Profile Photo

রাসেল আদিত্যOffline

  • RaselAditta
  • Profile picture of রাসেল আদিত্য

    রাসেল আদিত্য

    • 4 years, 10 months ago

    একটি টাটকা গল্প বলছি শোনো….

    গল্পটা চলমান, তাই টাটকা বলছি।বাংলা সিনেমার মতো শোনালেও জীবন
    সত্যিই গল্পের রুপে ধরা দিয়েছে এক সন্তানের কাছে।

    …পিতৃহীন, সহায় সম্পদহীন ছয় সদস্যের পরিবারের কর্তা সে।জন্জাল(ছদ্মনাম) নামের চল্লিশোর্ধ্ব লোকটা সততাকে কোনদিন বিসর্জন দেয়নি।অথচ শিশু বয়স থেকেই জীবন সংগ্রামী সে।অনেক সুযোগ এসেছে, একটুখানি আপোষ করতে পারলে হয়তো আজ এই টাটকা গল্পের সৃষ্টি হতোনা।আয়ের পথ বলতে কয়েকজন
    মহান মানুষ আছে তাঁর, যাঁরা আঞ্চলিক
    দৈনিক পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক।
    তাঁদের সম্পাদকীয় লিখে দেওয়া,বড় কাতল কে বশে আনতে কাতলের উপর
    একটি আর্টিকেল লিখে দেওয়া এইসব আরকি।বিনিময়ে দুইশ,তিনশ টাকা পায়।পরদিন সম্পাদকের নামে ঐ লেখা
    ছাপা হয়,পত্রিকা ষ্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে জন্জাল তা পড়ে তৃপ্ত হয়।কোনদিন দুই জনের,কোনদিন চারজনের ফোন আসে
    ,সে চায় রোজ যেনো দশটা ফোন আসে।কিন্তু…..!
    ঐ আয়েই টেনেটুনে চালিয়ে নিচ্ছিলো জীবন।বছর চারেক আগে সাড়ে আঠারো বছরের সংসার,তিন সন্তান রেখে বউ চলে যায় নিজের সুখ সন্ধানে।
    ভয়ানক বিভীষিকাময় সেই সময়টা পৃথিবীর কারো জীবনে যেনো না আসে এটাই সবসময় কামনা করে জন্জাল।

    তিন বছর আগে জন্জালের পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় সম্পদ মায়ের হার্টে ব্লক ধরা পড়ে।পেসমেকার বা রিং বসানো তো কল্পনা, ঔষধের উপর যতোদিন সম্ভব বেঁচে থাকা যায় সেই পথেই চলছিলো মা।কয়েকমাস পর মা আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। নানাবিধ টেষ্ট করে ডাঃ জানায়,তাঁর মায়ের পিত্তথলিতে পাথর আছে।ওটা অপারেশন করতে হলে আগে হার্টে পেসমেকার বা রিং বসাতে হবে।মায়ের ঔষধের তালিকা বড় হয়।ডায়াবেটিস, প্রেশার ওগুলোতো
    আগে থেকেই ছিলো।
    গত পনেরো দিন ধরে জন্জালের মা এতোটাই অসুস্থ যে,বিছানা ছেড়ে উঠতে পারেনা নাতনীর সাহায্য ছাড়া। সংসারের খরচ,বাড়ী ভাড়া,মায়ের ঔষধ
    জোগাতে ঋনের বোঝা নিতে হয় তাঁকে।
    এখন এতোটাই নাজুক অবস্থা যে,ঋন
    চাইবে তেমন কেউ নেই। তাই বাধ্য হয়ে
    মাকে ঘরে ফেলে রেখেছে।
    ছয়দিন আগে মায়ের ঔষধ শেষ হয়ে গেছে। দুটো করে আনলেও দিনে প্রায় দেড়শো টাকার দরকার হয়।তবুও এভাবেই চালিয়ে নিচ্ছে।
    তিনদিন আগে মাঝরাতে ছেলেকে ডেকে মা বলছিলো,
    বাবা,আমি আর সহ্য করতে পারছিনা,
    তুই আমারে হাসপাতালে লইয়া যা।শিশুর মতো কাঁদতে কাঁদতে মা বলছিলো আর জন্জাল একদৃষ্টে দেয়ালের দিকে তাকিয়ে ছিলো। কখন মা ঘুমিয়ে পড়েছে, ফজরের আজান শুনে মায়ের দিকে তাকিয়ে ঘুমুতে দেখে
    সম্বিত ফিরে পেয়ে মনেমনে প্রশ্ন করে।
    সে কি করবে?
    কাছের বন্ধু স্বজনদের জানিয়েছে, এখন কেউ তাঁর কল রিসিভ করে না আর কয়েকজন ব্ল্যাকলিষ্টে ফেলে দিয়েছে।
    জন্জালের ইচ্ছে করে মৃত্যু তাঁকে স্পর্শ করুক। পরক্ষনেই ভাবে তাহলে সন্তানদের কে দেখবে?
    নাতি নাতনিরা ওঁদের দিদিকে স্বান্তনা দেয়,পাপা টাকা ম্যানেজ করছে,তোমাকে বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে।
    তিনদিন ধরে রাতে বাসায় ফেরার আগে জন্জাল নিশ্চিত হয়ে নেয়, মা ঘুমিয়েছে
    কিনা?
    সেই রাতের পর থেকে সে মায়ের মুখের দিকে তাকাতে পারেনা।লজ্জায়,না পারার ব্যর্থতায়!

    আসমানীদের দেখতে হলে রসুলপুর
    আর জন্জালদের দেখতে হলে যেও তোমরা……..পুর!!!!

    –রাসেল আদিত্য, নারায়ণগঞ্জ।
    ২৩-১২-২০২১ইং।

    7
    4 Comments

Friends

Profile Photo
Al-Masud
@al-masud
Profile Photo
Anup Dey
@anup-dey
Profile Photo
Mitul hasan
@mitul
Profile Photo
Masfi K
@masfi-mohammad
Profile Photo
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron
Profile Photo
Md. Arif Hossain
@arifhossain
Skip to toolbar