<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
	xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
	xmlns:atom="http://www.w3.org/2005/Atom"
	xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
	xmlns:slash="http://purl.org/rss/1.0/modules/slash/"
	>

<channel>
	<title>তুলট | পার্থসারথি | Activity</title>
	<link>https://toulot.com/n_members/kumarpartha/activity/</link>
	<atom:link href="https://toulot.com/n_members/kumarpartha/activity/feed/" rel="self" type="application/rss+xml" />
	<description>Activity feed for পার্থসারথি.</description>
	<lastBuildDate>Tue, 29 Sep 2026 04:15:47 +0600</lastBuildDate>
	<generator>https://buddypress.org/?v=</generator>
	<language>en-US</language>
	<ttl>30</ttl>
	<sy:updatePeriod>hourly</sy:updatePeriod>
	<sy:updateFrequency>2</sy:updateFrequency>
	
						<item>
				<guid isPermaLink="false">39a8db31aa52b0d97cee43fe6d52de14</guid>
				<title>পর্ব-২৬
রুচিরা অভয় দেয়- তুমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারো।
কথা শেষ হতেই রুচিরা উঠে দাঁড়ায়। চায়ের দাম মিটিয়েই অনিকের কাছ থেকে বিদায় নেয়।
অনতিদূর থেকেই রুচিরা দেখতে পায় সৈকতকে। সিগারেটে চোখ বন্ধ করে লম্বা টান দিচ্ছে। আর গোল হয়ে বসা অন্যরা লোলুপ দৃষ্টিতে সৈকতের দিকে তাকিয়ে আছে যেন ক্ষুধার্ত নেকড়ে। রুচিরা থমকে দাঁড়ায় কিছুক্ষণ তারপর ধাতন্থ হয়ে এগিয়ে যায়। রুচিরাকে দেখতে পেয়ে সৈকত যেন আকাশ থেকে পড়ল। রুচিরা বুঝতে পারে সৈকত মনে মনে কিছু একটা হিসাব করছে। সৈকত কিছু বলার আগেই রুচিরা ডাক দেয়। সৈকত সাথে সাথেই দাঁড়ায়। কিন্তু হাঁটতে গিয়ে যেন মুহূর্তে সময় নেয় নিজেকে সামলাতে । সৈকত হেঁটে এগিয়ে আসছে ঠিকই কিন্তু কোথায় যেন একটা ছন্দপতন হচ্ছে। রুচিরার মনটা খুবই খারাপ হয়ে যায়;পৃথিবীর সকল দুঃখ আর কষ্ট যেন রুচিরাকে মুহূর্তেই আচ্ছন্ন করে ফেলল। মনের ভেতর জগতটা কেমন যেন ঘোলাটে হয়ে আসছে ক্রমশঃ। নিজেকে সামলে নিয়ে মন খারাপের হাওয়ায় দুলতে থাকে রুচিরা।
কাছে এসে সৈকত মাথা নীচু করে দাঁড়ায়। রুচিরা সৈকতকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে। অযত্নে চুলগুলো কেমন নোংরা এলোমেলো হয়ে আছে। দেখেই বোঝা যায়, পোশাকের প্রতিও নজর নেই। স্বাস্থ্যটা অনেক খারাপ হয়েছে। রুচিরা খুবই ক্ষীণ এবং কষ্টের স্বরে ডাকে- সৈকত।
সৈকত মাথা তুলে তাকায়। কিন্তু কোন কথা বলে না। সৈকতের চোখের কোণে কোণে কালির ছোপ পড়ে আছে। রুচিরা কোন কথা বলতে পারে না। সৈকত অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। রুচিরা বলে- এসো কিছু কথা আছে।
রুচিরার কণ্ঠস্বরটা কেমন যেন অদ্ভুত রকমের অচেনা মনে হয় সৈকতের কাছে। খুব কষ্টে যে কথাগুলো রুচিদি বলেছেন সেটি সৈকত টের পায়।
সৈকতকে নিয়ে রুচিরা অ্যানেক্স ভবনে চলে আসে। সামনের লনে দুর্বায় ওরা দু’জন পাশাপাশি বিছিয়ে বসে। অনেকক্ষণ কোন কথা নেই, রুচিরা বসে থেকে ঘাসের বুকে চিমটি কাটে আর নানান কথা ভাবে। সৈকত সিগারেটের প্যাকেট বের করতে করতে বলে, রুচিদি কিছু মনে করো না। একটা সিগারেট টানব।
রুচিরা কোন কথা বলে না। সৈকত সিগারেট ধরায় এবং লম্বা লম্বা টান দেয়।
সৈকত তোমাকে অন্য দশটা ছেলের চেয়ে আলাদা ভাবতাম।- নীরবতা ভেঙে রুচিরা প্রথমে কথা বলে।
সৈকত তাকায়। কিন্তু কোন কথা বলে না।- এক পলক তাকিয়ে পরক্ষণেই দৃষ্টি সরিয়ে নেয়।
আমার সম্পর্কে তো তোমাকে বলেছি। আমার জীবনটা অন্যরকম করে চালাতে পারতাম। কই আমি তো তেমন কিছু করিনি? দেহের ব্যাপার নিয়েও তো দেহটাকে কষ্ট দিইনি। আর তুমি কিনা মনের ব্যাপার নিয়ে অযথাই দেহটাকে ভোগাচ্ছো। এটা কিন্তু একদম অন্যায় করছো। তুমি নিজেই একদিন বলেছিলে জীবন একটাই। ভালো কিছু এক জীবনেই করা উচিত । অথচ তুমি!- রুচিরার কথা কিছুক্ষনের জন্য থেমে যায়। আবার আবারও বলতে শুরু করে- না, তোমার কাছে থেকে এমনটি কখনও আশা করিনি।
সৈকত চুপচাপ সিগারেট টেনে যাচ্ছে। রুচিরার কথা শুনছে ঠিকই কিন্তু দৃষ্টি ঘাসের বুকে আটকে আছে। মনের ভেতর হাজার আকাশের তারার মতো কথাগুলো মিটমিট করছে অথচ সে একেবারে নীরব।
জীবনে সবকিছু পাওয়া যায় না। আর পাওয়াতেই কি সুখ? না পাওয়াতেও কোন কিছ পাওয়ার চেয়ে অধিক আনন্দদায়ক করে তোলা যায়। চাইলেই পাওয়া যাবে, এমনটি হলে জীবনের তো কোন মানেই থাকে না।- রুচিরার প্রতিটি কথায় আদর, সোহাগ, মমতা আর ভালোবাসা জড়িয়ে আছে। সৈকত তা&#039; ভালো করেই টের পায়।
সৈকত এবার রুচিরার দিকে সরাসরি তাকায়। তারপর সিগারেটে শেষ টান দিয়ে বলে- রুচিদি, না পাওয়াতে আমার তেমন কোন দুঃখ নেই। কিন্তুু পারমিতা আমার বিশ্বাসটাকে আচমকা ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।
তুমি বিশ্বাস করো আর না করো সেটা তোমার ব্যাপার। কিন্তুু আমি জানি পারমিতা এখনও তোমাকে প্রচণ্ডরকম ভালোবাসে।
সৈকত প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে রুচিরার দিকে তাকায়।
রুচিরা আশ্বস্ত করার প্রয়াসে জানায়- আমি কোনরকম মিথ্যে বলছি না। যা সত্যি তাই বলছি তোমাকে।
এই ভালোবাসা আমাকে আরও কষ্ট দেয় রুচিদি। - চোখে চোখ রখেে সৈকত বলে।
রুচিরা উত্তরে কোন কথা বলতে পারে না। সত্যিইতো এখন ভালোবাসা মানে কষ্টটাকে আরও উসকে দেয়া। গন্তব্যহীন চলা জীবনের কোন পাথেয় হতে পারে না। প্রসঙ্গ পাল্টাবার প্রয়াসে রুচিরা বলে- আমার মনে হচ্ছে তুমি আমাকে ইদানীং এড়িয়ে চলছ।
সৈকত লজ্জিত হয়ে আমতা-আমতা করতে লাগল- না, না, মানে।
শোন সৈকত, জীবন কখনও থেমে থাকবে না। তোমার প্রতি আমার প্রচগুরকম বিশ্বাস ছিল, আছে এবং থাকবে। তুমি আশাবাদী হওয়ার চেষ্টা কর।
রুচিরার কথাগুলো সৈকতকে সত্যিই বিমোহিত করছে। কিন্তু সত্যি কথা কী? প্রত্যেকের জীবনে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যার জন্য মানসিক প্রস্ততি থাকে না। ফলে জীবনটা কিছুটা হলেও এলোমেলো হয়ে যায়। কিন্তুু কিছু করার মত স্পৃহা থাকে না। সৈকত বলে- রুচিদি আমার জীবনকে এরকম কখনও কল্পনা করিনি।
সৈকতের কথায় রুচিরা আশার আলো খুঁজে পায়। রুচিরা সৈকতের দিকে তাকায়। সৈকতের এলোমেলো কিছু চুল কপালে গড়াগড়ি খাচ্ছে। রুচিরা হাত বাড়িয়ে চুলগুলো ঠিক করে দিয়ে বলে- এভাবে নিজের জীবনটাকে নষ্ট করো না প্লিজ। প্রতিটি জীবনই সম্ভাবনাময়। যা হবার হয়েছে। না হয় কিছু স্মৃতি থেকে গেল। কষ্টের স্মৃতিওতো অনেক সময় সুখের ছোঁয়া দেয়। ধীরে ধীরে নিজেকে গুছিয়ে নাও। দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে।
সৈকতের চোখে-মুখে এক উজ্জ্বল আভা খেলে গেল। রুচিরা স্পষ্ট বুঝতে পারে সৈকত কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হয়েছে।
তুমি নিজের প্রতি যত্ন নিও। কেমন করে রেখেছ নিজেকে। চেনার কোন উপায় নেই যে তুমিই সেই আগেকার সৈকত।- কথা বলতে বলতে রুচিরা বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। চোখের পলকেই নিজেকে সামলে নেয়ার চেষ্টা করে।
সৈকত লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে যায়। রুচিরা ঘড়ির দিকে তাকায়। তারপর বলে- ইচ্ছে হচ্ছে তোমাকে নিয়ে সারাদিন ঘুরি। কিন্ত কোন উপায় নেই। কিছুক্ষণ লাইব্রেরি ওয়ার্ক করে আবার অফিসে যেতে হবে। আমি যা বলেছি মনে থাকবে তো? যদি শুনি আবার নিজেকে কষ্ট দিচ্ছো তবে তোমার সাথে আর যোগাযোগ করব না।
সৈকত হাসে। রুচিরাও সেই শব্দহীন হাসিতে যোগ দেয়।
চলবে...

ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর
পার্থসারথি
( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/199839/</link>
				<pubDate>Fri, 28 Apr 2023 09:44:26 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পর্ব-২৬<br />
রুচিরা অভয় দেয়- তুমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারো।<br />
কথা শেষ হতেই রুচিরা উঠে দাঁড়ায়। চায়ের দাম মিটিয়েই অনিকের কাছ থেকে বিদায় নেয়।<br />
অনতিদূর থেকেই রুচিরা দেখতে পায় সৈকতকে। সিগারেটে চোখ বন্ধ করে লম্বা টান দিচ্ছে। আর গোল হয়ে বসা অন্যরা লোলুপ দৃষ্টিতে সৈকতের দিকে তাকিয়ে আছে যেন ক্ষুধার্ত নেকড়ে। রুচিরা থমকে দাঁড়ায় কিছুক্ষণ তারপর ধাতন্থ হয়ে এগ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-199839"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/199839/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a75d28137669e3234d225c6919886139</guid>
				<title>পর্ব-২৫
পারমিতা হয়ত মাঝেমধ্যে রুচিরার কাছে আসে সৈকতকে ঘিরেই। কিন্তু সৈকত কোনরকম খোঁজখবর রাখে না। রুচিরা সবই বুঝে যে, নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে সৈকত। পারমিতা ও সৈকতের সাথে রুচিরার সম্পর্কটা সাাধারন নয়। ওদের শ্রদ্ধা মেশানো ভালোবাবা সত্যিই আবেগাপ্লুত করে তোলে রুচিরাকে। ওদের শূন্যতা এখন হৃদয়ের গভীরে অনুভব করে । ওদের ছাড়া রুচিরার খুবই একাকী সময় কাটে। অবশ্য রুচিরা নিজেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করে। ক্লাস, লাইব্রেরি ওয়ার্ক, চারটা-আটটা অফিস এসবের মাঝে ডুবে থাকার চেষ্টা করে । কিন্তু শূন্যতাটুকু হঠাৎ হঠাৎ খুবই তীক্ষ্ণ হয়ে বুকে বাজে।
পারমিতা সৈকতের এখান থেকে সোজা রুচিরার রুমে চলে আসে। তারপর পারমিতা রুচিরাকে আদ্যোপান্ত বলে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে পারমিতা বলে- রুচিদি তুমি ওকে ফেরাও। তুমি ছাড়া আর কেউ বাঁচাতে পারবে না।
সৈকতকে নিয়েই রুচিরা চিন্তায় মশগুল হয়। পারমিতা ভাবে, রুচিরা ওর কথাকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাই আবার রুচিরার হাত দুটো চেপে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে- রুচিদি প্লিজ, তুমি ছাড়া ওকে আর কেউ ফেরাতে পারবে না। তুমি একটু দয়া কর।
শেষ কথাটায় রুচিরার টনক নড়ে। শান্ত চোখে পারমিতার দিকে তাকায়। দৃষ্টিটুকু পারমিতার ভেতর অবধি কাঁপিয়ে তোলে। কিন্তু পারমিতা কিছুই বলে না। চোখ সরিয়ে নেয়। রুচিরা স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে।
শান্ত গলায় ভালোবাসা জড়ানো কণ্ঠে রুচিরা বলে- আচ্ছা পারমিতা, আমি কি সৈকতকে একটু ভালোবাসি না? সৈকতের সবটুকুতে কি শুধু তোমার অধিকার?
না দিদি, আমি অমনটি ভাবিনি। আপনি সৈকতকে আমার চেয়েও বেশি ভালোবাসেন। সে আমি জানি। আপনার ভালোবাসা স্বার্থহীন ভালোবাসা। সৈকত আপনাকে অসীম শ্রদ্ধা করে। তাইতো আপনার কাছে ছুটে এসেছি।
পারমিতার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে রুচিরা বলে- তুমি সৈকতকে নিয়ে কোনরকম দুঃশ্চিন্তা করো না। সব আমি দেখব। তুমি তোমার সংসার সামলিয়ে চলো। কারণ ছেলেদের মন বড় উদ্ভট প্রকৃতির। তুমি এখন বিবাহিত সেভাবেই চলাফেরা করা উচিত। জানি তুমি সৈকতকে খুবই ভালোবাস। কিন্তু এখন আর আগের মত করে ভালোবাসাটা বোকামি। কারণ সে আর তোমার কাছে আসতে চায় না। এমনকি আমাকেও এড়িয়ে চলে। এ পর্যন্ত ওকে নাগাল পর্যন্ত পেলাম না। তবে তুমি নিশ্চত থাক। আমি ওকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনব।
পারমিতা বেশ শান্ত হয় রুচিরার আশ্বাস পেয়ে। তারপর থেকেই রুচিরা সৈকতকে খুঁজছে কিন্তু পাচ্ছে না। খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পেল, ক্লাস শুরু হওয়ার পর কোন ক্লাসই করেনি সৈকত। সম্ভাব্য কয়েকটা জায়গায় খুঁজেছে কিন্তু পায়নি। আগে প্রায়ই ব্যতিক্রম চত্বরে অথবা হাকিম চত্বরে বসতো। এখন এখানে পাওয়া যাচ্ছে না। মনে মনে চিন্তা করছে, প্রয়োজন হলে রুমে যতেে হবে। ব্যতিক্রম চত্বরের সামনইে অপেক্ষায় আছে যদি সৈকতের কোন বন্ধুকে পাওয়া যায় তাহলে হয়ত খোঁজ পাওয়া যেতে পারে এই আশায়। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে একটা চায়ের অর্ডার দিল রুচিরা। চায়ের কাপটা হাত নিয়ে চুমুক দিতে যাবে এমন সময় অনিককে দেখতে পেল। অনিক এদিকে এগিয়ে আসছে। আরেকটা চায়ের অর্ডার দিল রুচিরা। অনিক কাছাকাছি হতেই রুচিরা ডাক দেয়। অনিক কাছে এসেই বলে- কেমন আছেন রুচিদি?
হ্যাঁ ভালো, তুমি ভালো আছো তো?
হ্যাঁ! আপনার সাথে অনকেদিন পর দেখা হল।
রুচিরা মাথা নাড়ে। দ্বিতীয় চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে অনিকের দিকে এগিয়ে দেয়। অনিক আমতা-আমতা করছিল। রুচিরা বেশ আন্তরিকতার সহিত বলে- তোমার জন্যই অর্ডার দিয়েছি।
অনিক চায়ের কাপটা হাতে তুলে নেয়। রুচিরা চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে বলে- অনিক চল, একটু ফাঁকা জায়গায় গিয়ে বসি।
এই বলে রুচিরা উত্তরের অপেক্ষা করেনি। পেছনের জামরুল তলায় নিচু দেয়ালটার গিয়ে বসল। অনিকও পাশাপাশি বসল। অনিক অন্যদিকে তাকিয়ে আছে ঠিকই কিন্তু মনটা পড়ে আছে রুচিরার দিকে, নিশ্চয়ই কিছু বলবে এই ভেবে। এভাবে কোনদিন অবশ্য রুচিরা অনিককে ডাকেনি।
রুচিরা প্রথমে নীরবতা ভাঙল- অনিক তুমি নিশ্চয়ই সৈকতের সম্পর্কে কিছু শুনেছ?
সৈকত নিজেই সবকিছু আমাকে বলেছে। ও এ ব্যাপারে খুবই আপসেট।- অনিক কথাগুলো খুবই শান্ত এবং স্বাভাবিকভাবেই বলে।
হ্যাঁ, আমি জানি। এ ব্যাপারে আমি নিরূপায়, আমার করার কিছুই ছিল না।
আপনার কথা সৈকত আমাকে বলেছে। আপনাকে সে অন্যরকম ভাবে।
অনিক, তুমি আমার সম্পর্কে তেমন কিছুই জান না।- রুচিরা অনিকের দিকে তাকায়।
অনিক তাকিয়ে আছে কিছু একটা শোনার জন্য। রুচিরা আবার শুরু করে- আমি তেমন মিশুক প্রকৃতির নই। আর ছেলেদের ব্যাপারেতো আরও বেশি । কিন্তু সৈকতের বেলায় একেবারে উল্টোরকম। ওকে আমি ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করি আর প্রচগুরকম ভালোবাসি। কথা বলতে বলতে রুচিরা আবেগতাড়িত হয়ে পড়ে। তারপর নিজেকে সামলে নিযে রুচিরা আবার বলে- সৈকতও আমাকে শুধু শ্রদ্ধাই করে না, প্রচুর ভালোও বাসে। অথচ এ ঘটনার পর আমার কাছে আর একটি দিনও এল না। এভাবে নিজেকে কষ্ট দেয়ার কোন মানে আছে? তুমি জান না অনিক, সৈকতের কথা শুনে ক’দিন যাবৎ আমার চোখে ঘুম নেই। এই বলে রুচিরা দু’হাতের তালুতে চোখ ঢাকে।
কী বলবে কিছুই বুঝতে পারছে না অনিক । অবশ্য সৈকতকে কয়েকবার বুঝিয়েছে, যেন ওরকম বাজে জীবনে না জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু কোন কথা শোনেনি সৈকত। সে অনকিকে বলে রেখেছে যেন ওর কথা কাউকে না বলে। বিশেষ করে রুচিরার কাছে। অনিক এখন এ কথাটিই বসে বসে ভাবছে।
অনকেক্ষণ পর রুচিরা মুখ তুলে তাকায় এবং বলে- ও কোথায় যায়, সারাদিন কী করে কাটায় কিছুই খরব নিতে পারলাম না। দৃষ্টি দেখেই অনিক বুঝতে পেরেছে যে, কিছু জানতে চাচ্ছেন রুচিদি। কিন্তু অনিক কোন কথা বলে না।
প্লিজ অনিক, তুমি যদি হেল্প কর তাহলে সুবিধা হয়। তাছাড়া চোখের সামনে এভাবে একটা জীবন নষ্ট হয়ে যাবে, সেটা হতে দেয়া যায় না।
অনিকের টনক নড়ে। সত্যিইতো সৈকত ধ্বংসের পথে চলেছে। এভাবে চললে সৈকত আর ফিরে আসতে পারবে না সুস্থ জীবনের বেলাভূমিতে। ভাবনার জগৎ থেকে ফিরে এসে অনিক রুচিরাকে বলে- ‘আমি যে সৈকতের খোঁজ দিচ্ছি তা কিন্তু বলবেন না।
চলবে...

ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর
পার্থসারথি
( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
N.B: If you want to read previous part, kindly click on my profile picture.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/199562/</link>
				<pubDate>Fri, 21 Apr 2023 02:15:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পর্ব-২৫<br />
পারমিতা হয়ত মাঝেমধ্যে রুচিরার কাছে আসে সৈকতকে ঘিরেই। কিন্তু সৈকত কোনরকম খোঁজখবর রাখে না। রুচিরা সবই বুঝে যে, নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে সৈকত। পারমিতা ও সৈকতের সাথে রুচিরার সম্পর্কটা সাাধারন নয়। ওদের শ্রদ্ধা মেশানো ভালোবাবা সত্যিই আবেগাপ্লুত করে তোলে রুচিরাকে। ওদের শূন্যতা এখন হৃদয়ের গভীরে অনুভব করে । ওদের ছাড়া রুচির&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-199562"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/199562/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">73c50b17f465c6dc890c50b8c50288fe</guid>
				<title>পর্ব-২৪
রিকশাওয়ালা আরও জোরে পা চালায়।
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির দিকে মেইন গেইটের সামনে এসে রিকশা থামল। হাকিম চত্বরে এদের গ্রুপের কেউ নেই। সৈকত আশপাশে তাকায়। কাউকে দেখতে পেল না সৈকত। নিশ্চিত হল সবাই জায়গায় আছে। সৈকত সামনে পা বাড়ায়।
ওদের মজমাটা জমে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সংলগ্ন বিক্রয় কেন্দ্রের দক্ষিণ দিকে, বাগান ঘেরা দেয়ালে আড়াল হয়ে বসে। এখানে ওদের আড্ডা জমে সকাল এগারোটা সাড়ে এগারোটা থেকে রাত এগোরাটা বারোটা পর্যন্ত [ গাঁজার আড্ডায় দশ-বার জন রীতিমত যাওয়া আসা করে। তবে কোন কোনদিন আবার বিশ-পঁচিশজনও হয়ে যায়। এখানে কেউ নেশায় পড়ে নেশায় ডুবে আছে, কেউবা আবার খেয়াল বশে জমাতে আসে, কেউবা আবার পুরনো অভ্যাসে আটকে আছে, আবার হয়ত আসে কৌতূহলের ঘোরে। নেশায় নেশাগ্রস্তরা সারাদিনই গাঁজা টানে আর ঘোরে ঘোরে কাটিয়ে দেয় সময়। অন্যরা কিছুক্ষণ সময় দেয় আবার চলে যায়।
গাঁজার নেশাকে উসকে দেয়ার জন্য চলে বিরামহীন চা। দুপুরের খাওয়া ওদের চায়ের সাথে বড়জোর বিস্কুট-কলা চলে। এর বেশি ওদের চাওয়া কখনও মাথাছাড়া দেয় না। এখানে কাউকে বলে দিতে হয় না যে, তুই মহারাণী (ওরা গাঁজাকে মহারাণী বলেই ডাকে) নিয়ে আসিস। কারণ যেই আসে সময়-সুযোগ পেলেই গাঁজার পুরি নিয়ে এসেই হাজির হয়।
সৈকতের এক বন্ধু আসফি। ওর সাথে সৈকতের খুব একটা ঘনিষ্ঠতা না থাকলেও ইদানীং হয়ে গেছে। আসফি এই আড্ডার এক নম্বর পাবলিক। আসফির ধ্যান-জ্ঞান-স্বপ্ন হল গাঁজার আড্ডা। রুটিন মাফিক যাওয়া আসা চলে। সকালের ঘুম ভাঙে দশটায়। ঘুম থেকে উঠইে খালি পেটে একখানা সিগারেট না হলে টয়লেটে যাওয়া হয় না। টয়লেট শেষে গোসল। তারপর রিকশা নিয়ে সোজা ক্যাম্পাসে। ক্লাস করতে নয়, গাঁজার আড্ডায়। হলে ফিরতে ফিরতে কোন কোনদিন রাত একটাও বেজে যায়। চোখে থাকে ঢুলু ঢুলু ঘুম। চেয়ারে বসে পরপর চলে কয়েকটা সিগারেট। কোন কোনদিন আবার ছাদে উঠে। গাঁজা টানার জন্য একা একা ছাদে উঠতে আসফির ভালো লাগে না। তাই একে ওকে সাধাসাধি করে । অবশ্য এ সাধাসাধিটা গুটি ক’জনার মাঝেই সীমাবদ্ধ। কোন কোন রাতে কেউ হয়ত যায় গাঁজাটা কেমন একটু চেখে দেখতে।
এক রাতে হলে ফিরেও আসফির নেশাটা একটু ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল। হাঁটতে হাঁটতে সৈকতের হলে চলে এল। রাত তখন একটা। দরজা হাট খোলা। অনিক নাক ডেকে ঘুমুচ্ছে। সৈকত চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে চোখ বন্ধ করে আপনমনে সিগারেট টানছে। আসফি অবাক। কারণ আসফি জানে সৈকত সিগারেট টানে ঠিকই তবে এখন যেভাবে টানছে সে পরিস্থিতির সাথে আসফি পরিচিতি না। কোন কথা না বলে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। সৈকত পরপর তিনটি সিগারেট টানল। আসফি কাছে এসে সৈকতকে ডাকল- সৈকত।
সৈকত ফিরে তাকায়। কোন কথা বলে না। আসফি সৈকতের পাশে বিছানায় বসে। তারপর গভীর হয়ে সৈকতকে দেখে। সৈকতের তেমন কোন ভাবান্তর হয় না। আসফি না জিজ্ঞ্যেস করে পারল না- তোর কী হয়েছে রে সৈকত?
কিছু হয়নি। ভালো লাগছে তাই টানছি।- সৈকত কথা বলছে ঠিকই কিন্তু সব কথা জড়িয়ে জড়িয়ে আসছে। চোখ জোড়া রক্তের মতো লাল হয়ে আছে। আসফির মনটা খারাপ হয়ে আসে মুহূর্তেই এবং বেশ আন্তরিকতার সাথেই বলে- দেখ সৈকত তোকে আমি অন্যান্যদের চেয়ে আলাদা করে দেখি। আমার কাছে কোন কিছু লুকাবি না।
হঠাৎ মনে পড়ে গেল এমন ভাব করে সৈকত বলে- তোর কাছে শুকনা আছে?- সৈকত কথা বলতে বলতে আসফির পকেট হাতাতে থাকে।
আসফি কোন জবাব দেয় না। অন্য কথা বলে- আমি জানতে চেয়েছি তার কিন্তু কোন উত্তর পাইনি।
সব জানতে পারবি। এখন শুকনা আছে কি না বল?
আছে, কিন্তু তোকে দেয়া যাবে না।
কেন, আমাকে দেয়া যাবে না কেন?
এসেছিলাম অবশ্য এ উদ্দেশ্যে নিয়েই যে, তোকে নিয়ে গিয়ে টানব।
তবে?
অন্যদিন অবশ্য জাস্ট সঙ্গ নেবার জন্য তোকে নিয়ে যাই। কিন্তুু আজ আমি তোকে নেব না।
কেন, নিবি না কেন?
কারণ আমি চাই না তুই এই পথে আঁটকে যাস।
আসফিকে কথা শেষ করতে না দিয়েই সৈকত আবেগাপ্লুত হয়ে বলে- আসফি, আমি জানি তুই আমাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে দেখিস। খুব ভালোবাসসি। কিন্তু এখন যদি তুই আমাকে না দিস আমি নিজেও তো এনে খেতে পারব না কি? এ ব্যাপারে নিজের ইচ্ছেটাই আসল। কই গত একটা বছর তো তুই আমাকে প্রায়ই ডেকে নিয়ে যাস। আমি কি অ্যাডিক্টেড হয়েছি? হইনি। আর এখন তুই না-নিয়ে গেলেও আমি নিজে গিয়ে নিয়ে আসব। সেটা নিশ্চয়ই ঠেকাতে পারবি না।
আসফি কিছুক্ষণ ভাবল। তারপর বলল- ‘ঠিক আছে চল। তবে তোর কাছে অনুরোধ এসবে জড়াস না। আমার চোখের সামনে আমার জীবনটা শেষ হয়ে যাচ্ছে টের পাচ্ছি । কিন্তু সরে আসতে পারছি না। প্রথম প্রথম মজা করে টানতাম। এখন গাঁজা আমাকে টানে। ফিরে আসার ইচ্ছেটা খুবই দুর্বল হয়ে গেছে।
সেই থেকে সৈকত আসফির হাত ধরেই গাঁজার আড্ডার সদস্য হয়ে যায়। এখন মাছ-ভাতের চেয়ে গাঁজাই বেশি টানতে হয়।
সিগারেটে টান দিতে দিতে সৈকত বেশ খোশমেজাজের সাথে একটা গজলে সুর তুলল। চলন্ত অবস্থাতেই এক হাতে উরুতে তাল ঠুকছে। আড্ডার কাছে পৌছতেই চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে ওঠল। সবাই এসে গেছে। প্রথম রাউন্ডের জন্য প্রস্ততি চলছে। পকেটে হাত ঢুকিয়ে দু’পুরিয়া বের করে বিছিয়ে রাখা অন্য পুরিয়ার সাথে মিশিয়ে দিল। দূর্বার উপরে বিছিয়ে বসে সিগারেটটা পাশের জনকে দিল।
*
পারমিতা এবং সৈকতকে নিয়ে রুচিরার সুন্দর সময় কেটেছে। দু’জনকে ঘিরেই রুচিরার একটা নিজস্ব ভুবন গড়ে ওঠেছিল।। ওরা ছন্দের মাধুরী মিশিয়ে দিয়েছিল জীবনের ছেঁড়া তারের তানপুরাটায়। একজন আরেকজনকে ভালোবাসার ভালোলাগাটুকুর সুবাতাস রুচিরাকে মোহময় করে রাখতো। ওদের সাথে আত্নিক একটা যোগাযোগ ঘটেছিল। যখন ওদের সাথে ছিল নিত্য উঠা-বসা তখন কিন্তু রুচিরা ততটা বুঝতে পারেনি এসব ব্যাপারগুলো। পারমিতা সৈকতের সম্পর্কের ফাটলের প্রভাব রুচিরাকেও স্পর্শ করেছে।
চলবে...

ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর
পার্থসারথি
( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/199530/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Apr 2023 11:17:56 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>পর্ব-২৪<br />
রিকশাওয়ালা আরও জোরে পা চালায়।<br />
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির দিকে মেইন গেইটের সামনে এসে রিকশা থামল। হাকিম চত্বরে এদের গ্রুপের কেউ নেই। সৈকত আশপাশে তাকায়। কাউকে দেখতে পেল না সৈকত। নিশ্চিত হল সবাই জায়গায় আছে। সৈকত সামনে পা বাড়ায়।<br />
ওদের মজমাটা জমে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সংলগ্ন বিক্রয় কেন্দ্রের দক্ষিণ দিকে, বাগান ঘেরা দেয়ালে আড়াল হয়ে বসে। এখানে ওদ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-199530"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/199530/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ee431b9d241a0ed7a73a5c5c9b504433</guid>
				<title>ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর
পার্থসারথি
( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
পর্ব-২৩
কিন্তু আমি তো একজন মানুষ। নিজস্ব একটা জগত নিশ্চয়ই থাকবে। এবং এর পেছনে আবেগ-ভালোবাসা জড়িয়ে থাকাটাই স্বাভাবিক। আর না পাওয়ার একটা দুঃখ প্রত্যেকের থাকে আমারও থাকাটা স্বাভাবিক। তুমি সুখে থেকো এতে আমি কখনও বাদ সাধবো না। শুধু আমাকে আমার মত থাকতে দাও প্লিজ!- বলতে বলতে সৈকত বেশ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে, কন্ঠস্বরটা বেশ ভারি হয়ে আসে।
পারমিতা হাত জোড় করে বলে- তুমি আমাকে ক্ষমা করো সৈকত। তোমার আশীর্বাদ ছাড়া আমি বাঁচতে চাই না।- বলেই পারমিতা সৈকতের হাত জড়িয়ে ধরে এবং চোখে চোখ রাখে।
সৈকত পারমিতার হাতে হাত রেখে বলে- ছি! পারমিতা, আমি কি তোমাকে অভিশাপ দিতে পারি? আমি তোমাকে ভালোবাসি, খুব খুব ভালোবাসি। তুমি যদি বলো, সাত আসমান পেরিয়েও তোমাকে আমি রাশি রাশি তারা ছিনিয়ে এনে দিতে পারি। আমি কি কোনদিন তোমার অমঙ্গল চাইতে পারি? তোমাকে ছাড়া আমি নিজেকে আর ভাবতেই পারছি না।
তাহলে নিজেকে এভাবে কষ্ট দিচ্ছ কেন?- পারমিতা অভিমানভরা কন্ঠে বলে।
সৈকত আর কথা বাড়ায় না। চুপচাপ বসে আছে। দু&#039;জনই চুপচাপ। কষ্টের নীল আকাশে একলা একলা উড়ে বেড়াচ্ছে ভালোবাসার দুটো পাখি। দু&#039;জনের দু&#039;রকম কষ্ট; তবে দু&#039;জনই কষ্টের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। পারমিতা দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে সৈকতের দিকে অসহায় দৃষ্টি নিয়ে তাকায়। কিন্ত সৈকত ইচ্ছে করেই দৃষ্টিতে আটকাচ্ছে না। দৃষ্টি জোড়া চড়ুই পাখির বাসায় যেন স্থির হয়ে আছে।
তোমার ক্লাস শুরু হয়েছে এক সপ্তাহ হল। অথচ একদিনও যাওনি।- পারমিতা অভিযোগ করে বলে।
ইচ্ছে হয় না, যাই না।- না তাকিয়েই সৈকত কথাগুলো বলে।
তোমাকে অনুরোধ করছি, এভাবে নিজেকে কষ্ট দিও না। আর ক্লাসগুলো অন্তত ঠিকভাবে করো।
না করতে গেলেই অনেক কথা বাড়বে এই ভেবে সৈকত বলে- হ্যাঁ, ক্লাস করবো।
আজ ক্লাস নেই?
রুটিন জানা নেই।
তাহলে ক্যাম্পাসে চল।
একটু কাজ আছে। এখন ক্যাম্পাসে যাব না।
ক্যাম্পাস হয়েই চলে যেও। তোমাকে বেশিক্ষণের জন্য আটকাবো না।
সৈকত কোন কথা বলে না। উঠে গিয়ে আলনার আড়ালে যায়। পারমিতা মিটিমিটি হাসে। আলনার আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে কেডস জোড়া তুলে নেয়। ফিতা আটকাতে আটকাতে বলে- তুমি আমার রুমে আর এসো না, দরকার হলে খবর দিও।
পারমিতা কোন কথা বলে না। তাকিয়ে তাকিয়ে শুধু সৈকতকে নীরবে দেখেই যাচ্ছে। এই ক&#039;দিনে চেহারাটা কেমন মলিন হয়ে গেছে। দেখলেই বুঝা যাচ্ছে ভীষণ কষ্টের ভেতর সময় কাটাচ্ছে। কষ্টের দীর্ঘশ্বাস বুকের গভীর থেকে বেরিয়ে আসে। কোনমতে নিজেকে সামলে নেয় পারমিতা।
নীরবতা ভেঙে সৈকত বলে- চলো।
সিঁড়ি বেয়ে দু’জন নেমে আসে। সৈকত হালকা নাস্তা করে। পারমিতা শুধু এককাপ চা খেল। চায়ে শেষ চুমুক দিয়ে সৈকত সিগারেট ধরায়। পারমিতা শুধু তাকিয়ে থাকে। সৈকত বুঝতে পেরে দৃষ্টি অন্যত্র ঘুরিয়ে আপন মনে সিগারেটে দিল এক লম্বা টান।
রিকশায় বসে পারমিতা সৈকতের জন্য জায়গা ছেড়ে বলে- উঠে এসো।
সৈকত কোন কথা না বলে রিকশার হুডটা টেনে দেয়।
পারমিতা বলে- আবার কবে দেখা হচ্ছে?
দেখা হবে।- সৈকত অনির্দিষ্টভাবে বলে।
রিকশা চলতে শুরু করতেই সৈকত অন্য রিকশার জন্য ব্যস্ত হয়। পারমিতা পেছন ফিরে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু সৈকত একবারও তাকায়নি। সৈকতের রিকশাটা উল্টোদিকে রওনা হয়। দুজনার দূরত্ব ক্রমশ বাড়তে বাড়তে দৃষ্টিসীমা ছাড়িয়ে যায়। কষ্টের নিঃশ্বাস ফেলে পারমিতা দৃষ্টি ফিরিয়ে স্বাভাবিক হতে চেষ্টা করে।
একটা সিগারেট শেষ করেই সৈকত আরেকটা সিগারেট ধরাল। মনের ভেতরটা পাগলা হাওয়ায় যেন তোলপাড় করে চলছে। কোন কিছুতেই মনটাকে শান্ত করতে পারছে না। পারমিতাকে ঘিরে স্বপ্নের ভুবনটা ভেঙে যাবার পর অন্যরকম একটা জগত তৈরি করে নিয়েছে সৈকত। অবশ্য পারমিতাকে মনের আঙিনা থেকে দূরে রাখা খুবই কষ্টকর ব্যাপার। পারমিতাকে যতই দূরে ঠেলে রাখে ওর প্রতিচ্ছবি ততই আঁকড়ে ধরে জড়িয়ে থাকে। ইদানীং পারমিতার প্রভাব কিছুটা হালকা হলেও ঝাপসা হয়ে এসেছিল প্রায়। কিন্তু আজ পারমিতা নিজে এসে উপস্থিত হওয়াতে সৈকতের রূপান্তরটা টেকেনি। বালির বাঁধের মত ভেঙে গিয়ে যা ছিল তাই হল । পারমিতা রুমে আসার পর সৈকত ইচ্ছে করেই বাজে ব্যবহার করেেছ। সৈকত জেনেছে এবং বোঝার চেষ্টা করেছে যে, পারমিতা নিরূপায় ছিল। সৈকতের কথা, পারমিতা ইচ্ছে করলেই সবকিছু ডিঙিয়ে আসতে পারত। অবশ্য মানবিক ব্যাপারটা জড়িয়ে থাকতো সৈকত কোন কিছু বলার সুযোগ বা সাহস পায়নি।
সৈকত মনে মনে ঠিক করে রেখেছে, পারমিতার সাথে ভালো ব্যবহার করা চলবে না। এতে করে পারমিতা কাছে আসবে বারবার। আর কাছে আসা মানে মনের যন্ত্রনা আরও বাড়বে। পারমিতার সাথে বাজে ব্যবহার করতেও কষ্ট হয়। এর চেয়ে ভালো দূরে দূরে থাকা।
রুচিরার সাথেও সৈকতের অনেকদিন হল যোগাযোগ নেই। নেই নয়, সৈকত ইচ্ছে করেই নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে। রুচিরার সাথে দেখা হলেই বুঝিয়ে-সুঝিয়ে অনেক কথা বলবে। রুচিরাকে সৈকত অন্যরকম মূল্যায়ন করে। রুচিরা কোন কথা বললে আর সেই কথা সৈকত ফেলতে পারে না। ক্যাম্পাসে সৈকত রুচিরার মুখোমুখি প্রায় হয়ে গিয়েছিল বেশ ক’বার। সৈকত দেখেও না দেখার ভান করে একটু কেটে চলে এসেছে। একটু দূরে এসে সৈকত আবার ফিরে তাকিয়ে দেখে রুচিদিকে। সৈকতের খুব কষ্ট হয় রুচিদির সাথে কথা বলতে না পারায়। রুচিদি আপন ভুবনে ডুবে ডুবে হেঁটে চলে। কিছু কষ্ট নিয়ে সৈকত রুচিদির চলে যাওয়া দেখে।
রিকশাটা নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ি পেরিয়ে ডানদিকে মোড় নিল। কাঁটাবনের দিকে এগিয়ে চলছে। সৈকত ভাবছে আর আপন মনে সিগারেট টান দিয়ে যাচ্ছে। বেশ কিছুদূর এগোনোর পর রিকশাওয়ালাকে থামতে বলল।
রিকশা ভাড়া না মিটিয়ে সৈকত বলল- একটু দাঁড়ান আমি এখনই চলে আসবো।- এই বলে সৈকত একটা পানের দোকানের দিকে এগিয়ে গেল। তারপর নিচুস্বরে কিছু কথা বলল দোকানদারের সাথে। বিশটা টাকা ধরিয়ে দিতেই দোকানদার দুটো পুরিয়া দিল সৈকতকে। পুরিয়া দুটো পকেটে রাখতে রাখতে সৈকত চারপাশে দৃষ্টি বুলিয়ে নিল। মনের অজান্তেই ভয়েরা উঁকি মারে। তাড়াহুড়া করে সৈকত রিকশায় চেপে বসল। রিকশায় বসেই সৈকত রিকশাওয়ালাকে বলল- টিএসসিতে যান।
চলবে...

♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
N.B: If you want to read previous part, kindly click on my profile picture.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/198870/</link>
				<pubDate>Tue, 11 Apr 2023 14:32:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর<br />
পার্থসারথি<br />
( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )<br />
পর্ব-২৩<br />
কিন্তু আমি তো একজন মানুষ। নিজস্ব একটা জগত নিশ্চয়ই থাকবে। এবং এর পেছনে আবেগ-ভালোবাসা জড়িয়ে থাকাটাই স্বাভাবিক। আর না পাওয়ার একটা দুঃখ প্রত্যেকের থাকে আমারও থাকাটা স্বাভাবিক। তুমি সুখে থেকো এতে আমি কখনও বাদ সাধবো না। শুধু আমাকে আমার মত থাকতে দাও প্লিজ!-&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-198870"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/198870/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>1</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">860c6bc885ba2be5c8cfd77e77e627ff</guid>
				<title>ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর
পার্থসারথি
( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
পর্ব-২১
দরজার কড়া নড়ে ওঠতেই সৈকত এগিয়ে আসে। দরজা খুলেই সৈকত অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রুচিরাকে দেখে। তারপর পাশ ছেড়ে দাঁড়িয়ে বলে- দিদি এসো, ভেতরে এসো।
ঘরে প্রবেশ করেই চুপচাপ চেয়ার টেনে রুচিরা বসে। কাছাকাছি হয়েই খাটের উপর বসে সৈকত। রুচিরা মনে মনে ভাবে; কোত্থেকে, কীভাবে শুরু করবে। বেশ কিছুটা চিন্তায় পড়ে যায় সে। সৈকত রুচিরা দিকে তাকিয়ে থাকে কিছু একটা শুনবে এমন প্রত্যাশায়। কিন্তু রুচিরা চুপচাপ বসেই থাকে। কোন সমস্যা রুচি&#039;দি?
নীরবতা ভেঙে সৈকত বলে- এভাবে চুপচাপ বসে আছেন যে? তাছাড়া আপনাকে বেশ চিন্তিত মনে হচ্ছে।
রুচিরা এড়াতে চেষ্টা করে- না এমনিতইে। হঠাৎ ভাবলাম তোমার এখান থেকে একটু ঘুরে যাই।
এসে ভালো করেছেন। আমিও ভাবছিলাম কোথায় যাওয়া যায়। কারণ একা একা বোরিং লাগছে।
কেন? অনিক কোথায়?
দু’দিন হল বাড়িতে গেছে।
সৈকত, তুমি পারমিতাকে খুব ভালবাস, তাই না?
সৈকত লজ্জাবনত হয়ে উচ্চারণ করে- কেন দিদি, হঠাৎ করে এই প্রশ্ন?
রুচিরা কোন কথা বলে না। পলকহীন দৃষ্টিতে তাকায়, দৃষ্টিতেই বোঝা যাচ্ছে যে রুচিরা উত্তর চাচ্ছে।
রুচিরার দিকে না তাকিয়ে সৈকত বলে- রুচিদি সত্যি বলতে কী, পারমতিাই আমার জীবনরে প্রথম নারী যাকে আমি মনের ভেতর ঠাঁই দিয়েছি।
পারমিতাও নিশ্চয়ই তোমাকে খুব ভালোবাসে?
আমার বিশ্বাস আমি যতটুকু ভালাবাসি, পারমিতাও তেমনি আমাকে ভালোবাসে। কথাগুলো সৈকত বলছে ঠিকই কিন্তু মনের ভেতর কিছু প্রশ্ন উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছে যে, রুচিদি হঠাৎ করে এমন প্রশ্ন করছে কেন।
তুমি ঠিকই বুঝতে পেরেছ। পারমিতা তোমাকে খু-উ-ব ভালোবাসে।
কথাটা শোনার পর সৈকতের পুরো মুখণ্ডলে হালকা খুশীর বন্যার ঢেউ খেলে গেল যেন। রুচিরার চোখে বিষয়টা ধরা পড়ে। কিন্তু রুচিরা বেশ কষ্ট পায়। রুচিরা কোন কথায় আর এগোবার সাহস পাচ্ছে না। সৈকত অপেক্ষায় আছে পরবর্তী কথা শোনার জন্য।
সৈকত, জীবনে কিছু ঘটনা আচমকা ঘটে যায়। যার জন্য, কেউ কখনও প্রস্তত থাকে না এবং অনেক সময় তা একটা জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে। তবে জীবনের জন্য ওইসব ঘটনাকে মোকাবিলা করতে হয়। বুদ্ধিমত্তার সাথে যারা মোকাবিলা করে তারাই প্রকৃত জীবন যোদ্ধা।
কথাগুলো সৈকতের মনে আরও প্রশ্ন জাগায়। কিন্তু সৈকত কিছু প্রশ্ন করল না । প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল রুচিদির দিকে। রুচিরার সুন্দর মুখটা যেন নীলচে হয়ে আছে। পারমিতার জমাট বাঁধা কষ্টগুলো রুচিরার ভেতরে ক্রমশ বেড়ে চলছে। নিরুপায় হরিণীর মত ছটফট করছে রুচিরার দেহ-মন।
র্দীঘ নীরবতা ভেঙে সৈকত বলে- রুচিদি, আমার মনে হচ্ছে আপনি অন্য কিছু একটা বলবেন। নিঃসন্দেহে বলতে পারেন।
রুচিরা এবার সাহসের বুকে ভর করে এগোবার চেষ্টা করে বলে- সৈকত পারমিতা খুবই বিপদে পড়ে গেছে।
সৈকত বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে- ওর কী হয়েছে দিদি?
পারমিতা তোমাকে সত্যি খুব ভালোবাসে। কিন্তু একটা বেসামাল পরিস্থিতিতে হাবুডুবু খাচ্ছে সে।
সৈকত চুপচাট। আগ্রহভা দৃষ্টিতে সৈকত তাকিয়ে আছে। রুচিরা সবকিছু খুলে বলে। সবকিছু শোনার পর কিংকর্তব্যবিমূঢ় সৈকত অস্বচ্ছ দৃষ্টিতে রুচিরার দিকে তাকিয়ে থাকে। কান্নার জল চোখের কোণে কোণে এসে জমে আছে। বেদনায় বিদ্ধ সৈকতের পুরো মন। বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে সৈকত বলে- রুচিদি, তুমি বলে দাও। এখন আমি কি নিয়ে বাঁচবো! পারমতিাকে নিয়ে আমি সুন্দর সুন্দর স্বল্প এঁকেছি। আমার স্বপ্নের বাগানে একটিই ফুল, সে হল পারমিতা। ওকে ছাড়াতো আমার সূর্যোদয় হবে না। বলতে বলতে সৈকত শিশুর মতো কান্নায় ভেঙে পড়ে।
রুচিরা চেয়ার ছেড়ে দাঁড়ায় । সৈকতের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে- সৈকত এত ভেঙে পড়লে চলবে না। তাছাড়া পারমিতা তোমাকেই ভালোবাসে। না পাওয়ার মাঝেও তো এক রকমের সার্থকতা লুকিয়ে আছে।
এইসব আমি বিশ্বাস করি না। যা বুকের মধ্যে লালন করব তা যখন পাব না তখন সার্থকতা থাকার প্রশ্নই আসে না। পারমিতা আমাকে চিট করেছে।
তুমি ওকে ভুল বোঝ না, সৈকত। তুমি যদি ওকে দেখতে ওর কী অবস্থা, তাহলে এ কথা বলতে পারতে না।
সব মিথ্যে। আমি কিছুই বিশ্বাস করি না।- এই বলে সৈকত দু’হাতে চোখ-মুখ ঢেকে চুপচাপ বসে থাকে।
পারমিতা তোমার কাছে আসবে। ও ক্ষমা চেয়ে তোমার আর্শীবাদ চেয়েছে। শেষের কথাটায় সৈকত মুখ তুলে তাকায়। তারপর ছলছল চোখের কোণ বেয়ে উপচে পড়ল অশ্রু ফোঁটা।
কান্না জড়ানো কন্ঠে সৈকত বলে- ভেবেছে কি, ওকে আমি অভশিাপ দেব?
না, ঠিক তা নয়। পারমিতা তোমাকে খুব ভালোবাসে। সে পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। আসলে ব্যাপারটাও একেবারে ক্রিটিক্যাল।
সৈকত আর কোন কথা বাড়ায় না। দু&#039;জন র্দীঘক্ষণ চুপচাপ বসে থাকে। সময় বয়ে চলে আপন গতিতে।
ক্লাস শুরু হয়েছে এক সপ্তাহ হতে চলল। পারমিতা একদিনও ক্লাস বাদ দেয়নি। এবং প্রতিদিনই সৈকতের খোঁজে ওর ডিপার্টমেন্টে গিয়েছে কিন্তু দেখা পায়নি। আর রুচিরার ক্লাস এখনও শুরু হয়নি। পারমিতা এখন বাসা থেকে সরাসরি ক্লাসে আসে আবার বাসায়ই চলে যায়। হলে সম্ভবত আর আসা হবে না? হলে গিয়ে রুচিরাকে খুঁজেছে কিন্তু দেখা পায়নি? সৈকতকেও কয়েকদিন হলে খুঁজে এসেছে। রুম তালাবদ্ধ অবস্থায়ই পেয়েছে সবদিন। পাশের রুমে খবর রেখে এসেছে কিন্তু তবুও সৈকতের দেখা পাচ্ছে না। পারমিতা বুঝতে পেরেছে সৈকত ইচ্ছে করেই এমনটি করছে। আজও যেতে হবে। কিন্তু সৈকতকে না পেলেও রুমমেট অনিককে ক্যাম্পাসে পেয়েছে পারমিতা। ওর কাছ থেকে জানতে পায় যে, সৈকত একটু উদ্ভট প্রকৃতির জীবনযাপনে জড়িয়ে পড়েছে। সকালে বের হয় আর গভীর রাতে রুমে ফেরে। আর সবকিছুতেই নিষ্পৃহ ভাব। আগের উৎফুল্ল সৈকত আর নেই।
অনিক বলল- সকাল দশটায় মধ্যে আসলে সৈকতকে পাওয়া যাব।- এই বলে অনিক ঘড়ি দেখে বলে এখন অবশ্য গেলে পেতে পার।
পারমিতা ক্যাম্পাসে আর সময় ব্যয় করে না। রিকশা নিয়ে সোজা সৈকতের হলে। রিকশা থেকে নেমে পারমিতা খুব দ্রুতগতিতে হাঁটতে শুরু করল। কয়েকজন পেছন ফেরে পারমিতাকে লক্ষ্য করল, কিন্তু পারমিতার সেদিকে খেয়াল নেই। ওর একমাত্র লক্ষ্য এবং ভাবনা হল সৈকত। সিঁড়ি বেয়ে রীতিমতো দৌড়ে এল পারমিতা।
চলবে…

♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
N.B: If you want to read previous part, kindly click on my profile picture.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/198672/</link>
				<pubDate>Sat, 08 Apr 2023 16:49:36 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর<br />
পার্থসারথি<br />
( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )<br />
পর্ব-২১<br />
দরজার কড়া নড়ে ওঠতেই সৈকত এগিয়ে আসে। দরজা খুলেই সৈকত অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রুচিরাকে দেখে। তারপর পাশ ছেড়ে দাঁড়িয়ে বলে- দিদি এসো, ভেতরে এসো।<br />
ঘরে প্রবেশ করেই চুপচাপ চেয়ার টেনে রুচিরা বসে। কাছাকাছি হয়েই খাটের উপর বসে সৈকত। রুচিরা মনে মনে ভাবে; কোত্থে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-198672"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/198672/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">3f787e714a34a9c1b4cc94dd61d43328</guid>
				<title>*কবিতা নয়*
আমার বাড়ির আঙিনায় দুঃখরা হাসে
গোলাপবাগ তছনছ করে
শান্ত বিকেলগুলো ম্লান করে দেয়
একা থাকার মুহূর্তগুলোকে করে এলোমেলো
কাছের জন সুদূরে লীন হয়
আকাশের তারারাসব স্তব্ধ
চাঁদের আলোয় আর সুখ পাই না
জোনাকীরা দুঃখকে সর্বক্ষণ খুঁজে ফিরে
পদ্মবিলে পদ্মের পাতায় ডাহুকের হাঁটা বন্ধ
পৃথিবীর সকল কিছু হয় অর্থহীন
তবুও প্রিয়জনের সাথে সুখবিলাস
আমি দুঃখের অমানিশায় একজন সুখী মানুষ!
•সুখবোধ
&#x1f4f7;পার্থসারথি
18.05.2022</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/198632/</link>
				<pubDate>Sat, 08 Apr 2023 00:42:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>*কবিতা নয়*<br />
আমার বাড়ির আঙিনায় দুঃখরা হাসে<br />
গোলাপবাগ তছনছ করে<br />
শান্ত বিকেলগুলো ম্লান করে দেয়<br />
একা থাকার মুহূর্তগুলোকে করে এলোমেলো<br />
কাছের জন সুদূরে লীন হয়<br />
আকাশের তারারাসব স্তব্ধ<br />
চাঁদের আলোয় আর সুখ পাই না<br />
জোনাকীরা দুঃখকে সর্বক্ষণ খুঁজে ফিরে<br />
পদ্মবিলে পদ্মের পাতায় ডাহুকের হাঁটা বন্ধ<br />
পৃথিবীর সকল কিছু হয় অর্থহীন&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-198632"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/198632/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>5</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">47904012686cc5be791b362f15c08365</guid>
				<title>ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর
পার্থসারথি
( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
পর্ব-20
পারমিতা কথা বলার মত কোন কথাই খুঁজে পাচ্ছে না। শেষে শুধু বলল- সৈকত ভীষণ কষ্ট পাবে বাবা। ওর যদি কিছু হয় তাহলে তার জন্য আমি দায়ী থাকব।
ঋতেশ বাবু এবার যেন সুযোগ পেয়ে গেলেন, বললেন- তোকে যদি সত্যি সত্যি ভালোবেসেই থাকে তাহলে তোর অবস্থা বোঝা উচিত। তাছাড়া যাদের মাঝে ভালোবাসা আছে তারা ত্যাগেও প্রস্তত থাকে।
দু’জন চুপচাপ। পিনপতন নীরবতায় শুধু দেয়াল ঘড়িটা টিকটিক তালে বেজে চলছে। তারপর ঋতেশ বাবুই শুরু করলেন- এটা শুধু সময়ের ব্যাপার, দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে। মা, তুই বড় হয়েছিস। তবুও তোর কাছে চাওয়ার আছে আমাদের । তুই ফিরিয়ে দিস না মা।
বাবার আকুল আরজিতে পারমিতা বাধা হয়ে দাঁড়াতে সাহস পাচ্ছে না। আবার মুহুর্তে মুহূর্তে সৈকতের ছায়ামূর্তি এসে হানা দিচ্ছে। বুকের ভেতর কষ্টের কুয়াশা জমাট বাঁধছে ক্রমশ। পারমিতা নিজেকে সামলাতে পারল না। বিছানায় গড়িয়ে পড়ে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে লাগল। ঋতেশ বাবু ভাবলেন এই মূহূর্তে কথা বলা আর ঠিক হবে না। মনটা দুর্বল হয়ে এসেছে। একটু কাঁদতে দেয়া উচিত। কাঁদুক, বুকটা হালকা হবে । ঋতেশ বাবু শব্দগহীনভাবে উঠে চলে এলেন।
পারমিতার সারাটা রাত কেটেছে এক দ্বন্দ্বমুখর অন্তর্ঘাতে। ভাবনার সীমানায় সৈকতকে নিয়ে একটি নিজস্ব জগতের স্বপ্ন যখনই আঁকে তখন দিদির আকুতি মাখা মুখ অসহায় তৃষার নির্মল চাহনি, অভীক মজুমদারের ছিন্নভিন্ন মূহূর্তের প্রতিচ্ছবি আর মা-বাবার আকুল আর্তি এসে পারমিতাকে হানা দেয়। পারমিতা ঠিক থাকতে পারে না। এক সময় বাধ্য হয়েই পারমিতা সৈকতের প্রতিচ্ছবি থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করে। আর মনে মনে দুঃখী উচ্চারণ- আমাকে ভুল বুঝো না সৈকত ! তুমি সুখে থেকো, তুমি সুখে থেকো!- এর বেশি কিছু আর ভাবতে পারে না পারমিতা।
ঋতেশ বাবু, প্রভাময়ী দেবী ও অভীক মজুমদার নাস্তার টেবিলে। পারমিতার জন্য অপেক্ষা। অভীক মজুমদার লজ্জায় গুটিশুটি মেরে চুপচাপ বসে আছেন। দৃষ্টি সীমানা খুবই কাছে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে অভীক মজুমদারের । ঋতেশ বাবু কাজের মেয়েটিকে দিয়ে পারমিতাকে ডেকে পাঠালেন।
পারমিতার দু’চোখ অসম্ভব রকম ফোলা ফোলা এবং লাল হয়ে আছে। মাটিতে দৃষ্টি রেখে পারমিতা এগিয়ে এল। বাবার পাশের চেয়ারটায় বসল। কারও দিকে এক পলক তাকায়নি পারমিতা। অন্যদিন হলে দাদাবাবু কী খাচ্ছেন না-খাচ্ছেন তার খোঁজ-খবর নিত। অভীক মজুমদারও যথারীতি সুবিধা-অসুবিধা অকপটে বলতেন। কিন্তু আজ চোখ তুলে একবারও পারমিতার দিকে তাকালেন না। লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে আছেন। নাস্তাটা শেষ করেই অভীক মজুমদার যেন পালিয়ে বাঁচলেন।
পারমিতা সেই তখন থেকে প্লেটে খুটে খুটে খাচ্ছে। ঋতেশ বাবু মেয়ের দিকে তাকালেন এই প্রথম। মেয়ের অবস্থা দেখে বুকটা হু, হু করে কেঁপে ওঠল। কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে মেয়েকে বললেন- কেন মা নিজেকে কষ্ট দিচ্ছিস। তোর ভালর জন্যই তো আমরা এরকম ভাবছি।
প্রভাময়ী দেবী এবার ক্ষেপে উঠলেন, বললেন- মেয়েদের এতো নানা বাহানা থাকলে চলে না। মা-বাবার কথা শুনতে হয়। কোন মা-বাবা তাদের সন্তানের অমঙ্গল চিন্তা করে না।
পারমিতা মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে- আমি কি তোমাদের কিছু বলেছি? আমার কষ্টটাকেও আমি নিজের মত করে লালন করতে পারবো না? তোমরা যা বোঝ কর। কথাগুলো বলে আবার শান্তভাবে বাবাকে বলে- বাবা, আমি একটু ক্যাম্পাসে যাচ্ছি দুপুরের আগেই চলে আসব।
‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কোন কথার জন্যই পারমিতা অপেক্ষা করেনি। সোজা নিজের রুমে চলে আসে। চুলে চিরুনিটা বুলিয়ে পার্টসটা তুলে নেয় হাতে। তারপর বাইরে বেরিয়ে আসে।
এত সকালে পারমতিাকে আশা করেনি রুচরিা। পারমিতাকে উদভ্রান্ত মনে হচ্ছে। পুরো শরীরে একপলক দৃষ্টি বুলিয়ে রুচিরা বলে- পারমিতা তোমার কী হয়েছে? দেখে মনে হচ্ছে কাল সারারাত ঘুমোওনি।
পারমিতা দৃষ্টি লুকিয়ে রাখতে ব্যস্ত। রুচিরা আরও কাছাকাছি হয়ে বসে। গভীর দৃষ্টি নিয়ে রুচিরা পারমিতাকে দেখে। চোখ দেখেই বোঝা যায় পারমিতা কষ্টের সমুদ্রে হাবুডুবু খাচ্ছে। পারমিতাকে দেখে রুচিরার কষ্ট হচ্ছে। রুচিরা একহাতে পারমিতাকে আগলে ধর ভরসা দেবার ভঙ্গিতে বলে- প্লিজ, আমাকেও কষ্টে ফেলো না। সব খুলে বল আমাকে।
পারমিতা রুচিরাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে। পারমিতার পিঠে হাত রেখে রুচিরা বলে- শান্ত হও পারমিতা, শান্ত হও।
পারমিতা সব কথা রুচিরাকে খুলে বলে। সব কথা শোনার পর রুচিরা কথা বলার কোন ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। যেন বিস্ময়তায় কেটে গেল হাজার নিঃশ্বাসের মুহূর্তে। নীরবতা ভেঙে পারমিতা বলে- দিদি, তুমি সৈকতকে একটু বুঝিয়ে বলো, ও যেন আমাকে ভুল না বোঝে।
রুচিরা বেশ চিন্ততি হয়ে পড়ে। তারপর একটা র্দীঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে পারমিতাকে বলে- যদিও তোমার কিছু করার ছিল না। কিন্তু সৈকত খুবই কষ্ট পাবে। কারণ তোমাকে নিয়ে ও অনেক স্বপ্নের ভুবন তৈরি করে নিয়েছে। ওকে যে কিভাবে বুঝিয়ে বলব! চিন্তুা করে কোন কূল কিনারা পাচ্ছি না। তবে মুখ্য ভূমিকা তোমাকেই পালন করতে হবে।
প্লিজ দিদি, আমি ওর মুখোমুখি হতে পারবো না। ওর কষ্ট দেখে আমি সহ্য করতে পারব না। তুমিই ওকে বুঝিয়ে বলো।- কথা বলতে বলতে পারমিতা রুচিরার হাত জড়িয়ে ধরলো।
তুমি নিজে গিয়ে বললে ভালো হতো না?- বলেই রুচিরা পারমিতার চোখে চোখ রাখে।
না দিদি, আমি যেতে পারব না? তুমিই বুঝিয়ে বল।- পারমতিা আকুল মিনতি করে রুচিরাকে বলে।
রুচিরা কিছু একটা ভাবে। তারপর পারমিতাকে বলে- ঠিক আছে, তুমি চিন্তা করো না। আমি সৈকতকে সব বুঝিয়ে বলবো।
পারমিতা একটা শান্তির নিঃশ্বাস ফেলে রুচিরাকে জড়িয়ে ধরে বলে- রুচিদি, তুমি খুব ভালো।
জবাবে রুচিরা শুধু হাসে। কোন কথা বলে না। মনের ভেতর নানান কথার তোলপাড় চলে। কিন্তু মনের ভেতর মন খারাপের হাওয়া বইতে শুরু করে সৈকতের কথা ভেবে। বাহির থেকে রুচিরাকে দেখে কিছুই বুঝবার উপায় নেই।
অল্পক্ষণ পরই রুচিরা সৈকতের উদ্দেশে রওনা হয়। ঘটনা শোনার পর থেকেই রুচিরার কেমন যেন অস্বস্তি লাগছে। আর এখন গিয়ে কীভাবে যে কথাটা উত্থাপন করবে তার শুরুটাই ভেবে পাচ্ছে না।
চলবে...

♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
If you want to read previous part, kindly click on my profile picture.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/198578/</link>
				<pubDate>Fri, 07 Apr 2023 12:20:07 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর<br />
পার্থসারথি<br />
( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )<br />
পর্ব-20<br />
পারমিতা কথা বলার মত কোন কথাই খুঁজে পাচ্ছে না। শেষে শুধু বলল- সৈকত ভীষণ কষ্ট পাবে বাবা। ওর যদি কিছু হয় তাহলে তার জন্য আমি দায়ী থাকব।<br />
ঋতেশ বাবু এবার যেন সুযোগ পেয়ে গেলেন, বললেন- তোকে যদি সত্যি সত্যি ভালোবেসেই থাকে তাহলে তোর অবস্থা বোঝা উচি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-198578"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/198578/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d3a89191de40eb9054eba787fd9c5d7a</guid>
				<title>ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর
পার্থসারথি
( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
পর্ব-১৯
রুমে ঢুকেই ঋতেশ বাবু গলা খাকাড়ি দেন। পারমিতার চিন্তার জগতে যতি পড়ে। উঠে বসতে বসতে পারমিতা বলে- বাবা, এস বসো।
বাবা বসতে বসতে মা-ও চলে এলেন।
বাবা কী কথা দিয়ে শুরু করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। মায়ের দিকে একবার তাকালেন। মা চোখ নেড়ে ইশারা করলেন কথা শুরু করার জন্য। বাবা তবুও কিছুক্ষণ সময় অতিবাহিত করে তারপর শুরু করলেন- মা পারমিতা, তৃষামনি একেবারে অসহায় হয়ে পড়েছে। ওকে একটু নিজের মত করে মানুষ করিস।
পারমিতা বাবার দিকে তাকিয়ে বলে- বাবা, আমি কি তৃষার প্রতি কোনরকম অযত্ন করেছি?
না মা, সে কথা নয়। তুই ছাড়া তৃষামনিকে আর কে দেখবে? আমরাতো আর সবসময় থাকতে পারবো না?
ঠিক আছে বাবা, তোমরা এ নিয়ে কোন দুশ্চিন্তা করো না। আমি যতটুকু পারি করবো। আমার অজান্তে কোন অযত্ন আমি করবো না।- পারমিতা মা-বাবাকে বুঝাতে চষ্টো কর।
সে কথা তোকে বলতে হবে না। ঋতেশ বাবু একটু আমতা আমতা করে প্রসঙ্গ পাল্টাতে চেষ্টা করেন। আমরা একটু অন্যরকম চিন্তা ভাবনা করছি।
পারমিতা বাবার দিকে তাকায়। তারপর শান্ত কণ্ঠে বলে- তোমরা কী ধরণের ভেবেছ জানতে পারি কি?
মা, তুই আমাদের ভুল বুঝিস না। তোর অমঙ্গল হবে এমন চিন্তা-ভাবনা কখনও করিনি। তাছাড়া অভীক চমৎকার ছেলে। তোর দিদির স্মৃতিকে আগলে রাখ মা। এই আমাদের অনুরোধ।
পারমিতা নির্বাক । এ রকম চিন্তা ভাবনা মা বাবা করবেন তা পারমিতার মনের ভেতর কোনদিন আসেনি। আসার কথাও না। কারণ পারমিতার হৃদয়-জগৎ জুড়ে একজনের নিত্য আনাগোনা। মনের পুরো বাগানটি জুড়েই সৈকতের একাধিপত্য। সৈকত ছাড়া অন্য কারও কথা মনের ভেতর কখনও ঠাঁই দেয়নি পারমিতা। পারমিতার ইচ্ছে ছিল রাতে যখন সৈকত ফোন করবে তখন বাবাকে ব্যাপারটি বলবে এবং প্রয়োজনে বোঝানোর চেষ্টা করব। তাছাড়া পারমিতা দাদাবাবু অভীক মজুমদারকে খুবই শ্রদ্ধা করে। তিনিও পারমিতাকে দারুণ স্নেহ করেন। এছাড়া অন্য কোন চিন্তা কোন দিন মনের ভেতর উঁকি পর্যন্ত দেয়নি। আর আজ শেষ পর্যন্ত মা-বাবা কি-না! চিন্তার জগত পেরিয়ে এসে পারমিতা অতি কষ্টে উচ্চারণ করে- বাবা !
বল মা।- এই বলে ঋতেশ বাবু মেয়ের দিকে তাকিয়ে থাকেন।
বাবা, তোমরা অন্য চিন্তা করো প্লিজ।- এই বলে পারমিতা কান্নায় ভেঙে পড়ে।
মা প্রভাময়ী দেবী পারমিতাকে কোলে টেনে নেন। স্নেহের হাত মাথায় বুলাচ্ছেন। বাবা, ঋতেশ বাবু ধরা গলায় বলেন- কাঁদিস না মা, তোকে আমরা জোর করব না। তুই চিন্তা-ভাবনা কর। তুই এখন বড় হয়েছিস। তোর মতামত অবশ্যই থাকবে। তবে এটুকু জেনে রাখিস, তোর অমঙ্গল হবে না। আর সবচেয়ে বড় কথা অভীক যদি অন্য কোন মেয়েকে তুলে আনে তাহলে তৃষার জীবনটা নষ্ট হয়ে যাবে। তৃষাকে রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। তৃষা কষ্ট পেলে তোর দিদির আত্না শান্তি পাবে না।
কথাগুলো কানে পোঁছামাত্রই দিদির বলে যাওয়া কথাগুলো পারমিতার কানে ষ্পষ্ট হয়ে বেজে ওঠে।
মা, না করিস না। অভীককে অনেক বুঝিয়ে তবে রাজী করিয়েছি। এখন তুই না করলে ও ভীষণ কষ্ট পাবে। তাছাড়া আমাদের ভাববে কী?- মা প্রভাময়ী দেবী খুব শান্ত গলায় বললেন।
মা এবং বাবা যেভাবে কথা বলেছেন পারমিতা রাগ করার কোন সুযোগ পাচ্ছে না। অবশ্য পারমিতা কাছে আসার আগে ঋতেশ বাবু প্রভাময়ী দেবীকে বারবার বারণ করে এসেছেন, কোনমতেই যেন তিনি পারমিতার সাথে রাগারাগি না করেন। এখানেই পারমিতার সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পারমিতা উভয় সংকটে আছে। যদি বাবা কিংবা মা রাগ করে বলতেন তবে একটা কিছু সরাসরি কঠোরভাবে বলা যেত। পারমিতা মাথা নিচু করে চুপচাপ বসে আছে।
মা এই শেষ বয়সে তোদের সুখী দেখে যেতে চাই। মা-বাবা ছেলে-মেয়েদের অমঙ্গল কখনও চিন্তা করে না। তাছাড়া তোর ওপর আমার সবসময় আস্থা ছিল এবং এখনও আছে।- এই বলে ঋতেশ বাবু চুপচাপ মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছেন।
পারমিতা চুপচাপ , নিঃশ্বাসও যেন থেমে আছে। দৃষ্টি সরিয়ে অভিমান ভরা মন নিয়ে তাকিয়ে আছে অন্যদিকে। মনের ভেতর হাজার কথার স্রোত বয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পারমিতা এখন কোন কথাই বলতে পারছে না।
ঋতেশ বাবু পারমিতার হাত ধরে বলেন- মা, তুই অমত করিস না। তাহলে আমরা শান্তিতে মরতে পারব না। ঋতেশ বাবুর কণ্ঠস্বরটা কেমন বেসুরো মনে হচ্ছ্। পারমিতা তাকায়, বাবার চোখে জল। পারমিতার ভেতরটা কষ্টের ঝড়ে হু, হু করে ওঠে।
বাবাকে জড়িয়ে ধরে পারমিতা বলে- বাবা, আমাকে একটু সময় দাও।
ঋতেশ বাবু ইশারা করতেই প্রভাময়ী দেবী উঠে চলে গেলেন।
শান্ত হও মা, শান্ত হও!- ঋতেশ বাবু মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললেন ।
বাবার বুকে কিছুক্ষণ মুখ গুঁজে পড়ে রইল পারমিতা। তারপর পারমিতা বাবার দিকে তাকায়। মাকে দেখতে না পেয়ে একটু সাহস পায় এবং বলে- বাবা, আমার জন্য একজন অপেক্ষায় আছে। আমি ওর কাছে কী জবাব দেব?
ঋতেশ বাবু মর্মার্থটা প্রথমে বুঝতে পারেনি। অবশ্য পরক্ষণই মুখমগুলটা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। মেয়ে বলে কি! কপালে চিন্তার রেখা বলি হয়। পারমিতা ব্যাপাটা বুঝতে পারে। ঋতেশ বাবু হতাশাগ্রস্ত এবং শংকায় কাবু হয়ে বসে আছেন।
পারমিতা বলে- বাবা, সৈকত আমাকে পাগলের মত ভালোবাসে। আমিও ওকে ভীষণ ভালোবাসি।
ঋতেশ বাবু চিন্তাচ্ছন্ন অবস্থায় পারমিতার মাথায় হাত বুলাচ্ছেন। মেয়ের দিকে তাকাতে সাহস পাচ্ছেন না। এই মূহূর্তে কোন ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না। খুব কষ্ট করে শেষে উচ্চারণ করলেন- মা এই বয়সে এমন ঘটনা সবার জীবনেই থাকে। তোর ভালোবাসাকে কিংবা ভালোবাসার জনকে উপেক্ষা করছি না। তবে ভালোবাসা কি শুধু মিলনেই সার্থক হয়?
আশ্চর্য-ভরা দৃষ্টিতে পারমিতা বাবার দিকে তাকায়। বাবার দৃষ্টি কাছে নেই, সুদূরে মেলে ধরছেন। পারমিতার দিকে না তাকিয়েই তিনি বলেন- ‘বিচ্ছেদের মধ্যেও ভালোবাসার সার্থকতা থাকে। তখন ভালোবাসার জনকে চিরদিন বুকে লালন করা যায়। তাছাড়া বর্তমান টানাপড়েনটা মানবিক টানাপড়েন। এক্ষেত্রে মানুষকে অনেক কিছুই ত্যাগ করতে হয়। তোকে আমি কখনও কিছু বলিনি। এখনও কিছু বলতাম না।
চলবে...
☆ছবিটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।
♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
N.B.: If you want to read previous part, kindly click on my profile picture.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/198494/</link>
				<pubDate>Thu, 06 Apr 2023 09:06:04 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর<br />
পার্থসারথি<br />
( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )<br />
পর্ব-১৯<br />
রুমে ঢুকেই ঋতেশ বাবু গলা খাকাড়ি দেন। পারমিতার চিন্তার জগতে যতি পড়ে। উঠে বসতে বসতে পারমিতা বলে- বাবা, এস বসো।<br />
বাবা বসতে বসতে মা-ও চলে এলেন।<br />
বাবা কী কথা দিয়ে শুরু করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। মায়ের দিকে একবার তাকালেন। মা চোখ নেড়ে ইশারা করলেন কথা শুরু করা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-198494"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/198494/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8b18d4280ba214dd3379f7f4e7bbf3bb</guid>
				<title>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
পর্ব-১৮ 
 
রুচিরা পারমিতাকে এক হাতে জড়িয়ে ধরে হাঁটছে। আর পাশাপাশি সৈকত। আর্টস বিল্ডিংয়ের মেইন গেইটের সামনের মাঠের সবুজ ঘাসের উপর ওরা তিনজন বসল। পিচ্চিটাকে ডাকতেই তিন কাপ চা দিয়ে গেল। সৈকত চা শেষে সিগারেট ধরায়। পারমিতা আড়চোখে তাকাতেই সৈকত হাত জোড় করে বলে- প্লিজ, রাগ করো না। ধীরে ধীরে ছেড়ে দেব। হঠাৎ ছাড়তে অসুবিধা হচ্ছে।
 
পলকহীন দৃষ্টিতে পারমিতা তাকায়, তারপর বলে- ধীরে ধীরে বলতে আবার বছর লাগিওনা যেন।
 
ঠিক আছে মাহারাণী সময় নেব না।- হাত জোড় করে মুচকি হাসি হেসে সৈকত বলে।
 
চায়ের কাপে শেষ চুমুকটা দিয়ে পারমিতা রুচিরাকে বলে- ‘রুচিদি, কিছু মনে করো না। আজ একটু তাড়া আছে। বাড়ি থেকে বাবা আসবেন। আমি এখন উঠতে চাই।
 
চায়ের কাপটা হাতে ঘুরাতে ঘুরাতে রুচিরা বলে- তাড়া থাকলে অবশ্যই যাবে। এখন ক’টা দিন একটু বিশ্রাম নাও।
 
পারমিতা উঠে দাঁড়ায়। সৈকত রাতে ফোন করো কিন্তু।- এই বলে আড়াচোখে তাকায় সৈকতের আশ্চর্য ভরা চোখে।
 
আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমি নিজে ফোন করব?- সৈকতের যেন বিশ্বাস হচ্ছে না।
 
পারমিতা হাসি ছড়িয়ে বলল- হ্যাঁ, তুমি নিজে ফোন করবে।
 
সৈকত অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তারপর বলে- আমি ! কী ব্যাপার?
 
কোন ব্যাপার নয়। আজ বাবা আসবেন।- হাসিতে মুগ্ধতা ছড়িয়ে পারমিতা বলে।
 
তাই বল। তোমার বাবার সাথে অবশ্য আমার ভালই জমে। ঠিক আছে ফোন করব। এই বলে সৈকত দু’কদম পিছিয়ে বলে- পারমিতা, বাবাকে আমার প্রণাম জানিও।
 
পারমিতার সাথে সাথে রুচিরাও হাসে। হাসি থামিয়ে পারমিতা বলে- ঠিক আছে প্রণাম জানাব। তাড়াতাড়ি একটা রিকশা করে দাও প্লিজ।
 
রিকশায় বসে পারমিতা হাত নাড়িয়ে বিদায় নেয়। তারপর রুচিরা ও সৈকত লাইব্রেরির দিকে পা বাড়ায়।
 
রিকশাটা বাসার কাছে পৌঁছতেই পারমিতার চোখ জোড়া বারান্দায় পৌঁছে যায়। বাবা দাঁড়িয়ে আছেন। বারান্দায় উঠেই বাবাকে প্রণাম করল পারমিতা। ঋতেশ বাবু মেয়ের মাথায় হাত রেখে বলেন- পরীক্ষা কেমন দিলে মা?
 
ভালো দিয়েছি। তোমার শরীরটা ভালো আছে তো?- বলতে বলতে পারমিতা বাবাকে আদরে আর সোহাগে জড়িয়ে ধরে।
 
হ্যাঁ মা। এই শেষ বয়সেও বেশ ভালো আছি।- মেয়ের দিকে তাকিয়ে ঋতেশ বাবু বললেন।
 
পারমিতা আর কথা বাড়ায় না। পারমিতা বুঝতে পেরেছে এই এখনই দিদির প্রসঙ্গে চলে আসবে। তারপর কান্নাকাটি করে অসুখটা বাড়াবে।
 
রুমে এসেই পারমিতা শরীরটাকে বিছানায় ঢেলে দিল। একটা বালিশ টেনে মুখ গুজে দিল চুপচাপ। দিদিকে খুব বেশি মনে পড়ছে ক’টা দিন ধরে। দিদি মারা গেছেন আজ প্রায় আড়াই মাস হতে চলল। পারমিতা পরীক্ষা দিতে চায়নি। পরীক্ষার ব্যস্ততায় যদি আবার দিদির রেখে যাওয়া সন্তান তৃষ্ণার অযত্ন হয় এই ভয়ে। কিন্তু অভীক মজুমদারের বক্তব্য- পৃথিবীতে কোন কিছুই থেমে থাকে না। আপন গতিতে সবকিছুই চলে। কেন মিছিমিছি একটা বছর নষ্ট করবে। তাছাড়া তোমার মা তো আছেনই। তুমি তোমার পরীক্ষা ঠিকমত দাও। তারপর অন্য চিন্তা করো। ঠিক, একদম ঠিক! পৃথিবীতে কেউ কারো জন্যে চিরদিন বসে থাকে না। সময়ের সিঁড়ি বেয়ে সকল দুঃখ-কষ্ট মনের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে লীন হয়ে আসে। কষ্টের এবং দুঃখের বোঝা মনের অজান্তেই হালকা হ&#039;তে থাকে। এই যেমন, সুদেষ্ণা সবাইকে কাঁদিয়ে অথৈ দুঃখের সাগরে ভাসিয়ে চলে গেল। সুদেষ্ণার অন্তিম যাত্রায় সবাই যেন আচমকা দুঃখ আর কষ্টের ভেতর ডুবে গেল। তারপর ধীরে ধীরে সময়ের সাথে সাথে সবকিছুই কেমন যেন একটু একটু করে স্বাভাবিক হ&#039;তে চলল। মানুষের জীবন-মৃত্যু সবই যেন ঋতু চক্রের পালাবদলে সীমাবদ্ধ।
 
পাশে কেউ বসেছে পারমিতা টের পেল। কিন্তু দৃষ্টি ঘুরিয়ে তাকায়নি। কিছুক্ষণ নীরবতা। পারমিতার মাথায় হাত রেখে প্রভাময়ী দেবী বলেন- কিরে মা, এই অসময়ে শুয়ে আছিস? হাত-মুখ ধুয়ে কিছু একটা মুখে দিয়ে নে।
 
পরমিতা শুয়ে শুয়ে বলে- একটু পরে উঠছি মা।
 
প্রভাময়ী দেবী পারমিতার মাথায় হাত বুলাতে থাকেন। পারমিতা বুঝতে পেরেছে যে- মা নিশ্চয়ই কিছু বলবেন। মা সবসময় যেমন আদর করেন তেমনি আবার কিছু কিছু ব্যাপারে বেশ কঠিন। আবার যখন কোন উপলক্ষ্য ছাড়া আদর করেন, তার মানে কোন উদ্দ্যেশ্য মনের ভেতর আছে।
 
পারমিতা চুপচাপ শুয়ে আছে। প্রভাময়ী দেবী পারমিতার কপালে হাত রাখেন। তারপর বলেন- মা উঠ, আগে মুখে কিছু একটা দিয়ে নে। তারপর আবার শুয়ে থাকিস।
 
পারমিতা উঠে বসে। তারপর মার দিকে তাকায় অসহায় দৃষ্টি নিয়ে। পারমিতাকে আরেকটু আদর করে প্রভাময়ী দেবী রুম থেকে বেরিয়ে আসেন।
 
পারমিতা বিছানা ছেড়ে উঠে আসে। বেসিনে গিয়ে চোখ-মুখে পানি ছিটায়। তারপর মুখে তোয়ালে বুলাতে বুলাতে ড্রেসিং টেবিলে গিয়ে চুলটা ঠিক করে যায় ডাইনিং টেবিলে। প্রভাময়ী দেবী নিজ হাতে মেয়েকে খাওয়ালেন। খাওয়ানোর এক ফাঁকে মা বললেন- পারমিতা তোর বাবাকে আমিই খবর দিয়ে আনিয়েছি।
 
এক বাক্যে উত্তর দিল পারমিতা- খুব ভালো হয়েছে।- বলেই প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে পারমিতা।
 
এনেছি একটা কাজে।- মা প্রভাময়ী দেবী বলেন।
 
কী কাজে?- মায়ের কথা শুনে পারমিতা একটু অবাকই হয়।
 
মা একটু ভেবে বলেন- তুই খেয়ে তোর রুমে যা। তোর বাবাকে নিয়ে একটু পরে আমি আসব। তখনই সব বলব।
 
পারমিতা মাথা নাড়ে- আচ্ছা, ঠিক আছে মা। পারমিতা আর কোন কথা বাড়ায় না। রুমে এসে পারমিতা চুপচাপ শুয়ে থাকে। কপালের উপর দুটো হাত আড়াআড়িভাবে পড়ে আছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে, বেশ চিন্তা-ভাবনায় ডুবে আছে। সত্যি বলতে কী দিদির মৃত্যুটা দারুণভাবে নাড়া দিয়ে গেছে পারমিতাকে। দিদির মৃত্যাটাকে সে সহজে মেনে নিতে পারছে না। তার ওপর মেয়েটা কেমন অসহায় হয়ে গেল। দিদি ছিল একজন চমৎকার পূর্ণাঙ্গ মানুষ। যার ভেতর ছিল আকাশের মত স্বচ্ছ আর নির্মল। আকাশের অসীমতাও ছিল দিদির সারা বুক জুড়ে। - সবাইকে ভীষণরকম ভালোবাসতো আর অতি অল্প সময়েই আপন করে নিতে পারতো। দিদিরা হয়তো এমনই হয়। ভালোবাসার মাঝে কোন রকম কৃপণতা ছিল না।
 
চলবে...

*ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর*
পার্থসারথি
☆ছবিটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।
♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
 </title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/176965/</link>
				<pubDate>Sun, 20 Nov 2022 11:55:14 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )<br />
পর্ব-১৮ <br />
 <br />
রুচিরা পারমিতাকে এক হাতে জড়িয়ে ধরে হাঁটছে। আর পাশাপাশি সৈকত। আর্টস বিল্ডিংয়ের মেইন গেইটের সামনের মাঠের সবুজ ঘাসের উপর ওরা তিনজন বসল। পিচ্চিটাকে ডাকতেই তিন কাপ চা দিয়ে গেল। সৈকত চা শেষে সিগারেট ধরায়। পারমিতা আড়চোখে তাকাতেই সৈকত হাত জোড় করে বলে- প্লিজ, রাগ করো না। ধীরে ধী&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-176965"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/176965/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">7971847777fd81f09e13acac9560dc0e</guid>
				<title>ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর

( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )

পর্ব-17
 
পারমিতা এবার নিজেকে একটু সামলে নেয়ার চেষ্টা করল। তারপর সান্ত্বনা দেবার ভঙ্গীতে বলে- যা হওয়ার তা তো হবেই। প্রকৃতির ওপর আমাদের হাত নেই। আপনি একথা আর কাউকে বলবেন না। তাহলে কান্নাকাটি শুরু হয়ে যাবে। শেষ সময়টা দিদির অস্থিরতায় কাটবে তাহলে। তা হতে না দেয়াই ভালো। এ সময়টুকু আপনি দিদির কাছাকাছি থাকবেন সর্বক্ষন। আচ্ছা দাদাবাবু, দিদির ব্লাডটা আবার টেস্ট করালে কেমন হয়?
 
আমিও ভাবছি আরেকবার টেস্টটা করাই। তোমার দিদিকে আর বেশিদিন রাখতে পারব না। বড়জোড় সপ্তাহখানেক। তোমার দিদিকে একটু সময় দিও। জীবনের শেষ মুহুর্তে যেন পূর্ণতায় ভরপুর থাকে।- এই বলে অভীক মজুমদার পারমিতার দিকে তাকায়।
 
পারমিতা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। অভীক মজুমদার পারমিতার মাথায় হাত রেখে বলেন- এভাবে ভেঙ্গে পড়লে তো চলবে না। এখন আমাদের শক্ত হতে হবে। মাকে কিন্ত বলো না।
 
আর কোন কথা বলতে পারেননি অভীক মজুমদার। দুঃখ-ভরা বুকে রুমের বাইরে বেরিয়ে আসেন। পারমিতা পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে দাদাবাবুর চলে যাওয়ার পথে। আবার রক্ত পরীক্ষা করানো হল। এবার দেখানো হল দেশের সেরা ডাক্তরদের আরেকজনকে। একই বক্তব্য, রোগী জীবনের শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছেন। চেষ্টা করে কোন লাভ নেই।
 
এই কথায় জীবনাচলের চঞ্চলতা থমকে আছে। পারমিতা কতক্ষণ পরপর দিদির সান্নিধ্যে যায়। বাচ্চাকে বুকে ধরে কষ্টের নিঃশ্বাসে কিছুক্ষণ সুখ নিতে ব্যর্থ চেষ্টা করে। বরং বাচ্ছাটিকে কোলে নিলে দুঃখ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। আর বাকিটা সময় রুমের ভেতর চুপচাপ বসে থাকে। অভীক মজুমদার রুমে চুপচাপ বসে থাকেন আর একটার পর একটা সিগারেট টানেন। সিগারেটের ধোঁয়ার কুগুলী তো নয় যেন দুঃখের কুগুলী ছড়িয়ে যাচ্ছে বিশ্বময়।
 
রুচিরা এবং সৈকত এখন প্রায় প্রতিদিনই বাসায় আসে। ওরাও দিদির খরবটা জানে। এসেই দিদির কাছে বসে কিছুক্ষণ। তারপর পারমিতাকে কিছুক্ষণ সান্তনা দেয়া ছাড়া আর কোন কিছুই করার থাকে না। যেদিন ওরা আসতে পারে না সেদিন ফোন করে খোঁজখবর নেয়। দিদি সুদেষ্ণার দুঃখ এবং কষ্টের মাঝে সবাই নীরবে ডুবে আছে। আর নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে কষ্টের মুহূর্তগুলোতে গোপনে গোপনে শ্বাস ফেলছে।
*
 
পড়ন্ত বিকেল। দিদি বাচ্চাকে কোলে টেনে ঘুমিয়ে আছেন। দাদাবাবু রুমে নেই, অন্য কোন রুমে গেছেন। পারমিতা নিঃশ্বব্দে ঢুকে। দিদির কাছাকাছি এসে পলকহীন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। চোখ বন্ধ থাকা অবস্থাতেই দিদি বলেন- পারমিতা বস, তোর সাথে কিছু কথা আছে। কথাগুলো বলতে দিদির খুবই কষ্ট হয়। দিদির শিয়রের কাছে পারমিতা বসে। দিদির মাথায় হাত রাখে। দিদি চোখ মেলে তাকায় । তারপর একটা হাত বাড়িয়ে দেয় পারমিতার কোলের উপর। পারমিতা দু’হাত চেপে ধরে ব্যাকুল-চিত্তে দিদির দিকে তাকিয়ে থাকে। শেষে খুব কষ্ট করে উচ্চারণ করে- দিদি!
 
দিদির দু’চোখের কোণ বেয়ে অশ্রু ফোটা গড়িয়ে পড়ছে। চোখ দুটো কেমন যেন ফ্যাকাশে হয়ে আছে। ঠোঁট জোড়া অসম্ভব রকমের শুকনো । জিহব্বা দিয়ে বারবার চেটে ভেজানোর চেষ্টা করছেন। কষ্টের নদী পেরিয়ে দিদির কণ্ঠে বেজে ওঠে- পারমিতা, আমার সময় মনে হয় শেষ হয়ে এসেছে।
 
পারমিতা ভেতর জগৎ কেঁপে ওঠে। কিন্তু বাইরে তা প্রকাশ করেনি। শুধু দিদির হাতটা আরও জোরে চেপে ধরে থাকে।
 
শুকনো জিহব্বা শুকনো ঠোঁটে ঘষে দিদি আবার বলে- আমার সময় খুবই কম। আমার সন্তান তোর কাছে রেখে যাচ্ছি। নিজের মত করে মানুষ করিস। মায়ের আদরের শূন্যতা যেন না বুঝে। আর তোর দাদাবাবুকে একটু দেখে রাখিস। খুব ভালো মানুষরে। জীবনে কিছুই দিয়ে যেতে পারলাম না। অথৈ কষ্টে ফেলে স্বার্থপরের মত চলে যাচ্ছি। তোকে আমি অন্যায় আবদারে বেঁধে যেতে চাই না। যতটুকু পারিস তোর দাদাবাবুর জন্যে করিস। কোন রকম ভুল বলে থাকলে আমার ওপর রাগ করিস না।
 
পারমিতা নিজেকে আর সামলাতে পারে না। দিদির বুকে মাথা গুঁজে কান্নায় ভেঙে পড়ে। দিদি তুই অমন কথা বলছিস কেন? তুই ভালো হয়ে ওঠবি। তুই ভালো হয়ে ও... ঠ... বি...!- বলতে বলতে পারমিতা ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো।
 
ঘরের ভেতর পা রেখেই কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে অভীক মজুমদার তাকায়। পারমিতা দিদিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছে। পিছিয়ে নিঃশব্দে চলে এলেন।
 
মধ্যরাত পেরিয়ে গেছে অনেকক্ষণ। অভীক মজুমদার একটার পর একটা সিগারেট টেনেই যাচ্ছেন। আর সুদেষ্ণাহীন দিনগুলোর কথা ভাবছেন। বুকের ভেতর শুধু কষ্ট। চোখ বন্ধ করে চুপচাপ সিগারেট টেনে যাচ্ছেন। হঠাৎ সুদেষ্ণার ক্ষীণ কণ্ঠ কানে এল। অভীক মজুমদারের কাছে কণ্ঠটা অপরিচিতি মনে হল। বুকটা কেঁপে ওঠে অজানা আশঙ্কায়। সিগারেটটা এস্ট্রেতে গুজে সুদেষ্ণার কাছে এগিয়ে যান। হাতটা নেড়ে সুদেষ্ণা স্বামীকে কাছে ডাকে। অভীক মজুমদার স্ত্রী সুদেষ্ণার পাশে শোয়। সুদেষ্ণা খুব কষ্টে নিজেকে টেনে এনে স্বামীর বুকে মাথাটা রেখে চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকে। দু’জনার মাঝে নিঃসীম নীরবতা। ভোর রাতে হঠাৎ করে অভীক মজুমদারের ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে দৃষ্টি চলে যায়। আকাশ কিছুটা র্ফসা হয়ে এসেছে। মাঝে মধ্যে দু&#039;একটা কাক কা-কা ডেকে ডেকে নতুন সকালের জানান দিচ্ছে। দৃষ্টি ঘুরিয়ে ঘরের ভেতর নিয়ে আসেন। হঠাৎ খেয়াল হয় সুদেষ্ণার নিঃশ্বাস কোনরকম স্পর্শ করছে না। পাথর খণ্ডের মত ঠাগুা হয়ে বুকের উপর পড়ে আছে। মাথাটা সরাতে গিয়েই টের পেলেন সুদেষ্ণা চলে গেছে দূর, বহুদূর! অভীব মজুমদার মাতৃহীন কন্যার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকান। বুকের ভেতরে এক সমুদ্র গর্জন। কিন্তু কাঁদতে ভুলে গেছেন। সময় যেন থমকে গেছে।
 
রুচিরার পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আরও পনের বিশ দিন লাগবে শেষ হতে। সৈকতের পরীক্ষা সামনের সপ্তাহেই শেষ হবে। আর আজই পারমিতার শেষ পরীক্ষা। রুচিরা ও সৈকতের আজ পরীক্ষা নেই। সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সামনে ওরা পারমিতার অপেক্ষায় আছে। পারমিতার প্রতিটি পরীক্ষায় ওরা থেকেছে। পরীক্ষা শেষে কিছুক্ষণ গল্প পরপর কয়েক কাপ চা। তারপর পারমিতাকে রিকশায় তুলে দিয়েছে।
 
পারমিতা কমন রুমের দরজা দিয়ে বের হল। পারমিতাকে দেখতে পেয়েই সৈকত এগিয়ে গেল রুচিরাকে নিয়ে।
 
চলবে...

*পার্থসারথি

☆ছবিটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।
♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
 </title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/171929/</link>
				<pubDate>Sat, 05 Nov 2022 14:02:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর</p>
<p>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )</p>
<p>পর্ব-17<br />
 <br />
পারমিতা এবার নিজেকে একটু সামলে নেয়ার চেষ্টা করল। তারপর সান্ত্বনা দেবার ভঙ্গীতে বলে- যা হওয়ার তা তো হবেই। প্রকৃতির ওপর আমাদের হাত নেই। আপনি একথা আর কাউকে বলবেন না। তাহলে কান্নাকাটি শুরু হয়ে যাবে। শেষ সময়টা দিদির অস্থিরতায় কাটবে তাহলে। তা হতে না দেয়াই ভালো। এ স&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-171929"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/171929/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">bfc0080d38495b3bf499a034f62206f7</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক
141
আমি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখি-
তারার মেলায় অজানা খেলা,
প্রিয়তমা, মহাবিস্ময়ে বিস্ময় আঁকি
যখনই টের পাই তোমার অবহেলা!
♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/170515/</link>
				<pubDate>Tue, 01 Nov 2022 17:23:06 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক<br />
141<br />
আমি অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে দেখি-<br />
তারার মেলায় অজানা খেলা,<br />
প্রিয়তমা, মহাবিস্ময়ে বিস্ময় আঁকি<br />
যখনই টের পাই তোমার অবহেলা!<br />
♡</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>7</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a033a5bb7a1cd12b83c45cdc58454895</guid>
				<title>পার্থসারথি and নন্দিনী are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/169157/</link>
				<pubDate>Sat, 29 Oct 2022 14:52:15 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9808d93d7a4589aabaf053176f6f422f</guid>
				<title>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )

পর্ব- ১৬ 
 
আর অভীক মজুমদার ভাবছেন কয়েকদিনের মধ্যে সুদেষ্ণা নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর কোনদিনে সুদেষ্ণার ভালোবাসার স্পর্শ পাওয়া যাবে না। নবাগত শিশুটি হবে মাতৃহারা। মায়ের ভালোবাসাহীন জগতে বেড়ে ওঠবে। ধরে রাখতে পারেনি অভীক মজুমদার নিজেকে। অবোধ শিশুর মত ডুকরে কেঁদে ওঠলেন আবার। কাঁদতে কাঁদতে স্ত্রী সুদেষ্ণাকে জড়িয়ে ধরলেন।
 
পারমিতা এবার চমকে ওঠল। দিদি আবার অসুস্থ হয়ে গেল না কি? অসুস্থ হলে তো দাদাবাবু এসে ডাকতেন। না , অন্য কোন প্রবলেম হবে হয়তো । ঘরের ভেতরই পায়চারি করতে লাগল।
 
সুদেষ্ণাকে জড়িয়ে থেকে কাঁদতে লাগল- সুদেষ্ণা, আমি তোমাকে যেতে দেব না, আমি তোমাকে যেতে দেব না!
 
সুদেষ্ণার মনে এবার সন্দেহ জাগে। চুপচাপ চিন্তা করতে থাকেন- আগে অবশ্য মাথাটা কেমন যেন চক্কর দিত। কিছুক্ষণ থেকে আবার ঠিক হয়ে যেত। কিছুদিন যাবৎ মাথাটা কেমন ঝিম ধরে থাকে। আর চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে আসে। সর্বক্ষণ সারাটা শরীর কেমন যেন আলগা আলগা মনে হয়। পুরো শরীরটাই একটা অতিরিক্ত বোঝার মত লাগে। তাহলে কি কোন কঠিন অসুখ বাঁধিয়েছি? আমি তার বিন্দু বিসর্গও জানি না! তাহলে কি আমি!- সুদেষ্ণা আর ভাবতে চায় না। বাচ্চাটাকে কাছে টেনে নিয়ে চুপচাপ থাকে।
 
গোপনে গোপনে দাদাবাবুকে লক্ষ্য রাখছে পারমতিা । যেন দাদাবাবু বুঝতে না পারে। দেখতে দেখতে অভীক মজুমদার কেমন শুকিয়ে গেছেন এই ক&#039;দিনে। চোখের কোণে জমেছে কালির ছোপ। চোখ দুটো কোটরাগত, চুলে যত্নের হাত পড়ে না চেহারা দিনকে দিন মলিন হয়ে যাচ্ছে। আর নিজেকে তিনি ক্রমশঃ গুটিয়ে নিচ্ছেন।। মোটকথা উদভ্রান্তের মত চলাফেরা করছেন। অথচ বাইরে তা প্রকাশ করছেন না। অফিস ঠিকভাবেই চালিয়ে যাচ্ছেন। অভীক মজুমদার বোধহয় টের পেয়ে গেছেন যে পারমিতা উনাকে সব সময় লক্ষ্য করছে। তাই পারতঃপক্ষে পারমিতার মুখোমুখি হন না। দেখতে দেখতে একটা সপ্তাহ চলে গেল। অভীক মজুমদার নিজেকে সামলাতে পারছেন না। কেমন ফুরুৎ ফুরুৎ করে দিনগুলো চলে যাচ্ছে। আর মাত্র ক&#039;টা দিন হাতে। অফিস থেকে ছুটি নিয়ে নিয়েছেন। এই ক&#039;টা দিন সুদেষ্ণার সান্নিধ্যে সান্নিধ্যে একটু থাকা খুবই দরকার।
 
আজ রোববার। অথচ দাদাবাবু অফিসে যাননি। পারমিতা এগিয়ে আসে দাদাবাবুর কাছে। প্রথমে দাদাবাবুই জিজ্ঞ্যেস করে- লেখাপড়া কেমন চলছে?
 
পারমিতা জবাবে বলে- মোটামুটি চলছে। এই বলে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে পারমিতা আবার বলে- আজ অফিসে গেলেন না?
 
ছুটি নিয়ে নিয়েছি।- অভীক মজুমদার খুব স্বাভাবিকভাবেই জবাব দেয়ার চেষ্টা করেন।
 
দিদি ক্লিনিক থেকে চলে এল অথচ এখন ছুটি নিচ্ছেন ব্যাপারটা কী?- বেশ অবাক হয়েই প্রশ্ন করে পারমিতা। এবং বলেই চোখে চোখ রাখার চেষ্টা করে।
 
শরীরটা তেমন ভালো যাচ্ছে না।- কিছু একটা লুকোবার প্রচেষ্টা অভীক মজুমদারের কণ্ঠে।
 
পারমিতার দৃষ্টিকে এড়াতে পারেননি। পারমিতা জানতে চায়- দাদাবাবু, আমার মনে হচ্ছে আপনি আমার কাছে কিছু একটা লুকোবার চেষ্টা করছেন।
 
অভীক মজুমদারের মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। পরক্ষণইে নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন- না, না তোমার কাছে কী লুকাব?
 
দেখুন আমাকে এড়াবার চেষ্টা করবেন না। আপনি একটা কিছু লুকাবার চেষ্টা অবশ্যই করছেন।- বেশ দৃঢ়তার সাথেই পারমিতা জানতে চায়।
 
বিশ্বাস কর, আমি তোমার কাছে কিছুই লুকাচ্ছি না।
 
দাদাবাবু আমি ওই রাতে সজাগ ছিলাম। আপনার কান্নাটা আমার কাছে অন্যরকম মনে হয়েছে।
 
অভীক মজুমদার ভীষণ রকম একটা ধাক্কা খেলেন যেন। তারপর নির্জীব হয়ে কিছুক্ষণ বসে রইলেন। পারমিতা তুমি তোমার রুমে গিয়ে বসো। আমি একটু পরে আসছি। তোমাকে সব খুলে বলবো।- এই বলে অভীক মজুমদার উঠে নিজের রুমের দিকে পা বাড়ালেন।
 
পারমিতার নিজের রুমে চলে আসে। অস্থিরভাবে পায়চারি করতে লাগল। মিনিট পাঁচেকের মধ্যেই অভীক মজুমদার চলে এলেন। পারমিতা পায়চারি থামিয়ে চেয়ার এগিয়ে দেয় অভীক মজুমদারকে। অভীক মজুমদার চেয়ারটা টেনে বসেন। পারমিতা কাছাকাছি হয়ে খাটের এক কোণে বসে।
 
আমি ক’দিন ধরেই ভাবছি তোমাকে সব খুলে বলব। কিন্ত বলতে সাহস পাচ্ছিলাম না। কথা বলেন অভীক মজুমদার, কিন্ত দৃষ্টি অন্যদিকে। পারমিতা দাদাবাবুর দিকে তাকায়। কোন কথা বলে না।
 
সব তোমাকে খুলে বলব। কিন্ত কাউকে বলো না।- অভীক মজুমদার অনুরোধ করেন।
 
বলার না হলে অবশ্যই গোপন রাখব।- জবাবে পারমতিা বলে।
 
পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করেন অভীক মজুমদার। একটা সিগারেট মুখে গুজে দিয়ে তাতে আগুন ধরান। লম্বা একখানা টান দিয়ে তারপর ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলেন- সিজার করানোর পরদিন থেকেই কিন্তু তোমার দিদির অবস্থা ক্রমশ খারাপে দিকে। সব রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষাই ডাক্তারের পরামর্শে করোনা হল। সবকিছুই ঠিক আছে। কিন্তু শেষে ব্লাডে ধরা পড়ে। কিছুক্ষণ থেমে থেমে আবার বলেন- ব্লাড টেস্টে দেখা গেল তোমার দিদির ব্লাড ক্যান্সার। আমি উদভ্রান্তের মতো একের পর এক ডাক্তারের কাছে যাই এবং আরও কয়েকবার ব্লাড টেস্ট করাই। সব সময় একই রেজাল্ট আসে।
 
কথাগুলো শোনার পর পারমিতার সারা শরীর যেন অবশ হয়ে আসে। কথা বলার এতটুকু শক্তি শরীরে নেই। নির্বাক হয়ে বসে আছে। সারা শরীরে অসম্ভব রকমের মৃদু কম্পন শুরু হয়ে গেল। গাল বেয়ে কয়েক ফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়ল কোলের উপর।
 
অভীক মজুমদার বলে চলেন- এই অসুখের শুরু আরও অনেক আগে থেকেই । তোমার দিদি গোপন করে রেখে গেছে অথবা পাত্তা দেয়নি। এমন সময় রোগটা ধরা পড়ল যখন আর কোন কিছুই করার নেই। তবুও আমার পীড়াপীড়িতে ডাক্তার শেষ পর্যন্ত বলল- চেষ্টা করলে বড়জোড় মাস দুয়েক আয়ু বাড়তে পারে কিন্তু কষ্টের মাত্রাটা এতই হবে যা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না । এবং নিয়ে যেতে হবে বিদেশে। এছাড়া কোনরকম সম্ভবনা নেই। অনর্থক দৌড়াদৌড়ি না করে যতদিন বাঁচবে ততদিন উনাকে ভালোভাসায় ভরিয়ে রাখুন। শেষ দিনগুলো উনাকে শান্তিতে থাকতে দিন। তোমার দিদির প্রতি আমার ভালোবাসাটুকুই সম্বল। ভালো চিকিৎসা করিয়ে তোমার দিদিকে যে আরও কিছুদিন আগলে রাখব সে সুযোগটুকু আমার নেই। অভীক মজুমদারের কথায় অপরাধবোধ ফুটে ওঠল।
 
চলবে...

*ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর*
*পার্থসারথি

♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
*If you want to read previous part, kindly click on my profile picture.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/168482/</link>
				<pubDate>Fri, 28 Oct 2022 04:07:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )</p>
<p>পর্ব- ১৬ <br />
 <br />
আর অভীক মজুমদার ভাবছেন কয়েকদিনের মধ্যে সুদেষ্ণা নিঃশেষ হয়ে যাবে। আর কোনদিনে সুদেষ্ণার ভালোবাসার স্পর্শ পাওয়া যাবে না। নবাগত শিশুটি হবে মাতৃহারা। মায়ের ভালোবাসাহীন জগতে বেড়ে ওঠবে। ধরে রাখতে পারেনি অভীক মজুমদার নিজেকে। অবোধ শিশুর মত ডুকরে কেঁদে ওঠলেন আবার। কাঁদতে কাঁদতে স্ত্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-168482"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/168482/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9c424dd63f3a711c1145415103e693b8</guid>
				<title>পার্থসারথি and Diponkar Bhowmik Antu are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/168112/</link>
				<pubDate>Thu, 27 Oct 2022 04:15:27 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">c7d0337401f5d76de6abe69d9a1706b0</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক
145
তুমি হেসো না
অমন মন জ্বালানো হাসি;
তুমি ভেবো না
আমিও তোমার মতো সুখী,
তুমি হেসো না 
অমন মন জ্বালানো হাসি;
আমার ভাল্লাগে না
তাই দূরে দূরে থাকি।
তুমি হেসো না 
অমন মন জ্বালানো হাসি;
আমার আকাশ কালো হয়ে যায়
মেঘ জমে শুধু রাশি রাশি,
আমার মন-জানালায় একা থাকি
ভেবো না হিংসের দহন,
ভালোবাসি
আমি একা থাকতেই ভালোবাসি।
♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/167728/</link>
				<pubDate>Wed, 26 Oct 2022 07:56:52 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক<br />
145<br />
তুমি হেসো না<br />
অমন মন জ্বালানো হাসি;<br />
তুমি ভেবো না<br />
আমিও তোমার মতো সুখী,<br />
তুমি হেসো না<br />
অমন মন জ্বালানো হাসি;<br />
আমার ভাল্লাগে না<br />
তাই দূরে দূরে থাকি।<br />
তুমি হেসো না<br />
অমন মন জ্বালানো হাসি;<br />
আমার আকাশ কালো হয়ে যায়<br />
মেঘ জমে শুধু রাশি রাশি,<br />
আমার মন-জানালায় একা থাকি<br />
ভেবো না হিংসের দহন,<br />
ভালোবাসি<br />
আমি একা থাকতেই ভালোবাসি।<br />
♡</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>16</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">029fd74ff74175fc718536b41d7e4a6e</guid>
				<title>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )

পর্ব- 15 
 
শত হলেও পাবলিক বিষয়। ওই লোকটা এসে পৌঁছার আগ মূহূর্ত পর্যন্ত সৈকত শুধু উচ্চারণ করল- ‘আই লাভ ইউ, পারমিতা। আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ।&#039;
 
পারমিতা শুধু চুপচাপ শুনেই গেল। আর ভেতরে ভেতরে হাসির দমকা হাওয়া; সুযোগটা পেয়ে সৈকত বেশ করল।
 
লোকটা কাছকাছি আসতেই সৈকত বলে- ‘তাহলে ক্লিনিকেই আসছি। রাখি!- এই বলে হালকা একটা চুমো বসায় রিসিভারে। রিসিভার রেখে পারমিতা একা একা হাসে।
 
*
সপ্তাহ শেষে ক্লিনিক থেকে দিদি ফিরে আসে। মা এবং সন্তান দু’জনই বেশ সুস্থ। ওরা আসার পর থেকেই বাসায় আনন্দের বন্যা বইয়ে চলছে। মা প্রভাময়ী দেবী সবসময় মেয়ে ও নাতনীর কাছে বসে থাকেন। পারমিতা এবার একটু প্রশান্তির নিঃশ্বাস ফেলে। কিন্তু অভীক মজুমদারের বিষন্ন প্রহর কাটে। কেউ তা খেয়াল না করলেও পারমিতা ঠিকই খেয়াল করেছে। আবার পরক্ষণই ভেবেছে, হয়তো ধকলটা শরীরে একটু বেশি গিয়েছে তাই এমন দেখাচ্ছে। তবুও মনের ভেতরে কিছু অনির্দিষ্ট প্রশ্ন আনাগোনা করে। কারণ স্ত্রী এবং সন্তান দু’জনই সুস্থ আছে, দাদাবাবুর মনটাতো প্রফুল্ল থাকার কথা। নাকি মেয়ে হয়েছে বলে সন্তষ্ট নন। পারমিতা প্রশ্নটা আর মনের ভেতর লুকিয়ে রাখতে পারেনি। দাদাবাবুকে জিজ্ঞ্যেস করায় উনি বলেন- ‘কি যে বল-না তুমি, সন্তান সন্তানই। তা ছেলে হোক আর মেয়েই হোক। আমি খুশি, খুবই খুশি।&#039;
 
পারমিতা আবার প্রশ্ন রাখে- তবে দাদাবাবু আপনাকে আমি খুব একটা খুশি হতে দেখিনি?
 
এমনি , মনটা ভালো যাচ্ছে না।- অভীক মজুমদার একটু এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করছেন।
 
পারমিতা এ ব্যাপার নিয়ে আর কখনও ভাবেনি। নিজস্ব ভুবনে ডুবে গেল। ঝড়ের গতিতে দশ বারোটা দিন কেটে গেল। কিন্তু অভীক মজুমদারে কাছে একটি দিন যেন একটি মিনিট মনে হচ্ছে। একটি দিনের শেষে আরেকটি দিনের আগমন বার্তায় বুকের ভেতর কষ্টগুলো হু, হু করে বেড়ে চলে। এই কষ্ট ভীষণ কষ্ট। সুদেষ্ণার আয়ু আর বড় জোর পনের থেকে বিশ দিন। এ&#039;কথাটা অভীক মজুমদারের বুকে বিষ কাঁটা হয়ে ফুটে। অসহ্য যন্ত্রণায় অভীক মজুমদারের প্রতিটি মুহূর্ত কাটে। ভেতরে ভেতরে তিনি পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাচ্ছেন। অথচ মুখে কোনদিন এই কষ্টের আঙিনায় কাউকে টেনে আনেননি। প্রতি রাতে শব্দহীন কান্নায় বুক ভাসান। এই যে পাশে বাচ্চাকে কোলের কাছে রেখে শুয়ে আছেন সে কিছুদিন পর আর থাকবে না। কোন দৈহিক চিহৃ এই পৃথিবীর বুকে বিচরণ করবে না। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে অভীক মজুমদারের কণ্ঠ কষ্টে রোধ হয়ে যায়। হাজার কোটি লক্ষ বৎসর কথামালা গাঁথলেও এই কথা কখনও ফুরোবে না। যে কষ্টের কোন সীমান্ত রেখা নেই, তেমনই কষ্ট বুকের গহীনে বয়ে বেড়াচ্ছেন অভীক মজুমদার একাকি।
 
খুব কাছাকাছি হয়ে শুয়ে আছেন অভীক মজুমদার। কিছুক্ষণ পরপর স্ত্রীর ঘাড়ে মুখ গুজে দিচ্ছেন। স্ত্রী সুদেষ্ণা সজাগ। ভাবছেন আদরে-সোহাগে স্বামীটি হয়ত এমন করছেন। সুদেষ্ণা চুপচাপ শুয়ে আছেন। এক ফোটা অশ্রু সুদেষ্ণার ঘাড়ে গড়িয়ে পড়ে। পতিত অশ্রুর খবর অভীক মজুমদার জানে না। সুদেষ্ণার হাত পৌঁছে যায় অশ্রু ফোটায়। অবাক হয়ে ফিরে তাকান সুদেষ্ণা। স্বল্প আলোয় কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। সুদেষ্ণা জিজ্ঞ্যেস করেন অভীক, তুমি এখনও ঘুমাওনি?
 
কথা বলার খুব ইচ্ছে হচ্ছে অভীক মজুমদারের। কিন্তু কণ্ঠটা খুলতেই পারছেন না। কেমন যেন অসম্ভব রকম ভারী লাগছে। তাই চুপচাপ শুয়ে আছেন। আর সুদেষ্ণাকে আরও জড়িয়ে ধরেন। এক সময় নিজেকে আর সামলাতে পারেন না অভীক মজুমদার। ডুকরে কেঁদে ওঠেন। সুদেষ্ণা হতবাক হয়ে যান। পরম আদরে অভীক মজুমদারকে বুকের মধ্যে টেনে নেন। তারপর মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে সুদেষ্ণা জিজ্ঞ্যেস করেন- তোমার কী হয়েছে অভীক?
 
অভীক মজুমদার কান্না থামাতে পারছেন না। বাঁধ-ভাঙা স্রোতের মতো কান্নার ঢেউ বেরিয়ে আসছে।
 
অভীক, অভীক শান্ত হও। তোমার কী হয়েছে আমাকে বল। এত কষ্ট তুমি বুকের মধ্যে নিয়ে বেড়াচ্ছ অথচ আমাকে কিছুই জানাওনি।
 
অভীক মজুমদার কথা বলতে পারছেন না। পাশের রুমে পারমিতা একা শুয়েছে। লেখাপড়া করে কিছুক্ষণ আগেই মাত্র শুয়েছে। তন্দ্রাভাব এসে গিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে কান্নার শব্দ কানে পৌঁছতেই উঠে বসল। কান দুটো সর্তক করে বিছানায় বসে রইল। এবার স্পষ্টই শুনতে পেল, দাদাবাবু ডুকরে ডুকরে বাচ্চাদের মত কাঁদছেন। পারমিতার তো হতবিহ্বল অবস্থা। এগিয়ে যেতে পারছে না বলে পারমিতার আরও কষ্ট হচ্ছে। হাঁটুতে মাথা গুজেঁ চুপচাপ বসে রইল। কিছুক্ষণ পরই কান্না থেমে গেল।
 
খুব কষ্ট করে অভীক মজুমদার নিজেকে সামলালেন। অবশ্য ভেতর জগতটা বিরানভূমি; ভীষণ রকম হাহাকার ওলটপালট করে দিচ্ছে। সুদেষ্ণাকে জড়িয়ে থেকে অনকক্ষণ চুপচাপ শুয়ে থাকেন। তারপর কষ্টের নিঃসীম সীমানা পেরিয়ে উচ্চারণ করেন- সুদেষ্ণা! আমি কি তোমাকে কোনরকম কষ্ট দিয়েছি?
সুদেষ্ণা বেশ কিছুটা অবাক হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকেন। তারপর বলেন- এতরাতে হঠাৎ এরকম প্রশ্ন করছ? আমি তোমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেছি কি?
 
না।
 
তাহলে?
 
আমার জানতে খুব ইচ্ছে করছে।
 
তুমি শুধু শুধু আমাকে দুঃখ দিতে যাবে কেন?
 
আমার মত সুখী মেয়ে কয়টা আছে? মেঘাচ্ছন্ন আকাশের এক চিলতে রোদের মত উজ্জল আভা জড়িয়ে যায় অভীক মজুমদারে মুখমন্ডলে। অবশ্য সুদেষ্ণা তা বুঝতে পারেনি। অভীক মজুমদার ভালোলাগাটুকু শুধু অনুভব করলেন। তারপর বলেন- তুমি সত্যি বলছ তো?
 
তোমার সাথে আমি কখনও মিথ্যা বলেছি?
 
প্রসঙ্গে পাল্টে অভীক মজুমদার বলেন- এই ক&#039;টা দিন তোমার শরীরে ওপর ঝড় বয়ে গেল। সত্যি খুব কষ্ট হয়, তোমরা মেয়েরা খুব কষ্ট সহ্য করতে পার।
 
তোমার ভালোবাসার কাছে এসব তুচ্ছ।- সুদেষ্ণা স্বামীর বুকে সোহাগ ঢেলে বলেন।
 
তুমি এত ভালো কেন সুদেষ্ণা? কণ্ঠস্বরটা আবার অসম্ভব রকম কেঁপে ওঠে। অভীক মজুমদার কাঁপা কাঁপা গলায় বলেন- আই লাভ ইউ, সুদেষ্ণা, আই লাভ ইউ ! আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না।
 
কেন, আমি কি তোমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি নাকি? এসব কি বলছো?- সুদেষ্ণা খুবই অবাক হয়।
অভীক মজুমদার চুপচাপ । সুদেষ্ণা শুয়ে শুয়ে চিন্তা করছেন; অভীক এ&#039;রকম আচরণ করছে কেন?
 
চলবে...

*ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর*
*পার্থসারথি

♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

N.B.:If you want to read previous part, kindly click on my profile picture.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/166191/</link>
				<pubDate>Sun, 23 Oct 2022 05:37:16 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )</p>
<p>পর্ব- 15 <br />
 <br />
শত হলেও পাবলিক বিষয়। ওই লোকটা এসে পৌঁছার আগ মূহূর্ত পর্যন্ত সৈকত শুধু উচ্চারণ করল- ‘আই লাভ ইউ, পারমিতা। আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ।&#8217;<br />
 <br />
পারমিতা শুধু চুপচাপ শুনেই গেল। আর ভেতরে ভেতরে হাসির দমকা হাওয়া; সুযোগটা পেয়ে সৈকত বেশ করল।<br />
 <br />
লোকটা কাছকাছি আসতেই সৈকত বলে- ‘তাহলে ক্লিনিকেই আসছি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-166191"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/166191/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0316e9dfea2b1a0a4a4c7513c9bd99d6</guid>
				<title>পার্থসারথি and Nilufar Ghani are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/165757/</link>
				<pubDate>Sat, 22 Oct 2022 13:19:58 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">8f01661f5fe541499ddf98c18c7f7f9d</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক
149
প্রিয়তমা-
আমার নিশিদিন এক হয়ে যায়
শুধু তোমার ভাবনায়,
আমি একাকার 
শুধু তোমার ভাবনায় লীন
আমার গোধূলী পাখি উড়াহীন;
তোমায় রেখে ঈশ্বর ভজলে
ঈশ্বরের দেখা পেতাম
যার দেখা কেউ পায়নি কোনদিন
এমনই হোক ঈশ্বর-ভজনা তুমিবিহীন!
♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/165742/</link>
				<pubDate>Sat, 22 Oct 2022 12:05:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক<br />
149<br />
প্রিয়তমা-<br />
আমার নিশিদিন এক হয়ে যায়<br />
শুধু তোমার ভাবনায়,<br />
আমি একাকার<br />
শুধু তোমার ভাবনায় লীন<br />
আমার গোধূলী পাখি উড়াহীন;<br />
তোমায় রেখে ঈশ্বর ভজলে<br />
ঈশ্বরের দেখা পেতাম<br />
যার দেখা কেউ পায়নি কোনদিন<br />
এমনই হোক ঈশ্বর-ভজনা তুমিবিহীন!<br />
♡</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>15</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6b2cddfbba07a480c8b8d331f1a72df0</guid>
				<title>পার্থসারথি and Israt Lamia are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/165150/</link>
				<pubDate>Thu, 20 Oct 2022 17:15:13 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">84dfb95a3124d99c5e9518202bc0c143</guid>
				<title># তোমার দেখা না পেলেই
------------------------------------------

তোমার দেখা না পেলেই-
কষ্টগুলো মিছিল করে
বুকের পাঁজরে হাঁটে;
আঘাতে আঘাতে আমি নীল হয়ে যাই।
তোমার দেখা না পেলেই-
চোখ দুটো উৎকন্ঠায়
ভীষণ অধীর হয়ে ওঠে;
পথ হারিয়ে আমি একা হয়ে যাই।
তোমার দেখা না পেলেই-
কষ্টগুলো উচ্চমানের পুষ্টি পেয়ে যায়;
কষ্টের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে
আমার উচ্ছ্বাস ব্যথার ছোঁবলে চুষে নেয়।
তোমার দেখা না পেলেই-
গোধূলীর প্রাণকাড়া পাখির কলকাকলি,
শুভ্র মেঘে মেঘে শরতের খেলা,
ভালোবাসার চঞ্চলতায় ফাগুনের ছবি,
জোড়া-শালিকের ঠোঁট ছোঁয়া মুহূর্ত,
সবকিছুই অতি সাধারণ হয়ে যায়।
তোমার দেখা না পেলেই-
যুগ যুগ বেঁচে থাকার ইচ্ছের মৃত্যু হয়,
মিছিলের কথা বেমালুম ভুলে যাই;
ভুলে যাই নিজেকে নিজের অবহেলায়।

• পার্থসারথি
রচনাকাল: 06.01.1995</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/164268/</link>
				<pubDate>Tue, 18 Oct 2022 14:22:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># তোমার দেখা না পেলেই<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;</p>
<p>তোমার দেখা না পেলেই-<br />
কষ্টগুলো মিছিল করে<br />
বুকের পাঁজরে হাঁটে;<br />
আঘাতে আঘাতে আমি নীল হয়ে যাই।<br />
তোমার দেখা না পেলেই-<br />
চোখ দুটো উৎকন্ঠায়<br />
ভীষণ অধীর হয়ে ওঠে;<br />
পথ হারিয়ে আমি একা হয়ে যাই।<br />
তোমার দেখা না পেলেই-<br />
কষ্টগুলো উচ্চমানের পুষ্টি পেয়ে যায়;<br />
কষ্টের সংখ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-164268"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/164268/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>11</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0875ab69bb71306b9b5f9e854b6f6bca</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক
151
আমার চোখের আকাশ 
জোছনাহীন রাত
বেদনা আমার নীলচে কালো,
মুহূর্তগুলো থমকে আছে রাতের আঁধারে
ফুরোয় না সময়
দেখি না বহুকাল সুস্নিগ্ধ প্রভাতের আলো।
তুমি কী সেই?
প্রহর গুণি যার জন্য
সুনীল আকাশ বেদনাবিদূর মুহূর্তেই
মুহূর্তেই চৌচির আকাশের বুকখানা
বেদনায় ব্যথাতুর হই অবিরাম,
আমি একলা বিষন্ন প্রভাতেই
ফোটে না ফুল, ঝরে না বকুল; রিক্ত অরণ্য
তুমি ভালো থেকো
সকল ভালোবাসা 
তোমার নামেই ছড়িয়ে দিলাম।
আমি না-হয় একলা হাঁটবো
ডাহুক পাখির ছানা হয়ে
অনাদরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত ডোবায়,
তুমি থেকো ভালো থেকো
আকাশের বুকে চাঁদ না-হয় তারা হয়ে
আর জোনাক থাকবে থোঁকায় থোঁকায়।
♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/164086/</link>
				<pubDate>Tue, 18 Oct 2022 05:39:13 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক<br />
151<br />
আমার চোখের আকাশ<br />
জোছনাহীন রাত<br />
বেদনা আমার নীলচে কালো,<br />
মুহূর্তগুলো থমকে আছে রাতের আঁধারে<br />
ফুরোয় না সময়<br />
দেখি না বহুকাল সুস্নিগ্ধ প্রভাতের আলো।<br />
তুমি কী সেই?<br />
প্রহর গুণি যার জন্য<br />
সুনীল আকাশ বেদনাবিদূর মুহূর্তেই<br />
মুহূর্তেই চৌচির আকাশের বুকখানা<br />
বেদনায় ব্যথাতুর হই অবিরাম,<br />
আমি একলা বিষন্ন প্রভাতেই<br />
ফোটে না ফুল, ঝর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-164086"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/164086/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>13</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">279fc1ecef7d952d388b67e593773350</guid>
				<title>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
পর্ব- ১৪ 
 
পারমিতা দৌড়ে গিয়ে রিসিভারটা তুলল। ওপার থেকে পাপ্পুর কণ্ঠে উচ্চারণ- দিদি, ভাগনী হয়েছে। দেখতে খুবই সুন্দর। বাচ্চা বেশ সুস্থই আছে। দিদিও সুস্থ আছে। আমি এক্ষুণি আসছি। রাখলাম।
 
টেলিফোন রেখেই পারমিতা প্রভাময়ী দেবীকে জড়িয়ে ধরে খুশীর খবরটি জানাল। দ&#039;হাত জোড় করে দেয়ালে টানানো দেব-দেবীর ছবি দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে দীর্ঘক্ষণ প্রণাম করলেন। তারপর প্রভাময়ী দেবী দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে শান্ত হয়ে বসলেন। এখন যেন সকল চিন্তামুক্ত হলেন।
  
*
স্লিপটা পাঠিয়ে সৈকত ওয়েটিং রুমে বসে আছে। পাশে আরও কয়েকজন বসে আছেন। এক ভদ্রলোক বসে আছেন। আরেক ভদ্রলোক স্ত্রী এবং বাচ্চাসহ অপেক্ষায় আছেন। প্রথম ভদ্রলোকটি সৈকতকে বারবার আড়চোখে তাকিয়ে দেখছে। সৈকত বেশ বিব্রতবোধ করছে। একবার ভাবল উঠে বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করবে। কিন্তু সৈকতের উঠা একদম ভালো লাগে না। কেমন অবলা অবলা মনে হয় নিজেকে। সৈকত চুপচাপ বসে আছে। কারও দিকে তাকেচ্ছে না। গন্তব্যহীন দৃষ্টিতে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে শুধু। গন্তব্যহীন দৃষ্টিতে এদিক- ওদিক তাকাচ্ছে অথবা তাকিয়ে আছে একদিকে আর মনটা পড়ে আছে অন্য কোথাও।
 
হঠাৎ বাইরে তাকাতেই রুচিরাকে দেখতে পেল। রুচিরা গেস্ট রুমের দিকেই এগিয়ে আসছে। সৈকত উঠে রুমের বাইরে চলে আসে। তারপর ওরা হল গেটের বাইরে বেরিয়ে আসে।
 
রুচিরা হালকা সাজগোজ করে এসেছে। সৈকত তাকিয়ে দেখছে রুচিরাকে আর মিটিমিটি হাসছে।
 
রুচিরা জিজ্ঞ্যেস না করে পারল না- কী ব্যাপার! অমনভাবে তাকিয়ে দেখছটা কী?
 
আপনাকে।
 
আমাকে ওভাবে দেখার কী আছে?
 
দেখছি আপনি ইদানীং কিছুটা সাজগোজ করেন।
 
করতে হয়, তাই।
 
করতে হয় মানে!
 
অফিসের হালকা অর্ডার।
 
সাজলে আপনাকে বেশ লাগে। কথাটা বলে সৈকত অন্যদিকে তাকায়। রুচিরা কোন কথা বলে না। মুচকি মুচকি হাসে।
 
সৈকত প্রসঙ্গ পাল্টিয়ে বলে- আপনার কাছে এসেছি একটা বিশেষ কাজে। আপনার কি বিশেষ কোন কাজ আছে এখন?
 
আপাতত নেই। তাছাড়া আমি অফিসে যাওয়ার প্রস্ততি নিয়েই বেরিয়েছি। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে রুচিরা আবার বলে- এখন মাত্র এগারোটা বাজে। হাতে অনেক সময়। অবশ্য তোমার কাজটা শেষে লাইব্রেরিতে ঢুকব। লাইব্রেরি থেকে অফিসে যাব।
 
রুচিরাকে নিয়ে সৈকত পাবলিক লাইব্রেরিতে এল। তারপর সৈকত বলল- রুচিদি, পারমিতার ওখানে ফোন করতে হবে।
 
অবাক হয়ে রুচিরা বলে- এর জন্যই কি আমাকে এনেছ?
 
গতকাল জরুরি তলবে পারমিতা বাসায় গিয়েছে। আমাকে নিষেধ করে গেছে যনে ফোন না করি।
 
কেন, কী ব্যাপার? হঠাৎ জরুরী তলব?
 
কিছুই জানতে পারলাম না। তাই গতরাতটা খুবই উৎকণ্ঠায় কেটেছে।
 
কয়েন ঢুকিয়ে রুচিরা নম্বর ঘুরায়। পরপর ৫ বার রিং হবার পর মহিলা কণ্ঠ- হ্যালো, আপনি কে বলছেন?
 
আমি রুচিরা বলছি।
 
রুচিরা? আপনি কাকে যাচ্ছেন?
 
রুচিরা প্রথমে বুঝতে পারেনি যে কণ্ঠস্বরটা দিদির নয়। তারপর বলে- আমি পারমিতার বান্ধবী। প্লিজ পারমিতাকে একটু ডেকে দিবেন?
 
আমি পারমিতার মা।
 
নমষ্কার মাসী মা। আপনি কোন দিন এসেছেন?
 
গতকালই এলাম। তোর বান্ধবী রুচিরা । শেষ কথাটা উচ্চারণ শেষে বললেন- নাও তোমার বান্ধবীর সাথে কথা বল।
 
ওপার থেকে পারমিতা বলে- হ্যালো।
 
কী ব্যাপার বাসায় হঠাৎ জরুরী তলব হলো যে?
 
দিদির বাচ্চা হয়েছে।
 
রুচিরা খুশি হয়ে বলে- তাই নাকি? দিদি ভালো আছেন তো? নরম্যাল না কি সিজারিয়ান।
 
সিজারিয়ান। দিদি এখনও হাসপাতালে আছে। সম্ভবত কয়েকদিন থাকতে হবে।- পারমতিা বলে।
 
আজ দিদিকে দেখতে যেতে পারছি না। আগামীকাল অবশ্যই আসব।
 
আরও কিছুক্ষণ টুকটাক কথা বলে তারপর শেষে বলল- সৈকতের সাথে কথা বল। টেলিফোনটা করা হচ্ছে কয়েন বক্স থেকে। পাশে একটা লোক শুরু থেকেই টেলিফোনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। সৈকত আবার কয়েন ঢুকাল। লোকটা বুঝতে পারল যে একটু দেরি হবে। লোকটা আড়চোখে তাকিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে চলে গলে। রিসিভার নিয়ে সৈকত প্রথমে কথা বলে- হ্যালো।
 
হ্যাঁ বলছি।- পারমিতার কণ্ঠস্বরটা কেমন যেন একটু খ্যাশখেশে শোনায়।
 
সৈকত জিজ্ঞ্যেস করে- কী ব্যাপার তোমার কণ্ঠস্বরটা এমন শোনাচ্ছে কেন?
 
গত রাত ফ্রিজের জল একটু বেশি খাওয়া হয়ে গেছে। তাই একটু ঠান্ডা ঠান্ডা লেগে আছে।
 
ভাগনী হলো না কি ভাগনে?- সৈকত জানতে চায়।
 
ভাগনী হয়েছে। খুশি হওনি?
 
অবশ্যই। খুশি হব না মানে! দিদি এখন কেমন আছেন?
 
ভালো। তবে দিদির ওপর খুব ধকল গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সিজারই করতে হলো।
 
দিদি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কোন কাজ করতে দিও না। দিদিকে বিশ্রামে রেখো।
 
পারমিতা শুধু বলে- হু।
 
অবশ্য এ কদিন আমি বঞ্চিত হবো।- দুষ্টুমি করে বলেই সৈকত মুচকি হেসে রুচিরার দিকে তাকায়। রুচিরাও সৈকতের হাসিতে নীরবে যোগ দেয়।
 
কী রকম?- ওপাশ থেকে পারমিতা বলে।
 
এই ধর, তোমাকে কাছে পেলে আমার মনটা বেশ ফুরফুরে থাকে। আর যদি অল্পক্ষণের জন্য কাছে না পাই তবে মনে হয় যুগ যুগ ধরে দেখা নেই। তোমার অপেক্ষায় থাকতে থাকতে মনটা চঞ্চলা হরিণীর মত ছটফট করে। তুমি কাছে নেই মানে আমি সর্বহারা। 
 
ওপার থেকে পারমিতা কোন কথা বলছে না। কারণ মা কাছাকাছিই বসে আছেন। পারমিতা শুধু শুনে যাচ্ছে, আর হু, হ্যাঁ করছে।
 
সৈকত বুঝতে পেরেছে এই ফাঁকে একটু দুষ্টুমি করা যাবে। পারমিতা কিছুই বলতে পারবে না। রুচিরা সৈকতের দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে।
 
তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে পারমিতা?
 
কী করে বুঝলে?
 
নিশ্চয়ই এলোমেলো চুলে আছো? ঠোঁটে লিপস্টিক রঙ নেই? এভাবে তোমাকে কোনদিন দেখিনি।
 
কোনটাই ঠিক হয়নি। আমি একটু পরই হাসপাতালে যাব। সুতরাং এর মধ্যেই রেডি হয়ে গেছি। আপনার ধারণা একেবারে ভুল।
 
আমিও আসছি। হাসপাতালের নামটা বল।
 
সরি হাসপাতাল নয় ক্লিনিকে। এই বলে পারমিতা ক্লিনিকের নামটা বলে দেয়।
 
একা আসছো কি? তাহলে আমি জিগাতলার মোড়ে অপেক্ষা করি?
 
কণ্ঠস্বরটা একটু নামিয়ে পারমিতা বলল- আমার মা।
 
ওই একই, আমারও। তোমার হলে, আমার হতে আপত্তি কি? শাশুড়ি মানেই মা।
 
পারমিতা শব্দহীন হাসি হেসে বলে- বেশ কথা বলতে শিখে গেছ।
 
ওই লোকটা ফোন বক্সের দিকেই আবার এগিয়ে আসছে। সৈকতই প্রথম দেখতে পেল। সৈকত ভাবল লাইনে আর বেশিক্ষণ থাকা উচিত হবে না।
 
 
চলবে...

*ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর*
*পার্থসারথি

♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

N.B: If you want to read previous part, kindly click on my profile picture.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/163743/</link>
				<pubDate>Mon, 17 Oct 2022 05:09:58 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )<br />
পর্ব- ১৪ <br />
 <br />
পারমিতা দৌড়ে গিয়ে রিসিভারটা তুলল। ওপার থেকে পাপ্পুর কণ্ঠে উচ্চারণ- দিদি, ভাগনী হয়েছে। দেখতে খুবই সুন্দর। বাচ্চা বেশ সুস্থই আছে। দিদিও সুস্থ আছে। আমি এক্ষুণি আসছি। রাখলাম।<br />
 <br />
টেলিফোন রেখেই পারমিতা প্রভাময়ী দেবীকে জড়িয়ে ধরে খুশীর খবরটি জানাল। দ&#8217;হাত জোড় করে দেয়ালে টানানো দেব-দেবীর ছবি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-163743"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/163743/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">2bdbd11754ced6beed323e7dc16f8dd4</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক

156
আমার নয়ন জোড়া নয়নে নাই
মন নেই মনের উঠানে,
গোধূলীতে পাখি উড়া কেমনে পাই
সবখানে যাই বিরহের টানে!

157
ভালোবাসা চাই ভালোবাসা নাই
ভালোবাসা এখন কোনখানে!
তুমি চাও আমি চির প্রস্থানে যাই
যাই চিরতরে নির্বাসনে!

158
তোমার মনে কোনখানে
হয়েছে মোর ঠাঁই,
বলো না প্রিয়, একবার বলো
তোমার কন্ঠেই শুনতে চাই।
♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/163459/</link>
				<pubDate>Sun, 16 Oct 2022 11:34:12 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক</p>
<p>156<br />
আমার নয়ন জোড়া নয়নে নাই<br />
মন নেই মনের উঠানে,<br />
গোধূলীতে পাখি উড়া কেমনে পাই<br />
সবখানে যাই বিরহের টানে!</p>
<p>157<br />
ভালোবাসা চাই ভালোবাসা নাই<br />
ভালোবাসা এখন কোনখানে!<br />
তুমি চাও আমি চির প্রস্থানে যাই<br />
যাই চিরতরে নির্বাসনে!</p>
<p>158<br />
তোমার মনে কোনখানে<br />
হয়েছে মোর ঠাঁই,<br />
বলো না প্রিয়, একবার বলো<br />
তোমার কন্ঠেই শুনতে চাই।<br />
♡</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">417192ef9c869048df855dbef5465375</guid>
				<title># বন্ধু
  
বন্ধু, হাতটি বাড়াও
       একটু ছুঁয়ে দেখি তোমাকে
       তুমি কতটুকু বদলেছো
       নাকি আছো 
                         যেমন ছিলে,
এমনতো হবার কথা নয়
       কথা ছিল এক সাথে যাবো-
       পুকুর পাড়ে, মাঠে, ঘাটে অথবা
       অন্য কোথাও যেখানে মন টানে
       ফুটে আছে শাপলা, পদ্ম বিলে;
একটা তোমার একটা আমার
       বিবাদ কিসের?
       যদি শুনি তুমি ভালো নেই
       আমারও মন আনচান করে
       আমি ভালো না থাকলে বন্ধু
       তুমি কি থাকতে পারবে ঘরে?
আমি জানি-
        তুমি ছুটে আসবে
        আমার কাছে
        হাতে হাত রাখবে-
        তুমিও মানুষ আমিও
        দেখতে একই রকম
        ভেতরের রক্তটুকুও এক,
বন্ধু, হাতটি বাড়াও
        এগিয়ে চলি একই সাথে
        মিশুক তোমার আমার বিবেক।
বন্ধু, হাতটি বাড়াও
        একটু ছুঁয়ে দেখি তোমাকে-
        তুমি যদি হাত ফিরিয়ে নাও
        এবং আমিও,
বলো তো হবেটা কী?
        একাকি এক বিশাল বাগান
        শুধু একা হাঁটছি,
        আমার পাশে তুমি নেই
        আমিও নিরুদ্দেশ
এমন বাগানের মূল্য কী?
বাগানে ফুটুক ফুল
        তোমার আমার দু&#039;জনার নামে
        তোমারটা তুমি নিও আমারটা আমি
        চলুক না এভাবে।
                 ♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/162736/</link>
				<pubDate>Sat, 15 Oct 2022 03:59:18 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># বন্ধু</p>
<p>বন্ধু, হাতটি বাড়াও<br />
       একটু ছুঁয়ে দেখি তোমাকে<br />
       তুমি কতটুকু বদলেছো<br />
       নাকি আছো<br />
                         যেমন ছিলে,<br />
এমনতো হবার কথা নয়<br />
       কথা ছিল এক সাথে যাবো-<br />
       পুকুর পাড়ে, মাঠে, ঘাটে অথবা<br />
       অন্য কোথাও যেখানে মন টানে<br />
       ফুটে আছে শাপলা, পদ্ম বিলে;<br />
একটা তোমার একটা আমার<br />
       বিবাদ কিসের?&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-162736"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/162736/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>24</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1ca1974dcd578ca1f0ac7bbea736fc41</guid>
				<title>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
পর্ব-১৩ 
 
চিরকুটটি পারমিতার হাতে দিতে দিতে সৈকত বলে- কোন দুঃশ্চিন্তা করো না। বাসায় তাড়াতাড়ি যাও।
 
পারমিতা নীরব। সৈকত আর কথা বাড়ায় না। বইপত্র জমা দিয়ে, কাউন্টার থেকে ব্যাগটা তুলে সৈকত ও পারমিতা রিকশায় চেপে বসে। সৈকত বাসায় যায়নি। পারমিতাকে নামিয়ে দিয়ে ওই রিকশাতেই ফিরে আসে।
 
*
প্রভাময়ী দেবী। পারমিতার মা। সংবাদ পেয়েই তিনি গত সন্ধায় এসেছেন। ছেলে পাপ্পুকে সাথে করে নিয়ে এসেছেন। পারমিতার দাদাবাবু অভীক মজুমদারের বাড়ি থেকে কেউ আসেনি। কারণ ওদের আর কেউ এখন বাংলাদেশে থাকে না। গত বছর সবাই ইন্ডিয়ায় চলে গেছে।
 
প্রভাময়ী দেবী ঘরের এমাথা-ওমাথা পায়চারি করছেন। আর মাঝে মাঝে মনের অজান্তেই টেলিফোন সেটটার দিকে তাকাচ্ছেন। সেই দুপুর থেকে মেয়েটার ব্যথা ওঠেছে । নরমাল ডেলিভারি হল না। শেষ বিকেলে হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো। সুদেষ্ণা মা-বাবার প্রথম সন্তান। তাই প্রভাময়ী দেবী খুবই আকুলচিত্তে অপেক্ষা করছেন সুসংবাদ পেতে। তিনি বেশ চিন্তা-ভাবনা করছিলেন। কারণ ব্যথাটা বেশিই হয়েছিল। জামাই বুঝাল- মা, চিন্তা করবেন না। নরমাল ডেলিভারি না হলে সিজার করাবো। আজকাল আধুনিক চিকিৎসা । কোনরকম অসুবিধা হবে না। আপনি বাসায় থাকুন। পাপ্পু আর আমি যাচ্ছি।
 
যাওয়ার আগে প্রভাময়ী দেবী ছেলে পাপ্পুকে বারবার বলে দিয়েছেন- আমার মেয়েটার অবস্থা জানিয়ে কতক্ষণ পরপরই ফোন করবি।
 
অথচ সেই যে বিকেল বেলা ওরা গেল এই পর্যন্ত কোন সংবাদ জানায়নি। কাজের মেয়েটা কতক্ষণ পরপরই এসে বলছে- জেঠীমা, চিন্তা কইরেন না। কুনু অসুবিধা অইব না। আমার মনে হয় হেরা খুব ব্যস্ত আচে। হের লাইগ্যা ফুন করতে পারতেছে না। আফনে চেয়ারে বইন শইলডা ঠান্ডা অইব।
 
কাজের মেয়েটা আপন মনে কথা বলেই যাচ্ছে। আর প্রভাময়ী দেবী নিজের আপন ভুবনে ডুবে আছেন গভীর চিন্তায়। চিন্তাক্লিষ্ট মনে শুধুই পায়চারি করছেন। কলিং বেলটা বেজে ওঠতেই কাজের মেয়েটা রীতিমত দৌড়ে যায়। প্রভাময়ী দেবীও পায়চারি থামিয়ে এগিয়ে যান। পারমিতা ঘরে পা ফেলতেই প্রভাময়ী দেবীর উৎকণ্ঠচিত্তে জিজ্ঞাসা করেন- এতক্ষণে এলি মা?
 
পারমিতা কিছুটা ভড়কে যায়। কারণ মা এসেছেন সে খরব পায়নি পারমিতা। মাকে জড়িয়ে ধরে পারমিতা বলে- আমি একটু আগেই খবর পেলাম। খবর পেয়েই সরাসরি চলে এলাম। মা, দিদি ওরা কোথায় ? কাউকে দেখছি না কেন?
 
তোর দিদিকে নিয়ে ওরা হাসপাতালে গিয়েছে।
 
হাসপাতালে? দিদির কী হয়েরেন মা? আমি কিছুই জানতে পেলাম না।- পারমিতার চোখের কোণে বিন্দু বিন্দু জল জমে গেছে। পারমিতা জানত যে ওর দিদি গর্ভবতী। তবে ডেলিভারী ডেটটা তো আরও সপ্তাহখানেক পর। তাই এ কথাটা মাথায় একদমই আসেনি। মার কথাটা শোনার পর বেশ হালকা লাগছে নিজেকে। তারপর মাকে আরও জড়িয়ে ধরে বলে- মা, তোমার নাতি হবে না নাকি নাতনী?
 
মেয়ের কথায় প্রভাময়ী দেবী যেন একটু আনন্দিত হলেন। ভেতরের হাহাকার যেন অনেকটা হালকা হয়ে গেছে। প্রভাময়ী দেবীর মুখমন্ডলে উজ্জ্বল ছায়া আচমকা খেলে গেল। তারপর সোহাগী কণ্ঠে বলেন- কোনটিতেই আমার মন খারাপ হবে না। যা হবে তাতেই আমি সুখী।
 
পারমিতা খুশিতে আটখানা হয়ে মাকে জড়িয়ে ধরে থেকেই বলে- মা এর জন্যেই আমি তোমাকে খু-উ-ব ভালোবাসি।
 
প্রভাময়ী দেবীর উজ্জ্বল মুখখানা মূহূর্তেই আবার চিন্তাক্লিষ্ট হয়ে গেল। মেয়েটার যে কী হলো কিছু জানতে পেলাম না। বারবার বলে দিলাম ফোন করিস । না, আর একদম ভালো লাগছে না। কথা বলতে বলতেই কণ্ঠস্বরটা কেমন ভারী হয়ে এল প্রভাময়ী দেবীর।
 
কোন হাসপাতালে গিয়েছে, বলেছে কিছু ?- পারমিতা মাকে জিজ্ঞ্যেস করে।
 
না-রে মা! আমাকে ওরা কিছুই বলে যায়নি।- এই বলে গা-ছাড়া ভাব নিয়ে সোফায় হেলান দিয়ে বসলেন প্রভাময়ী দেবী।
 
পারমিতা কাছাকাছি হয়ে বসল। প্রভাময়ী দেবী পারমিতাকে কাছে টেনে নিলেন। তারপর প্রায় কান্না জড়ানো কণ্ঠে বলেন- মেয়েটা আমার কী যে কষ্টটা করল সারাদিন। এখন কোথায় আছে, কেমন আছে কিছুই জানতে পারছি না।
 
পারমিতা সান্তনা দেবার ভঙ্গিতে মাকে বলে- মা, কোন দুশ্চিন্তা করো না। ডেলিভারি কেস আজকাল কোন ব্যাপারই না।
 
প্রভাময়ী দেবী সন্দেহপ্রবণ দৃষ্টি নিয়ে মেয়ের দিকে তাকিয়ে বলেন- ঠিক বলছিস তো মা?
 
মাকে গলায় জড়িয়ে ধরে পারমিতা বলে- হ্যাঁ মা, তোমার সাথে আমি কখনও মিথ্যা বলি?
 
মেয়ের কথায় প্রভাময়ী দেবী অনেকটা শান্ত হলেন। পারমিতার ভেতর ঘরের দিকে পা বাড়াল। কাজের মেয়েটা দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে ওদের কথাই শুনছিল। পারমিতাকে আসতে দেখেই সরে গেল। পারমিতা এগিয়ে গিয়ে বলে- ‘রান্না-বান্না সব করে রেখেছিস তো?
 
না দিদি, এখনও কিছুই রান্না করিনি।
 
বসে থাকলে চলবে? খাবার রেড়ি করে রাখ।- এই বলে পারমিতা মায়ের কাছাকাছি এসে বলে- মা দাদাবাবু তো একটু পরেই আসবে। কিন্তু কিছুইতো রান্না করা হয়নি। পারমিতা ভাবে রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকলে কিছুক্ষণের জন্য মনটা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকবে।
 
মা তোমার হাতের রান্না দাদাবাবুর খুব পছন্দের। ওঠ মা, দাদাবাবু পরিশ্রান্ত হয়ে ফিরবে। মাকে রীতিমত টেনেই তুলল। মা রান্নাঘরের দিকে গেলেন। পিছু পিছু কাজের মেয়েটাও। পারমিতা ক&#039;দিন পরপরই বাসায় চলে আসে। কিছুদিন থাকে, তারপর আবার হলে চলে যায়। তাই কিছু জামা কাপড় এবং বইপত্র বাসাতে সবসময়ই থাকে।
 
জামা কাপড় পাল্টিয়ে পারমিতা বাথরুমের দিকে পা বাড়ায়, এমন সময় টেলিফোনটা বেজে ওঠে। পারমিতা রীতিমত দৌড়ে গিয়ে টেলিফোন রিসিভার তুলল। প্রভাময়ী দেবীও ছুটে এলেন। পারমিতা কথা বলছে। প্রভাময়ী দেবী মনোযোগ দিয়ে মেয়ের কথাবার্তা শুনছেন। কিন্তু ওপার থেকে কি বলছে তাতো তিনি শুনতে পারছেন না। তাই চোখে-মুখে উৎকণ্ঠা জড়িয়েই আছে।
 
টেলিফোনটা রেখেই পারমিতা মাকে বলে- মা কোন চিন্তা করো না। ভাল একটা ক্লিনিকে ভর্তি করিয়েছে। ওরা অনেকক্ষন চেষ্টা করেছে। নরমালি হবে না। অপারেশন করবে। একটু পরই অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাবে।
 
প্রভাময়ী দেবীর পায়চারি আবার বেড়ে গেল। কয়েক চক্কর মায়রে পিছু পিছু পারমিতাও হাঁটল। তারপর খুবই ক্ষীণ কণ্ঠে বলে- মা, অপারেশন শেষ হলেই পাপ্পু ফোন করে চলে আসবে।
 
প্রায় দেড় ঘন্টা পর ফোন বেজে ওঠল।
 
চলবে...

*ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর*
*পার্থসারথি

♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

N.B: If you want to read previous part, kindly click on my profile picture.
 </title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/162291/</link>
				<pubDate>Fri, 14 Oct 2022 03:53:09 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )<br />
পর্ব-১৩ <br />
 <br />
চিরকুটটি পারমিতার হাতে দিতে দিতে সৈকত বলে- কোন দুঃশ্চিন্তা করো না। বাসায় তাড়াতাড়ি যাও।<br />
 <br />
পারমিতা নীরব। সৈকত আর কথা বাড়ায় না। বইপত্র জমা দিয়ে, কাউন্টার থেকে ব্যাগটা তুলে সৈকত ও পারমিতা রিকশায় চেপে বসে। সৈকত বাসায় যায়নি। পারমিতাকে নামিয়ে দিয়ে ওই রিকশাতেই ফিরে আসে।<br />
 <br />
*<br />
প্রভাময়ী দেব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-162291"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/162291/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">9bc8b5174dc96bc2e1594285a804f2b2</guid>
				<title>ভালোবাসার লিরিক- 6
---------------------------

এক চুমুতেই

তুমি যদি কলঙ্কিনী হও,

প্রতীক্ষার প্রহর গুণে

হার মানাবো ধুমকেতুকেও।
                  ♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/161648/</link>
				<pubDate>Thu, 13 Oct 2022 00:46:40 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>ভালোবাসার লিরিক- 6<br />
&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;&#8212;</p>
<p>এক চুমুতেই</p>
<p>তুমি যদি কলঙ্কিনী হও,</p>
<p>প্রতীক্ষার প্রহর গুণে</p>
<p>হার মানাবো ধুমকেতুকেও।<br />
                  ♡</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">15ca17d78877536b03f9d631076ec3ed</guid>
				<title>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
পর্ব-১2
আসফির কথায় সবাই হাসতে হাসতে সৈকতকে ধরে মাথার ওপর তুলে ফেলল। কতক্ষণ পর সৈকতকে বিছানায় পুতুলের মত ফেলে দিল। তারপর সুমন্ত সবার উদ্দেশে বলে- আজ রাতটা শুধু আনন্দের, আনন্দের আর আনন্দের ।- এই বলে আসফি পকেট থেকে একটা পুটলা বের করে সৈকতকে দেখায়।
সৈকত উঠে বিছানায় বসতে বসতে বলে- শুকনাটা আমি একদম সহ্য করতে পারি না।
আসফি জোর গলায় বলে- ‘আজ অন্তত ক্ষমা নেই।
আসফির কণ্ঠে অন্যরাও কন্ঠ মেলায়।
অনিক নিচে গিয়ে মুড়ি আর চানাচুর নিয়ে আসে। তারপর সবাই ছাদের উপর ওঠে। জোছনার আলোয় চারদিকে আলোকিত আকাশে লক্ষ তারার ঝিকমিক। চারদিক আলোকিত। সৈকতের মনটা হাওয়ায় হাওয়ায় উড়ে বেড়ায় তারকালোকিত আকাশে। গাঁজা টেনে সবাই একটু আধটু নেশাচূড় হয়। কিন্তু সৈকত নিজেকে সামলাতে পারল না। ছাদের উপর শুয়ে পড়ল। আর দৃষ্টি মেলে দিল নীল আকাশের অসীমে। সৈকতের মনে হচ্ছে পুরো পৃথিবীটা চক্রাকারে ঘুরছে। আকাশের সব তারা যেন ওকে দেখে মিটিমিটি হাসছে আর চোখের সামনে ঘুরপাক খাচ্ছে। আবার মনে হচ্ছে পুরো ছাদটাই উল্টে পড়ে যাচ্ছে।
সময় গড়িয়ে যায়। প্রতিটিক্ষণ চলে ঋতু-বদলের হামাগুড়ি। পাল্টে যায় বিভিন্ন প্রেক্ষাপট। জীবনে ঘটে যায় যোগ অথবা বিয়োগের পালা। সময়ের সিঁড়ি বেয়ে আজ সৈকত ও পারমিতা খুবই কাছাকাছি। একজন অন্যজনের ধ্যান-জ্ঞান-স্বপ্ন। পারমিতাবিহীন মূর্হূত সৈকত ভাবতে পারে না। আর পারমতিার ভাবনার বিস্তীর্ণ জাল শুধু সৈকতকে নিয়ে। ফাইনাল পরীক্ষা আর বেশিদিন বাকি নেই। এখন ওরা লেখাপড়া নিয়ে বেশ ব্যস্ত। প্রায় সারদিনই একসাথে লাইব্রেরিতে লেখাপড়া করে। কারণ ক্লাস সাসপেন্ড হয়ে গেছে। পরীক্ষা খুবই কাছাকাছি। ওদের লেখাপড়া চলে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত। তারপর ঘন্টাখানেকের জন্য বাইরে বেরিয়ে আসে। দুপুরে খাওয়াটা ডাকসু ক্যাফেতেই চলে। দু’জন একান্তে বসে কিছুক্ষণ গল্প করে। আবার লাইব্রেরিতে ফিরে আসে। গৌধূলী বেলায় আবার বাইরে বেরিয়ে আসে। পরপর চলে কয়েক কাপ চা। কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি আবার লাইব্রেরিতে খোশ মেজাজে ফিরে আসে এবং লেখাপড়া চলে লাইব্রেরি যতক্ষণ খোলা থাকে।
লাইব্রেরির দোতলার পূর্বদিকের রুমের এক কোণের টেবিলে ওরা বসেছে। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে টুকটাক কথাবার্তা চলে । হয়তো দেখা গেল পারমিতার একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করার ফাঁকে অন্য কথা শুরু হয়ে যায়।
এখন শেষ বিকেল। একটু পরই ওরা বাইরে বেরিয়ে আসবে। পারমিতা যে প্রশ্নটা ধরেছিল সেটি মোটমুটি শেষ হয়ে গেছে। এখন একটা বই নেড়ে চেড়ে দেখছে। দৃষ্টি ঘুরিয়ে সৈকতের দিকে তাকাল। সৈকত গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ছে। টেবিলে কনুই গেঁড়ে হাতের তালুতে মুখ গুজে পারমিতা দৃষ্টিহীন পলকে সৈকতের মনে প্রশ্ন জাগায়। ফিরে তাকায় সৈকত। পারমিতা পলকহীন । না হেসে পারল না সৈকত। শব্দহীন হাসির রেশ টেনেই সৈকত জিজ্ঞ্যেস করে- কী ব্যাপার, লেখাপড়া রেখে আমাকে ওভাবে দেখার কী আছে?
আমার পড়া শেষ।
শেষ মানে?
শেষ মানে শেষ। যে প্রশ্নটা ধরেছিলাম পড়া হয়ে গেছে।
তাই বলে চুপচাপ বসে থাকবে? অন্য একটা প্রশ্ন ধর।
এখন আর ভালো লাগছে না। চায়ের নেশা চেপে বসেছে।
আর দশ মিনিট, তাহলেই উঠতে পারবো।
লক্ষীটি একটু চুপচাপ বস।
আমি কি দুষ্টমি করছি নাকি?
তুমি শুধু দুষ্টমিই করছ না, আমার মনটা নিয়ে লোফালুফি করছ। এমন করলে কি আর সুস্থির থাকা যায়!
পারমিতা এক গাল হেসে বলে- আমি তোমার মন নিয়ে খেলবো না তো আরেকজনের মন নিয়ে খেলবো?
সৈকত একটু দুষ্টমি ভরা কণ্ঠে বলে- তুমি কি আর কারও মন নিয়ে খেলতে চাও?
পারমিতা হাত জোড় করে চোখ টেনে বলে- মাফ চাই, এক মন নিয়ে খেলা করেই পেরেশান। মনের পরিধি যে এত ব্যাপক এবং গভীর তা কখনও কল্পনা করিনি।
চোখে চোখ রেখে সীমাহীন দৃষ্টিতে সৈকত তাকিয়ে থাকে।
পারমিতা বলে- থাক,ওভাবে তাকিও না, তাহলে মরে যাব। এত গভীরে গিয়ে নিঃশ্বাস ফেলতে কষ্ট হয়। তুমি তোমার পড়া শেষ কর। আমি চুপচাপ বসছি। এই বলে পারমিতা সুবোধ বালিকা হয়ে চুপচাপ বসে থাকে।
কিন্তু সৈকতের দৃষ্টি সীমা থেকে নিজেকে সরাতে পারছে না। এক পলক অন্যদিকে তাকায় তো এক মায়াময় গভীর টানে আবার ফিরে আসে। দু’জনার দৃষ্টি এক হয়। পলকহীন দৃষ্টি সৈকতের। দৃষ্টির গভীর টানে পারমিতা মোহাচ্ছন্ন হয়ে যায়। হাঁটিহাঁটি পা পা করে সৈকতের হৃদয়ের গভীর অন্ধকূপে পৌঁছে যায় পারমিতা। অন্ধকারের অলি-গলি হেঁটে বেড়াতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। পারমিতা কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে বলে- সৈকত, তোমার দৃষ্টির গভীরতা কমিয়ে নাও। আমি একটুও স্থির থাকতে পারছি না।
সৈকত চুপচাপ। পারমিতা সৈকতের হাত চেপে ধরে বলে- তোমার দৃষ্টিজাল থেকে বের হওয়ার মত শক্তি আমার নেই। আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। কথা বলতে গিয়ে পারমিতার ঠোঁট জোড়া অসম্ভব রকম কেঁপে ওঠছে।
পারমিতার হাতে হাত রেখে সৈকত এক গাল হাসে। একটা র্দীঘ নিঃশ্বাসে পারমিতা শান্ত হয়। তারপর চোখ ঠেড়ে সৈকত বলে- কী কেমন হলো?
পারমিতার জবাবের অপেক্ষা না করে বইপত্র গুছিয়ে সৈকত উঠে দাঁড়ায় এবং বলে- চল, নিচ থেকে ঘুরে আসি।
শব্দহীন পারমিতা সৈকতের সাথে নিচে নেমে আসে। দু’জন এসে বসে হাকিম চত্বরে । চা শেষে সৈকত যখন সিগারেট ধরায় তখন পারমিতা বলে- তুমি বস, আমি এক্ষুণি আসছি।
কোথায় যাচ্ছো?
রুমে যাব।
মাথা নেড়ে সৈকত হ্যাঁ-সূচক জবাব দেয়। পারমিতা হেঁটে চলে হলের দিকে। সৈকত সিগারেটে দেয় লম্বা টান। তারপর পারমিতার জন্য অপেক্ষা। পারমিতা ফিরে এল দশ মিনিটের মধ্যেই। পারমিতার হাসিমাখা মুখ যেন একরাশ কালো মেঘের ছায়ায় ঢেকে আছে। কাছাকাছি হতেই সৈকতের ভেতরটা অজানা আশঙ্কায় মোচড় কেটে ওঠে। তারপর অধীর আগ্রহে সৈকত জিজ্ঞ্যেস করে- পারমিতা, তোমার কী হয়েছে, তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?- বলে পারমিতাকে নিয়ে হেঁটে চলে লাইব্রেরির দিকে।
পারমিতা একটা চিরকুট ধরিয়ে দেয় সৈকতকে। চিরকুটে চোখ মেলে ধরল সৈকত- পারমিতা , তোমার খোঁজে এসেছিলাম। না পেয়ে লিখে যাচ্ছি। সংবাদ পাওয়া মাত্রই বাসায় চলে আসবে। অতি জরুরি । অবশ্যই আসবে।- দাদাবাবু , তাং : ১৩.০৭. ১৯৯৮।

চলবে...

ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর
পার্থসারথি

♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

N.B: If you want to read previous part, kindly click on my profile picture.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/161243/</link>
				<pubDate>Wed, 12 Oct 2022 11:08:11 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )<br />
পর্ব-১2<br />
আসফির কথায় সবাই হাসতে হাসতে সৈকতকে ধরে মাথার ওপর তুলে ফেলল। কতক্ষণ পর সৈকতকে বিছানায় পুতুলের মত ফেলে দিল। তারপর সুমন্ত সবার উদ্দেশে বলে- আজ রাতটা শুধু আনন্দের, আনন্দের আর আনন্দের ।- এই বলে আসফি পকেট থেকে একটা পুটলা বের করে সৈকতকে দেখায়।<br />
সৈকত উঠে বিছানায় বসতে বসতে বলে- শুকনাটা আমি একদম সহ্&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-161243"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/161243/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e3d9eb6031bbf4dee0c650b4f4a74420</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক
     &#x25aa;পার্থসারথি
                    151

আমার চোখের আকাশ 
             জোছনাহীন রাত
             বেদনা আমার নীলচে কালো,
মুহূর্তগুলো থমকে আছে রাতের আঁধারে
             ফুরোয় না সময়
             দেখি না বহুকাল সুস্নিগ্ধ প্রভাতের আলো।

তুমি কী সেই?
             প্রহর গুণি যার জন্য
             সুনীল আকাশ বেদনাবিদূর মুহূর্তেই
             মুহূর্তেই চৌচির আকাশের বুকখানা
             বেদনায় ব্যথাতুর হই অবিরাম,
আমি একলা বিষন্ন প্রভাতেই
             ফোটে না ফুল, ঝরে না বকুল; রিক্ত অরণ্য
             তুমি ভালো থেকো
             সকল ভালোবাসা 
             তোমার নামেই ছড়িয়ে দিলাম।

আমি না-হয় একলা হাঁটবো
             ডাহুক পাখির ছানা হয়ে
             অনাদরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত ডোবায়,
তুমি থেকো ভালো থেকো
             আকাশের বুকে চাঁদ না-হয় তারা হয়ে
             আর জোনাক থাকবে থোঁকায় থোঁকায়।
                         ♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/161076/</link>
				<pubDate>Wed, 12 Oct 2022 06:09:51 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক<br />
     &#x25aa;পার্থসারথি<br />
                    151</p>
<p>আমার চোখের আকাশ<br />
             জোছনাহীন রাত<br />
             বেদনা আমার নীলচে কালো,<br />
মুহূর্তগুলো থমকে আছে রাতের আঁধারে<br />
             ফুরোয় না সময়<br />
             দেখি না বহুকাল সুস্নিগ্ধ প্রভাতের আলো।</p>
<p>তুমি কী সেই?<br />
             প্রহর গুণি যার জন্য<br />
             সুনীল আকাশ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-161076"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/161076/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>13</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e7de1d460a4878d121ea750d15868ee5</guid>
				<title>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
পর্ব-১১ 
 
কথা কেড়ে নিয়ে সৈকত বলে- ও সারাদিন লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
 
রুচিরা প্রসঙ্গ পাল্টে বলে- অনিক আজ কি তোমার কোন কাজ আছে?
 
টিউটোরিয়াল পরীক্ষা আছে একটা দিদি। - এই বলে অনিক বলে- সৈকত আমি নিচ থেকে একটু আসছি। আবার বের হয়ে যাস না কিন্তু?
 
সৈকত বলে- ঠিক আছে, একটু তাড়াতাড়ি আসিস।
 
রুচিরা বুঝতে পেরে বলল- অনিক, এখন কিছুই খাব না। বসো, কিছু আনতে হবে না।
 
সৈকত বলে- ঠিক আছে, অল্প কিছু নিয়ে আয়।
 
রুচিরা না, না করছিল কিন্তু অনিক কোন কথাই শুনল না। দরজা পেরিয়ে আড়াল হয়ে গেল।
 
রুচিরা সৈকতকে ডেকে বলে- ঝটপট তৈরি হয়ে নাও।
 
প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে সৈকত তাকায়।
 
রুচিরা বলে- আগে তৈরি হয়ে নাও। এখন কিছুই বলছি না।
 
সৈকত আলনার আড়ালে চলে যায়। পারমিতা এতক্ষণ চুপচাপ বিছানা গোছাচ্ছিল। বিছানা গোছানো শেষ করে টেবিলে হাত দিল। রুচিরা বিছানায় এক কোণে বসল। টেবিলের এলোমেলো বই-খাতা সব পারমিতা গুছিয়ে তারপর চেয়ারটা টেনে বসল।
 
অনিক একটি পিচ্চিসহ রুমে ঢুকল। পিচ্চির হাতে বিস্কুট, কলা এবং একটা ডেনিস কৌটায় চা। চানাচুরের প্যাকেটটা অনিক টেবিলে রেখে একটা বড় সাইজের বোতল এবং দুটো গ্লাস পিচ্চিটার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল- ভালো করে ধুয়ে তারপর পানি নিয়ে আসবি।
 
পিচ্চিটা এক দৌঁড়ে বাইরে চলে যায়। সৈকত প্যান্ট-শার্ট পরে সামনে এগিয়ে আসে। অনিককে ডেকে কাছাকাছি নিয়ে বসে। যখন সৈকত চানাচুরের প্যাকেটটায় হাত দেয় তখন অনিক ডেনিস কৌটা থেকে চা গ্লাসে ঢেলে রুচিরা ও পারমিতার দিকে এগিয়ে দেয়।
 
পারমিতা বলে- আপনারা আগে খান, আমরা পরে খাই।
 
রুচিরা হাসতে হাসতে বলে- আ-রে আমরা হলাম গেস্ট । কি বল অনিক?
 
অনিক কথাটিতে বেশ মজা পেয়ে যায়। তারপর হাসিমুখেই স্পষ্ট অথচ প্রাণোজ্জল কণ্ঠে বলে- ঠিকই বলেছেন দিদি। আগে গেস্ট তারপর হোস্ট।
 
*
দরজার বাইরে পা বাড়িয়েই সৈকত ঘড়িতে তাকায়। দশটা বাজে। অনিক দরজায় দাড়িঁয়ে থেকেই বলে- দিদি আবার আসবেন কিন্তু। রুচিরা ও পারমিতা একই সাথে বলে ওঠে- হ্যাঁ আসব।
 
কিছুক্ষণ এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরির পর ওরা একটা নাগাদ রিকশা নিয়ে সোজা নীরব হোটেলে চলে এল। নীরব হোটেলটা চাংখারপুল পেরিয়ে নাজিমউদ্দীন রোড়ে। পুরনো ঢাকায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই এখানে বেশি আসে। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন রকম খাবারের সমাহার এবং দামেও বেশ সস্তা। ঢাকা শহরে এত সস্তায় এমন রুচিশীল খাবার পাওয়া সত্যিই দুষ্কর। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের এত ভিড়। এখন এই হোটেলটা বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। বিশেষ করে ছাত্রদের কাছে।
 
ভিড় থাকা সত্ত্বেও এক কোণের টেবিলে ওরা জায়গা পেয়ে গেল। চেয়ারে বসতে বসতে রুচিরা বলে- কি কি অর্ডার দেব, তোমরা বল।
 
সৈকত উত্তরে বলে- আজকের পুরো দিনটাই আপনার হাতে ছেড়ে দিলাম। কী বলো পারমিতা?- বলেই সৈকত পারমিতার দিকে তাকায়।
 
উত্তরে পারমিতা বলে- একদম ঠিক।
 
রুচরিা ওদের কথাতে বেশ খুশি হয়ে বলে- আচ্ছা ঠিক আছে, তবে তোমাদের পছন্দের বিশেষ কিছু বাদ পড়ে গেলে অবশ্যই কিন্তু বলবে।
 
সৈকত হাসতে হাসতে বলে- আপনার কাছে যদি লুকিয়ে রাখি তাহলে কি চলবে? তারপর সৈকত বয়কে ডেকে বলে- মামু, এদিকে আসেন।
 
বয় যেন ডাকের অপেক্ষায় ছিল। ডাক দেবার সাথে সাথেই চলে এল।
 
বয় কাছে আসতেই রুচিরা অর্ডার দেয়- সব রকমের ভর্তা এবং ভাজি, শুকনা মাছের ভর্তাও বাদ যায়নি।
 
মাংসের কথা বলতেই সৈকত মৃদু আপত্তি তুলে বলে- আজ মাছ-মাংস বাদ শুধু শাকসবজি আর ভর্তা, কি বল পারমিতা?
 
দিদি অর্ডার দিচ্ছেন যেহেতু আজকে অন্তত মিশালীভাবেই চলুক।
 
ওকে, র্অডার পাস হয়ে গেল। - এই বলে সৈকত হাসে।
 
কাঁটায় কাঁটায় তিনটেয় ওরা হোটেলের বাইরে এলো। হোটেল গেটের পাশের দোকান থেকে তিনজনই মিষ্টি পান খেলো। তারপর রিকশা নিয়ে জাতীয় জাদুঘরে চলে এল। রুচিরা এর আগেও একবার এসেছে। আবার দেখার খুব ইচ্ছে হচ্ছে । সৈকত গত দু‘বছরে জাদুঘরে একবারও উকি দেয়নি। জাদুঘর দেখেছে কিনা জিজ্ঞ্যেস করতেই লজ্জায় লাল হয়।
 
পারমিতা বলে- ‘আমিও যাইনি।
 
রুচিরা পারমিতাকে বলে- ‘তুমি তো মাত্র ফার্স্ট ইয়ারে । হয়ত ক্যাম্পাসের মোহেই এখনও আবিষ্ট হয়ে আছো। সৈকতের এতদিনে আসা উচিত ছিল। কত দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসে জাদুঘর দেখতে। আর আমরা কাছে থেকেও খোঁজ নিইনি। এটা কিন্তু ঠিক না। আমাদের সবসময় উচিত নিজেদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে জানা।
 
সাড়ে তিনটা নাগাদ ওরা জাদুঘরে ঢুকে সবকিছু খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে। কোনটা কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, কে ব্যবহার করত, কে মালিক ছিল। কত সালের জিনিস । মোট কথা সব সূত্রই লেখা আছে। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভালোভাবে দেখে নিল। সাড়ে ছয়টা নাগাদ ওরা বেরিয়ে এল জাদুঘর থেকে। তারপর রিকশা নিয়ে বেইলি রোড়, নাটকপাড়ায়।
 
রিকশা থেকে নেমেই সৈকত রুচিরাকে বলে- রুচিদি, নাটক দেখে ফিরতে ফিরতে দশটাও বেজে যেতে পারে। আপনাদেরতো হলে ঢুকতে দেবে না।
 
রুচিরা উত্তরে বলে- ‘অ্যাপ্লিকেশন করে পারমশিন নিয়ে এসেছি। কোন অসুবিধা হবে না।
 
সবকিছু তাহলে আগেই প্লান করে রেখেছিলেন?- বলেই রুচিরার দিকে তাকায় সৈকত।
 
রুচিরা মিষ্টি হেসে বলে- মোটামুটি।
 
নাটক শেষ হলো রাত সাড়ে নয়টায় । রুচিরা ও পারমিতাকে হলে পৌঁছে দিয়ে সৈকত হলের দিকে চলল। রিকশা চলছে বাতাসের উল্টোদিকে। ফুরফুরে বাতাস সৈকতের মনটাকে আরও সজীব করে তুলল। খোশমজোজের আমেজের সৈকত গানে সুর মেলাচ্ছে। আজ সত্যিই আনন্দের দিন। পারমিতাকে খুবই কাছে পেয়েছে এবং মনে হয়েছে পারমিতার খুবই কাছের জন। রিকশা কখন হল গেইট চলে এল সৈকত একদমই টের পায়নি। রিকশা থামতেই ভাবনায় যতি রেখা পড়ল।
 
রুমে ঢুকতেই অনিক, সুমন্ত ও আসফি একসাথে বলে ওঠল- কনগ্র্যাচুলেশনস।- এই বলে সবাই হাত বাড়িয়ে এসে হাত মেলায় এবং বুকে মেলায় বুক। সৈকত চুপচাপ দাঁড়িয়ে । সে কিছুই বুঝে ওঠতে পায়নি। অবাক দৃষ্টে ওদের দিকে তাকিয়ে রইল।
 
প্রথমে আসফি বলে ওঠে- অবাক হচ্ছো কেন বন্ধু? ডুবে ডুবে জল খেলে কী হবে? এখন ওপেন সিক্রেট। এত বড় সুখবরটা পেয়ে ভাবলাম বন্ধুটির সাথে দেখাটা করেই যাই। কি ঠিক করিনি?
 
 
চলবে...

ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর
পার্থসারথি

☆ছবিটি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।
♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

N.B: If you want to read previous part, kindly click on my profile picture.

 </title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/160326/</link>
				<pubDate>Tue, 11 Oct 2022 01:19:57 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )<br />
পর্ব-১১ <br />
 <br />
কথা কেড়ে নিয়ে সৈকত বলে- ও সারাদিন লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে।<br />
 <br />
রুচিরা প্রসঙ্গ পাল্টে বলে- অনিক আজ কি তোমার কোন কাজ আছে?<br />
 <br />
টিউটোরিয়াল পরীক্ষা আছে একটা দিদি। &#8211; এই বলে অনিক বলে- সৈকত আমি নিচ থেকে একটু আসছি। আবার বের হয়ে যাস না কিন্তু?<br />
 <br />
সৈকত বলে- ঠিক আছে, একটু তাড়াতাড়ি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-160326"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/160326/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>18</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6160df0e84d79761f408891d9e973f82</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক
     &#x25aa;পার্থসারথি
                  159
প্রিয়া, চলে যাবো নির্বাসনে
          গহীন বনে অন্ধকারে 
              ভীষণ অভিমানে-
              এই কী তুমি চাও?
তবে, কেন তুমি বারে বারে
আঘাত করো এই মানব মনে
                     একলা থাকবে?
                           খুবই সুখে?
থাকো তুমি তোমার সনে
        এই আমি হলাম উধাও!
                        ♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/159626/</link>
				<pubDate>Mon, 10 Oct 2022 08:40:22 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক<br />
     &#x25aa;পার্থসারথি<br />
                  159<br />
প্রিয়া, চলে যাবো নির্বাসনে<br />
          গহীন বনে অন্ধকারে<br />
              ভীষণ অভিমানে-<br />
              এই কী তুমি চাও?<br />
তবে, কেন তুমি বারে বারে<br />
আঘাত করো এই মানব মনে<br />
                     একলা থাকবে?<br />
                           খুবই সুখে?<br />
থাকো তুমি তোমার সনে<br />
        এই আ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-159626"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/159626/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">e25c0ea3a3356de7cf12469de32b6bab</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক
     &#x25aa;পার্থসারথি
                  160
পাখি শিস দিয়ে যাও
              খবর নাও আমার
উড়াল দিয়ে যাও তার কাছে
     বলো তারে আমার কথা,
পাখায় করে দুঃখ নিয়ে যাও
                জানাও তারে রঙ
         যে রঙে ডুবেছি আমি
     নীলে নীল ভীষম ব্যথা!
                    161
এই আকাশে এই উঠানে
           জেনো আমার মনে
নানান কষ্টের আনাগোনা,
             মনের মধ্যিখানে।
                     ♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/159073/</link>
				<pubDate>Sun, 09 Oct 2022 11:48:47 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক<br />
     &#x25aa;পার্থসারথি<br />
                  160<br />
পাখি শিস দিয়ে যাও<br />
              খবর নাও আমার<br />
উড়াল দিয়ে যাও তার কাছে<br />
     বলো তারে আমার কথা,<br />
পাখায় করে দুঃখ নিয়ে যাও<br />
                জানাও তারে রঙ<br />
         যে রঙে ডুবেছি আমি<br />
     নীলে নীল ভীষম ব্যথা!<br />
                    161<br />
এই আকাশে এই উঠানে<br />
           জেনো আমার মনে<br />
নানা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-159073"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/159073/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d3a1449d79f9412ccdc1cb83c8eda874</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক
     &#x25aa;পার্থসারথি
                  171
একটু রোদ একটু বৃষ্টি
                  এইতো আছি বেশ,
তোমার আমার লুকোচুরি দৃষ্টি
      ভালোবাসার গৃহে প্রবেশ।
                  172
এসেছিলাম মেলবো চোখ
           নয়ন জোড়ানো আকাশে,
মেঘলা আকাশ দৃষ্টি এলোমেলো
                      আর চিরবিমুখ সে!
                  173
আমি আছি এই আকাশে
            তোমার কাছে আশেপাশে,
তুমি একটু নয়ন মেলে
      তাকাও আমার চোখের চোখে।
                   ♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/158778/</link>
				<pubDate>Sun, 09 Oct 2022 01:29:25 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক<br />
     &#x25aa;পার্থসারথি<br />
                  171<br />
একটু রোদ একটু বৃষ্টি<br />
                  এইতো আছি বেশ,<br />
তোমার আমার লুকোচুরি দৃষ্টি<br />
      ভালোবাসার গৃহে প্রবেশ।<br />
                  172<br />
এসেছিলাম মেলবো চোখ<br />
           নয়ন জোড়ানো আকাশে,<br />
মেঘলা আকাশ দৃষ্টি এলোমেলো<br />
                      আর চিরবিমুখ সে!<br />
                  173<br />
আম&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-158778"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/158778/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>14</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">ade5df93430849ce640a07a66affb3b0</guid>
				<title>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
পর্ব-১0
তারপর এগিয়ে আসে রুচিরার কাছাকাছি। এরই মধ্যে মেয়েটা নিজেকে কিছুটা প্রস্তত করে নেয়। মুখমন্ডল কিছুটা শক্ত করে ফেলেছে। কাছে এসেই বলে- কী বলবেন বলুন।
রুচিরা রাগত অথচ শান্ত কণ্ঠে বলে- আপনি বিকেল যে কমেন্টসগুলো করলেন তা কিন্তু ভীষণ রকম অপরাধ।
আমিতো আপনাকে চিনিই না। কখন আবার কী বললাম।- মেয়েটি অবাক হওয়ার ভান করে বলে।
রুচিরা রাগতঃ কন্ঠেই বলে এবার- আমি তাহলে ভুল শুনলাম!
সেটা আপনার সমস্যা। আমি আপনাকে অনর্থক কিছু বলতে যাবো কেন?
দেখুন, একদম মিথ্যা বলবেন না।
মেয়েটির অস্বীকার করার চেষ্টা- আমি আপনাকে কিছুই বলিনি।
যদি স্বীকার করার সাহস-ই না থাকে তবে অনর্থক কথা বলেন কেন?- রুচরিা বশে রাগ করেই চোখ রাঙিয়ে বলে।
বললাম তো আপনাকে আমি কিছুই বলিনি।- মেয়েটি এবার চোখ রাঙিয়ে বলার চেষ্টা করে।
রুচিরা চোখ গরম করে বলে- আমাকে বলেননি? আশেপাশে তো আর অন্য কেউ ছিল না।
দেখুন বারবার এক কথা বলবেন না। বললাম তো আপনাকে আমি কিছুই বলিনি।
র্তকাতর্কি শুনে রুমের অন্যান্যারা এগিয়ে এল। কিন্তু কেউ কিছু বলছে না। রুচিরা এবার আঙুল উঁচিয়ে বলে- স্বীকার যখন করছেন না তাই কিছু বললাম না। নইলে টের পাইয়ে দিতাম।
এবার মেয়েটা উত্তেজিত হয়ে বলে- বলেছি, কী করবেন আপনি?
রুচিরা হাত বাগিয়ে এগিয়ে যায় মেয়েটির দিকে। অন্য মেয়েরা সবাই মিলে ফিরিয়ে রাখে। পারমিতাও রুচিরাকে জড়িয়ে ধরে বলে- শান্ত হোন রুচিদি, শান্ত হোন। ওই মেয়েটাও গরম হতে যায় কিন্তু পরক্ষণই শান্ত হয়।
মেয়েগুলোর মধ্যে একজন বলে- ঘটনা কী হয়েছে আগে ভালো করে জানি, তারপর সমাধান করা যাবে। দিদি ভেতরে আসুন।
রুমে ঢুকতেই রুচিরাকে একটা চেয়ার এগিয়ে দিল। চেয়ারে বসেই রুচিরা মেয়েটিকে বল- আপনি আমাকে কতটুকু চেনেন বা জানেন?
মেয়েটা এবার চুপচাপ।
কারও সম্পর্কে কিছু বলতে হলে আগে জেনে নিন ওই ব্যক্তিকে । শুনবেন আর বিশ্বাস করবেন এটা কিন্তু ঠিক নয়। রুচিরার কণ্ঠে হালকা রাগ ছড়িয়ে পড়ল।
মেয়েটি একপলক তাকিয়েই আবার চুপচাপ।
হ্যাঁ আছে, কিছু মেয়ে আছে যে হোটেলে যায়। আচ্ছা ধরুন আমিই যাই। কথাটা শুনে মেয়েটা রুচিরার দিকে আশ্চর্য দৃষ্টি নিয়ে ফিরে তাকায়।
রুচিরা বলে চলে- আমি যাচ্ছি, কেন যাচ্ছি বা কেন বাধ্য হলাম এ জঘন্য কাজে যেতে সেটি কী কোনদিন জানতে চেয়েছেন কারও কাছে? উত্তরের অপেক্ষা না করে রুচিরা নিজেই উত্তর দেন- অবশ্যই করেননি। শুধু শুনেছেন আর সেই ধারণাটাই চাপিয়ে দিচ্ছেন। সামাজিক কোন দায়িত্ববোধ কি আপনার নেই?
অবনত হয়েই মেয়েটি নখে বিছানার চাদর খুটছে। রুমের ভেতর কারও মখে টু শব্দটি নেই। পিনপতন নীরবতা ভেঙে রুচিরা বলে- প্রতিটি মেয়েই তার সম্ভ্রমকে জীবনের পরম সম্পদ ভাবে। সুস্থ জীবন থাকতে এই সম্ভ্রম কেউ হারাতে চায় না। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লেভেলে যারা আসে তারা নিশ্চয়ই ইম্ম্যাচিউরড নয়। তারা নিজেদের ভালো-মন্দ বোঝে। যদি কিছু বলার ইচ্ছেই হয় তবে ওদের সাথে সরাসরি কথা বলেন। জানতে চেষ্টা করেন, এটা আপনার সামাজিক দায়িত্ব।
মেয়েটি এবার বিনম্র দৃষ্টিতে তাকায় এবং বলে- সরি দিদি, এমনটি আর কখনও হবে না।
রুচিরা চেয়ার ছেড়ে উঠে গিয়ে মেয়েটির পিঠে হাত রেখে বলে- ভুল তো মানুষেরই হয়। আর শোন আমি আড়ংয়ে পার্ট-টাইম চাকরি করি। টাকার দরকার তাই আমাকে চাকরিটা করতেই হয়।
মেয়েটি এবার রুচিরাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদু কাঁদু কণ্ঠে বলে- আমার ভুল হয়ে গেছে দিদি, আমাকে ক্ষমা করে দিন।
মেয়েটিকে বুকে টেনে নিয়ে রুচিরা বলে- ঠিক আছে, তুমি তোমার ভুল বুঝতে পেরেছ সেটাই যথেষ্ট। একথা শেষে রুচিরা পারমিতাকে ডেকে বলে- পারমিতা উঠ, যাওয়া যাক।- এই বলে দরজার দিকে পা বাড়ায় রুচিরা। পিছু পিছু পারমিতা। মেয়েটিও এগিয়ে আসে। তারপর বলে- দিদি, আবার আসবেন কিন্তু।
রুচিরা মিষ্টি হাসি হেঁসে সামনে পা বাড়ায়।
*
সৈকত স্নান শেষে তোয়ালেতে মাথা মুছতে মুছতে রুমে প্রবেশ করে। রুমের ভেতর কয়েক কদম ফেলতেই হঠাৎ চোখ পড়ে পারমিতা ও রুচিরার ওপর। সৈকত আর্শ্চয হয়ে মুহূর্ত সময় থমকে দাঁড়ায়। খালি গা-টুকু তোয়ালে দিয়ে ঢেকে নেয়। তারপর কাছে এগিয়ে এসে সৈকত বলে- কী ব্যাপার রুচিদি হঠাৎ এভাবে এলেন যে? কথাগুলো রুচিরাকে বললেও পারমিতার দিকেও এক পলক তাকায়।
রুচিরা কিছুই বলে না। মিটিমিটি হাসে। রুচিরার হাসি পারমিতার মাঝেও ছড়ায়। পারমিতা এই প্রথম কোন ছেলে হলে এল। বেশ আড়ষ্টভাব জড়িয়ে আছে ওর মাঝে। সৈকত এক ফাঁকে ভেজা লুঙ্গিটা রোদে ছড়িয়ে দিয়ে আসে। তারপর একটা শার্ট গায়ে জড়িয়ে চেয়ার টেনে কাছাকাছি হয়ে বসল। সৈকত তাকিয়ে আছে রুচিরার দিকে কিছু একটা শুনবার প্রত্যাশায়। রুচিরা কিছুক্ষণ রহস্য করল। সৈকত তো তাকিয়েই আছে; আঁড়াচোখে তাকাতেই পারমিতার চোরা দৃষ্টি ধরা পড়লো। পারমিতা গুটিয়ে গেল লজ্জায়।
রুচিরার দু’চোখ ঘরময় ঘুরে ঘুরে এসে বলল, তোমরা ছেলেরা এত অগোছালো থাক কেন?- এই বলে- দেয়ালের কোণায় কোণায় জমে থাকা মাকড়সার ঝুল, আলনায় পড়ে থাকা এলোমেলোভাবে জামা কাপড়ের ওপর থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিয়ে আসে বিছানায় ওপর। রুচিরা আবার বলে- এসব পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রেখো। রুচিরা উঠে দাঁড়ায়, তারপর বলে- পারমিতা বিছানাটা একটু গোছগাছ করে দাওতো।
রুচিরার কথায় পারমিতার চোখ-মুখ রক্তবর্ণ হয়ে গেল। পারমিতা বিছানায় হাত দিতেই সৈকত ‘না, না ’ বলে পারমিতাকে ফেরাতে যায়। রুচিরা হালকা ধমকের সুরে বলে- সৈকত সরে দাঁড়াও। বিছানাটা একটু গুছিয়ে দিক।
রুচিরার কথামত সৈকত একটু সরে দাঁড়ায়। পারমিতা বিছানা গোছাতে থাকে।
রুচিরার শেষ কথাটায় অনিকের ঘুমের রেশটা কেটে যায়। সে ফিরে তাকায়। রুচিরার চোখে চোখ পড়ে। রুচিরাই প্রথমে কথা বলে- সরি অনিক তোমার ঘুমে ডিস্টার্ব করলাম বলে।
অনিক ঘুম জুড়ানো চোখেই উঠে বসে এবং বলে- না, না কোন অসুবিধা হয়নি। এখনই উঠতাম। কখন এসেছেন? একদমই টের পাইনি। তারপর পারমিতার দিকে তাকিয়ে অনিক বলে- কেমন আছেন?
পারমতিা বলে- আমি ভালো আছি। আপনার তো আর দেখাই পেলাম না।
চলবে...

“ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর”
*পার্থসারথি

♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
N.B.: If you want to read previous part, kindly click on my profile picture.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/158321/</link>
				<pubDate>Sat, 08 Oct 2022 06:12:27 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )<br />
পর্ব-১0<br />
তারপর এগিয়ে আসে রুচিরার কাছাকাছি। এরই মধ্যে মেয়েটা নিজেকে কিছুটা প্রস্তত করে নেয়। মুখমন্ডল কিছুটা শক্ত করে ফেলেছে। কাছে এসেই বলে- কী বলবেন বলুন।<br />
রুচিরা রাগত অথচ শান্ত কণ্ঠে বলে- আপনি বিকেল যে কমেন্টসগুলো করলেন তা কিন্তু ভীষণ রকম অপরাধ।<br />
আমিতো আপনাকে চিনিই না। কখন আবার কী বললাম।- মেয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-158321"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/158321/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">97e4fb4e124b152fa6c7b4dbcc87d736</guid>
				<title>পার্থসারথি and হৈমন্তীকা are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/158098/</link>
				<pubDate>Fri, 07 Oct 2022 17:41:36 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">a47d60a5fa738632c0f4d181e897105d</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক
     &#x25aa;পার্থসারথি
                  177
ভুলটা কী আমার
          নাকি তোমার থেকে,
ইচ্ছে হয় উল্টে দেখি
          ভালোবাসার মলাট ঘেটে।
ঠিকইতো আছে
     গোলাপ ফুটেছে গোলাপবাগে
                    পূর্ণিমায় চাঁদ আছে
  তবুও মনের ভেতর দ্বিধা জাগে!
                  আমি নাকি তুমি কাছে
জানি তোমার ভেতর আমি আছে।

                    178
জানি, এই জনমে হবে না আর
                    তোমার আমার দেখা,
চাঁদ র&#039;বে পূর্ণিমার আকাশে
       দেখবে না কখনও সূর্যের রেখা!
                       ♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/158003/</link>
				<pubDate>Fri, 07 Oct 2022 13:20:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক<br />
     &#x25aa;পার্থসারথি<br />
                  177<br />
ভুলটা কী আমার<br />
          নাকি তোমার থেকে,<br />
ইচ্ছে হয় উল্টে দেখি<br />
          ভালোবাসার মলাট ঘেটে।<br />
ঠিকইতো আছে<br />
     গোলাপ ফুটেছে গোলাপবাগে<br />
                    পূর্ণিমায় চাঁদ আছে<br />
  তবুও মনের ভেতর দ্বিধা জাগে!<br />
                  আমি নাকি তুমি কাছে<br />
জানি তোমার ভেতর আমি আছে।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-158003"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/158003/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>12</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f81165f04f401424c8e5c5f845693245</guid>
				<title>(ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস)
পর্ব-০৯
আমি কিছুই বলতে পারিনি। মা-বাবার ওপর খুব রাগ হচ্ছিল। কতক্ষণ নিজে নিজে বিড়বিড় করলাম। লোকটার সাথে তারপর আর কোন কথা বললাম না।
যথাসময় লোকটা বিদায় নিয়ে চলে যায়। লোকটার মা-ও জানেন না যে, তার ছেলে চিরতরে চলে যাচ্ছে। কারণ সে তার মার কাছে বলে গেছে ক&#039;দিনের জন্য ঢাকায় যাচ্ছে।
পারমিতা বলে ওঠে- আপনি লোকটার মাকে সত্যি কথাটা বলে দিলেন না কেন?
রুচিরা কণ্ঠটাকে একটু দৃঢ় করে বলে- আমি ইচ্ছে করেই বলিনি। ভাবলাম বাকি জীবনটা পুত্রহীন কাটিয়ে কিছুটা হলেও যন্ত্রনা ভোগ করুক।
কয়েকদিন পর অবশ্য সব বললাম। আমার কথা শোনার পর মহিলার সে কী কান্না! দু’দিন পর্যন্ত নাওয়া-খাওয়া করেননি। আর তৃতীয় দিনে চেপে ধরলাম আমি।
মহিলা আমাকে বুঝাতে চেষ্টা করেছেন- ছেলেকে কাছে ধরে রাখার জন্য এমনটি করেছি। অন্য কিছু ভেবে করিনি মা, তুমি আমাকে ক্ষমা কর।
আপনি আমার জীবনটাই নষ্ট করে দিয়েছেন। আপনি যে অপরাধ করেছেন তা ক্ষমার যোগ্য নয়। আমি আপনাকে কোনদিন ক্ষমা করতে পারবো না।
তার পরদিনই আমি চলে আসি। মা-বাবা আমার কথা শোনার পর হতবিহ্বল হয়ে যায়। কষ্টের সীমানা পেড়িয়ে আমি খুশী হওয়ার ভান করেছি শুধু মা-বাবাকে কষ্ট দেয়ার জন্য। কিছুদিন পর আমি নিজেই উকিল নোটিশ পাঠিয়ে দিই।
রুচিরার কথা শোনার পর পারমিতা যেন স্তব্ধ হয়ে যায়। কী বলবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। বুকের ভেতরটা হাহাকার করে ওঠেছে। তবুও অনেকটা সামলে নিয়ে পারমিতা বলে- যা হয়েছে তা-তো আর ফিরে পাবেন না। সব কিছু ভুলে যেতে চেষ্টা করুন। জীবনটাকে আবার নতুন করে সাজিয়ে তোলেন। দেখবেন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। মানুষের জীবনে কত হাজার রকমের দর্ঘটনা ঘটে। ধরে নিন, এটা একটা দুর্ঘটনা। একটু সময় নিন দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে।
চেষ্টাতো করছি-ই ভাই। কিন্তু মনটাকে প্রবোধ মানাতে পারছি না।
পারমিতা এসে রুমে ঢুকেই জিজ্ঞ্যেস করে-‘একা একা কার সাথে কথা বলছেন?
পারমিতার উপস্থিতিতে রুচিরার তন্ময়ভাব কেটে যায়। তারপর বলে- স্মৃতি নিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছিলাম।
অফিসে যাচ্ছেন বুঝি?- পারমিতা জানতে চায়।
বাম হাতে ছোট আয়নাটা ধরে রেখে ঠোঁটে লিপস্টিক রঙ লাগাতে লাগাতে রুচিরা বলে- হ্যাঁ, অফিসে যাচ্ছি। ও হ্যাঁ পারমিতা, আজ সম্ভবত বেতনটা পাব। বেতন পেলেই তোমাকে আর সৈকতকে চাইনিজে নিয়ে যাব। তারপর নাটকপাড়ায় নাটক দেখতে যাব।
পারমিতা খুশী হয়ে বলে- ঠিক আছে।
রুচিরা ভ্যানিটি ব্যাগটা হাতে নিয়ে বাইরে পা বাড়ায়। পারমিতা সাথে সাথে হেঁটে চলে। বিল্ডিং-গেট পেরিয়ে একটু এগোতেই একটা মেয়ে উদ্দেশ্যবিহীনভাবে বলে- আজকের সাজগোজটা ভালোই হয়েছে। কাস্টমার বেশি জুটবে।
কথা বলার সাথে সাথেই অন্য মেয়েগুলো খিলখিলিয়ে হেসে একজন অন্যজনের ওপর গড়িয়ে পড়ছে।
কথাগুলো রুচিরা স্পষ্টই শুনেছে এবং বুঝতে পেরেছে। আশেপাশে অন্য কেউ নেই। রুচিরার উদ্দেশ্যেই বলা সেটা ওর বুঝতে একটুও অসুবিধা হয়নি। রুচিরা পারমিতাকে বলে- ওই মেয়েটা কত নম্বর রুমে থাকে জান?
হ্যাঁ দিদি, জানি।- পারমিতা উত্তরে বলে।
রুচিরা কেন জানতে চেয়েছে তা ও বুঝতে পারেনি। কারণ একটু আগে যে কথাগুলো বলেছে ওই মেয়েটা তা পারমিতা শুনতে পায়নি বা লক্ষ্য করেনি।
রুচিরা আর কথা বাড়ায়নি। গেইট পেরিয়ে গিয়ে রিকশায় উঠল রুচিরা। তারপর পারমিতাকে বলল- রাতে তুমি হলেই থেকো। আবার বাসায় চলে যেও না কিন্তু। কাজ আছে।
ঠিক আছে, বাসায় যাব না।
রিকশাওয়ালার পা চলতে থাকে। পারমিতা কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে আবার হলের ভেতর পা বাড়ায়।
*
পড়ার টেবিলে বসা অবধি লেখাপড়াতে মনটা ঠিকমতো বসাতে পারেনি পারমিতা। হৃদয়ের পুরো পৃষ্ঠা জুড়ে সৈকতের অবাধ বিচরণ। পারমিতার চোখের সীমানায় শুধু সৈকত। মনের অজান্তে সাদা পাতার বুক জুড়ে কলমের চিবুক বেয়ে নেমে এল সৈকত, সৈকত, সৈকত! নামের উপরে আরও আঁকিবুকি করতে লাগল। মাঝেমাঝে নিজের নামটাও বসিয়ে দিচ্ছে। বসিয়ে দিয়েই পরক্ষণে নিজেই লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একটা ঘোরের মধ্যেই কেটে গেল পুরো সময়টা।
রুচিরা রুমে ঢুকেই দেখতে পায় পারমিতা মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করছে। কোনরকম শব্দ না করে চুপচাপ পারমিতার চেয়ার ঘেঁষে দাঁড়াল। খাতার উপর চোখ পড়তেই ‘সৈকত’ লেখার পাশাপাশি ‘পারমিতা’ লেখা অক্ষরগুলো চোখ পড়ে। সাথে সাথেই রুচিরা বলে- সরি, আই অ্যাম রিয়্যালি সরি।
পারমিতা তড়িৎ গতিতে খাতাটা লুকিয়ে লজ্জাবনত দৃষ্টি নিয়ে রুচিরার দিকে তাকিয়ে বলে- আপনি কখন এলেন?
এইমাত্র এলাম। রুমে না গিয়ে সোজা তোমার রুমেই চলে এলাম। খাওয়া হয়েছে তোমার?
পারমিতা অবাক চোখে ঘড়ির দিকে তাকায়। নয়টা বেজে পাঁচ । বেশ অবাকই হয় পারমিতা। তারপর অস্ফুটস্বরে উচ্চারণ করে- এত রাত হয়ে গেল কখন?- বলেই লজ্জায় অবনত হয়ে আসে।
রুচিরা মুচকি হেসে কানে কানে বলে- সৈকত খুবই ভালো ছেলে। সৈকতও তোমাকে খুব ফিল করে।
পারমিতা খুশী হয়েও যেন লজ্জায় ডুবে গেল। রুচিরার এক হাত টেনে ধরে বলে- চলুন আগে রাতের খাবার খেয়ে আসি।
খাওয়ার কাথাটা মনে এলেই অরুচি এসে যায়।- এই কথা বলে পারমতিা রুচিরার দিকে তাকায়।
রুচিরা বলে- কী আর করা, চলো খেতে তো হবেই। যতদিন বেঁচে আছি খেতে তো হবেই। দু&#039;জন একসঙ্গে ক্যান্টিনের দিকে পা বাড়ায়।
খাওয়া শেষ করেই রুচিরা বলে- বিকেলে যে মেয়েটার কথা বলেছিলাম ওই মেয়েটার রুমে চল।
পারমিতা কিছুটা অবাক হয়েই বলে- এখনই যাবেন। বিশেষ দরকার বুঝি?
রুচিরা পারমিতাকে বিকেলের ঘটনাটা বলে। কথাটা শোনার সাথে সাথে পারমিতা বলে- তখন কিছু বললেন না কেন?
অফিসের দেরি হয়ে যেত, তাই। চল, এখন যাব।
ঠিক আছে চলুন।- পারমিতা বেশ স্বাভাবিক ভাবেই বলে।
দু’জন চুপচাপ হেঁটে চলে। দরজার কাছে এসে দাঁড়াল। বেশ কয়েকটি মেয়ে রুমে বসে গল্প করছে। রুচিরাকে দেখামাত্রই ওই মেয়েটার চোখ-মুখ ফ্যাক্যাশে হয়ে গেল। সাথে অন্য যে মেয়েগুলো ছিল ওদরে কেউ এখানে নেই। রুচিরা মেয়েটার উদ্দেশে বলে- আপনার সাথে কিছু কথা ছিল।
মেয়েটা চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না।

চলবে...

&quot;ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর&quot;
*পার্থসারথি
♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
N.B.: If you want to read previous part, kindly click on my profile picture.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/157496/</link>
				<pubDate>Thu, 06 Oct 2022 15:23:45 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>(ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস)<br />
পর্ব-০৯<br />
আমি কিছুই বলতে পারিনি। মা-বাবার ওপর খুব রাগ হচ্ছিল। কতক্ষণ নিজে নিজে বিড়বিড় করলাম। লোকটার সাথে তারপর আর কোন কথা বললাম না।<br />
যথাসময় লোকটা বিদায় নিয়ে চলে যায়। লোকটার মা-ও জানেন না যে, তার ছেলে চিরতরে চলে যাচ্ছে। কারণ সে তার মার কাছে বলে গেছে ক&#8217;দিনের জন্য ঢাকায় যাচ্ছে।<br />
পারমিতা বলে ওঠে- আপনি&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-157496"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/157496/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">6244e8cec03f515c0012b6f070d871a1</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক
     &#x25aa;পার্থসারথি
                  179
আমি জেনেছি চাঁদের কাছে
        আরও বলেছে রোজকার সূর্যটা
        ওরা যেমন ছিল তেমনই আছে,
প্রিয়তমা, জিজ্ঞাসি তোমারে
        ফোটে কি গোলাপ? উতলা হয় মন তোমার?
        তুমি আর তোমার মনটা এখন কেমন আছে?
একই আছে?
        চাঁদের মতো অথবা সূর্যের মতো,
        নাকি বদলে ফেলেছো
যা ছিল সব আগের।
                  ♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/157244/</link>
				<pubDate>Thu, 06 Oct 2022 08:06:32 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক<br />
     &#x25aa;পার্থসারথি<br />
                  179<br />
আমি জেনেছি চাঁদের কাছে<br />
        আরও বলেছে রোজকার সূর্যটা<br />
        ওরা যেমন ছিল তেমনই আছে,<br />
প্রিয়তমা, জিজ্ঞাসি তোমারে<br />
        ফোটে কি গোলাপ? উতলা হয় মন তোমার?<br />
        তুমি আর তোমার মনটা এখন কেমন আছে?<br />
একই আছে?<br />
        চাঁদের মতো অথবা সূর্যের মতো,<br />
        নাকি বদলে ফেলেছো<br />
যা ছ&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-157244"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/157244/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">897d4aad34b9c8f52e4ca6149878426a</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক
     &#x25aa;পার্থসারথি
                  180
মেঘের কোলে মেঘ
                       কাজল টানা রেখা,
মনের ভেতর ভীষণ আবেগ
হোক বা না-হোক তোমার সনে দেখা!
তুমিই আমার প্রেম
                       তুমিই ভালোবাসা!
                     181
বুঝি না জানি না
                       এমন কেন হয় সবসময়,
ভালোবাসি না তোমাকে ভাবি না
                       তোমার চোখেই আমি ছন্দময়।
                    182
তোমার নামেই বিশ্ব সংসার
                      তোমার নামেই ঋতু,
তোমার নামেই মানব ছারখার
                      তুমিই সবকিছুই!
                     ♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/156915/</link>
				<pubDate>Wed, 05 Oct 2022 12:18:28 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক<br />
     &#x25aa;পার্থসারথি<br />
                  180<br />
মেঘের কোলে মেঘ<br />
                       কাজল টানা রেখা,<br />
মনের ভেতর ভীষণ আবেগ<br />
হোক বা না-হোক তোমার সনে দেখা!<br />
তুমিই আমার প্রেম<br />
                       তুমিই ভালোবাসা!<br />
                     181<br />
বুঝি না জানি না<br />
                       এমন কেন হয় সবসময়,<br />
ভালোবাসি না ত&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-156915"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/156915/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">13ec8a26f2e01881bbdcdd3b32a36884</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক
     
                  183
কেমন যেন এলোমেলো
                   আবার ছন্দহারা,
চলো এবার হারিয়ে যাই
                  হই দিশেহারা।
                  184
তুমি আমার সব ভাবনা
                 এলোমেলো ঘুম,
তোমায় ভাবলেই নীল জোছনা
                 উৎসবের পড়ে ধুম!
                  185
এই আকাশে মন ভুবনে
                 দুঃখের ভেতর সাগর,
আমি ওগো তোমায় হীনে
                রৌদ্রতপ্ত ভাদর।
                    ♡
&#x25aa;পার্থসারথি</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/156489/</link>
				<pubDate>Tue, 04 Oct 2022 17:33:20 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক</p>
<p>                  183<br />
কেমন যেন এলোমেলো<br />
                   আবার ছন্দহারা,<br />
চলো এবার হারিয়ে যাই<br />
                  হই দিশেহারা।<br />
                  184<br />
তুমি আমার সব ভাবনা<br />
                 এলোমেলো ঘুম,<br />
তোমায় ভাবলেই নীল জোছনা<br />
                 উৎসবের পড়ে ধুম!<br />
                  185<br />
এই আকাশে মন ভুবনে&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-156489"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/156489/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">483789573f3341d8c47a9a252c4a9316</guid>
				<title>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
পর্ব-০৮
কথার পিঠে কোন কথা আমি বলছি না। কিন্তু মা বলেই চললেন- আগামীকাল তোর বাবা গিয়ে কথা বলে আসবেন। তারপর উনারা এসে তোকে দেখে যাবে।
মা’র আরও অন্যান্য কথা থেকে জানা গেল, ছেলে গত দশ বছর যাবৎ আমেরিকায় থাকে। বয়স পঁয়ত্রিশ থেকে আটত্রিশ । বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। ছেলের মা চাচ্ছেন ছেলেকে বিয়ে-শাদী করিয়ে দেশেই আটকে রাখতে। ছেলে আমাদের পাশের গ্রামের। মা&#039;র সব কথা শেষ হলে আমি বলি- এখন বিয়ে-শাদী করব না। আগে লেখাপড়া শেষ করি । তারপর যা বলবে সবই শুনব।
মা আমাকে আদর করতে করতে বললেন- লক্ষীসোনা আমার। ছেলেটা খুবই ভালো। না করিস না। বেশ টাকা-পয়সা আছে। তাছাড়া বিয়ের পর তোর লেখাপড়া তুই করে যাবি। এমন একটা পাত্র হাতছাড়া করা ঠিক হবে না। বিদেশ ফেরত । দেখতে সুন্দর। ছিমছাম গোছানো পরিবার। আমরা যেমন চেয়েছিলাম তার চেয়েও ভালো। সবসময় এমন সম্বন্ধ পাওয়া যায় না। তাছাড়া আমাদের পাশের গ্রামের।
এসব জানাই কি যথেষ্ট? তাছাড়া ছেলের বয়স আমার দ্বিগুন হবে।- আমি মাকে বলি।
মা আমাকে বুঝানোর চেষ্টা করেন- ছেলেদের এই বয়স এমন কিছু নয়। বরং ওরা একটু সংসারী হয়। তুই অমত করলে তোর বাবা ভীষণ রাগ করবেন এবং আমিও খুব কষ্ট পাবো।
এতে রাগ করার কী আছে? আমি এখন বিয়ে-শাদী করবো না।- দৃঢ়কণ্ঠে বলার চেষ্টা করি।
বিয়েতে ছেলে-পক্ষের কোন দাবি-দাওয়া নেই। তুইতো বুঝতেই পারিস, তোর বাবার পক্ষে খরচপাতি করে তোকে বিয়ে দেয়ার মত সাধ্য নেই। তুই অমত করে তোর বাবাকে কষ্টে ফেলিস না।
মার কথা শুনে চুপচাপ শুয়ে থাকি। একসময় মা ঘুমিয়ে পড়েন। আর আমি সারারাত কান্নায় বুক ভাসাই। নানান চিন্তায় সারারাত ঘুরপাক খাই। কোন কূল কিনারা পাইনি। কী করবো না করবো ভেবেই দিশেহারা; আমি অনন্যোপায় হয়ে অভিমান বুকে চাপা দিয়ে চুপচাপ থাকলাম। কারণ আমার কোন কথাকেই মা কিংবা বাবা কেউ পাত্তা দিচ্ছিল না। অবাধ্য হয়ে যে বেঁকে বসে থাকবো তা&#039;ও পারছিলাম না।
পরদিন বাবা স্কুলে গেলেন না। ছুটি নিয়ে সোজা ছেলের বাড়ি গেলেন। বিকেল বেলা ফিরে এসে জানালেন- ছেলে, পরিবার, বাড়ি সব মিলিয়ে শতভাগ পছন্দ হয়েছে। ছেলেপক্ষ আগামীকাল আমাকে দেখতে আসবে।
আমার কোন না-ই বাবা কিংবা মা শুনলেন না। মা এবং বাবার ধারণা এর চেয়ে ভালো পাত্র আমার জন্য জুটবে না কিংবা জুটাতে পারবেন না। তারপর আমি নীরব থেকে গেলাম। আমার অমতেই ধুমধাম করে বিয়ে হয়ে গেল।
এটুকু বলার পর রুচিবার চোখে মুখে যেন রাজ্যের ক্লান্তি জড়িয়ে এল। চোখ ছলছল করছে। ঠোঁটের কাঁপন স্পষ্টই দেখতে পেল পারমিতা। পারমিতা একেবারে চুপচাপ । কথাগুলো শুনে ভীষণরকম খারাপ লাগছে। রুচিরা নিজেকে সামলে নিয়ে আবার বলে চলে- তুমি আমার ছোটবোনের মত। এরপরও তোমাকে বলব।
কথা শুনতে শুনতে পারমিতার মনটা ক্রমশঃ খারাপ লাগায় প্লাবিত হচ্ছে। তবুও পারমিতা মাথা কাত করে ‘হ্যা’ সূচক ইঙ্গিত দেয়।
বাসর রাতটা থাকে প্রতিটি মানুষের জীবনে স্মৃতিময় অধ্যায়। বিশেষ করে মেয়েরা, এই রাতটি নিয়ে কত সুন্দর সুন্দর ছবি এঁকে রাখে। বাসর রাতের জন্য প্রতিটি মানুষের জীবন চলে অপেক্ষায় থাকা একেকটা প্রেমময় মহাকাব্য। অথচ আমার জীবনটা বাসর রাতেই তছনছ হয়ে গেল। বিয়েটা অমতে হলেও অনেক কথা মনের ভেতর সাজিয়ে রেখেছিলাম বাসর রাতে বলব বলে। অথচ লোকটা বাসর কুঞ্জে ঢুকেই অশ্লীল হাত দুটো এলোমেলোভাবে আমার সারা শরীরে চালায়।
আপনি বাধা দিতে পারলেন না? রুচিরার কষ্টটুকু পারমিতাকেও যেন গভীরভাবে ছুঁয়ে গেল।
আর কিসের জন্যে বাধা দেব। আমার জীবনটাই তো ওর হাতের মুঠোর চলে গেল। ভাবলাম বিয়ে যখন হয়েই গেছে তখন সহ্য না করে উপায় নেই। তারপর লোকটা সারারাত নেকড়ের মত আমাকে খাবলে খাবলে উপভোগ করল। আমি নিরুপায় হরিণীর মত শুধু ছটফট করলাম। এভাবে প্রায় মাসখানেক চলল। আমার জীবনের সব রস, আনন্দ, দুমড়ে-মুচড়ে একাকার করে দিল। আমার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্পর্শে স্পর্শে নীল করে তুলল। সে কী বিভৎস স্মৃতি। মনে হলেই কষ্টগুলো চাড়া দিয়ে ওঠে হিংস্র নেকড়ের মতো। তখনই পৃথিবীর সবকিছু আমার কাছে একেবারে অর্থহীন মনে হয়; পৃথিবীর সকল সৌন্দর্যই আমার চোখে কুৎসিত লাগে। পূর্ণিমার জোছনা ভরা আকাশ, এক আকাশ ভরা তারার ঝিকিমিকি কিংবা ভোরের সূর্যের উঁকি সবই অর্থহীন মনে হয় আমার কাছে। জীবনের প্রতি বিন্দুমাত্র ভালোবাসা নেই।
কথাগুলো বলতে বলতে রুচিরা যেন উত্তেজিত ও উন্মাদপ্রায় হয়ে ওঠে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তবুও বলতে থাকে আবার- শেষ রাতটিতে লোকটা যেন সত্যি সত্যি নেকড়ে হয়ে গেল। আমি ক্লান্ত। কষ্টে নিঃশ্বাসটুকু ফেলার মত অবস্থা আমার নেই। অথচ আমার কষ্টের নিঃশ্বাস থেকেও যেন লোকটা স্বাদ ছেকে নিতে লাগল। অবশ হয়ে এল আমার শরীর । ঘুমের রাজ্যে যেন তলিয়ে গেলাম আমি।
ভোর রাতে যখন চেতন ফিরল চেয়ে দেখি লোকটি চেয়ারে বসে সিগারেট ফুঁকছে। আমার জ্ঞান ফিরেছে টের পেয়েই কাছাকাছি হয়ে বসল। আমি চোখ জোড়া বন্ধ করে শুয়ে রইলাম। কোমর থেকে নীচ পর্যন্ত কোন অনুভূতি টের পেলাম না। সম্ভবত যন্ত্রণায় অবশ হয়ে গিয়েছিল নিম্মাংশ।
লোকটা ডেকে আমাকে বলে- আমি আজই আমেরিকার উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছি। এই জীবনে তোমার সাথে আমার আর দেখা না-ও হতে পারে। আমার ইচ্ছে নেই যদি-না ভাগ্য টেনে আনে।
আমি চুপচাপ শুয়ে থাকি। লোকটা বুঝতে পেরেছে যে আমি কিছুই বলব না। তাই আবার বলে চলে- আমি আগেই বিয়ে করেছি। আমার তিন বছর বয়সী এক ছেলেও আছে। তোমাকে বিয়ে করার ইচ্ছে আমার ছিল না। আমার মা আমাকে জোর করে বিয়ে করিয়েছেন। অবশ্য বাবা থাকলে এই কাজটা করাতে সাহস করতেন না। যাই হোক, এসব বলে আর কোন লাভ নেই। আমি বাংলাদেশে থাকছি না, এটাই ফাইনাল। আমি কিন্তু আমার মাকে সব বলেছিলাম। এরপরও মা এমনটা করালেন। তোমার কিছু বলার থাকলে বলতে পারো।
চলবে...

&quot;ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর&quot;
*পার্থসারথি
♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।
N.B.: If you want to read previous part, kindly click on my profile picture.</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/156267/</link>
				<pubDate>Tue, 04 Oct 2022 07:04:00 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )<br />
পর্ব-০৮<br />
কথার পিঠে কোন কথা আমি বলছি না। কিন্তু মা বলেই চললেন- আগামীকাল তোর বাবা গিয়ে কথা বলে আসবেন। তারপর উনারা এসে তোকে দেখে যাবে।<br />
মা’র আরও অন্যান্য কথা থেকে জানা গেল, ছেলে গত দশ বছর যাবৎ আমেরিকায় থাকে। বয়স পঁয়ত্রিশ থেকে আটত্রিশ । বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। ছেলের মা চাচ্ছেন ছেলেকে বিয়ে-শাদী কর&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-156267"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/156267/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>16</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">08e0ecf4ac29b4fa7fdfea3ad3b28bdd</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক- 186
     &#x25aa;পার্থসারথি
                 
প্রিয়তমা, তোমার ফেলে যাওয়া দীর্ঘশ্বাস
আমার পকেটে গোলাপ হয়ে ফুটে আছে,
রূপালি চাঁদে মেঘ ওড়া আকাশ
হাওয়ায় উড়ে উড়ে সুখ দিচ্ছে;
আমি ভালোবাসাহীন সুখী মানুষ
বেঁচে আছি মনের সুখের নির্লিপ্ত উত্তাপে।
                           ♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/155511/</link>
				<pubDate>Mon, 03 Oct 2022 03:52:30 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p> # ভালোবাসার_লিরিক- 186<br />
     &#x25aa;পার্থসারথি</p>
<p>প্রিয়তমা, তোমার ফেলে যাওয়া দীর্ঘশ্বাস<br />
আমার পকেটে গোলাপ হয়ে ফুটে আছে,<br />
রূপালি চাঁদে মেঘ ওড়া আকাশ<br />
হাওয়ায় উড়ে উড়ে সুখ দিচ্ছে;<br />
আমি ভালোবাসাহীন সুখী মানুষ<br />
বেঁচে আছি মনের সুখের নির্লিপ্ত উত্তাপে।<br />
                           ♡</p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>10</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">26dc4f9d5214b420d3b59d804bfe10dc</guid>
				<title>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )
পর্ব-০৭
রুচিরা চুপচাপ বসে থাকে। ঘাসের বুকে আপন মনে চিমটি কাটে। আর ভাবে- এই মেয়েটা সত্যিই কত আপন হয়ে কথা বলছে। কথার মধ্যে শাসন জড়িয়ে আছে অথচ কত বিনম্র উচ্চারণ।
মানুষ ভুল করে। সেটা আবার নিজেকেই শোধরাতে হয়।- পারমিতা রুচিরার অবনত মুখমন্ডলে তাকিয়ে বলে।
মানুষ তার পরিবেশ নিয়েই বলে। মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব-সবার সাথেই জীবনের কোন না কোন অংশ জড়িয়ে আছে। তারপরও সবার একটা ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধ জীবন থাকে।– কথাগুলো বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে এক নিঃশ্বাসে বলে রুচিরা পারমিতার দিকে তাকায়।
রুচিরার চোখ জোড়া অশ্রুতে টলমল করছে। পলকহীন দৃষ্টি। এক পলক জড়িয়ে এলেই যেন চোখের জল টপটপ করে গড়িয়ে পড়বে। পারমিতার মনটা অসম্ভব রকমের খারাপ হয়ে গেল। মুহূর্তের নিঃশ্বাসে কণ্ঠস্বর বাষ্পরুদ্ধ হয়ে গেল। রুচিরার হাত দুটো টেনে চেপে ধরে কোন মতে উচ্চারণ করল- আপনাকে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা চাচ্ছি। আসলে আমি আপনাকে কষ্ট দেয়ার জন্য কথাগুলো বলিনি।
রুচিরার উচ্চারণ- আমি কষ্ট পাইনি। একটুও না। আপনি আমাকে বুঝতে পেরেছেন তাই খুশিতে কান্না আসছে। এই প্রথম কেউ আমাকে বুঝতে চষ্টো করছে।-বলে রুচিরা ডুকরে কেঁদে উঠল।
পারমিতা অপ্রস্তুত হয়ে গেল। আরও কাছাকাছি হয়ে পারমিতা রুচিরাকে হালকাভাবে জড়িয়ে ধরল।
অনেকক্ষণ নীরবতা। হালকা বাতাসে শেষ বিকেলের আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে। প্রশান্ত বাতাসের স্পর্শে রুচিরার মনের রঙ একটু একটু করে পাল্টে যেতে লাগল। রুচিরা এই পরিবর্তনের পালাবদল একটুও টের পায়নি। প্রত্যেকের জীবনে ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধ আঙিনা থাকে ঠিকই কিন্তু এই সীমাবদ্ধ আঙিনায় অন্তত একজনকে বিচরণ করতে দিতে হয়। আর নয়তো বুকের ভেতর একটা অস্বস্তি কুটকুট করে যন্ত্রণায় দগ্ধ করে চলে। এই বিষাদময় মুহূর্তটুকু যেন কিছুক্ষণের মধ্যেই অন্যরূপ ধারণ করল। নীল আকাশের প্রান্ত ছুঁয়ে রুচিরার মনের সবুজভূমি আকুল হয়ে ওঠল। অসহায় দৃষ্টিতে রুচিরা পারমিতার চোখে চোখ রাখে।
পারমিতা ভরসা দেবার ভঙ্গীতে বলে- যদি মনে কিছু না করেন, অবশ্য এই অল্প সময়ে এত কাছাকাছি হওয়াটা ঠিক না।- পারমিতা আমতা আমতা করছিল।
রুচিরা আগ্রহভরা কণ্ঠে বলে কোন সংকোচ রাখবেন না। যা ইচ্ছে হয় খুলে বলুন। আমি সব শুনব। শোনেন, কিছু মানুষ আছে যাদের চিনতে দেরি হয় না। এই যে আপনি, পরিচয় মাত্র কয়েক মিনিট হল। অথচ মনে হচ্ছে কয়েক যুগ ধরে আপনি আমার পরিচিত। যার কাছে নিঃসংকোচে সব কথা খুলে বলা যায়।
আপনি আপনার কষ্টের সাথে অন্য কাউকে জড়ান। মনের সব কথা খুলে বলুন। দেখবেন সকল দুঃখ আর কষ্ট ধীরে ধীরে কমে আসবে।
রুচিরা আবার চুপ হয়ে যায়। গভীর হয়ে কী যেন ভাবে। তারপর পারমিতার দিকে ফ্যাল-ফ্যাল চোখে তাকায়। রুচিরা হঠাৎ একটু উত্তেজিত হয়ে বলে- আমি আমার জীবনটা একা একা উপভোগ করতে চাই। কোন পুরুষকেই আমি আর বিশ্বাস করতে পারছি না।
পারমিতা বুঝতে পারে যে, ওর কথার মানেটা অন্যরকমভাবে নিয়েছে। পারমিতা আবার বলে- আমি কথাটা সে অর্থে বলিনি। আমি বলতে চাচ্ছিলাম যে, আপনার বুকের ভেতর যে কষ্টটা, সেটি অন্য কারও কাছে বলে একটু হালকা হোন। যেমন আপনার মা-বাবা অথবা কোন ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছে সেটা বলতে পারেন। দেখবেন নিজের ভেতরটা বেশ হালকা হয়ে গেছে।
কথাগুলো শোনার পরপরই রুচিবার দৃষ্টি অন্য রকম হয়ে গেল। যেন ভরসা খুঁজে পেয়েছে- এমন ভাব। রুচিরা অনেকদিনই এমনটা ভেবেছে কিন্তু বলার মতো তেমন কোন কাছের জন পায়নি। পারমিতার চোখে-মুখে সুখের বর্ণচ্ছটা খেলে যাচ্ছে। রুচিরার ভাবনার জগতে পারমিতা। রুচিরা ভাবে, এ মেয়েটাই সত্যিকার অর্থে বন্ধু হবে। কারণ, সে মানুষকে বুঝতে পারে। যদিও কিছুক্ষণ আগে পরিচয় হয়েছে, তাতে কোনরকম অনুবিধা নেই। ওকেই সব বলতে হবে।
বলতেই হবে তেমন কোন কথা নয়। প্লিজ মনে কিছু করবেন না, আমার মনে হল তাই বললাম।- পারমিতা স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করে।
তারপর হঠাৎ করেই রুচিরা বলে, আমি আপনাকেই আমার কষ্টের সীমানায় টানতেই চাই।
পারমিতা অবাক হয়। কিছুক্ষণ হল পরিচয় হয়েছে। জানা-শোনা নেই, একজনের কাছে কি এত সহজেই সবকিছু বলতে পারে! হয়তোবা হতেও পারে।
রুচিরাকে প্রশ্ন করে, বলে আচ্ছা আপনি আমাকেতো একদমই জানেন না, চিনলেন এই একটু আগে। তাহলে আমার কাছে বলতে চাচ্ছেন কেন?
সবসময় সব কথার ব্যাখ্যা করে বলা কঠিন। তবে আমি এটুকু বুঝতে পারছি, আপনি এই অল্প সময়েই খুব কাছের হয়ে গেছেন।
পারমিতা জবাবে আর অন্য কিছু বলেনি। রুচিরা নিজের ভেতর জগতের পুরো আঙিনাকে ওলট-পালট করে সুস্থির করে নেয়। স্মৃতির অধ্যায়ে লেপটে থাকা কষ্টগুলোকে নাড়া দেয়। ভীষণ রকমের কষ্ট রুচিরা চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ বসে থাকে। পাশাপাশি পারমিতা চুপচাপ রুচিরার দিকে তাকিয়ে আছে। একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে রুচিরা চোখ মেলে তাকায়; সরাসরি পারমিতার চোখে চোখ । তারপর পারমিতাকে বলে-‘আপনি আবার কিছু মনে করবেন না। আপনাকে আমার খুব ভালো লেগেছে, তাই বলতে যাচ্ছি। তাছাড়া একজনকে না হয় একজনকে তো বলতেই হবে।
না, না কী যে বলেন। অবশ্যই বলতে পারেন। তবে এর আগে আপনি আমাকে তুমি করে বলবেন, কারণ আমি ফার্স্ট ইয়ারে আর আপনার ব্যাপারে জানি।- এই বলে পরিবেশটা একটু স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে পারমিতা।
পারমিতার কথার পিঠে কথা না বলে রুচিরা চোখজোড়া নীল আকাশের বুকে মেলে দিল। তারপর স্মৃতির পাতায় টেনে নিয়ে গেল পারমিতাকে - আমি তখন ইউনিভার্সিটিতে মাত্র ভর্তি হয়েছি। সম্ভবত মাস তিনেক ক্লাস হয়েছে। বাড়ি থেকে চিঠি এলো, বাবা লিখেছেন চিঠি পাওয়া মাত্রই যেন বাড়ি চলে যাই। তারপর যথারীতি চলে গেলাম।
অনেক বছর পর মা আমাকে নিয়ে এক বিছানায় ঘুমুতে বলেন। এটা-সেটা গল্প বলার পর মা আমাকে বলেন- তোর জন্য একটি পাত্র দেখছি। অবশ্য কথাবার্তা ইতোমধ্যে অনেক দূর এগিয়েছে। সব কথা আমার অজান্তেই উনারা সেরে রেখেছেন।
আমি কোন কথা বললাম না। চুপচাপ শুনে যাচ্ছি।
মা বলে চলেন, পাত্রটি খুবই ভালো। আমেরিকা ফেরত । উচ্চ শিক্ষিত। দেখতে খুবই সুন্দর এবং স্মার্ট। তোর সাথে বেশ মানাবে। এবার বিয়ে-শাদী করে দেশেই থেকে যাবে। তাছাড়া পরবিারটাও বেশ ভালো এবং সচ্ছল।
চলবে...

♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

&quot;ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর&quot;
*পার্থসারথি</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/155250/</link>
				<pubDate>Sun, 02 Oct 2022 15:21:29 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )<br />
পর্ব-০৭<br />
রুচিরা চুপচাপ বসে থাকে। ঘাসের বুকে আপন মনে চিমটি কাটে। আর ভাবে- এই মেয়েটা সত্যিই কত আপন হয়ে কথা বলছে। কথার মধ্যে শাসন জড়িয়ে আছে অথচ কত বিনম্র উচ্চারণ।<br />
মানুষ ভুল করে। সেটা আবার নিজেকেই শোধরাতে হয়।- পারমিতা রুচিরার অবনত মুখমন্ডলে তাকিয়ে বলে।<br />
মানুষ তার পরিবেশ নিয়েই বলে। মা-বাবা, ভা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-155250"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/155250/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">b868fac34d84b8727ae619be9ebf2dab</guid>
				<title>পার্থসারথি and সুমন চন্দ্র দাস are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/154483/</link>
				<pubDate>Sat, 01 Oct 2022 07:18:54 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">d0c6d8c9ee9a3ad12413f4dd707fa2c9</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক- 190 &#038; 191#
     
                  190
তুমি যদি ভালোবাসো
        তোমার নামে এক সমুদ্র মিষ্টি জল,
যদি ভালোবেসে কাছে এসো
        বৃষ্টি হবো তুমুল বৃষ্টি...ঢল!
তুমি যদি ভালোবাসো
        তোমার নামে এক আকাশ জোছনা,
চাঁদ হবো আকাশ বুকে
         একবার ডেকেই দোখো না!
তুমি যদি ভালোবাসো
          যদি ভালোবেসে কাছে এসো
          বুকের ভেতর রাখবো পুষে
ভুলবো না...কখনও না, প্রিয়তমা।

                  191
থাক-না তোমার এক পশলা
                কষ্ট কিংবা বেদনা,
আমার কাছে তুমি প্রিয়া
                এক আকাশ জোছনা!
                        ♡
&#x25aa;পার্থসারথি</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/154358/</link>
				<pubDate>Sat, 01 Oct 2022 02:26:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক- 190 &amp; 191#</p>
<p>                  190<br />
তুমি যদি ভালোবাসো<br />
        তোমার নামে এক সমুদ্র মিষ্টি জল,<br />
যদি ভালোবেসে কাছে এসো<br />
        বৃষ্টি হবো তুমুল বৃষ্টি&#8230;ঢল!<br />
তুমি যদি ভালোবাসো<br />
        তোমার নামে এক আকাশ জোছনা,<br />
চাঁদ হবো আকাশ বুকে<br />
         একবার ডেকেই দোখো না!<br />
তুমি যদি ভালোবাসো<br />
          যদি ভালোবেসে কাছে এসো&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-154358"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/154358/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>16</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1af9ab137ff1622d521d653235863d9e</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক
     &#x25aa;পার্থসারথি
                  192
তুমি জানো?
         আমি তোমাকে ভালোবাসি,
খামোকা কেন চোখ টানো
তুমি ভালোবাসো? তোমায় জিজ্ঞাসি।
                   193
আমার ভালোবাসার উঠান জুড়ে
             একটিই শুধু নাম-
             তুমি, তুমি, তুমি;
             তুমিই ইন্দুবালা,
তাইতো ডাকি সকাল, দুপুর আর ভোরে
             ভালোবাসার মানুষটাকে
             ইচ্ছে হয় বুকের ভেতর যতনে রাখি
             জুড়াই মনের জ্বালা!
                   194
এই এক্ষণে-
                ডাকলাম তোমায়
                            মনে মনে,
তুমি এলে-
                বড় অবেলায়
                জ্বালিয়ে সারাক্ষণে!
                       ♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/154184/</link>
				<pubDate>Fri, 30 Sep 2022 14:13:59 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক<br />
     &#x25aa;পার্থসারথি<br />
                  192<br />
তুমি জানো?<br />
         আমি তোমাকে ভালোবাসি,<br />
খামোকা কেন চোখ টানো<br />
তুমি ভালোবাসো? তোমায় জিজ্ঞাসি।<br />
                   193<br />
আমার ভালোবাসার উঠান জুড়ে<br />
             একটিই শুধু নাম-<br />
             তুমি, তুমি, তুমি;<br />
             তুমিই ইন্দুবালা,<br />
তাইতো ডাকি সকাল, দুপুর আর ভোরে<br />
             ভালোব&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-154184"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/154184/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>9</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">88082a6e2b56bdbd2d43fc016238cfe0</guid>
				<title>&quot;ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর&quot;
*পার্থসারথি
( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )

পর্ব-০৬ 
 
নাস্তার ট্রে হাতে কাজের মেয়েটা এলো। পেছন পেছন এলেন দিদি। ওদের সাথে দিদিকেও দু’এক টুকরা আপেল এবং মিষ্টিও খেতে হল। রুচিরা নিজ হাতে তুলে পারমিতাকে খাইয়ে দিল।
 
চা-পর্ব শেষ করে রুচিরা ঘড়ির দিকে তাকাল। একটা বেজে কুড়ি মিনিট। কিন্তু কিছু বলার আগেই দিদি বললেন- ভাই ঘড়ি দেখে কোন লাভ হবে না। দুপুরে তোমরা খেয়ে যাবে। রুচিরার সাথে সাথে সৈকতও ‘না-না’ করছিল।
 
দিদি হালকা আদুরে ধমক দিয়ে বললেন- তোমরা কোন কথা বলো না। চুপচাপ বসে বসে গল্প করো। আমি তোমাদের একদমই দেরী করাবো না। বলেই দিদি মিষ্টি একখান হাসি ছড়িয়ে দিলেন।
 
রুচিরা বলে দিদি, আমাকে অফিসে যেতে হবে। নতুন জয়েন করেছিতো। তাই সময় মতো যাওয়াটা জরুরি।
 
হঠাৎ মনে পড়ে গেল এমনভাব নিয়ে দিদি বললেন- সরি, আই অ্যাম রিয়্যালি সরি। তোমার চাকরির কথা পারমিতা বলেছিল। অথচ তোমাকে একবারও জিজ্ঞ্যেস করলাম না। একটুক্ষণ থেমে দিদি আবার বললেন- ভালো, খুব ভালো। মেয়েরা আজকাল অনেক সাহসী হচ্ছে। এটা খুবই ভালো লক্ষণ। তোমার অফিস ক’টায়?
 
বিকেল চারটা হতে সন্ধা আটটা নাগাদ।
 
তাহলেতো খুবই ভালো হল। দুপুরে এখানে খাবে। বিশ্রাম নেবে। তারপর অফিস যাবে এখান থেকেই।
রুচিরা আমতা আমতা করছিল।
 
দিদি রুচিরাকে থামিয়ে দিয়ে বললেন- তোমাকে আমি এত সাধতে পারবো না। বসে বসে গল্প কর, আমি আসছি। আর কোনরকম জবাবের জন্য অপেক্ষা করলেন না দিদি।
 
এই মাসটা ব্যস্ততার মাঝে ভালো কেটেছে রুচিরার। সৈকত, পারমিতা, চাকরি আর জীবনের প্রাসঙ্গিক টুকিটাকিতে ডুবে থেকে থেকে একঘেমেয়ি থেকে কিছুটা হলেও দূরে থাকতে পেরেছে। হঠাৎ করে রুচিরা নিজেকে সুখী ভাবতে চেষ্টা করছে। সত্যি, সময়গুলো কেমন যেন ফুরুৎ ফুরুৎ করে চলে যাচ্ছে। জীবনের এক ঘেয়েমি ভাবটা একেবারেই কেটে গেছে। রুচিরা এখন প্রতিটা মুহূর্তকেই দারুণভাবে উপভোগ করছে। এবং জীবনের প্রতিটা মুহূর্তই যেন বেশ অর্থবহ মনে হচ্ছে ওর কাছে। চাকুরি করে, লেখাপড়ার তেমন কোন অসুবিধা হচ্ছে না। বরং জীবনে অন্যরকম একটা ছন্দময়তা জড়িয়ে থাকে। যা রুচিরাকে সর্বক্ষণ নতুন করে বাঁচতে তাগিদ দিচ্ছে।
 
মেয়েদের হলে আঁড়ালে-আবডালে অনেকেই রুচিরার রূপের কথা বলাবলি করে বলে যে, মেয়েটা খুবই দেমাগি। আর সেজে-গুজে হোটেলে হোটেলে ঘুরে বেড়ায়। একটুও লজ্জাশরম নেই!
 
এ&#039;কথাটা রুচিরার কানেও এসে পৌঁছে গেছে। একমাত্র রুচিরাই জানে, সে কেন সর্বক্ষণ এত চুপচাপ থাকে। প্রত্যেকের জীবনে এমন কিছু ঘটনা থাকে যা জীবনের কোন না কোন সময়ে ভাবিয়ে তোলে। আবার এমন কিছু ঘটনা থাকে যার বেড়াজাল থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা খুবই কঠিন ব্যাপার। রুচিরা নিজের কষ্টটাকে এক মুহূর্তের জন্যেও আড়াল করতে পারে না। ছায়া হয়ে মনের আঙিনায় র্সবক্ষণ বিচরণ করে। কষ্টের মাঝেই বর্তমানে রুচিরার বসবাস। তাই চুপচাপ থাকতেই বেশি পছন্দ করে। সৈকতের সাথে ইদানিং সম্পর্কটা একটু ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
 
পারমিতার সাথে পরিচয় পর্বটা একটু ভিন্ন আঙিকের। পারমিতা পাশের বিল্ডিংয়ে থাকে। একদিন বিকেলে রুচিরা সবুজ ঘাসের বুকে নিজের মনকে বিছিয়ে চুপচাপ বসে আছে। পারমিতা অনেকের কাছে রুচিরা সম্পর্কে শুনেছে। কিন্তু ওই মুর্হূতে পারমতিার কেন যেন মনে হলো, মেয়েটা খুবই অসুখী। পারমিতা ত্রস্ত পায়ে এগিয়ে যায়। কাছাকাছি হয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। রুচিরার চিন্তা জগতে কোন রকম ভাবান্তর হয় না।
 
অনকেক্ষণ পর পারমিতা বলে- আপা একটু বসতে পারি কি?
 
রুচিরা ফিরে তাকায় । কিছুটা আশ্চর্য হয়। কারণ মেয়েটা অপরিচিত। কোন চেনা মেয়েও সাধারণত যেচে এসে রুচিরার সঙ্গে কথা বলে না। রুচিরা স্মরণ করার চেষ্টা করল, পূর্বে কখনও পরিচয় হয়েছিল কিনা। কোনভাবেই পরিচিত সীমানায় আনতে পারছে না।
 
আপা বসতে পারি?- পারমিতা আবারও বলে।
 
রুচিরা এবার স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করে, বলে- অবশ্যই, অবশ্যই।- এই বলে পাশের জায়গাটুকু ইশারায় দেখিয়ে দেয় রুচিরা। পারমিতা ঘাসের ওপর চেপে বসে। পারমিতার হাতে কোন কাজ নেই। ইচ্ছে ছিল বান্ধবীকে নিয়ে একটু বৈকালিক হাঁটাহাঁটি করবে। বান্ধবীটি রুমে ফিরেনি। তাই হলের ভেতরই পারমিতা হাঁটাহাটি করছলি। এই সময় অনেকে বন্ধুদের নিয়ে বাইরে আড্ডা দেয়। তবে বেশি সংখ্যক মেয়েরা হলের ভেতরই সময় কাটায়। কেউ হয়তো পেপার রুমে, কেউবা লাইব্রেরিতে আবার গেমস রুমেও অনেকে সময় কাটায়। রুমের ভেতর আড্ডাও বেশ জমে। অনেকে এটা-সেটা কেনার জন্য নিউ মার্কেট অথবা গাউছিয়া মার্কেটে যায়।
 
রুচিরা যেখানটায় বসে আছ , এখানে সচরাচর কেউ বসতে আসে না। পারমিতা ইচ্ছে করেই এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করছিল। হঠাৎ চোখ পড়ে, একটা মেয়ে নির্জন জায়গায় চুপচাপ একাকী বসে আছে।
 
নীরবতা ভেঙে রুচিরা বলে, কিছু বলবেন কি?
 
নিদিষ্ট কিছু বলব বলে আসিনি। আপনাকে দেখে কাছে বসতে ইচ্ছে জাগলো তাই আসা।- পারমিতা আন্তরিকতার সহিত কথাগুলো বলল।
 
রুচিরা সত্যিই অবাক হল। হল জীবনের এই আড়াইটা বছরে এমন ঘটনা ঘটেনি। যাদের সাথে হালকা পরিচয় ছিল তারাও অনেক দূরত্ব বজায় রেখে চলে। অবশ্য এর মূল কারণ রুচিরা নিজে। রুচিরা ইচ্ছে করেও জীবনের প্রাণ-চঞ্চল্যময় মুহূর্তগুলো ফিরিয়ে আনতে পারে না। ফলে বন্ধু-বান্ধবের সংখ্যা বাড়েনি। অথচ এই অপরিচিত মেয়েটা যেচে এসে পাশে বসল। রুচিরা পারমিতার চোখের কাছাকাছি চোখ রেখে বলল- আপনি আমার সম্পর্কে কোন কিছুই শোনেননি?
 
শুনেছি।
 
তবে?- বলেই রুচিরা প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে পারমিতার দিকে তাকায়।
 
কান কথায় আমি কখনও বিশ্বাস করি না।- পারমিতা বেশ দৃঢ়চিত্তেই কথাগুলো বলে।
 
হতেও তো পারে।
 
আমার মনে হয় এ পরিস্থিতির জন্য আপনি নিজে দায়ী না এবং এর পেছনে নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে?- পারমিতা দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে বলে।
 
রুচিরা অবাক দৃষ্টিতে তাকায়। পারমিতা চোখ ফেরায় না। রুচিরা স্বাভাবিক কন্ঠেই আবার বলে- আপনি আমাকে কতটুকু জানেন?
 
আপনার সাথে আজই প্রথম কথা বলছি। জানব কোথেকে? যতটুকু জেনেছি অন্যদের কাছ থেকে শোনে শোনে। যার কোন অর্থই হয় না। আমি কারও শোনা কথায় বিশ্বাস করি না।
 
যা জেনেছেন তা সত্যিওতো হতে পারে নাকি?
 
ধরে নিলাম সত্যি । কিন্তু আপনি আমার কথা এড়িয়ে যাচ্ছেন।
 
চলবে...

♡আপনার মূল্যবান মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/153957/</link>
				<pubDate>Fri, 30 Sep 2022 02:10:48 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p>&#8220;ভালোবাসার দ্বিতীয় প্রহর&#8221;<br />
*পার্থসারথি<br />
( ক্যাম্পাসভিত্তিক রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস )</p>
<p>পর্ব-০৬ <br />
 <br />
নাস্তার ট্রে হাতে কাজের মেয়েটা এলো। পেছন পেছন এলেন দিদি। ওদের সাথে দিদিকেও দু’এক টুকরা আপেল এবং মিষ্টিও খেতে হল। রুচিরা নিজ হাতে তুলে পারমিতাকে খাইয়ে দিল।<br />
 <br />
চা-পর্ব শেষ করে রুচিরা ঘড়ির দিকে তাকাল। একটা বেজে কুড়ি মিনিট। কিন্তু কিছু বলা&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-153957"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/153957/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>4</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">01272a2dac7b02d3846aac2ad4c8b471</guid>
				<title># ভালোবাসার_কবিতা
# আমি_এক_চিমটি_ভালোবাসা_চাই
==========================
আমি এক চিমটি ভালোবাসা চাই-
         জলের মতো সরল,
         জোছনার মতো নরম,
         নুনের মতো স্বাদ,
         শাপলার মতো উঁচু,
         আকাশের মতো অগাধ,
         মিষ্টি ঢালা প্রভাত।
আমি এক চিমটি ভালোবাসা চাই-
         জীবনের মতো বোধ,
         দুঃখ-কষ্ট শোধ,
         মিষ্টি সকাল রোদ,
         জোছনা ভরা রাত,
         সন্ধ্যাতারার আলো,
         সাদা কিংবা কালো।
আমি এক চিমটি ভালোবাসা চাই-
         ফড়িং নাচন গোলাপ,
         মন পাগলের হাওয়া,
         পাখি ফেরা গোধূলী,
         পদ্মবিলে যাওয়া,
         নিত্য রোজের বাঁক,
         ঝিঁঝিঁ ডাকের রাত।
আমি এক চিমটি ভালোবাসা চাই-
         বাড়িয়ে দেয়া হাত,
         বাঁকা চাঁদের রাত,
         অভিমানী চোখ,
         হৃদয় একটু কাঁপুক,
         শেওলা পিচ্ছিল ঘাট,
         হাতের উপর হাত।
&#x25aa; পার্থসারথি
22.05.21</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/153746/</link>
				<pubDate>Thu, 29 Sep 2022 14:20:37 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_কবিতা<br />
# আমি_এক_চিমটি_ভালোবাসা_চাই<br />
==========================<br />
আমি এক চিমটি ভালোবাসা চাই-<br />
         জলের মতো সরল,<br />
         জোছনার মতো নরম,<br />
         নুনের মতো স্বাদ,<br />
         শাপলার মতো উঁচু,<br />
         আকাশের মতো অগাধ,<br />
         মিষ্টি ঢালা প্রভাত।<br />
আমি এক চিমটি ভালোবাসা চাই-<br />
         জীবনের মতো বোধ,<br />
         দুঃখ-কষ্ট শোধ,&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-153746"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/153746/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>8</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">1f571604046369c4f89affc8a0892ea3</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক-195
     &#x25aa;পার্থসারথি
             
প্রিয়তমা, জনমের জীবন গেল তোমায় ভালোবেসে
তুমি কি জানো না?
মেঘ নেই, চাঁদ নেই আমার বুকের আকাশে
আমি একলা একা নেই জোছনা-
পূর্ণিমার আকাশ জুড়ে রূপালি আলোর জোছনা
অথচ পড়ে আছি এই আমি...
অপেক্ষা... নিরন্তর অপেক্ষা...
তুমি জেনেও কিছু জানো না!
আমার দীর্ঘশ্বাসগুলো বিনিসূতোয় জুড়ে দিলে
আকাশে তারার মেলা বসবে
তুমি এলে বা না এলে...
তারার আলো জ্বলবে...নিরন্তর জ্বলবে...!
                       ♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/153557/</link>
				<pubDate>Thu, 29 Sep 2022 08:50:41 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক-195<br />
     &#x25aa;পার্থসারথি</p>
<p>প্রিয়তমা, জনমের জীবন গেল তোমায় ভালোবেসে<br />
তুমি কি জানো না?<br />
মেঘ নেই, চাঁদ নেই আমার বুকের আকাশে<br />
আমি একলা একা নেই জোছনা-<br />
পূর্ণিমার আকাশ জুড়ে রূপালি আলোর জোছনা<br />
অথচ পড়ে আছি এই আমি&#8230;<br />
অপেক্ষা&#8230; নিরন্তর অপেক্ষা&#8230;<br />
তুমি জেনেও কিছু জানো না!<br />
আমার দীর্ঘশ্বাসগুলো বিনিসূতোয়&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-153557"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/153557/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">0eab031ac65aad5d073829f9e75e4f3c</guid>
				<title># ভালোবাসার_লিরিক
     &#x25aa;পার্থসারথি
                  196
আমি জানতাম, তুমি আসবে-
বাতাস বলে গেল কানে কানে
প্রজাপতি বাতাসে পাখনা মেলে বলে গেল
                                তুমি আসবে।
আমি জানতাম, তুমি আসবে-
গোধূলীর বাড়ি ফেরা পাখির গানে শুনলাম
জোছনার আলোয় তারার ঝিকিমিকি, বুঝলাম-
                                তুমি আসবে।
                      197
আমার আকাশ জুড়ে মেঘলা বাতাস
দক্ষিণা হাওয়ায় চলি কেমনে,
মন আমার হইলো উদাস
কেমনে চলি তোমার মন-উঠানে।
এই মন জুড়ে তুমি আছো
সারা হৃদয় জুড়ে শুধু তুমি
আমার গোলাপবাগে বাসা বেঁধেছো
বাতাসে বাতাসে তোমায় চুমি।
                      ♡</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/153357/</link>
				<pubDate>Thu, 29 Sep 2022 04:22:38 +0600</pubDate>

									<content:encoded><![CDATA[<div class="activity-inner"><p># ভালোবাসার_লিরিক<br />
     &#x25aa;পার্থসারথি<br />
                  196<br />
আমি জানতাম, তুমি আসবে-<br />
বাতাস বলে গেল কানে কানে<br />
প্রজাপতি বাতাসে পাখনা মেলে বলে গেল<br />
                                তুমি আসবে।<br />
আমি জানতাম, তুমি আসবে-<br />
গোধূলীর বাড়ি ফেরা পাখির গানে শুনলাম<br />
জোছনার আলোয় তারার ঝিকিমিকি, বুঝলাম-<br />
                                তুমি আসবে।&hellip;<span class="activity-read-more" id="activity-read-more-153357"><a target="_blank" href="https://toulot.com/n_astream/p/153357/" rel="nofollow ugc">Read More</a></span></p>
</div>]]></content:encoded>
				
									<slash:comments>6</slash:comments>
				
							</item>
					<item>
				<guid isPermaLink="false">f1eeb28af032b72bf634186740d574c5</guid>
				<title>পার্থসারথি and Rahman anisur are now friends</title>
				<link>https://toulot.com/n_astream/p/153049/</link>
				<pubDate>Wed, 28 Sep 2022 14:03:18 +0600</pubDate>

				
									<slash:comments>0</slash:comments>
				
							</item>
		
	</channel>
</rss>