Profile Photo

আফরিন ইনায়াত কায়াOffline

  • inayatkaya55
  • #মায়ানগরের_প্রেম
    #পার্ট০৩
    #আফরিন_ইনায়াত_কায়া
    .
    .
    কানে ফোনটা রাখতেই ওপাশ থেকে একজন ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে উঠল
    -কিরে ইনা?এতো রাতে কল দিলি যে!কোন সমস্যা হল নাকি?
    -আপু তুমি আসতে পারবে এখন প্লিজ? খুব ইমারজেন্সি।
    -আচ্ছা থাম আমি এখুনি আসছি।
    কান থেকে ফোনটা নামিয়ে বিছানার পাশের টেবিলটার উপরে রাখল ইনা।মনে মনে ভাবতে লাগল ভাইয়া আপত্তি না জানালে ৫ মিনিটের মধ্যেই আপু চলে আসবে।ভাইয়া রাজি না হলেও তাহিয়া আপু ঠিকি তাকে ম্যানেজ করে নিবে।তাহিয়া আপুর বাসা ইনার বাসা থেকে দুইটা বাড়ি পরেই।পায়ে হাটলে বড়জোড় মিনিট পাচেক এর রাস্তা।পিছন থেকে খুট করে দরজা খুলার শব্দ পেল
    -ইনা কোথায় তুই(তাহিয়া)
    -আমি বেডরুমে আপু ভিতরে চলে এস।
    -এত রাতে কি হলো তোর?সব ঠিক…..
    কথাগুলো বলতে বলতে ভিতরে ঢুকার সময় তাহিয়ার চোখ গেল বিছানার উপরে।অজানা একটা ছেলে ইনার বিছানায় শুয়ে আছে।ইনা তার পাশে বসে আছে।ছেলেটা এক হাতে ইনার একটা হাত জরিয়ে আছে।
    কে এই ছেলেটা!এত রাতে সে ইনায়াতের বাসায় কি করছে।ইনা তো ওরকম মেয়ে নয়।তাহলে ছেলেটা কি করছে এত রাতে?নানান রকম প্রশ্ন জটলা বাধছে তাহিয়া আপুর মনে।
    .
    .
    তাহিয়াকে চুপ থাকতে দেখে ইনা নিজেই বলতে লাগল
    -আমার কলিগ।কয়েকদিন আগেই অফিস জয়েন করেছেন।আজকে একটু প্রেশার বেশি ছিল। কাজ শেষ করে বের হওয়ার সময় হঠাত উনি অসুস্থ হয়ে পরলেন।তাই…
    ইনা আর কথা শেষ করতে পারল না। তার আগেই তাহিয়া বলতে লাগল
    -তাই তুই অজানা একজনকে হুট করে বাসায় নিয়ে আসবি?তাও এত রাতে?লোকে কি বলবে?
    .
    .
    কথাটা শুনা মাত্রই ইনায়াতের চোখ মুখ শক্ত হয়ে গেল।নিজেকে যথাসাধ্য শান্ত রাখার চেস্টা করে ঠোটে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটিয়ে বলল
    -কোন লোকের কথা বলছ আপু?আর কোন সমাজের দোহাই দিচ্ছ?কোথায় ছিল তোমার সমাজ যখন ফিরোজ নামের সেই নরপশুটা তোমাকে বেধরক পেটাতো?স্বামির অধিকার খাটিয়ে দিনের পর দিন নির্যাতন করত?তখন তো তোমার সমাজ বলেছিল মেয়ে হয়ে জন্মেছ।এতটুকু তো সহ্য করতেই হবে।সেদিন যদি আয়াজ ভাইয়া তোমার পাশে না দাড়াত তবে আজকে তোমার সমাজে অস্তিত্ব কোথায় হত তুমি ভেবে দেখ তো।শান্তস্বরে ইনা কথাগুলো বলল।
    .
    .
    মুহূর্তেই যেন থমকে গেল তাহিয়া।লোকমুখে এত দিন অনেক কথাই শুনেছে তাহিয়া।কিন্তু আজ যেন ইনায়াতের কথাগুলো তার কলিজায় তীরের ফলার মত বিধছে।সত্যিই তো আয়াজ না থাকলে সে হয়তো কবেই নিজেকে শেষ করে দিত।কবেই হারিয়ে যেত সমাজের অতল গহ্বরে।
    .
    .
    তাহিয়াকে চুপ থাকতে দেখে ইনা আবার ঘাড় ঘুরিয়ে বলতে লাগল
    -তোমার অতীত নিয়ে খোচা দেওয়ার কোন অধিকার আমার নেই আপু।আমি চাই ও না।আমি জানি আয়াজ ভাইয়া তোমাকে অনেক ভালোবাসে।মানব সেবার যে মহান ব্রত থেকে তুমি ডাক্তারিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলে সেই মানবতা থেকেই তোমাকে আমি ডেকেছি।এখন তুমি যদি তাতে আপত্তি জানাও তাহলে তুমি আসতে পারো।ভাইয়া অপেক্ষা করছে তোমার জন্যে।কথাগুলো ফেলে দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়ল ইনা।তাহিয়ে কোনরকমে নিজেকে আড়াল করে চোখ মুছে নিল।তেতো হলেও ইনার বলা কথাগুলোর সত্যতা সে অস্বীকার করতে পারবে না।নিজেকে স্বাভাবিক করে বলল
    -হয়েছে আর লেকচার দিতে হবে না।সর দেখি কি হয়েছে।
    .
    .
    ইনায়াতের পাশে বসে তাহিয়া ছেলেটাকে চেকাপ করতে লাগল।
    -সিরিয়াস কিছু না। তবে মনে হয় কয়েক রাত ঘুমায় নি।খাওয়া দাওয়াও ঠিক ভাবে করে না।মেন্টাল স্ট্রেস বেশি হলে যা হয় আরকি।দুই এক দিন রেস্ট নিলেই ঠিক হয়ে যাবে।এখন ঘুমাক।he needs rest.কথাগুলো বলে তাহিয়া উঠে দাড়াল।ইনা মুচকি হেসে মাথা নাড়াল।
    -আমি যাই এখন। দেরী হলে তোর ভাইয়া রাগ করবে।
    যাওয়ার আগে ইনার কাধে হাত রেখে বলল
    -সাবধানে বোন।দুনিয়াটা অনেক কঠিন।
    ইনা একটা রহস্যময় হাসি দিয়ে বলল
    -যে নিজেই খারাপ তার আর খারাপ কি হবে।
    তাহিয়ে কিছু না বলে শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে গেল।ইনা উঠতে গেলেই হাতে টান পড়ল।ছেলেটা ঠিক এখনো তাকে শক্ত করে ধরে রেখেছে।ইনা তার মাথার কাছে গিয়ে বসল।হালকা হাতে ছেলেটার চুলগুলো হাতাচ্ছে ইনা।অনেক সফট চুলগুলো। তবে যত্নের অভাবে রুক্ষ। অনেকটা ঘোর লাগা চোখে ইনায়াত চেয়ে আছে তার পানে।
    চলবে…

    8
    4 Comments
Skip to toolbar