Profile Photo

Tapan DebbarmaOffline

  • tanu48
  • Profile picture of Tapan Debbarma

    Tapan Debbarma

    4 years, 8 months ago

    একজন তরুণ কবি ও সমকালীন লেখকের একান্ত সাক্ষাৎকার

    >একজন তরুন কবি ও সমকালীন লেখক হিসেবে আপনার পথচলার শুরুটা কেমন ছিল?

    >প্রতিটা মানুষের জীবনের মত আমার পথ শুরুটা আরো আট দশটা জীবনের শুরুর মতোই। দৈন্যতা ছিল। আমি উপলব্ধি করি, যখন অনেক বাধা আসে তখন কখনোই নিজেকে উত্তজনায় ভাসাইতাম না। কিছু ধৈর্য্য খরচ করলেই যে বাধার অতিক্রম করা সম্ভব সেটা আমি বিশ্বাস করতাম যা এখনো আমি আমার মধ্যে লালন করি। এটা ঠিক কারো জীবনেই মসৃন পথ তৈরি করা ছিলনা, নদী যেমন আঁকাবাকা চলে প্রাকৃতিক নিয়মে ঠিক তেমনি আঁকাবাকা প্রতিটি মানুষের জীবন । নদীর সাথে জীবনের এজন্য তুলনা করছি যে, মানুষের জীবনের যেমন গল্প থাকে ঠিক তেমনি নদীরও থাকে অনেক গল্প, কালান্তরের অনেক হাসি-কাঁন্না, সুখ-দুঃখের সাক্ষী বহমান নদী। আমার কাছে নদী ও জীবন মিশে একাকার।

    >আপনি দুঃখবোধের কথা বলছিলেন! কিন্তু জীবনের সাথে দুঃখবোধ অতি সাধারণ বলে আপনার মতো আরো অনেক সমকালীন কবি লেখকরা বলেন, সেক্ষেত্র আপনার কাছে এই দুঃখবোধের নির্দিষ্ট কোনো অভিব্যক্তি আসলে কি!

    >দেখুন একজন কবি একজন মানুষও বটে। হাসি ঠাট্টা-তামাশা, সুখ-দুঃখের অতল স্পর্শ সবি অন্য সব মানুষের মতই। একটা কথা বলি, প্রত্যেকটা মানুষের জীবনের দর্শন ইউনিক। কারোরই কারোর সাথে মিলবে না। এই যেমন ধরুন, আপনার জীবন দর্শন আপনার অভিব্যক্তিতে উল্লেখ পায়, কিন্তু আমার অভিব্যক্তিতে সেটা ভিন্ন, সেটা নিশ্চয় আপনি বুঝতে পারছেন। আর আমার কাছে দুঃখবোধ জিনিসটা ঐরকম যেটা আমি আমার কবিতা গুলোতে প্রকাশ করি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনাচার যখন আমার সাথে ঘটে ঠিক তখনই আমার আশা আকাঙ্খা গুলো ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায়, নতুন করে সৃষ্টি হয় স্বপ্ন, আশা এমনকি নতুন করে ভাললাগা। এমন না যে আমি পরাজয়কে অস্বীকার করি, সেটা ভাবলে ভুল হবে। কারন পরাজয়ের মাঝেও আমি সুখবোধ খুজে পাই, যেখানে দুঃখবোধ কাজ করার কথা। তাই বলে জীবনের সকল ব্যাথাকেও আমি দুঃখের সাথে মিশাই না কারন দুঃখবোধ এমনি এক জিনিস সেটা মানুষকে এমনকি নিজেকে নতুন উদ্যোমে জাগিয়ে তুলতে কাজ করে।

    >একজন তরুণ কবি হিসেবে সামাজিক প্রতিচিত্র আপনার কবিতায় প্রকাশ পায়। বিশেষ করে সমাজের অনাচার যারা চর্চা করেন তাদেরকে সমাজের ক্ষত চিহ্নিত করে আপনি সোচ্চার হোন। এক্ষেত্রে আপনি কতটা উদ্বেলিত হোন বা সমাজের ভিত্তিটাই কি বলে মনে করেন?

    >দেখুন অনাচার যে বা যারাই চর্চা করেন তারা কিছুটা নিজেদের প্রভাবশালী বলে দাবি করেন। এমনকি নিজেদের প্রতিষ্ঠিত ভাবেন। এগুলা তাদের স্বঘোষিত শ্রেষ্ঠত্বের দাবি। অর্থের দাম্ভিকতায় যেকোনো নিকৃষ্টতর কাজ করতে তাদের মনে বাঁধে না! সমাজ নিয়ে আমার বেশি কথা বলার মত ইচ্ছে নেই। কারন অনেক গুনীজনরা এ ব্যপারে অনেক কিছুই উল্লেখ করার মত বলে গেছেন, লিখে গেছেন। তবে এটা বলতে পারি সমাজের ভিত্তি হচ্ছে সমাজের মানুষ। অনেক সময় আমরা মানুষের জয় উদযাপন করতে দেখি, উত্তাল জনতার স্রোত দেখি, জনতার রায় দেখি। আমি মনে করি এগুলাই হচ্ছে সমাজের ভিত্তি। ঠিক জনতার জয়-জয়কার যখন তখনি অনাচারীদের বিধায় ঘন্টা বাজে। আসলে সমাজটা স্বয়ংক্রিয় ভাবেই সামাজিক ক্ষত ব্যভিচারী- অনাচারীদের হাত থেকে সারিয়ে তোলে।

    >গত ফেব্রুয়ারী অমর একুশে বইমেলায় আপনার একটি কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছিল।” তোমাদের নামে কবিতা ” শিরোনামে। সে কবিতার বইয়ে ভূমি খেকোদের নিয়ে একটি কবিতা ছিল। সেটার পটভূমি নিয়ে যদি একটু বলতেন!

    >আমার কাছে চিরসবুজ, চির শান্তির দেশ প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। এ বাংলার গ্রামীন আবহ, মফস্বলের কথা, শহুরে ঢং কিংবা নাগরিক জীবন আমাকে শিখিয়েছে কিভাবে ভালবাসতে হয় দেশকে। এমনকি জীবনকে। ঐ যে বললাম, সামাজিক ক্ষত! হ্যাঁ অনেকেই আছেন ভূমি কে তছরুপ করে চলছে। এতে সমাজের, দেশের ক্ষতি না দেখে শুধু মাত্র নিজেদের পকেট ভারি করার জন্য ভূমির প্রতি আক্রোশ চালাচ্ছে সেই প্রেক্ষিতেই কবিতাটি লিখেছি।

    >আপনর দৃষ্টিকোণ দিয়ে শিল্প-সাহিত্য চর্চা সম্পর্কে জানতে চাই!

    >দেখুন শিল্প-সাহিত্য একটি জাতির এমন একটি উপাদান যা অগ্রসরমান প্রত্যেকটি জাতির জন্যেই গুরুত্বপূর্ণ। যার যত সমৃদ্ধ শিল্প-সাহিত্য তার তত বিকশিত জ্ঞান ভান্ডার। আমারা এমন একটি যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছি যে, সেখানে শিল্প-সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানের মিশেল। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই সোসাল মিডিয়া ভিত্তিক সাহিত্য চর্চা করছে সেগুলোর পক্ষে আমি নয়। না, আপনাকে এর বিরোধী হতে বলছিনা, বলছি শিল্প-সাহিত্য চর্চার মোক্ষম জায়গা হচ্ছে বই পড়া। পাশাপশি সোসাল মিডিয়া চলুক। বই পড়াকে অবমূল্যায়ন করে একটি জাতি তথা দেশ কখনো শিল্প-সাহিত্যে এগুতে পারবে না। আর দেশীয় ঐতিহ্য সমৃদ্ধ শিল্প সাংস্কৃতিক চর্চার দিকে মনোনিবেশ করতে বর্তমান প্রজন্মকে বলতে চাই, আপনার উদ্যেগেই সমৃদ্ধ হবে আমাদের শিল্প- সাহিত্যের চর্চা। সুতরাং বসে থাকলে চলবেনা। সময়ের দাবী সময় থাকতে পালন করতে হবে। (চলবে)

    6
    5 Comments
Skip to toolbar