<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | A K Sarker Shaon | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/aksarker/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/aksarker/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for A K Sarker Shaon.</description>
	<lastBuildDate>Thu, 29 Oct 2026 04:13:25 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">941b11697a8e4f3997232915a4de1c1c</guid>
				<title>বিশ্বব্যাপী কিশোরদের মেধা কি কমছে?
এ কে সরকার শাওন

হঠাৎ The Economist-এ একটি লেখা পড়ে আমি আঁতকে উঠলাম। শিরোনামটা এমন- “Are teenagers growing dimmer?” অর্থাৎ, কিশোরেরা কি ক্রমেই কম মেধাবী হয়ে উঠছে?

সঙ্গে দেওয়া রেখাচিত্রটি আরও ভাবিয়ে তুলল। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে উন্নত বিশ্বের বহু দেশে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পড়া, গণিত ও বিজ্ঞানের দক্ষতার সূচক নিচের দিকে নামছে। সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ল পড়ার দক্ষতার রেখাটি। সেটির পতন বেশ স্পষ্ট।
প্রথমেই মনে হলো এটা এ কী করে সম্ভব?

আজকের কিশোর-কিশোরীরা আমাদের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি তথ্যের নাগাল পায়। তাদের হাতে স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, ইউটিউব, ডিজিটাল লাইব্রেরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI। একটি প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা বইয়ের পাতা ওল্টাতে হয় না। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত জ্ঞানের দরজা খুলে যায়।

তাহলে জ্ঞান এত সহজলভ্য হওয়ার পরও শেখার দক্ষতা কমছে কেন?
কৌতূহল থেকেই আমি তথ্যটির মূল উৎস খুঁজতে শুরু করলাম। দেখলাম, এর পেছনে রয়েছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা বা OECD-এর সদ্য প্রকাশিত PISA 2025 ফলাফল। ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের তথ্য সত্যিই চিন্তার।

তবে শুরুতেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। এই ফলাফল প্রমাণ করে না যে আজকের কিশোরেরা জন্মগতভাবে আগের প্রজন্মের চেয়ে কম বুদ্ধিমান হয়ে যাচ্ছে। PISA কোনো আইকিউ পরীক্ষা নয়। বরং এটি দেখতে চায়, একজন ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী যা শিখেছে, তা কতটা বুঝতে পারে এবং বাস্তব জীবনের সমস্যায় সেই জ্ঞান কতটা কাজে লাগাতে পারে।

PISA ও OECD কী?
PISA-এর পূর্ণ নাম Programme for International Student Assessment। আর OECD-এর পূর্ণ নাম Organisation for Economic Co-operation and Development, বাংলায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা। এই OECD-ই PISA নামের আন্তর্জাতিক মূল্যায়নটি পরিচালনা করে।

২০২৫ সালের PISA ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় আয়োজন। ৯১টি দেশ ও অর্থনীতির ৭ লাখ ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নিয়েছে। নমুনা হিসেবে নেওয়া এসব শিক্ষার্থী বিশ্বের প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর প্রতিনিধিত্ব করে। এখানে মূলত বিজ্ঞান, গণিত ও পড়ার দক্ষতা যাচাই করা হয়। এবারের প্রধান বিষয় ছিল বিজ্ঞান। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ডিজিটাল জগতে শেখা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও মূল্যায়নের আওতায় এসেছে।

PISA-এর বিশেষত্ব হলো, এটি শুধু মুখস্থবিদ্যা যাচাই করে না। একটি লেখা পড়ে শিক্ষার্থী তার অর্থ বুঝতে পারছে কি না, তথ্য বিচার করতে পারছে কি না, বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থেকে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে কি না কিংবা গণিত ব্যবহার করে বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে পারছে কি না- এসবের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর এখানেই উদ্বেগের জায়গাটি তৈরি হয়েছে।

সংখ্যাগুলো কী বলছে?
২০২৫ সালে OECD দেশগুলোর গড় স্কোর হয়েছে বিজ্ঞানে ৪৮২, গণিতে ৪৬৩ এবং পড়ায় ৪৬১। OECD জানিয়েছে, PISA-তে এ পর্যন্ত রেকর্ড করা তিনটি মূল বিষয়েই এটি OECD-এর সর্বনিম্ন গড় ফলাফল।
এক দশকের ব্যবধানটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ।

২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে OECD দেশগুলোতে পড়ার গড় স্কোর ৪৮৯ থেকে ৪৬১-তে নেমেছে; পতন ২৮ পয়েন্ট। একই সময়ে গণিতে গড় স্কোর ৪৮৫ থেকে ৪৬৩-তে নেমেছে; পতন ২২ পয়েন্ট। বিজ্ঞানের পতন তুলনামূলক কম, ৪৮৯ থেকে ৪৮২।

OECD-এর হিসাবে গণিতের ২২ পয়েন্ট পতনের মাত্রা এক বছরের কিছু বেশি শেখার অগ্রগতির সমতুল্য। পড়ার ক্ষেত্রে ২৮ পয়েন্টের পতন প্রায় দেড় বছরের শেখার অগ্রগতির সমান।

আরও উদ্বেগজনক একটি সংখ্যা আছে। OECD দেশগুলোতে এখন প্রতি পাঁচজন ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর একজন বিজ্ঞান, গণিত ও পড়া; তিনটি বিষয়েই নিম্ন দক্ষতার পর্যায়ে রয়েছে। ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৬ শতাংশ।

সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে পড়ার দক্ষতা
তিনটি বিষয়ের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে উদ্বেগজনক মনে হয়েছে পড়ার দক্ষতার পতন।
কারণ পড়া কোনো একটি বিষয়ের দক্ষতা নয়। এটি অন্য প্রায় সব ধরনের শিক্ষার দরজা।
একটি গণিতের সমস্যা সমাধানের আগে প্রশ্নটি বুঝতে হয়। বিজ্ঞানের একটি জটিল ধারণা আয়ত্ত করতে হলে সেটি মন দিয়ে পড়তে হয়। ইতিহাস বুঝতে পড়তে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করতে হলে দীর্ঘ গবেষণাপত্র পড়তে হয়। কর্মজীবনে প্রতিবেদন বুঝতেও পড়তে হয়।
এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সত্য ও মিথ্যা তথ্যের পার্থক্য বুঝতেও প্রয়োজন পড়া, বোঝা এবং বিচার করার ক্ষমতা।

২০২২ থেকে ২০২৫; মাত্র তিন বছরেই OECD দেশগুলোতে পড়ার গড় ফলাফল আরও ১৪ পয়েন্ট কমেছে। OECD বলছে, PISA-এর দুই পরীক্ষার মধ্যবর্তী সময়ে পড়ার ক্ষেত্রে এত বড় পতন আগে দেখা যায়নি।

আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে আমার দৃষ্টি কেড়েছে; ‘hasty reading’ বা তাড়াহুড়ো করে পড়া।
অর্থাৎ শিক্ষার্থী লেখা পড়ছে ঠিকই, কিন্তু গভীরভাবে বুঝে পড়ার বদলে দ্রুত চোখ বুলিয়ে উত্তর দিয়ে দিচ্ছে। OECD-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের তুলনায় এমন তাড়াহুড়ো করে পড়া শিক্ষার্থীর হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
কথাটি শুনে আমাদের দৈনন্দিন জীবনটার কথা মনে হয়।
আমরাও কি এখন আগের মতো পড়ি?
নাকি শিরোনাম পড়ি, কয়েক লাইন দেখি, দ্রুত স্ক্রল করি, তারপর পরের বিষয়ে চলে যাই?

তাহলে কি করোনাই দায়ী?
প্রথমে মনে হতে পারে, এর উত্তর খুব সহজ; করোনা মহামারি। মহামারির সময় দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। কোটি কোটি শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়েছে। অনলাইন ক্লাসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। সামাজিক বিচ্ছিন্নতাও তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব শিক্ষায় পড়েছে।
কিন্তু PISA-এর দীর্ঘমেয়াদি রেখাটি দেখলে বোঝা যায়, গল্পটি এত সহজ নয়।

অনেক দেশে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের নিম্নমুখী প্রবণতা করোনার আগেই শুরু হয়েছিল। বিজ্ঞানের ফলাফল প্রায় ২০০৯ সালের পর থেকে ধীরে ধীরে কমছিল। পড়ার ফলাফল সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল প্রায় ২০১২ সালের দিকে, তারপর থেকে সেটিও নিচের দিকে যেতে শুরু করে। গণিতের বড় পতন দেখা যায় ২০১৮ সালের পর।
আর করোনা-পরবর্তী সময়েও সমস্যাটি থামেনি।
২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিজ্ঞানের গড় ফলাফল মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও গণিতে আরও ৯ পয়েন্ট এবং পড়ায় ১৪ পয়েন্ট কমেছে।
অর্থাৎ করোনার ধাক্কা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেটিই পুরো গল্প নয়।

স্মার্টফোন কি আমাদের মনোযোগ কেড়ে নিচ্ছে?
এখানেই আসে প্রযুক্তির প্রশ্ন।
আজকের একজন কিশোরের মনোযোগের জন্য যত কিছু প্রতিযোগিতা করছে, সম্ভবত মানব ইতিহাসে কোনো প্রজন্মকে এত কিছুর মুখোমুখি হতে হয়নি।

স্মার্টফোনে একটি ভিডিও শেষ হওয়ার আগেই আরেকটি প্রস্তুত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টের পর আরেকটি। নোটিফিকেশন আসছে, বার্তা আসছে। গেম আছে, রিলস আছে, শর্ট ভিডিও আছে।

এই পরিবেশে দশ মিনিটের একটি ভিডিওও কখনো দীর্ঘ মনে হয়। সেখানে একটি বই নিয়ে এক ঘণ্টা বসে থাকা আরও কঠিন।
PISA 2025-তেও ডিজিটাল বিভ্রান্তির বিষয়টি উঠে এসেছে। OECD দেশগুলোতে প্রতি চারজনের একজনের বেশি শিক্ষার্থী জানিয়েছে, বিজ্ঞানের অধিকাংশ বা প্রতিটি ক্লাসে সহপাঠীরা ডিজিটাল ডিভাইসের কারণে বিভ্রান্ত হয়। এমন পরিবেশে থাকা শিক্ষার্থীদের ফলাফলও তুলনামূলক খারাপ।

তবে এখানেও সাবধান হওয়া প্রয়োজন।
এই তথ্য থেকে সরাসরি বলা যাবে না যে স্মার্টফোনই শিক্ষার অবনতির একমাত্র কারণ। একই সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষায় দলীয়করণ, পরিবার, সামাজিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক বৈষম্য, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পড়ার অভ্যাস এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক সম্পৃক্ততা; সবকিছুই ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রযুক্তি নিজে শত্রু নয়। সমস্যাটি প্রযুক্তির ব্যবহার।

AI: শিক্ষক, সহযোগী নাকি শর্টকাট?
এখন এই আলোচনায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
একজন শিক্ষার্থী আগে একটি রচনা লিখতে বসলে তাকে ভাবতে হতো। তথ্য খুঁজতে হতো। প্রথম বাক্যটি কী হবে, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়তে হতো। লিখতে গিয়ে ভুল হতো। সেই ভুল কাটিয়ে আবার লিখতে হতো।
এই কষ্টটুকুই আসলে শেখার একটি অংশ।
এখন AI-কে নির্দেশ দিলে কয়েক সেকেন্ডে সুন্দর একটি রচনা পাওয়া সম্ভব।

এটি অসাধারণ প্রযুক্তিগত অর্জন। কিন্তু একই সঙ্গে একটি প্রশ্নও তৈরি করে; শিক্ষার্থী যদি প্রতিবার চিন্তা করার কঠিন অংশটুকু যন্ত্রের হাতে তুলে দেয়, তাহলে তার নিজের চিন্তার ক্ষমতার অনুশীলন হবে কখন?

PISA 2025-এ দেখা গেছে, যেসব শিক্ষার্থী লেখার কাজের খসড়া তৈরিতে AI ব্যবহার করেনি, তারা গড়ে AI ব্যবহারকারীদের তুলনায় বিজ্ঞানে ভালো করেছে। তবে একই প্রতিবেদনে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক রয়েছে। নিয়মিত AI ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা AI-কে শেখার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং AI থেকে পাওয়া তথ্যের মান যাচাই করতে শেখানো হয়েছে, তাদের ফলাফল তুলনামূলক ভালো ছিল।

সুতরাং AI-কে ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই।
বরং আমাদের শিখতে হবে; AI দিয়ে কীভাবে চিন্তা করতে হয়, AI-কে দিয়ে কীভাবে চিন্তা করিয়ে নিতে হয় না।

বইয়ের কাছে কি আবার ফিরতে হবে?
আমার মনে হয়, উত্তরটি অনেকাংশে হ্যাঁ। তবে তার অর্থ প্রযুক্তি ছেড়ে আবার শুধু কাগজের যুগে ফিরে যাওয়া নয়। আমাদের ফিরতে হবে গভীরভাবে পড়ার অভ্যাসে।

একটি দীর্ঘ লেখা পড়লে মস্তিষ্ককে আগের অনুচ্ছেদের তথ্য মনে রাখতে হয়। একটি যুক্তির সঙ্গে আরেকটি যুক্তি মেলাতে হয়। লেখকের বক্তব্য নিয়ে ভাবতে হয়। কোথাও দ্বিমত হলে নিজের যুক্তি তৈরি করতে হয়।
এটি সময় নেয়।
আর আজকের প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবী আমাদের ক্রমাগত শেখাচ্ছে; সময় নিও না, দ্রুত পরেরটিতে চলে যাও।
সম্ভবত এখানেই দ্বন্দ্ব।
জ্ঞান অর্জনের জন্য গভীরতা প্রয়োজন, কিন্তু ডিজিটাল জৌলুশ  আমাদের মনোযোগকে ছোট ছোট টুকরোয় ভাগ করে ফেলতে চায়।

আশার কথাও আছে
PISA 2025-এর ফলাফল শুধু হতাশার নয়।
সব দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে না। অংশগ্রহণকারী চীনা অঞ্চল ও সিঙ্গাপুর ২০২৫ সালে তিনটি মূল বিষয়েই সর্বোচ্চ ফলাফলকারী শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে। এস্তোনিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, চাইনিজ তাইপে ও যুক্তরাজ্যও বিজ্ঞান, গণিত ও পড়া; তিন ক্ষেত্রেই শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে।

কিছু দেশ আবার গত এক দশকে উন্নতিও করেছে। তার অর্থ, পতনটি অনিবার্য নয়।
শিক্ষককে শক্তিশালী করা, প্রয়োজনীয় বিষয়ে গভীরভাবে শেখানো, অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করা, পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের বাড়তি সহায়তা দেওয়া এবং প্রযুক্তিকে পরিমিত ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে ব্যবহার করা; এসবের মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব বলে OECD গুরুত্ব দিয়েছে।

বাংলাদেশের জন্যও বার্তা আছে
বাংলাদেশ OECD সদস্য নয় এবং এই পরিসংখ্যানকে সরাসরি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ফলাফল হিসেবে দেখা যাবে না। কিন্তু যে সামাজিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কথা এখানে বলা হচ্ছে, তার অনেকটাই আমাদের সমাজেও দৃশ্যমান।

আমাদের শিশুর হাতেও স্মার্টফোন পৌঁছেছে। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, রিলস, গেম এবং এখন AI তাদের জীবনেও উপস্থিত।
তাই আমাদেরও কিছু প্রশ্ন করা দরকার।
আমাদের সন্তান প্রতিদিন কতক্ষণ বই পড়ছে? শুধু পরীক্ষার বই নয়; কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ইতিহাস, বিজ্ঞান কিংবা নিজের পছন্দের কোনো দীর্ঘ লেখা?
সে কোনো প্রশ্নের উত্তর না জানলে প্রথমে নিজে ভাবছে, নাকি সঙ্গে সঙ্গে গুগল বা AI-এর কাছে যাচ্ছে?
সে কোনো তথ্য পেলে যাচাই করছে, নাকি প্রথম উত্তরটিকেই সত্য ধরে নিচ্ছে?
স্কুলে আমরা কি শিক্ষার্থীদের শুধু সঠিক উত্তর শেখাচ্ছি, নাকি কেন উত্তরটি সঠিক, সেটিও ভাবতে শেখাচ্ছি?
এ প্রশ্নগুলো এখন জরুরি।

AI নিষিদ্ধ করে এর সমাধান হবে না। স্মার্টফোন কেড়ে নিয়েও স্থায়ী সমাধান হবে না। প্রযুক্তির সঙ্গে বসবাস করেই নতুন প্রজন্মকে মনোযোগ, ধৈর্য, গভীর পাঠ এবং স্বাধীন চিন্তার অভ্যাস শেখাতে হবে।

শেষ কথা
তাহলে কিশোরেরা কি সত্যিই কম মেধাবী হয়ে যাচ্ছে? PISA-এর তথ্য দিয়ে এমন সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। বরং আমার কাছে বিষয়টি অন্য রকম মনে হয়েছে।

আমাদের শিশুরা সম্ভবত মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি তথ্য পাওয়া একটি প্রজন্ম। একই সঙ্গে তারা এমন একটি সময়েও বড় হচ্ছে, যখন তাদের মনোযোগ কেড়ে নেওয়ার আয়োজন ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

একসময় মানুষের বড় সমস্যা ছিল তথ্যের অভাব। আজকের সমস্যা হয়তো উল্টো; তথ্যের সমুদ্রে মনোযোগ ধরে রাখা।

হাতে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত জ্ঞান থাকার পরও যদি একটি দীর্ঘ লেখা মন দিয়ে পড়তে না পারি, একটি কঠিন সমস্যার সামনে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে ভাবতে না পারি কিংবা কোনো যন্ত্রের দেওয়া উত্তর নিজের বুদ্ধি দিয়ে যাচাই করতে না পারি, তাহলে তথ্যের প্রাচুর্য আমাদের জ্ঞানী করে তুলবে না।

PISA 2025 তাই আমার কাছে কিশোরদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নয়।
বরং এটি আমাদের; অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।

আমরাই শিশুদের হাতে প্রযুক্তি তুলে দিয়েছি। এখন আমাদেরই তাদের শেখাতে হবে, কখন স্ক্রিনের দিকে তাকাতে হয় আর কখন স্ক্রিন বন্ধ করতে হয়। কখন AI-এর সাহায্য নিতে হয় আর কখন নিজের মাথা খাটাতে হয়। কখন দ্রুত উত্তর প্রয়োজন আর কখন একটি কঠিন প্রশ্ন নিয়ে দীর্ঘ সময় ভাবতে হয়। কারণ আগামী পৃথিবীতে সবচেয়ে মূল্যবান মানুষটি হয়তো সে নয়, যে সবচেয়ে দ্রুত তথ্য খুঁজে বের করতে পারে।

বরং সে, যে তথ্যের ভিড়ের মধ্যেও মনোযোগ দিয়ে পড়তে, গভীরভাবে বুঝতে এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে।

তথ্যসূত্র:
১. OECD (2026), PISA 2025 Results (Volume I): Future-Ready Students, OECD Publishing, Paris। 
২. OECD (2026), PISA 2025: Students’ Reading and Mathematics Performance Declined Sharply Across the OECD, 8 September 2026। 
৩. OECD (2026), International Launch of PISA 2025, Remarks by OECD Secretary-General Mathias Cormann।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/272737/</link>
				<pubDate>Fri, 11 Sep 2026 04:31:05 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বিশ্বব্যাপী কিশোরদের মেধা কি কমছে?<br />
এ কে সরকার শাওন</p>
<p>হঠাৎ The Economist-এ একটি লেখা পড়ে আমি আঁতকে উঠলাম। শিরোনামটা এমন- “Are teenagers growing dimmer?” অর্থাৎ, কিশোরেরা কি ক্রমেই কম মেধাবী হয়ে উঠছে?</p>
<p>সঙ্গে দেওয়া রেখাচিত্রটি আরও ভাবিয়ে তুলল। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে উন্নত বিশ্বের বহু দেশে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের পড়া, গণিত ও বিজ্ঞানের দক&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-272737"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/272737/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b05cad9155635ec4c5f0ed1fc2e71855</guid>
				<title>মোমের শেষ শিখা
এ কে সরকার শাওন 

বাহার ও নাহার গনিপুর শহরের সরকার পাড়ায় একইসাথে বড় হয়েছে। শাওনাজ বিশ্ববিদ্যালয়েও ওদের লিখাপড়া প্রায় শেষের পথে। প্রেম ও পড়া দু&#039;টোই  পূর্ণ পরিণতির দিকে। নাহার বাংলায়। বাহার আইনে।

ক্যাম্পাসের কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে যখন নাহার আর বাহার বসত, তখন যেন সময় থমকে দাঁড়িয়ে যেতো। নাহার ছিল শান্ত দীঘির মতো নিশ্চুপ, আর বাহার চঞ্চল প্রমত্তা এক নদী। একদিন গোধূলি লগ্নের ম্লান আলোয় ক্যাম্পাসের দীঘির পাড়ে নাহার হুট করেই প্রশ্ন করল
-বাহার, তুমি আমাকে কেমন ভালোবাসো?
বাহার নাহারের কোলে শুইয়ে চোখের দিকে তাকিয়ে একটু হাসল। তারপর খুব শান্ত গলায় বলল
-আমার ভালোবাসা প্রশ্নাতীত নাহার। তোমায় আমি মোমের মতো ভালোবাসি। 
নাহার অবাক হয়ে তাকাতেই বাহারের পকেট থেকে বেরিয়ে এল ছোট্ট একটি   ডায়েরি। সেখানে সে সম্প্রতি লিখেছে চারটি পঙক্তি
&quot;মোমের মতো জ্বলবো সতত
নিঃশেষ হবো হেসে;
শত সূর্যের আলো হয়ে
ফিরবো প্রতি প্রত্যুষে।&quot;

নাহার সেদিন সেই কথার গভীরতা বোঝেনি। সে শুধু জানত, বাহারের হাত ধরলে পৃথিবীটাকে তার কাছে সুন্দর ও নিরাপদ মনে হয়। কিন্তু নিয়তি অন্য কোনো নকশা এঁকে রেখেছিল তাদের জন্য।

বাহারের বাবা জগলু চৌধুরী ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং কঠোর মেজাজের মানুষ। তাঁর কাছে আভিজাত্যই ছিল শেষ কথা। সাধারণ ঘরের মেয়ে নাহারের সাথে নিজের ছেলের মেলামেশা তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারলেন না। কোনো আলাপ-আলোচনা নয়, কোনো যুক্তি নয়—একপ্রকার জোর করেই বাহারকে পাঠিয়ে দিলেন সুদূর কানাডায়। ছেলে ডক্টরেট  হবে সেই আশায়।

বিমানের জানালার পাশে বসে বাহার যখন মেঘের ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল, তখন তার ও নাহারের অশ্রুতে পৃথিবীতে মুষলধারে বৃষ্টি ঝরছিল। বাহার জানত না, এই বিচ্ছেদ কত দিনের। 

অন্যদিকে, বাহার যাওয়ার পরপরই নাহার ও নাহারের পরিবারকে সহ্য করতে হলো চরম লাঞ্ছনা। অপমানে বাবা মারা গেল হার্ট স্ট্রোকে। বাবার শোকে মা-ও পিছু নিলেন বছর ঘুরতে না ঘুরতেই। চৌধুরী সাহেবের ক্রমাগত মানসিক চাপ আর লোকচক্ষুর অন্তরালে করা অপমানের মুখে নাহার গনিপুর শহর ছাড়তে বাধ্য হলো। সে তার সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে চলে গেল পাহাড়ের কোলে রাঙ্গামাটির চন্দ্রঘোনায়।
সেখানে সিদ্দিকুর রহমান নামে নাহারের এক কাজিন  লিচুবাগান এলাকায় তাকে মোটামুটি নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করে দেয়।

চন্দ্রঘোনার কর্ণফুলী নদী ঘেঁষে সবুজ পাহাড়ের পাদদেশে একটি ছোট মিশনারি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করল নাহার। পাহাড়, মেঘ আর কর্ণফুলী নদীর জলের নাচন হলো তার নিত্যসঙ্গী। একমাত্র সিদ্দিকুর রহমানের পরিবারবর্গ ছাড়া অন্য  কেউ জানত না তার অতীতের কথা। তবে নাহারের ভেতরে যে দহন ছিল, তা থেকে বেরোনোর পথ খুঁজে নিল কলমের আঁচড়ের মাধ্যমে। সে লিখলো
&quot;আমার মনের গভীর ক্ষত;
নাই-বা জানলো কেউ,
হাসির রেখায় ঢেকে থাকুক
সাত সাগরের ঢেউ!&quot;

সে নিয়মিত পত্রিকায় লিখতে শুরু করল। তবে নিজের নামে নয়, &#039;মোমের আলো&#039; ছদ্মনামে। তার গল্প-কবিতায় বিষাদ, অপেক্ষা আর আক্ষেপের সুর এমনভাবে ফুটে উঠত যে পাঠকরা মুগ্ধ হয়ে পড়ত। তার লেখাগুলোর মূলে থাকত সেই পুরোনো প্রতিশ্রুতি মোমের মতো জ্বলে নিঃশেষ হওয়ার গল্প।

ওদিকে কানাডার টরন্টো শহরে বাহারের দিনগুলো কাটত যান্ত্রিকতায়। বাবার অবাধ্য হতে পারেনি ঠিকই, কিন্তু নিজের মনকেও বোঝাতে পারেনি। সে মনে মনে নিজেকে সেই মোমের মতোই কল্পনা করত, যা একাই জ্বলে শেষ হয়ে যাবে কিন্তু অন্য কাউকে নিজের জীবনে স্থান দেবে না। নাহারের জন্য অনেক আশা নিয়ে দেশে ফিরে এলো চার বছর পর। পিএইচডি করা শেষ  হলো না তার। 

দেশে এসে দিনে-রাতে খেয়ে না খেয়ে তন্নতন্ন করে তার নাহারকে খুঁজতে লাগল। এদিকে ওর বাবার নিকট অনেক প্রস্তাব এসেছে বিয়ের, কিন্তু বাহার ছিল নাহারের প্রেমে অবিচল। বাহার রয়ে গেল চিরকুমার। আজ এখানে কাল ওখানে। ভবঘুরে জীবন তার।

দেখতে দেখতে আরও বারোটি বছর পার হয়ে গেল। জগলু চৌধুরী   এখন বৃদ্ধ, প্রায় শয্যাশায়ী। ক্ষমতার দম্ভ আর আভিজাত্যের অহংকার বার্ধক্যের কাছে পরাস্ত। তিনি লক্ষ্য করলেন, অঢেল সম্পদ থাকলেও তাঁর পাশে বসার মতো কেউ নেই। একমাত্র ছেলে দেশে থেকেও যেন এক অচেনা দ্বীপে বাস করছে। বাহারের চোখের সেই আনন্দ বহু বছর আগেই নিভে গেছে। দিনের পর দিন রুদ্ধদ্বারে কেঁদে কেঁদে তার চোখের জ্যোতিও যায় যায়।

চৌধুরী সাহেব একদিন রাতে পুরোনো আলমারি ঘাঁটতে গিয়ে একটি ডায়েরি পেলেন। বাহারের সংরক্ষিত ডায়েরি। সেখানে নাহারকে নিয়ে লেখা সেই চার লাইনের কবিতাটি পেলো। ওটা যে বারবার পড়া হয়েছে বোঝা যাচ্ছিল। তাতে হঠাৎ করেই চৌধুরী সাহেবের মনে  অপরাধবোধ জেগে উঠল। তিনি বুঝতে পারলেন, আভিজাত্য রক্ষা করতে গিয়ে তিনি  দু&#039;টি জীবনকে মৃতপ্রায় করেছেন। তিনি বাহারকে বাড়ি ফিরে আসার জন্য আকুল অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখলেন। 

বাহার গনিপুর ফিরলে ওর বাবা বললো
-যেখান থেকে পারিস নাহার মা&#039;কে খুঁজে নিয়ে আয় খোকা।
-বহু খুঁজেছি বাবা। সবই নিস্ফল খোঁজা। 

জগলু ম্যানশন নামে  বিলাসবহুল বাড়িতে বাহারের  মন টিকে না। একদিন প্রত্যুষে উদ্দেশ্যহীনভাবে সে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল চট্টগ্রামের দিকে। শেষ দুপুরের  রোদে সে এসে দাঁড়াল পতেঙ্গার গোল্ডেন বিচে। সমুদ্রের বিশালতা আর ঢেউয়ের গর্জন তাকে যেন শৈশবের সেই হারানো দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল।

বিচের এক কোণে তপ্ত দুপুরে একটি ঝাউগাছের ডাল ধরে দূর সমুদ্রের সফেদ উর্মিমালা দেখছিল এক মধ্যবয়স্ক নারী। পরনে সাদা শাড়ি, চোখে গাঢ় কালো সানগ্লাস। তার মুখে যেন পৃথিবীর সমস্ত বেদনা লুকায়িত। বাহারের  মনে পড়ে গেল কবি এ কে সরকার শাওনের
&#039;প্যারাগন অফ বিউটি&#039; কবিতার অংশবিশেষ।
&quot;চৈত্রের কাঠফাটা দুপুরে
পতেঙ্গার সাগরতীরে
সফেদ সাদা ধূধূ বালুচরে
বিরহ ব্যথাতুর তুমি
দাঁড়িয়ে কালো সানগ্লাস পরে
দৃষ্টি তোমার দূরে বহুদূরে
উত্তাল উর্মিমালার শিয়রে
কোন অজানায় আচিনপুরে!&quot;

বাহার দূর থেকে তার নাহার ভেবে এগিয়ে গেল। একটু কাছে যেতেই তার ভুল ভাঙল। সে তার নাহার নয়। মহিলার হাতে একটি বই &#039;মোমের শেষ শিখা&#039;।
বাহারের মনে পড়ে গেল তার জীবনের একমাত্র লেখা চার লাইনের কবিতা। তার মনে সন্দেহের উদ্রেক হলো। এটি নাহারের লেখা বই না তো!

বাহার এগিয়ে গেল মহিলার দিকে।
-আসসালামু ওয়ালাইকুম আপা। আপনার হাতে যে বইটি &#039;মোমের শেষ শিখা&#039; ওটি কার লেখা জানতে পারি?
-ওয়ালাইকুম সালাম। এই উপন্যাসের লেখিকা ছদ্মনামে মানে &#039;মোমের আলো&#039; নামে লিখেন।
-ওটা কোন প্রকাশনী থেকে বেরিয়েছে?
তিতুমীর প্রকাশনী, আন্দরকিল্লা, চট্টগ্রাম।

সেদিনই সে আন্দরকিল্লা থেকে লেখিকার কয়েকটি বই সংগ্রহ করল। কিন্তু মোম ও মহিলা লেখক ছাড়া আর কোনো তথ্য পেল না। পরদিন সারাদিন অপেক্ষার পর প্রকাশক মাজহারুল আলম তিতুমীর সাহেবের সাথে দেখা পেলো। বাহার ‘মোমের শেষ শিখা&#039; উপন্যাসের  লেখিকার তথ্য চাইল। অনেক অনুনয়-বিনয়ের পর তিতুমীর সাহেব লেখিকার তথ্য দিলেন।

পরদিন সকালে বাহার চন্দ্রঘোনা গেল। স্কুল খুঁজে পেতে সমস্যা হলো না। ছুটির দিন বিধায় তৎসংলগ্ন নাহারের বাড়িতে গেল। সেখানে একটি বয়স্ক মহিলা বলল
-হয়তো বাড়ির পিছনে কর্ণফুলী নদীর পাড়ে মনমরা হয়ে বসে আছে। স্কুল না থাকলে ওটাই তাঁর একমাত্র কাজ।

ঠিক তাই। নাহার একা বসে ছিল নদীর পাড়ে। তার চোখে ছিল বহু বছরের অপেক্ষার ক্লান্তি, আর বুকের ভেতর জমাটবাঁধা অজস্র না বলা কথা। মাঝে মাঝে সে গভীর নদীর জলে তাকাচ্ছিল। নদীর পাড়ে সেদিন অদ্ভুত নীরব ছিল। শুধু দুরন্ত বাতাসের শা শা শব্দ হচ্ছিল। ঢেউগুলো যেন বিষাক্ত ফনা তুলছিল। 
হঠাৎ কোথা থেকে যেন ভেসে এলো এক পরিচিত কণ্ঠ—
-নাহার!
কণ্ঠটা এতই চেনা, এতই আপন! নাহারের বুক কেঁপে উঠল। দ্রুত পেছনে ফিরে তাকাল সে। স্বগতোক্তি করলো
-বাহার!
যেন সময় হঠাৎ পেছনে ফিরে গেছে। চোখের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সেই মানুষ, যার জন্য সে সব হারিয়েছে, সব ছেড়েছে, এবং যাকে আর কখনো পাওয়ার আশা করেনি। নাহারের ঠোঁটে কাঁপতে কাঁপতে একটুখানি হাসি ফুটল। চোখ ভরে উঠল অশ্রুতে। সে উঠে দাঁড়াতে গেল;
ঠিক তখনই হঠাৎ চারদিক যেন অন্ধকার হয়ে এলো। মাথা ঝিমঝিম করে উঠল। পায়ের নিচের মাটি সরে গেল।
এক মুহূর্ত
আর তারপর একটি শব্দ 
ঝপাৎ!
নাহারের শরীর সোজা ৩০ ফুট নীচে কর্ণফুলীর গভীর জলে অতলে তলিয়ে গেল।
-নাহার!
বাহারের গলা ফেটে চিৎকার বেরিয়ে এলো। সে এক মুহূর্তও নিজের জীবনের কথা ভাবেনি। নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ল তার নাহারকে রক্ষা করতে । কিন্তু নদী সেদিন শান্ত ছিল না।
তার গভীরে ছিল অদৃশ্য টান, নির্মম স্রোত।
দুজনেই হারিয়ে গেল সেই উন্মত্ত ঢেউের স্রোতে। বাহারের   হাত আর নাহারের হাতকে ছুঁতে পারল না শেষ পর্যন্ত।
অতঃপর নদীর উপর আবার নেমে এলো নিস্তব্ধতা। অতঃপর স্বাভাবিকতা।  যেন কিছুই ঘটেনি!
শুধু নিমিষেই গভীর জলের তলায় দু&#039;টি অসমাপ্ত ভালোবাসা চিরদিনের জন্য সলিল সমাধিস্থ হয়ে মিলিয়ে গেলো মহাকালের মহাস্রোতে। মোমের শেষ শিখাটি ধপ করে চিরতরে নিভে গেল।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264224/</link>
				<pubDate>Fri, 21 Aug 2026 02:06:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মোমের শেষ শিখা<br />
এ কে সরকার শাওন </p>
<p>বাহার ও নাহার গনিপুর শহরের সরকার পাড়ায় একইসাথে বড় হয়েছে। শাওনাজ বিশ্ববিদ্যালয়েও ওদের লিখাপড়া প্রায় শেষের পথে। প্রেম ও পড়া দু&#8217;টোই  পূর্ণ পরিণতির দিকে। নাহার বাংলায়। বাহার আইনে।</p>
<p>ক্যাম্পাসের কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে যখন নাহার আর বাহার বসত, তখন যেন সময় থমকে দাঁড়িয়ে যেতো। নাহার ছিল শান্ত দীঘির মতো নিশ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-264224"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/264224/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">00482833e3988b7d797c5e9fac9d84fb</guid>
				<title>সমাজে আজকের এই রুচির দুর্ভিক্ষের জন্য আমাদের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোই প্রধানত দায়ী। শুধু টিআরপি (TRP) আর ভিউ বাড়ানোর অন্ধ প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে তারা সংবাদ ও শিরোনামের মানকে এক নগ্ন ও সস্তা পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে। দেশের উদীয়মান তরুণ বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কবি কিংবা সমাজসেবকদের মেধার কোনো মূল্যায়ন এখানে হয় না; তারা প্রচারের আলো থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। অথচ গণমাধ্যমগুলো হিরো আলম কিংবা পরীমণির মতো চরিত্রদের নিয়ে প্রতিনিয়ত এমন চটকদার ও বিকৃত শিরোনাম তৈরি করছে, যেন ওরাই আমাদের জাতীয় স্তরের প্রধান আইকন।

গণমাধ্যমের এই আচরণকে কেবল আকস্মিক ভাবার সুযোগ নেই; এটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সমাজের মূল সংকট, মেধার বিকাশ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণ থেকে সাধারণ মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে ঘুরিয়ে রাখতেই মিডিয়াগুলো এই অপকৌশল বেছে নিয়েছে। মূলত নিম্নবর্গের বা প্রান্তিক মানুষকে প্রকৃত সম্মান না দিয়ে, তাদের সস্তা বিনোদনের উপাদান বানিয়ে মিডিয়াগুলো যে করপোরেট ফায়দা লুটছে, তা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ ও তরুণ প্রজন্মের রুচিবোধকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/264223/</link>
				<pubDate>Fri, 21 Aug 2026 02:02:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সমাজে আজকের এই রুচির দুর্ভিক্ষের জন্য আমাদের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোই প্রধানত দায়ী। শুধু টিআরপি (TRP) আর ভিউ বাড়ানোর অন্ধ প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে তারা সংবাদ ও শিরোনামের মানকে এক নগ্ন ও সস্তা পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে। দেশের উদীয়মান তরুণ বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কবি কিংবা সমাজসেবকদের মেধার কোনো মূল্যায়ন এখানে হয় না; তার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-264223"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/264223/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">59e194bff57c56fe7687b35a3bbabf00</guid>
				<title>এক ফোঁটা জল
এ কে সরকার শাওন

পাড়ার ছেলেমেয়েদের কাছে জগলু মামার ঘরটা ছিল একটি জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া। তবে সেই এনসাইক্লোপিডিয়ার পাতাগুলো চুপচাপ থাকত না; কখনো আলো জ্বালত, কখনো শোঁ শোঁ শব্দ করত, আবার কখনো আচমকা ধোঁয়া ছেড়ে সবাইকে চমকে দিত।

নবীনগর সরকারি কলেজপড়ুয়া ভাগনে তানভীর সরকার, টেকনিক্যাল জ্ঞান থাকার জন্য তাকে বন্ধুরা টেক তানভীর বলে ডাকে, তার অনবরত প্রশ্ন করা বন্ধু নিশাত আর মধ্যম মানের ছাত্র  হলেও দারুণ উপস্থিত বুদ্ধির অধিকারী রনি ছুটি পেলেই ছুটত জগলু মামার ল্যাবরেটরিতে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডক্টর জগলু জোশীকে পাড়ার সবাই জগলু মামা বলে ডাকত। বয়স পঞ্চাশ ছুঁইছুঁই হলেও মনটা ছিল একেবারে শিশুর মতো। তিনি সব সময় হাসিখুশি থাকতেন। তবে বিজ্ঞানের কোনো সমস্যা নিয়ে ভাবতে বসলে খাওয়া, ঘুম, এমনকি নিজের জন্মদিন পর্যন্ত ভুলে যেতেন।

গত সপ্তাহেই মাস্টার্স পরীক্ষার খাতা দেখতে বসে একটি সঠিক উত্তরের নিচে লিখেছিলেন,
-“রাসায়নিক বিক্রিয়াটি ঠিক আছে, কিন্তু নিউটনের তৃতীয় সূত্র কোথায়?”

ছাত্রটি ভয়ে ভয়ে জানিয়েছিল, সেটি রসায়নের নয়, পদার্থবিজ্ঞানেরই খাতা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর কাণ্ডে মাথায় হাত দিলেও পাড়ার ছেলেমেয়েদের কাছে জগলু মামাই ছিলেন পৃথিবীর সেরা বিজ্ঞানী।

তবে জগলু মামার জীবনে বিজ্ঞানের বাইরেও একটি অধ্যায় ছিল, যার কোনো সূত্র তিনি আজও আবিষ্কার করতে পারেননি।

পাশের বাড়ির শীলার সঙ্গে যৌবনে তাঁর গভীর প্রণয় ছিল। তাঁদের বিয়েও প্রায় ঠিক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিজ্ঞানের মধ্যে ডুবে থাকা ভুলো মনের জগলুকে ছেড়ে একদিন শীলা অন্যত্র বিয়ে করে চলে যায় জীবনের অংক মেলাতে। জগলু মামা নিউটনের গতিসূত্র ও মহাকর্ষ বল নিয়ে আজও তথৈবচ। 

শীলা  স্বামী-সন্তান নিয়ে কুমিল্লা  শহরে থাকে। বাবার বাড়িতে মানে গোপালপুরে বেড়াতে এলেও জগলু মামার সঙ্গে তার দেখা হয় না। দেখা না হওয়ার এই অলিখিত ব্যবস্থাটা দু&#039;জনেই যেন নিঃশব্দে মেনে নিয়েছে।

সেদিন বিকেলে তানভীররা ল্যাবরেটরিতে ঢুকেই থমকে দাঁড়াল।
ঘরের ছাদ থেকে নানা রঙের তার ঝুলছে। দেয়ালে সৌরজগতের বিশাল মানচিত্র। এক পাশে ছোট রকেটের মডেল, অন্য পাশে রোবটের কাটা হাত। ঘরের মাঝখানে রাখা কাঁচের গোলকের ভেতর নীল-বেগুনি আলোর শাখাগুলো ছটফট করছে।
রনি গোলকটির দিকে হাত বাড়িয়ে বলল,

-“মামা, এর ভেতরে কি ভূত আটকে রেখেছ?”
জগলু মামা চমকে উঠে বললেন,
-“খবরদার! বিজ্ঞানের ল্যাবে কোনো কিছুতে না জেনে স্পর্শ করা নিষেধ।”

তিনি সবাইকে সুরক্ষা-চশমা পরিয়ে বললেন,
-“এটা প্লাজমা গ্লোব। প্লাজমা হলো পদার্থের চতুর্থ অবস্থা। কঠিন, তরল ও গ্যাসের পর আসে প্লাজমা। সূর্য এবং নক্ষত্রগুলো মূলত প্লাজমা দিয়ে তৈরি।”
রনি চোখ বড় বড় করে বলল,
-“তার মানে, তুমি একটা ছোট সূর্য কাঁচের জারে বন্দী করেছ?”
-“পুরো সূর্য নয়। সূর্যের অতি ক্ষুদ্র এক আত্মীয় বলতে পারিস।”
নিশাতের মাথায় ততক্ষণে আরেকটি প্রশ্ন এসেছে।
-“মামা, আজ কলেজে রণজিৎ  স্যার বলেছেন, বাতাস আমাদের চারপাশ থেকে চাপ দেয়। কিন্তু আমরা সেই চাপ টের পাই না কেন?”

জগলু মামার চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
-“চমৎকার প্রশ্ন! শরীরের ভেতরের চাপ বাইরের বায়ুচাপের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখে বলেই আমরা তা টের পাই না। দাঁড়া, একটা পরীক্ষা করে দেখাই।”

মামা একটি তাপসহনশীল প্লাস্টিকের বোতল নিলেন। দস্তানা পরে তার ভেতর সামান্য গরম পানি ঢেলে ভালোভাবে ঘুরিয়ে নিলেন। গরম পানির বাষ্প বোতলের ভেতরের কিছু বাতাস বাইরে ঠেলে দিল। তারপর পানি ফেলে দিয়ে তিনি দ্রুত বোতলটির মুখ শক্ত করে বন্ধ করলেন।
-“এবার ভালো করে দেখ।”
কয়েক মুহূর্ত পর
খড়মড়! খড়মড়!
বোতলটি চারদিক থেকে দুমড়ে যেতে লাগল। দেখতে দেখতে সেটি প্রায় চ্যাপ্টা হয়ে গেল।

রনি দুই পা পিছিয়ে গিয়ে বলল

-“বোতলটাকে কে চাপ দিল, মামা?”
জগলু মামা হেসে বললেন,
-“বাইরের বাতাস। বোতলের ভেতরের গরম বাষ্প ঠান্ডা হয়ে আবার পানিতে পরিণত হয়েছে। ফলে ভেতরের চাপ কমে গেছে। তখন বাইরের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ বোতলটাকে দুমড়ে দিয়েছে।”

নিশাত মুগ্ধ হয়ে বলল,

-“অর্থাৎ বাতাস দেখা যায় না, কিন্তু তার অনেক শক্তি!”
-“ঠিক তাই। অদৃশ্য মানেই শক্তিহীন নয়।”

ঠিক তখনই ল্যাবরেটরির দরজায় দ্রুত কয়েকবার আঘাত পড়ল।
ঠক! ঠক! ঠক!
দরজা খুলতেই জগলু মামা ফ্রিজ হয়ে গেলেন।
বাইরে শীলা দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখ বিবর্ণ, চুল এলোমেলো, চোখে আতঙ্ক। বহু বছর পর মুখোমুখি হয়ে দুজনের কেউই কয়েক মুহূর্ত কথা বলতে পারল না।
শীলা কাঁপা গলায় বলল,
-“জগলু, আমার ছেলে শিন্টু বাবার পুরোনো গুদামঘরে আটকে গেছে। দরজাটা কিছুতেই খুলছে না। তুমি একটু চলো প্লিজ!”

জগলু মামা কোনো প্রশ্ন করলেন না। শুধু যন্ত্রপাতির বাক্সটি হাতে তুলে নিলেন।
-“চলুন।”
একটি মাত্র শব্দ। কিন্তু তার আড়ালে চাপা পড়ে রইল বহু বছরের দূরত্ব, অভিমান আর না-বলা কথা।
তানভীর, নিশাত ও রনিও তাঁর পিছু নিল।

শীলাদের পুরোনো গুদামঘরে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও দামি জিনিস রাখা হতো। নিরাপত্তার জন্য কয়েক বছর আগে সেখানে একটি স্বয়ংক্রিয় লোহার দরজা লাগানো হয়েছিল।

দরজাটি খোলা দেখে শিন্টু কৌতূহলবশত ভেতরে ঢুকেছিল। কিছুক্ষণ পর সেটি আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় বাইরের নিয়ন্ত্রণযন্ত্রটি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সঠিক কোড দেওয়ার পরও দরজা খুলছে না।

ভেতর থেকে শিন্টুর কান্না শোনা গেল।
-“মা! আমাকে বের করো!”
শীলা দরজার কাছে গিয়ে বলল,
-“ভয় পেয়ো না, বাবা। তোমার জগলু মামা এসে গেছেন।”

‘জগলু মামা’ সম্বোধনটি শুনে তিনি মুহূর্তের জন্য থমকে গেলেন। তারপর দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে দরজাটি পরীক্ষা করতে শুরু করলেন।
একজন প্রতিবেশী শাবল হাতে এগিয়ে এসে বললেন,
-“দরজা ভেঙে ফেলি মামা?”
জগলু মামা তাঁকে বাধা দিলেন।
-“লোহার দরজা ভাঙতে অনেক সময় লাগবে। তা ছাড়া আঘাতে ভেতরের ছেলেটি আহত হতে পারে বা ভয়ও পেতে পারে। আগে সমস্যাটা বুঝতে হবে।”

তিনি পরীক্ষাযন্ত্র দিয়ে দরজার বাইরের নিয়ন্ত্রণপ্যানেলটি পরীক্ষা করলেন। তারপর স্ক্রু খুলে প্যানেলের ঢাকনা সরিয়ে ফেললেন।
তানভীর আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞেস করল,
-“কী হয়েছে, মামা?”
-“দরজার লক ঠিক আছে, কিন্তু লককে নির্দেশ দেওয়া কন্ট্রোল সার্কিটটি নষ্ট হয়ে গেছে। মস্তিষ্ক নির্দেশ না দিলে হাত যেমন কাজ করে না, তেমনি কন্ট্রোল সার্কিটের সংকেত না পেয়ে লকটিও খুলছে না।”

নিশাত জিজ্ঞেস করল,
-“তাহলে কি পুরো যন্ত্রটি বদলাতে হবে?”
-“পরে বদলাতে হবে। কিন্তু শিন্টুকে দ্রুত বের করার জন্য এখনই নষ্ট সার্কিটটাকে পাশ কাটিয়ে এগোতে  হবে। বাইপাস রোডের মত।&quot;

জগলু মামা নকশাটি পরীক্ষা করে বুঝলেন, এটি এমন ধরনের সোলেনয়েড লক, যার কুণ্ডলীতে নির্দিষ্ট মাত্রার বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলে লোহার ল্যাচটি সরে গিয়ে দরজা খুলে যায়।

তিনি প্রথমে দরজার মূল বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেন। পরীক্ষাযন্ত্র দিয়ে নিশ্চিত হলেন, কোথাও বিপজ্জনক বিদ্যুৎপ্রবাহ নেই। তারপর বাক্স থেকে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যাটারি, দুটি তার ও একটি ছোট সুইচ বের করলেন। মিটার দিয়ে প্রয়োজনীয় ভোল্টেজ মেপে তার দুটি সোলেনয়েডের নির্দিষ্ট সংযোগস্থলে লাগালেন।

রনি খানিকটা পিছিয়ে গিয়ে বলল,
-“মামা, দরজাটা যদি বিগড়ে যায়?”
জগলু মামা মৃদু হেসে বললেন,
-“বিজ্ঞান রাগের ভাষা বোঝে না, রনি। সে কারণ আর ফলাফলের ভাষা বোঝে।”

তারপর তানভীরকে বললেন
-“সুইচটা অন কর।”
তানভীর সুইচ চাপতেই সোলেনয়েডের তারের কুণ্ডলীর ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হলো। সঙ্গে সঙ্গে সেটি তড়িৎ-চুম্বকে পরিণত হয়ে লোহার ল্যাচটিকে ভেতরে টেনে নিল।

খট!

জগলু মামা হাতল ঘোরাতেই ভারী দরজাটি খুলে গেল।

-“মা!”
শিন্টু দৌড়ে বেরিয়ে এসে শীলাকে জড়িয়ে ধরল। উপস্থিত সবাই স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।
রনি আনন্দে বলে উঠল,
-“বিজ্ঞানের কাছে লোহার দরজাও হার মানল!”
জগলু মামা মৃদু হেসে বললেন,
-“দরজাকে হারাইনি। শুধু তার ভাষাটা বুঝেছি।”

শীলা ছেলেকে বুকে জড়িয়ে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ছলছল চোখে জগলু মামার দিকে তাকিয়ে বলল,
-“তোমাকে কী বলে ধন্যবাদ দেব?”
সেই দৃষ্টিতে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে মিশে ছিল বহু বছর আগে তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়ার অপরাধবোধ।

জগলু মামা যন্ত্রপাতি বাক্সে তোলার অজুহাতে তার চোখের দিকে না তাকিয়ে বললেন,
-“আপনার ধন্যবাদ না পেলেও ক্ষতি নেই। বিপদে পড়লে বিজ্ঞান মানুষকে উদ্ধার করে। সেখানে কে বন্ধু, কে শত্রু; বিজ্ঞান তা ভাবে না। তা ছাড়া প্রতিবেশীর প্রতি কিছু দায়িত্বও থাকে।”

শীলা কিছু বলল না। ছলছল চোখে কয়েক মুহূর্ত জগলু মামার দিকে তাকিয়ে থেকে শিন্টুর হাত ধরল। কয়েক পা এগিয়ে গিয়ে আবার থামল। পেছন ফিরে তাকাল।

জগলু মামা তখনও মাথা নিচু করে যন্ত্রপাতি বাক্সে তুলছেন।
শীলা কিছু বলতে চেয়েও বলল না। তারপর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে গুদামঘর থেকে তাদের মূল বাড়ির দিকে চলে গেল।

যন্ত্রপাতি গুছিয়ে জগলু মামা নিজের ল্যাবরেটরির দিকে রওনা হলেন। তানভীর, নিশাত ও রনিও নীরবে তাঁর সঙ্গে চলল। অন্য দিন ফেরার পথে তারা প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে মামাকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলত। কিন্তু আজ কেউ একটি কথাও বলল না।

ল্যাবরেটরির সামনে এসে জগলু মামা ছেলেদের দিকে না তাকিয়েই বললেন,
-“আজকের মতো তোরা এখন যা। আমার একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে।”

মামার কণ্ঠে এমন কিছু ছিল যে কেউ আর প্রশ্ন করার সাহস পেল না। তানভীর, নিশাত ও রনি একে একে চলে গেল।

তারা চোখের আড়াল হতেই জগলু মামা ধীরে ঘুরে দাঁড়ালেন। যে পথ ধরে শীলা ও শিন্টু চলে গেছে, সেদিকে আরেকবার তাকালেন। দূরে মা ও ছেলের অস্পষ্ট ছায়া মোড় ঘুরে অদৃশ্য হয়ে গেল।

জগলু মামা ল্যাবরেটরিতে ঢুকে দরজা বন্ধ করলেন। ঘরটি হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। কাঁচের গোলকের ভেতর শুধু নীল-বেগুনি প্লাজমার আলোগুলো ছটফট করছে।

তিনি ধীরে ধীরে চেয়ারে এসে বসলেন। সামনে পড়ে থাকা গবেষণার খাতাটি টেনে নিয়ে কলম হাতে নিলেন। অনেকক্ষণ স্থির থেকে আনমনে লিখলেন,

“শীলা গললেও বিজ্ঞানীর গলা চলে না।”

কলম থেমে গেল।

তিনি চশমাটি খুলে টেবিলের ওপর রাখলেন।

প্লাজমা গ্লোবের নীল আলোয় দেখা গেল, খাতার পাতার ওপর এক ফোঁটা জল পড়ে অক্ষরগুলোতে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

জগলু মামা জলটুকু মুছে ফেললেন না।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/261020/</link>
				<pubDate>Thu, 13 Aug 2026 05:23:03 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>এক ফোঁটা জল<br />
এ কে সরকার শাওন</p>
<p>পাড়ার ছেলেমেয়েদের কাছে জগলু মামার ঘরটা ছিল একটি জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়া। তবে সেই এনসাইক্লোপিডিয়ার পাতাগুলো চুপচাপ থাকত না; কখনো আলো জ্বালত, কখনো শোঁ শোঁ শব্দ করত, আবার কখনো আচমকা ধোঁয়া ছেড়ে সবাইকে চমকে দিত।</p>
<p>নবীনগর সরকারি কলেজপড়ুয়া ভাগনে তানভীর সরকার, টেকনিক্যাল জ্ঞান থাকার জন্য তাকে বন্ধুরা টেক তানভীর ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-261020"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/261020/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e26571e4b6a2c1067c578280bee7c8aa</guid>
				<title>অনন্ত অভিযাত্রা
-এ কে সরকার শাওন

নন্দে আনন্দে সুর ছন্দে
সুর লহরীর ক্ষণে;
সমতট-ভূমে মৃত্তিকা চুমে
জন্মেছি মাতৃ ঋণে!

বঙ্গ-সন্তান গাই গান
সবুজ শ্যামল প্রবাহে,
প্রগতি-মন কল্যাণী জন
অসুর বিনাশী দ্রোহে!

এ চরাচরে রেখেছি ধরে
সততার ঝান্ডা উঁচু;
কোটি বিবর্তনে অনন্ত ক্ষণে
মম-মস্তক হয়নি নীচু!

দেশ আমার জন্মি বারবার
রূপ বদলে সৃজনে!
যে ভজে আমায় দেখতে সে পায়
অসীম ধরায়তনে।

আমার অমিয় রূপ স্বকীয়
উলম্ব আড়া শিরদাঁড়া!
কামী-শঠ, প্রতারক-প্রবঞ্চক,
ভাবে আমি ঘাড়ত্যাড়া!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/259007/</link>
				<pubDate>Thu, 30 Jul 2026 02:53:49 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>অনন্ত অভিযাত্রা<br />
-এ কে সরকার শাওন</p>
<p>নন্দে আনন্দে সুর ছন্দে<br />
সুর লহরীর ক্ষণে;<br />
সমতট-ভূমে মৃত্তিকা চুমে<br />
জন্মেছি মাতৃ ঋণে!</p>
<p>বঙ্গ-সন্তান গাই গান<br />
সবুজ শ্যামল প্রবাহে,<br />
প্রগতি-মন কল্যাণী জন<br />
অসুর বিনাশী দ্রোহে!</p>
<p>এ চরাচরে রেখেছি ধরে<br />
সততার ঝান্ডা উঁচু;<br />
কোটি বিবর্তনে অনন্ত ক্ষণে<br />
মম-মস্তক হয়নি নীচু!</p>
<p>দেশ আমার জন্মি বারবার<br />
রূপ বদলে সৃজন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-259007"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/259007/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">11a5d23e30558496339df515a6b0924b</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/258961/</link>
				<pubDate>Wed, 29 Jul 2026 14:03:54 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e9e77c4614d7eadc2e5ae27f505c1461</guid>
				<title>মন ভেঙ্গেছে;  কী হয়েছে?
আবার রাঙবে  মন!
দুখের পরে সুখ ফিরে
সাজাতে এই জীবন।

ভাঙ্গার মাঝে নতুন সাজে
সাজে জীবনালেখ্য! 
পুরোনোকে আঁকড়ে থাকা
নয় জীবনের লক্ষ্য!

লাঙ্গলের ফলায় মাটি সাজায়
একটু একটু ভেঙ্গে।
ওলট পালট নাচে মাটি
ফসল ফলার রঙ্গে।

ছোট্ট বীজ আসল চিজ 
ঘটায়   প্রাণের  বিস্তারণ!
বীজ ভেঙ্গেই অঙ্কুর গজায়
আশ্চর্য প্রাণের জাগরণ! 

শস্য ভাংলে ছাতু  মেলে
এ নয় হেলাফেলা!
সেই ছাতুর পিঠা-পুলি
চিবিয়ে ভেঙ্গে গেলা।

জলীয়বাষ্প নয় আস্ত
কোটি কণার সৃষ্টি । 
জমাট বেঁধে মেঘের সৃষ্টি 
মেঘ ভেঙ্গেই বৃষ্টি! 

বিন্দু বিন্দু জলে সিন্ধু
জলকণারই ছলা।
যতো বড় পাহাড় দেখি
মাটি কণার ঢেলা।

বিগ ব্যাং এর বিস্ফোরণেই
মহা বিশ্বের  উন্মেষ। 
রোডিনিয়া-প্যানজিয়া ভেঙ্গে 
কত সাগর-মহাদেশ।

বাবা মা ভাই বোনের 
সাধের সুন্দর পরিবার।
ভেঙ্গে ভেঙ্গে গড়ি আবার
মোদের নিজের সংসার!

মানব শরীরে কিলবিল করে
শত ট্রিলিয়ন অনুজীব। 
আমার আমিত্ব ভেঙ্গেচুরেই
অন্তরাত্মা  হয় সজীব! 

রক্তকণা ভেঙ্গে গড়ে
অনবরত  অভ্যন্তরে!
তা না হলে জীবন-প্রদীপ
নিভতো এক ফুঁৎকারে!

একটু হেলে ভাবলে মেলে
জগৎ ভাঙ্গার খেলা।
ভাঙ্গার পরে বসবে আবার
বিচার দিনের মেলা।

এ বিশ্বের যা কিছু দেখি
সবই ভাঙ্গার খেলা।
গড়তে হলে ভাঙতে হবে
এ সবই ভবলীলা! 

আমি আজ তাই ভাঙ্গার গান গাই
ভাঙ্গো ক্ষয়িষ্ণু সমাজ।
ধ্বংসস্তুপে ধাপে ধাপে 
জাগবে স্বপ্নের সরাজ


কবিতাঃ ভাঙ্গার গান
কাব্যগ্রন্থঃ প্রান্তিক-প্রান্তরে
কবিঃ এ কে সরকার শাওন
শাওনাজ ভিলা, উত্তরখান, ঢাকা।
২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/213905/</link>
				<pubDate>Mon, 06 May 2024 14:15:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মন ভেঙ্গেছে;  কী হয়েছে?<br />
আবার রাঙবে  মন!<br />
দুখের পরে সুখ ফিরে<br />
সাজাতে এই জীবন।</p>
<p>ভাঙ্গার মাঝে নতুন সাজে<br />
সাজে জীবনালেখ্য!<br />
পুরোনোকে আঁকড়ে থাকা<br />
নয় জীবনের লক্ষ্য!</p>
<p>লাঙ্গলের ফলায় মাটি সাজায়<br />
একটু একটু ভেঙ্গে।<br />
ওলট পালট নাচে মাটি<br />
ফসল ফলার রঙ্গে।</p>
<p>ছোট্ট বীজ আসল চিজ<br />
ঘটায়   প্রাণের  বিস্তারণ!<br />
বীজ ভেঙ্গেই অঙ্কুর গজায়<br />
আশ্চর্য প্রাণের জাগর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-213905"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/213905/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">72a8435ca7a20f30f093f4e29e0e8c16</guid>
				<title>&quot;বিজয় উল্লাস&quot;
 এ কে সরকার শাওন

একাত্তরে বিস্ময়কর বিজয়ে
দেখেছি বাঙ্গালীর উল্লাস !
লুপ্ত স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে,
মুক্তিরা রচে নূতন ইতিহাস!

স্বাধীকার জ্বাজল্যমান সূর্যটা,
যেদিন ডুবলো পলাশীর প্রান্তরে!
সেই থেকে বাংলার আকাশে,
শেয়াল-শকুনেরা উড়ে!

ইংরে-পাকিদের অত্যাচারে
উনিশটি দশক হাহাকার,
স্তূপীকৃত ক্ষোভের বারুদ,
একাত্তরে গর্জিল পুনর্বার !

কখনো খন্ডিত, কখনো সমন্বিত,
যুদ্ধে পুরো বাংলা রক্তাক্ত প্রান্তর!
লাখো লাখো বীরের প্রতিরোধ,
জাতি শপথ নিল ছুঁয়ে অন্তর!

আপামর জনতার দীপ্ত শপথ
চূড়ান্ত লক্ষ্য স্বাধীনতা চাই!
মারো কিংবা মরো,
স্বাধীনতা ভিন্ন অন্য কথা নাই!

স্বাধীকার সূর্যটা ছিনিয়ে এনে
বাংলার আকাশে দিল উড়িয়ে!
দামাল ছেলেরা জানান দিল,
বাঙ্গালী কম নয় কারো চেয়ে!

বাঙ্গালী বীরের জাতি,
আজ সাধ্য কার করে অবহেলা?
বিশ্ব দেখলো সবাই গাইলো
আমার সোনার বাংলা!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/75497/</link>
				<pubDate>Thu, 16 Dec 2021 12:58:23 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;বিজয় উল্লাস&#8221;<br />
 এ কে সরকার শাওন</p>
<p>একাত্তরে বিস্ময়কর বিজয়ে<br />
দেখেছি বাঙ্গালীর উল্লাস !<br />
লুপ্ত স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে,<br />
মুক্তিরা রচে নূতন ইতিহাস!</p>
<p>স্বাধীকার জ্বাজল্যমান সূর্যটা,<br />
যেদিন ডুবলো পলাশীর প্রান্তরে!<br />
সেই থেকে বাংলার আকাশে,<br />
শেয়াল-শকুনেরা উড়ে!</p>
<p>ইংরে-পাকিদের অত্যাচারে<br />
উনিশটি দশক হাহাকার,<br />
স্তূপীকৃত ক্ষোভের বারুদ,<br />
একাত্তরে গর্জিল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-75497"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/75497/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">20fed6695083c6bef57bf2eeec9b6d9a</guid>
				<title>বিরাগ-বচন
এ কে সরকার শাওন

তোর হৃদয় পুড়ে খাক হয়ে যাক
দিচ্ছি অভিশাপ,
হৃদয় কেড়ে হৃদয় নিয়ে
খেলা করা পাপ।

তোর চোখেতে ছল ছিল তাই
আমার চোখে জল;
হীরা ভেবে কাঁচ নিয়েছি
সব হয়েছে জল।

বৃহস্পতি দেয়না ধরা
আশার গলায় ফাঁস
তোর চোখেতে চোখ রাখাটাই
আমার সর্বনাশ।

ব্লক করেছিস, লাইন কেটেছিস
আমার কি যায় তাতে!
মনের আলোয় দেখছি তোকে
আছিস নয়নপাতে।

যে হৃদয়ে লাঙ্গল দিয়ে
রক্ত গঙ্গা বহাস,
জানিস না তুই সেই হৃদয়ে
তোরই বসবাস।

সজনী পার্ক, নাটোর।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/67128/</link>
				<pubDate>Wed, 01 Dec 2021 05:04:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>বিরাগ-বচন<br />
এ কে সরকার শাওন</p>
<p>তোর হৃদয় পুড়ে খাক হয়ে যাক<br />
দিচ্ছি অভিশাপ,<br />
হৃদয় কেড়ে হৃদয় নিয়ে<br />
খেলা করা পাপ।</p>
<p>তোর চোখেতে ছল ছিল তাই<br />
আমার চোখে জল;<br />
হীরা ভেবে কাঁচ নিয়েছি<br />
সব হয়েছে জল।</p>
<p>বৃহস্পতি দেয়না ধরা<br />
আশার গলায় ফাঁস<br />
তোর চোখেতে চোখ রাখাটাই<br />
আমার সর্বনাশ।</p>
<p>ব্লক করেছিস, লাইন কেটেছিস<br />
আমার কি যায় তাতে!<br />
মনের আলোয় দেখছি তোকে<br />
আছিস&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-67128"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/67128/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5b202bcc1bfcb459b967dc6f39381085</guid>
				<title>হেমন্তের গান
এ কে সরকার শাওন 

হেমন্তের আগমনী গান
হিমেল হাওয়া গেয়ে যায়;
শরৎ নিয়েছে বিদায়,
কুয়াশার চাদর দিয়ে গায়।

ঘাসের মাথায় হীরার শিশির
মুকুট ঝলমল করে!
নীলাকাশ মিতালীতে মাতে
সবুজ দিগন্ত ধরে!

বাগানজুড়ে শোভা পায়
অশোক ছাতিম হিমঝুরী;
শিউলি কামিনী গন্ধরাজের
ঘ্রাণে মন যায় ভরি!

বাতাস ঢেউ খেলে
সোনালি ধানের ক্ষেতে।
কৃষাণ খুশিতে গান করে
পূর্ণতা প্রাপ্তিতে!

পরিবারের পুনর্মিলন
নবান্নের মহা উৎসবে;
ঝিয়ারী জামাই নাইওর আসে,
খুশির জোয়ারে ভাসে সবে!

নতুন চালের ফিরণি পায়েস
অমৃতের স্বাদ ক্ষীরে!
চিড়া মুড়ি খইয়ের স্বাদ বাড়ে
চিনিপাতা জমাট দইয়ে!

চাই হাতে নানা চলে
মাছ ধরার উৎসবে!
জাল কাঁধে সাথী নাতি
ডোলা হাতে গৌরবে!

দিনে লুডু লাঠিখেলা আর
কানামাছি নাগরদোলা!
রাতে আড্ডা হৈ-হুল্লোড়
বাউলা গান যাত্রাপালা!

হাসি-খুশি আনন্দ-উল্লাস
ধানে ধনে জনে গানে
চাঁদের হাট বসে ঘরে ঘরে
সাধের অগ্রহায়ণে!

আবহমান বাংলায়
এ পরম্পরা বিশ্বের সেরা!
শহরে বসে কি আছে আর;
স্মৃতি রোমন্থন ছাড়া?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/64843/</link>
				<pubDate>Sun, 28 Nov 2021 13:55:31 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>হেমন্তের গান<br />
এ কে সরকার শাওন </p>
<p>হেমন্তের আগমনী গান<br />
হিমেল হাওয়া গেয়ে যায়;<br />
শরৎ নিয়েছে বিদায়,<br />
কুয়াশার চাদর দিয়ে গায়।</p>
<p>ঘাসের মাথায় হীরার শিশির<br />
মুকুট ঝলমল করে!<br />
নীলাকাশ মিতালীতে মাতে<br />
সবুজ দিগন্ত ধরে!</p>
<p>বাগানজুড়ে শোভা পায়<br />
অশোক ছাতিম হিমঝুরী;<br />
শিউলি কামিনী গন্ধরাজের<br />
ঘ্রাণে মন যায় ভরি!</p>
<p>বাতাস ঢেউ খেলে<br />
সোনালি ধানের ক্ষেতে।<br />
কৃষাণ খুশিতে গা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-64843"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/64843/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">69fea2e30af48b92cf81c74a9b711ada</guid>
				<title>ধানে ধন্য নবান্ন
এ কে সরকার শাওন

চকজুড়ে সোনালী ধান
চোখে স্বপ্ন জয়ের দ্যুতি!
বিধাতার বর বিস্ময়কর
চাষীর কী সুখানুভুতি!

আমন ধান কাটার ধুম
দেশে বয় সুখের জোয়ার!
পাকা ধানের মৌ মৌ ঘ্রাণে
উৎসব মুখর চারিধার!

আট আটি মাথায় তুলে
দলবেঁধে চলে বাড়ি;
উঠানে বিশাল আটির স্তুপ
চলছে মাড়াই তড়িঘড়ি!

বৌ ঝি’দের ব্যস্ততা ভীষণ
ঢেঁকিতে ধান ভানার গান।
পাহাড় সমান খড়ের গাদা
গোলায় সম্পদ অফুরান!

পুকুর পূর্ণ নানান মাছে
সব্জীর বাহার চারা ক্ষেতে!
ফুলের বহর মধুর নহর
আঙ্গিনায় ফুল বাগিচাতে!

ঝি-জামাই বোন-ভাগিনা
জুটেছে সব আত্বীয় স্বজন!
সুখের নীড়ে সুখের ভীড়ে
পাখিরাও গায় গান কূজন!

রাতে কম্বল গায়ে মু্ড়ে
পালাগানে কতক মাতে;
সুখে হাসে দুখে কাঁদে
কুশীলবের সাথে সাথে!

অগ্রহায়নের চাঁদনী রাতে
শিউলী কামিনীর কড়া ঘ্রাণে;
মন হারিয়ে মন ভরে যায়
জগলুর বাঁশীর সুরের টানে!

প্রাচীন পার্বণ খুশীর নবান্ন
বাঙালির সর্বসেরা সংস্কৃতি!
ঘরে ঘরে খুশীর আমেজ
গ্রামে উল্ল্যসের মাতামাতি!

প্রনবন্ত সন্ধ্যা কাটে
মুড়ি-মুড়কি ভাজা পোড়ায়;
মায়ের মায়ায় বোনের ছায়ায়
খোশগল্পের ছোঁয়ায় ছোঁয়ায়!

নতুন চালের পিঠা পুলি
ফিরনী পায়েস ক্ষীর!
মায়ের চূলার চারপাশে
চাঁদের হাটের ভীড়!

সবার খুশীতে বাবার চোখে
আনন্দাশ্রুর কণা!
পরিবারের এ মিলন মেলা
বিশ্বের কোথাও মিলে না!

বাংলার নবান্ন ধানে ধন্য
বিশ্বজুড়ে মহীয়ান।
মায়ের দোয়ায় স্বজন ছোঁয়ায়
প্রজন্ম হয় ধীমান!

কবিতাঃ ধানে ধন্য নবান্ন
কাব্যগ্রন্থঃ বাঁশীওয়ালা
এ কে সরকার শাওন
শাওনাজ, উত্তরখান, ঢাকা!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/63830/</link>
				<pubDate>Sat, 27 Nov 2021 14:55:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ধানে ধন্য নবান্ন<br />
এ কে সরকার শাওন</p>
<p>চকজুড়ে সোনালী ধান<br />
চোখে স্বপ্ন জয়ের দ্যুতি!<br />
বিধাতার বর বিস্ময়কর<br />
চাষীর কী সুখানুভুতি!</p>
<p>আমন ধান কাটার ধুম<br />
দেশে বয় সুখের জোয়ার!<br />
পাকা ধানের মৌ মৌ ঘ্রাণে<br />
উৎসব মুখর চারিধার!</p>
<p>আট আটি মাথায় তুলে<br />
দলবেঁধে চলে বাড়ি;<br />
উঠানে বিশাল আটির স্তুপ<br />
চলছে মাড়াই তড়িঘড়ি!</p>
<p>বৌ ঝি’দের ব্যস্ততা ভীষণ<br />
ঢেঁকিতে ধান ভা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-63830"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/63830/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c0417d0a000d4a118c407f5fde69a61d</guid>
				<title>কোমল কার্তিক
এ কে সরকার শাওন

বৃষ্টি বাদলের আভাস নাই,
নাই গুরু গম্ভীর মেঘমালা।
বিলের ফুলে আকাশ নীলে
তনুমনে লাগে দোলা!

শেষ রাতে শীতের আমেজ
দিনেও নাই গ্রীষ্মের তেজ;
সহজ সাজে স্বচ্ছ প্রকৃতি
বন-বনানী পুলকিত সতেজ!

ছায়াঢাকা গ্রামগুলি
যেন ক্যানভাসে আঁকা ছবি;
অনিন্দ্য সুন্দর রমনীয় ধরায়
বিস্মিত বাউলা কবি!

শীত-শরতের মাখামাখি
এটা-ই হেমন্তের কার্তিক;
বাতাসে দোলে গাছ গাছালি
সবুজে স্বপ্নময় চারদিক।

আদিগন্ত মাঠে সোনালী আগামী
নয়নাভিরাম অপরূপ জ্যোতি।
কার্তিকে পুষ্ট আমন ধান
চকে শস্য-সুফলার দ্যুতি।

মরণের পরেও স্বর্গ ছেড়ে
ফিরবো কার্তিকে এ ধরায়;
শ্যামল প্রান্তরের স্বর্গসুখে
নিঃশ্বাস নিবো বাংলায়!

শুকনো জলাশয়ে চোখ ধাঁধাবে
সাদা-বেগুনি পানা ফুলে!
পতিত খেতের আলপথে গিয়ে
নাম হারা ফুল নিবো তুলে!

ধানের শীষে আলতো চুমিয়ে
মুদবো নয়ন ফসলের মুগ্ধতায়!
মাটির অঙ্গ মাটিতে মিশিয়ে
খাটি হবো মাটির মায়ায়।

ঝিরিঝিরি বাতাসে গুনগুনাবো
গলুইয়ে চিৎ শুয়ে নৌকায়!
পদ্মা মেঘনা তিতাসের জলে
নেয়ে সিদ্ধ হবো শুদ্ধতায়!

বাউত উৎসবে মাছ ধরবো
মেঘনায় গোপালপুরের বিলে!
ঘাসের ডগায় মুক্তার শিশিরে
মুখ ভেজাবো সাত সকালে!

রূপালী স্রোতের চিকিমিকিতে
খুঁজে পাবো সজনীর হাসি!
গগনভেদী চিৎকারে বলবো
আজো তোমায় ভালোবাসি!

বর্ষা-শীতের মাঝে কার্তিকে
উচ্ছ্বাসে উল্ল্যাসে নাচবো;
মাছ ভাতে নিখাঁদ বাঙ্গালীপনায়
উৎসবে আমোদে হারাবো!

গাছের ছায়ায় বন্ধু আড্ডায়
নিমিষেই দিন সারা;
মা শাসিয়ে বলবেন রেগে
আজ বাড়ি আয় হতচ্ছাড়া!

ঘুঘু ডাকা অলস বিকেলে
নিঝুম মল্লিকা বনে!
রাখালের সাথে সুর মিলাবো
হারানো দিনের গানে!

উন্মনা মন হবে ম্রিয়মান
ভানুর বিদায় বেলায়!
মোমের আলোয় প্রিয়ার মুখ
ভাসবে মনের খেয়ায়!</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/55201/</link>
				<pubDate>Thu, 11 Nov 2021 14:21:04 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>কোমল কার্তিক<br />
এ কে সরকার শাওন</p>
<p>বৃষ্টি বাদলের আভাস নাই,<br />
নাই গুরু গম্ভীর মেঘমালা।<br />
বিলের ফুলে আকাশ নীলে<br />
তনুমনে লাগে দোলা!</p>
<p>শেষ রাতে শীতের আমেজ<br />
দিনেও নাই গ্রীষ্মের তেজ;<br />
সহজ সাজে স্বচ্ছ প্রকৃতি<br />
বন-বনানী পুলকিত সতেজ!</p>
<p>ছায়াঢাকা গ্রামগুলি<br />
যেন ক্যানভাসে আঁকা ছবি;<br />
অনিন্দ্য সুন্দর রমনীয় ধরায়<br />
বিস্মিত বাউলা কবি!</p>
<p>শীত-শরতের মাখামাখি<br />
এটা-ই হেমন্তের কার্তিক;<br />
ব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-55201"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/55201/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ea26eb52ea0055587df7f4051bd093a5</guid>
				<title>সাহিত্য ও কবিতার কথা
এ কে সরকার শাওন

বিশ্বে এখন চলছে কলি কালের ভাড়ামীর যুগ। কি নাটকে কি চলচ্চিত্রে কি কবিতায় বা গানে সবখানেই ভাড়ামী আর ভাড়ামী। ভাড়ামীতেও মনে হয় পোষাচ্ছে না। সব অশ্লীলতার দিকে চলে যাচ্ছে! বদন বইয়ের ভিডিও ট্যাবে ও ইউটিউবে সহজলভ্য অশ্লীলতার ছড়াছড়ি। এসবের বিরুদ্ধে কারো কোন জোরালো বক্তব্য দেখিনা। ওখানেও যে ব্যবসা! যেন তেন হলেও তো ব্যবসা। যেখানে ব্যবসা সেখানে চুপ থাকাটা উত্তম। অতি মাত্রায় বাবসায়িক বিজ্ঞাপনের যন্ত্রণায় টিভি দেখা ছেড়ে দিয়েছিলাম; এখন অনলাইনেও বিজ্ঞাপনের অশেষ যন্ত্রণা। প্রায় সবখানে উদ্ভট বিষয়গুলিকে সামনে আনা হচ্ছে। আর ক্লাসিক্যাল বিষয়গুলো অবহেলিত হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।

সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, পরম্পরা এগুলো তো নির্বাসিত । এর সাথে ব্যবসা জড়িত বলে একদম শেষ হচ্ছে না! অনেক আগে উগান্ডার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি স্লাইড ক্যালিপার্স দেখে প্রধান শিক্ষকের নিকট জানতে চেয়েছিলাম
এই স্লাইড ক্যালিপার্স কি প্রয়োজন এখানে? এখানে তো ক্লাস ফাইভ এর ছাত্র মাতৃভাষায় রিড়িং পড়তে গিয়ে টকশোর দূর্নীতিবাজ আতেলের মত অ্যাঁ অ্যাঁ করে!
&quot;অফিস থেকে দিয়েছে তাই বিনা বাক্যে নিয়ে এসেছি।&quot;
মাথা নিচু করে জবাব দিলেন হেড মাস্টার। ফেরার পথে গাড়ীতে বন্ধু কবীর আবার প্রসঙ্গটি সামনে নিয়ে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো অনেক টাকা খরচ করে কেনো স্লাইড ক্যালির্পাসটি এই বাচ্চাদরে স্কুলে দিয়েছে?
শোন, এই ধরনরে ক্রয় হয়ে থাকে প্রান্তিক ব্যাবহারকারীদের সুবিধা দেয়ার জন্য না। কন্ট্রাকটর, র্কতা ও উপরিওয়ালাদের পকেট ভারী করার জন্যই এই ধরনের আননেসেসারি দামী আইটেম কেনা হয়। মারিং করতে সুবধিা হয়। নীতি বা-নৈতিকতা একবারে তলানীতে ঠেকলে এ রকম ক্রয় হয়। জবাবদিহিতা তো নেই বললেই চলে।

আজকাল বেশির ভাগ নিউজ ওয়েব র্পোটালে কবিতা বা সাহিত্যের ট্যাবটি খুঁজেই পাওয়া যায় না। যে সব দেশে সাহিত্যকে অন্যান্য ট্যাবের মাঝে খুঁজে নিতে হয় সে সব দেশের বদন বইয়ের ভিডিও ট্যাবে টু এক্স, থ্রি এক্স সহজ লভ্য হবইে! পরর্বতী জেনারেশানের শিক্ষার পথ তো লবনাক্ত হয়েই আছে। আমাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা সাহিত্যকে জীবনে গুরুত্বর্পূণ ও অপরিহার্য মনে করনে না। জীবন গঠনের জন্য সাহিত্য পাঠ ও অনুশীলনের বিকল্প নাই। চিন্তা জগতের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করার জন্য, চিন্তা শক্তির বিস্তৃতি ঘটানোর জন্য, অতীত বা ভবিষৎ বা কল্পনার রাজ্যে ডুব দেবার জন্য, লিখনি শক্তি,বাগ্মিতা গুন বাড়ানোর জন্য, নীতি, নৈতিকতা ও মনোবল বাড়ানোর জন্য সাহিত্যকে গুরুত্ব দিতেই হবে। ব্যক্তি যদি সাহিত্যকে গুরুত্ব না দেয় তাহলে একসময় ব্যক্তির এতো সাধের জীবনটাই গুরুত্বহীন হয়ে যাবে। সমাজ ও রাষ্ট্র যদি সাহিত্যকে গুরুত্ব না দেয় তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্র ক্ষয়িষ্ণু হতে বাধ্য।

আমার খুব কাছের ব্যাক্তি রাজশাহী নিউজ ২৪ এর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রায়হানুল হক ভাইকে সাহিত্যের গুরুত্বের ব্যাপারে বলার পর তিনি তাঁর ওয়েব পোর্টালে &quot;সাহিত্য&quot; ট্যাব যোগ করে আমাকে কল করে বলেছিলেন, ভাই, আপনার জন্য &quot;সাহিত্য&quot; ট্যাবটি যোগ দিলাম। যারা দেশ ও দশের কথা ভাববে তাঁরা সাহিত্যকে গুরুত্ব দিবেই।

সাহিত্য চর্চা বা পাঠ ছাত্রদের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন। সাহিত্য কল্পনা শক্তি, উদ্ভাবনা শক্তি ও সৃজনশীলতাকে অনেক গুন বাড়িয়ে দেয়। যা সঠিক পরিকল্পনা করতে সহায়তা করে। সাহিত্য কোন একটি বিষয়ে সঠিক বিশ্লেষণ করতে সহায়তা করে থাকে। সহিষ্ণুতা সহানুভুতি ও বোধগম্যতা বাড়িয়ে দেয়। সেইজন্য যুগে যুগে স্বৈরাচারী শাসকগণ ও প্রগতির বিপক্ষে অবস্থানকারীরা সাহিত্যকে মনে প্রাণে ঘৃণা করে। সাহিত্য থেকে ছাত্রদের দূরে রাখতে চেষ্টা করে। মাদক, মারামারি, অশ্লীলতার দিকে ঠেলে দেয়। বিনোদনের সব রকম বাবস্থা করলেও ছল চাতুরী করে সাহত্যি থেকে দূরে রাখে। বন্ধ্যা জাতি তৈরী করে শাসক গোষ্ঠী নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়ে আজীবন দেশে শাসনের দুঃস্বপ্ন দেখে। কিন্তু তারা জানে না স্বপ্ন দেখতে ও তার বিস্তার ঘটাতে সাহিত্যের বিকল্প নাই। তাছাড়া সাহিত্য সঠিক পথের অনুপ্ররণা ও ভ্রমণের আগ্রহ বাড়ায়। সাহিত্যের কৌতুক মনে রস-সঞ্চার করে মনকে সতেজ করে, অবসাদ দূর করে।

সাহিত্যের গুরুত্ব অনুধাবন করে আমেরিকান সাহিত্যিকে আইলান স্টেভান্স (Ilan Stavans) বলেন, “Literature is the best way to overcome death.” ।

অন্যদিকে রোমান দার্শনিক সিনেকা সাহিত্যহীন জীবনকে মৃত বলে অভিহিত করে বলেছেন, &quot;Leisure without literature is death, or rather the burial of a living man”.

সাহিত্যহীন ব্যস্ত মানুষকে বিপদজনক বলে তাদের থেকে দূরে অবস্থান করতে নির্দেশ প্রদান করে গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিস বলেছেন,
&quot;Beware the barrenness of a busy life&quot;

সাহিত্যের প্রধান পাঁচটি শাখার (কবিতা, নাটক, গদ্য,নন-ফিকশন ও মিডিয়া) মধ্যে কবিতা অগ্রগণ্য। সাহিত্যের উপরে উল্লেখিত গুনাবলীর বেশীরভাগই কবিতার। গান হচ্ছে গীতি কবিতা। সমাজ পরির্বতনে গান যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা ১৯৭১ সালে আমরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলাম। বিশ্বের অনেক জ্ঞানী গুনিজন গান ও কবিতার গুনর্কীতন করে গিয়েছেন।

ব্রিটিশ সাহিত্যিক ও দার্শনিক উইলিয়াম হ্যাজলিট কবিতাকে বিশ্বজনীন ভাষা বলেছেন এবং যে কবিতাকে ঘৃণা করে সে সম্মান পাওয়ার অযোগ্য বলে তাকে অভিহিত করে বলেছেন,
&quot;Poetry is the universal language which the heart holds with nature and itself. He who has a contempt for poetry, cannot have much respect for himself, or for anything else&quot;.

আমেরিকার ৩৫তম রাষ্ট্রপতি জন এফ কেনেডি কবিতাকে ঔদ্ধত্যপূর্ণ ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক বলে অভিহিত করে বলেছেন,
&quot;When power leads man toward arrogance, poetry reminds him of his limitations. When power narrows the area of man&#039;s concern, poetry reminds him of the richness and diversity of existence. When power corrupts, poetry cleanses.&quot;

ফ্রান্সিস বেকন কবিকে ধীমান বলেছেন। তিনি বলেছেন, &quot;History makes a man wise.&quot; এরিস্টটল কবিতাকে ইতিহাসের উপরে স্থান দিয়ে বলেছেন, &quot; Poetry is finer and more philosophical than history; for poetry expresses the universal, and history only the particular.&quot;

আমেরিকান দার্শনিক ও লেখক হেনরী ডেভিড থরীউ কবিতা ও দার্শনকে পাশাপাশি রেখে বলেছেন, কবিতা যেখানে পূর্ণ সত্য প্রকাশ করে দর্শন করে সেখানে আংশিক সত্য প্রকাশ। তিনি বলেছেন, &quot;Poetry implies the whole truth, philosophy expresses only a particle of it.&quot;.

কবিতা যদি একটি আন্দোলন হয়। সেই আন্দোলনে সবচেয়ে জোরালো বক্তব্য রেখে গিয়েছেন কিংবদন্তী কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। জিহবায় উচ্চারিত প্রতিটি সত্য শব্দ কে কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি কর্ষিত জমির প্রতিটি শস্যদানা কেও কবিতা বলে কবিতাকে মুকুট পরিয়েছেন। কবিতা যে আদর্শ সমাজের জন্য কত গুরুত্বর্পূণ তা বোঝাতে তিনি বলেছেন,

&quot;যে কবিতা শুনতে জানে না
সে ঝড়ের র্আতনাদ শুনবে ।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে দিগন্তের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।
যে কবিতা শুনতে জানে না
সে আজন্ম ক্রীতদাস থেকে যাবে।&quot;

লাভ লাভ করতে করতে আমরা টাকার কাছে ক্রীতদাসই হয়ে যাচ্ছি!
আমরা বেকন, হ্যাজলিট, সিনেকা ও সক্রেটিসের মত দার্শনিকের কথা মত চলি না বলেই আজকের সমাজটা ক্ষয়িষ্ণুতার শেষ প্রান্তে নড়বড়ে অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে।

শাওনাজ, উত্তরখান, ঢাকা।

লেখকঃ কবি ও সাহিত্যিক</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/53818/</link>
				<pubDate>Mon, 08 Nov 2021 16:31:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সাহিত্য ও কবিতার কথা<br />
এ কে সরকার শাওন</p>
<p>বিশ্বে এখন চলছে কলি কালের ভাড়ামীর যুগ। কি নাটকে কি চলচ্চিত্রে কি কবিতায় বা গানে সবখানেই ভাড়ামী আর ভাড়ামী। ভাড়ামীতেও মনে হয় পোষাচ্ছে না। সব অশ্লীলতার দিকে চলে যাচ্ছে! বদন বইয়ের ভিডিও ট্যাবে ও ইউটিউবে সহজলভ্য অশ্লীলতার ছড়াছড়ি। এসবের বিরুদ্ধে কারো কোন জোরালো বক্তব্য দেখিনা। ওখানেও যে ব্যবসা! যেন তেন হলেও তো ব্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-53818"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/53818/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b154df33a5e1b0913bdb511ecb7ebd4a</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/53817/</link>
				<pubDate>Mon, 08 Nov 2021 16:27:54 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">000760e02442e91f47a6d20079eea245</guid>
				<title>A K Sarker Shaon changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/53802/</link>
				<pubDate>Mon, 08 Nov 2021 15:44:33 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>