-
কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
(না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ১৪এতদিন যাকে মামা বলে ডেকে এসেছি তার মুখে ভালোবাসার কথা শুনে তার থেকে ছিটকে দূরে সরে গেলাম।
অবশ্য আমি বুঝতে পারছিলাম এমন কিছুর মুখামুখি একদিন আমাকে হতেই হবে।
আমি যতই পালিয়ে বেড়ায় না কেনো।
তবে সেইদিন যে এতো জলদি এসে পড়বে তা বুঝতে পারিনি বা বুঝতে চাইনি।
এতদিন যে বিষয়টি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছি আজ হুট করে তা সামনে এসে দাঁড়াবে।
তাদের পরিবার সম্পর্ক যেহেতু সবকিছু জানতাম সেজন্য আমার ভিতরে ভয় কাজ করছিলো।
মনে হচ্ছিল তাকে ফিরিয়ে দিলে আমার ক্ষতি হতে পারে।
আবার তাকে মেনে নিলে আমার বাবা মা’কে কষ্ট পাবেন।
যা আমার জন্য মঙ্গলজনক হবে না।
এই মুহূর্তে আমার একটু দুর্বলতা তার শক্তি হয়ে আমাকে আঘাত করতে পারে।
এতে আমার প্রতি মা বাবার বিশ্বাস ভেঙ্গে যাবে।
কথাটা ভেবে অস্থির হয়ে যাচ্ছিলাম।
এদিকে সোহেল মামা হাঁটু গেড়ে বসে রয়েছে।
আমি তার দিকে তাকিয়ে অসহায় বোধ করছি।
কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না।
তাই হঠাৎ করে তাকে বললাম, দেখুন আপনাকে আমি কখনো সে নজরে দেখি নাই।
দেখিস নাই তো এখন থেকে দেখবি।
তোকে ছাড়া আমার চলবে না,
এক সপ্তাহ সময় দিলাম
তবে আমি কিন্তু তোর মুখে হ্যাঁ শুনতে চাই অন্য কিছু না।
কথাটা বলে সেদিন চলে যান সোহেল মামা।
আমার ছোট মাথায় রাজ্যের চিন্তা দিয়ে নিজে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাবে।
এই জেদে নিজের মাথার চুল নিজে টেনে ছিঁড়তে ইচ্ছে করছে।
কিন্তু চুল ছিঁড়তে পারছি না কারন আমার বাবার পছন্দের একটা হচ্ছে তার এই মায়ের চুল।
মা’কে বলবো, না বলবো না তা ভেবে অস্থির লাগছিল।
চিন্তা করতে করতে কেটে যায় এক সপ্তাহ।তার দেওয়া সময় শেষ হতে দেরি তার আমার আসতে দেরি হয়নি।
সে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলেন, তোর উত্তর জানতে চাই।
যদিও জানি তোর উত্তর হ্যাঁ হবে।আমি তার কথা শুনে বললাম, দিবা স্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন।
মামা আপনার লজ্জা করে না আমার মতো ছোট একটা মেয়েকে প্রেমের কথা বলতে?
তাছাড়া আপনি পাগল বলে তো আমাকে হতে হবে না।
আর আপনি ভাবলেন কি করে আপনার ফালতু বিষয়ে রাজি হবো।
আর আমি মাত্র ক্লাস সিক্স এ পড়ি এই বয়সে প্রেম ভালোবাসার মত ফালতু বিষয়ে ভাবতে চাইও না।
তাছাড়া আপনাকে আমার মোটেও পছন্দ না।
আচ্ছা মামা আপনার লজ্জা করছে না ক্লাস সিক্সে পড়া ভাগ্নিকে প্রেম প্রস্তাব দিতে?
আপনার এইসব কথা শুনে আমার তো মনে হচ্ছে আপনি একটা এল সি।
থাপ্পর দিয়ে দাঁত ফেলে দিবো বেয়াদব একটা।
এই তুই আমার কোন জন্মের বোনের মেয়ে।
যে তোকে প্রেম প্রস্তাব দিতে পারবো না?
তোর সাথে আমার কোন রক্তের সম্পর্ক নেই।
বুঝতে পারছিস।
আর এটা ভুলে গেলি কি করে তুই আমি এক হুজুরের কাছে এবং একসাথে কোরআন পড়েছি।
তুই যে হাদীস বলতে আসবি তা অমিও জানি।
তাই তো জ্ঞান তোর কাছেই রাখ।
আর এল সি মানে কী?
আমি তার কথা শুনে বললাম, বিয়ের আগে প্রেমের সম্পর্ক হারাম এই হাদীস জেনেও তো প্রেম প্রস্তাব দিচ্ছেন।
আর এল সি হয়ে তার মানি জানেন না এটা কোন কথা হল?
তবুও যেহেতু আপনি জানেন না তো বলতে তো হবেই।
এল সি মানে হচ্ছে লুচ্চা।
আমার কথা শুনে সোহেল মামা আমার দিকে তেড়ে আসতে নিলে আমি ভয় পাই।
চিৎকার দিতে নেই।তা দেখে তিনি বলেন, এই চুপ চুপ আমি তোর থেকে দূরে আছি অযথাই চিল্লাচিল্লি করবি না।
কথাটা বলে কপাল চুলকাতে চুলকাতে বলেন,সবই আমার কপাল না হলে তোর মত বান্দরকে ভালোবাসতে গেলাম কেন?
পরিবারের লোকজন ছাড়া যেই আমি আজ পর্যন্ত কখনো অন্য নারীর দিকে চোখ তুলে তাকায় নি সেই আমি কিনা তোর প্রেমে আছড়ে পড়লাম।
পড়লাম তো পড়লাম এমন ভাবে যে উঠার রাস্তা খুঁজে পাচ্ছি না।
আর তুই কিনা আমার ভালোবাসার মূল্য তো দিচ্ছেস না উল্টো লুচ্চা বলছিস।
আমি মুখ ঝামটা দিয়ে বললাম, হুঁ আপনাকে আমার প্রেমে পড়তে কে বলেছে ?
আমি তো বলিনি যত্তসব।
আর আমি নিশ্চিত আপনি লোক ভালো না।
আর শুনেন জোর করে হ্যাঁ শুনতে চায় তো গুন্ডা মাস্তান।
আপনি কি তাই?
আমার কথা শুনে সোহেল মামা রেগে বললেন,তুই আমার চোখের সামনে থেকে দূর হয়ে যা।
আশ্চর্য আমি ক্যান যাবো?
যাবেন তো আপনি,
আপনাদের বাড়িতে আমরা কি মাগনা থাকি নাকি!
আমার ভুল হয়েছে তোর কাছে প্রেম নিবেদন করে।
আমি ভুলে গেছিলাম হাত পায়ে বাড়লেও তোর ঘটে বুদ্ধি এখনো আসেনি।
তাই আমিই এখানে থেকে যাচ্ছি।
তবে মনে রাখিস তোর হৃদয়ে একদিন আমার রাজত্ব হবে।
কথাটা বলে সোহেল মামা চলে যায়।
এরপর কেটে যায় অনেক দিন আমার সামনে পড়লেও তেমন কথা বলতেন না।
আমি আমার মত ছিলাম তাকে নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট করতে চায়নি।
এভাবে কেটে দুই বছর।
তবে এই দুই বছরে এমন একদিন যায়নি যে সোহেল মামা আমাকে ফলো করেনি।
তা আমি বুঝতে পেরেও চুপচাপ ছিলাম।আমি যখন ক্লাস এইটে উঠলাম তখন থেকে তার অত্যাচার বেড়ে যায়।
আমাকে একা দেখলেই ভালোবাসার বয়ান দিতে শুরু করেন।
আমাকে ছাড়া বাঁচবে না, আমি চাইলে সে চাঁদ সূর্য এনে দিবে আরও কতো কথা।
তার এসব কথা শুনে গলে যাওয়ার পাত্রি আমি নই।
তবে দিনদিন তার পাগলামী বেড়ে চলছে।
এইতো সেদিন বললেন, আমি বুঝতে পারছি তোর সমস্যা।
আসলে আমার পরিবারের সদস্যদের তোর পছন্দ নয়।
তুই শুধু একবার আমার ভালোবাসা গ্রহণ করে নে আমি তোর জন্য সব ছাড়তে রাজি আছি।
আর শুন বিয়ের পর তোকে এখানে আমার পরিবারের সঙ্গে থাকতে হবে না।
তোর যেখানে থাকতে ইচ্ছে করবে সেখানে থাকবো।
দরকার হলে আমার খালার বাড়িতে তোকে নিয়ে থাকবো।
তবুও তুই রাজি হয়ে যা জান।
আমি তার কথা শুনে কখনো কখনো ভাবতাম আচ্ছা মানুষটি আমাকে পাগলের মত ভালবাসে তবুও কেন আমি তাকে গ্রহণ করতে পারছি না।
আচ্ছা পারছি না নাকি ইচ্ছে করে চাচ্ছি না?
আবার কখনো কল্পনায় ভেসে ভাবতাম, তার সাথে বিয়ে হলে সে সময়টা কেমন যাবে?
কখনো কল্পনা করতাম তার সাথে ঘুরতে গিয়েছি।
তবে কল্পনা থেকে বাস্তবে ফিরলেই মনে মনে নাউজুবিল্লাহ বলতে ভুলতাম না।
এসব আজগুবি কল্পনা করার জন্য।
কারণ আমার বাবা মা কখনো এমন কিছু মানবে না।
মানবে না বলছি তার কারণ কিছুদিন আগে মা’কে বলেছিলাম সোহেল মামার কর্মকাণ্ডের কথা।
কারণ মা আমার বান্ধবী, শুভাকাঙ্ক্ষী সব।
ছোট থেকে মায়ের কাছে সবকিছু সেয়ার করা আমার অভ্যাস।
তবে এতদিন সোহেল মামার বিষয়ে মা’কে বলে দুশ্চিন্তায় ফেলতে চায়নি ।
কিন্তু এখন না বলে উপায় নেই সেজন্য বাধ্য হয়েই বলেছিলাম।
মা আমার কথা শুনে বললেন,দেখ মা আমি তোকে বিশ্বাস করি।
আমি জানি ,তুই এমন কিছু করবি না যাতে তোর বাবার সম্মান নষ্ট হয় বা কষ্ট পায়।
আরেকটি কথা আমার একমাত্র মেয়ের বর কখনো কোন সন্ত্রাসীর ভাই হবে তা আমি এবং তোর বাবা বেঁচে মানতে পারবো না।
আর তার বিষয়ে আমি জানি তা সোহেল কে বুঝতে দেবি না তাহলে সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
সেদিন মায়ের কথা শুনে বুঝতে বাকি ছিল না মা সোহেল মামাকে ব্যক্তি হিসেবে পছন্দ করলেও মেয়ের জামাই হিসেবে পছন্দ করবেন না।
সেজন্য মনে তার ভাবনা এলেও ঝেঁটিয়ে বিদায় করে দিতাম।
আমি যে কখনো মনের অজান্তে ও মা বাবাকে কষ্ট দিতে চাই না।
তবে তা কতদিন করতে পারবো তা জানি না।
ইদানিং সোহেল মামার বেপরোয়া স্বভাব দেখে আমি ভয় পাচ্ছি।
কারণ তার চোখে আমাকে পাওয়ার তৃষ্ণা দেখতে পাচ্ছি।
এরমধ্যে একদিন সোহেল মামা ছুরি হাতে নিয়ে আমার সামনে এসে বললেন,তুই যদি আমাকে ভালো না বাসিস তো এই মুহূর্তে আত্মহত্যা করবো।
আমি তার কথা শুনে ভয় পেলেও তার সামনে সাহস দেখিয়ে বলি, আত্মহত্যা করবেন ভালো কথা।
তবে মামা আমাদের রুমের বাহিরে করবেন না।
করতে হলে নিজের ঘরে করুন।
নাহলে আপনি তো মরেই খালাস ।
আর এদিকে আপনার মৃত্যুর জন্য আমাদের থানায় দৌড়াতে হবে।
সেদিন আমার কথা শুনে সোহেল মামা কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকেন!
কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকার পর বললেন, আমি মরলে তুই কষ্ট পাবি না?
আমি সাথে সাথে বললাম একদম না।
আপনি মরলে পৃথিবীতে থেকে একটা আপদ দূর হবে।
সোহেল মামা আমার কথা শুনে বললেন,তুই একটা পাষাণী, নিষ্ঠুর।
তোর বুকে দয়ামায়ার লেশমাত্র নেয়।
আমি তার কথা শুনে বলি,তাও আপনার থেকে ভালো আছি।
যেই আমি কিনা আপনার ছায়াও পছন্দ করি না।সেই আমার জন্য আপনি স্বার্থপরের মত নিজের পরিবারকে ছাড়তে চেয়েছিলেন।
তাহলে নিষ্ঠুর কে?
আমার কথা শুনে সে আমাকে ঝাপ্টে ধরে বলেন, বিশ্বাস কর তোকে ছাড়া আমার পৃথিবী অন্ধকার।
অনেক চেষ্টা করেছি তোকে ভুলতে কিন্তু পারিনি।
আমি তাকে নিজের থেকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে চিৎকার করে বলি, আপনার সাহস হয় কি করে আমাকে ধরার?
কে হন আমার,কোন অধিকারে আমাকে ধরতে এসেছেন?
আর কখনো আমাকে ছোঁয়ায় চেষ্টা করলে, আমি নিজের জীবন দিয়ে দিবো।সীমা?
কি যা তা বলছিস?আমি যা বলছি ঠিক বলছি
একটা কথা মনে রাখবেন আপনি আমাকে জোর করে করে বিয়ে করলেও আমার মন পাবেন না।
কারণ আপনি যেদিন আমাকে বিয়ে করবেন সেদিন হবে আমার জীবনের শেষ দিন।
আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবেন একমাত্র আপনি।
সেদিন আমার কন্ঠে এমন কিছু ছিল যে সে ভয় পেয়ে যায়।
সেদিন রাতেই আমি একটা সিদ্ধান্ত নেই।
কারণ এভাবে আর কিছুদিন চললে নিজের হৃদয়ের দখল রাখতে কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।চলবে।
12 Comments

Saifun nesa Shima
Housewife
Friends
Nahar moyna
@moyna
বিপুল চন্দ্র রায়
@sreebipulchondrorayraygmail-com
এমদাদ হোসেন
@emdad123
Jebunnesa jebu (জেবুন্নেছা জেবু)
@jebunnesa-jebu
TARIN
@tarin
Latifur-rahman-Pramanik
@latifur-rahman-pramanik
Md-Nadiruzzaman
@md-nadiruzzaman
Md. Habibur Rahman
@habib
তাওহীদ সুফিয়ান
@tawhidsufian



সুন্দর