Profile Photo

Md. Azizur RahmanOffline

  • azizur
  • Profile picture of Md. Azizur Rahman

    Md. Azizur Rahman

    4 years, 7 months ago

    ওরা তিনজন…
    মোঃ আজিজুর রহমান

    আসিফের ঘুম ভাঙ্গে মাঝ রাতে খুব খারাপ স্বপ্ন দেখে। স্বপ্নে দেখে সে, সমুদ্রের প্রচন্ড স্রোতের মধ্যে সে ভাসছে। ঘুম ভাঙ্গার পর আর ঘুম হয়নি। বিছানা থেকে উঠে পানি পান করে আবার বিছানায় ঘুমাতে যাবার সময় দেখে ছোট মেয়ে অহনা, ওর মা নাসরিনকে জড়িয়ে ঘুমাচ্ছে। পাশে ঘুমাচ্ছে বড় মেয়ে অনন্যা। কি শান্তির ঘুম! আর কি নিষ্পাপ লাগছে ওদের তিনজনকে!

    আসিফের স্ত্রীর নাম নাসরিন, বয়স ২৭, বড় মেয়ে অনন্যার বসয় ৫ বছর ও ছোট মেয়ে অহনার বয়স ১ বছর। আসিফের বিয়ে হয় পারিবারিকভাবে। আসিফের বাবা-মা মেয়ে পছন্দ করে বিয়ে দেয়। আজ অবশ্য আসিফের বাবা-মা বেঁচে নেই। গত হয়েছেন প্রায় তিন বছর। আসিফরা দুই ভাই ও তিন বোন। সে সবার ছোট। নাসরিন নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। সুন্দরী, পরিশ্রমী ও গোছালো। তার চাওয়া-পাওয়া সীমিত। সে সারাদিন সংসার ও দুই মেয়েকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এখন আগের মত পরিশ্রম করতে পারেনা। মাসখানিক আগে বাথরুম পরিস্কার করার সময় আচমকা পড়ে যেয়ে বুকের পাজরের হাড় ভেঙ্গে যায়। বেশকিছু দিন তাকে বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়। সে এখনও পুরাপুরি সুস্থ নয়, সংসারের প্রয়োজনে কষ্ট হলেও কাজ করতে হয়। দুইটা বাচ্চাকে দেখাশুনা করতে হয়, সাথে তো আছেই রান্না-বান্নার কাজ। সে এখনও ভালভাবে নিচু হয়ে কাজ করতে পারেনা। নিচু হতে হলে পাজরে হাত দিয়ে তারপর নিচু হতে হয়।

    অসুস্থ নাসরিনকে দেখার জন্য আসিফের বড় ভাবি তিন বাচ্চাকে নিয়ে আজ ওদের বাসায় আসবে। মেহমান আসবে বলে অনেক সকাল সকাল ঘুম ভাঙ্গে নাসরিনের। ঘুম থেকে উঠেই ঘর গোছানো ও রান্না বান্নার কাজ করতে থাকে। দুপুরের দিকে আসিফের ভাবি তার তিনে মেয়েকে নিয়ে পৌঁছায় বাসায়। দুপুরের খাবার খেয়ে বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে দুই জায়ে গল্প করে বেশকিছুক্ষণ। আসিফ সন্ধ্যায় বাসায় এসে সব বাচ্চা-কাচ্চাদের নিয়ে খেলাধুলা করে। পাঁচ বাচ্চার চেচামেচিতে মুখর পুরা বাসা।

    পরের দিন সকালে আসিফ বড় মেয়ে অনন্যাকে স্কুলে দিয়ে অফিসে চলে যায়। নাসরিন স্কুল থেকে বড় মেয়েকে বাসায় এনে গোসল করিয়ে দেয় দুই মেয়েকে। এরমধ্যে বড় ভাবিও তার বাচ্চাদের গোসল করিয়ে দেয়। বাচ্চারা খেলা করার সময় বড় ভাবির মেঝ মেয়ে নাতাসার রাগ হয়ে যায় অহনার উপর। সে জোরে চড় দেয় আহনার গালে। আহনা কেঁদে ওঠে। অনন্যার রাগ হয় সেও চড় দেয় নাতাসার গালে। নাতাসার মা রেগে গিয়ে অনন্যার চুল ধরে দুই-তিনটা চড় দেয় ও বকাঝকা করে। নাসরিন সে সময় গোসল করছিল। নাসরিন গোসল শেষে দুই মেয়ের কান্নার কারণ শুনে রেগে যায়। সে বড় ভাবিকে বলে, বাচ্চারা মারামারি করেছে, আবার মিলে যাবে একসাথে খেলা করবে। তুমি আমার বড় মেয়েকে মারলে কেন? এ প্রশ্ন করায় বড় ভাবির রাগ হয়। সে কিছু বলেনা।

    আসিফ সন্ধ্যায় বাসায় এসে দেখে নাসরিনের মুড অফ। সে তার বড় মেয়ের কাছে জানতে পারে দুপুরের ঘটনা। ডাইনিং টেবিলে বসে সে শুনছিল কথাগুলো। পাশে দাঁড়িয়ে ছিল নাসরিন।
    আসিফের রাগ হয়। সে হাতের কাছে থাকা মগ চেলে মারে নাসরিনের দিকে। নাসরিনের আঘাত লাগে পাজরে। সে লুটায়ে পড়ে যায়। আর কথা বলতে পারেনা। দুই মেয়ে মাকে ডাকতে থাকে। আসিফ ওঠেও না। মেয়েদের কান্না-কাটিতে যখন নাসরিন ওঠে না সে তাড়াতাড়ি যায় নাসরিনের কাছে। যেয়ে দেখে শরীর অসাড় হয়ে গেছে। আসিফ হাসপাতালে নিয়ে যায়। ততক্ষণে নাসরিন মারা যায়। অনন্যার বুক ফাটানো কান্না সবাইকে কাঁদায়।অনন্যা বলে আমার মা, আমার মা…।আসিফ প্রায় রাতে দুই মেয়েকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে, বলে আমি কি করলাম, আমি কি করলাম?

    নাসরিনের মৃত্যুর পর আসিফের অবিবাহিত বোন রুবনা আসে বাচ্চা দুইটাকে দেখাশুনার জন্য। আসিফ অফিসের যাবার পথে অন্যন্যাকে স্কুলে দিয়ে যায়। স্কুল শেষ করে অনন্যা একাই বাসায় আসে। আসিফ অফিসে যাবার পর একদিন ভীষণ জ্বর আসায় সে বাসায় চলে আসে। বাসায় এসে দেখে রুবিনা, অহনার হাত বেঁধে রেখেছে আর অনন্যা বাসার কাজ করছে। রুবিনা তখন ওয়াসরুমে রুপচর্চায় মগ্ন ছিল। আসিফ তার বোনকে তখনি বের করে দেয়।

    7
    7 Comments
Skip to toolbar