Profile Photo

Md. Azizur RahmanOffline

  • azizur
  • Profile picture of Md. Azizur Rahman

    Md. Azizur Rahman

    4 years, 7 months ago

    ভুল!
    মোঃ আজিজুর রহমান

    রিমার সাথে ১২ বছর ২ দুই মাস ৭ দিন ৩ ঘন্টা পরে দেখা হলো রেজার। ২০০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৬ তারিখ বেলা সাড়ে নয়টায় শেষ দেখা হয় রিমার সাথে। ওদের ‍দু’জনের পরিচয় হয় নীলক্ষেতে। রেজা বুয়েট ১ম বর্ষের ছাত্র আর রিমা ইংরেজি ১ম বর্ষের ছাত্রী ইডেন কলেজ। নীলক্ষেতে বই কিনতে যেয়ে দু’জনের পরিচয় হয়। তারপর মাঝে মাঝে দেখা হলে কথা হয়। রেজা বিকেলে চলে আসে ইডেন কলেজের সামনে যদি রিমার সাথে দেখা হয়। রিমা মাঝে মধ্যে বের হয়। এ ভাবে দু’জনের দেখা হতে থাকে। তারপর মোবাইল নম্বর বিনিময়। অনেক রাত অবধি কথাবার্তা চলে। পরিচরেয়র দুই বছর পর প্রেম নিবেদন হয় দুইজনের।

    রিমা, রেজাকে খুব পছন্দ করে। তার খুব ভাল লাগে ওর সাথে সময় কাটাতে। ঘুরে বেড়াতে। কিন্তু প্রেম বা ভালবাসার কথা উঠলেই রিমা চুপ হয়ে যায়। বলে এসব নিয়ে পরে কথা হবে। এখন অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা করা যাক। রেজা পাগলের মতো ভালবাসে রিমাকে। ওর মুখ থেকে ভালবাসি কথাটা শুনতে চায়। কিন্তু মেয়েরা সব কথা মুখে বলতে পারেনা। এটা মেয়েদের এক অনন্য বৈশিষ্ট। রেজা যত বেশি ভালবাসার কথা বলে রিমা ততবেশি অন্য প্রসঙ্গে কথা বলে। বিষয়টা এড়িয়ে যায়। রেজার পিড়াপিড়িতে রিমা একদিন বলে, তুমি আসলে বুদ্ধু। আমি যদি তোমাকে ভাল না বাসি, তাহলে রাতের পর রাত মোবাইলে তোমার সাথে কথা বলব কেন? দিনের পর দিন একসাথে ঘোরাঘুরি করব কেন?

    রেজা খুবই মেধাবী ছাত্র। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটেতে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার জন্য গ্রাম থেকে ঢাকায় আসে। ঢাকাতে মামার বাসায় ওঠে। রেজার মামার গার্মেন্টস এর দোকান আছে গ্লোব মার্কেটে। ভর্তি পরীক্ষা শেষ হবার পর রেজা মামার দোকানে বসে। মামা ব্যবসাটা বোঝায় তার ভাগনেকে। রেজা কাজটা করে অনেক আগ্রহের সাথে। রেজার ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বের হয়। সে চান্স পায় বুয়েট ও কুয়েটে। সে সিভিলে ভর্তি হয় বুয়েটে। বুয়েটে ভর্তির পর ক্লাস শুরু হতে সময় লাগবে দুই মাস। অবসর সময়ের বেশিরভাগ সময় মামার দোকানে বসে সে। মামা, রেজার পরিশ্রমের দামও দেয়। তাতে রেজার মোবাইল খরচ ও ঘোরাঘুরি বেশ ভালভাবে চলে যায়।রেজা ক্লাস বন্ধ হলেই মামার দোকানে বসে। মামা খুশি হয় আর ওরও কিছু আয় হয়।

    রিমার বান্ধবী রিতা একদিন সন্ধ্যা বেলায় গ্লোব মার্কেটে দেখে রেজা প্যান্ট বিক্রি করছে। সে রিমাকে বলে রেজার বিষয়টা। রিমার পরদিন সন্ধ্যা বেলায় এসে দেখে সত্যি সত্যি রেজা কাপড় বিক্রি করছে। সে গ্লোব মার্কেট থেকে সরাসরি হোস্টেলে চলে আসে। আর কোন দিন রেজার সাথে যোগাযোগ করেনি। রেজা অনেক চেষ্টা করেও রিমার সাথে আর দেখা করতে পারিনি। রিমা তৃতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা না দিয়ে বাড়িতে চলে যায়। তার নিজের প্রতি খুব রাগ হয়। রেজার উপর যতটা না রাগ হয় তার চেয়ে বেশি রাগ হয় নিজের উপর। রেজার মত মুর্খ একটা ছেলে, তার সাথে প্রেম করে। সে তার চালাকি ধরতে পারেনা। এটাই তার রাগের বড় কারণ। অতপর পড়াশুনা বাদ দিয়ে বিয়ে করে সংসার শুরু করে রিমা। রিমার ছেলের বয়স ৯ বছর। তার স্বামী চাকরিজীবী।

    রেজা রিমার রাগের কারণ আজ অবধি জানতে পারেনা। রেজা এখন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তার নিজের একটা ডেপলপার কোম্পানি আছে। তার ড্রেস-আপই বলে দেয় সে বিত্তশালী। সে আজও অনেক ভালবাসে রিমাকে। রিমাকে খোঁজে।

    সে রিমাকে দেখে শুভেচ্ছা বিনিময় করার পর কফি খাওয়ার কথা বলে। রিমা রাজি হতে চায় না। রেজা বলে আমার একটা প্রশ্নের উত্তর দিবা? রিমা বলে কি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাও? আমার অপরাধ? রিমা বলে এতবড় অপরাধ করে আবার জানতে চাচ্ছ তোমার অপরাধ? রিমা বলে তুমি বুয়েটে পড়ো না, একটা কাপড়ের দোকানের কর্মচারী। আমার সাথে এতবড় প্রতারণা কেন করেছিলে? রেজা তার পকেট থেকে মানিব্যাগ বের করে ভিজিটিং কার্ড বের করে দেখায় রিমাকে। রিমা পড়ে দেখে, বিএসইসি ইন সিভিল, বুয়েট। রিমা একদম চুপ হয়ে যায়। বেশকিছুক্ষণ পর বলে, তাহলে ঐ দোকানে যে কাপড় বিক্রি করছিলে সেটা কি? রেজা বলে, ওটা আমার মামার দোকান। আমি মাঝে মাঝে দোকানে বসি। রিমা, রেজাকে বলে তুমি বিয়ে করেছো? রেজা বলে না। রিমার চোখ দুটো তখন জলে ভিজে যায়…

    9
    7 Comments
Skip to toolbar