Profile Photo

Anup DeyOffline

  • Anup-Dey
  • Profile picture of Anup Dey

    Anup Dey

    • 4 years, 11 months ago

    স্মৃতিতে হেমন্তঃ♥
    ————————

    ‘তুমি বিষন্ন; বিধুর; ধূসর— হেমন্তকাল’

    [ বাঙলার মহান বহমান প্রকৃতির যেনো ফাঁক সময়— এই হেমন্ত’ কাল!]

    হেমন্ত যেনো বহুদূর থেকে আসে।আমরা কোনো এক সন্ধ্যায় তাকে আবিষ্কার করি।
    এক অচেনা বিষন্ন মনঃকষ্ট চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে! সুদূরের ধূসরতা, বাদামী বর্ণের হৈমন্তিক লজ্জা, নিয়ম করে এক বিরহীর সাথে যেনো– দেখা করতে আসে?
    খোলা মাঠে, জংলা ঘাটে, ঘাসের আঙ্গিনায়, গাছের পাতায়, বিরহিনীর খোঁপায়—
    আমার চোখে, তোমাদের ঘুমালো মনে, হেমন্তকাল আসে সন্ধ্যার মতো চুপি চুপি…
    প্রেমিকা অথবা প্রেমিক হারা বিধুর হেমন্ত, আমার বুকে ভোরের শিশির কণা হয়ে জমতে থাকে!
    আমি নিমগ্ন জমাট দুঃখের সাক্ষী হয়ে আছি বহুকাল, এলোমেলো খড়ের গাদা বিছানো মাঠে একা উপুর বা চিৎ হয়ে শুয়ে দেখছি দূরের আসন্ন সন্ধ্যার হেমন্ত!
    মাথার উপরে প্রায় কালো হয়ে আসা নীলচে আকাশ, অনেক দূরের দিগন্তের পারে আবছা কুয়াশার রেখা ঘিরে রেখেছে শূণ্য বুকের এক প্রিয়ার মুখ! আমি সূর্যাস্তের ঘন বাদামী আলোর রঙে, সেই মুখ দেখে দেখে আমার খুব ভিতরে– আমি বিষন্ন অবসন্ন হয়ে, ভেঙ্গে পড়তে থাকি;—
    কার্তিকের মৌন দুপুরে– ভাষা বিমুখ যৌবনের আলস্যতা, পূর্ণিমা রাতের অগ্রহায়নের জোৎস্না, মধ্যরাতে মাঠের একপাশে কেটে রাখা খড়ের স্তুপে, জীবনানন্দের একটি লক্ষী পেঁচার ভেতরের আত্মচিৎকার, তারই কিছু দূরে শিশির পড়ার শীৎকারের শব্দ,
    —-হলদে রঙের কুয়াশা আচ্ছন্ন শেষ বিকেলের বিরাট মাঠে…,
    —-হেমন্তরাতে মেঘে ঘেরা একফালি চাঁদের মুখ লুকানোর খেলা,…
    হিম হয়ে জমে যাওয়া বিবর্ণ হেমন্তের পড়ন্ত বেলার আবচ্ছায়া ক্লান্ত প্রজাপতিদের ডানায় লেগে থাকতে দেখেছি কতো!
    আত্মায় ঘোর লাগা আমি তার গ্রীবা স্পর্শে ছুঁয়েছিলাম কোনো এক হেমন্ত আঁধারে,
    সে চোখ তুলে দেখেছিলো— আমাকে, নদীপাড়ের হৈমন্তিক রঙের গোধূলি মেখে।
    বহু হেমন্ত পেরিয়ে, আজ আরেক হেমন্তে– সে শাদাকালো স্মৃতির চোখে তাকিয়ে দেখে আমাকে….
    আমার বুকের অলিন্দে অচেনা ঢেউয়ের কষ্ট, শুকিয়ে যাওয়া মাঠের মতো বিদায়ী হেমন্তের ধূসর বিষন্নতা,
    আর, তেমনি ঘাঁসফুলের রঙে আমার স্বপ্নে’রা অগ্রহায়নের আকাশে রাত জাগা নক্ষত্রেরা, ভোরের আকাশে যেমন ঝাপসা হতে থাকে!….

    14
    8 Comments

অনুপ দে।

লেখালেখি: / লেখার ধরণ- প্রগতিশীলতা; আধুনিকতা।

  • লেখক জীবন আমাকে খুব টানে!
  • লেখালেখির মনটা, ব্যাক্তি জীবনে সবাই খুঁজে পাই না!
  • আমি গল্পের মানুষ, গল্প লিখে সুখ পাই।গল্পে নিজেকে তুলে ধরা যায়।
  • একটা গল্পে অনেকগুলো চরিত্র থাকে, --কথক কিন্ত একজন! সব চরিত্রই গল্প-কারের ভেতর থেকে উৎসারিত!  মজা হচ্ছে,- গল্পকার সব চরিত্রকে ছুঁয়ে দেখেন, চিনেন!

Email : [email protected]

Skip to toolbar