-
আমার গল্প
আমাকে রহিমা পিটে কলমের খোঁচা দিয়ে ফিসফিস করে বলছে, দুই নং
প্রশ্নের উত্তরটা বলনারে। না লিখলে তো ফেল করবো।
আমি ফিসফিস করে, বলি একটু দাড়া আমি চার নং প্রশ্নটা লিখে নিই। চার নং প্রশ্নটা:সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও ইংরেজ শাসন আমল। উত্তরঃ সিরাজউদ্দৌলার সাথে মিরজাফর তরবারি নিয়ে তুমুল যুদ্ধ চলছে। সিরাজ মিরজাফর এর গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করবে তখনি, ঘষেটি বেগমের চিৎকার, সিরাজ ইংরেজরা আমার সম্মান কেড়ে নিলো আমাকে বাঁচা। সিরাজ ঘাড় ঘুরাতেই, মিরজাফরের তরবারিরর আগাতে, মাথা ঘাড় হতে আলাদা হয়ে গেল। তখন সিরাজ দেখলো, ঘষেটি বেগমের মুখে মুচকি হাসি, ইংরেজরা বলছে মারহাবা মারহাবা। ততোক্ষণ, সিরাজের কাটা মাথাটা মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে, আর ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে।
আমি ভয়ে আমমোড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করলাম কিন্তু পারলাম না। আমার শরীর এমন নিজতেজ কেন, শরীরের অনেক জায়গায় জ্বালা-যন্ত্রনা করছে। কনুই ভর দিয়ে উঠতে গেলাম, বুঝলাম আমার দু হাত পিছন দিকে শক্তকরে বাঁধা। আমি চিৎকার করে মাকে ডাকতে গেলাম, আমি পারলাম না। খেয়াল করলাম, মুখে কাপুড় গুজে দেওয়া, আমার শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে তাই কষ্ট হচ্ছে। আমি পা ছোড়ার চেষ্টা করলাম, পারলাম না। তখন আবিষ্কার করলাম, আমার পা দুটি দু জায়গায় বাঁধা। আমার ডান কাঁধে খুব জ্বালা করছে, ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি ‘ছোট ভাঙ্গা গাছের গোড়া কাঁধ ভেদ করে উপরে উঠে এসেছে, আসার সময় কাঁধের হাড় স্পর্শ করে এসেছে, তাই এত জ্বালা করছে’। কাঁধের জ্বালার কাছে, অন্যান্য স্থানের জ্বালা কিছুই মনে হচ্ছে না। আমি কষ্ট করে যন্ত্রনা গুলো ভোলার চেষ্টা করলাম, তখন খেয়াল করে ঠোঁট ও মুখের অনেক স্থানে কামড়ানোর দাগ। আমি তখন সারা শরীর দিকে খেয়াল করলাম, আমার শরীরের সামান্যা কিছু কাপুড় আছে তাও ছেড়া, যা আমার শরীরের গোপন অঙ্গ ঢেকে রাখতে ব্যর্থ। আমি চেষ্টা করেও শরীর কাত করতে পারছি না। আমার চোখে সূর্যে তাপ এসে পড়েছে। আমার একচোখ বন্ধ, অন্য চোখ খোলা আমি বন্ধ করার চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না। আমার শরীরের গোপন অঙ্গ টাতে জ্বালা পোড়া করছে। কেন এত জ্বালা-পোড়া করছে। ওখানে রোগ হয়েছিল, কিন্তু গাইনি ডাক্তার ফারজানার ঔষধ নেওয়ার পর, তাতো ঠিক হয়ে গিয়েছিল।
তখন দেখি একজন মধ্যবয়স্ক লোক আমাকে এভাবে দেখতে পেলো। প্রথমে আমাকে দেখে চিৎকার করে উঠলো। পরে দেখলাম, সে চারিদিক দেখছে, ভেবেছিলাম লোকটা আমাকে বাঁচাবে। কিন্তু তা হলো না, লোকটা আমার শরীরের উপর ঝাপিয়ে পড়লো। বুকে হাত দিলো, শরীরের অনেক জায়গায় হাত দিলো শেষ-মেস তার গোপন অঙ্গে তার গোপন অঙ্গ ডুকিয়ে মজা নিলো। আর আমাকে দিলো যন্ত্রনা ‘ আমি চিৎকার করতেও পারলাম না।
”নারীর শরীরের প্রতি পুরুষের এত আকর্ষন।”
লোকটা সুখ নিয়ে, দাড়িয়ে পড়লো। নিজেকে স্বাভাবিক করে নিল, দ্রুত। এবং চিৎকার করলো, পাট ক্ষেতে মনিরার লাশ পড়ে আছে। আশপাশ হতে সবাই দেখতে আসতে লাগলো, আর চলে যেতে লাগলো। শরীরটা কেউ ঢেকে দিলো না। হঠাৎ করে চেনা কন্ঠের কান্নার আওয়াজ ভেসে আসতে লাগলো’ মনিরা বোন আমার কোথায় তুই, দাড়া আমি আসতেছি।’ এসে ভাই আমার দেখে আরো জোরে কান্না করতে লাগলো, আমার বুকে জড়িয়ে ধরলো। এরপর চোখ মুছে, নিজের গায়ের জামা খুলে, আমাকে ঢেকে দিলো। ভাই আমার হাত-পায়ের বাঁধন খুলে দিতে গেল। সবাই ভাইকে জড়িয়ে ধরে নিয়ে গেল, বললো’ পুলিশের তদন্তের জন্য লাশকে ছোয়া যাবে না। যদি বিচার চাও।
আজ সকালে না তোর, শেষ পরীক্ষা দিন, তোর সাথে কিভাবে এগুলো হল। আজ তো তোর সমাজ পরীক্ষা, ওঠ বোন পরীক্ষা দিতে যাবি না। কাল তোকে নিয়ে ঘুরতে যাবো। বোন ওঠ, এভাবে ফাকি দিয়ে চলে যাস নে। এভাবে আমার ভাই আর্তনাদ করতে থাকলো।
‘ ভাবি একটা চাদর এনে আমার শরীর ভাল করে ঢেকে দিলো। আমার তখন নিজেকে ভাল লাগলো। সবাই যে বাজে দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল, তা থেকে তো রক্ষা পেলাম। মনে হল, ভাবি আমার সন্মান বাঁচালো। মা, বাবা, ভাই, বোন ও আশেপাশের মানুষের কান্না ও বিভিন্ন কথা শুনে কানে জ্বালা ধরে লাগলো।
আমার ছোট চাচা গেছে পুলিশে খবর দিতে, চোট চাচী বললো।—— ———– চলতে থাকবে বাই।3 Comments
Friends
Jagadish Biswas
@jagadish-biswas
Zahidul Islam Roni
@roni03
সাকিব-উন-নবী দীপ্ত (নির্বাক)
@sakib-un-nabi-dipto
Halima-Moly
@halima-moly
Kazi Zuberi Mostak
@kazi-zuberi-mostak
Humayun Kabir Surjo
@humayunkabir-surjo
Muhammad-Jahidul-Islam-Hawlader
@muhammad-jahidul-islam-hawlader
Neel tripura
@neel
MH Akash
@mhakash


দারুণ লাগছে গল্পটি। তবে লেখকের কাছে অনুরোধ রইল কিছু বানান সংশোধন করে নেবেন। শুভেচ্ছা নেবেন। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।