Profile Photo

Md. Azizur RahmanOffline

  • azizur
  • Profile picture of Md. Azizur Rahman

    Md. Azizur Rahman

    4 years, 6 months ago

    সন্দেহ…
    মোঃ আজিজুর রহমান

    সিমু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের ৩য় বর্ষের ছাত্রী। মেধাবি, সুদর্শনা, সুশ্রী এবং সদালাপি। রাকিবুর রহমান ও সাইরা খাতুনের একমাত্র মেয়ে।অতি আদরের। তারা থাকেন খুলনাতে।আর কোন সন্তান না হওয়ায় রাকিবুর রহমান তার নিজ নামের ছয়তলা বাড়িটি মেয়ের নামে লিখে দেন। মেয়েও বাবা-মায়ের অনুগত ও শ্রদ্ধাশীল। তাদের খুব ভালবাসে। বাবা মায়ের সঙ্গে অতি নিবীড় সম্পর্ক থাকায় অন্য কোন সম্পর্কে জড়ায়নি।

    সিমু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলে ওর মা রাজি হয়না ঢাকায় পাঠাতে। বলে অনেক দূর। আমরা তোমাকে ছাড়া একদিনও থাকতে পারব না। তুমি অতো দূরে চলে গেলে আমাদের অনেক কষ্ট হবে। তুমি খুলনাতে ভর্তি হও। এখানেও অনেকে পড়াশুনা করে বড় হয়েছে। সিুম বলে আচ্ছা ঠিক আছে মা তুমি যেহেতু চাও না তাহলে আমি খুলনাতেই ভর্তি হব। রাকিব সাহেব কিছুটা দ্বিধা-দ্বন্ধে ভোগেন। কী করবেন বুঝতে পারেন না। এমন সময় তার বন্ধু সোবহানের কথা মনে পড়ে। সোবহান ঢাকার গুলশানে থাকে। একজন উকিল। তাকে ফোন করে রাকিব সাহেব। ফোনে বন্ধুকে বলে তার মেয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চান্স পাওয়ার কথা। বন্ধু বলে এতো খুব ভাল কথা। ভর্তি করে দে। থাকা নিয়ে কোন সমস্যা হলে আমার বাসা থেকে ভার্সিটিতে যাওয়া আসা করবে। তুই মেয়েকে নিয়ে চলে আয়। রাকিবুর রহমান বলে সবই তো ঠিক আছে কিন্তু তোর ভাবি রাজি হচ্ছে না। সে মেয়েকে ঢাকাতে পাঠাবে না। সোবহান সাহেব বলে ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ার সৌভাগ্য সবার হয়না। তোরা বোকামি করছিস। ভাবিকে বোঝা। আর আমি ও তোর ভাবিতো আছি। রাকিব সাহেব বলে আচ্ছা ঠিক আছে।

    রাকিবুর রহমান তার স্ত্রীকে বলে, মেয়ে আমাদের বড় হোক। সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক। দেশ ও জাতির জন্য কিছু করুক। এটাই মা-বাবা হিসেবে আমাদের চাওয়া। আমরা তো ওর বড় হওয়ার পথে বাধা হতে পারিনা। আমরা এখন নিজেদের স্বার্থে ওকে দূরে পাঠাচ্ছি না। কিন্তু বিয়ে দিলে তাকে তো শ্বশুর বাড়ি পাঠাতে হবে। তখনও তো আমাদের ওকে ছাড়া থাকতে হবে। সাইরা খাতুন বলে, আমার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ঘর-জামাই করে রাখব। ঘর জামাই থাকবে এমন ছেলে দেখে বিয়ে দেব। তাও আমি ওকে দূরে পাঠাব না। সাইরা খাতুনের এক কথা মেয়েকে ঢাকাতে পাঠাবে না। রাকিব সাহেবসহ অন্যান্য আত্মীয়রা অনেক বোঝানোর পর রাজি হন সাইরা খাতুন। তবে শর্ত একটা কারর বাসায় রাখা যাবে না মেয়েকে। মেয়ের জন্য আলাদা বাসা ভাড়া করে রাখতে হবে। রাকিব সাহেব রাজি হয়ে যায়। বন্ধু সোবহানকে ফোন করে বলে ওর মা রাজি হয়েছে। বন্ধু খুব খুশি হয়। শর্তের কথা শুনে মন খারাপ হয়ে যায়। বাসা কোথায় ভাড়া নিতে চাস। রাকিব সাহেব বলে আজিমপুরে হলে ভাল হয়। সোবহান সাহেব তার লোক দিয়ে আজিমপুরে বাসা খুঁজে দেয়। সিমু বাবা-মাসহ ঐ বাড়িতে ওঠে ভার্সিটিতে ভর্তি হয়ে ক্লাস শুরু করে। কিছুদিনের মধ্যে সিমু রোকেয়া হলে সিট পায়। আজিমপুরের বাসা ছেড়ে দিয়ে ও হলে ওঠে। মা-বাবা খুলনাতে চলে যায়। সিমু প্রথম বর্ষ ও দ্বিতীয় বর্ষে বেশ ভাল করে। শিক্ষকরাও ওকে পছন্দ করে। সে পড়াশোনার ব্যাপারে অনেক সিরিয়াস।

    সোবহান সাহেব এর খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু আকবর হোসেন। একই এলাকা গুলশানে থাকেন। গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা। ধনী পরিবারের সন্তান। নিজের ব্যবসা আছে। আকবর হোসেনের দুই মেয়ে রিমা ও রিমু। রিমু বড় রিমা ছোট। রিমু আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা দিবে। ছাত্রী হিসেবে মাঝামাঝি। মেয়ের আবার ইংরেজি ভিতি আছে। আকবর হোসেন তার বন্ধু সোবহানকে বলে আমার মেয়ের জন্য একজন মেয়ে ইংরেজি শিক্ষক দরকার। তোর কোন জানাশুনা আছে কিনা? সোবহান সাহেব বলে আছে একজন। সে খুব ভাল ছাত্রী। কিন্তু মনে হয় পড়াবে না। আমার বন্ধুর মেয়ে ওদের আর্থিক আবস্থাও ভাল। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। আকবর হোসেন বন্ধুকে বলে তুই একটু চেষ্টা করে দেখ না? মেয়েকে গাড়ি করে নিয়ে আসবে আবার দিয়ে আসবে। বেতন যা নেয় নিবে। সোবহান সাহেব বলে আচ্ছা ঠিক আছে কথা বলে দেখি। তিনি সিমুকে ফোন দেন। তার বন্ধুর মেয়ের সমস্যার কথা বলে তাকে অনুরোধ করে। সিমু চিন্তা করে সোবহান চাচার জন্য সে পড়তে ঢাকাতে আসতে পেরেছে এবং বাড়ি ভাড়া উনিই করে দিয়েছেন। তার উপকারের কথা মনে করে সে রাজি হয়। বলে আমার কোন সমস্যা নেই। আব্বা যদি রাজি হয়। সোবহান সাহেব বলে তোমার আব্বার সাথে আমি কথা বলে ব্যবস্থা করছি।

    সিমু রিমুকে পড়াচ্ছে প্রায় এক বছর। এ পরিবারের সাথে ওর সম্পর্ক ধীরে ধীরে গাঢ় হয়। পরিবারের সবাই মেয়ের মত ভালবাসে। আকবর হোসেনের বড় বোন ছালেহা খাতুন থাকেন ঢাকার উত্তরায়। নিজের বাসায়। ছালেহা খাতুন সংসারী মহিলা হলেও বদমেজাজি। রাগ অনেক। কাজের একটা মেয়ে আছে বয়স বছর তেইশ হবে। গায়ের রং ছোট বেলায় খুব কাল ছিল। এখন কিছুটা উজ্জ্বল হয়েছে। নাম জোছনা। জোছনার বয়স যখন ছয় বছর হবে তখন ছালেহা খাতুনের ফুফু ওর মায়ের কাছ থেকে নিয়ে ঢাকায় পাঠায়। তারপর থেকে ছালেহা খাতুনের বাড়িতে আছে জোছনা। ছালেহা খাতুন কোন কাজের গড়বড় হলেও বকাঝকা করে।জোছনার মায়ের নাম পটল। পটলের বাবা-মা কাজের জন্য সাতক্ষীরার আসে। কাজ পায় রাস্তার মাটি কাটার। পটলের জন্মের বছর চারেক পর ওর বাবা মারা যায় এবং মা মারা যায় দশ বছর বয়সে। বাবা মা মরা কুচকুচে কালো রঙের মেয়েটা ঐ গ্রামেয় থেকে যায়। গ্রামের এক স্বচ্ছল পরিবারে কাজ করে দিন চলে। ঐ পরিবার গ্রামের এক ভ্যান চালকের সাথে বিয়ে দেয় পটলের। বিয়ের এক বছরের মাথায় ভ্যান চালক স্বামী পটলকে রেখে চলে যায়। জোছনার বয়স ছয় হলে ঢাকাতে পাঠায় খাবারের অভাবে। জোছনা ঢাকাতে কাজ করে যে টাকা পেত তা ছালেহা খাতুন পটলের কাছে পৌঁছে দিত। এতে পটলের দিনগুলো ভালই চলত। পটল হঠাৎ করে খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার সন্তানদের দেখতে চায়। ছালেহা খাতুনের ফুফু পটলের অসুস্থের কথা বললে জোছনা গ্রামে যায় মায়ের কাছে। মৃত্যু পথযাত্রী মা শুধু জোছনাকে দেখে খুশি হতে পারে না। বলে ও আসেনি। জোছনা বলে ওকে মা। তোর জমজ বোন। জোছনা অবাক হয়ে যায়। পটল বলে তোদের জন্মের আগেই তোদের বাবা আমাকে ছেড়ে চলে যায়। আমি গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় কোন রকম টেনেটুনে সংসার চালায়। তখন কাজ করার মত অবস্থা ছিল না আমার। আমার গর্ভে তোরা ছিলি। আমি জমজ মেয়ে জন্ম দেয়। জন্মের দশদিনের মাথায় তোর আরেক বোনকে বিক্রি করে দেয় খূলনার এক নিঃসন্তান বেটা-বেটির কাছে পাঁচহাজার টাকায়। তোর ঐ বোনের নাম আজ মনে করতে পারছি না। সে তোর থেকে বড়। আজ তোর ঐ বোনকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে। জোছনা ভেবে পায় না ওর ঐ বোনকে এখন কোথায় পায়। এর কিছুদিন পর পটল মারা যায়। পটলের মৃত্যুর পর জোছনা আবার ঢাকায় চলে আসে। এরপর অনেক দিন কেটে গেছে। জোছনা ঢাকাতে থাকলেও বাড়ির বাইরে খুব একটা বের হয় না।

    ছালেহার মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে ভায়ের বাড়ির সবাই কে দাওয়াত দেয়।জন্মদিন উপলক্ষ্যে সিমুকে রিমু ও রিমা জোর করে নিয়ে যায়। সিমু ঐ বাড়িতে যাবার পর দেখে ঐ বাড়ির কাজের মেয়েটার চেহারার সাথে ওর অনেক মিল আছে। কাজের মেয়েটা কালো আর ও ফর্সা। জোছনা শুধু ঐ মেয়েটার কাছে যেয়ে কথা বলার চেষ্টা করে। সিমু ভীষণ বিরক্ত হয়। কাজের ঐ মেয়েটার চেহারার সাথে তার মিল থাকায়ও সে বেশ বিরক্ত হয়। জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষে ওরা চলে আসে। জোছনা মালিকের মেয়ের কাছে ঐ বাড়ির শিক্ষকের মোবাইল নাম্বার চায়। মোবাইল নাম্বার চাওয়াতে মেয়েটা অনেক রাগ করে। বলে তোমার চেহারার সাথে মিল বলেই তুমি তার সাথে কথা বলবা। জানো ও অনেক বড়লোকের একমাত্র মেয়ে। খুলনায় ওদের ছয়তলা বাড়ি আছে। জোছনার তখনই সন্দেহ হয় এবং সে নিশ্চিত হয় এ মেয়েটিই ওর বোন। কিন্তু প্রমাণ করবে কী করে?

    সিমু হঠাৎ করে খুলনা চলে যায় দাদীর অসুস্থতার কথা শুনে। দাদী তাকে দেখতে চায়। দাদীর বাড়ি যেয়ে দাদীর কাছে রাতে ঘুমায় সিমু। দাদী কেন যেন আগের কথাগুলো মনে আছে আর বলতে শুরু করে। জানিস সিমু তোর বাবা-মায়ের সতের বছর কোন সন্তান হয়নি। আমি রাগ করে তোর বাবার আবার বিয়ে দিতে চাইলাম। তোর বাবা আমার ওপর রাগ বাড়ি ছেলে চলে গেল। চলে যাওয়ার বছর দেড়েক পর একদিন ছোট্ট তোকে কোলে নিয়ে বাড়িতে আসে। সিমু তখন প্রশ্ন করে দাদী আমি যখন মায়ের গর্ভে ছিলাম তখন তোমাকে জানায়নি। দাদী বলে নাতো। সিমু অনেকটা মুখ ফসকে বলে ফেলে তাহলে দাদী দেখ আমাকে কোথার থেকে কিনে এনেছে। দাদীরও সন্দেহ হয়। দাদী পরের দিন সকালে তার ছেলেকে সিমুর জন্মের বিষয়ে জানতে চায়। রাকিব সাহেব প্রথমে বলতে চায় না পরে মায়ের অনুরোধে বলতে বাধ্য হয়। রাগ করে বাড়ি ছাড়ার পর খুলনায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকে। খুলনা হতে সাতক্ষীরার এক গ্রামে যায় বেড়াতে। ঐখানের এক মহিলার জমজ বাচ্চা হয়। তার আর্থিক অবস্থা ভাল না হওয়ায় একটা বাচ্চা বিক্রি করে দেয় আমাদের কাছে। তখন বাচ্চার বয়স হবে দশ দিন। আমি ও তোমার বৌমা ছাড়া আর কেউ জানেনা। সিমুও না। দাদী সিমুকে সব বলে দেয়। সিমু ভীষণ মন খারাপ করে। সিমুর বাবা-মা বলে, দেখ আমরা তোমাকে কিনে আনলেও তোমার বাবা-মায়ের অভাব বুঝতে দেয়নি। আর তোমার বাবা জন্মের আগেই তোমার মাকে ছেড়ে চলে গেছে। তোমাকে আমরা অনেক ভালবাসি বলেই খুলনার বাড়িটা তোমার নামে লিখে দিয়েছি। সিুম বলে সব ঠিক আছে। তারপরও আমার শেখর এর একটা খোঁজ নিতে পারতাম। সিমুর বাবা বলে তুমি চাইলে এখনও নিতে পারো। সিমু বলে আমি আমার বোনের খোঁজ পেয়েছি। তাহলে তুমি কেন যাচ্ছ না। সিুম ঢাকাতে এসে আকবর হোসেনের বাসায় যেয়ে বলে আপনার বোনের বাসার ঠিকানাটা আমাকে দিন। তারা বলে কেন? আমার খুব জরুরী দরকার । ঠিকানা না পেলে কষ্ট হবে খুঁজে বের করতে। ওনারা ঠিকানা দেয়। ঠিকানা নিয়ে ওই বাসায় যেয়েই বোনকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে। জোছনা বলে আমার আগেই সন্দেহ হয়েছিল। তুমি আমার বোন। সে তার বোনকে নিয়ে সোজা ঢাকা হতে সাতক্ষীরার গ্রামের বাড়িতে যায়। সেখানে অনেক মানুষ আসে তাদের দেখার জন্য। পটলের কবর জিয়ারত করে ওরা আবার খুলনায় চলে আসে। জোছনাকে ওর মা-বাবার দেখার জন্য রেখে সিমু ঢাকায় চলে আসে।

    7
    2 Comments
Skip to toolbar