Profile Photo

আবির হাসান সায়েমOffline

  • Abir-Hassan-Sayem
  • #ধারাবাহিক
    একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০৮)
    ~ আবির হাসান সায়েম

    ফরিদ সোফায় বসে জ্যামিতি বক্স খুলে দেখছিলো। আমি বললাম,
    “ফরিদ, আমরা এখন কততম তোলায় আছি? ”
    ” জানি না তো ভাই। ”
    “তুই গুনতে পারিস?”
    “হ গুনতে পারি। ”
    “ভেরি গুড। তাহলে একটা কাজ কর। সিড়ি বেয়ে নীচে যা, দেখ কত তোলা উপরে আছি আমরা। তারপর নীচে যাওয়ার পর গুনবি পুরো বিল্ডিংটা মোট কয়তলা। তারপর উপরে উঠে আসার সময় গুনবি প্রতিটা সিড়িতে কয়টা করে থাক থাক আছে? এইটাই তোর আজকের পড়া। পারবি না? ”
    ফরিদ কিছু না বলে উঠে পরল। তার চোখে চাপা আনন্দ। প্রথমদিনের পড়া মনে হচ্ছে তার বেশ পছন্দ হয়েছে৷
    আমি ফোন নিয়ে শিলার নাম্বার ডায়াল করলাম।
    “হ্যালো শিলা। ”
    ” হ্যা, আবির। কেমন আছিস? ”
    “খুব ভালো। একটু আগে ফুটবল খেলে এলাম, শরীরটা ক্লান্ত তাই শুয়ে আছি। ”
    “ঠাট্টা করবি না আবির। সবসময় ঠাঁট্টা ভালোলাগে না। ”
    “আচ্ছা করব না। ”
    “তুই আমার চিঠি পড়েছিস? ”
    “হ্যাঁ পড়েছি। তোর চিঠিতে কিছু সমস্যা আছে। যেমন তুই প্রথম সম্বোধন করেছিস শুধু ‘আবির’ দ্বারা। তুই ‘প্রিয় আবির’ লিখিস নি তারপর…….
    আমার কথা শেষ করার আগে শিলা কঠিন গলায় বলল,
    “দেখ ফরিদ, এখন আমি ঠাঁট্টা সহ্য করার মতো অবস্থায় নেই। আরেকবার ঠাট্টা করলে আমি ফোন রেখে দিবো। এরপর শতবার কল দিলেও আমি ধরব না। ”
    ” আচ্ছা। আমি পড়েছি তোর চিঠি। তুই কি খালাকে না খালুকে বলেছিস যে, তুই আসলে ভুলে বলে ফেলেছিস?
    “না বলি নি। কাওকেই কিছু বলি নি। বললেও কোন লাভ হবে না। এতোগুলো মানুষের সামনে আমি ‘হ্যাঁ’ বলেছি।কেওই আমার কথা শুনবে না। ”
    আমি খানিক্ষন চুপ থেকে বললাম,
    “তুই নিলয়ের সাথে কালকে দেখা কর। তারপর ওকে বুঝিয়ে বল, যে তুই এখন প্রস্তুুত না। নিজের পাঁয়ে দাঁড়ানোর পর বিয়ে করবি। এতে তুই হাতে কিছুটা হলেও সময় পেয়ে যাবি। আর আমার মনে হয় না, নিলয় এতে আপত্তি জানাবে। ”
    “আচ্ছা তাহলে তাই করব। তোর কি জ্বর এসেছিলো আবার?”
    “না এখন শরীরটা বেশ ভালোই আছে। ”
    ” বাবা -মা কালকে তোকে দেখতে যাবেন। ফরিদ কোথায়, কি করে ও?”
    ” ফরিদকে হাসপাতালের সিঁড়ি গুনতে পাঠিয়েছি। ”
    “মানে? ”
    “তুই এলে বুঝিয়ে দিবো। টেনশন করিস না ও বেশ ভালো আছে। তুই করে আসবি হাসপাতালে? ”
    “জানি না। এখনো ভাবিনি। ”
    ” শিলা আমার খিঁচুড়ি খেতে ইচ্ছে করছে। আমার জন্য রেঁধে নিয়ে আসবি?”
    ” তুই জানিস না, আমি রাঁধতে পারি না? ”
    “কাল এবং পরশু দুইদিন সময় দিলাম তুই রাঁধা শিখবি। খিঁচুড়ি সাথে ডিম ভাজি আর আলু ভর্তা। আলু ভর্তায় ঝাল দিস না। এক চামচ ঘি ঢেলে দিবি উপরে। ”
    ” কেন শিখতে যাবো তোর জন্য? কেনো রাঁধব৷ আমি পারব না।”
    আমি শিলার কথা কান না দিয়ে বললাম
    “ওহ বলতে ভুলেই গিয়েছি। আরকটা জিনিস লাগবে । ”
    “কি জিনিস?”
    ” শিলা চৌধুরীকে লাগবে। ”
    “তাই না? ”
    “হ্যাঁ তাই। চলে আসিস উইথ খিঁচুড়ি। ”
    শিলা হাসতে হাসতে বলল,
    “আচ্ছা রাখি। ভালো থাক। ”
    শিলার মনে যে ভালো হয়ে গেছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। আচ্ছা মানুষের মন ভালো করে দিলে কি সোয়াব হয়? কোনো এক হুজুরকে জিজ্ঞেস করতে হবে।

    5
    3 Comments
Skip to toolbar