Profile Photo

ইকবাল আহমেদOffline

  • Iqbal
  • এলিটা
    পর্বঃ ১
    – নোয়ান, নোয়ান, জলদি উঠ। আজ তোমার কোন জরুরী কাজে তাড়াতাড়ি ওঠার নির্দেশনা ছিল।
    – হু, বিরক্ত করো না এলিটা।
    – কিন্তু বিরক্ত তো আমাকে করতেই হবে তোমাকে যে উঠাতেই হবে।
    – তাই বলে তুমি আমাকে এভাবে বিরক্ত করতে পারো না।
    – কিন্তু আমার প্রতি তোমার নির্দেশনাগুলো তো এরকমই ছিল।
    – কিন্তু এখন তো নির্দেশনা বদলেছে।
    – নোয়ান তুমি বোধহয় ভুলে যাচ্ছ তুমি কি নির্দেশনা দিয়েছিলে।
    – কি নির্দেশনা দিয়েছিলাম? আর এখন তো নতুন নির্দেশনা দিচ্ছি। তারপর ও তুমি আমাকে বিরক্ত করে যাচ্ছ।
    – নির্দেশনা এমন ছিল যে, না উঠা পর্যন্ত তোমার গায়ে প্রয়োজনে পানি ঢেলে দিতে হবে, এবং নতুন কোন নির্দেশনা নেয়া যাবে না, বিছানা ছাড়ার আগ পর্যন্ত।
    – তাই বলে তুমি কি এখন আমার গায়ে পানি ঢেলে দেবে।
    – তোমার নির্দেশনা মেনে চলতে গেলে তো আমাকে তাই করতে হবে। আর তা করার জন্য আমি প্রস্তুত। এই দেখো বালতি ভরে পানি নিয়ে এসেছি।
    মুহূর্তকাল দেরি না করেই নোয়ান ধড়মড় করে বিছানায় উঠে বসলো, বলা তো যায়না এলিটার মত গর্ধভ টাইপের রোবটগুলো এই কাজটি করে ফেলতে পারে। পরমুহূর্তেই নোয়ানের মনে হলো এলিটাকে গর্ধভ ভাবাটা ঠিক হয়নি। কারণ তাকে সেভাবেই তৈরি করা হয়েছে। এসব ভাবতে ভাবতে নোয়ান নিজের মনেই গজ গজ করতে থাকে। না এবার এলিটা কে বাদ দিতেই হচ্ছে কোন কুক্ষণে যে সে এরকম মাস্টারনি টাইপ একটি রোবট কিনেছিল। কেমন একটা মাস্তানি মাস্তানি ভাব নানা মাস্তানি মাস্তানি নয় কেমন একটা বৌ বৌ ভাব, অনেকটা আগের যুগের বৌদের মত যারা সবসময় স্বামীর উপর ছড়ি ঘুরাতে চায়। যদিও এলিটাকে ছাড়া নোয়ানের এখন চলছে না।
    – কী হল? অত কী ভাবছ? আর এক মিনিটের মাঝে না উঠলে বাধ্য হয়ে আমাকে পানি ঢালতে হবে।
    – আহ, উঠছি। এখন বুঝতে পারি বিবাহিত পুরুষরা কেন বউয়ের উপর বিরক্ত থাকে।
    – সে ভয়েই কী তুমি বিয়ে করনি।
    বিছানা থেকে নামতে নামতে নোয়ান আবার আনমনা হয়ে যায়। সাবিলা চলে যাওয়ার পর নোয়ানের জীবনটা পুরোপুরি এলোমেলো হয়ে যায়। নিঃসঙ্গ জীবনে এলিটাই তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছে। সাবিলার কথা মনে হতেই নোয়ানের আবার মনটা খারাপ হয়ে গেল।
    নোয়ান শাওয়ার নিয়ে বাথরুম থেকে বেরুতেই দেখে এলিটা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
    – কি? কিছু বলবে?
    – আমাকে গর্দভ বলাটা তোমার ঠিক হয়নি।
    নোয়ান কিছুটা চমকে যায়, আরে এই গর্দভটা আবার বুঝলো কি করে যে সে তাকে গর্দভ বলেছে। যদিও সে মুখে কিছু বলনি।
    – নাতো, আমি তো এমন কিছু বলিনি। তুমি কি একটু বেশিই ভেবে ফেলছ না?
    – না মুখে বলনি। তবে মনে মনে তুমি আমার সম্পর্কে এমনটাই ভেবেছ বলে আমি প্রোবাবিলিটি এনালাই্সিস করেছি।
    – তা তোমার এমন তর এনালাইসিস করার হাইপো থিসিস টা কি?
    – গত দুই বছর বারো দিন পাঁচ ঘন্টা আটাশ মিনিট আমি তোমার সাথে আছি। আমার ডাটা এনালাইসিস বলছে, তুমি যখন কারো উপর বিরক্ত হও তখন তুমি তাকে গর্দভ বলে গালি দাও। যেহেতু আজ কিছুক্ষন আগে তুমি আমার উপর রাগ বা বিরক্ত হয়েছ, তাতে তুমি আমাকে গর্দভ ভাবাটা তোমার স্বভাবসিদ্ধ।
    – হয়েছে তোমাকে আর বক বক করতে হবে না। নাস্তার ব্যবস্থা কর। আমাকে দ্রুত বের হতে হবে।
    কি জানি একজন বৌ থাকলে সেও নিশ্চয়ই এলিটার মত এমন জেরা করতো। নোয়ানের সেরকমই মনে হতে থাকে। তার মুখে একটা ছোট্ট হাসির রেখা ফুটে উঠে। আহ্ বৌ। অনেক স্বপ্ন দেখেছিল নোয়ান সাবিলাকে নিয়ে। নিজেদের সংসার হবে। প্রেমিকা হিসেবেও সাবিলা নোয়ানের প্রতিটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখতো। কিন্তু কি থেকে যে কি হয়ে গেল।
    ..……… চলবে

    24
    17 Comments
Skip to toolbar