Profile Photo

আদিত্য নারায়ণOffline

  • AdityaNarayan
  • Profile picture of আদিত্য নারায়ণ

    আদিত্য নারায়ণ

    4 years, 9 months ago

    ‘বই অনুভূতি’
    বইয়ের নাম- উত্তরাধিকার
    লেখক-সমরেশ মজুমদার

    মেয়েদের বয়ঃসন্ধি কাল কতোটা জটিল আমি ঠিক জানিনা, তবে এটলিস্ট তারা মায়ের সাথে শেয়ার করতে পারে সবকিছু। বাবার সাথে সরাসরি কথা বলে না, কিন্তু বাবাও সজাগ থাকে এই বিষয়ে।

    কিন্তু ছেলেদের বয়ঃসন্ধি কালটা কাটে টোটাল গোলকধাঁধার মধ্যে। কি হচ্ছে, কেনো হচ্ছে, কোন আইডিয়া থাকে না। মা-বাবার সাথে তো এই সব বিষয়ে কথা বলার প্রশ্নই আসে না।বাবামারাও এমন একটা ভাব নিয়ে থাকে জেনো,ছেলেদের আবার কিয়ের বয়ঃসন্ধিকাল! এই বয়সে ছেলেদের সবথেকে বড় বন্ধু থাকে অই বন্ধুই।বয়ঃসন্ধি কালে ছেলেদের শারীরিক কিংবা মানসিক এই উভয় বিষয়ে সবথেকে বড় কাউন্সিলর হিসেবে মহান দায়িত্ব পালন করে তাদের কিছু বন্ধুরাই!

    একটা ছেলে শৈশব থেকে কৈশোরে তারপর যুবক হয়। এবং এই সময়টাতে বিভিন্ন বিষয়ে তার মনোজগৎ কিভাবে পরিবর্তন হয়,কিভাবে বন্ধুরা বয়ঃসন্ধি কালের মতো জটিল সময়ে তার উপর প্রভাব রাখে, কিভাবে একটা ছেলের মধ্যে রাজনৈতিক ধারনার সূত্রপাত হয়,কিভাবে একটা ছেলের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতাটা জন্মায়,কিভাবে একটা ছেলের মধ্যে কমরেড ভাবটা আসে, এই সবকিছুর একটা বিস্তর এবং বাস্তব চিত্র কাগজে নিয়ে এসেছেন ” সমরেশ মজুমদার”। এমনিতে এটি একটি রাজনৈতিক উপন্যাস। ৪৭’র পরে ভারতের কংগ্রেস যেভাবে তার মুদ্রার ওপাশের রূপটা দেখাতে শুরু করে দিয়েছিলো,এবং বামপন্থী দল গুলো আর কংগ্রেসের মধ্যে যে সংঘাত বিরাজমান ছিলো,সেই পুরো বিষয়টা একটা বাচ্চার মনে কীভাবে রাজনীতির বীজ বপন করে দিয়েছে এবং সেটাকে কেন্দ্রে রেখে একটা বাচ্চা ছেলের, বাচ্চা থেকে যৌবনে যাওয়ার পথটা বাতলে দিয়েছে লেখক।

    হয়তো ভারতীয় উপমহাদেশের কালচারে বড় হওয়া একটা ছেলেও পাওয়া যাবে না, যে এই উপন্যাসটা পড়ার পর নিজেকে খুজে পাবে না।অনেক দীর্ঘ উপন্যাস। প্রায় ৩৫০ পৃষ্ঠার।তাও একদম গুড়িগুড়ি লেখা! কিন্তু একবার যদি পড়া শুরু করা যায়, তবে বই হাত থেকে নামানোর ইচ্ছা করবে না। দেড় বছর ধরে আমি একটু-আধটু বই পড়ছি।বই পড়তে গেলে কিছু ফ্যাক্ট তো থাকেই। যেমন, শরত,রবিন্দ্রনাথ, মানিক,তারাসংকর, এরা খুব বেশি মনস্তাত্ত্বিক লেখা লেখে।এদের উপন্যাস পড়া আর গনিত করা একি কথা,অনেক বেশি মনোযোগ দিতে হয় দুইটাতেই। আবার বিভূতিভূষণের লেখা একদম সহজ;কোন প্যাচ নাই। কিন্তু যা আছে সেটা হচ্ছে প্রকৃতির বিষদ আলোচনা। অতএব যে মানুষ সারাজীবন শহরে বড় হয়েছে,তার জন্য বিভূতিভূষণের লেখা পড়ে সেটা কল্পনা করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।

    কিন্তু এই প্রথম কোন বই পড়লাম, যেটা এতো বেশি মোটা হওয়া সত্ত্বেও পড়তে গায়েই লাগেনি একবারো। নিজেকে আলাদা ভাবে একটুকুও পুষ করতে হয়নি বইটা শেষ করার জন্য। তারউপর দুষ্টু ভাইরাসটার জন্য আমাকে চৌদ্দ দিন থাকতে হয়েছিলো কোয়ারিন্টিনে।আগে আমি সবসময় রুটিন করে প্রতেকদিন এক ঘন্টা বই পড়তাম।কিন্তু জীবনে এই প্রথম এইরকম হয়েছে যে, রুটিনহীন ভাবে এক একদিন সাত/আট ঘন্টা শুধু বই পড়ে পার হয়ে যেতো। ভালো বই হলে, খারাপ সময়ও একটা ভালো স্মৃতি হিসেবে থেকে যায়। যে ১৪দিন আমার রোগটা আমাকে ঘরবন্ধি করে রেখে দিয়েছিলো,সে ১৪ দিন আমার এখন মনে থাকবে শুধু এই বইটার জন্য।

    3
    2 Comments
Skip to toolbar