-
প্রিয়,
বহুদিন হলো তোমায় চিঠি লিখিনা,আজ কেনো জানি সব জরতা কাটিয়ে আবার প্রিয় কলম আর নোট খাতার পাতা ছিড়ে বসে পড়লাম তোমায় চিঠি লিখবো বলে।বিশ্বাস করো অনেক ভাবনাচিন্তা করে তবেই বসেছি,দক্ষিণের রুমটাতে,বেশ সুন্দর বাতাস বইছে কিন্তু,চাইমটা টুনটুন করে বাজচ্ছে ঠিক যেমন তুমি থাকতে বাজতো..খুব অদ্ভুত হলেও সত্য আশেপাশের সব কেমন যেন একি থাকে বদলে যাই কেবল আমরা রক্তমাংসধারী মানুষগুলো।মনে আছে,তুমি যখন প্রথম শহরের বাইরে গেলে চাকরির সূত্রে আমি প্রতিদিন বায়না করতাম একটা করে চিঠি লেখার জন্য,আর তুমি রাগ করে বলতে এত সময় কই!!
আমি তোমাক বোঝাতেই পারতাম না তুমি চিঠির প্রতিটি শব্দে আমায় কত যত্নে ব্যাখ্যা করো,কি উপমায় সাজিয়ে তুলো শুধু সেটাই দেখার জন্য ব্যাকুল ছিলাম…কিন্তু বারংবার বলা কথাগুলো তুমি বুঝলেনা।আমি যখন অভিমান করে বলতাম আমার না বলা কথাগুলো বুঝে নাও,, তুমি বলতে না বললে বুঝব কিভাবে!!আজ বুঝি যে আমার বলা কথাগুলো বুঝেনি আর না বলা কথা তো……..
ঐ দেখো তখনকার মতো আজও আমি অভিযোগের ডালা নিয়ে বসেছি অথচ জানতেই ভুলে গেছি তুমি কেমন আছো! তুমি ঠিকি বলতে ভুল আমারো ছিলো পার্থক্য শুধু একটাই আমি ভুল মেনে নত হতে জানি কিন্তু তুমিতো সুউচ্চ পাহাড়,নত হওয়া তোমার মানায় না তবে নিয়মটা কেবল আমার জন্যই বুঝি ছিলো…নত হতে শিখেগেছিলে অন্য কারো জন্য…
খুব খিল খিল করে হাসতে ইচ্ছে করছে এটা ভেবে চিঠিও লিখতে শিখেগেছিলে অন্য কারে জন্য….
ব্যর্থতাটা আমারি থেকে গেলো,আমিই পারিনি তোমায় আবেগেপূর্ণ করতে।।আবার হিংসেও হচ্ছে জানো,কত রুপে রুপায়ন করেছো তোমার প্রিয়তমাকে এটা ভেবে……
বাইরের বাতাসটা ক্রমে ভারী হয়ে আসছে আর ভারী হয়ে আসছে আমার নিঃশ্বাস… বাইরের উঠতি ঝড়টা কি কেবল বাইরের ই নাকি আমার ভেতরটা তছনছ করে দেওয়ার জন্যও যথেষ্ট।। কিন্তু এমনতো কথা ছিলোনা।শেষবার যখন দেখা হলো,আড় চোখে তাকিয়েছিলে বেশ কয়েকবার,কি দেখছিলে ভালো আছি কি না!ভালো থাকা বুঝি চেহারায় আঁকা থাকে!!!হ্যাঁ বেশ ভালো আছি,এই ভালো থাকায় বড় ক্লান্ত আমি।বায়না করতে ভুলে গেছি,অভিমান গুলোকে মুছে ফেলেছি,তবে তোমার মতো হতে পারিনি।আচ্ছা তোমার প্রিয়তমা কি চিঠির উত্তর দিয়েছিলো??সেদি হঠাৎ কিসের টানে পটু দার দোকানে চলে গেছিলাম,পটুদাও ভুল করে বানিয়ে ফেলেছিল তোমার আমার স্পেশাল লেবু চা এক চামচ চিনি আর একটা লবঙ্গ….পটুদাও ভুলেনি আমাদের অথচ আমরা কি করে ভুলে গেলাম!!সেদিনের পর পটুদাও বুঝে গেছিলো আমাদের পথটা কতটা বেঁকে গেছে…..
সেদিনও তোমায় দেখেছিলাম দূর থেকে কেমন ফ্যাকাস লাগছিলো মুখটা অথচ এই সুন্দর মায়াভরা মুখটার জন্য কত মেয়ে পাগল ছিলো..তোমার কবিতা শোনার আশায় কত অপেক্ষার প্রহর জমতো অডিটরিয়ামে।একটু আধটু গান ও গাইতে,আর তোমার গানের সুর ছিলাম আমি….তখন আমি না এলে সুর আসতোনা তোমার গলায় অথচ সময় এই আমি সুরটাকে বাদ দিয়েও দিব্যি গান হয়ে যেত পরে….রেডিও তে রোজ শুনতাম।ভার্সিটি তে থাকার সময় গ্যাস্ট্রিকে ব্যাথায় যেবার হাসপাতালে ভর্তি হলাম,আহা কি ব্যাকুলতা দেখেছিলাম তোমার চোখে,ভালোবাসার অনুভূতি কত গভীর হতে পারে সেদিন দেখেছিলাম আমি।।
তবে এই এত এত ভালোবাসা কোথায় হারালো বলোতো?
আমি ছাড়া অন্য কারোর জন্যও কি এমন ব্যাকুল হতে পেরেছিলে তুমি?
নাকি অবহেলার অভ্যেসটা রয়েই গেছে!!!
আমাকে ছাড়া ভালো থাকার তো কথা ছিলো না,অবশ্য সব কথা রাখবে এমন কথাও তো দাওনি তুমি।আমি বোকার মতো সব দিয়ে বসেছিলাম,তাই আর ফেরাতে পরিনি।না তোমাকে,না তোমার জন্য সাজানো গল্পগুচ্ছ কে….চিঠি লিখতে লিখতে কখন যে ঝুম বৃষ্টি নেমে গেছে খেয়াল ই করিনি…বারান্দায় চলে গেলাম আনমনেই,বৃষ্টির ফোটাগুলো গায়ে এসে পড়ছে।আলাপ চলে যাওয়ার পর তেমন বৃষ্টিতে ভেজা হয়না,আসলে প্রকৃতির নিরন্তর পরিবর্তন স্মৃতিগুলোকে তাজা করে দেয়।স্মৃতি,যা মোছার সাধ্য মানুষের নেই।যদি থাকতো হয়তো মানুষ ভালো থাকতো কিংবা উল্টো টাও হতে পারে….পেছন ফিরে দেখি চিঠির পাতাগুলো তীব্র বাতাসের যাতনায় উড়ে যাচ্ছে,বহুদূরে,আকাশের কাছাকাছি। হয়তো এভাবই একদিন পৌঁছে যাবে আলাপের কাছে,তাই খুব একটা আফছোছ হচ্ছেনা।
এভাবে ভালো থাকতে থকাতে ক্লান্ত আমি এবার একটু খারাপ থাকতে চাই আলাপের সাথে,হয়তে অন্য কোনো নদীর ওপারে……….!5 Comments
Friends
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
মাহ্দী সাকিব
@mahdi-sakib
সাকিব-উন-নবী দীপ্ত (নির্বাক)
@sakib-un-nabi-dipto
sanjida akter jim
@sanjidajim
Halima-Moly
@halima-moly
Neel tripura
@neel
Foyzur Khan
@foyzur-khan
Humayun Kabir Surjo
@humayunkabir-surjo



আত্মকথন। সাবলিল গদ্য। লিখে যান।অভিনন্দন।