Profile Photo

আবির হাসান সায়েমOffline

  • Abir-Hassan-Sayem
  • #ধারাবাহিক
    একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৪)
    ~আবির হাসান সায়েম

    খাওয়া দাওয়া শেষ করে মাত্র বসেছি এর মধ্যেই একজন লোক এলেন৷ মাথাভর্তি টাক। মুখের চামড়া কুচকে গেছে। চোখে একটা পুরু চশমা। কঙ্কাসার শরীরে কোর্টটাকে বেশ স্বাস্থ্যবান মনে হচ্ছে। আমি সালাম দিলাম। তিনি সালামের উত্তর দিয়ে বললেন,
    ” আমার নাম ফজলুল কাদির৷ আমাকে ইয়াসমিন আপা পাঠিয়েছেন৷ ”
    “ওহ আচ্ছা। আসুন। ”
    লোকটা বেডের পাশে রাখা টুলে এসে বসলেন।
    “আপনাকে ইয়াসমিন আপা সব বলেছে নিশ্চই। ”
    “হ্যা বলেছেন। কিন্তু আমার কিছু প্রশ্ন ছিলো। ”
    ” জ্বি বলুন। ”
    ” আপনি কত বছর ধরে চাকুরী করছেন? ”
    “জ্বি ষোল বছর। ”
    ” আপনাকে দেখে মনে হয়, কাজের একটা বিরাট ঝড় গিয়েছে আপনার উপর দিয়ে। ”
    “জ্বি। আসলে আমার কোনো সেক্রেটারি ছিলো না। একাই তিনজনের কাজ করেছি। কাজের ধকলটা আমার উপর দিয়ে একটু বেশিই গেছে। আপনি চিন্তা করবেন না৷ আপনার আন্ডারে দু’জন সেক্রেটারি থাকবে৷ ”
    “ওহ আচ্ছা৷ বেতন কত?”
    “জ্বি বাষোট্টি হাজার টাকা৷ বেসিক পয়তাল্লিশ হাজার টাকা। পুজা এবং ঈদে বোনাস দেয়া হবে। আপনার সাইন ছাড়া কারোর বেতন হবে না। গাড়ি আর ফ্লাট দেয়া হবে। ”
    “ওহ আচ্ছা। এখন আমাকে কি করতে হবে? ”
    কিছু বলার আগেই ফজলুল সাহেবের ফোন বেজে উঠল৷ তিনি ফোন কানে নিয়ে বললেন,
    “হ্যালো আসসালামু আলাইকুম আপা৷ হ্যা হ্যা আমি এসেছি। তার সামনেই বসে আছি। না না এখনো সাইন নেই নি৷ এখনি নিবো। জ্বি কথা বলবেন?আচ্ছা। ”
    তিনি ফোনটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন,
    “আপা আপনার সাথে কথা বলবেন। ”
    আমি ফোন কানে নিয়ে বললাম,
    ” আসসালামু আলাইকুম খালা। ”
    “ওয়ালাইকুম আসসালাম। তোমার শরীরটা এখন কেমন?”
    ” জ্বি ভালো। ”
    “আচ্ছা শিলার সাথে কি তোমার ঝগড়া হয়েছে? ”
    “না ঝগড়া হয় নি তো। কেন?”
    “শিলা হাসপাতাল থেকে এসেই নিজের ঘরে দোরজা বন্ধ করে চিৎকার করে কেদেছে, তারপর শুকনো মুখে বেরিয়ে এসে বলল, এই মাসেই বিয়ে ঠিক করতে।”
    “আপনি কি করলেন?”
    “আমি নিলয়ের বাবাকে ফোন দিয়ে আমাদের বাসায় আসতে বললাম। তারা বিকেলে আসবেন। ”
    “ওহ আচ্ছা। খালা আমাকে কি হাজার বিশেক টাকা দেয়া যায়? ”
    “হ্যা অবশ্যই। ফজলুল সাহেবকে কাছে ফোনটা দাও। ”
    আমি ফোনটা ফজলুল সাহেবের দিকে এগিয়ে দিলাম। তিনি কানে ফোন চেপে শুধু জি জি বললেন। তারপর ফোন নামিয়ে রেখে তার ব্যাগ থেকে একটা টাকার বান্ডিল আর একটা কাগজ বের করলেন। কাগজটা আমার সামনে দিয়ে বললেন টার্মস এন্ড কন্ডিশনগুলো ভালো করে পড়ে এইখানে সাইন করে দিন। আমি ভালো করে পড়ে তারপর সাইন করে দিলাম। লোকটা আরেকবার দেখে টাকার বান্ডিলটা আমার হাতে দিলেন। আমি বললাম,
    ” আপনার কাছে কি সবসময় টাকা থাকে নাকি?”
    “না আজকে একটা ক্লায়েন্টের কাছ থেকে টাকাটা পেয়েছি। তাই দিতে পারলাম। ”
    “ওহ আচ্ছা। ”
    ” আজ তাহলে উঠি। ”
    ” হ্যা উঠবেন কিন্তু আরেকটা সাহায্য করলে একটু ভালো হত।”
    “কি সাহায্য বলুন। ”
    আমি টাকার বান্ডিল থেকে আট হাজার টাকা বের করে বললাম,
    “এই টাকা দিয়ে একটা ফোন আর একটা সিম কিনে এই ছেলেটার কাছে দিয়ে দিবেন প্লিজ। আসলে আপনাকে বলাটা ঠিক হচ্ছে না কিন্তু আমার ফোনটা ভেঙে গেছে। একটা ফোন খুব দরকার। আশা করি আপনি রাগ করেননি।”
    “জ্বি না। আমি কিনে দিয়ে দিচ্ছি ওর কাছে। ”
    আমি ফরিদের দিকে তাকিয়ে বললাম,
    “একটু যা থুক্কু যাও তো স্যারের সাথে। ”
    ফরিদ আর ফজলুল সাহেব বেরিয়ে গেলেন।
    রাতে আমি শিলাকে ফোন দিলাম। প্রথম চেষ্টায় ব্যার্থ হলেও দ্বিতীয়বার সফল হলাম৷
    “হ্যালো, শিলা। ”
    “ফোন দিয়েছিস কেনো?”
    “একটু কথা বলার জন্য। তোর কি রাগ এখনো কমে নি?”
    ” না কমে নি। যা বলবি তাড়াতাড়ি বল। ”
    ” শুনলাম তোর বিয়ের তারিখ ঠিক হয়েছে?”
    “হ্যা। এই মাসের সাতাশ তারিখ বিয়ে। ”
    “আজ কয় তারিখ?”
    “আজ ছয় তারিখ। ”
    “ওহ তাহলে তো বেশি সময় নেই। হঠাৎ তারিখ ঠিক হয়ে গেলো। কিভাবে কি?”
    “ভাবলাম বিয়েটা করেই ফেলি। যা কপালে আছে হবে। যে কপালে থাকে না তার জন্য স্বর্নের মাজার তৈরী করলেও তো আর লাভ নেই। ”
    ” কথা তো ঠিক৷ আচ্ছা আজকে খাবার রান্না করেছে কে?”
    “আমি রেধেছি ”
    ” সব খাবার তুই একেবারে একা রেধেছিস?কেও সাহায্য করে নি?”
    “হ্যা ডিম, খিচুড়ি রাধার সময় নাবিলা একটু সাহায্য করেছে৷ ”
    “নবিলা কে? ”
    ” নাবিলা আমার খালাতো বোন৷ চট্টগ্রামে পড়ে। ছুটিতে বেড়াতে এসেছে। আজকে তোর ওইখানে আমার সাথে গিয়েছিলো না? ”
    “হ্যা চিনতে পেরেছি। গরুর মাংস -তে নাবিলা সাহায্য করে নি?”
    ” না গরুর মাংস আমি একাই রেধেছি। ”
    ” ওহ আচ্ছা। বাসার কেও খেয়েছে গরুর মাংস?”
    ” হ্যা বাবা-মা খেয়েছেন৷ ”
    “খেয়ে প্রশংসা করেননি? ”
    “হ্যা করেছেন। আমার তো এলার্জি, নাহলে আমিও একটু খেয়ে দেখতাম। হাসছিস কেন?”
    ” হাসছি কারণ আমার খাওয়া সবচেয়ে কুখাদ্যগুলোর মধ্যে তো গরুর মাংস তিন নম্বর। ”
    শিকা থমথমে গলায় বলল,
    “এক নম্বরে কি আছে?”
    “এক নম্বেরে আছে আমার নিজের রাধা খিচুড়ি। ”
    আমি শব্দ করে হাসলাম। আমার সাথে শিলাও হাসছে। আমি ফোনটা কেটে দিলাম। একটা আনন্দময় সমাপ্তি। আনন্দের পরই কষ্ট আসে। আনন্দঘন পরিবেশেই ইতি টেনে দেয়া ভালো। কিন্তু বেশিভাগ সময়ই শেষটা আমাদের হাতে থাকে না।

    চলবে…

    6
    3 Comments
Skip to toolbar