<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | Md. Azizur Rahman | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/azizur/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/azizur/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for Md. Azizur Rahman.</description>
	<lastBuildDate>Tue, 16 Jun 2026 06:10:34 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">8f4c50b2595e3a36ed29d5c78b227ce1</guid>
				<title>সন্দেহ...
মোঃ আজিজুর রহমান 

সিমু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ৩য় বর্ষের ছাত্রী। মেধাবি, সুদর্শনা, সুশ্রী এবং সদালাপি। রাকিবুর রহমান ও সাইরা খাতুনের একমাত্র মেয়ে।অতি আদরের। তারা থাকেন খুলনাতে।আর কোন সন্তান না হওয়ায় রাকিবুর রহমান তার নিজ নামের ছয়তলা বাড়িটি মেয়ের নামে লিখে দেন। মেয়েও বাবা-মায়ের অনুগত ও শ্রদ্ধাশীল। তাদের খুব ভালবাসে। বাবা মায়ের সঙ্গে অতি নিবীড় সম্পর্ক থাকায় অন্য কোন সম্পর্কে জড়ায়নি।  

সিমু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলে ওর মা রাজি হয়না ঢাকায় পাঠাতে। বলে অনেক দূর। আমরা তোমাকে ছাড়া একদিনও থাকতে পারব না। তুমি অতো দূরে চলে গেলে আমাদের অনেক কষ্ট হবে। তুমি খুলনাতে ভর্তি হও। এখানেও অনেকে পড়াশুনা করে বড় হয়েছে। সিুম বলে আচ্ছা ঠিক আছে মা তুমি যেহেতু চাও না তাহলে আমি খুলনাতেই ভর্তি হব। রাকিব সাহেব কিছুটা দ্বিধা-দ্বন্ধে ভোগেন। কী করবেন বুঝতে পারেন না। এমন সময় তার বন্ধু সোবহানের কথা মনে পড়ে। সোবহান ঢাকার গুলশানে থাকে। একজন উকিল। তাকে ফোন করে রাকিব সাহেব। ফোনে বন্ধুকে বলে তার মেয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চান্স পাওয়ার কথা। বন্ধু বলে এতো খুব ভাল কথা। ভর্তি করে দে। থাকা নিয়ে কোন সমস্যা হলে আমার বাসা থেকে ভার্সিটিতে যাওয়া আসা করবে। তুই মেয়েকে নিয়ে চলে আয়। রাকিবুর রহমান বলে সবই তো ঠিক আছে কিন্তু তোর ভাবি রাজি হচ্ছে না। সে মেয়েকে ঢাকাতে পাঠাবে না। সোবহান সাহেব বলে ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ার সৌভাগ্য সবার হয়না। তোরা বোকামি করছিস। ভাবিকে বোঝা। আর আমি ও তোর ভাবিতো আছি। রাকিব সাহেব বলে আচ্ছা ঠিক আছে। 

রাকিবুর রহমান তার স্ত্রীকে বলে, মেয়ে আমাদের বড় হোক। সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক। দেশ ও জাতির জন্য কিছু করুক। এটাই মা-বাবা হিসেবে আমাদের চাওয়া। আমরা তো ওর বড় হওয়ার পথে বাধা হতে পারিনা। আমরা এখন নিজেদের স্বার্থে ওকে দূরে পাঠাচ্ছি না। কিন্তু বিয়ে দিলে তাকে তো শ্বশুর বাড়ি পাঠাতে হবে। তখনও তো আমাদের ওকে ছাড়া থাকতে হবে। সাইরা খাতুন বলে, আমার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ঘর-জামাই করে রাখব। ঘর জামাই থাকবে এমন ছেলে দেখে বিয়ে দেব। তাও আমি ওকে দূরে পাঠাব না। সাইরা খাতুনের এক কথা মেয়েকে ঢাকাতে পাঠাবে না। রাকিব সাহেবসহ অন্যান্য আত্মীয়রা অনেক বোঝানোর পর রাজি হন সাইরা খাতুন। তবে শর্ত একটা কারর বাসায় রাখা যাবে না মেয়েকে। মেয়ের জন্য আলাদা বাসা ভাড়া করে রাখতে হবে। রাকিব সাহেব রাজি হয়ে যায়। বন্ধু সোবহানকে ফোন করে বলে ওর মা রাজি হয়েছে। বন্ধু খুব খুশি হয়। শর্তের কথা শুনে মন খারাপ হয়ে যায়। বাসা কোথায় ভাড়া নিতে চাস। রাকিব সাহেব বলে আজিমপুরে হলে ভাল হয়। সোবহান সাহেব তার লোক দিয়ে আজিমপুরে বাসা খুঁজে দেয়। সিমু বাবা-মাসহ ঐ বাড়িতে ওঠে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যে সিমু রোকেয়া হলে সিট পায়। আজিমপুরের বাসা ছেড়ে দিয়ে ও হলে ওঠে। মা-বাবা খুলনাতে চলে যায়। সিমু প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষে বেশ ভাল করে। শিক্ষকরাও ওকে পছন্দ করে। সে পড়াশোনার ব্যাপারে অনেক সিরিয়াস। 

সোবহান সাহেব এর খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু আকবর হোসেন। একই এলাকা গুলশানে থাকেন। গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা। ধনী পরিবারের সন্তান। নিজের ব্যবসা আছে। আকবর হোসেনের দুই মেয়ে রিমা ও রিমু। রিমু বড় রিমা ছোট। রিমু আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা দিবে। ছাত্রী হিসেবে মাঝামাঝি। মেয়ের আবার ইংরেজি ভিতি আছে। আকবর হোসেন তার বন্ধু সোবহানকে বলে আমার মেয়ের জন্য একজন মেয়ে ইংরেজি শিক্ষক দরকার। তোর কোন জানাশুনা আছে কিনা? সোবহান সাহেব বলে আছে একজন। সে খুব ভাল ছাত্রী। কিন্তু মনে হয় পড়াবে না। আমার বন্ধুর মেয়ে ওদের আর্থিক আবস্থাও ভাল। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। আকবর হোসেন বন্ধুকে বলে তুই একটু চেষ্টা করে দেখ না? মেয়েকে গাড়ি করে নিয়ে আসবে আবার দিয়ে আসবে। বেতন যা নেয় নিবে। সোবহান সাহেব বলে আচ্ছা ঠিক আছে কথা বলে দেখি। তিনি সিমুকে ফোন দেন। তার বন্ধুর মেয়ের সমস্যার কথা বলে তাকে অনুরোধ করে। সিমু চিন্তা করে সোবহান চাচার জন্য সে পড়তে ঢাকাতে আসতে পেরেছে এবং বাড়ি ভাড়া উনিই করে দিয়েছেন। তার উপকারের কথা মনে করে সে রাজি হয়। বলে আমার কোন সমস্যা নেই। আব্বা যদি রাজি হয়। সোবহান সাহেব বলে তোমার আব্বার সাথে আমি কথা বলে ব্যবস্থা করছি। 

সিমু রিমুকে পড়াচ্ছে প্রায় এক বছর। এ পরিবারের সাথে ওর সম্পর্ক ধীরে ধীরে গাঢ় হয়। পরিবারের সবাই মেয়ের মত ভালবাসে। আকবর হোসেনের বড় বোন ছালেহা খাতুন থাকেন ঢাকার উত্তরায়। নিজের বাসায়। ছালেহা খাতুন সংসারী মহিলা হলেও বদমেজাজি। রাগ অনেক। কাজের একটা মেয়ে আছে বয়স বছর তেইশ হবে। গায়ের রং ছোট বেলায় খুব কাল ছিল। এখন কিছুটা উজ্জ্বল হয়েছে। নাম জোছনা। জোছনার বয়স যখন ছয় বছর হবে তখন ছালেহা খাতুনের ফুফু ওর মায়ের কাছ থেকে নিয়ে ঢাকায় পাঠায়। তারপর থেকে ছালেহা খাতুনের বাড়িতে আছে জোছনা। ছালেহা খাতুন কোন কাজের গড়বড় হলেও বকাঝকা করে।জোছনার মায়ের নাম পটল। পটলের বাবা-মা কাজের জন্য সাতক্ষীরার আসে। কাজ পায় রাস্তার মাটি কাটার। পটলের জন্মের বছর চারেক পর ওর বাবা মারা যায় এবং মা মারা যায় দশ বছর বয়সে। বাবা মা মরা কুচকুচে কালো রঙের মেয়েটা ঐ গ্রামেয় থেকে যায়। গ্রামের এক স্বচ্ছল পরিবারে কাজ করে দিন চলে। ঐ পরিবার গ্রামের এক ভ্যান চালকের সাথে বিয়ে দেয় পটলের। বিয়ের এক বছরের মাথায় ভ্যান চালক স্বামী পটলকে রেখে চলে যায়। জোছনার বয়স ছয় হলে ঢাকাতে পাঠায় খাবারের অভাবে। জোছনা ঢাকাতে কাজ করে যে টাকা পেত তা ছালেহা খাতুন পটলের কাছে পৌঁছে দিত। এতে পটলের দিনগুলো ভালই চলত। পটল হঠাৎ করে খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার সন্তানদের দেখতে চায়। ছালেহা খাতুনের ফুফু পটলের অসুস্থের কথা বললে জোছনা গ্রামে যায় মায়ের কাছে। মৃত্যু পথযাত্রী মা শুধু জোছনাকে দেখে খুশি হতে পারে না। বলে ও আসেনি। জোছনা বলে ওকে মা। তোর জমজ বোন। জোছনা অবাক হয়ে যায়। পটল বলে তোদের জন্মের আগেই তোদের বাবা আমাকে ছেড়ে চলে যায়। আমি গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় কোন রকম টেনেটুনে সংসার চালায়। তখন কাজ করার মত অবস্থা ছিল না আমার। আমার গর্ভে তোরা ছিলি। আমি জমজ মেয়ে জন্ম দেয়। জন্মের দশদিনের মাথায় তোর আরেক বোনকে বিক্রি করে দেয় খূলনার এক নিঃসন্তান বেটা-বেটির কাছে পাঁচহাজার টাকায়। তোর ঐ বোনের নাম আজ মনে করতে পারছি না। সে তোর থেকে বড়। আজ তোর ঐ বোনকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। জোছনা ভেবে পায় না ওর ঐ বোনকে এখন কোথায় পায়। এর কিছুদিন পর পটল মারা যায়। পটলের মৃত্যুর পর জোছনা আবার ঢাকায় চলে আসে। এরপর অনেক দিন কেটে গেছে। জোছনা ঢাকাতে থাকলেও বাড়ির বাইরে খুব একটা বের হয় না। 

ছালেহার মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ভায়ের বাড়ির সবাই কে দাওয়াত দেয়।জন্মদিন উপলক্ষ্যে সিমুকে রিমু ও রিমা জোর করে নিয়ে যায়। সিমু ঐ বাড়িতে যাবার পর দেখে ঐ বাড়ির কাজের মেয়েটার চেহারার সাথে ওর অনেক মিল আছে। কাজের মেয়েটা কালো আর ও ফর্সা। জোছনা শুধু ঐ মেয়েটার কাছে যেয়ে কথা বলার চেষ্টা করে। সিমু ভীষণ বিরক্ত হয়। কাজের ঐ মেয়েটার চেহারার সাথে তার মিল থাকায়ও সে বেশ বিরক্ত হয়। জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষে ওরা চলে আসে। জোছনা মালিকের মেয়ের কাছে ঐ বাড়ির শিক্ষকের মোবাইল নাম্বার চায়। মোবাইল নাম্বার চাওয়াতে মেয়েটা অনেক রাগ করে। বলে তোমার চেহারার সাথে মিল বলেই তুমি তার সাথে কথা বলবা। জানো ও অনেক বড়লোকের একমাত্র মেয়ে। খুলনায় ওদের ছয়তলা বাড়ি আছে। জোছনার তখনই সন্দেহ হয় এবং সে নিশ্চিত হয় এ মেয়েটিই ওর বোন। কিন্তু প্রমাণ করবে কী করে? 

সিমু হঠাৎ করে খুলনা চলে যায় দাদীর অসুস্থতার কথা শুনে। দাদী তাকে দেখতে চায়। দাদীর বাড়ি যেয়ে দাদীর কাছে রাতে ঘুমায় সিমু। দাদী কেন যেন আগের কথাগুলো মনে আছে আর বলতে শুরু করে। জানিস সিমু তোর বাবা-মায়ের সতের বছর কোন সন্তান হয়নি। আমি রাগ করে তোর বাবার আবার বিয়ে দিতে চাইলাম। তোর বাবা আমার ওপর রাগ বাড়ি ছেলে চলে গেল। চলে যাওয়ার বছর দেড়েক পর একদিন ছোট্ট তোকে কোলে নিয়ে বাড়িতে আসে। সিমু তখন প্রশ্ন করে দাদী আমি যখন মায়ের গর্ভে ছিলাম তখন তোমাকে জানায়নি। দাদী বলে নাতো। সিমু অনেকটা মুখ ফসকে বলে ফেলে তাহলে দাদী দেখ আমাকে কোথার থেকে কিনে এনেছে। দাদীরও সন্দেহ হয়। দাদী পরের দিন সকালে তার ছেলেকে সিমুর জন্মের বিষয়ে জানতে চায়। রাকিব সাহেব প্রথমে বলতে চায় না পরে মায়ের অনুরোধে বলতে বাধ্য হয়। রাগ করে বাড়ি ছাড়ার পর খুলনায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। খুলনা হতে সাতক্ষীরার এক গ্রামে যায় বেড়াতে। ঐখানের এক মহিলার জমজ বাচ্চা হয়। তার আর্থিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় একটা বাচ্চা বিক্রি করে দেয় আমাদের কাছে। তখন বাচ্চার বয়স হবে দশ দিন। আমি ও তোমার বৌমা ছাড়া আর কেউ জানেনা। সিমুও না। দাদী সিমুকে সব বলে দেয়। সিমু ভীষণ মন খারাপ করে। সিমুর বাবা-মা বলে, দেখ আমরা তোমাকে কিনে আনলেও তোমার বাবা-মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি। আর তোমার বাবা জন্মের আগেই তোমার মাকে ছেড়ে চলে গেছে। তোমাকে আমরা অনেক ভালবাসি বলেই খুলনার বাড়িটা তোমার নামে লিখে দিয়েছি। সিুম বলে সব ঠিক আছে। তারপরও আমার শেখর এর একটা খোঁজ নিতে পারতাম। সিমুর বাবা বলে তুমি চাইলে এখনও নিতে পারো। সিমু বলে আমি আমার বোনের খোঁজ পেয়েছি। তাহলে তুমি কেন যাচ্ছ না। সিুম ঢাকাতে এসে আকবর হোসেনের বাসায় যেয়ে বলে আপনার বোনের বাসার ঠিকানাটা আমাকে দিন। তারা বলে কেন? আমার খুব জরুরী দরকার । ঠিকানা না পেলে কষ্ট হবে খুঁজে বের করতে। ওনারা ঠিকানা দেয়। ঠিকানা নিয়ে ওই বাসায় যেয়েই বোনকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে। জোছনা বলে আমার আগেই সন্দেহ হয়েছিল। তুমি আমার বোন। সে তার বোনকে নিয়ে সোজা ঢাকা হতে সাতক্ষীরার গ্রামের বাড়িতে যায়। সেখানে অনেক মানুষ আসে তাদের দেখার জন্য। পটলের কবর জিয়ারত করে ওরা আবার খুলনায় চলে আসে। জোছনাকে ওর মা-বাবার দেখার জন্য রেখে সিমু ঢাকায় চলে আসে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/66507/</link>
				<pubDate>Tue, 30 Nov 2021 05:36:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>সন্দেহ&#8230;<br />
মোঃ আজিজুর রহমান </p>
<p>সিমু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ৩য় বর্ষের ছাত্রী। মেধাবি, সুদর্শনা, সুশ্রী এবং সদালাপি। রাকিবুর রহমান ও সাইরা খাতুনের একমাত্র মেয়ে।অতি আদরের। তারা থাকেন খুলনাতে।আর কোন সন্তান না হওয়ায় রাকিবুর রহমান তার নিজ নামের ছয়তলা বাড়িটি মেয়ের নামে লিখে দেন। মেয়েও বাবা-মায়ের অনুগত ও শ্রদ্ধাশীল। তাদের খুব ভা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-66507"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/66507/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">068eadeb1b77afe93ce169dc128ef87c</guid>
				<title>মামার কৃত্তি!
মোঃ আজিজুর রহমান
	
আমার মামার নাম তক্তা মামা। তক্তা উপাধিটা তার নিজেরই তৈরি। একদিন মামা স্কুল থেকে এসে বন্ধুদের সাথে গুলি (মার্বেল) খেলছিল। মামার অনেক ভাল গুণের মধ্যে উল্লেখ করার মত একটা গুণ হল মামা অত্যন্ত আবেগ প্রবণ। আবেগ প্রবণ মামা মার্বেল খেলতে খেলতে তার দৃষ্টি পড়ে একটা দেয়ালের দিকে। সে দেখে দেয়ালে একটা গিরগিটি স্থির হয়ে আছে। অনেকে &#x200d;গিরিগিটিকে আঞ্চলিক ভাষায় রক্তচোষা বলে ডাকে। অতি মানবীয় আবেগ তাড়িত হয়ে, মামা রক্তচোষাকে বলে তক্তাচোষা। সে থেকে মামার নাম হয় তক্তা মামা।  

আমাদের অতি প্রিয় তক্তা মামার মন স্বাভাবিক মাত্রার চেয়েও অতি সরল। যে কোন মানুষের কথা খুব সহজেই বিশ্বাস করে এবং মানুষের কথা গভীর মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করে। তক্তা মামা শ্রোতা হিসেবে এক নম্বর। তার সরল বিশ্বাসী মন ও হালকা লিকলিকে শারীরিক গঠনের কারণে সবার সাথে তার আন্তরিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তক্তা মামার হঠাৎ কাঁচা আম খাওয়ার ইচ্ছা হয়। কাঁচা আম খাওয়া কথা বন্ধুদের সাথে বলে । বন্ধুরা বলে এখন শীতকাল তুই কাঁচা আম পাবি কোথায়। তক্তা মামার শিশু সুলভ অবুঝ মন কিছুতেই মানতে চায় না। কাঁচা আম তাকে খেতেই হবে। মাঝে মাঝে সে তার বাসার সামনের আম গাছের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার আম খাওয়ার কথা বন্ধু মহলে আলোচনা হয়। সেখানে রেন নামে তার এক বন্ধু বলে আমি তোর কাঁচা খাওয়ার ইচ্ছা পূরণ করতে পারি। তক্তা মামা রেনকে বলে, মামা বলনা কিভাবে কাঁচা আম পাব? রেন বলে গাঁজা খেলে তুই কাঁচা আম খাওয়ার স্বাদ পাবি। মামা প্রথমে বিশ্বাস করতে চায় না। বলে কি, তাই আবার হয়? না রেন তুই মিথ্যা বলছিস। রেন বলে তুই খেয়ে দেখ। যদি না পাস তাহলে আমাকে যে শাস্তি দিবি তা আমি মাথা পেতে নেব। রেনের কথায় মামা আশ্বস্ত হয়ে তার এক কাছের বন্ধুকে বলে চল আমরা গাঁজা খায়। মামার বন্ধু বলে, গাঁজা খেতে হবে কেন? তক্তা মামা বলে, গাঁজা খেলে কাচাঁ আমের স্বাদ পাওয়া যায়। তক্তা মামার বন্ধু অবশেষে তার অনুরোধে গাঁজা খেতে রাজি হয়। 

রেন সব ব্যবস্থা করে দেয়। মামা বিকালে পরিপাটি হয়ে বের হয় গাঁজা খাওয়ার জন্য বন্ধুসহ। রেন এর কাছ থেকে গাঁজা ভর্তি সিগারেট নিয়ে দেয় টান। প্রথমে একটু কষ্ট হলে পরবর্তীতে সাবলিলভাবে তিনজন মিলে গাঁজা সেবন করে। তক্তা মামা গাঁজাতে দুই তিন টান দিয়ে বিস্বাদ লাগে। বলে কাঁচা আমের স্বাদ পেলাম না তো? রেন বলে এটা খাওয়া সাথে সাথে পাওয়া যায় না। পরে পাবি। কিছুক্ষণ পরে তক্তা মামার মাথাটা ঝিমঝিম করে। সে বলে, আমার কেমন জানি লাগছে! আমি বাসায় চলে যায়। সাইকোঅ্যাক্টিভ ড্রাগ এবং মামার শারীরিক ও দুর্বল মানুসিক অবস্থা তার ব্রেনের নাভকে আরো  দুর্বল করে দেয়। সে ধীরে ধীরে বাসায় চলে আসে। বাসায় এসে চুপচাপ শুয়ে পড়ে। ঘুমানোর চেষ্টা করতে থাকে। ঘুম তার আসে না মানুষিক দুর্বলতার করণে। তার মাথায় শুধু একটা কথা ঘোরে কফি সাউজের গানের সেই অমলটা ভুগছে ক্যানসারে। এ একটি গানের কলি বারবার তার মাথাতে ঘুরছে। অমলটা ভুগছে ক্যানসারে। তক্তা মামার গাঁজা সেবনের কারণে মনে হয় সে আর বাঁচবে না। সেও ঐ অমলের মত ক্যানসারে ভুগে মারা যাবে। তার বুকটা কষে আসছে। সাথে ঐ গানের কলিটা মনে পড়ছে। এতে সে অস্থির হয়ে পড়ে এবং তার মনে হয় এই বুঝি সে মরে যাচ্ছে। মামা তাড়াতাড়ি শোয়া অবস্থা থেকে উঠে ওর নানির কাছে যেয়ে বলে, নানি আমি মনে হয় বাঁচব না। নানি বলে কেন কি হয়েছে? নানি আমি গাঁজা খেয়েছি। নানি বলে তুই কেন গাঁজা খেলি? গাঁজাতে কাঁচা আমের স্বাদ পাওয়া যায়, এ কথা শুনে গাঁজা খেয়েছি। নানি আমার বুধ ধরপড় করছে। আমি বাঁচবো না। আমাকে তুমি বাঁচাও? 

নানির বয়স হবে সত্তরের কাছাকাছি। মফস্বলের মহিলা সে জানেও না গাঁজা খেলে কি হয়। শুধু জানে গাঁজাতে নেশা হয়। তাই নানি তক্তা মামাকে একটু বকাঝকা করে বলে, তোর আলাল আঙ্কেলের কাছে যেয়ে দেখ, সে কি বলে? তক্তা মামা, নানির পরামর্শ মোতাবেক আলাল আঙ্কেলের কাছে যায়। তখন ছিল পৌষ মাস। সময় রাত নয়টা হবে। তক্তা মামা বাসা থেকে বের হয়ে আলাল আঙ্কেলের বাসার দরজা নক করে বলে আলাল আঙ্কেল, আলাল আঙ্কেল ও আলাল আঙ্কেল…। আলাল আঙ্কেল ঘর থেকে বের হয়ে বলে, কি বাবা? মামা বলে, আঙ্কেল আমি মনে হয় বাঁচব না, আমি গাঁজা খেয়েছি। আঙ্কেল বলে, তুমি গাঁজা খেয়েছ কেন? মামা বলে কাঁচা আমের স্বাদ পাওয়া যায় এ কথা শুনে আমি গাঁজা খেয়েছি। মামা বলে, আঙ্কেল আমাকে বাঁচান! আঙ্কেল বলে, তুমি এক কাজ করো শহীদের হোটেলে যেয়ে দেখো গরম &#x200d;দুধ পাও কিনা? গরম দুধ খেলে কিছুটা ভাল লাগবে। আঙ্কেলের বলা শেষ হতে না হতেই তক্তা মামার দৌড় শুরু। মামা দৌড়াচ্ছে বাঁচার তাগিতে। আর মাথার মধ্যে ঘুরছে অমলটা ভুগছে ক্যানসারে। বাঁচার আকুতিতে মামা অবশেষে শহীদের হোটেলে এসে পৌঁছায়। শীতের রাত, খোদ্দের নেই তাই শহীদ হোটেল বন্ধ করে দিচ্ছে। মামা শহীদকে বলে, শহীদ ভাই, ও শহীদ ভাই আমাকে বাঁচান। আমি গাঁজা খেয়েছি। আমাকে এক গ্লাস গরম &#x200d;দুধ দেন। শহীদ বলে, তুই গাঁজা খেয়েছিস কেন? মামা বলে কাঁচা আমের স্বাদ পাওয়া যায় গাঁজাতে, তাই খেয়েছি। 
	
একবার মামার চাচাত ভাইয়ের সাথে পাশের বাড়ির লোকদের কথা কাটাকাটি হয়েছে। একপ্রকার গন্ডগোলই হয়েছে। তক্তা মামা তার ভায়ের পক্ষ নিয়ে গন্ডোগোল করেছে। যাদের সাথে গন্ডোগোল তারা আবার মামলাবাজ। কিছু হলেই মামলা করে দেয়। মামাও তাদের সাথে বেশ জোরে জোরে কথা বলেছে। মামলাবাজদের যা করার তাই করেছে। তারা মামলা করেছে। এটম টু মাডার। জামিন অযোগ্য কেস। কেস করার কথা ইউনিয়েনের মেম্বর মামাকে বলেছে। মামা তার পর থেকে আর বাড়িতে রাতে ঘুমায় না। যদি রাতে পুলিশ এসে ধরে নিয়ে যায়। সন্ধ্যা বেলায় মামা তার বন্ধুদের নিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। এমন সময় একটি গাড়ি খুব দ্রুত গতিতে আসছে। গাড়ির আলো দেখে মামার মনে হয়েছে পুলিশ তাকে ধরতে আসছে। মামা গাড়ির আলো দেখা মাত্র দৌঁড় দিয়েছে। এমন দৌঁড় যে তার পা পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। এত দ্রুত দৌঁড় দিয়েছে। দৌঁড় দিয়ে এক বাড়ির গোয়াল ঘরের মধ্যে গরুর খাবার দেবার জন্য যে নান্দা থাকে তার মধ্যে ঢুকে পড়েছে। নান্দার মধ্যে থেকে মুখ বের করে আছে। মামার বন্ধুরা গাড়ি চলে গেলে বুঝতে পারে যে গাড়িটা পুলিশের গাড়ি না। তারপর তারা মামা খুঁজতে থাকে। মামার কোন পাত্তা নাই। মামা বলে বন্ধুরা ডাকে। মামার কোন সাড়া শব্দ নাই। বন্ধুরা গোয়াল ঘরের কাছে আসলে মামা নান্দার মধ্যে থেকে অতি সাবধানে মুখ বের করে বলে পুলিশ চলে গেছে কিনা? বন্ধুরা বলে গাড়িটা পুলিশের ছিল না। মামা তখন বীরের বেশে বের হয়ে বলে ও তাই বুঝি। খামাখা দৌঁড় দিলাম। যাক একটা দৌঁড় প্রাকটিস হয়ে গেল। কী বলিস তোরা। বন্ধু বলে ঠিক বলেছে তক্তা মামা। তবে তক্তা মামা অল্প ভয় পেয়েছে। তক্তা মামা বলে, তা একটু পেয়েছি।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/60123/</link>
				<pubDate>Tue, 23 Nov 2021 07:37:39 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মামার কৃত্তি!<br />
মোঃ আজিজুর রহমান</p>
<p>আমার মামার নাম তক্তা মামা। তক্তা উপাধিটা তার নিজেরই তৈরি। একদিন মামা স্কুল থেকে এসে বন্ধুদের সাথে গুলি (মার্বেল) খেলছিল। মামার অনেক ভাল গুণের মধ্যে উল্লেখ করার মত একটা গুণ হল মামা অত্যন্ত আবেগ প্রবণ। আবেগ প্রবণ মামা মার্বেল খেলতে খেলতে তার দৃষ্টি পড়ে একটা দেয়ালের দিকে। সে দেখে দেয়ালে একটা গিরগিটি স্থির হয়ে আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-60123"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/60123/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3f1872a1e448b6d33b96d25027f5e76f</guid>
				<title>মায়ের চাওয়া...
মোঃ আজিজুর রহমান

মনিররা দুই ভাই বোন। সে বড়। তার ছোট বোন মিনা। মনির ঢাকা কলেজে অনার্স পড়ার সময় পরিচয় হয় গারস্থ অর্থনীতি কলেজের মেয়ে সীমার সাথে। পরিচয়ের এক পর্যায়ে প্রেম হয় দু’জনের মধ্যে। মনির খুব সুদর্শন। তাই সীমা প্রেমের পরিণতি চায় দ্রুত। মনির সীমাকে খুব ভালবাসে। সীমা মনিরকে বিয়ের কথা বলে। মনির বলে আমি অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। পড়া শেষ হয়নি। কিভাবে বাবা-মাকে বিয়ের কথা বলবো? তাছাড়া আমার একটা ছোট বোন আছে। সে এসএসসি পরীক্ষা দিবে। তার পরীক্ষা শেষ হোক তারপর দেখি কি করা যায়। সীমা তাতে রাজি হয়। বিআরডিবি কর্তৃক প্রান্তিক লেভেলের মানুষ জনের সাথে যোগাযোগসহ ঋণ বিতরণের প্রয়োজনীয় কার্যাবলি সম্পন্ন করেন একজন সভাপতি। সেই সভাপতি হলের মনিরের বাবা। মা লেখাপড়া জানা মানুষ। গ্রামের মহিলা হলেও সব সময় পরিপাটি থাকেন। এসএসসি পরীক্ষা শুরুর দিন মিনার সাথে তার বাবা ও মা যান। কলেজের ভিপির পছন্দের মেয়ের সিট পড়ে একই কলেজে। তাকে তুলে নিয়ে যেতে যায় স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী। ভিপির নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্র হঠাৎ মারামারি শুরু করে দেয়। কলেজ মাঠে কয়েক হাজার মানুষ। কলেজের দুইটা গেটের একটা বন্ধ করে দারওয়ান। একটা গেট খোলা। মারামারির সময় সবাই একই গেট দিয়ে বের হতে যেয়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়, তাতে ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকসহ মোট ৯ জন মারা যায়। মিনার বাবা পড়ে যেয়ে মানুষের পায়ের তলায় পৃষ্ঠ হয়ে মেরুদন্ডের হাড় ভেঙ্গে যায়। 

মনিরের বাবা সুস্থ হতে সময় নেয় প্রায় তিন মাস। সে চলাফেরা করতে পারে না। বিছানাগত। কাজ করতে পারে না। মিনাদের সংসার চলে গ্রামের কিছু জমি আর মামাদের সাহায্যে। বাবার শরীর কিছুটা স্বাভাবিক হলে মনির তার বিয়ের কথা বলে। সে একটা মেয়েকে পছন্দ করে। তাকে সে বিয়ে করতে চায়। মনিরের বাবা বলেন, বাবা তুমি বিয়ে করতে চাও ভাল কথা। আমার অবস্থা এই। আমি নিজেই চলাফেরা করতে পারিনা। সংসার চলে তোমার মামাদের সহযোগিতায়। এ অবস্থায় তোমার বিয়ে করা উচিৎ হবে বলে আমি মনে করিনা। এখন তুমি বড় হয়েছো, বিবেক-বুদ্ধি আছে, যেটা ভাল বুঝ সেটা করো। মনির বাবার কথা শুনে বলে আমার বিয়ে করা জরুরী। আমি বিয়ে করব। মনিরের বাবা বলেন, তাহলে তুমি তোমার মত থাক। আমাদের সাথে আর যোগাযোগ করতে হবে না। আমরাও তোমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবো না। মনির ঢাকা এসে সীমাকে বিয়ে করে ঘর-জামাই থাকে। সে শশুরের ব্যবসা দেখাশুনা করে। 

মিনা ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়। ভর্তির টাকা জোগাড় করতে বেশ কষ্ট হয়। অভাবী মানুষকে কেউ কিছু দিতে চায় না। পড়াশুনার বই কিনতে পারে না। বান্ধবি বই কিনে দেয়। পড়াশুনায় যতটা সম্ভব সহযোগিতা করে বান্ধবীরা। মিনা তার বাবার ভিটার পাশে একটা ছোট পুকুর কাটায়। তাতে মাছ চাষ করে। মা-মেয়ে মিলে জাল দিয়ে মাছ ধরে। নিজেরা খায়। কিছু কিছু মাছ বাজারে বিক্রি করে দেয়। সবজি চাষ করে। সবজি বিক্রি ও মাছ বিক্রি করে সংসার টেনেটুনে চলে যায় তিন জনের। মিনা ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ডিগ্রি ভর্তি হয়। ডিগ্রি পাশ করার পর ঢাকাতে নিয়ে আসে তার বান্ধবী। ভর্তি করায় ইডেন কলেজে। ভর্তি হলেও থাকা খাওয়ার কোন ব্যবস্থা করা যাচ্ছিল না। কয়েক জন মিলে হোস্টেলে ফ্রি থাকার ব্যবস্থা করে। এবার খাবার ব্যবস্থা করার জন্য তাকে একটা পার্টটাইম জব খুঁজে দেয় বন্ধুরা মিলে। 

মনিরের বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে যায়। সে মনির কে দেখতে চায়। মনিরের মা মনিরের শশুর বাড়ি এসে মনিরকে বলে, বাবা আমাদের ভুল হয়ে গেছে। আমি তোমার পায়ে ধরে ক্ষমা চাচ্ছি। আমাদের ক্ষমা কর। তোমার বাবা তোমার বাচ্চা আর তোমাদের দেখতে চাচ্ছে। মৃত্যু শয্যায়। যে কোন সময় সে মারা যাবে। তুমি একবার চল। মায়ের কান্নার চেয়ে শশুরের কথায় সে বাড়িতে আসে। সীমা তার বাচ্চাকে এখানকার পানি খেতে দেয়না। গোসল করাতে চায় না। সে  কারর সাথে কথা বলে না। মনিরের মা বলে বাবা তুমি এখানে কষ্ট করে এসেছো এতেই আমরা খুশি। তোমার কাছে কৃতজ্ঞ। আমার মনে হয় বউ মা’র এখানে কষ্ট হচ্ছে। তুমি ওদের নিয়ে চলে যাও। তোমরা ভাল থাক। এটাই আমাদের চাওয়া। মনির কোন কথা না বলে, বউ বাচ্চা নিয়ে ঢাকায় চলে আসে। মনির গ্রাম থেকে আসার বছর দুই পর মনিরের বাবা মারা যায়। মনির বাবার মৃত্যুতে বাড়ি যেয়ে বাবার মাটি দিয়েই ঢাকা চলে আসে। আর কোন দিন বাড়ি যায়নি। না তার মায়ের খোঁজ নিয়েছে না তার বোনের। তাদের কিভাবে চলে সে বিষয়ে তার কোন আগ্রহ নেয়। মিনা মাস্টার্স শেষ করে একটা কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেয়। ওখান থেকে যে টাকা পায় তাদিয়ে মা-মেয়ের চলে যায়। এতকিছুর পরেও, মনিরের মা চায় তার সন্তান মনির যেন ভাল থাকে...।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/59278/</link>
				<pubDate>Sun, 21 Nov 2021 03:48:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মায়ের চাওয়া&#8230;<br />
মোঃ আজিজুর রহমান</p>
<p>মনিররা দুই ভাই বোন। সে বড়। তার ছোট বোন মিনা। মনির ঢাকা কলেজে অনার্স পড়ার সময় পরিচয় হয় গারস্থ অর্থনীতি কলেজের মেয়ে সীমার সাথে। পরিচয়ের এক পর্যায়ে প্রেম হয় দু’জনের মধ্যে। মনির খুব সুদর্শন। তাই সীমা প্রেমের পরিণতি চায় দ্রুত। মনির সীমাকে খুব ভালবাসে। সীমা মনিরকে বিয়ের কথা বলে। মনির বলে আমি অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। পড়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-59278"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/59278/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e0afdb9ab91070e815626bc2876cae16</guid>
				<title>আক্ষেপ!
মোঃ আজিজুর রহমান

মনিরের মা খুব অসুস্থ। তাকে হাসপাতালে নেয়া দরকার। মনির তার মায়ের সাথে গ্রামে থাকে। তাদের গ্রামটা টাঙ্গাইল শহর থেকে দশ-বার কিলোমিটার দূরে। আজকের যোগাযোগ ব্যবস্থার মত তখনকার দিনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ততটা উন্নত ছিলনা। সে খুব অস্থির, মাকে কিভাবে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাবে? গ্রামের রাস্তাটা মাটির। পরিবহন ব্যবস্থা বলতে গরুর গাড়ি। তার নিজের কোন গরুর গাড়ি নেই। গ্রামের মোড়ল সাহেবের গরুর গাড়ি আছে। মোড়লের কাছ থেকে গরুর গাড়ি নিয়ে, তিনজন বন্ধু মিলে মনির তার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করায়। 

মরিয়ম বেগমের বয়স হয়েছে ৫০ বছর। মরিয়ম বেগমের বয়স ১৪ হলে, তার বাবা তাকে বিয়ে দেয়। বিয়ের বছর তিন পরে মনিরের জন্ম হয়। মনিরের বয়স পাঁচ বছর হলে, ওর বাবা কালা জ্বরে মারা যায়। মরিয়ম বেগম আর বিয়ে করেনি। মনিরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছেন। চাষবাস করে চলে যায় ওদের সংসার। মনিরের বাবার মৃত্যুর পর লোকজন দিয়ে মরিয়ম বেগম জমিতে চাষ-বাস করতেন। অধিক পরিশ্রমের ফলে মনিরের মা বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। গ্রামের একজন হোমিও ডাক্তার আছেন তিনি চিকিৎসা করেন মরিয়ম বেগমের। হোমিও ডাক্তার বলেন, মনিরের মা তোমাকে বড় ডাক্তার দেখাতে হবে। আমার ওষুধে কাজ হবে বলে মনে হয় না। 

মরিয়ম বেগম অভাব কি তা সে হাড়ে হাড়ে জানে। ধান ও হাঁস-মুরগি বেঁচে যা আয় হয় তা দিয়ে তার সংসার চলে। অভাব-অনটনের মধ্যে থেকেও অনেক কষ্টে কিছু চাষের জমি কেনেন। যাতে ছেলের জীবনে অভাব না আসে। মরিয়ম বেগম নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দের দিকে কখনও খেয়াল করেনি। যেভাবে পেরেছেন সেভাবেই টাকা জমিয়েছেন। নিজের অসুস্থতার জন্যও ডাক্তার পর্যন্ত দেখাচ্ছেন না। টাকা খরচ হবে বলে। মনির প্রায় বলে মা চল তোমাকে সদর হাসপাতালের বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। মরিয়ম বেগম বলেন, না থাক খোকা। এখনওতো চলাফেরা করতে পারছি। ওতোটা কষ্ট হচ্ছে না। মনিরের লেখা পড়া করা হয়নি। গ্রামে কোন স্কুল ছিলনা সে সময়। মায়ের সাথে চাষের কাজ করেছে। 

মরিয়ম বেগম একপ্রকার জোর করে ছেলের বিয়ে দিয়ে দেন। ছেলের ঘরে নাতি-পুতি দেখতে চান। মনির মায়ের অনুরোধ রাখতে বিয়ে করেন। বিয়ের পর মনিরের মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। আজ পাঁচ দিন, মনির তার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। মিরয়ম বেগমের অবস্থার কোন উন্নতি নেয়। হাসপাতালের বাইরের বারান্দায় শুয়ে আছেন মরিয়ম বেগম। পাশে বসা একমাত্র ছেলে মনির। ডাক্তার আসেন সকালে একবার। রাতে আসে মাঝে মধ্যে। ডাক্তার কিছু ধরতে পারছেনা। মায়ের ওষুধ-পত্র কিনতে আর খাওয়া-দাওয়ায় পয়সা যা ছিল তা শেষ হয়েগেছে মনিরের। মনিরের টাকা দরকার। টাকা পাবে কোথায়? টাকার জন্য বাড়িতে যেতে হবে। 

মনির টাকা আনার জন্য মাকে সকালে খাওয়ানোর পর বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। বাড়িতে যাবার জন্য একমাত্র ভরসা দুইখানা পা। কোন যানবাহন নেই। বার কিলোমিটার হেঁটে মনির বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়ে। একেতো রাত জাগা তারপর বার কিলোমিটার পথ হেঁটে বাড়ি আসা। দুপুরের দিকে বাসায় এসে টাকার জন্য ছোটাছুটি করে। টাকা জোগাড় করতে করতে প্রায় সন্ধ্যে হয়ে যায় মনিরের। ক্লান্ত শরীল আর চলতে চায় না। একদিকে ক্লান্ত শরীল অন্য দিকে রাত হয়ে গেছে হাসপাতালে যাবার জন্য হাঁটা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেয়। তাই মনির রাতে গ্রামেই থেকে যায়। মনে করে খুব ভোরে উঠে রওনা দেবে। মায়ের কাছে দুপুর ও রাতের জন্য পাউরুটি ও কলা আছে। যা মা খেয়ে থাকতে পারবে। 

মরিয়ম বেগম মারা যায় দুপুরের দিকে। তার কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে পাশের একজন ডাক্তারকে খবর দিলে ডাক্তার রোগী দেখে বলে মারা গেছে। মৃত মানুষকে সবাই ভয় পাই। কেউ কাছে থাকতে চায়না। অন্য রোগীর লোকজন বলে, এখানে লাশ রাখা যাবে না। বাধ্য হয়েই মৃতের শরীরটা বারান্দার বাইরে বের করে দেয় হাসপাতালের লোকজন। রাতে খোলা আকাশে নিজে ফাঁকা জায়গায় লাশ পেয়ে যায় একদল শিয়াল। শিয়ালগুলো মহা-উৎসবে মৃতের শরীর ছিন্ন-ভিন্ন করে ফেলে। মনির সকালে এসে দেখে তার মায়ের শাড়ির টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। মনির চিকিৎকার করে কেঁদে ওঠে। বলে মা, আমি বাড়িতে রাতে না থাকলে তোমার এমন অবস্থা হতো না। মা, মাগো আমি তোমার কুলাঙ্গার সন্তান। মরার সময় না তোমার পাশে থাকতে পারলাম আর না পারলাম তোমার মাটি দিতে। এ একটি আক্ষেপ করে গেছে মনির, সারা জীবন মাকে মাটি না দিতে পারার জন্য।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/57840/</link>
				<pubDate>Wed, 17 Nov 2021 05:09:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আক্ষেপ!<br />
মোঃ আজিজুর রহমান</p>
<p>মনিরের মা খুব অসুস্থ। তাকে হাসপাতালে নেয়া দরকার। মনির তার মায়ের সাথে গ্রামে থাকে। তাদের গ্রামটা টাঙ্গাইল শহর থেকে দশ-বার কিলোমিটার দূরে। আজকের যোগাযোগ ব্যবস্থার মত তখনকার দিনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ততটা উন্নত ছিলনা। সে খুব অস্থির, মাকে কিভাবে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাবে? গ্রামের রাস্তাটা মাটির। পরিবহন ব্যবস্থা বলতে গরুর গাড়ি।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-57840"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/57840/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c783820645f84700311561f82d2655b6</guid>
				<title>ভুল!
মোঃ আজিজুর রহমান

রিমার সাথে ১২ বছর ২ দুই মাস ৭ দিন ৩ ঘন্টা পরে দেখা হলো রেজার। ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৬ তারিখ বেলা সাড়ে নয়টায় শেষ দেখা হয় রিমার সাথে। ওদের &#x200d;দু’জনের পরিচয় হয় নীলক্ষেতে। রেজা বুয়েট ১ম বর্ষের ছাত্র আর রিমা ইংরেজি ১ম বর্ষের ছাত্রী ইডেন কলেজ। নীলক্ষেতে বই কিনতে যেয়ে দু’জনের পরিচয় হয়। তারপর মাঝে মাঝে দেখা হলে কথা হয়। রেজা বিকেলে চলে আসে ইডেন কলেজের সামনে যদি রিমার সাথে দেখা হয়। রিমা মাঝে মধ্যে বের হয়। এ ভাবে দু’জনের দেখা হতে থাকে। তারপর মোবাইল নম্বর বিনিময়। অনেক রাত অবধি কথাবার্তা চলে। পরিচরেয়র দুই বছর পর প্রেম নিবেদন হয় দুইজনের। 

রিমা, রেজাকে খুব পছন্দ করে। তার খুব ভাল লাগে ওর সাথে সময় কাটাতে। ঘুরে বেড়াতে। কিন্তু প্রেম বা ভালবাসার কথা উঠলেই রিমা চুপ হয়ে যায়। বলে এসব নিয়ে পরে কথা হবে। এখন অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা করা যাক। রেজা পাগলের মতো ভালবাসে রিমাকে। ওর মুখ থেকে ভালবাসি কথাটা শুনতে চায়। কিন্তু মেয়েরা সব কথা মুখে বলতে পারেনা। এটা মেয়েদের এক অনন্য বৈশিষ্ট। রেজা যত বেশি ভালবাসার কথা বলে রিমা ততবেশি অন্য প্রসঙ্গে কথা বলে। বিষয়টা এড়িয়ে যায়। রেজার পিড়াপিড়িতে রিমা একদিন বলে, তুমি আসলে বুদ্ধু। আমি যদি তোমাকে ভাল না বাসি, তাহলে রাতের পর রাত মোবাইলে তোমার সাথে কথা বলব কেন? দিনের পর দিন একসাথে ঘোরাঘুরি করব কেন? 

রেজা খুবই মেধাবী ছাত্র। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটেতে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার জন্য গ্রাম থেকে ঢাকায় আসে। ঢাকাতে মামার বাসায় ওঠে। রেজার মামার গার্মেন্টস এর দোকান আছে গ্লোব মার্কেটে। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হবার পর রেজা মামার দোকানে বসে। মামা ব্যবসাটা বোঝায় তার ভাগনেকে। রেজা কাজটা করে অনেক আগ্রহের সাথে। রেজার ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বের হয়। সে চান্স পায় বুয়েট ও কুয়েটে। সে সিভিলে ভর্তি হয় বুয়েটে। বুয়েটে ভর্তির পর ক্লাস শুরু হতে সময় লাগবে দুই মাস। অবসর সময়ের বেশিরভাগ সময় মামার দোকানে বসে সে। মামা, রেজার পরিশ্রমের দামও দেয়। তাতে রেজার মোবাইল খরচ ও ঘোরাঘুরি বেশ ভালভাবে চলে যায়।রেজা ক্লাস বন্ধ হলেই মামার দোকানে বসে। মামা খুশি হয় আর ওরও কিছু আয় হয়।   

রিমার বান্ধবী রিতা একদিন সন্ধ্যা বেলায় গ্লোব মার্কেটে দেখে রেজা প্যান্ট বিক্রি করছে। সে রিমাকে বলে রেজার বিষয়টা। রিমার পরদিন সন্ধ্যা বেলায় এসে দেখে সত্যি সত্যি রেজা কাপড় বিক্রি করছে। সে গ্লোব মার্কেট থেকে সরাসরি হোস্টেলে চলে আসে। আর কোন দিন রেজার সাথে যোগাযোগ করেনি। রেজা অনেক চেষ্টা করেও রিমার সাথে আর দেখা করতে পারিনি। রিমা তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা না দিয়ে বাড়িতে চলে যায়। তার নিজের প্রতি খুব রাগ হয়। রেজার উপর যতটা না রাগ হয় তার চেয়ে বেশি রাগ হয় নিজের উপর। রেজার মত মুর্খ একটা ছেলে, তার সাথে প্রেম করে। সে তার চালাকি ধরতে পারেনা। এটাই তার রাগের বড় কারণ। অতপর পড়াশুনা বাদ দিয়ে বিয়ে করে সংসার শুরু করে রিমা। রিমার ছেলের বয়স ৯ বছর। তার স্বামী চাকরিজীবী।

রেজা রিমার রাগের কারণ আজ অবধি জানতে পারেনা। রেজা এখন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তার নিজের একটা ডেপলপার কোম্পানি আছে। তার ড্রেস-আপই বলে দেয় সে বিত্তশালী। সে আজও অনেক ভালবাসে রিমাকে। রিমাকে খোঁজে। 

সে রিমাকে দেখে শুভেচ্ছা বিনিময় করার পর কফি খাওয়ার কথা বলে। রিমা রাজি হতে চায় না। রেজা বলে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিবা? রিমা বলে কি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাও? আমার অপরাধ? রিমা বলে এতবড় অপরাধ করে আবার জানতে চাচ্ছ তোমার অপরাধ? রিমা বলে তুমি বুয়েটে পড়ো না, একটা কাপড়ের দোকানের কর্মচারী। আমার সাথে এতবড় প্রতারণা কেন করেছিলে? রেজা তার পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে ভিজিটিং কার্ড বের করে দেখায় রিমাকে। রিমা পড়ে দেখে, বিএসইসি ইন সিভিল, বুয়েট। রিমা একদম চুপ হয়ে যায়। বেশকিছুক্ষণ পর বলে, তাহলে ঐ দোকানে যে কাপড় বিক্রি করছিলে সেটা কি? রেজা বলে, ওটা আমার মামার দোকান। আমি মাঝে মাঝে দোকানে বসি। রিমা, রেজাকে বলে তুমি বিয়ে করেছো? রেজা বলে না। রিমার চোখ দুটো তখন জলে ভিজে যায়…</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/57462/</link>
				<pubDate>Tue, 16 Nov 2021 04:26:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভুল!<br />
মোঃ আজিজুর রহমান</p>
<p>রিমার সাথে ১২ বছর ২ দুই মাস ৭ দিন ৩ ঘন্টা পরে দেখা হলো রেজার। ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৬ তারিখ বেলা সাড়ে নয়টায় শেষ দেখা হয় রিমার সাথে। ওদের &#x200d;দু’জনের পরিচয় হয় নীলক্ষেতে। রেজা বুয়েট ১ম বর্ষের ছাত্র আর রিমা ইংরেজি ১ম বর্ষের ছাত্রী ইডেন কলেজ। নীলক্ষেতে বই কিনতে যেয়ে দু’জনের পরিচয় হয়। তারপর মাঝে মাঝে দেখা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-57462"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/57462/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7d89d88ae69017f617afa3180c7518b5</guid>
				<title>ফাইজউদ্দিন
মোঃ আজিজুর রহমান

ফাইজউদ্দিনরা তিন ভাই। সে মেজ। বড় ভাই ময়েজউদ্দিন। ছোট ভাই হাফিজউদ্দিন। ফাইজউদ্দিনের বয়স সাড়ে পাঁচ বছর হলে ওর বাবা মারা যায়। ছোট ভাই হাফিজউদ্দিন তখন মাতৃগর্ভে। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়েন ফাইজউদ্দিনের মা। ভেবে কুলকিনারা করতে পারেন না কিভাবে দুই সন্তান ও গর্ভে বেড়ে ওঠা সন্তান, যে তার বাবার মুখই দেখেইনি তাদের লালন পালন করবেন। ওদের বাড়ি একবারে অজোপাড়াগাঁয়ে। যেখানে ফসলের মাঠ বছরের ছয় মাস থাকে পানিতে নিমজ্জিত। স্বামীহারা গর্ভবর্তী মহিলার শোক কাটতে বেশ কিছুদিন সময় লাগে। জীবনের প্রয়োজনীয় চাহিদার কাছে শোক কখনও দীর্ঘস্থায়ী হয়না। ময়েজউদ্দিনের দায়িত্ব নেয় নানা-নানি। সে নানার বাড়িতে চলে যায় পড়াশোনোর জন্য। 

ফাইজউদ্দিনের মা মরিয়ম বেগম আবারও পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। নাম রাখেন হাফিজউদ্দিন। সে সময়ে সকল ডেলিভারি হতো নরমালে। আজকের মতো সিজারিয়ান ব্যাপারটা তখন ছিলই না। হাফিজউদ্দিনের জন্ম মাঘ মাসে। পচন্ড শীত। মাটির দেওয়ালের উপর টিনের ছাদের একটি ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দা। হাফিজউদ্দিনের জন্ম নেয়ার তিন দিন পর্যন্ত মরিয়ম বেগমের মা ছিলেন।মরিয়মের মা তার বড় নাতি ময়েজউদ্দিনকে সাথে নিয়ে পাশের গ্রামে তার স্বামীর বাড়িতে চলে যায়। হাফিজউদ্দিনের বয়স চারদিন আর ফয়েজউদ্দিনের বয়স ছয় বছর এক বা দুই মাস। একটি মাত্র খাটে মরিয়ম বেগম তার সদ্য জন্ম নেয়া শিশুটিকে নিয়ে ঘুমায়ে আছে, নিচে মেজ ছেলে মাদুর বিছিয়ে ঘুমিয়ে আছে। রাতে মরিয়ম বেগমের প্রচন্ড পানির তৃষ্ণা পায়। সে ফাইজউদ্দিনকে বলে বাবা আমাকে একটু পানি দেতো। খুব পানির পিপাসা লেগেছে। ফাইজউদ্দিন বলে মা অনেক শীত এখন পানি দিতে পারবো না। তুমি সকালে পানি খেয়ো। তার পানি খাওয়ার জন্য নিজেই খাট থেকে নেমে আসে, কলসের পানি আর ঢালতে পারেনা। সকালে ফাইজউদ্দিন ঘুম থেকে উঠে দেখে মা কলসের গায়ে মাথা রেখে শুয়ে আছে। সে মাকে ডাকে মা, মা..। গায়ে হাত দিলে মা পড়ে যায়। ওর কান্না শুনে লোকজন এসে দেখে মরিয়ম বেগম মারা গেছে। মায়ের মরার কথা শুনে ফাইজউদ্দিনের সেকি কান্না। বুক ফাঁটানো কান্না। আমার মা আমার কাছে পানি খেতে চেয়েছিল। আমি সকালে পানি খাওয়ার কথা বলি। মা নিজে নিজে পানি ঢেলে খেতে যেয়ে মারা গেছে। 

ফাইজউদ্দিন যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন শুধু একটা কথা বলতো, আমি আমার মাকে পানি দিতে পারিনি বলে আমার মা মারা গেছে। সে দিনে রাতে যখনই সময় পেতো মায়ের কবরের পাশে বসে কান্না করতো। আর বলতো মা আমি তোমাকে মেরে ফেলেছি...</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/57172/</link>
				<pubDate>Mon, 15 Nov 2021 09:54:04 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ফাইজউদ্দিন<br />
মোঃ আজিজুর রহমান</p>
<p>ফাইজউদ্দিনরা তিন ভাই। সে মেজ। বড় ভাই ময়েজউদ্দিন। ছোট ভাই হাফিজউদ্দিন। ফাইজউদ্দিনের বয়স সাড়ে পাঁচ বছর হলে ওর বাবা মারা যায়। ছোট ভাই হাফিজউদ্দিন তখন মাতৃগর্ভে। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়েন ফাইজউদ্দিনের মা। ভেবে কুলকিনারা করতে পারেন না কিভাবে দুই সন্তান ও গর্ভে বেড়ে ওঠা সন্তান, যে তার বাবার মুখই দেখেইন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-57172"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/57172/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a21af01361e4ac1723edd7eaf57890b9</guid>
				<title>ওরা তিনজন...
মোঃ আজিজুর রহমান

আসিফের ঘুম ভাঙ্গে মাঝ রাতে খুব খারাপ স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নে দেখে সে, সমুদ্রের প্রচন্ড স্রোতের মধ্যে সে ভাসছে। ঘুম ভাঙ্গার পর আর ঘুম হয়নি। বিছানা থেকে উঠে পানি পান করে আবার বিছানায় ঘুমাতে যাবার সময় দেখে ছোট মেয়ে অহনা, ওর মা নাসরিনকে জড়িয়ে ঘুমাচ্ছে। পাশে ঘুমাচ্ছে বড় মেয়ে অনন্যা। কি শান্তির ঘুম! আর কি নিষ্পাপ লাগছে ওদের তিনজনকে!

আসিফের স্ত্রীর নাম নাসরিন, বয়স ২৭, বড় মেয়ে অনন্যার বসয় ৫ বছর ও ছোট মেয়ে অহনার বয়স ১ বছর। আসিফের বিয়ে হয় পারিবারিকভাবে। আসিফের বাবা-মা মেয়ে পছন্দ করে বিয়ে দেয়। আজ অবশ্য আসিফের বাবা-মা বেঁচে নেই। গত হয়েছেন প্রায় তিন বছর। আসিফরা দুই ভাই ও তিন বোন। সে সবার ছোট। নাসরিন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। সুন্দরী, পরিশ্রমী ও গোছালো। তার চাওয়া-পাওয়া সীমিত। সে সারাদিন সংসার ও দুই মেয়েকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এখন আগের মত পরিশ্রম করতে পারেনা। মাসখানিক আগে বাথরুম পরিস্কার করার সময় আচমকা পড়ে যেয়ে বুকের পাজরের হাড় ভেঙ্গে যায়। বেশকিছু দিন তাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়। সে এখনও পুরাপুরি সুস্থ নয়, সংসারের প্রয়োজনে কষ্ট হলেও কাজ করতে হয়। দুইটা বাচ্চাকে দেখাশুনা করতে হয়, সাথে তো আছেই রান্না-বান্নার কাজ। সে এখনও ভালভাবে নিচু হয়ে কাজ করতে পারেনা। নিচু হতে হলে পাজরে হাত দিয়ে তারপর নিচু হতে হয়। 

অসুস্থ নাসরিনকে দেখার জন্য আসিফের বড় ভাবি তিন বাচ্চাকে নিয়ে আজ ওদের বাসায় আসবে। মেহমান আসবে বলে অনেক সকাল সকাল ঘুম ভাঙ্গে নাসরিনের। ঘুম থেকে উঠেই ঘর গোছানো ও রান্না বান্নার কাজ করতে থাকে। দুপুরের দিকে আসিফের ভাবি তার তিনে মেয়েকে নিয়ে পৌঁছায় বাসায়। দুপুরের খাবার খেয়ে বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দুই জায়ে গল্প করে বেশকিছুক্ষণ। আসিফ সন্ধ্যায় বাসায় এসে সব বাচ্চা-কাচ্চাদের নিয়ে খেলাধুলা করে। পাঁচ বাচ্চার চেচামেচিতে মুখর পুরা বাসা। 

পরের দিন সকালে আসিফ বড় মেয়ে অনন্যাকে স্কুলে দিয়ে অফিসে চলে যায়। নাসরিন স্কুল থেকে বড় মেয়েকে বাসায় এনে গোসল করিয়ে দেয় দুই মেয়েকে। এরমধ্যে বড় ভাবিও তার বাচ্চাদের গোসল করিয়ে দেয়। বাচ্চারা খেলা করার সময় বড় ভাবির মেঝ মেয়ে নাতাসার রাগ হয়ে যায় অহনার উপর। সে জোরে চড় দেয় আহনার গালে। আহনা কেঁদে ওঠে। অনন্যার রাগ হয় সেও চড় দেয় নাতাসার গালে। নাতাসার মা রেগে গিয়ে অনন্যার চুল ধরে দুই-তিনটা চড় দেয় ও বকাঝকা করে। নাসরিন সে সময় গোসল করছিল। নাসরিন গোসল শেষে দুই মেয়ের কান্নার কারণ শুনে রেগে যায়। সে বড় ভাবিকে বলে, বাচ্চারা মারামারি করেছে, আবার মিলে যাবে একসাথে খেলা করবে। তুমি আমার বড় মেয়েকে মারলে কেন? এ প্রশ্ন করায় বড় ভাবির রাগ হয়। সে কিছু বলেনা। 

আসিফ সন্ধ্যায় বাসায় এসে দেখে নাসরিনের মুড অফ। সে তার বড় মেয়ের কাছে জানতে পারে দুপুরের ঘটনা। ডাইনিং টেবিলে বসে সে শুনছিল কথাগুলো। পাশে দাঁড়িয়ে ছিল নাসরিন। 
আসিফের রাগ হয়। সে হাতের কাছে থাকা মগ চেলে মারে নাসরিনের দিকে। নাসরিনের আঘাত লাগে পাজরে। সে লুটায়ে পড়ে যায়। আর কথা বলতে পারেনা। দুই মেয়ে মাকে ডাকতে থাকে। আসিফ ওঠেও না। মেয়েদের কান্না-কাটিতে যখন নাসরিন ওঠে না সে তাড়াতাড়ি যায় নাসরিনের কাছে। যেয়ে দেখে শরীর অসাড় হয়ে গেছে। আসিফ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ততক্ষণে নাসরিন মারা যায়। অনন্যার বুক ফাটানো কান্না সবাইকে কাঁদায়।অনন্যা বলে আমার মা, আমার মা...।আসিফ প্রায় রাতে দুই মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে, বলে আমি কি করলাম, আমি কি করলাম? 

নাসরিনের মৃত্যুর পর আসিফের অবিবাহিত বোন রুবনা আসে বাচ্চা দুইটাকে দেখাশুনার জন্য। আসিফ অফিসের যাবার পথে অন্যন্যাকে স্কুলে দিয়ে যায়। স্কুল শেষ করে অনন্যা একাই বাসায় আসে। আসিফ অফিসে যাবার পর একদিন ভীষণ জ্বর আসায় সে বাসায় চলে আসে। বাসায় এসে দেখে রুবিনা, অহনার হাত বেঁধে রেখেছে আর অনন্যা বাসার কাজ করছে। রুবিনা তখন ওয়াসরুমে রুপচর্চায় মগ্ন ছিল। আসিফ তার বোনকে তখনি বের করে দেয়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/56572/</link>
				<pubDate>Sun, 14 Nov 2021 07:08:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ওরা তিনজন&#8230;<br />
মোঃ আজিজুর রহমান</p>
<p>আসিফের ঘুম ভাঙ্গে মাঝ রাতে খুব খারাপ স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নে দেখে সে, সমুদ্রের প্রচন্ড স্রোতের মধ্যে সে ভাসছে। ঘুম ভাঙ্গার পর আর ঘুম হয়নি। বিছানা থেকে উঠে পানি পান করে আবার বিছানায় ঘুমাতে যাবার সময় দেখে ছোট মেয়ে অহনা, ওর মা নাসরিনকে জড়িয়ে ঘুমাচ্ছে। পাশে ঘুমাচ্ছে বড় মেয়ে অনন্যা। কি শান্তির ঘুম! আর কি নিষ্পাপ লাগছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-56572"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/56572/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>