-
স্বার্থহীন ভালবাসা
লেখনীতে প্রকাশ করতে চাই, চাঁদের আলোয় দেখতে চাই, কৌমুদী হয়ে স্পর্শ করে আমার হৃদয় দেখাতে চাই।
বেশ তিন চার দিন ধরে দেখছি তুমি আমার স্বপ্নে আসো। আমি কোন এক লাইব্রেরীতে পড়তে থাকি,তুমি ঠিক আমার বিপরীতের চেয়ারে বস চুপটি করে, একটি বই খুলে দুহাত দিয়ে মেলে ধর তোমার নাক বরাবর। মাঝে মাঝে আড় চোখে তাকাও আমার দিকে। আমি দেখতে পাই না, অনুভূতির তাড়না যেন খুব প্রখর আমিও বুঝতে পারি। আর যখনই এমন হয় আমি তোমার মুখটা দেখার চেষ্টা করি কিন্তু পারি না। যে বই তুমি খুলে রেখেছিলে !!
কেমন যেন আমার মনের কথা বুঝতে পেরেই তুমি বইটা তোমার একদম মুখের কাছে নিয়ে যাও। শুধু দেখতে পাই বইয়ের পাশ দিয়ে তোমার কোঁকড়ানো চুল যার একটা অংশ তোমার সাদা নার্সিং গাউনের পাশ বেয়ে হালকা বাতাসে উড়ছে, আর চোখে পড়ে তোমার কপালের দুটো ভ্রুর মাঝের কালো টিপ, হাতের কব্জি চুড়ি শূন্য । তাই কিছু রেশমি ও কিনেছি , তোমার হাতে মানাবে । এই সব ভাবতেই চরম লজ্জায় আমার শিহরণ খেলে যায় আমি লজ্জা লুকাতে আবার চোখটা বইয়ের পাতায় বসাই। আর তুমি বইটা নামিয়ে একটু মুচকি হেসে চোখ তুলে তাকাও। আমি আবার বুঝতে পারি কিন্তু এখন আর সাহস পাই না। জানি তুমি আবার মুখ লুকাবে বইয়ের আড়ালে। তোমার চেহারা কি দেখাবে না আমায় ? উঠে গিয়ে বসি তার পাশের চেয়ারে আর একান্ত বাধ্য হয়েই তাকে উদ্দেশ্য করে আমি বলি কথা গুলো। বইয়ের আড়াল থেকে উত্তর আসে ” এ চেহারা সত্যের তেজে পরিপূর্ণ, এ চেহারা দেখার যোগ্যতা সবার নেই । আগে দেখি তুমি যোগ্য কি না ” প্রথম জন ও হয় তো ভেবেছিল আমার কোন যোগ্যতাই নেই। আমি আবার লজ্জার মাথা খেয়ে বললাম ” কী নামে ডাকব তোমায়?” সে বললে ” নামেই বা কি রাখা আছে!! আমি জানি, অনেক কথা তোমার যা লুকিয়ে রেখেছো। আমি এটাও জানি তোমার কথা শোনার কেউ নেই। তুমি বল আমি শুনতে চাই তোমার অপূর্ণ কথা, অনুভব করতে চাই তোমার অর্নিবচনীয় ব্যাথা তবে একটাই কথা চেতনে আমাকে না পাইয়ে ব্যথিত হইও না, আমি সত্য, আমি আছি, তোমাতেই সর্বক্ষণ আমার ব্যাপ্তি”
কথাগুলো সব বোধগম্য হল না কিন্তু তার গলার স্বর কেমন যেন পরিবর্তিত হয়ে আমার কাছে পরিচিত হতে লাগলো। তাই বললাম তোমাকে শোনাতে ক্ষতি নেই :কোন এক জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহের ঘটনা
গিয়েছিনু এক বিবাহ উৎসবে ভবিষ্যত অজানা
সন্ধ্যানাগত আকাশে যখন উঠিল পূর্ণ চন্দ্র
পৌঁছিয়েছিলাম ততক্ষণে করে মাসির বাড়িকে কেন্দ্র
পৌঁছিয়া দেখি আত্মীয় স্বজন লোকে ভরপুর ঘর
তাহারি মাঝে দাঁড়াইয়া আছে স্বয়ং সুধাকর
অপলকে দেখিবার মাঝে পরিচিত হই অপরিচিতে
অজানা পরিবার পরিনত হয় আত্মার আত্মীয়ে
আলাপচারিতা বাড়তে থাকে কাছে আসি একে অপরের
কিন্তু রায়, উৎসব সব সাঙ্গ হল হাসল বিধাতায়
কেমনে তিনি খেলবেন খেলা আমার ভাগ্য পাতায়।
বছর খানেক অতিক্রান্তে আসিল সুযোগ আবার
জন্মদিনের অজুহাতে কিনিলাম চাঁদপরী এবার
অনুভূত হইল বছর খানেক আগের অনুভুতি
একদা দেবী সুধাইলে মোরে মিতালি আছে না কি ??
কি তার লজ্জা , বিব্রত বোধে সংকুচিত মুখ
হাত ছুঁয়ে তারে প্রতিজ্ঞা দিয়ে নিজে বাধাইলাম অসুখ।
হয় তো বলিলেই হইত ভালো ” ভালবাসি তোমায় প্রিয়তমা ”
ছোট্ট একটি ভুলের কথা বলিতে পারি নি আজও
কর্তব্য আর বিশ্বাস বোধে ছিলেম অকেজো
শুধু বলিলাম তাকাইয়া নিশীথ নয়নে, ভাললেগেছিল
এক রমণিরে গত বছর কোন এক বিবাহ লগনে
যে অসুখ আমি বাধাইয়াছিনু ধরিয়া তাহার হাত
সে পীড়া আমায় কুড়ে কুড়ে খায় সারা রাত।।
দিন যায় মাস যায় বছর সন্নিকটে
আরগ্য ব্যধিতে ভুগে কোকরাই একা রাতে।
দেখিতে দেখিতে পার হইল ছয় বছর সম দিন
আরগ্য ব্যধির ঔষধ সন্ধানে আমি সমীচিন।
বছর তিনেক আগের ভুল সাহিতে নাহি পারি
ব্যাধীর ঔষধ খুজিতে আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরি
পরীক্ষান্তে দেখা মিলিল পথে রাকারে
জিজ্ঞাসিলাম তাকে আমি সেই জ্ঞাত স্বরে
” মিত্র আছে না কী?”
হয় তো আমার স্বরে ছিলো অপূর্ণতা
দেবী কহিল এখন তবে কেন জিজ্ঞাস এ কথা?
আজ আমি বড় হয়েছি, লায়েক হয়েছি তোমার
অগ্নি বর্ষিত চোখে তাকিয়ে বলতে পারি নি আর
একবার টিও না তাকাইয়া চলিল সুন্দরী
আজও তারে দেখিবার তরে পথে পথে ঘুরি।
বলতে চাই সকল কথা যা পায়নি পূর্ণতা
না হয় শুনে তুমি জানাইও আমার অজ্ঞতা।
আর্জি আমার এই,
ফিরিয়ে দাও জীবনীশক্তি, ফিরিয়ে দাও তেজ
ফিরিয়ে দাও ছোট্ট ছোটুকে নিঃস্ব করি বাহ্যিক বেশ।
দাও আমার ব্যাধীর ঔষধ মুক্ত কর আজ
চাই না আমি অর্নিবচনীয় যন্ত্রনা
হারাইয়াছি সমাজ।।
ভালবাসার ফুল নির্বাপিত হইল জগৎ সংসারে
কেন তুমি দেখা দিয়েছিলে আমি সুধাই সুধাকরে ?
বর্তমান তার অবহেলাতে জীবন ওষ্ঠাগত
কোথায় গেলে চির সুখী হব সে স্থান খুঁজি অবারিত।আমাকে থামিয়ে দিয়ে পাশে বসা মেয়েটি বললো
” থামো হে কবি এত বিরহ সহ্য হয় না “। সে বলেই চলল আর তার কথাও যেন এক নতুন মাত্রার কবিতার জন্ম দিল। বললে
” ব্যার্থ প্রেমিক তুমি, পুরানো প্রেমকে ভুলবার তরে
অন্যের কাছে নিজেকে করছ ঋণী,
ভালবাসা পাইয়া তুমি হারাইয়াছ আবার।
যে বোঝেনি কখন অন্যের ভালবাসার মানে
তার সাথে এমনটাই হওয়ার কথা ছিল স্বয়ং বিধাতা জানে।
মনে পড়ে কি তোমার, না হয় স্মৃতি হাতড়াও আবার ।
অজ্ঞাত বেশে এসেছিলে, যথাইচ্ছা স্থান পেয়েছিলে
রাখতে পার নি!! কারণ
তুমি প্রথম প্রেম ভুলতে পার নি ।
ভালবাসা কি তুমি বুঝিতে শেখনি
তুমি চাও সুখ, তুমি চাও ভাল থাকতে
কখন ভালবাসায়, কখন ও নেশায়।
ভেবে দেখেছ কি ?
তোমার গল্প সঙ্গতি রাখে আমার অপূর্ণতার।”এতক্ষণে কণ্ঠস্বর নিয়ে আমার সব দ্বিধা কেটে গেছে। এ এমন কেউ যার সাথে আমার সত্ত্বার মিল, আমার আত্মার মিল। যাকে সম্পর্কের বাঁধনে বাঁধা যায় না। এমন কেউ যাকে স্রষ্টার মত ভালবাসা চলে কিন্তু ভালবেসে আঁকড়ে কাছে রাখা যায় না। সে মুক্ত পাখি যে ডানা ঝাঁপটিয়ে উড়াল দেওয়ার প্রতিক্ষায়। প্রকৃতির নিয়মেই এদের আকাশে কেউ সহজে বিচরণ করতে পারে না। কিন্তু কথিত আছে প্রকৃতি শূন্য স্থান পছন্দ করে না। তাই স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টি রক্ষাত্রে আমাকে মাধ্যমে রূপান্তরিত করলেনমাত্র।
আমার প্রবেশাধিকার তৈরি হল, এ এক অবর্ণনীয় পরিস্থিতি, কেন জানি না তখন এসব আমার কাছে নিছক ছেলেমি আর ঘনীষ্ঠতম বন্ধুত্বই মনে হত,
ওই যে বললাম মাধ্যমে রূপান্তরিত করলেন মাত্র।
অনুভূতি স্বকীয়, তাই স্থান ধরে রাখতে পারি নি।
তবে স্রষ্টার ভুল কদাচিৎ হয়। তাই নিজেকে সঠিক প্রমাণ করতে তিনি শাস্তি বিধান করলেন আর পৃথিবীর কারো সাথে কোন যোগাযোগ রইল না। যার ফল স্বরূপ তার অমোঘ নীতি সঠিক প্রমাণিত হতে লাগলো।
শূন্যতা পূরণের টান অনুভূত হল। কিন্তু সেখানে প্রবেশাধিকার সহজ নয়। আর তাছাড়া কোন একদিন সে বলছিল ” যখন তোমার কেউ থাকে না তখন আমার কথা মনে পড়ে” এখন তার নাম জানতে চাইছ তার উত্তর অনেক আগেই দেওয়া হয়েছে “নামে কি রাখা আছে “।
জোরে শুনতে পেলাম ” বাদ দেও ! এ সব তোমার বোঝার বাইরে” । ওর ডাকে চেতনা ফিরল। এক অমোঘ টান অনুভব করলাম, ইচ্ছে হল ওকে খুব জোরে জড়িয়ে ধরি। ঠিক এতটাই জোরে যেন আমাদের শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। আমি তার দিকে তাকিয়ে তার হাতটা দুহাতে চেপে ধরে বললাম ” কিছুই দুর্বধ্য না তুমি বোঝালেই বুঝি ” খোঁচা মারার স্বরে বলল ” আরো একটা বছর পার হতে চলল কত বিশেষায়িত বার্তা দিলে । কি কাজ হল?? তোমার সব নম্বর ব্লাকলিস্ট এ চলে গেল। বেশ জটিল দুনিয়ার কার্যপ্রণালী। তুমি যার ভেতর তোমার ঈশ্বর দেখবে হয়তো সে অন্যকারো ভেতরে । সর্বাহ যে তোমায় নিজের মনে করে বুকে জড়িয়ে নেবে তা নয়। তুমি সমগ্র বিশ্বের মধ্য ছোট্ট একটা বিন্দুর ন্যয় নিজের অস্তিত্ব প্রকাশ কর। পৃথিবী থেকে স্বার্থহীন ভালবাসা নামক অনুভূতি শেষ হতে বসেছে, তাই তো মানুষ কষ্ট পায়। কি খুঁজে ফিরো অন্য মানুষে, কী গুণ? কী রূপ? কি কি সেই অদ্বিতীয় বিষয়?
ধৈর্যের বাঁধ ধরে রাখার ও একটা অসীম ক্ষমতা চাই, সবাই কি তা পারে ? তোমার মতে একপক্ষীক কি? ৪ বছরে একজনকে সরাসরি ১৪ বার দেখা আর মাত্র ৮ বার ফোনে কথা বলে কি এমন অমঘ টান সৃষ্টি হতে পারে যা তুমি উপেক্ষা করতে পার না। তুমি কি পুরুষ?পুরুষ লোকের এত মায়া থাকে না, আর তা কাম্যও
নয়। একপক্ষীক শব্দ টা বেশ সহজ সরল কিন্তু এর বাস্তবটা খুব বেশি যন্ত্রনাদায়ক, তাদের কাছে যারা স্বার্থহীনভাবে ভালবাসতে পারে না। এরা আশাবাদী এরা লোভী তাই কষ্টটাও এদের একটু বেশি। তুমি যে ভাবে বুঝে অথবা না বুঝে আমাকে কষ্ট দিয়েছ, ঠিক তেমনি সমান ও বিপরীতমুখী কষ্ট তুমি এখন পাচ্ছ। তোমার কপাল ভালো তুমি কথা বলার এবং শোনার মত একজন লোক পেয়েছ, হয় তো সে বাস্তবে নয় কল্পনায়। তোমার দেওয়া যন্ত্রনা আমি বলতেও পারি নি। আগে প্রেমিক ছিলে কিন্তু এখন পাগল, এখন আর কিছুতেই কিছু হয় না। তবে জোর করে তো আর ভালবাসা পাওয়া যায় না। তোমার চাঁদ সুযোগ দিয়েছিল, তুমি ভেবেছিলে সময় আসুক। সময় আসতে আসতে তার স্বার্থপূর্ণ ভালবাসা ফুরিয়ে গেছে অথবা অন্য কেউ দখল করে নিয়েছে সেই সভীত পুষ্প কানন, অথবা সে চেয়েও আর তোমার হতে পারবে না, তাই মায়া বাড়ায় না। হয়তো তার সার্বিক পরিস্থিতি এর জন্য দায়ী। ভালবাসা একটি ক্রিয়াপদ মাত্র। এটি তোমার একটি ক্রিয়া, এটি তোমারি আত্মত্যাগের ফল। তাই তোমার প্রতি আমার কোন আক্ষেপ নেই, তুমি হয় তো কখন মিতালি রুপে দেখনি আমায় কিন্তু আমি ভালবেসেছি। আমি লোভী না, প্রতিদান চাই না। আমি নারী প্রতারিত হতে ভয় পাই। ভেবনা তোমায় আর গ্রহণ করব, এটাও ভেবনা যে করব না। আমার ভালবাসা উৎসর্গ করেছি তোমায় শুধু অপেক্ষা তুমি কখন তা তোমার মত করে নিতে পারবে।”
আমি বললাম” এ তো আত্মবিসর্জন। রসমালাই সামনে রেখে কল্পনায় অনুভূতি গ্রহণের চেষ্টা মাত্র।”
একটু রাগ্বানিত স্বরে সে বললে ” তবে তোমার মত স্বার্থপরদের কষ্ট ই শ্রেয়। তুমি যদি ভালবাসা বুঝতে চাও, তাহলে জানার চেষ্টা কর যারা অন্যের জন্য আত্মত্যাগ করে, এমন কি তাদের সম্পর্কে ও জানো যারা প্রতিদান স্বরুপও ভালবাসা প্রদান করে না অথবা মনে কষ্ট প্রদান করে । তুমি যদি অভিভাবক হও তাহলে যে সন্তানের জন্য তুমি আত্মত্যাগ কর তাদের প্রতি তোমার ভালবাসা প্রতক্ষ কর। যেমন একজন নবজাতকে তার মা পৃথীবিতে বয়ে আনেন। ভালবাসা একটা মূল্যবোধ যা ভালবাসাপূর্ণ ক্রিয়ার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। সক্রিয় মানুষ অনুভূতিকে মূল্যবোধের অধীনস্থ করে। ভালবাসা অনুভূতিকে পুনরায় করায়ত্ত করা যায়। তোমার কি মনে হয় আমি এমনি তোমার স্বপ্নে আসি। স্বার্থের গণ্ডি পেরিয়ে তুমি ভালবাসতে শিখেছো, তোমার আর কাউকে হারানোর ভয় নেই।
তোমার ভালবাসা এখন কোন ইলেকট্রন নয় যা অনবরত ঘুরতে ঘুরতে শক্তি আদান প্রদান করতে করতে একদা প্রকৃতিতে বিলীন হয়ে যাবে।””
হঠাৎ লক্ষ্য করলাম কোন এক অলৌকিক মাধ্যমে আমাদের প্যারাডাইমের বদল ঘটছে, আস্তে আস্তে বদ্ধ লাইব্রেরীর দেওয়াল ধোঁয়ায় মিলিয়ে সবুজ গাছের সৃষ্টি হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে তিন তলা বিশিষ্ট ভবন, সৃষ্টি হচ্ছে পায়ের নিচে কাঁচা সোনা রং এর ঘাস, লাইব্রেরীর বদ্ধ ছাদ পরিণত হয়েছে বিস্তৃত আকাশে, আমারা তেমনি বসে আছি ঘাসের উপর, ওর হাত এখনো আমার হাতের মধ্যে । এখন আমরা বসে আছি ভবদাহ মহাবিদ্যালয়ের ডিগ্রী ভবনের নিচে ঘাসের উপর। হাতটা ছাড়িয়ে নিয়ে দুই কাঁধ ধরে আস্তে আস্তে ওর কোলে নিয়ে নিল আমার মাথাটা, চুল ও বেশ বড় হয়েছে। চুলে বিলি কাটতে কাটতে সে বলল ” তোমাকে সক্রিয় দেখতে চাই।”
ওর ঠোঁটের উপর একটা আঙুল দিয়েছিলাম, ও কথা থামালো। আমি বললাম” জীবনের কিছুটা পথ আবার চলতে চাই তোমার সাথে। আমি আশা রাখি না, কিন্তু ভালবাসা রাখি।”” মাথাটা নিচু করে একদম আমার চোখের কাছে নিয়ে আসল, আমার গলা বুজে এলো আর আস্তে করে অতি সন্তর্পণে বলল” তাই তো আসি রোজ তোমার স্বপ্নে। প্রিয় মানুষকে ভাল রাখার নামই তো ভালবাসা ।”
ওর কথা গুলো ক্রমে এত মিষ্টি হয়ে যায় যে আমার চোখ বুজে আসে, চার পাশে তৈরি হয় স্বর্গীয় পরিবেশ, আবেগ, অনুভূতি, ভাললাগা, ভালবাসা সব মিলিয়ে পরিবেশের মহত্ব আরো গাঢ় হয় শুধু অনুভব করতে পারি ওর হাতের মৃদু কমোল স্পর্শ আর রেশমি চুড়ির ঝনঝন শব্দ। এতক্ষণ লক্ষ করি নি কখন শূন্য হাতে উঠে এসেছে চুড়ি। ক্রমে বিলিকাটা স্পর্শ তীব্র হতে থাকে, ফলে একটা তীব্র যন্ত্রণা শুরু হল কপাল ও মাথা দিয়ে। চোখ খুলে গেল দেখলাম মা কপালে জলের পট্টি দিচ্ছে আর বলছে “” এইতো জ্বর কমে এসেছে,
বেলা ও যে দশটা বাজল এবার আস্তে আস্তে ওঠ উদ্ধার কর আমায়। এত বড় ধামড়া ছেলে একটু জ্বরেই নেতিয়ে পড়েছে। হা ভগবান “”
এবার মনে পড়ল বিগত ৫ দিন জ্বরে ভুগছি। কিন্তু ৫ দিন কে যেন ৫ বছর মনে হতে লাগল। সব কথা মনে পড়তে লাগলো, এটাও মনে পড়ল সে আজো এসেছিল এবং ক্রমে ক্রমে সে আমার খুব কাছে চলে আসছে।
এখন বুঝেছি স্বপ্নে হলে ও আছে!!
তোর অস্তিত্ব আছে!!
আমি যোগ্যতা অর্জন করেছি স্বার্থহীন ভালবাসায়।
বাকিটা তোর উপর।13 Comments-
তোমাকে ধন্যবাদ কবি বন্ধু । @Neel
Friends
মোহাম্মদ আফজাল হোসেন মাসুম
@afjalhossain
নীল লহিতা
@nihadrahman
SHEIKH ZILLUR RAHMAN
@z-r-shaponkabita2021
মোখলেসুর রহমান
@mokhles
Foyzur Khan
@foyzur-khan
Shohag arnob
@shohagarnobgmail-com
Farhana whab promi
@farhana
Aeka Asin
@asin
মোঃ মুহিউদ্দীন
@md-muhiuddin



কিছু অপূর্ণতা কল্পনায় পায় পূর্ণতা, আশা করি ভালো লাগবে । সবাইকে ধন্যবাদ