-
কোমল কার্তিক
এ কে সরকার শাওনবৃষ্টি বাদলের আভাস নাই,
নাই গুরু গম্ভীর মেঘমালা।
বিলের ফুলে আকাশ নীলে
তনুমনে লাগে দোলা!শেষ রাতে শীতের আমেজ
দিনেও নাই গ্রীষ্মের তেজ;
সহজ সাজে স্বচ্ছ প্রকৃতি
বন-বনানী পুলকিত সতেজ!ছায়াঢাকা গ্রামগুলি
যেন ক্যানভাসে আঁকা ছবি;
অনিন্দ্য সুন্দর রমনীয় ধরায়
বিস্মিত বাউলা কবি!শীত-শরতের মাখামাখি
এটা-ই হেমন্তের কার্তিক;
বাতাসে দোলে গাছ গাছালি
সবুজে স্বপ্নময় চারদিক।আদিগন্ত মাঠে সোনালী আগামী
নয়নাভিরাম অপরূপ জ্যোতি।
কার্তিকে পুষ্ট আমন ধান
চকে শস্য-সুফলার দ্যুতি।মরণের পরেও স্বর্গ ছেড়ে
ফিরবো কার্তিকে এ ধরায়;
শ্যামল প্রান্তরের স্বর্গসুখে
নিঃশ্বাস নিবো বাংলায়!শুকনো জলাশয়ে চোখ ধাঁধাবে
সাদা-বেগুনি পানা ফুলে!
পতিত খেতের আলপথে গিয়ে
নাম হারা ফুল নিবো তুলে!ধানের শীষে আলতো চুমিয়ে
মুদবো নয়ন ফসলের মুগ্ধতায়!
মাটির অঙ্গ মাটিতে মিশিয়ে
খাটি হবো মাটির মায়ায়।ঝিরিঝিরি বাতাসে গুনগুনাবো
গলুইয়ে চিৎ শুয়ে নৌকায়!
পদ্মা মেঘনা তিতাসের জলে
নেয়ে সিদ্ধ হবো শুদ্ধতায়!বাউত উৎসবে মাছ ধরবো
মেঘনায় গোপালপুরের বিলে!
ঘাসের ডগায় মুক্তার শিশিরে
মুখ ভেজাবো সাত সকালে!রূপালী স্রোতের চিকিমিকিতে
খুঁজে পাবো সজনীর হাসি!
গগনভেদী চিৎকারে বলবো
আজো তোমায় ভালোবাসি!বর্ষা-শীতের মাঝে কার্তিকে
উচ্ছ্বাসে উল্ল্যাসে নাচবো;
মাছ ভাতে নিখাঁদ বাঙ্গালীপনায়
উৎসবে আমোদে হারাবো!গাছের ছায়ায় বন্ধু আড্ডায়
নিমিষেই দিন সারা;
মা শাসিয়ে বলবেন রেগে
আজ বাড়ি আয় হতচ্ছাড়া!ঘুঘু ডাকা অলস বিকেলে
নিঝুম মল্লিকা বনে!
রাখালের সাথে সুর মিলাবো
হারানো দিনের গানে!উন্মনা মন হবে ম্রিয়মান
ভানুর বিদায় বেলায়!
মোমের আলোয় প্রিয়ার মুখ
ভাসবে মনের খেয়ায়!8 Comments

এ কে সরকার শাওন
কবি ও সাহিত্যিক
আমার জন্ম ১৯৬৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের গোপালপুরে। পিতা মো: আবদুল গনি সরকার একজন সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন এবং মাতা মিসেস সালেহা গনি সরকার ছিলেন একজন আদর্শ গৃহিনী। আমার প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ “কথা-কাব্য” (২০১৯)। দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলি যথাক্রমে “নিরব কথপোকথন” (২০২০) ও “আপন-ছায়া” (২০২১) তিনটি কাব্যগ্রন্থই রকমারী ডট কমে পাওয়া যাচ্ছে https://www.rokomari.com/book/author/70977/a-k-sorkar-shaon</ আমার জনপ্রিয় কবিতাগুলি হচ্ছে, চশমা, তুমি আমার সজনী সেন, নারী তুমি অনন্যা, পরে কথা হবে, দাগ রয়েই যায়, আপন-ছায়া, ধন্যি মেয়ে, কাশ্মীরী শাল, পশীহারা, বাবার ছবি, আমি নইকো একেলা, কাঁঠাল, উদাসীন পথিকের মনের ব্যাথা, অপ্সরী, একাদশীর চান, নীল টিপ, বিরাগ-বচন, বিক্ষুব্ধ উর্মিমালা ইত্যাদি। আমার শিক্ষা জীবনের হাতেখড়ি ঝালকাঠির উদ্ধোধন হাই স্কুলে। ছেলে বেলায় অসুস্থতার কারনে ১৯৭৫ সালে সরাসরি ৪র্থ শ্রেণিতে ভর্তি হই । ১৯৮০ সালের জুনে উদ্ধোধন হাই স্কুলে ৯ম শ্রেণিতে থাকাকালে বাবার বদলীজনিত কারনে নিজ গ্রাম গোপালপুরে চলে যাই। ১৯৮৩ সালে নবীনগর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি, ১৯৮৫ সালে নবীনগর সরকারী কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করেন। ১৯৯১ সালে বিমান বাহিনীর এ্যারোনটিক্যাল ইন্জিনিয়ারিং ইনসটিটিউট থেকে প্রথম শ্রেণিতে এসোসিয়েট ইন্জিনিয়ারিং পাশ করি। ১৯৯৬ সাল থেকে ১০ বছর ঐ ইনসটিটিউটের প্রশিক্ষক ছিলাম। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজী সাহিত্য স্নাতক, ২০০৭ সালে এজাম্পশন বিশ্ববিদ্যালয়, থাইল্যান্ড থেকে ডিপ্লোমা ইন ইনফরমেশন টেকনোলজিতে স্নাতক লাভ করি। এ ছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও আইনশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করি। আগামী ২০২২ সালের বইমেলায় আসবে কাব্যগ্রন্থ আলো-ছায়া। অন্যান্য অপ্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলি যেমন বাঁশীওয়ালা, আপন-আভাস, প্রলয়-প্রলাপ, প্রণয়-প্রলাপ, প্রান্তিক-প্রান্তরে, চেয়ার ও চোর, বাঁকা চাঁদের হাসি (শিশুদের জন্য) ও Songs of Insane প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে। আমি ও য়ামার সহধর্মীনি শিক্ষাবিদ নাজমা আশেকীন শাওন এম. এ. এম-এড তিন কণ্যা (তৃষা, তৃণা ও তূর্ণা) সন্তানের জনক-জননী। সন্তানেরা দেশ-বিদেশের শীর্ষ স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন রত! সরকারী চাকুরী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে বর্তমানে বসবাস করছি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার উত্তরখানের নিজ বাসভবন কবিকুঞ্জ শাওনাজে ভবনে।


কোমল কার্তিকে তার সাথে যদি দেখাহয়…।