-
★কাঠের সাঁকো★
–পি কে সরকার
৩০ শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,
:
শ্রাবণের মেঘলা আকাশ ছিলো শনিবার দিনটি। আমরা তিন জনে এলোমেলো, উদ্দেশ্যহীন ঘুরাঘুরি করছিলাম। আমি, মামা গৌতম দত্ত আর আনিসুর মামা।
মামা বন্ধু গৌতম দত্ত, সহযোগী অধ্যাপক, রাবি, কোভিড-১৯ এর কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ, তাই বাড়িতে আর আমাদের দু’জনের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি পাঠ দান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বোঝতে পারছিলাম না কি করি; তাই এই এলোমেলো ঘুরাঘুরি।
:
ঘুরতে ঘুরতে…..
বিরামপুর থেকে নবাবগঞ্জ যাওয়ার পথে চলে আসি। সীতাকোট বিহারের পাশে গুচ্ছ গ্রামের প্রবেশ দ্বারে একটি চায়ের দোকানে পৌঁছাই। প্রধান সড়কের পাশে, চায়ের দোকানটি একজন বয়স্ক মহিলা চালান। চা চক্র শেষে….
এবার গন্তব্য ঠিক করি।
:
পরবর্তী গন্তব্য শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কাঠের সেতু। আমাদের বাইক আবার চলতে শুরু করে, শকুনখোলা এসে পড়ি।
:
প্রধান সড়ক থেকে পিচঢালা একটি সরুপথ উত্তর দিকে গেছে। এই পথে চলতে হবে। লোকালয় ছেড়ে পিচঢালা পথ শেষে শুরু হয় ইট দিয়ে বাঁধানো রাস্তা। এই রাস্তা নিয়ে যাবে বিলের পাড়ে।
শালবনের ভিতরে প্রবেশ করি। দু’পাশে শাল গাছ গুলো পিছনে ফেলে আমরা এগিয়ে চলেছি।
এই বনের অধিকাংশ বৃক্ষই শাল। বনের সর্বত্র বিচরণ সহজ সাধ্য নয়। প্রচুর পরিমানে বেতের গাছ রয়েছে। বেত কাটাযুক্ত উদ্ভিদ। এছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির গুল্ম, বিরুৎ রয়েছে। বিভিন্ন প্রজাতির পাখি রয়েছে আর বন্য প্রাণী তেমন একটা দেখা মেলে না শেয়াল, বেজি, মেঠো আর গেছো ইঁদুর, বিভিন্ন প্রজাতির সর্প ছাড়া।
:
বিলের পাড়ে এসে গেলাম,
এই বিলের নাম আশুরার বিল। কথিত আছে, বিলের চারিদিকে আশিটি নালি ছড়িয়ে ছিটে আছে। তাই বিলের এই নামকরণ। পাড়ে বেশ কিছু অস্থায়ী দোকান গড়ে ওঠেছে। যা এই প্রান্তিক মানুষগুলোর জীবিকা নির্বাহক হিসেবে কাজ করছে। এ পাড়ে টয়লেটের সু্ব্যবস্থা আছে, বসার ব্যবস্থাও আছে।
:
কোনো গাড়ী আর ভিতরে প্রবেশ করবে না। এখানে গাড়ী রেখে হেঁটে অথবা ভিতরে ভ্যান গাড়ীতে কাঠের সাঁকো যেতে হবে।
আমরা হেঁটেই চলতে শুরু করলাম। বিলের পাড় আর বনের ধার দিয়ে। মাঝে মাঝে স্থির চিত্র ধারণ করছি। এই পথটিও ইট দিয়ে বাঁধানো।
:
অবশেষে পৌঁছে গেলাম কাঙ্খিত কাঠের সাঁকোর কাছে। সুন্দর সৃষ্টি, কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। এখানে প্রতিদিন অনেক লোকের সমাগম হয়। সাঁকোটি সর্পিলাকার। এই কাঠের সাঁকোটি বিলের দু’পাড়কে এক করেছে। বিলটি দেশীয় মাছের অভয়াশ্রয়। দেশীয় মাছ আর ধান এই জনপদের মানুষগুলোর জীবিকা নির্বাহের প্রধান উপাদান। এই বিলের মাছে জিবে লেগে থাকার মত স্বাদ রয়েছে। আমি খেয়ে ছিলাম।
:
বিলের জলে বিভিন্ন প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ রয়েছে। শাপলা, পদ্মফুল, কচুরিপানা উল্লেখযোগ্য।
:
লোকজন এপাড় থেকে ওপাড়। আর ওপাড় থেকে এপাড় আনন্দে যাওয়া আসা করছে। বিলে ছোটো ছোটো ডিঙ্গি নৌকা ভাসছে কাছে দূরে। মাছ শিকারের কাজে ব্যবহার হচ্ছে এ সব নৌকা। শকুনখোলা, হরিপুর, বাঁশেরটেক জনপদ গুলো বিলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছে। দৃষ্টি নন্দন প্রাকৃতিক লীলাভূমি। পরান জুড়ানো নির্মল হাওয়া। ওপাড়েও স্থায়ী দোকান আছে, বসার জায়গা আছে।
:
একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত গ্রহন আর বাস্তবায়নের কারনে পর্যটনকেন্দ্র হয়ে ওঠেছে এই আশুরার বিল এবং শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান। সরকার মহোদয়ের সুদৃষ্টিতে আরও সুন্দর হয়ে ওঠুক এ অঞ্চল, প্রত্যাশা রইলো।আশা করছি অবকাঠামোগত উন্নয়ন চলমান থাকবে। একটু সময়ে করে, ঘুরে এসো বন্ধু কাঠের সাঁকো।6 Comments
পি কে সরকার
“পি.কে. সরকার — শব্দের ভেতর মানবতা ও সমাজের গভীরতম সত্য খুঁজে চলা এক সমকালীন বাংলা লেখক।”
Friends
মোঃ মাহফুজুর রহমান
@nnxnsnmfkfkkgmail-com
মো: নাজমুল আখতার
@faith
Khondkar Mostaque Ahmed
@mostaque
Kazi Fahim hossin
@fahim6542
শাহ্ আলম আল মুজাহিদ
@shahalam
নাদিম হোসাইন
@nadim-hossain
Latifur-rahman-Pramanik
@latifur-rahman-pramanik
afrida-jahar
@afrida-jahar
আমীর হামজা (লাম)
@amit


চমৎকার বর্ননা। অনেক খুঁটিনাটি তুলে ধরেছেন। বেশ ভালো লাগল লেখক।