-
গল্পের নাম :মনের জানালা
লেখক :শাহাদাত হোসেনকমলিকা গাড়ি থেকে নেমেই হাতের কব্জিটা উল্টিয়ে ঘড়ি দেখল / অলরেডি পাঁচ মিনিট লেট /
অফিসে ঢুকলেই ডিরেক্টর স্যারের অন্ধকার মুখটা দেখতে হবে /এমনিতেই কালো বান্দরের মত চেহারা তারপর যদি রেগে মুখটা অন্ধকার করে রাখে তবে কেমন লাগে ? অফিসের সবাই আড়ালে এই স্যার কে বাঘ বলে ডাকে / এর বউ যে কি করে একে সহ্য করে মাথায়ই আসেনা কমলিকা র / প্রায় উড়েই লিফট এর কাছে চলে এলো কমলিকা/ ভাগ্যটা খুবই সুপ্রসন্ন লিফট টা, দরজা খুলে দাঁড়িয়ে আছে এবং ভেতরটা একেবারেই ফাঁকা / কেউ নেই / কমলিকা লিফটের ভেতরে ঢুকে ফর্টিন নম্বর বোতামটা টিপে দিল / দরজাটা আরো পাঁচ সেকেন্ড অপেক্ষা করে আস্তে আস্তে বন্ধু হতে থাকল / প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে এমন সময় কেউ একজন 2 দরজার ফাকার ভিতরে হাত ঢুকিয়ে দরজা টাকে বন্ধ হতে বাধা দিল / দরজাটা আবার খুলে গেল / একটা ছেলে হন্তদন্ত হয়ে ভিতরে প্রবেশ করলো / মুখে বলল সরি / কমলিকার চোখেমুখে বিরক্তির ভাব স্পষ্ট হয়ে উঠল সে খুবই বিরক্ত হল / আজকালকার ছেলেগুলো মেয়ে দেখলেই মনে হয় মাথা খারাপ হয়ে যায় / যেই দেখেছে লিফটে আমি একা , অমনি লিফটে প্রবেশের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে / এই ধরনের ছেলেদের দেখলেই কমলিকার কষে একটা চর দিতে ইচ্ছে করে / কমলিকা একটা বিরক্তিকর ভাব নিয়ে লিফটের ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল / মনে মনে ভাবল নিশ্চয়ই এখন ছেলেটা তার সাথে ভাব জমানোর চেষ্টা করবে , মুখে একটা তেলতেলে হাসি ঝুলিয়ে জানতে চাইবে আপনি কত তলায় যাবেন ? যদি আমি উত্তর দেই , তাহলে আবার জিজ্ঞাসা করবে আপনি কি ওই অফিসে চাকরি করেন ? আরে গাধা যদি আমি চাকরি না করতাম তবে কি আমি এখানে হাওয়া খেতে এসেছি ? কমলিকা মনে মনে ডিসিশন নিয়ে রাখল যদি ছেলেটা এমন কিছু করতে চেষ্টা করে , অথবা গা ঘেঁষে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তবে কমলিকা বলবে এইযে ভাইয়া একটু সরে দাঁড়ান আপনার গা থেকে গোবরের গন্ধ আসছে / কমলিকা জানে তখনো ছেলেটা হে হে করে হাসবে / মুখে বলবে আপনার ফোন নাম্বারটা দেবেন প্লিজ ? এসব ভাবতে ভাবতেই লিফট টি অষ্টম ফ্লোরে এসে থেমে গেল / এবং ছেলেটা কোন দিকে না তাকিয়েই লিফট থেকে বেরিয়ে গেল / কমলিকা খুবই আশ্চর্য হল / লিফট এর দরজাটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত ছেলেটার গমন পথে তাকিয়ে রইল / হঠাৎ করেই তারা মন টা খারাপ হয়ে গেল / তবে কি সে দেখতে আর আগের মত সুন্দরী নেই ?দরজা খুলে অফিসে ঢুকেই দেখল বাঘটা ফ্লোরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কফি খাচ্ছে / কমলিকাকে দেখে হেসে বলল কি ব্যাপার কমলাদেবী রাস্তায় কি অনেক জ্যাম ? তোমাকে একটু বুদ্ধি খাটাতে হবে বাসা থেকে আরো একটু আগে বের হতে হবে / কমলিকা একটা সৌজন্যমূলক হাসি দিয়ে বলল জি স্যার একটু দেরী হয়ে গেল / মনে মনে বলল এজন্যই তো তোমার মতন বান্দর টা কে দেখে ও আমাকে ইচ্ছের বিরুদ্ধে হাসতে হচ্ছে / বাঘটা আবার বেসুরো গলায় বলতে থাকলো কফি খেয়ে সুমিকে নিয়ে আমার রুমে আসো / সুমি কমলিকার কলিগ /দুজনেই মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টের জুনিয়র অফিসার /
সুমিকে নিয়ে বসের রুমে ঢুকতেই বস আঙ্গুলের ইশারায় বসতে বললেন / মুখে জিজ্ঞাসা করলেন কফি খাবে কিনা / মাথা নেড়ে অসম্মতি জানালো দুজনেই / এবার বস একটা ফাইল বের করে টেবিলের উপর রাখলেন / এবং বললেন এই ফাইল টা দেখ ছেলেটা আজকেই আমাদের ডিপার্টমেন্টে জয়েন করবে / তোমাদের সঙ্গে কাজ করবেন / ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট / ঢাকা ভার্সিটি থেকে কেমিস্ট্রিতে অনার্স এবং মাস্টার্স তারপর অস্ট্রেলিয়া থেকে এমবিএ করা / আমাদের কর্পোরেট হেড অফিস , অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস এর সিডনিতে উনি কাজ করেছেন গত তিন বছর ধরে / এখন ওখান থেকেই ট্রান্সফার হয়ে আমাদের এখানে আসছেন / ফাইল টা দেখ / তাহলে ছেলেটার সম্পর্কে তোমাদের একটা আইডিয়া হবে / তোমরা দুজনেই আপাতত ছেলেটার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করবে / তারপর বস টেলিফোন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলেন , অর্থাৎ তোমরা এখন যাও / সুমি হাত বাড়িয়ে ফাইলটা হাতে নিল / দুজনে একই সঙ্গে রুম থেকে বেরিয়ে এল /
সুমি এবং কমলিকার টেবিল দুটি পাশাপাশি / সুমি বলল ফাইলটা আগে আমি দেখি তারপর তুই দেখিস / কমলিকা মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো মুখে বলল দেখ , ভালো করে দেখ / আবার দেখি স প্রেমে পড়ে যাস নে যেন / সুমি মুখ টিপে হাসল মুখে বলল পাগল ?দুপুর বারোটা নাগাদ পিয়ন এসে জানালো আপনাদের দু’জনকেই স্যার সালাম জানিয়েছেন / কমলিকা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়িয়ে সুমিকে ইশারায় স্যারের রুমে র দিকে আংগুল দিয়ে ইশারা করল / অর্থাৎ স্যার ডেকেছেন / দুজনেই স্যারের বন্ধ দরজার সামনে এসে এক মুহুর্ত দাঁড়ালো , তারপর আঙ্গুলদিয়ে দরজায় দুটো টোকা দিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল / কমলিকা স্যারের উল্টোদিকের চেয়ারে একজন মানুষকে বসে থাকতে দেখলো / দুজনে ধীরে ধীরে স্যারের টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই স্যার গম্ভীর গলায় বললেন , এই হচ্ছে ইশতিয়াক সুমন / আজ থেকে তোমরা উনার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে উনাকে কাজে সহযোগিতা করবে / কমলিকা ইশতিয়াক সুমনের দিকে চোখ তুলে তাকালো / তাকিয়েই চমকে উঠলো / আরে এ তো সেই ছেলে যার সাথে সকালে লিফটে দেখা হয়েছিল / যার জন্য এখনো মেজাজটা তিরিক্ষি হয়ে আছে /এবার কমলিকা ভালো করে মানুষটাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগলো / লোকটা কাল প্যান্টের সাথে হালকা আকাশী এবং কালো কালারের চেক শার্ট পড়েছে / সঙ্গে মেজেন্টা এবং কালো র মিশ্রণের টাই / বেশ মানিয়েছে ড্রেস টাতে / ভদ্রলোক মুখ তুলে তাকালেন ওদের দুজনের দিকে / মুখে বললেন , কেমন আছেন আপনারা ? স্যার আবার মুখ খুললেন দুজনে মিলে আজকে উনাকে অফিসের সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দাও / আমাদের অফিসের সিস্টেমগুলো উনাকে বুঝিয়ে দাও / ট্রান্সপোর্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে উনার ব্যবহারের জন্য গাড়ি এবং ড্রাইভার রিকুইজিশন দিয়ে দাও / তারপর আগামীকাল থেকে কাজে নেমে পড় / আর হ্যাঁ ভালো কথা আমাদের জি এম সাহেবের পাশের যে রুমটা খালি পড়ে আছে সেখানে ওনার বসার ব্যবস্থা করো / পিয়ন অলি কে চেক করে দেখতে বল ওই রুমের ইন্টারকম টেলিফোন লাইন কম্পিউটার সবকিছু ঠিকঠাক মতো চলছে কিনা / কোথাও সমস্যা থাকলে সমস্যাগুলো Fix করে দাও / কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক ফরম্যাট করে পুরনো ডেটা সব মুছে ফেলো / যদি ওই কম্পিউটারে কোন প্রয়োজনীয় ফাইল থেকে থাকে তবে তা Lan এ রেখে দাও / ওকে ? এরপর ইশতিয়াক সুমন সাহেবের দিকে তাকিয়ে বললেন গো আহেড , আপনাকে মনে রাখতে হবে যে আমাদের এই নতুন প্রজেক্টর ভবিষ্যৎ অনেকটা আপনার কর্ম দক্ষতার উপরে ই নির্ভর করবে /
আমরা আমাদের এই সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া স্যার কে নিয়ে বেরিয়ে এলাম / স্যার বললেন চলুন আমার রুমে গিয়ে বসি এবং এক কাপ কফি খেতে খেতে আপনাদের সাথে পরিচিত হই / কমলিকা মনের ভেতরে একটু হাসলো কিন্তু মুখের চেহারায় তার কোন ছাপ ধরা পড়ল না / মনে মনে বলল পরিচিত হওয়া না ছাই / এই সুযোগে একটু গল্পগুজব করার ফন্দি / নতুন এসেই এই অবস্থা / বাছাধন তুমি রং নাম্বারে ডায়াল করছো /
ঝকঝকে তকতকে গোছানো রুম / আগে থেকেই সবকিছু ঠিকঠাক করা আছে / স্যার চেয়ারে বসলেন এবং আমাদেরকে ইশারায় বসতে বললেন / তারপর একজন দক্ষ স্কুল শিক্ষকের মত বলতে শুরু করলেন আমি অস্ট্রেলিয়াতে আমার পড়ালেখা শেষ করার পর এই কোম্পানির হেড অফিসে জয়েন করেছিলাম / সেখানে প্রায় তিন বছর কাজ করেছি / আপনারা তো নিশ্চয়ই জানেন আমাদের কোম্পানির কিছু Life saving drug আছে ইঞ্জেকশন ফরমেটে , যা আমরা আমাদের হেড অফিসে অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়াতে প্রোডাকশন করতাম এবং ওই ড্রাগ গুলো বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মার্কেটিং করতাম / ওষুধগুলো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং বাংলাদেশে এর চাহিদা ও প্রচুর / কিন্তু ওষুধগুলো ইমপোর্ট করে আনার ফলে আমাদের কষ্ট অনেক বেড়ে যায় / ফলে আমরা বাংলাদেশ আমাদের সেলস টার্গেট ফুলফিল করতে পারিনা / তাই ম্যানেজমেন্ট ডিসিশন নিয়েছে ওষুধগুলো এখন থেকে আমরা বাংলাদেশেই প্রোডাকশন করব / সুতরাং বুঝতেই তো পারছেন ওষুধগুলো এখানে প্রোডাকশন করলে আমাদের সেলস টার্গেট আরো বাড়াতে হবে / এ ব্যাপারে আপনাদের সহযোগিতা আমার অত্যন্ত প্রয়োজন / আশা করি সেই সহযোগিতা আমি আপনাদের নিকট হতে পাব / আর একটা বিশেষ ইনফর্মেশন , দুটো জিনিস মাথায় রাখবেন অফিসে লেট করে আসা এবং ঘনঘন ছুটি নেওয়া দুটোই আমার খুবই অপছন্দের / প্রোডাকশন এর জন্য মেশিনারিজ ইমপোর্ট করতে হবে / মেশিনারিজ গুলো আসবে জাপান থেকে শিপমেন্ট হবে জাপানের ওসাকা বন্দর থেকে / চট্টগ্রাম সি পোর্ট হয়ে আমরা আইসিটি কমলাপুর থেকে মালগুলো খালাস করব / একটা ফাইল আমি আপনাদের দেবো যেখানে সব তথ্য এবং কাগজপত্র থাকবে / কোনো কাজেই যেন ভুল না হয় একজনে কাজ করবেন আবার আরেকজনের সেটা রি চেক করবেন /ঠিক আছে ? আপাতত আপনারা আপনাদের কাজ করুন প্রয়োজনে আমি আপনাদের আবার ডাকবো /
আমরা দুজনে রুম থেকে বেরিয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম / সুমি মুখে ওড়না গুঁজে দিয়ে হাসতে হাসতে আমার উপর গড়িয়ে পরল / এই হচ্ছে পরিচিত হওয়ার নমুনা ? এ তো দেখি পাচ মাত্রার একটা রোবট / কমলিকা নিজের চেয়ারে এসে পিয়ন অলি কে ডাকলো , এক কাপ কডা করে কফি দিতে বলল / নাহ স্যারের লেকচার শুনতে শুনতে মাথা ধরে গেছে / মনে মনে ভাবতে লাগলো , মোটেই মিলছে না ব্যাটা খুব উচ্চমাত্রার চতুর লোক / নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করছে / দুদিন পরে ই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে / কমলিকা কম্পিউটারে বসে গেম খেলতে শুরু করলো এবং মনে মনে অপেক্ষা করতে থাকলো কিছুক্ষণ পরেই স্যার হয়তো আবার ডাকবে / কিন্তু স্যার সারাদিনে আর কাউকে ডাকলেন না / লাঞ্চের পরে তিনটার দিকে কমলিকা একটা ফাইল নিয়ে স্যারের রুমে প্রবেশ করলো , স্যার কমলিকাকে দেখে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে বললেন , বসুন প্লিজ , এনি প্রবলেম ? কমলিকা হেসে বলল নো স্যার , এইটা হচ্ছে সারা বাংলাদেশে আমাদের সেলস এজেন্ট দের নাম ঠিকানা ফোন নাম্বার এর ফাইল / ভাবলাম আপনার প্রয়োজন হতে পারে তাই নিয়ে এলাম / স্যার ফাইলটা হাতে নিয়ে উল্টে পাল্টে দেখলেন / তারপর ফাইলটা ফেরত দিয়ে বললেন , এটা আপনার কাছেই রাখুন প্রয়োজন হলে আমি আপনার কাছ থেকে ফাইল্টা চেয়ে নেব / কমলিকা মনের ভেতর একটা অস্বস্তি নিয়ে স্যারের রুম থেকে বেরিয়ে এলো / আচ্ছা স্যার কে কি একটু বিরক্ত মনে হল ? সুমির টেবিলের সামনে আসতেই সুমি হেসে প্রশ্ন করল কিরে স্কুল টিচার টা কি আবার কোন লেকচার দিল ? কমলিকার মেজাজ এমনিতেই হাই হয়েছিল / মুখে একটা ঝাঁজ নিয়ে বলল জানিনা তুই দেখে আয় /
সকালে ঘুম থেকে উঠে কমলিকা দিনের প্রথম কাজ গোসল সেরে অফিসে যাওয়ার জন্য রেডি হতে ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসল / একটা মাল্টিন্যাশনাল ওষুধ কোম্পানির হেড অফিসে কমলিকার কর্মস্থল / এখানে এমপ্লয়ীদের ড্রেস পড়ার ব্যাপারে কোনরকম রেস্ট্রিকশন নেই / যে কেউ যেকোনো ধরনের ড্রেস ই পড়তে পারে /টি-শার্ট থেকে শুরু করে শাড়ি , কোন সমস্যা নেই / হ্যান্ডসাম একটা সালারি ড্র করে কমলিকা / বাবা মার একমাত্র আদরের সন্তান / বাবা উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন / উত্তরায় পাচ কাঠা জমির উপর ছয়তলা ফ্ল্যাট বাড়ি / ধানমন্ডিতে দুই হাজার আটশত স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাট ,পূর্বাচলে প্লট মোটকথা বেশ রমরমা অবস্থা সোবহান চৌধুরী অর্থাৎ কমলিকার বাবার / কমলিকা যে বেতন পায় তার অর্ধেক ই তার ড্রেস কসমেটিকস এসবেই চলে যায় /বিশেষ করে লিপিস্টিক এর ব্যাপারে তার এক ধরনের ফ্যাসিনেশন আছে / লিপস্টিকের একটা বড় কালেকশন আছে তার / তার এই কালেকশন এর মধ্যে বিভিন্ন ব্র্যান্ড যেমন Lancom ,ST Loider এগুলো ও আছে তার কালেকশনে / কমলিকা অনেকটা সময় নিয়া ধীরে ধীরে নিজেকে সাজালো / সায়ান কালারের জমিনে সাদা আঁচলের কম্বিনেশনের একটা শাড়ী পরল সঙ্গে সাদা রংয়ের ব্লাউজ / ঠোঁটে কনট্রাস্ট কালার লাল , ( সায়ানের বিপরীত কালার লাল ) রংয়ের লিপিস্টিক দিল / আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেই নিজের প্রেমে পড়ে গেল / মুখ টিপে হাসল / মনে মনে বলল ঋষির ধ্যান ভাঙতেই হবে / কমলিকা ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে ইংলিশে মাস্টার্স করা / ইউনিভার্সিটি তে পড়ার সময় অনেক ছেলেই কাছে ঘেষতে চাইছে , কিন্তু কাকেও তেমন মনে ধরে নাই / সবাই কেমন যেন ব্যক্তিত্বহীন / তোষামুদে ব্যস্ত / তারপরেও দুই বছরের সিনিয়র এক তুখোড় ছাত্রনেতাকে তার ভালো লাগতো / টিএসসি তে বসে 2/1 দিন গল্প ও করেছে , কিন্তু যেদিন দেখল সেই ছেলেটা তারই ডিপার্টমেন্টের টিচার কে হকি স্টিক দিয়ে পেটাচ্ছে তখন তার মনটা ঘৃণায় ভরে গেল , ছেলেটা কি মানুষ না জানোয়ার ? নিজের শিক্ষকের গায়ে কেউ হাত তুলে ? মা দুপুরের লাঞ্চের বক্সটা হাতে নিয়ে মেয়ের পেছনে এসে দাঁড়ালেন / আয়নাতে মেয়ের দিকে চোখ পড়তেই বললেন একেবারে ডানা কাটা পরীর মত লাগছে তোকে / এত সাজগোজ করছিস যে ? কোথাও যাবি নাকি ? কমলিকা মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে হাসল বলল ওই যে তুমি বললে না ডানা কাটা পরি ? সেই পরীর পাখা গজাচ্ছে মা / মা বললেন শোন তোর বাবা আজকে তোকে একটু তাড়াতাড়ি অফিস থেকে চলে আসতে বলেছে / বাসায় সন্ধ্যায় মেহমান আসবে / কমলিকা একটা রহস্যের গন্ধ পেল / সরু চোখে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল , মেহমান মানে ? কিসের মেহমান ? না মানে ওই যে তোর বড় চাচা তোর জন্য একটা সম্বন্ধ এনেছে / ছেলে আমেরিকায় থাকে / ভালো চাকরি করে / অনেক টাকা পয়সার মালিক / ওরা সন্ধ্যার পর আসবে তোকে দেখতে / একটু তাড়াতাড়ি চলে আসিস মা / আমেরিকাতে থাকে ? কমলিকা নাক সিটকালো / মনে মনে ভাবল ,তাহলে তো বোঝাই যাচ্ছে অশিক্ষিত ছেলে / ইন্টারমিডিয়েট ডিগ্রী পাস করে নানা রকম ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে একটা টুরিস্ট ভিসা নিয়ে আমেরিকায় গিয়েছে / তারপর কাগজপত্র হওয়ার আগ পর্যন্ত নানা ধরনের odd job করেছ , ট্যাক্সি ক্যাব চালিয়েছে / এখন আমেরিকার পাসপোর্টে পেয়ে এসেছে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ইংলিশে মাস্টার্স করা একটা মেয়েকে বিয়ে করতে / শখ কত ? কমলিকা বলল মা আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে আমি চললাম /
ড্রাইভার সোলাইমান কে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল কমলিকা / সোলায়মান সালাম দিয়ে বলল , ভালো আছেন আফা ? কমলিকা গাড়ির সামনে এসে দাঁড়াতেই সোলায়মান দরজাটা মেলে ধরল / কমলিকা এক পা গাড়ির ভেতরে দিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল সোলেমান এখন সকাল নয় টা, দশটায় আমার অফিস শুরু / আমি জানিনা তুই কেমনে করবি ? তোকে দশটা বাজার 10 মিনিট আগে আমাকে আমার অফিসে পৌঁছে দিতে হবে / দরকার হলে উড়ে যাবি / সোলেমানের হাসিটা কান পর্যন্ত বিস্তৃত হল / এটা একটা ঘটনা হইল আপা ? কোন চিন্তা নাই / আমি যখন আপা কুয়েতে চাকরি করছি ………… ? এই কথা কম কাজ বেশি তুই গাড়ি চালা / কমলিকা যখন গাড়ি থেকে নামল তখন দশটা বাজতে আরো পাঁচ মিনিট বাকি / লিফটে যদি আরো দুই মিনিট লাগে তা হলেও তিন মিনিট আগেই কমলিকা অফিসে পৌঁছাতে পারবে / কমলিকা অফিসে ঢুকে দেখল একমাত্র পিয়ন অলি এবং তাদের গতকাল ভূমিষ্ঠ হওয়া স্যার ছাড়া আর কেউ তখনও অফিসে আসেনি / কমলিকা পিয়ন অলি কে কফি মেশিনে দুই কাপ কফি বানাতে বলল তারপর সেই কফি নিয়ে বসের রুমে ঢুকলো / গুড মর্নিং স্যার / কেমন আছেন ? কফি দেখে ইফতেখার সাহেব খুশি হয়ে বললেন গুড গুড ভেরি গুড / এই মুহূর্তে মনে মনে কফির কথাই ভাবছিলাম / কেন স্যার ? ভাবি সকালে কফি খাইয়ে দেয় নি ? হা হা করে হাসলেন ইফতেখার সাহেব / ভাবি পেলেন কোথায় ? আমার তো ওই বুড়ো মা ছাড়া আর কেউ নেই / কথাটা শুনে কমলিকা মুখ টিপে হাসতে লাগলো / মনের ভিতর কোথায় যেন বাঁশি বাজতে লাগল / সারাদিন প্রচণ্ড ব্যস্ততার মধ্যে কাটলো সুমি ও কমলিকার / ব্যাংকে দৌড়াদৌড়ি নানা ধরনের কাগজপত্র রেডি এসব করতেই কখন যে দিনটা পার হয়ে গেল বোঝাই গেল না / বিকেল চারটার দিকে ইফতেখার সাহেব অফিস থেকে বেরিয়ে গেলেন / যাওয়ার আগে বলে গেলেন আমি আজকে আর ফিরবো না / যদি আপনাদের হাতে কোন কাজ না থাকে তবে আপনারাও চলে যেতে পারেন / হঠাৎ কমলিকার মনে হল মা আজকে একটু তাড়াতাড়ি যেতে বলেছেন / কমলিকা ও অফিস থেকে বেরিয়ে গেল /বাসায় যেয়ে কমলিকা দেখল তার চাচা চাচি দুজনেই এসেছেন / চাচা কমলিকাকে দেখে হাহা করে উঠলেন বললেন আয় মা আমার কাছে একটু বস / তোকে অনেকদিন দেখিনা / চাচি কমলিকার হাত ধরে বললেন না আগে তুমি বাথরুমে যাও ফ্রেশ হও তারপর আসো , একসঙ্গে চা খাব /
সন্ধ্যার পর মেহমানরা এলেন /ছেলে নিজে এসেছে সঙ্গে তার মা ও এক মামা / চাচি কমলিকার হাত ধরে বললেন তুমি রেডি হও / কমলিকা নিজের রুমে ঢুকে বাথরুম থেকে হাত মুখ ধুয়ে রেডি হতে বসল / কাপড়চোপড় পরে যখন ঠোঁটে হালকা করে লিবিসটিক ঘসছিল তখন চাচি এসে পিঠে হাত রাখলেন / হাত রেখেই চাচি চমকে উঠলেন / কি ব্যাপার তুমি কাঁপছো কেন ? চাচি আমার ভয় করছে / কি যে বল তোমরা আধুনিক শিক্ষিত মেয়ে / তোমরা এমন কথা বললে মানায় ? না মানে এতগুলো মানুষের সামনে কোরবানির গরুর মত দাঁড়িয়ে থাকবো আর সবাই মিলে আমাকে খুঁটিয়ে-খুঁটিয়ে দেখবে , চাচি আমার গা ঘিনঘিন করছে / পাগল মেয়ে / চাচি হাসলেন /
যখন কমলিকাকে মেহমানদের সামনে নিয়ে বসানো হলো তখন কমলিকা রীতিমতো ঘেমে অস্থির / শরীরের ভেতরটা ভেজা ঘামে চপ চপ করছে / ছেলের মা কমলিকাকে দেখে পাশে এসে ঘোমটাটা একটু তুলে দেখলেন / তারপর বললেন আর কারো কোন কথা বলা লাগবে না /মেয়ে আমার পছন্দ হয়েছে এই মেয়েই আমার ছেলের বউ হবে / কমলিকা আড়চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখল / যেহেতু ছেলেটা আমেরিকাতে থাকে তাই চেহারা এবং ড্রেস আপ এ একটা চকচকে ভাব আছে / তবে মাথায় চুল একটু কম এবং মনে হয় সামান্য একটু ভূড়ি ও আছে / বয়স নেহায়েৎ কম না / ত্রিশের এর উপরেই হবে / চাচা হাহা করে গর্বের একটা হাসি দিয়ে বললেন আমি জানি আমার মেয়েকে পছন্দ না হওয়ার কিছু নেই তার পরেও আর কেউ কি কিছু বলবেন ? ছেলেটা কিছুক্ষণ ইতস্তত করে তার মামার কানে কানে কি যেন বললেন / মামা একটু হাত কচলিয়ে বললেন যদি আপনাদের আপত্তি না থাকে তবে ছেলে মেয়ের সাথে দুই মিনিট একান্তে কথা বলতে চায় / চাচা উঠে বাবার সাথে নিচু স্বরে কিছুক্ষণ কথা বললেন তারপর ঘোষণা দিলেন এতে তাদের কোন আপত্তি নেই / আমাকে বললেন তুই তোর ঘরে যা মা / চাচি আমাকে হাত ধরে আমার ঘরে নিয়ে এসে খাটের এক কোনে বসিয়ে দিলেন / তারপর মুচকি হেসে বললেন ভয় পেয়ো না , তোমার ও যদি ছেলে সম্পর্কে কোন প্রশ্ন থাকে তবে তা তুমিও জেনে নিও / চাচি ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন / কিছুক্ষণ পর ছেলেটা ঘরের দরজার সামনে এসে দাঁড়ালেন / একটু ইতস্ত করে বললেন আমি কি ভেতরে আসতে পারি ? আমি অস্ফুট স্বরে বললাম আসুন / ছেলেটা ধীর পায়ে ঘরে ঢুকে খাটের আরেক কোনায় বসলো / কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে বসে থাকল / তারপর মাথাটাকে উঠিয়ে সমস্ত ঘরে চোখ বোলালো / আমার ওয়ারড্রবের উপর রাখা হোম থিয়েটার এর দিকে দৃষ্টি পড়তেই দৃষ্টিটা স্থির হয়ে গেল গভীরভাবে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ / এরপর আবার মাথা নিচু করেই প্রশ্ন করল আপনি কি গান শুনতে খুব পছন্দ করেন ? আমি বললাম হ্যাঁ শুনি মাঝে মাঝে / কি ধরনের গান শোনেন ? আমি একটু ইতস্তত করে বললাম রবীন্দ্র সংগীত / এবার ছেলেটি জড়তা কাটিয়ে হেসে বলল , আমারও রবীন্দ্র সংগীত খুব পছন্দ / এরপর ছেলেটা আবার কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো তারপর আস্তে আস্তে আবার বলতে শুরু করল / আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিজিক্সে অনার্স করে প্রায় বছরখানেক চাকরির চেষ্টা করেছি কিন্তু চাকরি না পেয়ে আমি আমেরিকার একটা ভিসা জোগাড় করে আমেরিকা চলে যাই / সেখানে অবশ্য প্রথম প্রথম আমাকে বেশ কিছুদিন Odd Job করতে হয় / ট্যাক্সিক্যাব চালাই / ওটাই ইললিগাল লোকদের জন্য নিরাপদ একটা জব / গ্রিন কার্ড পেতে আমার প্রায় দুই বছর সময় লেগে যায় / এরপর কাগজপত্র ঠিক হয়ে গেলে ইলেকট্রনিক্স এর উপর একটা দুই বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা করি / এখন সিলিকন ভ্যালিতে একটা জব করছি / একটু থামলেন লোকটা , তারপর আবার বলতে শুরু করলেন , মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়ে গেছে / সুন্দর মেহেদি পরা দুটি হাত খুজতে দেশে এসেছি / আমার সমস্ত দায়িত্ব তার হাতে দিয়ে নিজে একটু অবসর নিতে চাচ্ছি / আপনি কি নেবেন সেই দায়িত্বটা ? কমলিকার তার স্যারের মুখটা মনের ভেতর ভেসে উঠলো মনে হল যেন তার স্যার তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন কমলিকা কি বলে তা শোনার জন্য / কমলিকা বলল আমাকে একটু সময় দিন আমি ভেবে দেখি / ছেলেটা আবার বলল ঠিক আছে আপনি সময় নিন তবে আপনার উত্তরের জন্য আমি অপেক্ষা করবো / বলেই ছেলেটা মাথা নিচু করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল /
কমলিকা র দিন ভালোই যাচ্ছিল / সারাদিনই অফিসে কাজ নিয়ে ব্যস্ত / ঘনঘন ব্যাংকে দৌড়াদৌড়ি / মাঝে মাঝে স্যার ও তাদের সঙ্গে ব্যাংকে যাচ্ছেন / সেদিন ব্যাংকে কাজ করতে করতে লাঞ্চের সময় হয়ে গেল / স্যার কমলিকাকে জিজ্ঞেস করলেন বলুন কি খাবেন দুপুরে ? কমলিকা হাসলো বলল আপনার ইচ্ছা , যা খাওয়াবেন তাই খাব / যা খাওয়াবো তাই খাবেন ঠিকই , কিন্তু পরে বাসায় গিয়ে মার কাছে বদনাম করবেন জানো মা আমাদের স্যার টা যা কিপটা না ? বলেই হেসে গড়িয়ে পড়বেন / স্যার কমলিকাকে নিয়ে একটা চাইনিজে ঢুকে পড়লেন / কিন্তু চাইনিজে ঢুকেও স্যারের মুখে শুধু এলসি , ব্যাংক , মেশিনারিজ , মার্কেটিং শুধু এই আলাপ / কমলিকা মনে মনে ভাবল এর মাথায় অফিস নামক একটা পোকা জন্ম নিয়েছে / একে ডাক্তার দেখানো দরকার /
বিকেলে সবাই একে একে বেরিয়ে গেল / একসময় স্যার ও বেরিয়ে গেলেন / যাওয়ার সময় কমলিকা এবং সুমি র দিকে তাকিয়ে মাথা ঝাঁকালেন / স্যার চলে যেতে কমলিকা গুনগুন করে গাইতে লাগলো শ্যামল মিত্রের সেই বিখ্যাত গানটি “ তুমি কি এমনি করে থাকবে দূরে “ সুমি গান শুনে প্রশ্ন করল কিরে প্রেমে ট্রেমে পড়ে গেলি নাকি ? গান গাইছিস যে ? কমলিকা উত্তর দিল আমার পাখা গজাচ্ছে /
কমলিকা ফর্টিন তলা থেকে লিফটে নেমে গাড়ি বারান্দায় এসে দাঁড়ালো ড্রাইভার সোলায়মানকে ফোনে বলল গাড়ি নিয়ে আসতে / হঠাৎ করেই তার দৃষ্টি গেল রাস্তার উল্টোদিকে / শাড়ি পড়া একটা মেয়ে র দিকে / মেয়েটি একগুচ্ছ ফুল হাতে দাঁড়িয়ে আছে / স্যার রাস্তা পার হয়ে সেই মেয়েটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন / মেয়েটি ফুলগুলো স্যারের হাতে দিলেন / স্যার ফুলগুলো ডান হাতে নিয়ে বাম হাতে রাখলেন তারপর ডান হাত দিয়ে মেয়েটির হাত ধরে মেয়েটিকে কি যেন বলতে লাগলেন / মেয়েটিও ঝলমলিয়া কি যেন বলছিল / দুজনে হাসছিলেন / এরপর দুজনেই হাত ধরে হাসতে হাসতে পাশেই একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে গেলেন / যতক্ষণ দৃষ্টিতে দেখা গেল ততক্ষণ কমলিকা তাকিয়ে রইল / চোখের দৃষ্টি টা কেমন যেন একটু ঝাপসা হয়ে গেল / মনটা কেমন যেন এক ধরনের বিষন্নতায় ভরে গেল /অনেকক্ষণ সেই বন্ধ রেস্টুরেন্টের দরজার দিকে তাকিয়ে থাকলো / তার পর ধীরে ধীরে পা ফেলে গাড়িতে উঠে বসলো / গাড়ি চলতে শুরু করলো / কি মনে হতেই কমলিকা তার ব্যাগে হাত দিয়ে দুটো 500 টাকার নোট বের করে ড্রাইভার সোলায়মানকে বলল এই টাকাটা রাখ / ড্রাইভার বলল গাড়িতে গ্যাস তো আছে / আরে গাধা এটা গ্যাসের টাকা না , তুই এই টাকা দিয়ে আজকে তোর বউয়ের জন্য একটা শাড়ি কিনে নিয়ে যাবি / খবরদার আমার কথা বলবি না তুই বলবি এই শাড়ি তুই নিজেই কিনেছিস / তাইলে তো আফা একটা ভেজাল লাইগ্যা যাইবো / আমার বউ মনে করব নিশ্চয়ই আমি আজকে জুয়া খেলে জিতেছি তাই শাড়ি কিনে আনছি / আমার বউ এই শাড়ি ডে ল মাইরা ফালাইয়া দিব / তোর বউ যেহেতু পছন্দ করেনা তাহলে তুই জুয়া খেলিস কেন ? মনে রাখিস , ভালোবাসার মানুষকে কখনোই অবহেলা করতে নেই / সত্যি কারের ভালোবাসা একটা মানুষের ভিতর একবারই জন্ম নেয় / যারা এই ভালোবাসাকে অবহেলা করে তারা নিতান্তই হতভাগ্য / কি যে কন আফা মাঝে মাঝে একটু আমোদ ফুর্তি র দরকার আছে না ? কমলিকা টিস্যু বক্স থেকে টিস্যু নিয়ে ঝাপসা হয়ে যাওয়া চোখ দুটো পরিষ্কার করে আবার বলল আচ্ছা ঠিক আছে তোর যা ইচ্ছা তুই তাই বলিস তবে শাড়ি কিনে নিয়ে যাবি কিন্তু /
কমলিকা বাসায় ঢুকেই বাথরুমে ঢুকে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করলো / খুব ভালো করে নিজেকে পরিষ্কার করল / মনের ভিতরের সমস্ত রাগ হিংসা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে ফেলতে চাইলো / হালকা নীল রঙের টাঙ্গাইলের একটা তাঁতের শাড়ি পরল / ঠোঁটে স্কিন কালারের লিপস্টিক দিল / তারপর মায়ের সামনে এসে মাকে বলল মা দু’কাপ চা বানাও আমি তোমার সাথে বসে চা খাব / রহিমার মা দুকাপ চা এনে টেবিলে রেখে গেল / মা এসে কমলিকার উল্টো দিকের চেয়ারে বসলেন / তারপর একটা কাপ কমলিকা র দিকে এগিয়ে দিলেন / মা তুমি আমার পাশে এসে বসো / মা হেসে বললেন পাগল মেয়ে / তারপর হাসতে হাসতে কমলিকার পাশে এসে বসলেন / কমলিকা পরপর দুইবার চায়ে চুমুক দিয়ে মাথা নিচু করে বলল , মা আমি ঠিক করেছি চাকরিটা আমি আর করব না / কাল থেকে আর অফিসে যাব না / আর আমি রাজি মা তোমরা আমার বিয়ের আয়োজন কর / বলেই মার বুকে মুখটা গুঁজে দিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো / মায়ের মুখের হাসিটা আরো বড় হল / তিনি জানেন সব মেয়ে ই বিয়ের কথা শুনে কাঁদে / এটা তার সুখের কান্না ///-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 24 August 2021 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 06 January 2022 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 10 July 2022 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 10 April 2023 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 20 October 2024 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 14 October 2025 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
Friends
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
AdabenTatali
@adabentatali
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
চাঁদ সদাগর
@chand_sodagor
তুলট ডেস্ক
@toulot
নির্বোধ সুদীপ্ত
@sajalbhowmick
M A Kuddus Hossen
@makuddushossen
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
@mohammad-shahzaman



খুব সুন্দর গল্প। কমলিকার বর্ননা পড়তে পড়তে বার বার তার প্রেমে পড়ে যাচ্ছিলাম।