-
জীবনের রং,যেখানে যেমন!!!
(দয়াকরে পুরো লেখাটি পড়ুন🙏)“পৃথিবীতে কোন মানুষের জন্মই তাঁর নিজের ইচ্ছাতে হয়না,বাবা-মায়ের কিছু সময়ের শিহরিত আনন্দের যোগফলই হলো
সন্তানের পৃথিবীতে আগমন”।সন্তান ভূমিষ্ঠ থেকে শুরু করে ওঁর
স্বাবলম্বী হওয়া পর্যন্ত সময়টুকুতে তাঁর মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা,আলো আর কালো,ভুল ও সঠিক,সীমাবদ্ধতার মাঝেই ওঁর চাহিদার সর্বোচ্চ জোগান নিশ্চিত করা, এ সবকিছুই বাবা-মায়ের দায়।
এটাই সভ্য জগতের নিয়ম,এমন করেই চলে আসছে বহুকাল ধরে।বন্ধু,বিরক্ত হবেন না।মুখস্থ কথাগুলো বলতে আসিনি।এসেছি
জীবনের রং সবখানে জাগতিক নিয়ম মেনে এক হয়না।কিছু জীবন
নীলাভ রংয়েরও হয়।সভ্য(ব্যক্তিগত ভাবে আমি মানিনা)মানুষ কষ্টের রং
হিসেবে নীলকে রেজিষ্ট্রেশন দিয়েছে
আর একটু বেশী ও স্থায়ী কষ্টের রং
নীলাভ হয়(আমার মতে)।আমি পৃথিবীর কথা বলছিনা।শুধু
আমাদের বাংলাদেশের কথা বলছি।
বিংশ শতাব্দীতে সংখ্যায় বেশ কম ছিলো সমাজে ঐ নীলাভ জীবনের
মানুষের সংখ্যা।একবিংশ শতকের দুই দশকে রেকর্ড ভাঙা গড়ার ধারাবাহিকতা সমাজে ভয়ানক গতিতে বেড়ে চলেছে নীলাভ মানুষের সংখ্যা।বড় জোর আর দুই দশক লাগবে নীলাভদের সমাজ তো
বটে সারাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ হতে,যদি চলমান ধারাবাহিকতা বজায় থাকে 😭😭😭।অনেকেই বুঝে গেছেন আমি কাদের
কথা বলছি।তবুও খোলাসা করে বলছি,নিষ্পাপ হয়েও আজীবন সাজা ভোগ করা ঐ নীলাভেরা হচ্ছে
ভাঙা পরিবারের সন্তান।তাঁদের বাবা-মায়ের মতের অমিল বা পরকীয়া আসক্তি বা সন্দেহ প্রবণতা
বা অন্য কোন কারণে ইসলামের ভাষায় তালাক,সর্বজনীন ইংরেজিতে ডিভোর্স, বাংলায় বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। দু’জন দুই মেরুর বাসিন্দা হয়ে যায়।তারপর নিজেদের মতো করে জীবনকে তাঁরা মৃত্যু পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়।সেই পথজুড়ে সুখ দুঃখ সবই থাকে।
আর তাতে এঁদের কিছু এসে যায় না।খেসারতের সবটাই দিতে হয় তাঁদের কিছু সময়ের শিহরিত আনন্দের ফসল সন্তানকে।আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না
ভাঙা পরিবারের সন্তানদের জীবন কতোটা বিভীষিকাময় হয়।পৃথিবীর
সমস্ত প্রাচুর্য এনে দিয়েও ওঁদের জীবনে আপনি পূর্ণতা নামের মহার্ঘ
এনে দিতে পারবেন না।একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরছি।
এ বছরের মার্চ/এপ্রিলের কোন একদিন প্রথম আলো নিউজ করতে গিয়ে জানিয়েছিলো,কেবলমাত্র ঢাকা উত্তর সিটিতে প্রতিদিন ৩৮টি
আর দক্ষিণ সিটিতে প্রতিদিন ৩৯টি
ডিভোর্স কার্যকর হচ্ছে!
মাস খানেক পরে সমকাল জানিয়েছে, জানুয়ারী ২০২০ টু এপ্রিল ২০২০ সময়ে সারাদেশে মোট ১০৪২টি ডিভোর্স কার্যকর হয়েছে। দেশের ইতিহাসে ওটা ছিল রেকর্ড। জানুয়ারী ২১ টু এপ্রিল ২১
মানে এ বছর ঐ একই সময়ে সারাদেশে মোট ৪৫৬৫টি ডিভোর্স কার্যকর হয়েছে!আর এগুলোর ৭৫%ডিভোর্সই দিয়েছেন নারীরা।
হায়রে মায়ের জাত 😭😭😭!
১২ই অক্টোবর ২১ইং তারিখে সমকাল জানিয়েছে “গাজীপুরে গত এক বছরে নয় হাজারের বেশি ডিভোর্স কার্যকর হয়েছে “।উপরের পরিসংখ্যান দেখে আপনি কি বলবেন আমি জানিনা।আদৌ আপনার কোন অনুভূতি হবে কিনা
আমি নিশ্চিত নই।আমার ছোট্ট মস্তিষ্কে এই বুঝটা ঢোকেনা,কেনো দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশকে সবাই অচ্ছুৎ বানিয়ে রেখেছেন? আমি ঐ অচ্ছুৎ অংশের একজন।আমি জীবন থেকে শিখেছি,বাবা-মা ও স্বজন দিয়ে শুরু হয় শেষ অবধি স্বয়ং রাষ্ট্র পর্যন্ত আমাদের বিকশিত হতে প্রতিবন্ধক হয়।বিবেককে প্রশ্ন করুন,কি অপরাধ ভাঙা পরিবারের সন্তানদের?কেনো তাঁরা এমন ভাগ্যবরণ করবে?কেনো কেউ বলবেনা,থামাও এই অমানবিকতা?সকল ধর্মই নাকি ডিভোর্সের বৈধতা দিয়েছে।আইনও অমন জঘন্য ও অমানবিকতার বৈধতা দিয়েছে।বাহ!
কি চমৎকার আমাদের সভ্যতা!
একটি নিষ্পাপ জীবনের রং নীলাভ
করে দেওয়া বৈধ ও মহান কাজ 😭
।আমি ব্যক্তিগত ভাবে গত ৩৮বছর
ধরে চেষ্টা করে চলেছি মনকে বোঝাতে, ওটা বৈধ।একটি বারের জন্য বিবেক সেটা মানেনি।” জীবনের প্রয়োজনে মানুষ কিছু ক্ষেত্রে অমানবিকতাকে বৈধতা দিয়েছে ” এমনটা ধরে নিয়ে রাষ্ট্রের কাছে আরেকটি অমানবিকতার বৈধতা চাই।তা হলো-
সন্তান জন্মদানের পরে ডিভোর্স নেয়া দম্পতির মধ্যে বেশি দায়ী যে,
বাবা হোক বা মা হোক,ভুক্তভোগী
সন্তান তাঁকে হত্যা করলে তা বৈধ খুন হিসেবে স্বীকৃত হবে।যদি আমার দাবি আপনার সভ্যতার
আঁতে লাগে,তাহলে অন্ততঃ সমস্বরে
এই আওয়াজটুকু তুলুন,সন্তান ধারনকারী দম্পতির মধ্যে ডিভোর্স নিষিদ্ধ করে সংসদে আইন করা হোক।আমাকে যা ইচ্ছে ভাবুন।চরম অমানবিকতা বন্ধ করে আপনারা সত্যিকারের সভ্য হতে বিবেকটা জাগিয়ে তুলুন না একবার🙏🙏🙏
–রাসেল আদিত্য
(নীলাভ প্রতিনিধি)4 Comments
Friends
Al-Masud
@al-masud
Anup Dey
@anup-dey
Mitul hasan
@mitul
Masfi K
@masfi-mohammad
সালমান সাদিক
@salmansadique
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron
Md. Arif Hossain
@arifhossain
আকরাম খান
@akram_khan
দুনিয়া মামুন
@duniamamun


স্বাগত জানাই লেখকমনের সুন্দর ভাবনাকে।
এক অক্লান্ত সংগ্রামের মাঝে কিছু বিষাদময় অভিজ্ঞতা নিয়ে জীবন। বেশ সহজ সুখে প্রবল ঝড়গুলো মোকাবিলা করা যায়। কিন্তু প্রকৃতি বড় নির্মম হয়ে ওঠে যখন, তখন তা সহ্য করার ক্ষমতা হয়ত সকলের থাকে না। ঝড়ে গাছ ভেঙ্গে পড়লে সেখানে নতুন করে চারা রোপণ করা কি উত্তম নয়?
পরাধীনতার মাঝে নির্যাতিত হওয়ার চেয়ে মুক্ত হয়ে আত্ননির্ভর হওয়া কি শ্রেয় নয়?
শুভেচ্ছা নেবেন।