Profile Photo

আবির হাসান সায়েমOffline

  • Abir-Hassan-Sayem
  • #ধারাবাহিক
    একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০২)
    ~আবির হাসান সায়েম

    আমার দুইদিন যাবৎ প্রচন্ড জ্বর। ওইদিন বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর এসেছে। শিলাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আমি আরো দু’ঘন্টা বৃষ্টিতে ভিজেছি। যেদিন ভিজেছি, সেদিন কিছু হয় নি। পরেরদিন সকাল থেকে জ্বর জেপে ধরেছে।
    আমি ঢাকায় একা থাকি।একবছর হলো মাস্টার্স শেষ করেছি। এতোদিন টিউশনি করে খেয়েছি । কিন্তু এখন আর টিউশুনি করতে ইচ্ছে করে না। আমার মনে হয়,বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়ানো নেহাতেই ঠেকে পরা কাজ। শিলার বাবা শহীন চৌধুরীর কম্পানীতে সিভি জমা দিলেই চাকরি হয়ে যাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করেন৷ তিনি যেমন করেন, শিলার মা ইয়াসমিন সুলতানাও আমাকে অনেক স্নেহ করেন৷ আমি তাদের খালা-খালু বলে ডাকি। আমার মনে হয়, আমার প্রতি তাদের স্নেহ থেকে সহানুভূতিই বেশি। আমার বাবা -মা সাত বছর আগে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান। আমি ওইসময় ক্লাস টেনে পড়ি মাত্র। তারপর মামা বাড়ি -খুলনা থেকে ইন্টার পরীক্ষা দেই। ইন্টারে রেজাল্ট ভালো করায় মামা -মামি ঢাকায় পড়াশোনা করতে পাঠান। আমি ভর্তি হই প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে। কি সুন্দর পরিবেশ। বড় বড় হল, বড় বড় ল্যাব। প্রথম যেদিন কার্জন হল দেখি চোখ কোটর থেকে বের হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছিলো।
    প্রথমদিকে ইউনিভার্সিটিতে তেমন কারো সাথে বন্ধুত্ব ছিলো না । আমি তাদের সাথে মোটেই মানিয়ে নিতে পারছিলাম না। ক্লাসে যেতাম, লেকচার শুনতাম বাসায় চলে আসতাম। বাসায় এসে বই নিয়ে বসতাম। বিনোদনের একটাই মাধ্যম ছিলো -গল্পের বই। আমি যখনকার কথা বলছি, তখন হুমায়ুন আহমেদ ছিলেন অধিকাংশ তরুণ পাঠক-পাঠিকাদের মধ্যেমণি। আমারও খুব প্রিয় লেখক ছিলেন তিনি। একদিন প্রিয় লেখকটাকে দেখতে গিয়েছিলাম। অটোগ্রাফের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। আমার সামনে না হলেও ৬০-৭০ জন মানুষ তো হবেই। পুরো মেলা জ্যাম হয়ে গেছে৷ আমি পিছনে তাকিয়ে দেখি, মানুষের ঢ্ল নেমেছে। যতদূর তাকানো যায় মানুষ আর মানুষ। সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে। এই যাদুকরটা যেনো তার বইয়ের একটা পাতায় একটু পরশ দিয়ে দেয়। অনেক ধাক্কাধাক্কি, পুলিশ সামাল দিতে পারছে না।
    আমার সামনে আর সাতজন আছে৷ ওইতো তাকে দেখা যাচ্ছে চশমা খুলে বইয়ের দিকে ঝুকে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন৷ একটু পরপর চেঁচিয়ে বলছেন,
    “এই হট্টগোল করবা না। ”
    কয়েকজনকে ধমক দিয়ে লাইন থেকে বের করে দিলেন। অটোগ্রাফ তো দূরের কথা বইও দিলেন না। আমি এতো কাছে গিয়েও অটোগ্রাফটা নেই নি। লাইন থেকে বেড়িয়ে এসেছি। আমি জানতাম,তিনি আমাকে যদি কোনো কারণে ধমক দিতেন তাহলে আমার প্রচুর অভিমান হতো৷ হয়তো তার বই কক্ষনও আর পড়তাম না। অতি প্রিয় মানুষদের অপ্রিয় কাজ করার সুযোগ দেয়া উচিত না।
    দিনের শেষ আলো এসে পরেছে বিছানায়। আমার মাথা ভোন ভোন করছে। প্রচন্ড ঘুম আসছে। আযান দিচ্ছে। এইটা কোন সময়ের আযান মাগরিবের না আসরের? না আযান না, কে যেনো দরজার কড়া নাড়ছে। কিন্তু কড়া নারা শব্দের সাথে আযানের সম্পর্ক কি? কে এসেছে বাইরে? আজরাইল? এখন কি আমার মৃত্যু হবে? আমি তো সুখী, বেশ সুখী। মৃত্যু হবার জন্য দুঃখী মানুষ হতে হয় । আমি বুঝতে পারছি,আমার চিন্তা ভবনা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে৷
    আমি গভীর শুন্যে তলিয়ে গেলাম।যে শুণ্য হতেই হয়তো এই পৃথিবীর সৃষ্টি।

    চলবে..

    1 Share
    8
    14 Comments
    • অভিনন্দন। লিখে যাও।

    • “অতি প্রিয় মানুষদের অপ্রিয় কাজ করার সুযোগ দেয়া উচিত না।” খুব সুন্দর বলেছেন। গল্পের ধারা এভাবেই চলুক শুভ কামনা রইল।
      হুমায়ুন আহমেদ আমারও খুব প্রিয় লেখক। শুভেচ্ছা নেবেন।

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 16 October 2021 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 25 February 2022 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • অভিনন্দন

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 30 December 2022 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 09 October 2023 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • শুভকামনা নিরন্তর

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 11 July 2024 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 22 April 2025 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

    • তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 21 May 2026 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!

Skip to toolbar