<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | মোঃ জাহিদুল ইসলাম জীবন | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/jahidulislamjibon/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/jahidulislamjibon/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for মোঃ জাহিদুল ইসলাম জীবন.</description>
	<lastBuildDate>Fri, 02 Oct 2026 22:54:28 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">ab463e38742d26101963964523c5d7ee</guid>
				<title>মহাকালের শেষ ক্যানভাস

লেখক: কালপুরুষ

প্রথম পর্ব: প্রচ্ছন্ন প্রান্তর

অনন্ত মহাকালের নির্জন প্রহরে, পৃথিবীর এক বিচ্ছিন্ন ও গূঢ় জনপদের প্রান্তে প্রচ্ছন্ন হয়ে ছিল এক অতিকায় প্রাক-ঐতিহাসিক প্রাসাদ। ধূলিধূসরিত সেই ভবনের নিভৃত কক্ষে বহু বছর ধরে নিবিষ্ট ছিলেন এক প্রবীণ চিত্রশিল্পী, নাম যাঁর অয়স্ময়। জরাগ্রস্ত কায়ায় প্রবীণতার দাগ স্পষ্ট হলেও তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে সর্বদা প্রজ্জ্বলিত থাকত এক অনির্বাণ ত্যাগের দ্যুতি। পার্থিব মহিমা কিংবা বৈষয়িক প্রলোভন তাঁকে কখনো আকৃষ্ট করতে পারেনি। অয়স্ময় বিশ্বাস করতেন, প্রকৃত শিল্পকলা প্রদর্শনী বা প্রশংসার বস্তু নয়; তা হলো মানবচেতনার গভীরতম নিভৃত কোণে আত্মোৎসর্গের এক পরম অনুষঙ্গ।

সমাজের কলরোল ও কুটিল কোলাহল থেকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করে তিনি জীবন পার করছিলেন এক ধ্যানমগ্ন সন্ন্যাসীর ন্যায়। তাঁর কক্ষের চারপাশে ছড়িয়ে ছিল প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, সুগন্ধি বৃক্ষরস এবং ক্যানভাসের অবিন্যস্ত ভিত্তিপ্রস্তর। কিন্তু এত বছরের সাধনার পরও অয়স্ময়ের মননে এক অপূর্ণতার হাহাকার জাগ্রত ছিল। তিনি এমন এক আলেখ্য সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন, যা ক্ষণস্থায়ী রূপের সীমানা ছাড়িয়ে চিরন্তন মুক্তির প্রতীক হয়ে উঠবে।

দ্বিতীয় পর্ব: অতীন্দ্রিয় আগমন

সায়াহ্নের রক্তিম আভা যখন জীর্ণ অট্টালিকার গবাক্ষে এসে পতিত হচ্ছিল, ঠিক তখনই এক অলৌকিক ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। গবাক্ষের কাষ্ঠখণ্ডে এসে নিপতিত হলো এক প্রকাণ্ড শ্যেন। বিহঙ্গটির পক্ষদ্বয় ছিল রুধিরসিক্ত ও ভগ্ন। পঙ্কিল পৃথিবীর কোনো হিংস্র আঘাত কিংবা ঝঞ্ঝাবায়ুর তাণ্ডবে এটি নিজের ভারসাম্য হারিয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল।

অয়স্ময় বিচলিত না হয়ে পরম অনুকম্পায় বিহঙ্গটিকে স্বীয় ক্রোডে তুলে নেন। স্বহস্তে প্রস্তুত করা ঔষধি রসায়ন ক্ষতস্থানে লেপন করে প্রারম্ভ করেন সুদীর্ঘ শুশ্রূষা। দিনের পর দিন পরম মমতায় সেবা দিয়ে তিনি পাখিটিকে সুস্থ করে তুলতে থাকেন। বিহঙ্গটি যখন ক্ৰমে ক্ৰমে পুনঃশক্তি লাভ করতে শুরু করল, তখন অয়স্ময় লক্ষ্য করলেন এক অদ্ভুত সত্য। শ্যেনটির প্রখর অথচ করুণ চক্ষুদ্বয়ের অতল গহ্বরে লুকায়িত ছিল এক অতীন্দ্রিয় অনুভূতির স্ফুরণ। সেই দৃষ্টিতে বন্দিদশার আকুলতা ছিল না, ছিল নীলিমায় বিলীন হওয়ার এক অদম্য তৃষ্ণা।

তৃতীয় পর্ব: মুক্তির আলেখ্য

অয়স্ময় অনুধাবন করলেন এক চিরন্তন বাণী—ভালোবাসার অজুহাতে কোনো মুক্তপ্রাণ সত্তাকে সোনার খাঁচায় কিংবা ভালোবাসার শৃঙ্খলে বন্দি করে রাখা পরম অধর্ম। প্রকৃত প্রেম কখনো কাউকে শৃঙ্খলিত করে না, বরং স্বীয় গন্তব্যে উড্ডীনের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করে।

এই চরম বোধোদয়ের পর অয়স্ময় তুলিকা হাতে নিলেন। ক্যানভাসের উপরিভাগে সঞ্চারিত হতে লাগল নানা বর্ণালীর ক্ষিপ্র আঁচড়। রচিত হতে লাগল এক পরম মুক্তির চিত্রপট। অঙ্কন শেষ হওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণে বিহঙ্গটি এক তীব্র তীক্ষ্ণ স্বনে ডানা মেলে নীলিমার অভিমুখে প্রস্থান করল। অয়স্ময় তৃপ্তির এক ঈষৎ হাস্যে জানালার ধারে দাঁড়িয়ে রইলেন। পাখির সেই অসীম যাত্রার দিকে চেয়ে পরম সন্তুষ্টিতে তাঁর ক্ষণভঙ্গুর কায়ায় চিরতরে স্তব্ধ হলো হৃৎস্পন্দন। ক্যানভাসের তাজা রঙের মাঝে রূপায়িত সেই শ্যেনটি হয়ে রইল পৃথিবীর বুক থেকে আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/275557/</link>
				<pubDate>Fri, 18 Sep 2026 14:52:41 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>মহাকালের শেষ ক্যানভাস</p>
<p>লেখক: কালপুরুষ</p>
<p>প্রথম পর্ব: প্রচ্ছন্ন প্রান্তর</p>
<p>অনন্ত মহাকালের নির্জন প্রহরে, পৃথিবীর এক বিচ্ছিন্ন ও গূঢ় জনপদের প্রান্তে প্রচ্ছন্ন হয়ে ছিল এক অতিকায় প্রাক-ঐতিহাসিক প্রাসাদ। ধূলিধূসরিত সেই ভবনের নিভৃত কক্ষে বহু বছর ধরে নিবিষ্ট ছিলেন এক প্রবীণ চিত্রশিল্পী, নাম যাঁর অয়স্ময়। জরাগ্রস্ত কায়ায় প্রবীণতার দাগ স্পষ্ট হল&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-275557"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/275557/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">887ca6dfbe8a3d45d8675df1fa89b484</guid>
				<title></title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/272843/</link>
				<pubDate>Fri, 11 Sep 2026 12:00:04 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1d01dea14a23dfd2e035840823e1cf76</guid>
				<title>নীরব দেয়াল( প্রথম খণ্ড) – পর্ব 4
পর্ব  ৩: সুতোর টান ও বিষাক্ত চমক

রাতের শেষ প্রহরে জানালার গ্রিল ধরে বর্ষা কতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল, তার হিসাব তার নিজের কাছেও নেই।
বাইরে বটগাছের নিচের সেই কালো ছায়াটা একসময় গাঢ় অন্ধকারে মিলিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু শাদমান এজাজের সেই বুক কাঁপানো ভয়েসটা বর্ষার কানের ভেতর একটানা বাজছিল—

\”কাল সকালে তোমার বাপের ওই থানের দোকানে এক চমক অপেক্ষা করছে। দেখতে আসবে না?\”

সকাল আটটা।

রোদটা কেবল ধানঝুরি গ্রামের ওপর কাঁচা সোনার মতো ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। ঘরে কাল রাতের সেই উত্তপ্ত পরিবেশের একটুও হেরফের হয়নি।

রহমান সাহেব মুখে এক চিমটি তামাক পুরে জুতোর ফিতে বাঁধছিলেন। উনি আজ বর্ষার দিকে একবারের জন্যও তাকাননি। দাদী দাওয়ায় বসে তামাকের কুঁচি চিবোতে চিবোতে আর রিনা বেগম বাচ্চার মুখে দুধের বোতল চেপে ধরে অলিখিত একটা জয়োৎসব উদযাপন করছিলেন। কারণ আজ থেকে বর্ষাকে ঘরের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

\”বর্ষা!\” দাদী চিল্লায়ে উঠলেন। \”বাপের দোকানে যাওয়ার খাসলত ছাড়ে। ঘরে বসে থালা-বাসন মাজার ব্যবস্থা কর।\”

বর্ষা দাওয়ার এক কোণে দাঁড়িয়েছিল। সে কোনো রাগ দেখাল না, গলার আওয়াজ চড়ালো না। তার চেহারায় সেই অচেনা, গা-ছাড়া শান্ত রূপ।

সে ধীরপায়ে বাপের পেছনে গিয়ে দাঁড়াল। \”আব্বা, রিনা বেগমের শাড়ির আঁচলে কিন্তু কাপড়ের দোকানের একটা চাবি পেঁচানো আছে। তুমি কি ভুল করে ওকে চাবি দিয়েছিলে?\”

রহমান সাহেব থমকে গেলেন। পকেটে হাত দিয়ে দেখলেন—সত্যিই দোকানের একটা স্পেয়ার চাবি গায়েব!

রিনা বেগম চমকে উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন। \”কী হাবিজাবি বলছিস তুই? আমি তোর বাপের চাবি নিতে যাব কেন?\”

\”তুমি নাওনি?\” বর্ষা বড় বড় দুটো চোখ মেলে নিষ্পাপ ভঙ্গিতে তাকাল। \”তাহলে কাল রাত একটা নাগাদ যখন বাথরুমের বাহানায় বাইরে গেলে, তখন তোমার হাতে ওই চকচকে লোহার জিনিসটা কী ছিল রিনা বেগম?\”

কথাটা শোনার সাথে সাথে রহমান সাহেবের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। উনার মনের ভেতরের সন্দেহ আর ইনসিকিউরিটির বিষ বাষ্পটা এক নিমেষে জ্বলে উঠল। উনি রিনা বেগমের দিকে এমনভাবে তাকালেন যেন রিনা বেগম চোর।

\”রিনা! চাবি কোথায়?\” রহমান সাহেব হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন।

\”আমি নেইনি! শপথ করে বলছি আমি নেইনি! এই কালনাগিনী মেয়ে মিথ্যা কথা বানাই বলছে!\” রিনা বেগম উন্মাদের মতো চিল্লাতে লাগলেন। কিন্তু উনার কাঁপা গলার আওয়াজ আর চোরের মতো চেহারা দেখে রহমান সাহেব আর উনাকে বিশ্বাস করলেন না।

বর্ষা উনাদের ঝগড়ার দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে হালকা একটু হাসল।

সাইকোলজিক্যাল পক্ষাঘাত ঠিক এটাই। বর্ষা কোনো প্রমাণ রাখেনি, কিন্তু একটা সস্তা সন্দেহের বীজ তাদের দাম্পত্য জীবনের মূল শেকড়টাতে বসিয়ে দিয়েছে। এখন রিনা বেগম যতই সত্যি বলুন না কেন, রহমান সাহেবের মনে আজীবনের মতো দাগ পড়ে গেল।

রহমান সাহেব রাগ আর অপমানে গজগজ করতে করতে একাই হনহন করে দোকানের দিকে হেঁটে চলে গেলেন।

সকাল দশটা।

বর্ষা ঘরের নিষিদ্ধ দেয়াল টপকে ধীরপায়ে ধানঝুরি বাজারের দিকে রওনা দিল। বন্ধুদের সাথে ও যখন চলে, তখন চঞ্চল থাকে; কিন্তু আজ সে একা। তার পরনে একটা সাধারণ সুতির জামা, কিন্তু তার হাঁটার মধ্যে কোনো ভয় বা অপরাধবোধ নেই।

বাজারের মোড়ে পৌঁছাতেই বর্ষা থমকে গেল।

\’রহমান ক্লথ স্টোর\’-এর সামনে বিশ-ত্রিশজন মানুষের জটলা। সবাই বলাবলি করছে, \”মাগো মা! এত বড় কাণ্ড কীভাবে ঘটে গেল!\”

বর্ষা ভিড় ঠেলে সামনে এগোলো।

দোকানের কাঠের ঝাপটা অর্ধেকের বেশি ভাঙা। ভেতরে কাপড়ের থানগুলো সব এলোমেলো হয়ে মেঝের ধুলোয় পড়ে আছে। কিন্তু আসল চমকটা সেখানে ছিল না!

দোকানের মূল ক্যাশ বাক্সের ঠিক ওপরের মেহগনি কাঠের বোর্ডে লাল রঙের গাঢ় পেইন্ট দিয়ে বিশাল আকারে একটা বার্তা লেখা—

\”যে সুতো দিয়ে নিজের মেয়ের আত্মাকে বাঁধতে চাও, রহমান সাহেব… সেই সুতোতেই কিন্তু তোমার পুরো পরিবার গলায় ফাঁস দেবে।\”

পুরো বাজার স্তব্ধ!

রহমান সাহেব মেঝের ওপর হাঁটু গেড়ে বসে আছেন। উনার মুখ ছাইয়ের মতো সাদা, চোখ দুটো ভয়ে কোটর থেকে বের হয়ে আসছে। উনি কাঁপতে কাঁপতে সেই বার্তার দিকে তাকিয়ে আছেন।

\”কার কাজ এটা? কার এত বড় সাহস?\” বাজারে মাতব্বরা চিল্লাচিল্লি করছে। \”রহমান ভাই, আপনি কি কারও কাছে দেনা ছিলেন? নাকি কোনো শত্রু আছে?\”

রহমান সাহেব কোনো জবাব দিতে পারলেন না। উনার মনে পড়ে গেল কাল রাতে রিনা বেগমের সাথে উনার ঝগড়া, আর আজ সকালে বর্ষার সেই বিষাক্ত ইঙ্গিত—রিনা বেগমের কাছে চাবি আছে!

উনার পুরো ব্রেন রিনা বেগমকে দোষী ভাবতে শুরু করল! উনি মনে করলেন, উনার এই নতুন স্ত্রী-ই হয়তো উনাকে ধ্বংস করার জন্য এই কাজ করিয়েছে!

ভিড়ের ঠিক উল্টোপাশে, একটা বন্ধ মিষ্টির দোকানের ছায়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন শাদমান এজাজ।

আজ উনার পরনে গাঢ় ধূসর রঙের একটা ফর্মাল শার্ট, হাতা দুটো নিখুঁতভাবে কনুই পর্যন্ত গোটানো। হাতের কব্জিতে জ্বলজ্বল করছে দামি রোলেক্স ঘড়ি। উনার ৬ ফুট ২ ইঞ্চির দীর্ঘদেহী শরীরটার থেকে যেন এক বিষাক্ত আভিজাত্য ঠিকরে বের হচ্ছে। উনার এক হাতে একটা দামি ডুপন্ট লাইটার, যা উনি নিজের আঙুলের খাঁজে ছন্দের মতো ঘোরাচ্ছেন। লিক… ফ্লিক…

বর্ষা ভিড় কাটিয়ে ধীরপায়ে শাদমানের দিকে এগিয়ে গেল।

উনার গায়ের সেই দামী চন্দন আর সিগ্রেটের মিশ্র গন্ধটা বর্ষার নাকে এলো। শাদমান কিন্তু বর্ষার দিকে না তাকিয়েই সিগ্রেটের এক দীর্ঘ টান দিলেন।

\”চমকটা পছন্দ হয়েছে, বর্ষা?\” শাদমানের নিচু, গভীর রোমাঞ্চকর কণ্ঠটা বাতাসের বুক চিরে বর্ষার কানে পৌঁছাল।

বর্ষা দোকানের দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল, \”আপনি নিজের হাতে দোকানে গিয়ে ওই লেখাটা লিখে এসেছেন?\”

শাদমান এজাজ এবার ধীরপায়ে বর্ষার একদম মুখোমুখি এসে দাঁড়ালেন। উনার দীর্ঘ ছায়াটা বর্ষার ওপর এসে পড়ল। উনার সেই কুচকুচে কালো চোখের দৃষ্টিতে এক অদ্ভুত শয়তানি আকর্ষণ।

\”আমি কোনো কাজ নিজের হাতে করি না, ছোট মেয়ে,\” শাদমান একটু নিচু হয়ে বর্ষার কানের কাছে মুখ আনলেন। উনার তপ্ত নিঃশ্বাস বর্ষার গালে গিয়ে বিঁধল। \”আমি শুধু মানুষের মনের ভয়টাকে একটু উসকে দিই। বাকি কাজটা তারা নিজের হাতে করে ফেলে। তোমার বাপ কিন্তু এখন তার</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/272842/</link>
				<pubDate>Fri, 11 Sep 2026 11:58:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নীরব দেয়াল( প্রথম খণ্ড) – পর্ব 4<br />
পর্ব  ৩: সুতোর টান ও বিষাক্ত চমক</p>
<p>রাতের শেষ প্রহরে জানালার গ্রিল ধরে বর্ষা কতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল, তার হিসাব তার নিজের কাছেও নেই।<br />
বাইরে বটগাছের নিচের সেই কালো ছায়াটা একসময় গাঢ় অন্ধকারে মিলিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু শাদমান এজাজের সেই বুক কাঁপানো ভয়েসটা বর্ষার কানের ভেতর একটানা বাজছিল—</p>
<p>”কাল সকালে তোমার বাপ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-272842"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/272842/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ca801ba89df4d35a9afe27aa5a6ed38f</guid>
				<title>নীরব দেয়াল( প্রথম খণ্ড) – পর্ব 3
পর্ব ২ : বন্ধ ঘরের বিষ ও চোখের ভাষা

কালো গাড়িটা ধুলো উড়িয়ে গ্রামের আঁকাবাঁকা রাস্তার মোড়ে মিলিয়ে গেল। কিন্তু শাদমান এজাজের সেই গম্ভীর, থমথমে গলাটা যেন বাতাসের সাথে পেঁচিয়ে বর্ষার কানের লতি ছুঁয়ে রয়ে গেল।

“ভেতরের দানবটাকে আর কতদিন ওই মিষ্টি হাসির নিচে আটকে রাখবে, বর্ষা?”

বর্ষা গাছের নিচে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল বেশ কিছুক্ষণ। তার বড় বড় দুই চোখের মনি অস্বাভাবিক স্থির। কোনো অচেনা মানুষ প্রথম দেখাতেই তার হাসিমুখের তলার রক্তক্ষরণটা চিনে ফেলেছে—এই ভাবনাটায় ভয় পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্ষা ভয় পেল না। তার বরফ জমে যাওয়া বুকে অদ্ভুত এক শিহরণ খেলে গেল।

বাড়ির দিকে পা বাড়াল বর্ষা।

ধুলো মাখা উঠান পার হয়ে বর্ষা যখন নিজেদের আধভাঙা টিনের চালের বাড়িটায় ঢুকছিল, তখন বিকেল শেষ হয়ে সাঁঝের আলো মরে আসছে। ঘরে কারেন্ট নেই। ধানঝুরি গ্রামে লোডশেডিং প্রতিদিনের নিয়ম। একটা চিমনি ভাঙা হারিকেন মিটমিট করে জ্বলছে বারান্দায়।

“তোর জন্য কি আলাদা আল্পনা এঁকে অভ্যর্থনা জানাতে হবে?”

রান্নাঘরের দরজা থেকে ভেসে এলো দাদীর কিচিরমিচির আওয়াজ। “ঘরের ধান কোটা বাকি, উঠান ঝাড় দেওয়া হয়নি, আর নবাবজাদী ঢং করে রাস্তায় টহল দিয়ে বেড়াচ্ছেন! যা, ঘরে গিয়ে বাচ্চাটাকে ধর, রিনা তোর বাপের জন্য শরবত বানাচ্ছে।”

বর্ষা কথা বলল না। কোনো শব্দ উচ্চারণ না করে সে ধীরপায়ে রিনা বেগমের শোবার ঘরের দিকে গেল।

ঘরটায় ভ্যাপসা গরম আর ছোট বাচ্চার কাঁথা-প্যাম্পার্সের একটা বোবা গন্ধ। কাঠের খাটের ওপর শোয়ানো দুই বছরের ছোট বোনটা। রিনা বেগম ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মাথার চুল বাঁধছিলেন। বয়স সবে ২৮, শরীরে তরুণী বয়সের ছাপ এখনো স্পষ্ট। উনার পরনে লাল ছাপার সুতি শাড়ি।

বর্ষা দরজার পাশে কাঠের চৌকাঠে হাত রেখে দাঁড়াল। তার উপস্থিতি এত নীরব যে রিনা বেগম আয়নায় বর্ষার বিম্ব দেখে আঁতকে উঠলেন।

“ওমা গো! তুই এভাবে দরজার সামনে খাদের মতো খাড়া হয়ে আছিস কেন বর্ষা?” রিনা বেগম বুক চাপড়ে উঠলেন। “তোর কি পায়ে নুপুর নেই? মানুষ তো একটু শব্দ করে হাঁটে!”

বর্ষা এক পা ঘরের ভেতরে ফেলল। তার বড় বড় চোখ দুটো রিনা বেগমের মুখের ওপর নিবদ্ধ।

“তুমি আয়নায় নিজেকে দেখছিলে?” বর্ষার গলাটা এত সোজা আর সোজাসাপ্টা শোনালো যে ঘরের ভেতরের ভ্যাপসা হাওয়াটা থমকে গেল।

রিনা বেগম হাত থেকে চিরুনিটা নামিয়ে রাখলেন। উনার কপালে ভাঁজ পড়ল। “মানে কী?”

“বলছি, মা যখন এই ঘর ছেড়ে যায়, মায়ের বয়সও ঠিক ২৮ ছিল।” বর্ষা আরেক পা এগোলো। তার চেহারায় কোনো ইমোশন নেই, কিন্তু চোখের ভেতরে যেন এক বিষাক্ত পাতাল কুঁজো গড়াচ্ছে। “বাবা প্রতিদিন রাতে বলত, মায়ের গায়ের সুবাস নাকি ঘরের ট্রাঙ্কের শাড়িতে লেগে থাকে। তুমি যখন ওই আয়নার সামনে দাঁড়াও, তোমার কি মনে হয় না মা তোমার ঠিক পেছনে দাঁড়িয়ে তোমার চুলে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে?”

রিনা বেগমের ফ্যাকাশে চামড়ায় লালচে ভাবটা মুহূর্তেই সাদা হয়ে গেল।

গ্রামের এই স্যাঁতসেঁতে ঘরে রিনা বেগমের সবচেয়ে বড় ভীতি হলো বর্ষার মা রিটা খাতুন। সেই রূপবতী নারী চলে গেছে ঠিকই, কিন্তু উনার স্মৃতি আর সৌন্দর্যের ছায়া এই ঘরের প্রতিটা ইটে আটকে আছে। রিনা বেগম প্রতিদিন তটস্থ থাকেন—যদি কোনোদিন উনার জায়গাটা কেড়ে নেওয়া হয়! বর্ষা খুব নিখুঁতভাবে রিনা বেগমের সেই সবচেয়ে দুর্বল, কাঁচা জায়গাটাতেই সোজা ছুড়িটা বসিয়ে দিল।

“তুই… তুই কিসব অলক্ষুণে কথা বলছিস?” রিনা বেগমের কণ্ঠ কেঁপে উঠল। উনি ধমক দেওয়ার চেষ্টা করলেন, কিন্তু ভয়ে উনার স্বর আটকে গেল। “তোর মা তো অন্য পুরুষের কাছে গিয়ে তালাকনামা পাঠিয়ে সুখে আছে! ও এই ভিখারির ঘরে কেন আসবে?”

“সুখে কি সত্যিই আছে?” বর্ষা রিনা বেগমের একদম মুখোমুখি এসে দাঁড়াল। উনার দুই বছরের বাচ্চাটা খাটে শুয়ে শুয়ে পা ছুড়ছে।

বর্ষা রিনা বেগমকে ‘মা’ বলে ডাকল না, কোনোদিন ডাকেওনি। সে রিনা বেগমের একদম কাছে ঝুঁকে নিচু স্বরে বলল, “মানুষ যখন খুব সুখে থাকে, তখন উনার পুরনো কুঁড়েঘরের মায়া বেশি করে মনে পড়ে। মা তো আজকাল বাবাকে গোপনে টাকা পাঠায়, তুমি জানো না? যদি একদিন টাকা না পাঠিয়ে নিজেই চলে আসে?”

“থামবি তুই!” রিনা বেগম বাঘের মতো গর্জে উঠে হাত তুললেন বর্ষাকে থাপ্পড় মারার জন্য।

কিন্তু বর্ষা সরলো না। সে চোখে পলক ফেলল না। উল্টো তার গালটা রিনা বেগমের হাতের সামনে বাড়িয়ে দিল।

“মারো,” বর্ষা ফিসফিস করে বলল। “মারো রিনা বেগম। বাবা বাড়ি ফিরলে আমি বলব তুমি মায়ের নাম শুনে আমাকে মেরেছ। তখন বাবা ভাববে, তুমি এখনো আমার মা-কে হিংসা করো। বাবা মায়ের স্মৃতি মুছে ফেলতে চায়, আর তুমি তাকে প্রতিদিন সেই স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দিচ্ছ।”

রিনা বেগমের তোলা হাতটা শূন্যেই জমে বরফ হয়ে গেল।

উনার কপাল বেয়ে ঘামের ফোঁটা গড়িয়ে পড়ল। উনি বুঝতে পারলেন—এই ১৮ বছরের মেয়েটা কোনো সাধারণ মেয়ে নয়। ও কোনো ঝগড়া করছে না, গালি দিচ্ছে না, কিন্তু উনার সাইকোলজি নিয়ে জ্যান্ত খেলা খেলছে! উনাকে এমন এক চক্রে ফেলছে যেখানে উনি যা-ই করুন না কেন, শেষ পর্যন্ত নিজেই দোষী প্রমাণিত হবেন।

রিনা বেগম ভয় পেয়ে হাতটা নামিয়ে নিলেন। দৌড়ে ঘর থেকে বের হয়ে গিয়ে চিল্লাতে লাগলেন, “আম্ম! ও আম্মা! আপনার নাতনীকে সামলান, ও পাগল হয়ে গেছে! ও আমাকে দিনদুপুরে ভূতের ভয় দেখাচ্ছে!”

বর্ষা ঘরের ভেতরে একা দাঁড়িয়ে রইল।

হঠাৎ তার কানের কোণে একটা অদ্ভুত শব্দ হতে লাগল—রক্ত… রক্ত… রক্তের ফোঁটা…

তার মস্তিষ্কের ভেতরের সাইকোসিস চাঙ্গা হয়ে উঠল। বর্ষা ড্রেসিং টেবিলের ওপর পড়ে থাকা সেই লোহার তীক্ষ্ম চিরুনিটার দিকে তাকাল। কল্পনায় সে দেখল—সে চিরুনিটা তুলে নিয়ে রিনা বেগমের বাচ্চার নরম পিঠে সজোরে বিঁধিয়ে দিচ্ছে! বাচ্চাটা চিৎকার করছে, রিনা বেগম মেঝের ওপর পড়ে কান্নাকাটি করছেন, আর ঘরের সবকটা দেয়াল বর্ষার দিকে তাকিয়ে তালি দিচ্ছে!

“না…” বর্ষা বিড়বিড় করে উঠল।

সে চোখ বন্ধ করে নিজের বাম হাতের তর্জনী নখ দিয়ে বুড়ো আঙুলের নরম চামড়ায় সজোরে আঁচড় কাটতে শুরু করল। এত জোরে আঁচড় দিল যে চামড়া ছিঁড়ে গলগল করে তাজা লাল রক্ত বের হয়ে এলো</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/272841/</link>
				<pubDate>Fri, 11 Sep 2026 11:57:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নীরব দেয়াল( প্রথম খণ্ড) – পর্ব 3<br />
পর্ব ২ : বন্ধ ঘরের বিষ ও চোখের ভাষা</p>
<p>কালো গাড়িটা ধুলো উড়িয়ে গ্রামের আঁকাবাঁকা রাস্তার মোড়ে মিলিয়ে গেল। কিন্তু শাদমান এজাজের সেই গম্ভীর, থমথমে গলাটা যেন বাতাসের সাথে পেঁচিয়ে বর্ষার কানের লতি ছুঁয়ে রয়ে গেল।</p>
<p>“ভেতরের দানবটাকে আর কতদিন ওই মিষ্টি হাসির নিচে আটকে রাখবে, বর্ষা?”</p>
<p>বর্ষা গাছের নিচে স্থির&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-272841"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/272841/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fc1f0e0347be8ee59420254fa15e27c5</guid>
				<title>নীরব দেয়াল( প্রথম খণ্ড) – পর্ব 2
প্রথম পর্ব: থানের গন্ধ, হাসিমুখ ও বিষাক্ত দেয়াল

ধানঝুরি বাজারের আঁকাবাঁকা গলিটায় রোদের তাপ থমকে থাকে।

দুপুরের ভ্যাপসা গরম আর ধুলাবালির সাথে ‘রহমান ক্লথ স্টোর’-এর থান কাপড়ের সেই পরিচিত, আঁশটে গন্ধটা মিশে বাতাসের ভারী একটা আবহ তৈরি করেছে। দোকানে রঙিন থানের স্তূপ। গজ ফিতা দিয়ে থান কাপড় মাপা হচ্ছে, আর সেই দোকানের কাঠের বেঞ্চে বসে আতিয়া জান্নাত বর্ষা বন্ধুদের সাথে হেসে গড়িয়ে পড়ছে।

“আরে ছাড় তো! তদের এই এক ঘ্যানঘ্যানানি আর ভালো লাগে না!” বর্ষা তার ডান হাতটা শূন্যে ভাসিয়ে একগাল হেসে বলল।

তার হাসিটা একদম নিখুঁত, চোখে অদ্ভুত এক চঞ্চল আলো। বন্ধুদের সাথে ও যখন ধানঝুরি মফস্বলের কাঁচা রাস্তা ধরে হেঁটে যায়, তখন ওকে দেখলে মনে হবে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাণবন্ত, গা-ছাড়া আর সুখী মেয়ে এই আঠারো বছরের বর্ষা। যে ছোট ছোট কারণে খিলখিল করে হাসতে পারে, বন্ধুদের কথায় চোখ বড় বড় করে নাটকীয় এক্সপ্রেশন দিতে পারে।

“বর্ষা, তুই কিন্তু কালকে কলেজে না আসলে আমি একা একা ওই খিটখিটে স্যারের ক্লাসে বসব না, বলে দিলাম!” তার বান্ধবী সুমি হাত ধরে টেনে বলল।

“আরে আসব রে বাপু! না আসলে কি তোরা আমাকে বেঁচে থাকতে দিবি?” বর্ষা আবার হাসল।

সেই হাসিতে কোনো ভেজাল নেই, কোনো বিষণ্নতা নেই। কিন্তু এই হাসিমুখটা একটা নিখুঁত মুখোশ—যা ও প্রতিদিন সকালে পরে নেয় আর ঘরের চৌকাঠ পেরোলেই খুব যত্ন করে খুলে রেখে দেয়।

বন্ধুরা চলে যাওয়ার পর বর্ষার মুখের সেই বাঁধভাঙা হাসিটা যেন মুহূর্তের মধ্যে উবে গেল। তার বড় বড় চোখ দুটোতে নেমে এলো এক বরফ-শীতল স্থিরতা।

সে ধীর পায়ে বাবার দোকানে ক্যাশ বাক্সের দিকে এগোলো।

দোকানে তখন দাদী এসে বসেছেন। বুড়ো মানুষ, মুখে তামাকের দুর্গন্ধ। বর্ষাকে এগিয়ে আসতে দেখেই উনার মুখের কড়া রেখাগুলো আরও কুঁচকে গেল।

“কিরে পোড়া কপালে? সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় রূপ দেখালেই কি পেটে ভাত জুটবে? বাপের দোকানে এসে একটু বাতাস করবি, তা না! উড়ি উড়ি ঘুরে বেড়ানো হচ্ছে!” দাদীর ক্যাঁচক্যাচে গলাটা সুতোর মতো বর্ষার কানে বিঁধল।

বর্ষা কিন্তু কিছু বলল না। সে কোনো উত্তর দিল না, ‘দাদী’ বলে ডাকলও না। শুধু শান্ত চোখে দাদীর দিকে তাকিয়ে রইল।

“ওভাবে শকুনের মতো তাকিয়ে থাকিস কেন রে?” দাদী থুতু ফেললেন। “তোর তেরো বছর আগের রূপ তো এখনো মনে আছে। তোর ওই অহংকারী সৌন্দর্য দেখেই তো তোর মা এই সংসার ছেড়ে অন্য পুরুষের বিছানায় চলে গেল! কত বড় সুন্দরী ছিল তোর মা, গ্রামে টিকল না! তুইও তো সেই একই রক্তের দয়া গিলে বড় হচ্ছিস। আমার জমানো পেনশনের টাকায় তোদের পেটে ভাত যায়, আর দিনরাত আমায় রূপ দেখানো হয়!”

দোকানের এক কোণে বসে হাত-কাঁচি দিয়ে থান কাপড় কাটছিলেন বর্ষার বাবা, রহমান সাহেব।

উনার বয়স পয়তাল্লিশের কোঠায়। কপালে চিন্তার ভাঁজ, ফ্যাকাশে মুখ। স্ত্রীর চলে যাওয়ার অপমানটা উনি আজও ভুলতে পারেননি। গ্রামে সবাই উনাকে করুণা করে, আর উনি সেই রাগের পুরো বোঝাটা মেটান বর্ষার ওপর। উনার বিশ্বাস—বর্ষা যদি তখন মায়ের পা জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করত, তবে হয়তো উনার রূপবতী স্ত্রী অন্য পুরুষের সাথে তালাকনামা পাঠিয়ে পালিয়ে যেত না।

রহমান সাহেব কাঁচিটা ধড়াম করে কাঠের ওপর রাখলেন। বর্ষার দিকে না তাকিয়েই চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন, “দাদী ঠিকই বলছে। যার মা সুখের খোঁজে টাকা আর চেহারার লোভে অন্য জায়গায় গিয়ে নতুন সংসার পেতে সুখে আছে, তার পেটের মেয়ের মুখে এত হাসি আসে কোত্থেকে? তুই নাকি বাজারে দাঁড়িয়ে হাসছিলি? লজ্জা করে না তোর?”

বর্ষা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

তার মনের ভেতরে কোনো বিস্ফোরণ ঘটল না। তার চোখে পানি এলো না। কারণ এই কথাগুলো কোনো গল্প নয়, এটা তার প্রতিদিনের বাস্তবতা।

আত্মীয়স্বজন, পাড়াপড়শী, ঘরের মানুষ—সবাই নিজের জায়গায় একদম ঠিক আছে।

মা নিজের সুখে নতুন সংসার গুছিয়ে ভালো আছে।

বাবা তার হারানো আত্মসম্মানের শোধ বর্ষার ওপর ঘৃণা ঢেলে মেটাচ্ছে।

দাদী তার পেনশনের হিসাব তুলে নিজেকে দাতা মনে করছে।

সবাই যার যার যুক্তি নিয়ে ভীষণ সুখে আছে। এই পুরো সমীকরণে একমাত্র শিকার, একমাত্র ভিক্টিম হলো সে—এই আঠারো বছরের মেয়েটা, যাকে কোনো অপরাধ ছাড়াই পুরো দুনিয়াটা প্রতিদিন বিষ খাইয়ে মারছে।

হঠাৎ বর্ষার মাথার ভেতর একটা তীব্র শব্দ হলো।

টিক… টিক… টিক…

তার মস্তিষ্কের ভেতরের সাইকোপ্যাথিক সুইচটা অন হয়ে গেল।

বাইরে শান্ত, অবাধ্যের মতো দাঁড়িয়ে থাকা বর্ষা কিন্তু মনে মনে সেখানে দাঁড়িয়ে নেই। তার সাবকনশাস মাইন্ড বা কল্পনার জগতে তখন এক বিভৎস রক্তপাত শুরু হয়ে গেছে।

কল্পনায় বর্ষা দেখল—সে দোকান থেকে সেই ভারী, ধারালো থান কাটার কাঁচিটা তুলে নিয়েছে। তারপর চরম হিংস্রতায় সে কাঁচিটা সোজা গিয়ে বসাচ্ছে দাদীর ওই কটু কথা বলা মুখটার ওপর! রক্ত ফিনকি দিয়ে ছিটকে পড়ছে থানের কাপড়ে! সে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাবার কলার চেপে ধরে তার মাথায় কাঠের ক্যাশ বাক্সটা দিয়ে একের পর এক আঘাত করছে! রক্তে ভেসে যাচ্ছে দোকান, আর সে সেই রক্তের দিকে তাকিয়ে খিলখিল করে হেসে উঠছে!

“বর্ষা! ও বর্ষা! তুই আমার দিকে ওইভাবে হাত মুষ্টি করে তাকিয়ে আছিস কেন?”

দাদীর হঠাৎ ভয়ার্ত চিৎকারে বর্ষা বাস্তবে ফিরে এলো।

বর্ষা খেয়াল করল—তার নিজের ডান হাতটা কাঠের টেবিলের ওপর এত জোরে চেপে বসে আছে যে নখগুলো চামড়ার ভেতরে ঢুকে রক্ত জমতে শুরু করেছে। সে কিন্তু কোনো চিৎকার করেনি, বাপের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েনি। সে শুধু কল্পনায় নিজের মনের ক্ষোভটাকে ওইভাবে আক্রমণাত্মক করে তুলেছিল।

ঠিক এই সময় দোকানের ঝাপ ঠেলে ভেতরে ঢুকলেন রিনা বেগম।

বয়স মাত্র ২৮। কোলে উনার দুই বছরের একটা ফুটফুটে মেয়ে, বর্ষার সৎ বোন। রিনা বেগম গ্রামে নিজেকে খুব নরম, আদর্শ নারী হিসেবে দেখান। কিন্তু উনার মনের ভেতরে একটা তীব্র ইনসিকিউরিটি—যদি বর্ষার সেই রূপবতী মা কোনোদিন এই অভাবের সংসারে দয়া দেখাতে ফিরে আসে? তবে উনার আর এই কোলের বাচ্চাটার কী হবে?

রিনা বেগম মিষ্টি করে হেসে বর্ষার বাপের পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন।

“শুনছ? বর্ষার মা কিন্তু আজও উনার বাপের বাড়িতে একটা ট্রাঙ্ক ভর্তি শাড়ি পাঠিয়েছেন। পাড়ার মানুষ তো বলাবলি করছে, উনি নাকি বর্ষার জন্য খুব শীঘ্রই মোটা অঙ্কের টাকার ব্যবস্থা করছেন। আসলে যার মা অত বড়লোক হয়ে গেছে, তার কি আর আমাদের এই ছোট সংসারে মন টেকে?”

কথাটা বলা মাত্রই রহমান সাহেবের মুখটা আরও কালো হয়ে গেল। রিনা বেগম বর্ষার দিকে তাকিয়ে হালকা একটা চোরের মতো হাসি দিলেন। ডিরেক্ট কিছু না বলেও উনি রহমান সাহেবের ক্ষোভের আগুনে আরেকটু ঘি ঢেলে দিলেন।

বর্ষা এবারও কিছু বলল না। সে রিনা বেগমকেও কোনো দিন ‘মা’ বলে ডাকেনি, আজও ডাকল না। সে শুধু তার সৎ বোন, ওই দুই বছরের বাচ্চাটার দিকে তাকাল।

তার ভেতরের কল্পনার দানবটা এবার ফিসফিস করে উঠল—এই বাচ্চাটাকে যদি একদিন কুয়োর ভেতর ফেলে দেওয়া হয়? তাহলে রিনা বেগমের এই মিষ্টি হাসিটা কোথায় যাবে?

বর্ষার নিজের অজান্তেই তার ফ্যাকাশে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে পিশাচিক হাসি ফুটে উঠল।
সে ধীর পায়ে দোকান থেকে বের হয়ে এল।

কাঁচা রাস্তা ধরে সে হেঁটে চলেছে। মাথার ওপর কড়া রোদ, কিন্তু বর্ষার সমস্ত শরীর জুড়ে এক ঠাণ্ডা স্রোত। সে কাঁদে না। কান্না দুর্বলদের কাজ। সে শুধু কল্পনায় চারপাশের মানুষকে তছনছ করে এবং নিজের আঙুলের ওপর চামড়া কেটে রক্ত দেখে মনের সেই ভয়ংকর ক্ষোভকে শান্ত রাখে।

বটগাছের ছায়াটায় এসে বর্ষা একটু থামল।

ঠিক সেই মুহূর্তে রাস্তার উল্টোপাশে একটা কুচকুচে কালো রঙের রাজকীয় গাড়ি এসে থামল। এই ধুলোবালি মাখা সাধারণ গ্রামে এমন গাড়ি বড্ড বেমানান।

গাড়ির পেছনের কাঁচটা নিচে নেমে এলো।

ভেতরে বসে আছেন একজন পুরুষ। ৬ ফুট ২ ইঞ্চির সুঠাম গড়ন। পরনে কুচকুচে কালো শার্ট, হাতা দুটো কনুই পর্যন্ত গোটানো। উনার চোয়ালের হাড় দুটো বাঘের মতো শক্ত, আর চোখ দুটো যেন পৃথিবীর সব গভীর অন্ধকার নিংড়ে এনে সেখানে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। উনার এক হাতে একটা জ্বলন্ত সিগ্রেট, আঙুলের খাঁজে ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে।

উনার নাম শাদমান এজাজ।

শহরের এক ভয়ংকর ও প্রভাবশালী জগতের ছায়াময় চালক। এই গ্রামে কোনো এক বিশেষ ব্যক্তিগত কাজে উনি কয়েক দিনের জন্য এসেছেন। উনার এক ইশারায় মানুষের ভাগ্য বদলে যায়, উনার এক হুকুমে শহর স্তব্ধ হয়ে যায়। উনার চেহারায় এমন এক শান্ত, মারাত্মক ও শীতল তীব্রতা আছে—যা দেখলে যেকোনো নারীর বুক কেঁপে উঠবে, যেকোনো পাঠক উনার প্রতি এক পলকে ফিদা হয়ে যাবে।

শাদমান এজাজ গত দুই দিন ধরে দূর থেকে এই আঠারো বছরের মেয়েটাকে দেখছেন।

উনি দেখেছেন কীভাবে মেয়েটা একটু আগে বন্ধুদের সাথে মুক্ত পাখির মতো হাসছিল, আর এখন উনার চোখে কেমন এক নারকীয় শূন্যতা আর উগ্র ক্ষোভ ফুটে উঠেছে। শাদমান মানুষের সাইকোলজি পড়তে ওস্তাদ। উনি এক নজর তাকিয়েই বুঝে গেছেন—এই হাসিখুশি মেয়েটার বরফ-শীতল রূপের নিচে এক ভয়ংকর মনস্তাত্ত্বিক আগ্নেয়গিরি ফুটছে।

গাড়ির জানালার পাশে এসে শাদমান এজাজ সিগ্রেটে এক দীর্ঘ টান দিলেন। ধোঁয়াটা ধীর গতিতে বাতাসে উড়িয়ে দিয়ে উনি সোজা বর্ষার চোখের দিকে তাকালেন।

উনার সেই কুচকুচে কালো চোখের চাহনিতে কোনো দয়া ছিল না, কোনো প্রেম ছিল না। সেখানে ছিল এক চরম আকর্ষণীয়, শয়তানের মতো কৌতূহল।

বর্ষাও থামল। সেও রাস্তার ওপার থেকে গাড়িটার কাঁচের দিকে তাকাল।

দুজনের চোখ মিলল। কোনো কথা হলো না। কিন্তু শাদমান এজাজের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক হালকা, মারাত্মক সাইকোপ্যাথিক হাসি।

উনার নিচু, গম্ভীর ভয়েসটা যেন বাতাসের বুক চিরে বর্ষার কানের কাছে এসে পৌঁছাল—

“ভেতরের দানবটাকে আর কতদিন ওই মিষ্টি হাসির নিচে আটকে রাখবে, বর্ষা?”

বর্ষার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। এই লোকটা কে? সে কীভাবে তার ভেতরের অন্ধকারের খবর পেল?</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/272840/</link>
				<pubDate>Fri, 11 Sep 2026 11:57:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নীরব দেয়াল( প্রথম খণ্ড) – পর্ব 2<br />
প্রথম পর্ব: থানের গন্ধ, হাসিমুখ ও বিষাক্ত দেয়াল</p>
<p>ধানঝুরি বাজারের আঁকাবাঁকা গলিটায় রোদের তাপ থমকে থাকে।</p>
<p>দুপুরের ভ্যাপসা গরম আর ধুলাবালির সাথে ‘রহমান ক্লথ স্টোর’-এর থান কাপড়ের সেই পরিচিত, আঁশটে গন্ধটা মিশে বাতাসের ভারী একটা আবহ তৈরি করেছে। দোকানে রঙিন থানের স্তূপ। গজ ফিতা দিয়ে থান কাপড় মাপা হচ্ছে, আর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-272840"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/272840/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">43140ce11a40767e86fa81e5859d9563</guid>
				<title>নীরব দেয়াল

 #নীরব_দেয়াল

 #জাহিদুল_ইসলাম_জীবন

স্ক্রিপ্ট রাইটার: আতিয়া_জান্নাত_বর্ষা

জনরা: ডার্ক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার

উৎসর্গ
যাদের মনের নীরব চার দেয়ালে প্রতিদিন শত শত অবদমিত যন্ত্রণা আর হাহাকার আছড়ে পড়ে, কিন্তু মুখের চঞ্চল হাসির আড়ালে সেই অন্ধকারকে বিশ্ববাসী টের পেতে দেয় না—সেই সকল গোপন সাইকোপ্যাথিক আত্মাদের উদ্দেশ্যে ‘নীরব দেয়াল’ উৎসর্গ করা হলো।

ভূমিকা
মানুষের মন বড় অদ্ভুত এক পাতালপুরী। আমরা বাইরে থেকে যাকে চঞ্চল, ছটফটে কিংবা হাসিখুশি দেখি—তার মগজের গভীরতম কোণে হয়তো প্রতিদিন রচিত হয় এক-একটা বিষাক্ত নারকীয় থ্রিলার। সমাজ আমাদের শেখায় ভিক্টিম হতে, আঘাত খেয়ে কাঁদাতে কিংবা নিঃশব্দে সহ্য করতে। কিন্তু আঘাত যখন সহ্যসীমার বাঁধ ছাড়িয়ে যায়, তখন সহানুভূতির মোমবাতি নিভে জন্ম নেয় এক পরম পিশাচিক সাইকোপ্যাথিক শক্তি!

‘নীরব দেয়াল’ স্রেফ কোনো সাধারণ প্রেমের বা অন্যায়ের গল্প নয়। এটি আতিয়া জান্নাত বর্ষা নামের আঠারো বছরের এক সাধারণ মেয়ের রূপান্তর—যে রক্তপাত কিংবা শারীরিক আঘাত ছাড়া, স্রেফ মনস্তাত্ত্বিক ছক কষে ও শাদমান এজাজের মতো এক অন্ধকার রাজপুত্রের প্রশ্রয়ে নিজের পুরো ভণ্ড পরিবারটিকে তাদের নিজেদের পাপে তিলে তিলে ছাই করে দেয়।

তেরো বছরের অবহেলা, অপবাদ আর নির্যাতনের পর যখন ভিক্টিম নিজেই সবচেয়ে বড় জল্লাদ হয়ে ওঠে—সেই বিষাক্ত সাইকোলজিক্যাল যাত্রাই এই গল্পের মূল প্রতিপাদ্য।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/266555/</link>
				<pubDate>Fri, 28 Aug 2026 06:49:35 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>নীরব দেয়াল</p>
<p> <a href="https://toulot.com/n_astream/?s=%23ন" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#ন</a>ীরব_দেয়াল</p>
<p> <a href="https://toulot.com/n_astream/?s=%23জ" class="youzify-hashtag" target="_self" rel="nofollow ugc">#জ</a>াহিদুল_ইসলাম_জীবন</p>
<p>স্ক্রিপ্ট রাইটার: আতিয়া_জান্নাত_বর্ষা</p>
<p>জনরা: ডার্ক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার</p>
<p>উৎসর্গ<br />
যাদের মনের নীরব চার দেয়ালে প্রতিদিন শত শত অবদমিত যন্ত্রণা আর হাহাকার আছড়ে পড়ে, কিন্তু মুখের চঞ্চল হাসির আড়ালে সেই অন্ধকারকে বিশ্ববাসী টের পেতে দেয় না—সেই সকল গোপন সাই&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-266555"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/266555/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1dbc40ffd350ddc9bbcd5c7debce9386</guid>
				<title>পৃথিবীর সবচেয়ে বিশ্রী আবদার হলো— &#039;আমার সাথে কথা বলো, আমার কষ্ট হচ্ছে।&#039; কারণ কষ্টের দিনে যাকে সবচেয়ে বেশি দরকার হয়, সে-ই সবথেকে বেশি অধরা থাকে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/266269/</link>
				<pubDate>Thu, 27 Aug 2026 10:49:20 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পৃথিবীর সবচেয়ে বিশ্রী আবদার হলো— &#8216;আমার সাথে কথা বলো, আমার কষ্ট হচ্ছে।&#8217; কারণ কষ্টের দিনে যাকে সবচেয়ে বেশি দরকার হয়, সে-ই সবথেকে বেশি অধরা থাকে।</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">fb6c371bf592c9282190b3625783e920</guid>
				<title>আঠারো বছরের হাহাকার
জাহিদুল ইসলাম জীবন

আঠারোটি বসন্ত যে আগলে রাখল মোরে,
আমি তারে হারিয়ে ফেললাম নিজের অবহেলা ডোরে।
শৈশব থেকে কৈশোরের সেই হাসি-ঠাট্টার দিন,
তার যত যত্ন ছিল, পরিশোধহীন অমূল্য ঋণ।

প্রতিটা রাতে যে চোখে আমি এনেছিলাম জল,
বুঝিনি তখন তার হাহাকার, মনের নদীর তল।
কত আড়ি, কত ঝগড়া, ছিল কত অবুঝ মান,
আমি অন্ধ হয়ে ভেঙেছিলাম কাচের মতো প্রাণ।

দুনিয়ার এই অচেনা ভিড়ে আঘাত পেয়ে আজ,
স্মৃতির ঘরে জমে থাকে কেবল অনুশোচনার কাজ।
যার ছায়াতে কাটত জীবন, সহজ সুখে হাসতাম,
বুঝিনি তো তখন আমি, তারে কতটা ভালোবাসতাম!

কপোতাক্ষের জলছবিতে যেমন মধুসূদনের টান,
তেমনি আজ স্মৃতির বুকে কাঁদে আমার ব্যাকুল পরান।
নিজের হাতেই নিভিয়ে দিলাম ঘর জ্বালানো আলো,
যে মানুষটা কোনো শর্ত ছাড়াই বেসেছিল ভালো।

প্রতিটা সেকেন্ড, প্রতিটা পলে কেবলি শূন্যতা বাজে,
তারে হারিয়ে আমি আজ একা এই পৃথিবীর মাঝে।
ফিরে তো আর আসবে না সে, নেই তো পাওয়ার আর কোনো পথ,
চোখের জলে ধুয়ে যায় আজ আমার ভুলের পর্বত।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/265127/</link>
				<pubDate>Mon, 24 Aug 2026 07:58:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>আঠারো বছরের হাহাকার<br />
জাহিদুল ইসলাম জীবন</p>
<p>আঠারোটি বসন্ত যে আগলে রাখল মোরে,<br />
আমি তারে হারিয়ে ফেললাম নিজের অবহেলা ডোরে।<br />
শৈশব থেকে কৈশোরের সেই হাসি-ঠাট্টার দিন,<br />
তার যত যত্ন ছিল, পরিশোধহীন অমূল্য ঋণ।</p>
<p>প্রতিটা রাতে যে চোখে আমি এনেছিলাম জল,<br />
বুঝিনি তখন তার হাহাকার, মনের নদীর তল।<br />
কত আড়ি, কত ঝগড়া, ছিল কত অবুঝ মান,<br />
আমি অন্ধ হয়ে ভেঙেছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-265127"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/265127/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e6b2591957eec524381a964749f8fe81</guid>
				<title>[একদিনে সর্বোচ্চ 3টির বেশি লেখা পোস্ট করার কারণে আপনার এই লেখাটির প্রাইভেসি &quot;only-me&quot; করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই লেখাটি কেবলমাত্র আপনি-ই দেখতে পাচ্ছেন লেখকমঞ্চে। আপনি চাইলে এই লেখাটি ডিলিট করে দিয়ে আগামীদিন নতুন করে প্রকাশ করতে পারেন। লেখালেখি বিষয়ে আমাদের নীতিমালা জানার জন্য ভিজিট করুন: https://toulot.com/nitimala/ ] 


[একদিনে সর্বোচ্চ 3টির বেশি লেখা পোস্ট করার কারণে আপনার এই লেখাটির প্রাইভেসি &quot;only-me&quot; করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই লেখাটি কেবলমাত্র আপনি-ই দেখতে পাচ্ছেন লেখকমঞ্চে। আপনি চাইলে এই লেখাটি ডিলিট করে দিয়ে আগামীদিন নতুন করে প্রকাশ করতে পারেন। লেখালেখি বিষয়ে আমাদের নীতিমালা জানার জন্য ভিজিট করুন: https://toulot.com/nitimala/ ] 


[একদিনে সর্বোচ্চ 3টির বেশি লেখা পোস্ট করার কারণে আপনার এই লেখাটির প্রাইভেসি &quot;only-me&quot; করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই লেখাটি কেবলমাত্র আপনি-ই দেখতে পাচ্ছেন লেখকমঞ্চে। আপনি চাইলে এই লেখাটি ডিলিট করে দিয়ে আগামীদিন নতুন করে প্রকাশ করতে পারেন। লেখালেখি বিষয়ে আমাদের নীতিমালা জানার জন্য ভিজিট করুন: https://toulot.com/nitimala/ ] 


            মাটির প্রদীপ
    জাহিদুল ইসলাম জীবন


মাটির প্রদীপ আমি জ্বলছি নিভৃতে,
 অন্ধকার ঘরে একা নিঝুম এ নিশিতে। 
ঝড়-তুফান আসে যদি জানালার পাশে, 
আমি শুধু চেয়ে থাকি আলোকের আশে।
ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায় মোর মাটির এ তনু, 
আকাশেতে হাসে বুঝি রঙের ঐ ধনু।
 তবুও তো আলো দেই সাধ্যমতো মোর, 
কেটে যাবে একদিন আঁধারের ঘোর।
পাবো কি গো দেখা সেই ভোরের রবির? 
যেখানেতে শেষ হবে কান্না সবি। 
মাটির প্রদীপ আমি একলা নিরালায়, 
কেঁদে কেঁদে দিন যায় দুঃখের ভেলায়।
যদি কভু নিভে যাই বাতাসের টানে,
 রেখো গো স্মরণে আমায় তোমাদের মনে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263732/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Aug 2026 11:47:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>[একদিনে সর্বোচ্চ 3টির বেশি লেখা পোস্ট করার কারণে আপনার এই লেখাটির প্রাইভেসি &#8220;only-me&#8221; করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই লেখাটি কেবলমাত্র আপনি-ই দেখতে পাচ্ছেন লেখকমঞ্চে। আপনি চাইলে এই লেখাটি ডিলিট করে দিয়ে আগামীদিন নতুন করে প্রকাশ করতে পারেন। লেখালেখি বিষয়ে আমাদের নীতিমালা জানার জন্য ভিজিট করুন: <a target="_blank" href="https://toulot.com/nitimala/" rel="nofollow ugc">https://toulot.com/nitimala/</a> ] </p>
<p>[একদিনে সর্বোচ্চ 3ট&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-263732"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/263732/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">291fd4438ff9bbc1a1e4215665f03318</guid>
				<title>মেঘবালিকার চিঠি 

    জাহিদুল ইসলাম জীবন

আকাশের নীলে আজ বিষাদের ছায়া, 
মেঘবালিকা বুনে চলে মায়ার কুয়াশা।
 বাতাসে ভেসে আসে কার যেন গান,
 দূর অজানায় খোঁজে ব্যাকুল এই প্রাণ।
শ্রাবণের বৃষ্টিতে ভিজে যায় মন, 
স্মৃতির পাতায় জাগে হারানো সেই ক্ষণ। 
কবেকার কথা ছিল, ছিল কত আশা, 
আজ শুধু রয়ে গেল নীরব ভালোবাসা।
বুকের গভীরে জমে বেদনার জল,
 চোখের কোণে ভাসে স্মৃতির আঁচল। 
তুমি তো দিলে না ধরা এই জীবনে, 
শুধু রয়ে গেলে মোর নিভৃত ভুবনে।
তবুও আকাশ পানে চেয়ে থাকি আমি, 
আমার এই জীবনে তুমিই যে দামি। 
কখনো কি মনে পড়ে সেইসব দিন?
 যখন হৃদয়ে ছিল সুর অমলিন।
আজ শুধু ঝরে পড়ে শ্রাবণের ধারা,
 তোমার অভাবে আমি দিশেহারা। 
যদি কোনোদিন আসে বসন্তের হাওয়া, 
Anu-পাওয়ার পাওয়া।
মেঘবালিকা তাই লেখে মেঘেরই অক্ষরে,
 একটু জায়গা দিও তোমার ওই অন্তরে। 
চিঠিটা পাঠালাম বাতাসের ডানা কেটে, 
পড়ো তুমি নিরালায় পথ চলতে হেঁটে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263730/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Aug 2026 11:45:54 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>       মেঘবালিকার চিঠি </p>
<p>    জাহিদুল ইসলাম জীবন</p>
<p>আকাশের নীলে আজ বিষাদের ছায়া,<br />
মেঘবালিকা বুনে চলে মায়ার কুয়াশা।<br />
 বাতাসে ভেসে আসে কার যেন গান,<br />
 দূর অজানায় খোঁজে ব্যাকুল এই প্রাণ।<br />
শ্রাবণের বৃষ্টিতে ভিজে যায় মন,<br />
স্মৃতির পাতায় জাগে হারানো সেই ক্ষণ।<br />
কবেকার কথা ছিল, ছিল কত আশা,<br />
আজ শুধু রয়ে গেল নীরব ভালোবাসা।<br />
বুকের গভীরে জমে বেদনার&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-263730"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/263730/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">5c2ef0a6b0f2c6308107b28b4b412b5a</guid>
				<title>যে হৃদয় প্রতিনিয়ত কোনো গভীর যন্ত্রণাকে বহন করে চলে তার পক্ষে হুট করে হালকা রোমান্টিকতার গল্প বোনা কঠিন। লেখার কালিতে আবেগ মিশতে হয় আর বুকের ভেতরের রক্তক্ষরণ না থাকলে খাঁটি বিষাদের সাহিত্য জন্ম নেয় না।লেখক কেবল নিজের অনুভূতির প্রতিফলন ঘটান। বিলাসী আনন্দের গভীরে ডুবে থাকা মানুষের পক্ষে বিরহী প্রেমিকের নিঃসঙ্গতা আঁকা অসম্ভব আবার শূন্যতার ভেতর বাস করা লেখকের পক্ষে কোনো কারণ ছাড়া উচ্ছ্বাসের আলো ছড়ানো সাজে না।
— জাহিদুল ইসলাম জীবন</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263729/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Aug 2026 11:44:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>যে হৃদয় প্রতিনিয়ত কোনো গভীর যন্ত্রণাকে বহন করে চলে তার পক্ষে হুট করে হালকা রোমান্টিকতার গল্প বোনা কঠিন। লেখার কালিতে আবেগ মিশতে হয় আর বুকের ভেতরের রক্তক্ষরণ না থাকলে খাঁটি বিষাদের সাহিত্য জন্ম নেয় না।লেখক কেবল নিজের অনুভূতির প্রতিফলন ঘটান। বিলাসী আনন্দের গভীরে ডুবে থাকা মানুষের পক্ষে বিরহী প্রেমিকের নিঃসঙ্গতা আঁকা অসম্ভব আবার শূন্যতার ভেতর বাস&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-263729"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/263729/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d59d734d9d32b03995b176a4f7d96d3e</guid>
				<title>প্রতারণা তো সেই অদৃশ্য আঘাত যা দৃশ্যমান কোনো দাগ রাখে না কেবল আত্মাকে ভেতর থেকে ভস্মীভূত করে দেয়। আর সেই ছাই থেকেই জন্ম নেয় বিষাদ কারিগরের অনবদ্য কথাসাহিত্য যা প্রতিটি নিঃসঙ্গ হৃদয়কে তার নিজের দহনের আয়না দেখায়।

— জাহিদুল ইসলাম জীবন</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263728/</link>
				<pubDate>Wed, 19 Aug 2026 11:44:02 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>প্রতারণা তো সেই অদৃশ্য আঘাত যা দৃশ্যমান কোনো দাগ রাখে না কেবল আত্মাকে ভেতর থেকে ভস্মীভূত করে দেয়। আর সেই ছাই থেকেই জন্ম নেয় বিষাদ কারিগরের অনবদ্য কথাসাহিত্য যা প্রতিটি নিঃসঙ্গ হৃদয়কে তার নিজের দহনের আয়না দেখায়।</p>
<p>— জাহিদুল ইসলাম জীবন</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">941d4f43e07f8d12de68706d90c2708d</guid>
				<title>বসন্তের আগমনী
      জাহিদুল ইসলাম জীবন

কোকিলের কুহুতানে জাগলো রে প্রকৃতি,
গাছে গাছে নতুন পাতা, প্রেমেরই এ আকৃতি।
শীতের চাদর ফেলে প্রকৃতি আজ রঙিন,
বসন্তের আগমনে মন নাচে ধিন ধিন।
শিমুল আর পলাশ ফুটেছে বনেরও মঝে,
রাঙা বউয়ের মতো প্রকৃতি আজ সাজে।
মলয়া বাতাসে ভাসে কোন্ সুদূরের গান,
উদাসীন মনে জাগে নতুন এক প্রাণ।
ভাঙা মন জোড়া লাগে বসন্তের ছোঁয়ায়,
স্মৃতিরা সব উড়ে যায় দখিনা হাওয়ায়।
তুমি কি আসবে ফিরে এই মধুমাসে?
যেখানেতে সব ফুল ফোটে হেসে হেসে।
হৃদয়ের বনে আজ লেগেছে যে রঙ,
ধরাধাম ভুলে আমি করি কত ঢং।
যদি কভু কেটে যায় বসন্তের এই বেলা,
মনে রেখো আমাদের এই রঙেরও মেলা।
বসন্তের আগমনী জীবনেরই জয়,
প্রেমের মাঝে কভু নাইকো কোনো ভয়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263332/</link>
				<pubDate>Tue, 18 Aug 2026 12:46:41 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>          বসন্তের আগমনী<br />
      জাহিদুল ইসলাম জীবন</p>
<p>কোকিলের কুহুতানে জাগলো রে প্রকৃতি,<br />
গাছে গাছে নতুন পাতা, প্রেমেরই এ আকৃতি।<br />
শীতের চাদর ফেলে প্রকৃতি আজ রঙিন,<br />
বসন্তের আগমনে মন নাচে ধিন ধিন।<br />
শিমুল আর পলাশ ফুটেছে বনেরও মঝে,<br />
রাঙা বউয়ের মতো প্রকৃতি আজ সাজে।<br />
মলয়া বাতাসে ভাসে কোন্ সুদূরের গান,<br />
উদাসীন মনে জাগে নতুন এক প্রাণ।<br />
ভাঙা মন জোড়া লাগে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-263332"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/263332/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">233ce8c6222513f548fea7b0d45c3e5e</guid>
				<title>নিঝুম রাতের তারা
              জাহিদুল ইসলাম জীবন

নিঝুম রাতের তারা আমি জাগি একা একা,
নীল আকাশের বুকে মোর কাব্যখানি লেখা।
সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে নিঝুম নিশীথে,
আমি শুধু চেয়ে থাকি আলোর কুহূতে।
চাঁদের সাথে মিতালী মোর, মেঘের সাথে আড়ি,
আকাশের ঐ সীমানাতে আমার আপন বাড়ি।
মিটিমিটি আলো দিয়ে সাজাই রাতের বুক,
কেউ দেখে না এই তারার গোপন কোনো দুখ।
কত মানুষ স্বপ্ন দেখে আমার পানে চেয়ে,
কেউ বা আবার গান গেয়ে যায় খেয়ার তরী বেয়ে।
আমি শুধু নীরব সাক্ষী সবার সুখ আর দুখের,
খোঁজ রাখি না কোনোদিনও নিজের কোনো সুখের।
ভোরের আলো ফুটলে পরে মিলিয়ে যাবো আমি,
আমার এই নীরবতা বড়োই যে গো দামি।
যদি কভু নাইবা জাগি রাতের ঐ আকাশে,
খুঁজে নিও আমায় তোমরা ভোরের মৃদু বাতাসে।
নিঝুম রাতের তারা আমি একলা নিরালায়,
আমার জীবন কেটে যায় আলোর খেলায়।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263331/</link>
				<pubDate>Tue, 18 Aug 2026 12:45:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>                 নিঝুম রাতের তারা<br />
              জাহিদুল ইসলাম জীবন</p>
<p>নিঝুম রাতের তারা আমি জাগি একা একা,<br />
নীল আকাশের বুকে মোর কাব্যখানি লেখা।<br />
সবাই যখন ঘুমিয়ে পড়ে নিঝুম নিশীথে,<br />
আমি শুধু চেয়ে থাকি আলোর কুহূতে।<br />
চাঁদের সাথে মিতালী মোর, মেঘের সাথে আড়ি,<br />
আকাশের ঐ সীমানাতে আমার আপন বাড়ি।<br />
মিটিমিটি আলো দিয়ে সাজাই রাতের বুক,<br />
কেউ দেখে না এই&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-263331"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/263331/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>3</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">612b441bf50f3559594dd3be47ead63c</guid>
				<title>মাটির প্রদীপ
                              জাহিদুল ইসলাম জীবন


মাটির প্রদীপ আমি জ্বলছি নিভৃতে,
 অন্ধকার ঘরে একা নিঝুম এ নিশিতে। 
ঝড়-তুফান আসে যদি জানালার পাশে, 
আমি শুধু চেয়ে থাকি আলোকের আশে।
ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায় মোর মাটির এ তনু, 
আকাশেতে হাসে বুঝি রঙের ঐ ধনু।
 তবুও তো আলো দেই সাধ্যমতো মোর, 
কেটে যাবে একদিন আঁধারের ঘোর।
পাবো কি গো দেখা সেই ভোরের রবির? 
যেখানেতে শেষ হবে কান্না সবি। 
মাটির প্রদীপ আমি একলা নিরালায়, 
কেঁদে কেঁদে দিন যায় দুঃখের ভেলায়।
যদি কভু নিভে যাই বাতাসের টানে,
 রেখো গো স্মরণে আমায় তোমাদের মনে।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263330/</link>
				<pubDate>Tue, 18 Aug 2026 12:42:04 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>                                       মাটির প্রদীপ<br />
                              জাহিদুল ইসলাম জীবন</p>
<p>মাটির প্রদীপ আমি জ্বলছি নিভৃতে,<br />
 অন্ধকার ঘরে একা নিঝুম এ নিশিতে।<br />
ঝড়-তুফান আসে যদি জানালার পাশে,<br />
আমি শুধু চেয়ে থাকি আলোকের আশে।<br />
ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায় মোর মাটির এ তনু,<br />
আকাশেতে হাসে বুঝি রঙের ঐ ধনু।<br />
 তবুও তো আলো দেই সাধ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-263330"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/263330/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>2</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9ee3bfe49cc7e0751a8d718e1ce6dcf9</guid>
				<title>মোঃ জাহিদুল ইসলাম জীবন changed their profile picture</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/263328/</link>
				<pubDate>Tue, 18 Aug 2026 12:39:06 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>