Profile Photo

Himu AhmedOffline

  • Himu-Ahmed
  • Profile picture of Himu Ahmed

    Himu Ahmed

    4 years, 8 months ago
    Profile picture
    4 years, 8 months ago

    ব্রেইন হ্যাকিং প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ বিশ্ব

    ।।হিমু আহমেদ।। 

    প্রযুক্তির উৎকর্ষতার যুগে চীন তৈরি করেছে নকল সূর্য। এ কৃত্রিম সূর্যের তাপমাত্রা আসল সূর্যের চেয়ে আট গুণ বেশি। সূর্যের কেন্দ্রের উষ্ণতা যেখানে দেড় কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে চীনের এই ‘কৃত্রিম সূর্য’ উৎপন্ন করতে পেরেছে ১২ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা অর্থাৎ সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রার ৮ গুণ!  অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। 
    এ যুগে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ করা তো কোন ভয়ানক স্বপ্ন নয়। বাস্তবেই তা সম্ভব হচ্ছে। মানুষের স্নায়ু-সংকেত নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি আয়ত্তে আসায় মস্তিষ্ক হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের বরাতে প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট মাদারবোর্ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ‘সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে। তাই দ্রুত নিরাপত্তা অবকাঠামো তৈরি করা প্রযোজন; যাতে আমাদের মস্তিষ্ককে আমাদের বিরুদ্ধে কেউ কাজে লাগাতে না পারে।’
    মানুষের মস্তিষ্ক হ্যাক করে গোপন তথ্য চুরি করা যে সম্ভব, তার প্রমাণ আগেই দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ড এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিজ্ঞানীরা। তারা ২০১২ সালের শুরুর দিকে স্বল্পমূল্যের ইমোটিভ ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেস বা ইমোটিভ বিসিআই ব্যবহার করে মানুষের ব্রেইন হ্যাক করতে সক্ষম হন। গবেষণায় সহযোগিতা করা স্বেচ্ছাসেবকদের কয়েকজনকে ইমোটিভ বিসিআই হেডসেট পরিয়ে কম্পিউটারের সামনে বসিয়ে দেন বিজ্ঞানীরা। এরপর মস্তিষ্কের পি-৩০০ সিগন্যাল অনুসরণ করে সংগ্রহ করেন স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যক্তিগত বিভিন্ন গোপন তথ্য।
    ইমোটিভ বিসিআই ব্যবহার করে স্বেচ্ছাসেবকদের মস্তিষ্ক থেকে সংগ্রহ করা ডেটা থেকে খুব সহজেই তাদের ঠিকানা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং কার্ড পিন নম্বর খুঁজে বের করতে সক্ষম হন বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞানীরা তখন আশঙ্কা করছিলেন, এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ওপর হ্যাকিং চালাতে পারে নানা অশুভ শক্তি।
    ২০১৩ সালের পর থেকে ব্রেইন হ্যাকিংয়ের অভিযোগে আমেরিকার বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা হয়েছে। এসব মামলার নথিপত্র পাওয়া গেলেও সর্বশেষ ফল কি হয়েছে তা জানা যায়নি।
    সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটেছে এক অদ্ভুত ঘটনা। বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় সংবাদটি প্রচারিত হওয়ার পর ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। যদি সত্যি সত্যিই এ ঘটনাটির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়, তবে তাহলে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়াবহ ভবিষ্যৎ। 
    বিভিন্ন পত্রিকার সংবাদ হতে জানা যায় কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার ৩২ বছর বয়সের টগবগে যুবক হারুনুর রশিদের  ব্রেইন হ্যাক করা হয়েছে। হারুন উপজেলার আলি আকবার ডেইল ইউনিয়নের সিকদারপাড়ার বাসিন্দা এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। হারুন নিজেই পুলিশের কাছে তার ব্রেইন হ্যাক করার কথা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে তিনি দুজনকে অভিযুক্ত করে থানায় জিডি করেছেন। সাইবার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলাও করেছেন।
    মামলার তদন্ত করছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। হারুনের অভিযোগ, হ্যাকাররা তার ব্যাংক হিসাব ক্লোন করে বিপুল পরিমাণ অর্থও হাতিয়ে নিয়েছে। এখন তার ওপর রাত-দিন সাইবার টর্চার চলছে। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ‘মস্তিষ্ক থেকে সব স্মৃতি মুছে ফেলা’র হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
    হারুন জানিয়েছেন, বছর তিনেক আগে তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে তার শ্যালিকা আসমা উল হোসনা ষড়যন্ত্র করে  তাকে চায়ের সঙ্গে মিশিয়ে কিছু একটা খাওয়ায়। এর পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুমান্ত অবস্থায় তার শ্যালিকার সহযোগিতায় হ্যাকার চক্রটি ইনজেকশন পুশ করে তাকে অচেতন করে। এরপর তার মাথায় একটি ছোট ইলেকট্রিক যন্ত্র অর্থাৎ কম্পিউটার ডিভাইস বা নিউরো চিপ স্থাপন করে। এরপর আনুমানিক ৪-৫ ঘণ্টা অচেতন অবস্থায় চলে যান তিনি। জাগার পর খেয়াল করেন মাথায় হাল্কা চিনচিনে ব্যথা অনুভব হচ্ছে। মাথায় হাত দিয়ে হালকা রক্তপিণ্ডের মতো কিছু একটার অস্তিত্ব পান। এরপরই তিনি শ্যালিকা আসমা উল হোসনাকে মাথায় কি হয়েছে দেখতে বলেন। তখন শ্যালিকা নির্বিকার চিত্তে জবাব দেন, কোনো পোকার কামড়ে বা কোনো কারণে হয়তো একটুখানি রক্তের মতো দেখা যাচ্ছে।
    হারুন বলেন, ‘এ ঘটনার পরদিন আমি একজন খুব পরিচিত কণ্ঠের গায়েবি আওয়াজ শুনতে পাই। সেখানে আমাকে গালাগাল করা হচ্ছিল। ইতোমধ্যেই আমার ফেসবুক এলোমেলো হয়ে যায়। ব্যবহৃত আইফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাবজিসহ ৫টি গেমস ডাউনলোড হয়ে যায়। কয়েক দফায় আমার ব্যাংক হিসাব থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গায়েব হয়ে যায়। এরপর ক্রমাগত মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। একান্ত আপনজনদের কেউই আমার এসব ভূতুড়ে বিষয় বিশ্বাস করা তো দূরের কথা হাসিঠাট্টার রসদ বানাতে থাকে আমাকে।’
    তিনি বলেন, ‘পরে পরিচিত একজন আইটি বিশেষজ্ঞকে আমার আইফোনের বিচিত্র আচরণ ও ফেসবুকের ওপর আমার নিয়ন্ত্রণহীনতার বিষয়টি শেয়ার করলে তার পরামর্শ অনুযায়ী Apple, google এবং ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করে বার্তা পাঠাই। একপর্যায়ে নিশ্চিত হই Apple ID হ্যাক করে আমার Phone এর আইটিউনসহ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছে হ্যাকাররা।’
    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা Low Frequency Micro-chip শনাক্তকারী উবারপব দ্বারা হারুনের মাথায় নিউরো চিপের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এরপর বিদেশি একজন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী একাধিকবার চেষ্টার পর এমআরআই করে হারুনের মাথায় নিউরো চিপ ধরা পড়ে। তবে ভিকটিম হারুন এতদিন মনে করতেন তার শরীরের কোনো ধরনের কম্পিউটার ডিভাইস ইমপ্ল্যান্ট না করে তার ব্রেইন কন্ট্রোল করছে হ্যাকাররা।
    দেখা গেছে, হারুন কোনো অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন হাতে নিলে তার শরীর হাল্কা কেঁপে ওঠে। তার হাতের স্পর্শের পরপরই ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাবজি গেমসসহ ৪ থেকে ৫টি ক্ষতিকর গেমস ডাউনলোড হয়ে যায়। হারুনের হাত দিয়ে স্পর্শ করা স্মার্টফোনটি মুহূর্তেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির বা ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। এতে ফোনে থাকা যাবতীয় ডকুমেন্ট ও তথ্য সহজে হ্যাকাররা পেয়ে যাচ্ছে।
    হারুনের দাবি, কুতুবদিয়া উপজেলার বাসিন্দা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া আতিকুর রহমান নামের একজন শিক্ষার্থী তার শ্যালিকা আসমা উল হোসনার সহযোগিতায় নিউরো চিপ স্থাপন করে তার ব্রেইন হ্যাক করেছে এবং তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ক্লোন করে প্রায় ২০ লাখের বেশি টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে।
    হারুণের ভাষ্য, বিদেশি একটি ‘ব্রেইন হ্যাকার’ চক্র বাংলাদেশে রয়েছে। তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে দেশি কিছু হ্যাকার। তারা ইসরাইল ও আমেরিকা থেকে আনা ক্ষুদ্র কম্পিউটার ডিভাইস চিপ টার্গেট করা ব্যক্তিদের শরীরে স্থাপন করে এবং যাবতীয় তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি অর্থও লুটে নিচ্ছে। আতিকুর রহমান সে দলের একজন। আতিকের মাথায়ও নিউরো চিপ রয়েছে। সে হ্যাকারদের সঙ্গে ব্রেইন টু ব্রেইন কথা বলতে সক্ষম। তাদের অর্থাৎ হ্যাকারদের মধ্যে নিয়মিত কথা হয়।
    হারুন জানান, সম্প্রতি তাকে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করে অপারেশন করে মাথা থেকে নিউরো চিপ ফেলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে হ্যাকার আতিকুর রহমান। তা না হলে তার মস্তিষ্ক থেকে সবকিছু মুছে ফেলে পঙ্গু করার হুমকি দিয়েছে।
    হারুন আরও জানান, থানায় জিডির পাশাপাশি ঢাকায় সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন তিনি। প্রথমে ভুয়া ও হাস্যকর উল্লেখ করে মামলাটি নিতে চায়নি ট্রাইব্যুনাল। পরে তার কথা শোনার পর মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশের ঢাকার গোয়েন্দা বিভাগকে তদন্তের ভার দেওয়া হয়।
    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শামীম বলেন, ‘বাদীর ফোনটি ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য পাঠানোর আগ মুহূর্তে লস্ট মুডে চলে যায়। বিবাদীর একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট জব্দ করা হয়েছিল। সেটিতে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। এ কারণে মামলাটি নিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়া যায়নি। তবে ভিকটিমের মাথায় যেহেতু এখন চিপের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে; তাই ভিকটিম চাইলে মামলাটি আবার পুনরুজ্জীবিত করতে পারেন।’
    কক্সবাজার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ফয়সাল আহমেদ হারুনের কাছে সবকিছু শোনার পর বলেন, ‘আমি সিআইডির ক্রাইম বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছি। ইতোপূর্বে বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই এ বিষয়ে কাজ করা বেশ কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং। তাই সিআইডি ক্রাইম বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে বিষয়টি উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হবে।’ 
    তবে মূল আসামী আতিকুর রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট হলেও এত এক্সপার্ট নই। তাছাড়া কোনো হ্যাকার চক্রের সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই।’
    এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ শামশুল ইসলাম খান বলেন, ‘ব্রেইন হ্যাকের বিষয়টি অবিশ্বাস্য এবং হলিউড- বলিউডের মুভির কোনো গল্পের মতোই মনে হচ্ছে।’ 
    এ তো গেল বাংলাদেশের একটি বিশেষ ঘটনা প্রসঙ্গ। 
    বাংলাদেশে এমন অনেক ঘটনা ঘটে যা আমাদের জন্য সত্য-মিথ্যা নির্ধারণ করা দুরূহ হয়ে পড়ে। তবে এটা নিশ্চিত যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই মানুষের মস্তিষ্কে ক্ষুদ্র কম্পিউটার চিপ স্থাপন করে মানুষকে আরো বুদ্ধিমান করে গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা। ওইসব চিপ মস্তিষ্ক ও কম্পিউটারের  মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি করে মানুষের বুদ্ধিমত্তা বাড়াবে বলেই দাবি করা হচ্ছে।
    উচ্চ প্রযুক্তির চিপ মানুষের মস্তিষ্কে স্থাপনের মাধ্যমে বুদ্ধিমত্তা বাড়ানোর পথ তৈরি করছেন বিজ্ঞানীরা। মানুষের মস্তিষ্ক হ্যাক করে তার কর্মক্ষমতা আরো বাড়ানোর চেষ্টায় কাজ করছেন বিশেষজ্ঞরা। নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির নিউরো সায়েন্টিস্ট ড. মোরান কার্ফ জানিয়েছেন, ‘সাম্প্রতিক প্রযুক্তিগত উন্নয়নে মানুষের মস্তিষ্কে কম্পিউটার চিপ স্থাপন করে তার ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি সম্ভব হবে আগামী ৫ বছরের মধ্যেই।’ মানুষের বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে এই নিউরো সায়েন্টিস্ট এমনই একটি বিশেষ চিপ নিয়ে গবেষণা করছেন।
    অন্যদিকে, মানুষের মস্তিষ্কে চিপ বসানোর এ ধরনের আইডিয়া নিয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ইলন মাস্ক নিউরালিংক নামের একটি ব্রেন-কম্পিউটার ডিভাইস তৈরির কাজ করছেন। এমনকি আমেরিকান সেনাবাহিনী মানুষের মস্তিষ্ক হ্যাক করার উপায় খুঁজছে। এন থ্রি নামে আমেরিকান সেনাবাহিনী একটি প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে, যার লক্ষ্য ভবিষ্যতে ব্রেইন ওয়েভের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত কাজ করা। তার মানে হলো সেনা সদস্যরা অদূর ভবিষ্যতে হয়তো তাদের মস্তিষ্কের মাধ্যমে ড্রোন ও সাইবার সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।
    বিষয়টা সায়েন্স ফিকশনের মতো মনে হলেও নন সার্জিকাল সিস্টেম হিসেবে গিলে খাওয়া, শরীরে ইনজেক্ট করা বা নাক দিয়ে শরীরের ভেতরে নেয়া কোনো ডিভাইস উদ্ভাবনের কথা ভাবছে আমেরিকান সেনা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আমেরিকান সেনাবাহিনী টার্গেটেড নিউরো প্লাস্টিসিটি ট্রেইনিং নামের একটি প্রোগাম হাতে নিয়েছে। এর ফলে ইলেকট্রিকাল স্টিমুলেশনের মাধ্যমে একজন মানুষ এমন অনেক জটিল কাজ সহজে করতে পারবে, যা স্বাভাবিকভাবে করতে গেলে কয়েক হাজার ঘণ্টা ব্যয় হতে পারে।
    ড. মোরান বলেন, এমনভাবেই বিজ্ঞানী ও গবেষকরা মস্তিষ্কে কোনো ধরনের অপারেশন ছাড়া প্রযুক্তির সহায়তায় মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ করার পথ খুঁজছে। এমন কিছু কি খাওয়া যায়, যা মস্তিস্কে গিয়ে জমা হবে ও সেখানে গিয়ে কাজ করতে পারবে? এই প্রশ্নের সমাধান হয়তো কয়েক বছরেই সম্ভব, বলছেন ড. মোরান।
    তবে ইউরোপীয় গবেষকরা “নিউরো-চিপস” তৈরি করেছেন যাতে জীবিত মস্তিষ্কের কোষ এবং সিলিকন সার্কিট একসাথে মিলিত হয়।
    এই অর্জনটি একদিন স্নায়ুবিক অসুস্থতার চিকিৎসা করতে বা জীবিত নিউরনের সাহায্যে সংখ্যার ক্র্যাঙ্ক করে এমন জৈব কম্পিউটারগুলির বিকাশের জন্য পরিশীলিত নিউরাল প্রোথেসিজ তৈরি করতে সক্ষম করতে পারে।
    স্নায়ুজনিত ব্যাধি চিকিৎসা করার জন্য বা জীবন্ত কম্পিউটার তৈরি করার জন্য প্রযুক্তিটি যথেষ্ট উন্নত হওয়ার কয়েক দশক আগেও হতে পারে, গবেষকরা বলেছেন, তবে কাছাকাছি সময়ে, চিপস ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের জন্য ওষুধের স্ক্রিনিংয়ের একটি উন্নত পদ্ধতি সরবরাহ করতে পারে।
    “ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থাগুলি দ্রুত গবেষণার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উপায়গুলি আবিষ্কার করার জন্য, নিউরনে ড্রাগগুলির প্রভাব পরীক্ষা করার জন্য চিপটি ব্যবহার করতে পারে”।
    গবেষকরা এখন উদ্দীপনা চলাকালীন নিউরনগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করার উপায়গুলি নিয়ে কাজ করছেন। দলটি নিউরো-চিপ নিয়ন্ত্রণের জন্য নিউরনের জিনগত নির্দেশাবলী ব্যবহারের সম্ভাবনাটিও অনুসন্ধান করছে। হয়ত খুব দ্রুতই এ অনুসন্ধান পর্বের কাজেরও একটা ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে। 

    গবেষকদের এ গবেষণা সফল হলে একদিকে যেমন চিকিৎসা ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য আসবে, অপরদিকে অপরাধী চক্র এটাকে ভয়াবহ অপরাধ সংগঠনের কাজে ব্যবহার করবে। ফলশ্রুতিতে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়াবহ ভবিষ্যৎ। ব্রেইন হ্যাকিংয়ের এ প্রযুক্তি মানবসমাজের জন্য আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ তা সময়ই বলে দেবে। 

    [হিমু আহমেদ, প্রাবন্ধিক, গল্পকার, শিশু সাহিত্যিক, কলাম লেখক। ০১৭৪৫৯৬৪০১১]

    3
    1 Comment
Skip to toolbar