Profile Photo

নিশাত আনজুম রিয়াOffline

  • nishatanjum74
  • “অবেলার বৃষ্টি”
    নিশাত আনজুম রিয়া

    বারান্দার তুলসি গাছটার পাশে বসে অবেলার বৃষ্টি দেখছি। বৃষ্টি জিনিসটা বড় অদ্ভুত! কারো মনে বসন্তের দোলা দিয়ে যায় কারো সবকিছু ভাসিয়ে দিয়ে যায়। যে সম্পর্কে নিজের কোনো স্থায়িত্ব নেই সে সম্পর্ক ভেসে গেলেই বা ক্ষতি কি!
    আমি সুদীপা চক্রবর্তী। ইংরেজিতে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বাংলায় কবিতার বই লিখছি। উপন্যাস ও লিখে ফেলেছি দুইটা। একটা ” নক্ষত্র মেঘ” আরেকটা “বিষাদসিন্ধু”।
    পরের বই মেলায় যে বইটা বের হবে তারই কিছু অংশ লিখছি আজকে। হ্যাঁ আমার জীবনের টানাপোড়নের গল্প।
    দিব্যি লিখা যায় কতো-শতো গল্প! কিন্তু নিজের কিছু নিয়ে লিখতে গেলেই কেমন যেন শব্দ আর জোড়া লাগে না। আমি পারি না হয়তো জোড়া লাগাতে যেমনটা পারিনি অর্জুনের সাথে ঘর বাঁধতে।
    হয়তো বইয়ের মতো উপন্যাসের নায়িকা হলে পারতাম! উপন্যাসের নায়িকারা বড্ড ভালো হয়। বুদ্ধদেব বসুর “রাত ভ’রে বৃষ্টি” উপন্যাসের মালতী হতাম যদি! সব কিছুকে পিছু ফেলে বাইরের একপশলা বৃষ্টি আমার সব দুঃখ কষ্ট দেয়ালে বেয়ে পড়া বৃষ্টির ফুঁটার মতো টলটল করে ঝড়ে যেতো। দেয়ালের ভিতরটাতে বৃষ্টির শব্দ ছাড়া কিছুই আসতো না তবে এ সমাজ ঠিকই বুঝতো কতোটা ভালো আছে মানুষটা, কতোটা ঠিক আছে সবাই।
    এভাবেই হয়তো বছরের পর বছর চারদেয়ালের ভিতরে গত দশ বছরেও চিনতে না পারা মানুষটার সাথে কাটিয়ে দিতে পারতাম আরও গুটিকয়েক বছর যেমনটি মালতী পেরেছিলো!
    নাহ্! আমি পারি নি। পারলে হয়তো দু’টা উপন্যাস লিখতে পারতাম না নয়তো এতো এতো মানুষের ভালোবাসা পেতাম না।
    আমি অর্জুনকে ছেড়েছি, অর্জুন আমাকে ছাড়েনি। আসার আগেও বলেছে, “সুদীপা আর ক’টা বছর থাকো আমি শব্দের চয়ন এনে দিবো তুমি শুধু সাজিয়ে শব্দের পর শব্দ বসাবে”! কিন্তু না শব্দচয়ন বলে কিছু হয় না, অর্জুন আবারো নক্ষত্র মেঘের মতো আকাশ ভর্তি মিথ্যা মেঘ এনেছিলো।
    জীবন তো জলের যাত্রা, জীবনে কতোশতো বৃষ্টি যাবে আসবে তাই বলে আর পাঁচটা মানুষের মতো একটুখানি সুখ খুঁজে নিশ্চিন্ত মনে বৎসরের পর বৎসর ওর পাণে যে মুখ ফিরিয়ে বসে থাকবার উপায় আছে?
    আমি এখন শব্দ খুঁজতে পারি! নতুন সুখের গান লিখতে পারি, নতুন প্রেম, নতুন সৃষ্টি, নতুন জাল বুনে মানুষের দৃষ্টি নতুন করতে পারি। এই দৃষ্টিতে মিথ্যে মেঘ থাকে না!
    একদিন আবার বৃষ্টি হবে, তুলসি গাছটা বড় হবে,তুলসি ফুল বৃষ্টির গন্ধ মাখবে, সমস্ত বারান্দা ছেয়ে যাবে একটি সুন্দর গন্ধে, বৃষ্টির টুপটাপ শব্দ, বাতাসে পুড়া গন্ধ! এই তো আমার সব দুঃখ কষ্ট নিভে যাচ্ছে অভিমানে। সব কিছু অতি নিত্য সাধারন!
    এত কিছুর পরেও আমার কিছু অজানা শব্দ থাকবে, অচেনা চয়ন থাকবে।
    হয়তো এভাবেই বেঁচে থাকবো বছরের পর বছর। কিন্তু হারানো চয়ন খুঁজে দিবে না কেউ, অদেখা শব্দ দেখা হবে না কখনো ও।
    তবুও সাধারন কিছু নিয়মে চলতে থাকবে জীবন । এইতো চলছে না হয় একটু ছেঁড়া তার নাই বা বাঁধলাম সুরের সাথে!

    10
    9 Comments
Skip to toolbar