Profile Photo

মোঃ আশেকী এলাহীOffline

  • Md.-Asheki-Elahi
  • Profile picture of মোঃ আশেকী এলাহী

    সাইবার পরিসরে শিশুরা বেশি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে

    বিশ্বায়নের এই সময়ে সাইবার দুনিয়ার দরজা সবার জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু ইন্টারনেটে অবাধ বিচরণ শিশুর নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইডি হ্যাক, তথ্য চুরির মতো সাইবার অপরাধ ঘটছে। এসব অপরাধের শিকার সবচেয়ে বেশি হচ্ছে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুরা।

    বেসরকারি জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের তথ্য থেকে জানা যায়, ইন্টারনেটে শিশুরাও পর্নোগ্রাফির শিকার থেকে বাদ যাচ্ছে না। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পর্নোগ্রাফির শিকার হয়েছে ১৫ জন মেয়েশিশু।

    চলতি বছরের আগস্ট মাসে সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়্যারনেস ফাউন্ডেশনের এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী ২০২১ সালের তুলনায় এসব অপরাধ ২০২২ সালে বৃদ্ধি পেয়েছে ৪.৬৪ শতাংশ।

    গ্রামীণফোন, টেলিনর ও ইউনিসেফ এর জরিপে দেখা গেছে, ইন্টারনেটে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৯০ শতাংশ অন্তত একবার হলেও পর্নোগ্রাফি দেখেছে। আর ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করে। অন্যদিকে প্রায় ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ১০ থেকে ১৯ বছরের শিশুদের মধ্যে ৭২ শতাংশ ছেলে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। মেয়েদের মধ্যে ব্যবহারকারী ৬৩ শতাংশ।

    পর্নোগ্রাফি বা অশ্লীল পোস্ট ট্যাগ করা, আপত্তিকর ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া, ছবি বিকৃত করে নেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি, ব্ল্যাকমেইল করে উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা, ফেক আইডি থেকে অশ্লীল মন্তব্যের পাশাপাশি ভিডিও শেয়ার করে শিশুদের হয়রানি করা হচ্ছে।

    আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) জরিপে উঠে এসেছে, ১৮ বছরের নিচের শিশুদের টার্গেট করে অশালীন কথা বলা, মেসেজ পাঠানো, ছবি কিংবা ভিডিও পাঠানো, প্রেমের সম্পর্কের নামে ব্ল্যাকমেইল করে যৌন হয়রানি বা অর্থ আদায় করা হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অপরিচিত লোকদের দ্বারা এসব হয়রানির ঘটনা বেশি ঘটছে। কিছু ক্ষেত্রে পরিচিতজনরাও এমন হয়রানি করে।

    ইন্টারনেটে টার্গেট করা হয় ১৮ বছরের নিচের শিশুদের যার মধ্যে ১৩.৫৭ শতাংশ শিশু এরই মধ্যে অপ্রত্যাশিত অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৫৬.৫৫ শতাংশ মেয়েশিশু এবং ৪৩.৪৫ শতাংশ ছেলেশিশু।

    গবেষকদেরমতে, শিশুদের সাইবারঝুঁকি থেকে রক্ষায় সচেতনতার কাজটি বেশি করতে হবে অভিভাবকদের। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে ‘সাইবার পাঠ’। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত ‘সাইবার পাঠ’ বাধ্যতামূলক করা উচিত।

    তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইয়িং অথরিটিজের ২০১৭ সালের জরিপ থেকে জানা যায়, অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রীদের ৬৯ শতাংশ ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। এদের মধ্যে ৮৩ শতাংশ ফেসবুক, ভাইবার, ইমো, ইনস্টাগ্রামসহ অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত।

    ইউনিসেফের জরিপ বলছে, দেশে ৪৫ শতাংশ শিশু অনলাইনে উত্পীড়নের শিকার হয়। ওই জরিপের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে উত্পীড়ন ও সহিংসতা বন্ধে দায়িত্ব কার, জানতে চাইলে ৩২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছে, এ দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।

    আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জরিপে দেখা গেছে, সাইবার অপরাধের শিকার ৫ শতাংশের কম শিশু অভিযোগ দায়ের করে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হলেও ডিজিটাল মাধ্যমে শিশুদের নির্যাতনের শিকার প্রতিকারে যে বিধান থাকা প্রয়োজন ছিল সেটি নেই। ডিজিটাল মাধ্যমে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ অপরাধ করলে যে শাস্তি দেওয়া হবে, শিশুর জন্যও একই বিধান রাখা হয়েছে।

    ২০১৩ সালের শিশু আইনে বলা হয়েছে, অন্য আইনে বিচারপ্রক্রিয়া যা-ই থাকুক, একজন শিশুর বিচার করবেন শিশু আদালত। ফলে সাইবার মামলায় শিশু আসামি হলে সে বিষয়ে শিশু আদালতের রায় দেওয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞরা শঙ্কায় রয়েছেন।

    ইন্টারনেটে ভুক্তভোগী বেশির ভাগই মেয়ে। অপরাধীর বেশির ভাগ ছেলে। প্রতিবছরই বাড়ছে ভুক্তভোগীর সংখ্যা।

    তাই পরিবার থেকেই সচেতনতা শুরু করতে হবে। নিজের সন্তান ইন্টারনেটে কি দেখছে সেগুলিও বাবা মাকেই নিয়ন্ত্রন করতে হবে।

    5
    3 Comments
    • অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং তথ্যভিক্তিক একটি প্রতিবেদন… নিয়মতান্ত্রিক সুনিবিড় পর্যবেক্ষণ ব্যতীত এই ঝুকিপূর্ণ পরিস্থিতি এড়ানো সত্যিই কষ্টসাধ্য… বিশেষ সাধুবাদ জানাই প্রতিবেদেনটি শ্যেয়ার করার জন্য… কৃতজ্ঞতা ও শুভ কামনা…

    • সচেতনতা বাড়ুক! অন্যথায়, এক ভয়ংকর ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য।

Skip to toolbar