাত ৩ টার দিকে আমার ঘরের টিউব লাইট নষ্ট হয়ে গেল। তার ঠিক ৫-৭ মিনিট পর আমাআর সেই ছাদের গেটে প্রচন্ড আঘাত করতে থাকে কেউ। আমি জোরে করে সূরা মানজিল, সুরা বাকারা, আয়তুল কুরসি এইগুলা চালাতে থাকি। আর মনে হচ্ছিলো গেট এখুনি ভেংগে ফেলবে। তারপর শুরু হলো টিনের চালে বিকট শব্দে লাফালাফি। আমি চিৎকার করতেও পারছিলাম না। আর তীব্র ভরাট কন্ঠে বলছে যে বের হয়ে আই, আজ তোর শেষ দিন । এমন কিছু একটা বলছিলো। এইগুলা সহ্য করতে না পেরে আম জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরদিন সকালে যখন ঘুম ভাংগে তখন দেখি সব স্বাভাবিক। কিছুই হয়নি এমন একটা ফিল হচ্ছে। টিউব লাইটটাও জ্বলছিলো তখন। আমি আর দেরি না করে সব কিছু গুছিয়ে তাড়াতাড়ি সেই বাসা ত্যাগ করি। তারপর এলাকার একটা চায়ের দোকানে গিয়ে চাচাকে সব বললাম। তিনি বললেন
” তুমি যে এখনো বেচে আছো এইজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করো, এই বাড়িতে কেউ সহজে থাকতে পারেনা। পাকিস্তানি আমলে এই বিল্ডিং এর পিছে মানুষ কেটে ফেলে রাখতো। অনেক অত্যাচার করতো।
আমি এইগুলো শুনে হতবাক । পরে মামাকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন আমি ভয় পাবো তাই আমাকে উনারা এইগুলা বলেনি।
আল্লাহর রহমতে এখন আমি সুস্থ আছি। আমি আর ওই বাসাতে যায়নি। সবাই আমার জন্য দুয়া করবেন।
9 Comments
Friends
Drako Shajib
@drako
আরিফুল বিন রশীদ
@muhammad-ariful-bin-rashid
মন কলম
@md-faridul-islam
ISMAT JAHAN LIPI
@ismatjahanlipi
Mahira S
@rahman-n-zinnia
নাজমুল হক জুয়েল
@nazmulhoqjewel
স্মৃতি রানী রত্না
@srratna1990
মোঃ মুহিউদ্দীন
@md-muhiuddin
UTTAM KUMAR BISWAS
@uttamk



সুন্দর।