Profile Photo

Mohammad Al-MamunOffline

  • Mohammad-Al-Mamun-Titu
  • Profile picture of Mohammad Al-Mamun

    Mohammad Al-Mamun

    4 years, 7 months ago

    কথা ও কলমে :মুহাম্মাদ আল-মামুন
    কবিতা :

    পথ ও পথিকের কথন
    —————————–
    ক্লান্ত পথিক পথের পাশে ছায়া নিবিড় বৃক্ষতলে গা এলিয়ে বসে,
    নিজেকে বড্ড নিঃসঙ্গ লাগছিলো পথিকের,
    ঠিক এমন সময়ে পথ বলে উঠলো –

    পথ : আজ খুব গরম তাই না পথিক!
    পথিক : মাথা নেড়ে বলে- হ্যাঁ প্রচন্ড গরম,শরীর থেকে
    অনবরত ঘাম ঝরছে।আজ বড্ড ক্লান্ত লাগছে।
    পথ : আমারও একই অবস্থা,দেখ দেখ পিচ্গুলো
    গরমে কেমন গলে যাচ্ছে!! বুকটা জ্বলসে
    যাচ্ছে ।
    পথিক : হেসে বলে -তোমার আবার শরীর আছে নাকি
    যে ঘামবে!! তাও আবার বুক জ্বলসে যাচ্ছে।
    পথ : কেন থাকবে না? তোমার যেমন আছে
    আমারও আছে ,যাক ওসব কথা, কি মনে
    করে এ পথে এলে ?
    পথিক : ( দীর্ঘশ্বাস ফেলে) এ পথেই হারিয়েছি সব,
    তাই মাঝে মাঝে খুঁজতে বের হই।
    পথ : হারিয়ে গেলে থানায় যাবে! এখানে কেন?
    সত্যি করে বলতো,তোমার কি হারিয়েছে?
    তোমার চোখ -মুখ তো অন্যকথা বলছে।
    পথিক : ভালোবাসা বুঝলে! বুকের ভেতরটা ক্ষত করে
    দিয়ে চলে গেছে ।
    পথ : যেমনটা ভেবে ছিলাম! তোমার প্রেমিকা বুঝি
    খুব খারাপ ছিলো!! যে চলে যাবার তাকে চলে
    যেতে দাও, তোমার হলে ঠিকই ফিরে আসবে।
    পথিক : না! না ! তা হবে কেন? আমিই তাকে ধরে
    রাখত পারিনি। নাটাই এর সুতোটা আমিই
    ছিড়ে দিয়েছি।
    পথ : (দীর্ঘশ্বাস ফেলে) ,আমার বুকেও ক্ষত হয় ঐ
    যে তাকিয়ে দেখ পথের মাঝখানটায়! দুই
    নম্বর উপকরণ দিয়ে বানানো, তাই
    প্রতিনিয়তই বুক ক্ষত হচ্ছে। আমার ক্ষত তো
    তাও সারে! কিন্ত তোমার এ ক্ষত কেমনে
    সারবে আমার জানা নেই? যাই হোক, ধরে
    রাখতে পারলে না কেন!!
    পথিক : তোমারও বুক আছে!! আবার ক্ষতও হয়,কি
    বল! এ পৃথিবীতে গরীব হয়ে জন্ম গ্রহণ করাটা
    বড় অপরাধ। এদের ইচ্ছের কোন মূল্য নেই এ
    সমাজে বুঝলে!! ভালোবাসা এখানে অপরাধ।
    পথ : ঠিক বলেছ! আমারও একই দশা,পথ বলে
    সবাই হেলা করে। এই দেখ -কেউ আইন মেনে
    চলতে রাজী না,ওদিকটায় তাকিয় দেখ,লেখা
    আছে সর্বোচ্চ গতি ৪০ কি. মি. ট্রাফিক না
    থাকলে একশ মাইল বেগে চালিয়ে যাচ্ছে,আর
    ওপাশটায় দেখ লেখা ভারী যানবাহ চলাচল
    নিষেধ, কিন্তু তা কি হচ্ছে! গায়ে সমগ্র
    বাংলাদেশ পাঁচ টন লেখা থাকলে কি হবে?
    আমার উপর দিয়ে যখন যায় তখন বুঝি কত
    টন যাচ্ছে। জন্ম যার শুধু পৃষ্ট হতে!!
    ও হে! ধরে রাখতে পারলে না কেন ? বললে
    না যে।
    পথিক : বেকার ছেলে বলে,তার উপর গরীব ঘরের
    সন্তান!!মেয়ের বাবা-মা বড়লোক ছেলের
    সাথে বিয়ে দিয়ে দিয়েছে!!
    পথ : কি বলছো এসব! গরীবরা কি মানুষ না?
    ভালোবাসার কি কোন মূল্য নেই?গরীব
    ছেলেদের ভালোবাসতে নেই বুঝি !!
    ,কত প্রেমিকাকে দেখেছি ভালোবাসার জন্য
    জীবন দিতে এই পথে। তোমার টা সেরকম কিছু
    করেনিতো ।
    পথিক : না! না ! কি সব অলক্ষণে কথা বলছো!
    আমি চাই ওঁ ভালো থাকুক,আমি সারা জীবন
    ওর জন্য অপেক্ষা করবো। কেন সে জীবন
    দিতে যাবে ওসব পাগলামি।
    পথ : আরে বলি কি! তুমিও একটা ভালো
    মেয়ে দেখে বিয়ে করে সংসার করো। কত দিন
    এ ভাবে চলবে। তুমি যেটা করছো সেটা
    পাগলামো নয় কি!!
    পথিক : তা হয় না কখনো ,আমি যে ওকে মনে প্রাণে
    ভালোবাসি,অন্যকে সেই জায়গায় বসাতে
    পারবো না। তা হয় না! তা হয় না!!
    পথ : এভাবে সারাজীবন কেঁদে কেঁদেই কাটাবে,
    কখনো কখনো নিয়ম ভাঙতে হয়।আজকাল
    নীতি-আদর্শের কোন মূল্য আছে ! নিয়ম মেনে
    যদি জগতটা চলতো তাহলে আমার
    বুকের উপর দিয়ে এত রক্ত বয়ে যেত না,
    সন্তান হারা বাবা-মার এত চিৎকার শোনতে
    হতো না।
    পথিক: আমি তা কখনোই করতে পারবো না।
    নিয়ম-অনিয়ম কিছু বুঝি না।
    পথ : এ যুগের ছেলে হয়েও তুমি দেবদাস,
    যে তোমায় ছেড়ে চলে গেল তার জন্য নিজের
    জীবনটা নষ্ট করছো।
    পথিক : হয়তো কপালে তাই লেখা আছে? এটা কি
    করে বদলাই বলো।
    পথ : তোমাকে দেখে আমার খুব কষ্ট হয়, এ গাছ
    তলায় কত প্রেমিক-প্রেমিকাকে দেখি হাত
    দরাদরি করে হাসতে হাসতে দুজনে বাদাম
    খাচ্ছে। আর তুমি কেঁদেই চলছে। নিজেকে
    শক্ত কর, নতুন করে জীবন শুরু করো।গরীব
    হয়ে জন্মেছো এত সহজে পরাজয় মানলে
    চলবে না।
    পথিক: ওঁর হাত ধরে শপথ করে ছিলাম,ওঁকে ছাড়া
    অন্য কাউকে এ বুকে ঠাঁই দিবো না। আমি
    আমার শপথ ভাঙতে পারবো না।
    পথ : যে শপথের মূল্য বুঝে না তুমি তার কথা বলছো
    কে শপথ ভাঙে না, আমার দিকে তাকিয়ে দেখ,
    যেখানে পাথর দেয়ার কথা সেখানে দিয়েছে
    ইট, সিমেন্ট, বালু, পিচ সব কিছুতেই ভেজাল
    কাজ নেয়ার সময় তারাও শপথ করেছিল,
    কোথায় গেল সেই শপথ, এখন আমার বুকে
    শুধু ক্ষত আর ক্ষত।
    পথিক: আমি তাদের মত নোই,জগত সংসারে তারা
    ভোগ করতে এসেছে,অন্যকে সুখ দিতে নয়।
    পথ : অন্যের সুখের জন্য এভাবে নিজের জীবনকে
    নষ্ট করে দিবে।
    পথিক : কে বললো! সে আমার অন্য কেউ, সে
    আমার পরম ধন, জনম জনের বন্ধন।
    পথ : তা বুঝলাম, তুমি একটা সাচ্চা প্রেমিক অথচ
    তোমাকে ছেড়ে চলে গেল।এ গাছতলায় কত
    প্রেমিক আসে যায় তোমার মত কাউকে দেখি
    নি।
    পথিক: তুমি হয়তো আমাকে যেভাবে দেখছো ওদেরকে
    সে ভাবে দেখনি? সত্যিকারের প্রেমিকরা
    এমনই হয়। এরা বিলিয়ে সুখ পায়।
    পথ : হয়তো তোমার কথাই ঠিক, মাঝে মাঝে
    আমারও রাগ হয় । মনে হয় যদি প্যারিস এর
    কোন পথ হতে পারতাম শুনেছি ওখানকার
    পথের দিকে তাকিয়ে মাথার চুল আচড়ানো
    যায়,কত যত্ন নেয় ওরা !!কিন্তু সে সব কি আর
    কপালে আছে।
    ওরে বাপরে কষ্টে মধ্যে আবার লড়ি এসে
    পড়লো। চাকাটা মনে হয় এক্কেবারে বুকে
    আটকে গেছে, কত ওজনর রে বাপ? তোমার
    সাথে কথা বলে ভালো লাগলো,আজ অবশ্য
    ছুটির দিন পথে খুব একটা চাপ নেই। তবে
    লড়িগুলো বড্ড বিরক্ত করে। আমি যাই
    সাবধানে থেকো। বিদায়!!!
    পথিক: তুমিও ভালো থেকো। উদাস নয়নে পথিক
    পথের পানে চেয়ে থাকে। আর মনে মনে বলে-
    হায়রে ভালবাসা তোর হয়েছে ছুটি!!!আমার
    হৃদয়ে ফুটেছে যে ফুল মরনেও হবে না সে
    মলিন। সে যেনো বনলতা হয়ে পেঁচিয়ে রেখেছে
    মনেরও মঞ্জিল।

    14
    12 Comments
Skip to toolbar