-
দিব্যি করে বলছি প্রিয়া
—রাসেল আদিত্যসদ্য ফোঁটা সকালের উদিত হওয়া
তেজহীন সূর্যটার দিব্যি,সদ্যগত রজনীতে ফোঁটা পৃথিবীর সবগুলো ফুলের দিব্যি,
চাকুরীর নামে টানা বারো ঘন্টা স্বেচ্ছা বন্দিত্বে গার্মেন্টসগামী সংগ্রামী নারীদের বুকে কবর চাঁপা কষ্টগুলোর দিব্যি,
জীবিকার তাগিদে কেবল গতর সম্বল করে কর্মের সন্ধানে বের হওয়া শ্রমিক স্বজনদের শ্রমনিসৃত ঘামের দিব্যি,
এই জনপদের ‘শিকার’ শ্রেণির নিপীড়িত মানুষদের শরীরের সর্বাঙ্গ
দিয়ে ঠিকরে বেড়িয়ে আসা বোবা ক্ষোভ আর স্রষ্টায় অভিমানের দিব্যিদেশের প্রতিটি ভাঙা পরিবারের সন্তানের কোন অপরাধ না করেও
আজীবন বয়ে বেড়ানো অতৃপ্তি ও অপূর্ণতার দিব্যি,রাতের ষ্টেশন,ফুটপাত বা টার্মিনালগুলোতে ঘুমিয়ে থাকা আত্মপরিচয় না জানা আদম সন্তান
সাহিত্যের ভাষায় পথশিশু দের ভয়ানক আগামীর আশংকার দিব্যি,রাতের আঁধারে খদ্দের হয়ে যাওয়া দিনের ভদ্রলোকদের দ্বারা নিজেদের ঠিকানা থেকে বিতাড়িত হয়ে এখন রাতের শহরের যত্রতত্র বোরকার আড়ালে মুখ ঢেকে খদ্দের খুঁজে বেড়ানো আমাদেরই মেয়েদের
কারো ঘরের বউ হয়ে সংসার-বাচ্চা সামলানোর মহামূল্য স্বপ্নটার দিব্যি,যাপিত জীবনে হয়তো পিছলে পড়ে
বা অনিচ্ছায় বাধ্য হয়ে অথবা নিজের ভুলেই অভ্যস্ত হয়ে পড়া প্রতিজন মাদকাসক্তের ঐ নীল জীবন থেকে মুক্তির সুতীব্র ইচ্ছের
পরে বেড়িয়ে আসতে না পারার বাস্তবতার দিব্যি,সমবয়সী দুজনের একজন স্নেহ ভালোবাসা প্রাচুর্যের মাঝে আর অন্যজন সেই বাড়িতে দিনমান ধারাবাহিক শ্রম দিয়ে তিনবেলা দু’মুঠো খাবারের মাঝে বিনোদন খুঁজে পাওয়া বৈষম্যের দিব্যি,
দালালের প্ররোচনায় একটু উন্নত জীবনের আশায় মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে বর্বর আরবদের বাড়ীতে আঠারো ঘন্টা গৃহকর্মের সাথে কখনো পিতার
পরক্ষনেই পুত্রের এমনকি দিনে পাঁচ জনের বিকৃত লালসার শিকার হয়ে
চুক্তিবদ্ধ সময় জুড়ে মুক্তির আর্তনাদ গুলোর বাড়ীর চারদেয়ালে
মাথা কুটে মরার দিব্যি,আমার সেই অমানবিক নির্যাতনের শিকার বোনের মাস শেষে পাঠানো বেতনের টাকায় রাষ্ট্রের রেমিট্যান্স বৃদ্ধির গল্প শোনাবার পৈশাচিকতার
দিব্যি,বিশ্বাসের সবটা বন্ধক রাখা বউয়ের
অথবা স্বামীর পরকীয়ায় মেতে অবৈধ মিলনের নোংরা শরীরটা বৈধজনের সাথে ভাগ করার নির্দয় অভিনয়ের অভিশাপের দিব্যি,জীবনের সবটুকু দিয়ে বড় করে তোলা সন্তানের কাছ থেকে পাওয়া অবহেলা বা বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রিত হবার
অসহনীয় কষ্টে গড়িয়ে পড়া অশ্রু ফোঁটার দিব্যি,আমাদের ভালোবাসার দিব্যি করে
বলছি প্রিয়া-
“পৃথিবীর হিংস্র প্রাণী হায়েনা নয়, বিবর্তন আশরাফুল মাখলুকাত খ্যাত মানুষকে পৃথিবীর সবচেয়ে হিংস্র ও বর্বর প্রাণীতে পরিণত করেছে “।
তাইতো আমি চলেছি অনন্তের পথে,
তোমার আমার সকল স্বপ্ন সমাধিস্থ
করে।
আমি ঐ পরিচয়ে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবোনা,
তাই……….!!!
অনন্তই গন্তব্য আমার হে প্রিয়া।4 Comments
Friends
Al-Masud
@al-masud
Anup Dey
@anup-dey
Mitul hasan
@mitul
Masfi K
@masfi-mohammad
সালমান সাদিক
@salmansadique
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron
Md. Arif Hossain
@arifhossain
আকরাম খান
@akram_khan
দুনিয়া মামুন
@duniamamun


সব বৈসম্য দূর হয়ে সাম্যের সমাজ গড়ে উঠুক।