Profile Photo

আফরিন ইনায়াত কায়াOffline

  • inayatkaya55
  • আমার সামনে চেয়ারে বসে আছে ফায়াজ।একদম উলঙ্গ হাত পা বাধা অবস্থায়।ওর হাত দুটো সাটা আছে চেয়ারের হাতলের সাথে। আর পা দুটো মাটিতে আটকানো।উহ দড়ি দিয়ে নয়। হাত দুটো কাটা দিয়ে গাথা আছে চেয়ারের হাতলের সাথে।আর পায়ের পাতা সুপার গ্লু দিয়ে ফ্লোরের সাথে আটকানো।ঠোট দুটো আমি শক্ত ফাইবারের সুতা দিয়ে সেলাই করে দিয়েছি।ফায়াজ চোখ বড় বড় করে আমার হাতের ব্লেডটার দিকে তাকিয়ে আছে। লাইটের আলোতে ব্লেডটা চকচক করছে।আর ফায়াজের চোখদুটো চকচক করছে ভয়ে।ফায়াজ কিছু বুঝে উঠার আগেই ওর বুক বরাবর একটা টান দিলাম।শক্ত পুরুষালি বুক একখানা।এই বুকে শুয়ে কত রাত শান্তির ঘুম ঘুমিয়েছি তার হিসেব নেই।দুই হাতে আরও দুইটা পোচ দিলাম।চামড়া ফেটে।টুপ টুপ করে রক্ত ঝরা শুরু হল।ফায়াক ভিতরে ভিতরে গগন বিদারী চিৎকার দিচ্ছে।কিন্তু এক ফোটা শব্ধ মুখ দিয়ে বের হচ্ছে না। শুধু হাল্কা গোঙ্গানির মত শুনা যাচ্ছে।নড়চড়া করার উপায়ও বেচারার জন্যে বন্ধ।ধকল সামলাতে না পেরে বেচারা জ্ঞান হারালো।
    আমি আবার ওর সামনের চেয়ারটাতে গিয়ে বসলাম।ভালবেসে বিয়ে করেছিলাম ফায়াজকে।টানা দুই বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর টোনা টুনির ছোট্ট সংসার পেতেছিলাম।কিন্তু আমি কখনো ভাবিনি প্রমোশন পাবার লোভে অফিসের বসের সুন্দরী বউএর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হবে।
    বেশ খানিকটা সময় কেটে গেছে ফায়াজ জ্ঞান হারিয়েছে।না এতক্ষন সময় দেওয়া যাবে না। হাত্র আরও কাজ আছে তো।
    একদলা মরিচের গুড়া ছিটিয়ে দিলাম ওর বুকের মধ্যে। যে বুককে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তির যায়গা ভাবতাম সেই বুকেই আজ আমি অসহ্য যন্ত্রনা বাধিয়ে দিয়েছি।প্রচন্ড কষ্টে চোখ খুলে আমার দিকে তাকাল ফায়াজ।ওর দিকে খানিকটা ঝুকে বললাম
    -তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে তাই না ফায়াজ।কি করব বল তুমি তো জানোই আমি নিজের জিনিস কারো সাথে শেয়ার করি না।আর কেউ যদি আমার জিনিস ব্যবহার করে তাহলে সেটাকে আমি নষ্ট করে দেই।
    ফায়াজের দিকে তাকিয়ে দেখি ওর চোখে মুখে আশঙ্কা স্পষ্ট।দুই চোখে পানি টলমল করছে।ওর গালে হাত দিতে যাব চট করে মনে পড়ল ওর অবহেলার কথা।ভুল করে বসের ওয়াইফের গায়ে ড্রিংক পরে গিয়েছিল বলে ভরা পার্টিতে সে আমাকে থাপ্পড় মেরেছিল।চোখ দুটোতে আবার রাগের আগুন দপ করে জ্বলে উঠল।হাতে থাকা চাকুটা দিয়ে গলা থেকে নাভি পর্যন্ত চিড়ে দিলাম।তারপর চিমটা দিয়ে চামড়াটা ছিড়ে দুই পাশে সুই দিয়ে গেথে দিলাম।বৃষ্টির মত রক্ত ঝড়ে পরছে।ফায়াজ আপ্রান চেস্টা করছে নিজেকে ছুটানোর কিন্তু পারছে না।
    -কষ্ট হচ্ছে না বেবি?এই তো আর কষ্ট দিব না।
    ফায়াজের প্যান্টের পকেট থেকে ফোনটা বের করে হানি নামে সেভ করা নাম্বারটাতে ম্যাসেজ দিলাম
    -আমার ওয়াইফ আজকে বাপের বাড়ি গেছে হানি।তুমি তাড়াতাড়ি চলে আস।Waiting for u.
    ফোনটা পাশে রেখে ওর দিকে তাকিয়ে একটা ভুবল ভুলানো হাসি দিলাম।বা হাতে থাকা চিমটাটা সজোড়ে ঢুকিয়ে দিলাম ওর চোখে। চাকুটা চালিয়ে দিলাম গলা বরাবর।ব্যাস টুপটুপ করে রক্তের বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল।ফোনটা হাতে নিয়ে আরেকটা নাম্বার এ কল দিলাম।দুই পা ওর রক্তে ডুবিয়ে হেচরিয়ে হেচরিয়ে ওয়াশরুমে গেলাম।
    .
    .
    .
    .
    কক্সবাজার সি বীচে বসে আছি।সাগরের মাতাল হাওয়ায় চুল গুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।আমি বারবার সেগুলোকে ঠিক করছি।হাতের পাশে পরে থাকা নিউজ পেপারটা হাতে নিলাম।ফ্রন্ট পেজে বড় বড় করে লিখা পরকীয়া প্রেমের কথা ফাস হয়ে যাওয়ায় স্বামী স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন স্বামীর বসের স্ত্রী।পুলিশ জানিয়েছেন বনানীতে বাসকারী আহমেদ ফায়াজের স্ত্রী ঘটনার দিন রাতে ফোন করে জানান উনাকে কেউ মেরে ফেলার চেস্টা করছেন।পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছালে সেখানে উনার বসের স্ত্রীকে হাতে নাতে ধরা পান।উনি ফায়াজ সাহেবের সাথে কাটানো তার কিছু অন্তরঙ মুহুর্তের ছবি নিয়ে পালানোর সময় ধরা পরেন।উনার বাথরুমের বাথ টাবে হাইডোফ্লোরিক এসিড আর রক্তের দাগ দেখে ধারনা করা হচ্ছে ফায়াজ সাহেবের স্ত্রীকে সেই মহিলা এসিডে ঝলসিয়ে হত্যা করেছেন।আদালত তার ৭দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।পেপারটা পাশে রেখে চোখে সানগ্লাস এটে বস্লাম।পাশ থেকে এক দম্পত্তির খোশ গল্প কানে আসছে।
    -চল না জানু আজকের রাতটাও কাটিয়ে দেই এখানে।
    -উহ না আমার স্বামীকে কি বলব?
    -বলে দিবে পুরোনো ফ্রেন্ড এর সাথে দেখা হয়ে গেছে। যেতে দেরী হবে।আমিও আমার ওয়াইফকে বলে দিব অফিস ট্যূরে আসছি। কয়দিন পর যাব।
    বলেই তারা হোটেলের রুমের উদ্দেশ্যে হাটা ধরল।আমি পেপারটা হাতে এগিয়ে গেলাম সাগর পানে।এখনো অনেক শাস্তি বাকি আছে।
    #শাস্তি

    6
    6 Comments
Skip to toolbar