Profile Photo

মামুনর রশীদ রাজুOffline

  • mamunorrashidrazzu
  • ফিফা সেঞ্চুরি ফ্যান ট্রফি ও নতুন দুশ্চিন্তা

    জুরিখের ফিফা হেডকোয়ার্টারে বইসা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো যখন দামি চুরুটে টান দিতেছিলেন, তখন তার মাথায় একটা খটকা লাগল। তিনি ভাবিলেন—দুনিয়ার তাবৎ ক্লাব আর খেলোয়াড়রা তো গোল দিয়াই কোটি কোটি টাকা কামাইতেছে। কিন্তু যারা রাইত জাইগা, না খাইয়া, টিভির সামনে চিল্লাইয়া গলা ফাটায় আর ইন্টারনেটে যুদ্ধ করে, সেই ভক্তদের কপালে কী জোটে? শুধু একটা বিশ্বসেরা দল কাপ পাইয়া চইলা যাইব আর কোটি কোটি ভক্ত খালি চোখে ঘরে ফিরব, এইটা তো কোনো ইনসাফ হইলো না!

    ইনফান্তিনো সাহেব ফাইলপত্র ছুড়ে ফিয়া টেবিল চাপড়াইয়া মনে মনে সিদ্ধান্ত লইলেন—না, এবার ফুটবলের ১০০ বছর পূর্তির বিশ্বকাপে শুধু বিশ্বসেরা দল নয়, তাদের ভক্তদের জন্যও মেগা পুরস্কার চাই!

    তিনি খসড়া খাতায় বড় বড় অক্ষরে লিখিলেন—গ্যালারি, অনএয়ার আর অনলাইনের পারফরম্যান্স ট্র্যাক কইরা এবার প্রতি বিশ্বকাপে নিয়মিত দেওয়া হইব ‘ফিফা সেঞ্চুরি ফ্যান ট্রফি’। পুরস্কারের অঙ্কটাও ছোটখাটো না, পুরো ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলার (৫ মিলিয়ন ইউএসডি)! কোনো ফ্যান ক্লাব বা চামচামি না, বিশ্বজুড়ে ফিফা অ্যাপের অফিশিয়াল অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের ডেটা অ্যানালিটিক্স থিকা এআই (AI) দিয়া খুঁইজা বের করা হইব ১ জন ‘সেরা সমর্থক’ আর ১টি ‘সেরা সমর্থক দেশ’।

    ফিফা থিকা এই নতুন নিয়ম বাজারে ছাড়ার আগেই নোয়াখালীর চাটখিলের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের পোলা সুলতান বিছানায় চিত হইয়া শুইয়া মোবাইলে ফিফা অ্যাপের ফর্মটা দেখতেছিল। সে কোনো মারপ্যাঁচ না ভাইবা নিজের নাম রেজিস্ট্রি করাইয়া দিল ‘আর্জেন্টিনা সমর্থক’ হিসেবে।

    সুলতান তখন চোখ বন্ধ কইরা ভাবিতে ছিল—আর্জেন্টিনা দল তো মাঠে খেলবই, কিন্তু বিশ্বজুড়ে ছড়াইয়া থাকা ভক্তদের ভেতর সেরা হওয়ার কামটা নোয়াখালী থিকাই সারতে হইব। সে মনে মনে একটা ছক কষিল। কোয়ার্টার ফাইনালে বা ফাইনালে আর্জেন্টিনা যদি কোনো ম্যাচে এক গোল খাইয়া গ্যাঁড়াকলে পড়ে, তবে সে ফেসবুকে বইসা গালিগালাজ বা কাদা ছোড়াছুড়ি করব না। উল্টা সে তার ইউনিক আইডি থিকা এমন এক পজিটিভ অ্যানিমেশন আর সৌহার্দ্যের আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেইন ছাইড়া দিবে, যা দেইখা অনএয়ার আর অনলাইনের লাখ লাখ মানুষ লাইভ রিয়্যাক্ট করতে বাধ্য হইব। মিশরের আর্জেন্টিনা সমর্থক কিংবা জাপানের ব্রাজিল সমর্থকরা যখন চিল্লাচিল্লি করব, বাঙালি তখন দেখাইয়া দেবে ডিজিটাল ভদ্রতা কারে কয়!

    সুলতান একা একা ভাবিতে লাগিল, যদি কপাল গুনে সেই ভক্তদের জন্য বরাদ্দ করা মেগা পুরস্কারের ৫০ লক্ষ ডলার তার ডিজিটাল আইডি ট্র্যাক কইরা তার হাতে চইলা আসে? টাকাটা তো আর নিজের পকেটে ভরা যাইব না। সে মনে মনে একটা মাস্টারপ্ল্যান বানাইয়া ফেলিল—পুরো টাকাটা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাথে মিল্লা নোয়াখালীতে একটা আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস অ্যাকাডেমি বানানোর কাজে দান কইরা দিবে, যাতে দেশের গরিব ঘরের পোলাপানও একদিন বিশ্বকাপে লাথি মারতে পারে।

    তখনো আন্তর্জাতিক মঞ্চের জায়ান্ট স্ক্রিন লাল-সবুজ আলোয় ঝলমল করিয়া ওঠে নাই, আকাশে ড্রোন উড়া শুরু করে নাই, এমনকি ফিফা সভাপতি মাইক্রোফোন হাতে নিয়া ডায়াসেও খাড়ান নাই।

    নোয়াখালীর চাটখিলে নিজের অন্ধকার ঘরে বইসা সুলতান জাস্ট একটা মুচকি হাসি দিল। তার এই ভাবনার মানে পরিষ্কার—বলটা লাথি দিয়া জালে জড়ানোই শেষ কথা না, আসল খেলাটা হইলো দুনিয়ার মানুষের মন জয় করা। ফিফা যখন আগামী সপ্তাহে ভক্তদের জন্য এই ৫০ লক্ষ ডলারের পুরস্কারের কথা দুনিয়ারে জানাইবে, সুলতান তখন তার ডিজিটাল কায়দাকানুন লইয়া অলরেডি রেডি! ❤️🎉
    ১১ জুলাই ২০২৬

    1
    1 Comment
Skip to toolbar