Profile Photo

Abul Hasan TuhenOffline

  • abulhasantuhen
  • Profile picture of Abul Hasan Tuhen

    Abul Hasan Tuhen

    4 years, 12 months ago

    নাটকঃ বিনি পয়সার ভোজ

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাস্যত্নক একক নাটক অবলম্বনে পূর্ণাঙ্গ নাট্যরূপঃ আবুল হাসান তুহিন

    কাহিনী সংক্ষেপঃ অক্ষয় বাবু তার বন্ধু উদয় বাবুর বাড়িতে নেমন্তন্ন খেতে এসেছেন।এসে দেখেন উদয় বাবু বাড়িতে নেই। বাড়ির কেয়ারটেকার চন্দ্রকান্ত আছে কিন্তু কোনোরকম আপ্যায়ন তো দূরের কথা এক গ্লাস জল খেতে দেয়নি। বেলা যত গড়াতে লাগলো পাওনাদার এসে বিল ধরিয়ে দিতে লাগলো।কেউ বিশ্বাস করছে না সে উদয়বাবু নয় অক্ষয়বাবু ।অতিষ্ঠ হয়ে নিজের বেতনের টাকা থেকে সকলের দেনা শোধ করলেন । শুধু হরি বাবুর গহনা ফেরত দিতে বিপাকে পড়েন অক্ষয় বাবু । অন্যদিকে পেয়াদা এবং পুলিশ এসে হ্যামিলটনের ঘড়ি জীবনবাবুর নামে সই করে উদায়বাবু এনেছেন এই অভিযোগে অক্ষয় বাবুকে ঘড়ি সহ আটক করে । চন্দ্রকান্ত অক্ষয় বাবুকে পেয়াদার কাছ থেকে ছাড়িয়ে রক্ষা করে।

    অভিনয় চরিত্র বিন্যাস

    ১ অক্ষয়বাবু-উদয়ের বন্ধু

    ২ চন্দ্রকান্ত- কেয়ারটেকার

    ৩ উদয় বাবু- প্রেমিক

    ৪ ললিতা -প্রেমিক

    ৫ হোটেল বয়- যুবক

    ৬ স্বর্ণকার -যুবক

    ৭ সেলসম্যান- যুবক

    ৮ বাড়িওয়ালা-বয়স্ক

    ৯ পেয়াদা – মধ্যবয়সী

    পৃষ্ঠা-০১

    দৃশ্য।।০১।। দিন।। উদায় বাবুর বাড়ি

    চরিত্রঃ অক্ষয়বাবু ও চন্দ্রকান্ত

    অক্ষয়বাবু হাসতে হাসতে প্রবেশ করছে উদয় বাবু বাড়িতে সে আজ নিমন্তন্ন পেয়েছি।

    অক্ষয়বাবুঃ (স্বাগত) আ হা হা হা ( হাসি) আজ উদয় বাবু কে জব্দ করব, রোজ রোজ তিনি আমাদের

    সাথে ইয়ার্কি করেন, বিভিন্ন জায়গায় বিনামূল্যে বিনা মাশুলে লম্বা-চওড়া কথা বলে বেড়ান । মশায় বছরখানেক ধরে রোজ রোজ বলে বেড়ায় আজ খাওয়াবো কাল খাওয়াবো কিন্তু খাওয়ার নামগন্ধ পর্যন্ত নেই ।যতখানি আশা দিয়েছেন তার সিকি পরিমাণ যদি খাওয়াতেন তাহলে এতদিনে তিন-তিনটে মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠান হয়ে যেত ।যাইহোক আজ বহু কষ্ট করে নিমন্তন্ন আদায় করেছি ,কিন্তু দু’ঘণ্টা ধরে তার বাড়িতে এসেছি এখনো তার দেখা নেই। ফাঁকি দিল না তো(চিৎকার করে) ওরে কি তোর নাম ভূতো না মাধো না হরে?

    চন্দ্রকান্তঃ (প্রবেশ করে) আজ্ঞে বাবু আমার নাম চন্দ্রকান্ত।

    অক্ষয়বাবুঃ তাই সই, চন্দ্রকান্ত নামটা ভালো আচ্ছা চন্দ্রকান্ত ,তোমার বাবু কখন আসবে বলো দেখি?

    চান্দ্রকান্তঃ বাবু হোটেল থেকে খাবার কিনে আনতে গেছেন।

    অক্ষয়বাবুঃ বলিস কিরে? আজ তবে তো রীতিমতো কব্জি ডুবিয়ে খানা। আ হা খিদে টি ও দিব্যি জমে এসেছে। মটন চাপের হাড়গুলি একেবারে পালিশ করে হাতির দাঁতের মতো চুষিকাঠি করে চকচকে করে দেব একটা মুরগির কারি থাকলে চলবে ,আর দু’রকমের দুটো পুডিং যদি আনে তাহলে তো কথাই নেই চেঁছে পুছে চীনের বাসন গুলোকে একেবারে কাঁচের আয়না বানিয়ে দেব ।মনে করে ডজন দু তিন অয়্ ষ্টার প্যাটি আনে তাহলে ভোজন টা বেশ পরিপাটি হয়। আজ সকাল থেকে ডান চোখ নাচছে। বোধহয় আয়্ ষ্টার প্যাটি আসবে। ওহে চন্দ্রকান্ত তোমার বাবু কখন গেছেন বল দেখি?

    চন্দ্রকান্তঃ অনেকক্ষণ গেছেন।

    অক্ষয়বাবুঃ তাহলে তো আসার বিস্তার বিলম্ব নেই। ততক্ষণ এক ছিলিম তামাক দাও না, অনেকক্ষণ ধরে এসেছি কিন্তু তোমার কোন গা দেখছি নে।

    চন্দ্রকান্তঃ তামাক বাইরে নেই, বাবু বন্ধ করে রেখে গেছেন।

    অক্ষয় বাবুঃ এমন তো কখনো শুনিনি এতো কম্পানির কাগজ নয়!

    চন্দ্রকান্তঃ কোন উপায় নেই।

    অক্ষয়বাবুঃ আমি একটু-আধটুকু আফিম খাই। তামাক না হলে বাঁচিনে ! ওরে মাধো না না চন্দ্রকান্ত। কোনমতে মালীদের কাছ থেকে হোক না হয় অন্য কারো কাছ থেকে এক ছিলিম জোগাড় করে আন ব্রাদার।

    চন্দ্রকান্তঃ পাওয়া যাবে না, বাজার থেকে কিনে আনতে হবে ,তার জন্য পয়সা চাই।

    অক্ষয়বাবুঃ আচ্ছা দিচ্ছি, এই এ–এই নাও। এক পয়সার তামাক ,চট করে কিনে নিয়ে এসো।

    চন্দ্রকান্তঃ এক পয়সার তামাক হবে না।

    অক্ষয়বাবুঃ কেন হবে না ? আমাকে কি মুচি খোলার নবাব বলে হঠাৎ তোমার ভ্রম হয়েছে!ষোল টাকা ভরির অম্বুরি তামাক না হলেও আমার কষ্টে সৃষ্টে চলে যায় ,এক পয়সাতেই ঢ়ের হবে।

    চান্দ্রকান্তঃ হুকো কলকেও কিনে আনতে হবে বাবু লোহার সিন্দুকে ভরে রেখে গেছেন।

    অক্ষয়বাবুঃ খুব ভালো, ব্যাংকে ডিপোজিট করে রাখলে আরো ভালো হতো, যাক কি আর করা এই নাও ,এই ছয়টি পয়সা ট্রাম এর জন্য রেখেছিলাম উদয় ফিরলে তার কাছ থেকে সুদ শুদ্ধ আদায় করে নিতে হবে।

    চন্দ্রকান্তঃ আমি গেলাম ঠিকমতো বাড়িটা পাহারা দেবেন বাবু এসে গেলে তো কথাই নেই (প্রস্থান)

    অক্ষয়বাবুঃ আচ্ছা, জলদি এসো।

    চন্দ্রকান্তঃ ঠিক আছে বাবু। (দূর থেকে)

    পৃষ্ঠা-০২

    ।। সামান্য পচ।।

    অক্ষয়বাবুঃ (স্বাগত)এই বুঝি উদায় বাবুর বাগানবাড়ি ,তাহলে উনার ভদ্রাসন বাড়িটা কি রকম হবে না জানি! কড়ি গুলো মাথায় ভেঙে না পড়ে !এইতো আসবাবপত্রের মধ্যে একখানি ভাংগা চৌকি তাও আমার ভয় সইতে পারবেনা দেখছি ,সেই অবধি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুরে ঘুরে পা ব্যাথা হয়ে গেল আর তো পারি না এই মাটিতেই বসা যাক, এই মালকোঁচা দিয়ে ধুলো ঝেড়ে বসি এই একটা খবরের কাগজ দেখছি ওটা পেতেই বসি, এ্যা পা এবং মাজাটা তো এবার বিরাম পেল।( বসে আয়েশ করে গান ধরবে)

    ।। গান ।‌।

    যদি জোটে রোজ

    এমনি বিনি পয়সার ভোজ।।
    ডিশের পরে ডিশ

    শুধু মাটন কারি ফিশ

    সঙ্গে তারি হুইস্কি সোডা

    দু ‘চার রয়াল ডোজ।।

    পরের তহবিল

    চুকাই উইলসনের বিল

    থাকি মনের সুখে হাস্যমুখে

    কে কার রাখে খোঁজ।।

    ।।পটপরিবর্তন।।

    দৃশ্য।।০২।। দিন।। নির্জন বাড়ি।।

    চরিত্রঃ উদয় বাবু ও ললিতা

    উদয়বাবু এবং ললিতা গোপন অভিসারে কথা বলছে।

    ললিতাঃ এভাবে আর কতদিন চলবে সমাজ এবং ধর্ম বলে কথা।

    উদয়বাবুঃ রাখো তোমার সমাজ ধর্ম যতক্ষণ দম আছে ইনজয় করো হা হা হা( হাসি)

    ললিতাঃ এটা বেমানান।

    উদয়বাবুঃ কেন?আহা দেখ কেমন তোমাকে মানিয়েছে এই যে ঢাকায় শাড়ি ,হাতে বালা দুটো কম নয়।

    ললিতাঃ এসব নয়, সম্পর্কের কথা বলছি ,এই যে অবাধ মেলামেশা এর তো একটা বৈধতা চায়।

    উদয়বাবুঃ আমাকে বিশ্বাস হয় না বুঝি?

    ললিতাঃ বিশ্বাস আছে বলেই এই নির্জন বাড়িতে আমরা প্রতিনিয়ত অবকাশ যাপন করি তারপরও—–

    উদয়বাবুঃ ভয় হয় বুঝি?

    ললিতাঃ কলঙ্কের ভয় ,এই যে আমরা ঘুরছি পার্টিতে যাচ্ছি ,হোটেলে খাবার খাচ্ছি ,অনেক চেনা মানুষ আমাদের দেখছে ,তোমার আমার সম্পর্ক নিয়ে ভাবছে শেষে—–

    উদয়বাবুঃ যদি বিয়ে না করি।

    ললিতাঃ ঠিক তাই সমাজে আমি মুখ দেখাতে পারবো না।

    উদয়বাবুঃ তুমি আমাকে সাত পাকে বাঁধতে চাইছো?

    ললিতাঃ একটা মেয়ের স্বপ্ন এর চাইতে বেশি কিছু নয়, আমি চাই তোমার হাতে সিঁদুর আমার কপালে পরতে, এই যে বালা দুটোর পাশে সাদা দুটো শাঁখা কি সুন্দর লাগতো! পৃষ্ঠা-০৩

    উদয়বাবুঃ আমি তো ভেবেছিলাম এই ভাবে হেসে খেলে আনন্দে জীবন পার করে দেবো

    ললিতাঃ সেটা তুমি পারবে কিন্তু আমি যে নারী সমাজের বাঁকা চোখ সবসময় আড় করে তাকিয়ে থাকে, অর্থ খরচ করে তুমি তোমার চাহিদা মেটাতে পারবে, আমার চেয়ে সুন্দরী নারীর দেহের স্পর্শ পাবে ,কিন্তু ভালোবাসা একান্ত আপনজন পাবেনা।

    উদয়বাবুঃ এটা তুমি ঠিক বলেছ অলংকার টাকা দামী দামী গিফট দিলে অনেক স্মার্ট সুন্দরী নারীদের কেনা যায়, তুমি যেমন করে আমার কথা ভাবো ভালো-মন্দ খেয়াল রাখো এট শুধু মোহ নয় ,এটা আমি বুঝি ,এই বাউন্ডেলে স্বভাবের মানুষ আমি ,সংসারের দায়িত্ব নিতে ভয় পাই ।ভাবতে পারো বেখেয়ালি বেহিসেবি।

    ললিতাঃ এই কারণে নির্ভরশীল একান্ত মানুষ থাকতে হয় পাশে, যে তোমার খোঁজ রাখবে।

    উদয়বাবুঃ তুমি তাহলে আমার এই বেখেয়ালি মনটাকে বাঁধতে চাও?

    ললিতাঃ সে তো কবেই বেঁধেছি, শুধু স্বীকৃতিটুকু দিলেই আমার শান্তি।

    উদয়বাবুঃ এটা তেমন কোন কঠিন কাজ নয় ।

    ও হ্যাঁ আজ ফেরা হবে না তাছাড়া পাওনাদাররা এতক্ষণ বাড়িতে লাইন দিয়েছে তাই মাথাটা ঠান্ডা করতে তোমার জ্যোৎস্নার প্লাবনে সারারাত সাঁতার দেব। ( দুজনে হাসবে) হা হা হা।

    দৃশ্য।।০৩।। দিন।। উদয়বাবুর বাড়ি।‌।

    চরিত্র অক্ষয়বাবু ও চন্দ্রকান্ত

    অক্ষয়বাবু চন্দ্রকান্তের জন্য অপেক্ষা করছে চন্দ্রকান্ত তামাক কিনতে গেছে তামাক নিয়ে চন্দ্রকান্ত আসবে।

    অক্ষয়বাবুঃ কই রে চন্দ্রকান্ত এলি, সেই কখন তামাক আনতে গেছে (চন্দ্রকান্ত এর প্রবেশ)

    চন্দ্রকান্তঃ এসে গেছি বাবু এই নিন তামাক আর

    কলকে।

    অক্ষয়বাবুঃ শুধু কলকে !হুঁকো কই?

    চন্দ্রকান্তঃ এখানে ছয় পয়সায় হুঁকো পাওয়া যায় না !এই কলকেটার দাম দুই আনা।

    অক্ষয়বাবুঃ এ্যা। দেখো বাপু চন্দ্রকান্ত,বাইরে থেকে আমাকে দেখে যতটা বোকা মনে হয়

    আমি ততটা নই। শরীরটা যতটা মোটা বুদ্ধিটাও তারচে কিঞ্চিৎ সূক্ষ্ম। তোমার বাবু কেন কোটা কলকেটা ,তামাক টা পর্যন্ত আয়রন টেস্টে তুলে রেখেছেন এতক্ষণে তার কারণ বোঝা গেল কেবল তোমার মত রত্নটিকে বাইরে রাখার ভুল কোম্পানির বাহাদুর একবার খবর পেলেই

    পাহারা বসিয়ে খুব হেফাজতের সঙ্গেই তোমাকে রাখবেন । যাইহোক তামাক না খেয়ে তো আর বাঁচি না (মুখ দিয়ে টান দিয়ে কাশতে কাশতে) ওরে বাবা এ কোথাকার তামাক?

    চন্দ্রকান্তঃ কেন?

    অক্ষয়বাবুঃ কেন আবার এই যে উইল করে টানতে হয়, এর দু’টান টানলে স্বয়ং বাবাভোলানাথের মাথার চাঁদি ফট করে ফেটে যাবে

    নন্দী ভৃঙ্গীর ভিমরি লাগবে কাজ নেই বাবু থাক।

    চন্দ্রকান্তঃ আচ্ছা ঠিক আছে ,বাবু আগে আসুন তারপর অন্য ব্যবস্থা করব।

    অক্ষয়বাবুঃ কিন্তু তোর বাবু আসার তেমন তো কোন তাড়া দেখছি না

    চন্দ্রকান্তঃ বোধহয় তিনি পার্টিগুলো এক একটি করে শেষ করছেন।

    অক্ষয়বাবুঃ এদিকে আমার পেটে এমনি জ্বলে উঠছে মনে হচ্ছে যেন এখনই কোথায় আগুন ধরে যাবে তেষ্টাও পেয়েছে।

    চন্দ্রকান্তঃ কিন্তু জল চাইলে আমি কিন্তু দিতে পারব না ,জলের গেলাস কিনে আনতে হবে। বাবু বন্ধ করে রেখে গেছেন।

    অক্ষয়বাবুঃ কাজ নেই থাক, বাগানের ডাব খাওয়া যাবে ?হে বাপু চন্দ্রকান্ত একাজটা অন্তত করতে পারবে! বাগান থেকে চট করে একটি ডাব পেড়ে আনো বড় তেষ্টা পেয়েছে।

    চন্দ্রকান্তঃ বাবু বাগানের ডাব পাড়া যাবে না!

    অক্ষয়বাবুঃ কেন ?বাগানের বিস্তর দেখে এলাম। পৃষ্ঠা-০৪

    চন্দ্রকান্তঃ সব গাছ জমা দেওয়া হয়েছে।

    অক্ষয়বাবুঃ তা হোক না বাপু একটি ডাব ও মিলবে না ?

    চন্দ্রকান্তঃ মিলবে তার জন্য পয়সা চাই।

    অক্ষয়বাবুঃ পয়সা তো আর নেই, তবে থাক।

    চন্দ্রকান্তঃ বাবু আসুন তারপর দেখা যাবে‌।

    অক্ষয়বাবুঃ সঙ্গে মাইনের টাকা আছে কিন্তু ওকে ভাঙ্গাতে দিতে সাহস হয়না এখনও কোম্পানির মুল্লুকে এত বড় একটি ডাকাত বাইরে ছাড়া আছে তা আমি জানতাম না ,যাইহোক এখন উদয় এলেই বাঁচি (পায়ের শব্দ) ওই বুঝি আসছে ,পায়ের শব্দ শুনছি। বাঁচা গেল ।উদয় ওহে উদয়, কই নাতো ? তুমি কে হে? (হোটেলবয়ের প্রবেশ)

    হোটেলবয়ঃ নমস্কার বাবু পাঠিয়েছেন হোটেল থেকে।

    অক্ষয়বাবুঃ নমস্কার বাবু তোমাকে পাঠিয়ে দিলেন কি দরকার ছিল ।তারচেয়ে নিজে এলে তো ভালো করতেন ।খিদে যে মারা গেলুম।

    হোটেলবয়ঃ হোটেলের বাবু ,হোটেলের ক্যাশিয়ার বাবু।

    অক্ষয়বাবুঃ কই তার সঙ্গে তো আমার পরিচয় নেই ।কিছু কি খাবার পাঠিয়েছেন? অয়ষ্টার প্যাটি?

    হোটেলবয়ঃ খাবার পাঠাননি বিল পাঠিয়েছেন।

    অক্ষয়বাবুঃ কৃতার্থ করেছেন ,আর কি, কই দেখি?

    হোটেলবয়ঃ নিন( বিলটা দেয়)

    অক্ষয়বাবুঃ (দেখে) যে বাবুটির নামে বিল পাঠিয়েছেন তিনি এখানে উপস্থিত নেই।

    হোটেলবয়ঃ বিলটা দিন বাবু দেরি হয়ে যাচ্ছে

    অক্ষয়বাবুঃ বললাম না আমি না।

    হোটেলবয়ঃ খাবার খেয়ে বললেন বাড়ি থেকে বিলটা নিতে।

    অক্ষয়বাবুঃ এত ভালো বিপদে পড়লুম।

    আরে মাইরি আমি না ।কি গেরো, তোমাকে ঠকিয়ে আমার লাভ কী বাপু ? আমি নেমন্তন্ন খেতে এসেছি সেই তিন ঘন্টা এখানে বসে আছি। তুমি হোটেল থেকে এসেছ তবু তোমাকে দেখে অনেকটা তৃপ্তি হচ্ছে। বোধহয় তোমার ওই চাদর খানা সিদ্ধ করলে কিছু খাবারের স্বাদ পাওয়া যাবে।

    হোটেলবয়ঃ কি যে বলেন বাবু।

    অক্ষয়বাবুঃ ভয় নেই চাদর নেব না কিন্তু বিলটি দিতে পারব না।

    হোটেলবয়ঃ বাবু শুধু শুধু আমার সাথে মশকরা করছেন।

    অক্ষয়বাবুঃ এতো ভালো মুশকিল দেখছি ,ওগো না গো না আমি উদয়বাবু নই। আমি অক্ষয়বাবু

    হোটেলবয়ঃ বাবু আপনার ভুল হচ্ছে।

    অক্ষয়বাবুঃ কী গেরো আমার নাম

    আমি জানিনা তুমি জানো, বিশ্বাস হয়না ,নাহলে তুমি নিচে গিয়ে বস উদয় বাবু এখনইআসবেন।

    হোটেলবয়ঃ আচ্ছা ,ঠিক আছে নিচে গিয়ে বসছি। ‌‌‌ ( প্রস্তান)

    ।‌। সামান্য পচ ।।

    অক্ষয়বাবুঃ ( স্বাগত)যাক বাঁচা গেল হে বিধাতা সকালবেলায় এইজন্য কি ডান চোখ নাচিয়ে ছিলে? হোটেল থেকে ডিনার না এসে বিলএসে উপস্থিত ।

    সখি কি মোর করম ভেল!

    পিয়াস লাগিয়া জল সে বিনু ,

    বজর পড়িয়া গেল!

    হে বিধি তোমার বিচারে সমুদ্রমন্থনে একজন পেলে সুধা আর একজন পেলে বিষ! হোটেল মন্থনেও কি একজন পেল মজা আর একজনের কাছে এলো বিল । বিলটা ও কম নয় দেখছি।

    (সেলসম্যানের প্রবেশ) পৃষ্ঠা-০৫

    সেলসম্যানঃ (দূর থেকে) বাবু বাবু নমস্কার।

    অক্ষয়বাবুঃ নমস্কার, তুমি আবার কে হে?

    সেলসম্যানঃ বাবু পাঠিয়ে দিলেন।

    অক্ষয়বাবুঃ বাবুর যথেষ্ট অনুগ্রহ কিন্তু তিনি কি মনে করেছেন ,তোমার মুখখানি দেখেই আমার তৃষ্ণা দূর হবে? তোমার বাবু তো বড় ভদ্রলোক ল দেখছি সে।

    সেলসম্যানঃ কাপড়ের দাম টা দিন বাবু।

    অক্ষয় বাবুঃ কি বললে কাপড়ের দাম! কার কাপড় দাম ?

    সেলসম্যানঃ কী বলছেন বাবু, আপনি তো বললেন বাড়িতে এসে টাকা নিয়ে যেতে।

    অক্ষয়বাবুঃ উদয়বাবু কাপড় কিনবেন আর অক্ষয়বাবু তার দাম দেবে! তোমারতো বিবেচনা শক্তি বেশি দেখছি!

    সেলসম্যানঃ আপনিতো উদয় বাবু?

    অক্ষয়বাবুঃ সত্যি নাকি? কিসের ঠাওরালে আমার নাম উদয় বাবু? কপালে কি সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে রেখেছি?

    সেলম্যানঃ বাবু শুধু শুধু সময় নষ্ট করছেন দামটা দিন।

    অক্ষয়বাবুঃ আমি উদয়বাবু নই। অক্ষয়বাবু। এই নামটা তোমার পছন্দ হচ্ছে না?

    সেলসম্যানঃ কেন আমার সাথে ঠাট্টা করছেন?

    অক্ষয়বাবুঃ ভাবছো নাম বদলেছি? আচ্ছা বাবু শরীরটাতো বদলানোর সহজ ব্যাপার নয় !উদয়বাবুর সঙ্গে আমার মিলটা কোথায় বলো দেখি?

    সেলসম্যানঃ উনাকে সামনা সামনি দেখিনি!

    অক্ষয়বাবুঃ উদয়বাবুকে কখনো চাক্ষুষ দেখনি? আচ্ছা একটু সবুর করো তোমার মনের আক্ষেপ মিটিয়ে দেবো ।বিস্তার দেরি হবে না তিনি এলেন বলে।

    সেলসম্যানঃ আচ্ছা বাবু অপেক্ষা করছি।

    ( প্রস্থান)

    ।। সামান্য পচ।।

    (বাড়িওয়ালা প্রবেশ করবে)

    বাড়িওয়ালাঃ (স্বাগত হেঁটে হেঁটে এগিয়ে আসতে আসতে বলছেন )আজ বাড়ি ভাড়া না দিলে বাড়ি থেকে বের করে দেবো ,কোন কথা শুনবো না।

    অক্ষয়বাবুঃ (অক্ষয়বাবুদেখে বলবেন) আরে মোলো আবার কে আসে?

    বাড়িওয়ালারঃ যাক তাহলে সামনা সামনি পেয়েছি!

    অক্ষয়বাবুঃ মশায়ের কোত্থেকে আসা হলো? মশায়েরও নেমন্তন্ন আছে বুঝি?

    বাড়িওয়ালাঃ (ভেংচি কেটে )নিমন্ত্রণ আছে বুঝি! না আমার শ্রাদ্ধের নিমন্তন্ন দিতে এসেছি। বাড়ি ভাড়ার জন্য এসেছি মশায়।

    অক্ষয়বাবুঃ বাড়ি ভাড়া! কোন বাড়িভাড়া মশায়? ভাড়াটা কত হিসেবে?

    বাড়িওয়ালাঃ ন্যাকা মাসের সতেরো টাকা।

    অক্ষয়বাবুঃ ও তাহলে হিসেব করুন দেখি সাড়ে তিন ঘন্টায় কত ভাড়া হয়?

    বাড়িওয়ালাঃ ঠাট্টা রাখুন ভাড়া মিটিয়ে দিন।

    অক্ষয়বাবুঃ ঠাট্টা করছিলাম আমার মনের অবস্থা সেরকম প্রফুল্ল নয় এ বাড়িতে নেমন্তন্ন খেতে এসে সাড়ে তিন ঘণ্টা বসে আছি। সেইজন্য যদি ভাড়া দিতে হয় ন্যায্য হিসেব করে নিন। তামাক টা পর্যন্ত পয়সা দিয়ে কিনে খেয়েছি।

    বাড়িওয়ালাঃ দেখো দেখি ঝামেলা পাচুকে অনেকদিন ঘুরিয়েছেন আজ নিজে এসেছি।

    অক্ষয়বাবুঃ আজ্ঞে না আপনি ঠিক অনুমান করতে পারেননি ।আপনার ইশ্ব ভুল হচ্ছে। আমি উদয় নই আমি অক্ষয়।

    বাড়ীওয়ালাঃ অর্থ প্রমাণ করার সময়ে ভাড়াটা দিন।

    পৃষ্ঠা-০৬

    অক্ষয়বাবুঃ এরকম সামান্য ভুলে অন্য সময় বড় একটা কিছু আসে যায় না কিন্তু বাড়ি ভাড়া আদায়ের সময় বাপ-মা যে নাম দিয়েছেন সেটা বাঁচিয়ে কাজ করলে সুবিধা হয়।

    বাড়িওয়ালাঃ দেখুন আপনি ভদ্র লোক মানুষ, তাই অনেক সহ্য করেছি ।ভাড়া যখন দিতে পারেন না তখন ফুটপাতে থাকুন।

    অক্ষয়বাবুঃ আমাকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলছেন ,মাফ করবেন ওটি পারব না ,সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে পেটের জ্বালায় মরছি ।খাবার আসার যেই সময় হল অমনি আপনি গাল দিচ্ছেন। বললেই আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাব, আমাকে তেমন গর্ধব ঠাওড়াবেন না আপনি ঐখানেই বসুন যা বলার অভিপ্রায় আছে বলে যান আমি আহারাস্তে বাড়ি ছেড়ে চলে যাব।

    বাড়িওয়ালাঃ ঠিক আছে বসছি যা করার জলদি করুন। (প্রস্তান)

    ।। সামান্য পচ।।

    অক্ষয়বাবুঃ বকে বকে আমার গলা শুকিয়ে এল। আর তো বাঁচিনে খিদেই নাড়ী গুলো সব হজম হয়ে গেল। পায়ের শব্দ মনে হয়। উদয় উদয় আমার অন্ধের নড়ি ,আমার সাগর সেচা সাত রাজার ধন মানিক ,একবার উদয় হও হে! আর তো প্রাণে বাঁচি না । (স্বর্ণকারের প্রবেশ।)

    স্বর্ণকারঃ (কাছে এসে )এইতো এসেছি।

    অক্ষয়বাবুঃ তুমি আবার কে হে যদি গালমন্দ দেওয়ার থাকে ঐখানে বসে আরম্ভ করো ঐ দেখো সাপোর্ট করার অনেক লোক বসে আছেন।

    স্বর্ণকারঃ না বসবো না আপনাকে আমার সাথে যেতে হবে হরি বাবুর কাছে।

    অক্ষয়বাবুঃ (আনন্দে) হরিবাবু আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন শুনে বড় সন্তোষ লাভ করলুম। তিনি আমাকে খুব ভালোবাসেন সন্দেহ নেই কিন্তু যে আমার পরম বন্ধু আজ আমাকে নিমন্ত্রণ করেছেন তার কোনো দেখা সাক্ষাত নেই। আর যাদের সাথে আমার কোনো কালেই কোন পরিচয় নেই তারা যে আজ সকাল থেকে আমাকে ঘনঘন খাতির করছেন এর কারন কি? আচ্ছা মাশায় হরিবাবু নামক ভদ্রলোক আমাকে কেন এমন সময় স্মরণ করলেন এবং কেনই বা অধৈর্য হয়ে উঠলেন বলতে পারেন?

    স্বর্ণকারঃ বাবু আপনি আপনার স্ত্রীর বালা গড়াবার জন্য তার কাছ থেকে নমুনা স্বরুপ গহনা এনে ফিরিয়ে দিচ্ছেন নে!

    অক্ষয়বাবুঃ দেখো এর সম্বন্ধে আমার অনেকগুলি কথা বলবার ছিল কিন্তু আপাতত একটি বললে যথেষ্ট হবে আমি কারো কাছ থেকে কোন গহনা আনি নি, কারণ আমার কোনো স্ত্রী নেই ।

    স্বর্ণকারঃ বাবু আপনি এমন করে চোখ পাল্টি দিতে পারলেন?

    অক্ষয়বাবুঃ আমার যা বলার ছিলো বলেছি। আজকের মতো মাফ করবেন ।গলা শুকিয়ে তেষ্টায় ছাতি ফেটে মরছি ।আপনি আর আধাঘন্টা কাল অপেক্ষা করুন সমস্ত সমাচার অবগত হবেন ‌।

    স্বর্ণকারঃ আজ্ঞে বাবু। (প্রস্থান)

    ।‌। সামান্য পচ।।

    অক্ষয়বাবুঃ (স্বাগত উচ্চস্বরে )ওরে উদয়। ওরে উদো ওরে লক্ষীছাড়া হতভাগা ছুঁচো,ড্যাম শুয়ার স্টুপিড ।ওরে পেট যে জ্বলে গেল ,গলাটা শুকিয়ে কাঠ। লোকের যন্ত্রনায় মাথা ফেটে যাচ্ছে ওরে নরাধম কুলাঙ্গার।

    সবাইঃ কি ব্যাপার বাবু আমাদের বসিয়ে রেখে গালাগাল করছেন?

    অক্ষয়বাবুঃ আরেনা মশায় আপনাদের সম্ভাষণ করছি।আপনারা হঠাৎ চঞ্চল হবেন না, আমি পেটের জ্বালায় মনের খেদে আমার প্রাণের বন্ধুকে ডাকছি। আপনারা বসুন।

    বাড়িওয়ালাঃ আর বসতে পারছি নে।

    হোটেলবয়ঃ অনেক দেরি হয়ে গেছে।

    সেলসম্যানঃ বিলটা দিন চলে যাচ্ছি।

    পৃষ্ঠা-০৭

    অক্ষয়বাবুঃ দেরি হয়েছে সন্দেহ নেই তাহলে আপনাদের আর পীড়া পীড়িত করে ধরে রাখতে চাই নে তবে আজকের মতো আপনারা আসুন ।আপনাদের সঙ্গে মিষ্টি মিষ্টি আলাপের এতক্ষণ সময়টা বেশ কেটেছিল।

    সবাইঃ বাবু আপনার বক্তৃতা শোনার মত সময় আমাদের হাতে নেই। মানে মানে দেনা মিটিয়ে দিন আমরা কৃতার্থ হই।

    অক্ষয়বাবুঃ কিন্তু এখন যে কথাগুলো বলছেন ওগুলো কিছু অধিক পরিমাণ বলছেন হঠাৎ কোন পরম বন্ধুকেও মানুষ ভালোবেসে শ্যালক সম্ভাষণ করতে কুণ্ঠিত হয় ,কিন্তু আপনাদের সঙ্গে অতি অল্পক্ষনেই আলাপে এতই ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্পর্ক হয়েছে সেই জন্যই মনে মনে কিছুটা লজ্জা বোধ করছি। আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই, কিন্তু আপনারা আমার কাছে যতটা প্রত্যাশা করেছেন আমি ততটা দিতে অক্ষম।

    সবাইঃ আপনার দীর্ঘ বক্তৃতা শোনার সময় আমাদের নেই, সেটা তো আগেই বলেছি।

    অক্ষয়বাবুঃ মশায়রা আর বাড়াবাড়ি করবেন না, আপনারা বোধহয় দুবেলা নিয়মিত আহার করে থাকেন, খিদে পেলে মানুষের মেজাজটা কিরকম হয় ঠিক জানেন না ! তাই আমাকে এই অবস্থায় ঘাটাতে সাহস করছেন।

    বাড়িওয়ালাঃ আপনি দেখছি আমাদের সাথে মজা করছেন।

    অক্ষয়বাবুঃ দেখুন মশায় আপনারা আমার সঙ্গে পারবেন না, শরীরটা দেখেই বুঝতে পারছেন না! বহু কষ্টে রাগ চেপে আছি, পাছে একটা খুনোখুনি কাণ্ড করে বসি। তবে আমাকে সহজে রাগাতে পারবেন না ,এই আমি গম্ভীর হয়ে শান্ত ভাবে বসলুম এ্যা ।( বসবে)

    সেলসম্যানঃ মনে হয় পাগলামি করছে সবাই মিলে কয়েক ঘা দিলে মাথাটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।

    অক্ষয়বাবুঃ ওরে বাবা !এরা সবাই মিলে মারধর করার জোগাড় করছে, খালি পেটে খিদের উপর মারটা সবে না দেখছি।আচ্ছা বাবু তোমরা শান্ত হও, তোমাদের কার কতপাওনা আছে বলো, ভাগ্যি মাইনের টাকাটা পকেটে ছিল, নইলে আজ নিতান্তই ধনঞ্জয় কে স্মরণ করে একপেট খিদে শুদ্ধ দৌড় মারতে হতো। আপাতত প্রাণটা বাঁচাই তারপর টাকাটা উদয়ের কাছ থেকে আদায় করে নিলেই হবে। এক একজন করে আমার কাছে আসো।

    সেলসম্যানঃ আমার পাঁচ টাকা( এগিয়ে এসে)

    অক্ষয়বাবুঃ তোমার পাঁচ টাকা বৈ পাওনা নয় ।কিন্তু তুমি পঞ্চান্ন টাকার গাল পেড়ে নিয়েছো। বাপু এই নাও তোমার টাকা।

    হোটেলবয়ঃ আমার হোটেলের বিল আগেই দেখিয়েছি।

    অক্ষয়বাবুঃ ওহে বাপু তোমার হোটেলের বিল এই শুধে দিলাম। যদি কখনো অসময়ে তোমাদের শরণাগত হতেই হয় তাহলে স্মরণ রেখো।

    বাড়িওয়ালাঃ এই যে মশায় আমার তিন মাসের বাড়ি ভাড়া।

    অক্ষয়বাবুঃ তোমার তিন মাসের বাড়িভাড়া তো আমি দিতে পারবো না। এক মাসের টাকা আজ দিচ্ছি, বাকিটা পরে নিতে হবে ।তুমি তো তোমার গালমন্দ ষোলআনাই চুকিয়ে দিয়েছো তাতে বোধ করি তোমার মনটা কতটা খোলসা হয়েছে। এখন আশীর্বাদ করে বাড়ি চলে যাও।

    স্বর্ণকারঃ (স্বর্ণকার এগিয়ে এসে) সবাইকে তো একে একে বিদায় করলেন এবার চলুন, না হয় গহনা ফেরত দিন।

    অক্ষয়বাবুঃ তোমার গহনা ফিরিয়ে দেওয়া সহজ নয়, যদি আমার স্ত্রী থাকতো আর তোমার গহনা তাকে দিতুম তাহলেও ফিরিয়ে আনা শক্ত হত ।যখন তিনি বর্তমানে নেই এবং তোমার গহনা তাকে দেইনি তখন ফিরিয়ে আনা আরও কত কঠিন তা একটু খানি ভেবে দেখলে তুমিও হয়তো বুঝতে পারবে ।তবুও যদি পীড়াপীড়ি করো তাহলে তোমার হরিবাবুর ওখানে আমাকে যেতেই হবে। কিন্তু খাবারটা আসে কিনা একটু না হয় দেখি। আর যে পারছি নে। তার চেয়ে তুমি একটু রিলাক্স মুডে বস।

    স্বর্ণকারঃ আচ্ছা।

    পৃষ্ঠা-০৮

    ।। সামান্য পচ ।।

    অক্ষয়বাবুঃ উফ আরতো পারিনা। চন্দ্র ওহে চন্দ্র এখানে উদয়ের তো কোন সম্পর্ক নেই ।এখন তুমি শুদ্ধ অস্ত গেলে আমি যে অন্ধকার দেখি ।চন্দ্র ওহে চন্দ্রকান্ত ।(চন্দ্রকান্ত আসবে)

    চন্দ্রকান্তঃ আজ্ঞে বাবু আমি এসে গেছি।

    অক্ষয়বাবুঃ আমাকে উদ্ধার করেছো যাকগে, চন্দ্র তুমি তো তোমার বাবু কে চেনো সত্যি করে বলো দেখি আজকাল এবং পরশুর মধ্যে তিনি কি বাড়ি ফিরবেন?

    চন্দ্রকান্তঃ বেখেয়ালি, বাবু বোধহয় ফিরবেন না!

    অক্ষয়বাবুঃ এই দীর্ঘ সময় পর তোমার এই কথাটি আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস হচ্ছে যাইহোক বড্ড খিদে পেয়েছে এখন আর গাল দেওয়ার সময় নেই ।এই এই যে এই আধুলিটা নিয়ে যদি চট করে কিছু খাবার কিনে আনো তাহলে প্রাণটা রক্ষা হয়।

    চন্দ্রকান্তঃ বাবু আপনি চোখে মুখে একটু জলের ছিটে দিন এই যাব এই আসবো ।(প্রস্থান)

    ।। সামান্য পচ।।

    অক্ষয়বাবুঃ স্বগত )নবাবী করে বেড়ায় অথচ কাজকর্ম কিছুই নেই ,আমরা ভাবতাম চালায় কী করে !এখন ব্যাপারটা বুঝতে পারছি কিন্তু প্রত্যহ এতগুলি গালাগাল হজম করে এতগুলি বিল ঠেকিয়ে, এতগুলো লোক খেদিয়ে রাখা তো কর্মকাণ্ড নয়! এতে মুজুরী পোষায় না এর চেয়ে ঘানি ঠেলেও সুখ আছে। (চন্দ্রকান্ত প্রবেশ)

    চন্দ্রকান্তঃ এইতো বাবু এসেছি এই নিন

    অক্ষয়বাবুঃ কী হে, শুধু মুড়ি নিয়ে এলে? আর কিছু পাওয়া গেল না, পয়সা কিছু ফিরেছে?

    চন্দ্রকান্তঃ না বাবু।

    অক্ষয়বাবুঃ আচ্ছা তবে দাও (মুড়ি খেতে খেতে) ওহে চন্দ্র কী যে বলবো খিদের চোটে এই মুড়ি অমৃতসুধা বলে মনে হচ্ছে। অনেক নিমন্তন্ন খেয়েছি কিন্তু এমন সুখ পাইনি, তুমি সুধাকর বটে কিন্তু আজকের কলঙ্কের ভাগটাই কিছু বেশি দেখা গেল।

    চন্দ্রকান্তঃ বাবু এটা নিন।

    অক্ষয়বাবুঃ ডাবও একটা এনেছো দেখছি, এর জন্য স্বতন্ত্র কিছু দিতে হবে নাকি?

    চন্দ্রকান্তঃ না বাবু।

    অক্ষয়বাবুঃ যাক শরীরে দয়া মায়া কিছু আছে বোধহয়। এখন যদি একটা গাড়ি ডেকে দাও তো আস্তে আস্তে বিদায় হই।

    চন্দ্রকান্তঃ না বাবু এখন গাড়ি পাওয়া যাবে না।

    অক্ষয়বাবুঃ তবে তো বড় বিপদে ফেললে আমি এখন না খেয়ে কাহিল।এই শরীরে দুই ক্রোশ রাস্তা হাঁটতে পারব না ,যখন সম্মুখে আহারের আশা ছিল তখন পেরেছিলাম, কি করবো বেরিয়ে পড়া যাক।

    স্বর্ণকারঃ বাবু আমার সঙ্গে আপনার যাওয়ার কথা ছিল না।

    অক্ষয়বাবুঃ কি সর্বনাশ এই সময় আবার হরি বাবুর ওখানে যেতে হবে! চন্দ্র তুমি আজ আমার বিস্তার উপকার করেছ এখন আর কিছু করতে হবে না শুধু এই ভদ্রলোক ছেলেটিকে বুঝিয়ে বল আমি উদয় বাবু নই আমি আহিরীটোলার অক্ষয়বাবু।

    চন্দ্রকান্তঃ এই অধমের কথা উনি বিশ্বাস করবেন না বাবু।

    অক্ষয়বাবুঃ এইজন্য ওকে আমি বেশি দোষ দিতে পারিনি ,বোধহয় তোমাকে অনেকদিন থেকে চেনে যাই হোক আর ঝগড়া করার সামর্থ্য নেই ,আস্তে আস্তে হরিবাবুর ওখানে যাওয়া যাক তবে এই যে মশায় শুনুন ,যে রকম অবস্থা দেখছ পথে যদি কিছু একটা ঘটে দাহ করার ব্যায়টা তোমার স্কন্ধে এসে পড়বে আগে থেকে বলে রাখলুম ! (চলে যেতে চন্দ্র হাত পাতে)

    চন্দ্রকান্তঃ বাবু এই খালি হাতে কিছু একটা—

    পৃষ্ঠা-০৯

    অক্ষয়বাবুঃ তুমি আবার হাত বাড়াও কেন হে ?তোমার কল্যাণে যেরকম সস্তায় আজ নেমন্তন্ন খেয়ে গেলুম বহুকাল আমার আর খিদে থাকবে না ,যাওয়ার বেলায় বাঁধা দিও না।

    চন্দ্রকান্তঃ না মানে——–।

    অক্ষয়বাবুঃ এতক্ষণে বুঝেছি বকশিশ চাইতো সেটা চুকিয়ে দেওয়াই ভালো যখন—

    চন্দ্রকান্তঃ যখন এতই করলেন তখন সর্বশেষ এইটুকু আর রাখবেন না।

    অক্ষয়বাবুঃ কিন্তু আমার কাছে একটি মাত্র টাকা অবশিষ্ট আছে।তার মধ্যে বারো আনা আমি গাড়ি ভাড়ার জন্য রেখে দিতে চাই। তোমার কাছে খুচরো যদি কিছু থাকে তাহলে ভাঙ্গিয়ে নাও।

    চন্দ্রকান্তঃ খুচরো নেই বাবু।

    অক্ষয়বাবুঃ তবে এই নাও বাপু ,তোমাদের বাড়ি থেকে বের হলুম একেবারে গজ মূখ্য কপিত্থবৎ। কিন্তু এইযে টাকাগুলি দিলুম উদের কাছ থেকে কী উপায়ে আদায় করা যায় ,একটা দামী জিনিস যদি পাওয়া যেত তা না হয় আটকে রাখতাম কি করি কি করি।

    চন্দ্রকান্তঃ বাবু আমি বাইরে আছি দরকার পড়লে ডাক দেবেন (প্রস্থান)

    অক্ষয়বাবুঃ ঠিক আছে।দামী জিনিস তেমন কিছু তো নেই।দামের ভিতরে ওই চন্দ্রকান্ত কিন্তু যেরকম দেখছি ওকে সংগ্রহে রাখা আমার কম্ম নয় উল্টো আমাকে ট্যাঁকে গুঁজে রাখতে পারে! আরও একটু খুঁজে দেখি ওই দেরাজের ভেতর কিছু আছে কিনা খুলে দেখি(বের করার শব্দ) বাহ্ চমৎকার একটা ঘড়ি! চেনটিও দিব্যি তাহলে এটাই দখল করা যাক!( চন্দ্রকান্ত দৌড়ে এসে)

    চন্দ্রকান্তঃ বাবু পুলিশ ,সাথে পেয়াদা ।

    অক্ষয়বাবুঃ পুলিশ? সাথে পেয়াদা আসছে!

    চন্দ্রকান্তঃ বাবু পালিয়ে যান পিছন দরজা খোলা আছে ।আমি কিন্তু নেই।( চন্দ্রকান্ত চলে যাবে)

    অক্ষয়বাবুঃ আমাকে এখন পালাতে হবে কেন ?কী দোষ করেছি? কেবল উদয়বাবুর নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে এসে অনেক শাস্তি হয়েছে।তাইতো সত্যি দেখছি পুলিশ পেয়াদা এদিকেই আসছে ।চন্দ্রকান্ত ।হরিবাবু সেই লোকটিকও দেখছিনে সময় পালিয়েছে ।(পেয়াদার প্রবেশ)

    পেয়াদাঃ দারোগা সাহেব আগে কয়েক ঘা বেত্রাঘাত করুন পরে কথা। বড় জালিয়াত (আঘাত করবে)

    অক্ষয়বাবুঃ উফ কর কী? লাগে যে! বাবা, আজ সমস্ত দিন মুড়ি খেয়ে পথ চেয়ে আছি, তোমাদের এসব ঠাট্টা আমার ভালো লাগছে না।

    পেয়াদাঃ আমরা মজা করতে আসিনি দারোগা সাহেব আরো কয়েক ঘা বসিয়ে দিন তো

    অক্ষয়বাবুঃ দেখো বাবু গায়ে হাত দিওনা ভালো হবে না।আমি ভদ্রলোক চোর নই জালিয়াত নই ।পেয়াদা বাবা বরঞ্চ কিছু জলপানি নাও ।(পকেটে হাত দিয়ে )এই যে, হায় হায় একটি পয়সাও নেই। যদি চোর ধরতে চাও আমি তোমাকে দেখিয়ে দিচ্ছি জেল সৃষ্টির পর থেকে এত বড় চোর পৃথিবীতে দেখা যায়নি।

    পেয়াদাঃ অনেক হয়েছে গল্প ফাঁদতে হবেনা ।দারোগা সাহেব হাতকড়া লাগিয়ে নিয়ে চলুন।

    অক্ষয়বাবুঃ কি করেছি বল দেখি?

    পেয়াদাঃ ভূতের মুখে রাম রাম ।জীবনবাবুর নামে সই করে হ্যামিলটনের দোকান থেকে ঘড়ি এনেছো!

    অক্ষয়বাবুঃ পেয়াদা সাহেব ভদ্রলোক হয়ে ভদ্রলোকের নামে এত বড় অপবাদ দিলেন?

    পেয়াদাঃ ওটা কি হাতে ,ওটা কি দেখি? (ঘড়ি দেখে)

    অক্ষয়বাবুঃ আহা ওটা ধরে টেনো না ও আমার ঘড়ি নয় ,শেষকালে যদি চেন মেন ছিঁড়ে যায় তাহলে মুশকিলে পড়তে হবে।

    পেয়াদাঃ এইতো সেটা (ঘড়ি দেখে)

    অক্ষয়বাবুঃ কি?

    পেয়াদাঃ এই সেই হ্যামিলটনের ঘড়ি।

    অক্ষয়বাবুঃ ও বাবা সত্যি নাকি? তা নিয়ে যাও এই যে এই নাও নিয়ে যাও।

    পেয়াদাঃ শুধু ঘড়ি নয় তোমাকেও যেতে হবে

    অক্ষয়বাবুঃ কিন্তু ঘড়ির সঙ্গে আমাকে শুদ্ধ টানছো কেন? আমিতো সোনার চেন নই আমি সোনার অক্ষয় বটে কিন্তু সে কেবল বাপ মায়ের কাছে।

    পেয়াদাঃ প্রমাণ সহ হাতেনাতে ধরেছি, ছাড়া যাবে না। পৃষ্ঠা-১০

    অক্ষয়বাবুঃ নিতান্তই যদি না ছাড়তে পারো তাহলে চলো ।বাবা আমাকে সবাই ভালবাসে, আজ তার বিস্তর পরিচয় পেয়েছি এখন তোমার ম্যাজিস্ট্রেটের ভালোবাসা কোনমতে এড়াতে পারলে এই যাত্রা রক্ষা পাই।( চন্দ্রকান্ত প্রবেশ)

    চন্দ্রকান্তঃ পেয়াদা মশায় ছাড়ুন ,ওনাকে। উনি উদয় বাবু নয়।

    পেয়াদাঃ তুমি কে হে?

    চন্দ্রকান্তঃ আমি চন্দ্রকান্ত উদবাবুর কেয়ারটেকার।

    পেয়াদাঃ মানলাম তবে হ্যামিলটনের ঘড়ি শুদ্ধ ধরেছি তাহলে ইনি কে?

    চন্দ্রকান্তঃ ইনি হলেন অক্ষয়বাবু আজ সকালে অতিথি হয়ে এই বাড়িতে এসেছেন।

    পেয়াদাঃ ঠিক আছে প্রমাণ আছে উনি উদয় বাবু নন অক্ষয়বাবু।

    চন্দ্রকান্তঃ ঐযে দেওয়ালের ছবিটার সাথে মিলিয়ে নিন।

    পেয়াদাঃ সত্যিতো । অক্ষয়বাবু আমরা দুঃখিত। উদয়বাবু বাড়িতে ফিরলে থানায় দেখা করতে বলো আমরা গেলাম (প্রস্থান)

    চন্দ্রকান্তঃ ঠিক আছে।

    অক্ষয়বাবুঃ চন্দ্রকান্ত সেই প্রাণে রক্ষা করলে তাও এত দেরিতে।যাক তোমার এই ঋণ শোধ হবার নয়।

    চন্দ্রকান্তঃ বাবু যান কাপড় ছেড়ে বিশ্রাম করুন। কাকডাকা ভোরে রওনা দেবেন।

    অক্ষয়বাবুঃ ধন্য চন্দ্রকান্ত ধন্য।

    যদি জোটে রোজ এমনি

    বিনি পয়সার ভোজ।।

    শেষ।

    6
    3 Comments

Abul Hasan Tuhen

Friends

Skip to toolbar