-
বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২১
প্রতিবেদক : আবিদ হোসেন তামিম
(খেলাধুলা বিষয়ক প্রতিবেদন)টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২১ অনুষ্ঠিত হয়েছে ওমানে । সপ্তম আসরের মূলপর্বের ম্যাচগুলো হয়েছে শারজাহ, আবু ধাবি এবং ডুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ।
এই আসরে বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ । ওপেনিংয়ে ছিলেন না তামিম, এবারে নাঈম শেখ এবং লিটন দাশ ওপেনিং করেছেন । এদিকে মুশফিকুর রহিম টি-টোয়েন্টি থেকে উইকেট কিপিংয়ে অবসরের ঘোষণা দিয়ে স্কোয়াডে ছিলেন ব্যাটসম্যান হিসেবে । নুরুল হাসান সোহান এবং লিটন দাশ উইকেট কিপিং করেছেন । দলে অল-রাউন্ডার ছিলেন ছয়জন : সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন, শেখ মেহেদী, শামীম পাটোয়ারী এবং সৌম্য সরকার । নাসুম আহমেদ স্পিন বলিং করেছেন এবং ফেইস বলার হিসেবে রয়েছেন তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, সাঈফ উদ্দিন, এবং রুবেল হোসেন ।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সরাসরি মূলপর্বে খেলতে পারেনি । সম্মুখীন হতে হয়েছে রাউন্ড ওয়ান অর্থাৎ বাছাইপর্ব পদ্ধতির । স্কটল্যান্ড, ওমান, পাপুয়া নিউগিনি এবং বাংলাদেশ– বাছাইপর্বে “B” গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত হয় ।
বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচটিতে ১৮ই অক্টোবর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে টাইগারদের শুরুটা হয়েছিল চমৎকারভাবে । মাত্র ১৪০ রানে শেষ করে স্কটল্যান্ডের ইনিংস । মেহেদী তিন উইকেট এবং সাকিব-মুস্তাফিজ দুইটি করে উইকেট নেয় । কিন্তু ১৪১ রানে জয়ের লক্ষে ব্যাটিংয়ে নেমে যেন ধ্বস নামে বাংলাদেশের ব্যাটারদের । উইকেট চাপিয়ে খেলতে গিয়ে রান কম উঠেছে আবার শট করে খেলতে গিয়ে উইকেট হারাতে হয়েছে । খুব আশা নিয়ে যখন প্রতিটা বাঙ্গালি ভক্ত একটা উজ্জ্বল সমাপ্তি চেয়েছিল, তখনই যেন পরাজয়ের ঢাক বেজে উঠলো । সদ্য যেখানে নিউজিল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়েছিল সেখানে স্কটল্যান্ডের কাছে হার স্বীকার করে নেয় মাত্র ৬ রানের ব্যবধানে ।
তখন শঙ্কা উঠেছিল বিশ্বকাপের মূলপর্বে আদৌ খেলতে পারবে কিনা তা নিয়ে । তবে টাইগাররা দেখিয়ে দিলো চমক । সকল শঙ্কা-আশঙ্কা কাটিয়ে উঠে পড়ল মূল মঞ্চে । ওমানের বিপক্ষে ২৬ রানে যেখানে মোস্তাফিজের শিকার চার উইকেট এবং পাপুয়া নিউগিনি’র বিপক্ষে ৮৪ রানে রেকর্ড জয় লাভ করে টাইগাররা । নিশ্চিত করল সুপার টুয়েলভ ।
বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে ওমানের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের জয়ে “B” গ্রুপ থেকে রানার্স আপ হয়ে সুপার টুয়েলভে উত্তীর্ণ হয় বাংলাদেশ । সুপার টুয়েলভে “গ্রুপ-1” এর অন্তর্ভুক্ত হয় বাংলাদেশ । যেখানে টাইগারদের প্রতিপক্ষ দল হিসেবে খেলবে শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সাউথ আফ্রিকা এবং অস্ট্রেলিয়া ।
২৪ই অক্টোবর বিশ্বকাপের মূলপর্বের প্রথম ম্যাচটিতে টস হেরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ । নাঈম শেখ (৬২ রান) এবং মুশিফকুর রহিম (৫৭* রান) ব্যাট চালিয়ে রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশকে এনে দেন ১৭১ রানের ইনিংস । যা হয়তো একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় লাভের জন্য যথেষ্ট ছিল । কিন্তু লিটনের দুইটি ক্যাঁচ মিস, সাথে বলিং ব্যর্থতার দায়ে জয়ের উচ্ছ্বাস বিতরণ করেও হাসতে হাসতেই বরণ করে নিল সাক্ষাৎ পরাজয় । সাত বল হাতে রেখে পাঁচ উইকেটে জয় লাভ করে শ্রীলঙ্কা ।
২৭ই অক্টোবর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে বিপর্যয়ের মুখে পড়লো টাইগাররা । ১৯ তম ওভারে নাসুমের দুইটি ছক্কায় বাংলাদেশ পার করলো ১২০ এর কাঠগড়া । ইংল্যান্ডকে ১২৬ রানের টার্গেট দিয়ে ভীত আশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমে নাসুম আর শরিফুলের বলে দুই উইকেট হারিয়ে হাতে পাঁচ ওভার পাঁচ বল রেখেই আট উইকেটে বিরাট জয় লাভ করে ইংল্যান্ড ।
২৯ই অক্টোবর তৃতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম বাংলাদেশের ঘটে যাওয়া খেলাটা যেন “তীরে এসে তরী ডোবা’র” সর্বোত্তম উদাহরণ । টস হেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করে সংগ্রহ করে ১৪২ রান । ১৪৩ রানের লক্ষে ব্যাট হাতে টাইগাররা উইকেট বাঁচিয়ে খেললেও রান রেট তুলনামূলক কম ছিল । শেষ বলে যেখানে চার রানের দরকার ছিল, সেখানে ব্যাটিংয়ে থাকা মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, আন্দ্রে রাসেল’র করা সেই বলটি ব্যাটেই লাগাতে পারেন নি । আবারো হার মাত্র তিন রানের ব্যবধানে ।
সেসময়ই সাধারণ চোখে বিশ্ববাসীর কাছে সেমি’তে ওঠার আশা সম্পূর্ণরূপে শেষ বাংলাদেশের । কিন্তু হাজার হাজার ভক্তের করা হাজার হাজার সমীকরণ তখনো জেগে ছিল । কাগজে-কলমের এক লম্বা-জটিল সমীকরণ দিয়ে সেমি’তে ওঠার সর্বশেষ আশাও নিভে গেল সাউথ আফ্রিকার ম্যাচে । লিটন (২৪ রান) আর মেহেদী (২৭ রান) ছাড়া আর কেউই ছন্দে ব্যাট তুলতে পারেন নি । সৌম্য, মুশফিক, আফিফ আর নাসুম আটকে যান শূন্য (০) রানে । দলের বাকিরাও তেমন রান সংগ্রহ করতে পারেন নি । মাত্র ৮৪ রানে অলআউট হয়ে যায় টিম টাইগার্স । ৮৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সাউথ আফ্রিকা ছয় ওভার তিন বল হাতে রেখেই ছয় উইকেটে জয়ী ঘোষিত হয় । ততক্ষণে তোলপাড় শুরু হয়ে যায় দেশজুড়ে । স্যোশাল মিডিয়ায় নানাভাবে সমালোচনার শিকার হতে হয় বাংলাদেশের সকল ক্রিকেটারদের । বিশেষ করে লিটন, আফিফ আর সৌম্য ছিলো সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু ।
দেশ থেকে সেমি’তে উঠার স্বপ্ন নিয়ে আসা টাইগাররা তখন শেষ ম্যাচ জিতে অন্তত একটি জয় নিয়ে দেশে ফিরতে চেয়েছিল । কিন্তু সেটাও নিছক স্বপ্ন হয়েই রইল । ঘরের মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৬২ রানে অল-আউট করে যেমন রেকর্ড গড়েছিল টাইগাররা, তার প্রতিশোধস্বরূপ অস্ট্রেলিয়া টস জিতে বল হাতে নিয়ে পনেরো ওভারে মাত্র ৭৩ রানেই দমিয়ে দেয় বাংলাদেশকে । অ্যাডাম জাম্পা সংগ্রহ করে পাঁচটি উইকেট । ব্যাট হাতে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ছয় ওভার দুই বলেই ম্যাচ জিতে যায় আট উইকেটে । তাসকিন আর শরিফুল একটি করে উইকেট নেয় ।
এদিকে বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে বাংলাদেশের খেলা পর্যবেক্ষণ করে অস্ট্রেলিয়ান সাবেক ওপেনার মার্ক ওয়াহ বলে বসেন যে বাংলাদেশের ব্যাটিং মান তৃতীয় শ্রেণির খেলোয়ারদের চেয়েও খারাপ । এই সাবেকের পর্যবেক্ষণটা যথেষ্ট যুক্তিসম্মত হলেও একজন টাইগার ভক্ত হিসেবে যে কারো কাছে সেটা মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর ।
সর্বশেষে সুপার টুয়েলভের সকল ম্যাচ হেরে শূন্য হাতে ৫ই নভেম্বর দেশে ফিরে আসে টাইগাররা । কিন্তু ইতিহাসের পাতায় জমা রয়ে থাকবে দুর্দিনের এই স্মৃতিগুলো । এখন হাজার হাজার ভক্তের একটাই বিশ্বাস, “সুপার টুয়েলভ’র সবচেয়ে বাজে দল হচ্ছে বাংলাদেশ ।” যার বিবরণ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের যেকোনো একটি ম্যাচ দেখলেই বুঝতে পারবে বিশ্বের যেকোনো ক্রিকেটপ্রেমী ।
সত্যিকার অর্থে এরকম বাজে পারফরম্যান্সের পিছনে কারণ কী ছিল? ব্যাটসম্যানরা রান তুলতে পারলো না কেনো? — এরকম হাজার হাজার প্রশ্ন যখন চোখের সামনে তখন সমাধান লুকিয়ে রয়েছে কোন বেড়াজালে!
ব্যর্থ এই বিশ্বকাপে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের খতিয়ানে কে কোন দিক থেকে এগিয়ে আছেন? আসুন, সেটাও দেখে নেওয়া যাক একনজরে ।
ব্যাটিং :—
বাংলাদেশ এবার যা ব্যাটিং দেখিয়েছে তা কোনোভাবেই আদর্শ টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ের পর্যায়ে পড়ে না । ১২০ বলের খেলায় যেখানে সবার স্ট্রাইক রেট হওয়া উচিত আকাশচুম্বী, সেখানে চার-ছয়ে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের নিঁখুত অনীহা ।
প্রথম রাউন্ড ও সুপার টুয়েলভ মিলিয়ে আট ম্যাচের মধ্যে সাত ম্যাচ খেলে রানের তালিকায় শীর্ষে আছেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম (১৭৪ রান) । তবে অন্যান্য দেশের ওপেনাররা যেখানে শুরু থেকেই ব্যাট চালিয়ে খেলতে থাকে সেখানে নাঈমের স্ট্রাইক রেটই (১১০.৮২) বলছে এতে তাঁর রুচি নেই তেমন ।
সে হিসাবে আবার এগিয়ে আছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ । তবে সেটাও তেমন আশাব্যঞ্জক কিছু নয় । আট ম্যাচ মিলিয়ে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মাহমুদউল্লাহ (১৬৯ রান) শীর্ষে আছেন স্ট্রাইক রেটের হিসাবে ১২০.৭১ । স্ট্রাইক রেটের হিসেবে তিন ও চারে আছেন যথাক্রমে মুশফিকুর রহিম (১১৩.৩৮) ও সাকিব আল হাসান (১০৯.১৬) । অবশ্য প্রতিটা বলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রান তুলতে তাঁদের যথেষ্ট সংগ্রাম করতে হয়েছে ।
সংগ্রামের হিসেবে অবশ্য বাংলাদেশের আরেক ওপেনার লিটন দাসের জুড়ি নেই । বলপ্রতি এক রানও নিতে পারেন নি এই ওপেনার । স্ট্রাইক রেট মাত্র ৯৪.৩২ । তবুও রানের হিসাবে ১৩৩ রান করে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছেন তিনি । রানের হিসাবে পঞ্চম স্থানে থাকা সাকিব ১৩১ রান আর ষষ্ঠ স্থানে থাকা আট ইনিংস খেলে সাকল্যে ৫৪ রান করেছেন আফিফ ।
এবার প্রথম রাউন্ডের হিসাব বাদ দিয়ে শুধু সুপার টুয়েলভের হিসাব করা যাক । এখানেও রানের হিসাবে শীর্ষে মোহাম্মদ নাঈম । যদিও ৫ ম্যাচ খেলে তাঁর রান ১১০ । বাকিরা ৫ ম্যাচ খেলে ১০০ রানও পার করতে পারেন নি । স্ট্রাইক রেটের হিসাবে সুপার টুয়েলভে অবশ্য নাঈমকে টপকিয়েছেন মুশফিক । শীর্ষে থাকা মুশফিকের স্ট্রাইক রেট ১২০.২৫ ।
বোলিং :—
প্রথম রাউন্ড আর সুপার টুয়েলভ মিলিয়ে বোলিংয়ের দিক দিয়ে সবচেয়ে ভালো করেছেন সাকিব (১১ উইকেট) । মেহেদী আর মোস্তাফিজ নিয়েছেন আটটি করে উইকেট । তাসকিনের উইকেট ছয়টি । সবচেয়ে কিপটে বোলিংয়ের দিক দিয়েও সবার ওপরে সাকিব । ওভারপ্রতি ৫.৫৯ রান দিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার । বাকিদের ইকোনমি রেটও আশেপাশেই— মেহেদীর ৬.১২, তাসকিনের ৬.৫০ ও সাইফউদ্দিনের ৭ । হতাশ করেছেন মোস্তাফিজ । দুহাতে রান বিলিয়েছেন তিনি । আইপিএলের অভিজ্ঞতা নিয়েও তাঁর ইকোনমি ৯.২৫ ।
তবে শুধু সুপার টুয়েলভের হিসাব করলে অবশ্য সবাইকে টপকে গিয়েছেন নাসুম আহমেদ । চার উইকেট পেয়েছেন । সমান উইকেট শরিফুলেরও । তিনটি করে উইকেট মেহেদী হাসান ও তাসকিন আহমেদের । সাকল্য দুটি উইকেট পেয়েছেন মোস্তাফিজ । ইকোনমির হিসাবে এ পর্বে একমাত্র শরিফুলই ছয়ের কম রান দিয়েছেন (৫.৭৫) । ওভারপ্রতি ৬.২৬ রান দিয়ে ভালো বোলিং করেছেন তাসকিনও । বাকিদের হতশ্রী দশা । তবে এখানেও সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছেন মোস্তাফিজ । ওভারপ্রতি ১০ রান দিয়েছেন এই কাটার-মাস্টার ।
এবারের বিশ্বকাপে টাইগারদের বাজে পারফরম্যান্স করার বেশ কিছু দুর্বলতা প্রকাশিত । সেগুলোও জেনে নেওয়া যাক ।
দলের ডিপেন্ডবল প্লেয়ারদের দুর্বলতা : প্রতিটা দলের মতোই বাংলাদেশেও কয়েকজন আশ্বাসযোগ্য প্লেয়ার রয়েছে । ওপেনিংয়ে তামিম না থাকায় আশ্বাসের একটা বড় অংশ দাঁড়িয়েছে নাইম শেখ আর লিটন দাশের উপর । কিন্তু লিটন দাশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ’র সাথে খেলা ম্যাচ বাদে অন্য কোন ম্যাচে তেমন সুবিধাজনক রান তুলতে পারেন নি । নাইম শেখ কিছুটা ভালো পারফরম্যান্স করে দলে অনেক বড় ভূমিকা রাখলেও তা পরাজয়ের ধূঁলোয় মিশে যায় চোখের আঁড়ালে ।
বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডার সাকিব আল হাসানও একদম ভালো কিছু করে দেখাতে পারেন নি । উপরন্তু চোটের কারণে বাদ পড়তে হয়েছে শেষ দুই ম্যাচ থেকে । এক্ষেত্রে আইপিএলকে দায়ী করছে বিশেষজ্ঞরা ।
বলিংয়ে মোস্তাফিজের উপর দলের বিরাট আশ্বাস থাকলেও মোস্তাফিজ ছিল এবারের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের সবচেয়ে বাজে ফর্মে থাকা একজন ফেইস বলার । এর পিছনেও আইপিএলকেই দায়ী করছে অধিকাংশ ।
আর দলের ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম ব্যাট হাতে যেন বারবার ব্যর্থতার গান গেয়েছেন । রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়েই মূলত বেহাল দশার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে ।
দলের আরেক বিশ্বাসযোগ্য প্লেয়ার অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ খুব ভালো করে দলকে আগলে নিতে পারেন নি সেটা তার পারফরম্যান্সেই প্রকাশ পায় । নেতৃত্ব দিয়ে দলকে ভালো অবস্থানে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন এই সাইলেন্ট কিলার ।
ক্যাচ মিস এবং ফিল্ডিং ব্যর্থতা : বাংলাদেশের প্রতিটা ম্যাচে যে হারে ক্যাচ মিস হয়েছে তা হয়তো বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলা আর কোন দলের মাঝে পরিলক্ষিত হয়নি । বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্যাচ মিস হয়েছে দলের সেরা এবং অভিজ্ঞ ফিল্ডারদের হাত থেকেই । সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, লিটন, মেহেদী, আফিফ, সোহান— বাদ যায়নি এদের কেউই । মোট ১০টি ক্যাচ মিস করেছে টিম টাইগার্স । “ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস” পুরোনো এই বাগধারাটা টাইগারদের বাস্তবতাকেই উন্মোচন করেছে । ক্যাচ মিসের পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও ব্যর্থতার ব্যাপক প্রবণতা দেখা গিয়েছে । তবে কন্ডিশন এবং পিচের পরিপ্রেক্ষিতে প্লেয়ারদেরকে খুব বেশি দায়ী করতে চাইছেন না বিশেষজ্ঞরা ।
বল বুঝে শট করতে না পারা : বাংলাদেশ টিমে নজর কাড়া ব্যর্থতাগুলোর মাঝে ব্যাটিং ব্যর্থতা সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে লক্ষণীয় । ওপেনাররা খুব বেশি রান তুলতে পারেন নি, আবার কোনো ব্যাটসম্যানই ভালো একটা পার্টনারশীপ গড়তে পারেনি । তা যাই হোক না কেন মূল ভিত্তিতে যা দাঁড়ায় তা হলো বল বুঝে খেলতে না পারার ব্যর্থতা । ভুল বলে ভুল শট খেলতে গিয়েই প্রত্যেকটি ম্যাচের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানকে আউট হতে হয়েছে । আবার ভালো উইকেটে খেলতে না পারায় সাহস হারাচ্ছেন ব্যাটাররা ।
পাওয়ার হিটারের অভাব : এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ স্কোয়াডে পাওয়ার হিটার বলতে সৌম্য, সাকিব, নাঈম, মুশফিক আর লিটন বাদে কেউই ছিলেন না । আর তাঁরাও খুব একটা শট করে খেলতে পারেন নি ।
এরকম মারাত্মক ব্যর্থতাগুলো সঠিক উপায় অবলম্বন করে চিরতরে দূর করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । টিম ম্যানেজমেন্টকে এ বিষয়ে আরো অনেক বেশি সচেতন এবং বুদ্ধিমান হওয়া উচিত । প্রয়োজনে দলের প্রতিটা পদে– ছোট থেকে বড়– সব ধরনের পরিবর্তন আনা উচিত । প্লেয়ারদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ, অনুশীলন এবং পর্যবেক্ষণে রাখা সুফলদায়ক । আবার মাঠে দর্শকদের সমর্থনাও সাময়িকভাবে সর্বাধিক অবদান রাখতে পারে । তবে আত্মবিশ্বাস আর সাহস না থাকলে একজন প্লেয়ার কখনোই দলের জন্য ভালো কিছু করতে পারবে না ।
কিন্তু এই বলে যে বাংলাদেশ দল এতটা খারাপ ছিল তা না । আপনি বলতে পারবেন না দল খারাপ । স্কোয়াডের সবাই কিন্তু এর আগে ঘরের মাঠে আমাদের যথেষ্ট আনন্দ দিয়েছে, ভালো খেলেছে, রোমাঞ্চকর পারফরম্যান্স করেছে । খেলোয়াড়দের অবশ্যই সমর্থন করতে হবে । বিশ্বকাপে খারাপ করেছে বলে একেবারে ফেলে দিব এরকম হতেই পারে না । পরবর্তীতে হয়তো ভালো কিছু করে দেখাবে ।
আগামী অক্টোবর আবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর বসবে অস্ট্রেলিয়ায় । তখন হয়তো ভক্তরা নতুন মুখের উপর তাদের ভরসা রাখবে । তবে এবারের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ পরবর্তী বিশ্বকাপে কাজে লাগাতে পারবে তো?
______________________________
প্রতিবেদক : আবিদ হোসেন তামিম । (চট্টগ্রাম)
2 Comments
Friends
Rejwana Khan
@rejwana-khan
__ariyan__
@ariyan
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
@mohammad-shahzaman
ভাস্কর
@vaskarchou
Prithula Zaman
@prithula
AdabenTatali
@adabentatali
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
অভিমানী মন
@ovimanimon
তুলট ডেস্ক
@toulot



good news