Profile Photo

Md. Azizur RahmanOffline

  • azizur
  • Profile picture of Md. Azizur Rahman

    Md. Azizur Rahman

    4 years, 7 months ago

    মায়ের চাওয়া…
    মোঃ আজিজুর রহমান

    মনিররা দুই ভাই বোন। সে বড়। তার ছোট বোন মিনা। মনির ঢাকা কলেজে অনার্স পড়ার সময় পরিচয় হয় গারস্থ অর্থনীতি কলেজের মেয়ে সীমার সাথে। পরিচয়ের এক পর্যায়ে প্রেম হয় দু’জনের মধ্যে। মনির খুব সুদর্শন। তাই সীমা প্রেমের পরিণতি চায় দ্রুত। মনির সীমাকে খুব ভালবাসে। সীমা মনিরকে বিয়ের কথা বলে। মনির বলে আমি অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র। পড়া শেষ হয়নি। কিভাবে বাবা-মাকে বিয়ের কথা বলবো? তাছাড়া আমার একটা ছোট বোন আছে। সে এসএসসি পরীক্ষা দিবে। তার পরীক্ষা শেষ হোক তারপর দেখি কি করা যায়। সীমা তাতে রাজি হয়। বিআরডিবি কর্তৃক প্রান্তিক লেভেলের মানুষ জনের সাথে যোগাযোগসহ ঋণ বিতরণের প্রয়োজনীয় কার্যাবলি সম্পন্ন করেন একজন সভাপতি। সেই সভাপতি হলের মনিরের বাবা। মা লেখাপড়া জানা মানুষ। গ্রামের মহিলা হলেও সব সময় পরিপাটি থাকেন। এসএসসি পরীক্ষা শুরুর দিন মিনার সাথে তার বাবা ও মা যান। কলেজের ভিপির পছন্দের মেয়ের সিট পড়ে একই কলেজে। তাকে তুলে নিয়ে যেতে যায় স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী। ভিপির নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্র হঠাৎ মারামারি শুরু করে দেয়। কলেজ মাঠে কয়েক হাজার মানুষ। কলেজের দুইটা গেটের একটা বন্ধ করে দারওয়ান। একটা গেট খোলা। মারামারির সময় সবাই একই গেট দিয়ে বের হতে যেয়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়, তাতে ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকসহ মোট ৯ জন মারা যায়। মিনার বাবা পড়ে যেয়ে মানুষের পায়ের তলায় পৃষ্ঠ হয়ে মেরুদন্ডের হাড় ভেঙ্গে যায়।

    মনিরের বাবা সুস্থ হতে সময় নেয় প্রায় তিন মাস। সে চলাফেরা করতে পারে না। বিছানাগত। কাজ করতে পারে না। মিনাদের সংসার চলে গ্রামের কিছু জমি আর মামাদের সাহায্যে। বাবার শরীর কিছুটা স্বাভাবিক হলে মনির তার বিয়ের কথা বলে। সে একটা মেয়েকে পছন্দ করে। তাকে সে বিয়ে করতে চায়। মনিরের বাবা বলেন, বাবা তুমি বিয়ে করতে চাও ভাল কথা। আমার অবস্থা এই। আমি নিজেই চলাফেরা করতে পারিনা। সংসার চলে তোমার মামাদের সহযোগিতায়। এ অবস্থায় তোমার বিয়ে করা উচিৎ হবে বলে আমি মনে করিনা। এখন তুমি বড় হয়েছো, বিবেক-বুদ্ধি আছে, যেটা ভাল বুঝ সেটা করো। মনির বাবার কথা শুনে বলে আমার বিয়ে করা জরুরী। আমি বিয়ে করব। মনিরের বাবা বলেন, তাহলে তুমি তোমার মত থাক। আমাদের সাথে আর যোগাযোগ করতে হবে না। আমরাও তোমার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করবো না। মনির ঢাকা এসে সীমাকে বিয়ে করে ঘর-জামাই থাকে। সে শশুরের ব্যবসা দেখাশুনা করে।

    মিনা ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়। ভর্তির টাকা জোগাড় করতে বেশ কষ্ট হয়। অভাবী মানুষকে কেউ কিছু দিতে চায় না। পড়াশুনার বই কিনতে পারে না। বান্ধবি বই কিনে দেয়। পড়াশুনায় যতটা সম্ভব সহযোগিতা করে বান্ধবীরা। মিনা তার বাবার ভিটার পাশে একটা ছোট পুকুর কাটায়। তাতে মাছ চাষ করে। মা-মেয়ে মিলে জাল দিয়ে মাছ ধরে। নিজেরা খায়। কিছু কিছু মাছ বাজারে বিক্রি করে দেয়। সবজি চাষ করে। সবজি বিক্রি ও মাছ বিক্রি করে সংসার টেনেটুনে চলে যায় তিন জনের। মিনা ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে ডিগ্রি ভর্তি হয়। ডিগ্রি পাশ করার পর ঢাকাতে নিয়ে আসে তার বান্ধবী। ভর্তি করায় ইডেন কলেজে। ভর্তি হলেও থাকা খাওয়ার কোন ব্যবস্থা করা যাচ্ছিল না। কয়েক জন মিলে হোস্টেলে ফ্রি থাকার ব্যবস্থা করে। এবার খাবার ব্যবস্থা করার জন্য তাকে একটা পার্টটাইম জব খুঁজে দেয় বন্ধুরা মিলে।

    মনিরের বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে যায়। সে মনির কে দেখতে চায়। মনিরের মা মনিরের শশুর বাড়ি এসে মনিরকে বলে, বাবা আমাদের ভুল হয়ে গেছে। আমি তোমার পায়ে ধরে ক্ষমা চাচ্ছি। আমাদের ক্ষমা কর। তোমার বাবা তোমার বাচ্চা আর তোমাদের দেখতে চাচ্ছে। মৃত্যু শয্যায়। যে কোন সময় সে মারা যাবে। তুমি একবার চল। মায়ের কান্নার চেয়ে শশুরের কথায় সে বাড়িতে আসে। সীমা তার বাচ্চাকে এখানকার পানি খেতে দেয়না। গোসল করাতে চায় না। সে কারর সাথে কথা বলে না। মনিরের মা বলে বাবা তুমি এখানে কষ্ট করে এসেছো এতেই আমরা খুশি। তোমার কাছে কৃতজ্ঞ। আমার মনে হয় বউ মা’র এখানে কষ্ট হচ্ছে। তুমি ওদের নিয়ে চলে যাও। তোমরা ভাল থাক। এটাই আমাদের চাওয়া। মনির কোন কথা না বলে, বউ বাচ্চা নিয়ে ঢাকায় চলে আসে। মনির গ্রাম থেকে আসার বছর দুই পর মনিরের বাবা মারা যায়। মনির বাবার মৃত্যুতে বাড়ি যেয়ে বাবার মাটি দিয়েই ঢাকা চলে আসে। আর কোন দিন বাড়ি যায়নি। না তার মায়ের খোঁজ নিয়েছে না তার বোনের। তাদের কিভাবে চলে সে বিষয়ে তার কোন আগ্রহ নেয়। মিনা মাস্টার্স শেষ করে একটা কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেয়। ওখান থেকে যে টাকা পায় তাদিয়ে মা-মেয়ের চলে যায়। এতকিছুর পরেও, মনিরের মা চায় তার সন্তান মনির যেন ভাল থাকে…।

    9
    6 Comments
Skip to toolbar