Profile Photo

ঠিকানাহীন অরণ্যOffline

  • Vobertale.aranna
  • গন্তব্যহীন মনুষত্বে পিশাচের রাজত্ব।

    রক্ত-অশ্রু, হাহাকার আর কোলাহল চুতর্দিক
    পৃথিবীর বয়স এলো ফুরিয়ে নরপশু নির্ভীক
    বোকা বলে তাই, খাবি খেয়ে যাই, প্রতারক সংসারে
    কপট হাসিতে প্রগতির গতিতে রংধনু বিহারে।

    শান্তির অভিনয়ে রক্তপান তবু সাদা পতাকা দেখায় হাতে
    সকালের মানুষ ভোল পাল্টে পিশাচ হয়ে যায় রাতে
    স্বাধীনতার বড়শীতে আটকা পড়া নারী দেহ করে পান
    লাশের গায়ে কয়লা দিয়ে লিখে দিয়ে যায় ’শয়তান’

    আমি সেই রাস্তা এড়িয়ে চলতে গিয়ে দেখি
    মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতর স্বাধীনতার ডানাহারা পাখি
    অবিশ্বাস দেখি বিশ্বাস হয়ে প্রেম করে আর
    পরকীয়ার বাজারে অর্থ উড়ে বিলাসী কারবার

    কারো অভাবে, কারো স্বভাবে, প্রভূত্বের অহংকার
    অসহায় যুবক বেঘোরে মরে-জনতা নির্বিকার
    পেটের ক্ষুধা খুঁজে পেতে চায় দাসত্বে আশ্রয়
    দেহের ক্ষুধার কাছে আত্না- বিশ্বাসের পরাজয়

    প্রস্থান করি সেথা হতে দাগ বুঝি লাগে গায়
    প্রেমের আবেগ দেহের উত্তাপ জল হয়ে বয়ে যায়
    রক্তচোষা কালো টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হারামজাদা
    কিনে নিয়ে আসে রুপসী পুতুল-সমাজের শাহজাদা।

    স্বস্তা উপদেশ দিয়ে লোকে পায় যে কত মজা
    ডাকুর শান্তির ছায়ার তলে ছিঁচকে চোর খোঁজা
    এক লাথি দিয়ে মোঁচ বুলিয়ে বাহাদুর সেজে যাও?
    দিওনা উপদেশ! পারলে বরং কাছাটুকুও কেড়ে নাও!

    করবেই জানি সম্ভ্রমহানি আর কেড়ে নেবে অধিকার
    প্রতিটি বাড়ির সুপ্ত কাম়্ড়ায় অনাচার অবিচার
    লোক দেখানো ভদ্রতা আর বলো চলবে কতকাল?
    রাতের পতিতা স্বতীত্ব রক্ষায় দিনে করে হরতাল।

    চাকুরী না পাওয়া বেকারটি আজ ভাঙ্গা থালি হাতে
    ’অর্থ চাইনা! দু বছরের অভিজ্ঞতা দাও পাতে’
    চার দেয়ালে সারাজীবন স্যালারী ছ’সাত হাজার
    প্যনসনহীন চাকুরী শেষে পাওনা মরনব্যধী সুগার

    অর্থহীন অথর্ব দেহ- প্রেম থাকে আর কত!
    বধুকে কেবল রাতেই দেখা- বারবণিতার মত
    চিকিৎসায় জমি চলে যায়, সংসারও ভাঙ্গে আজ
    আত্নার মিলন হতে দিলোনা আধুনিক দাসত্বের কাজ।

    অমন সফল চাইনি হতে তাই গেলাম দুরে সরে
    কালকের ব্যংকার আজকে বইয়ে ব্যঙের গল্প পড়ে
    ময়লা পেটে ভুঁড়ি মোটা বাবুর হুংকারে ভরা হাঁক
    চাষির বেটিকে চাকুরী দিবে তাই দেখছে প্রতিটি ফাঁক

    উচিৎ কথা বলতে গিয়ে চিৎপটাং পড়ে রয়
    সত্যবাদী লোকটা আজকাল একই সুরে কথা কয়
    ধম্মো মানিনা বুলি দিয়ে যারা নিরপেক্ষতার গীত গায়
    চাঁদ তারাকে বিদ্ধ করে মাতে সিঁদুর বন্দনায়

    তুষ্ট করে যে ডলারের ফাঁকে মুখটি রাখো গুঁজে
    তোমার চাহিদা শেষ হলে নেবে অন্য রমনী খোঁজে
    উপাসনালয়ে ধম্মো ব্যপারীদের আঁতাত চোরদের
    দুজনে মিলে ভাগ করে খায় সম্পদ অসহায় গরীবের

    হঠাৎ ফসকে বলে দিলাম জোরে ভন্ড মোল্লা তুমি
    সকলেই নাকি সত্যের বাহক স্বাক্ষী খোদ অন্তর্জামী
    ব্যবসায় আঘাত পড়তেই হয়ে গেলাম খোদাদ্রোহী আমি
    মোল্লার সাথে নেতা চিল্লায় এখনও কেন মরিনি।

    সব ধম্মেই মোল্লা দেখি ইশ্বরের বাহানায়
    সারাজীবন নিজেদেরই আঁখের গুছিয়ে যায়
    সৃষ্টিকর্তার অমোঘ বানী মানবতার তরে
    তবু কেন অসহায়ই দোষী হয় দরবারে?

    মরতে চাইনা তাই ছুটে যাই ঘন এক জঙ্গলে
    সুশীল পশুরা থাকতে দিলোনা পরিচয় ’মানুষ’ বলে
    সুন্দর জঙ্গলে শান্তির নীড় পশুপাখিদের মেলা
    কোত্থাও ধর্ষন রাহাজানী নেই, নেই বিশ্বাস নিয়ে খেলা।

    নিরাশ হয়ে বন্ধুর দ্বারে উপস্থিত অবশেষে
    বাড়ীর লক্ষী হেলেন হয়ে বন্ধুর সাথে আয়েশে
    অসহায় তাকে কাছে টেনে নিয়ে আশ্রয় দিয়েছিলাম
    বন্ধুত্ব, প্রেম, বিশ্বাসের তাই শ্রাদ্ধ দেখে গেলাম।

    রাতের ভূত নাকি দেবদূত কি দেখছি সব-ধূর!
    বললো আমায়, ওহে শয়তান! আশা কর তুমি হুর?
    লজ্জা পেয়ে জলের তলে চেপে ধরে রাখি কান
    নেই শরগোল, নেই অশান্তি- বাঁচলো বুঝি সম্মান।

    বাঁচার তাগিদে দোকান খুলেছি একদম খাঁটি মানবতার
    শান্তির ব্যনারে ডাকুদের মেলা আর খদ্দের চাটুকার,
    টাকা নাও গুঁজে সময় নেই এবার তবে আসি
    তোমার স্বামীর চাইতেও আমি তোমাকেই ভালবাসি।

    [সত্য ও বাস্তবতাকে তুলে ধরাই সাহিত্য। সাহিত্য তার নিজ গতিতে চলে। ভাবার্থ না বুঝলে লিংকে দেয়া পেইজে ইনবক্স করলে কবি জবাব দিবে]

    9
    4 Comments
    • ধন্যবাদ কবি, কঠিন বাস্তবতাগুলোকে সাহিত্য রসে ভিজিয়ে মধুময় করে তোলার জন্য।
      “মরতে চাইনা তাই ছুটে যাই ঘন এক জঙ্গলে
      সুশীল পশুরা থাকতে দিলোনা পরিচয় ’মানুষ’ বলে
      সুন্দর জঙ্গলে শান্তির নীড় পশুপাখিদের মেলা
      কোত্থাও ধর্ষন রাহাজানী নেই, নেই বিশ্বাস নিয়ে খেলা।” লাইনগুলো হৃদয় বিদ্ধ করল। শুভেচ্ছা নেবেন।

    • অভিনন্দন

ঠিকানাহীন অরণ্য -

লেখক

আমি স্বত্মা সম্বলিত আত্মাবাহক মানুষ

কষ্ট চাষ করে শব্দ ভেদ করে সাহিত্য রস বের করা আমার কাজ

প্রেম আমার ধর্ম,  ন্যায়বিচারের কথা আমার যুদ্ধ

আমি চোখের ভেতর সাগর চষি উম্মাদ উম্মত্য হয়ে

জাগতিকতার যান্ত্রিকতা কি করবে আমায় নিয়ে?

আমি ভবঘুরে, আনমনে, বণ্য এক অরণ্য---

Skip to toolbar