-
কোন এক দুপুরে…..
মু. রেজাউল করিম
মধ্যাহ্ন ভোজে একটি খাবার হোটেলে ভোজন কর্ম সম্পাদন করিতেছিলাম। হঠাৎ আপাতমস্তক কৃষ্ণ বস্ত্রাবরণে আবৃত এক নারী প্রবেশ করিলেন। তাঁহার পিছন পিছন ১০/১২ বছর বয়সের এক কিশোরও প্রবেশ করিল। শ্বেত বর্ণের পাঞ্জাবী-পাজামা এবং টুপি পরিহিত। বোধহয়, কোন মাদ্রাসার ছাত্র। কিছুক্ষণ পর পরিস্কার বুঝিতে পারিলাম, নারী এবং কিশোর মা-ছেলে সম্পর্ক। ছেলেটি এখানকার হাফিজিয়া মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র। মা ছেলেকে দেখিতে আসিয়াছেন। মা-ছেলে একটি টেবিলে মুখোমুখি বসিলেন। মা বাসা থেকে ছেলের পছন্দের খাবার রন্ধন করিয়া আনিয়াছেন। মা ব্যাগ থেকে খাবার বাহির করিয়া তাঁহার পরম আদরের ধন ছেলের সামনে পরিবেশন করিতেছেন। ছেলে পরিপূর্ণ তৃপ্তিতে উদরপুর্তি করিতেছে। মা মমতার দৃষ্টির প্রলেপ দিচ্ছেন আর ছেলেকে কতেক উপদেশ দিচ্ছেন। ঠিকমতো লেখা-পড়া করিবে। নামাজ পড়িবে। কারো সাথে ঝগড়া-ফ্যাছাদ করিবেনা। হুজুরের সঙ্গে উত্তম আচরণ করিবে। নিয়মিত গোসল করিবে। শরীরের প্রতি যত্ন নিবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। ছেলে খাইতেছে আর মাথা নেড়ে সকল উপদেশ মানিয়া চলিবার প্রতিশ্রুতি দিতেছে। মা বলিলেন, আমি আগামী মাসেও তোমাকে দেখিতে আসিব। ভোজন শেষে মা ছেলেকে কিছু টাকা দিয়া বলিলেন, যখন কিছু খাইতে ইচ্ছা করিবে এই টাকা দিয়া খেয়ে নিও। মা ছেলেকে অশ্রুসজল নয়নে বিদায় দিলেন। ছেলে মাঝে মাঝে পিছন ফিরিয়া দেখে জননী চলিয়া গেল কিনা। ছেলের চলার পথের পানে মা এক নজরে তাকিয়ে আছেন। আসন্ন পাঁজর ভাঙ্গা নিরব কান্নায় অশ্রুতে ভরিয়া গিয়াছে তাঁহার আখিঁযুগল। পরক্ষণেই হয়তবা দুঃখিনী জননী স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে আশু জান্নাতের ঘ্রাণ অণুভব করিতেছেন। তখন মহানন্দে উদ্দেলিত হচ্ছে তাঁহার ছাতি।6 Comments
Friends
Jabed A Emon
@jabedaemongmail-com
নাজমুল হক জুয়েল
@nazmulhoqjewel
মীর অনাবিল
@miranabil
Shohag arnob
@shohagarnobgmail-com
Kabi Doctor Mohammad Zakir Hossain Biplob
@zakir-hossain
Drako Shajib
@drako
স্মৃতি রানী রত্না
@srratna1990
মোঃ বায়েজীদ
@bayejid
Shimanto Peter Gomes
@shimanto-peter-gomes



সুন্দর গদ্যের জন্য অভিনন্দন।